× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Pakistani rights activist became the first transgender doctor
hear-news
player
print-icon

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে-প্রথম-ট্রান্সজেন্ডার-চিকিৎসক-সারাহ-গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ সারাহ গিল। ছবি: সংগৃহীত
সারাহ বলেন, একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

পাকিস্তানের একজন নেতৃস্থানীয় অধিকার কর্মী সারাহ গিল দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক হয়েছেন। ড. গিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জিন্নাহ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ (জেএমডিসি) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি সারাহ গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন।

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

সারাহ গিল বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ডাক্তার হিসেবে গর্বিত এবং আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, ‘একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

আমি ডাক্তার হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

যদিও তার সহপাঠীরা তার সম্পর্কে জানেন কিন্তু তার পরিবারের চাপে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময় পুরুষের পরিচয়েই ভর্তি হন।

আরও পড়ুন:
ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: গ্রেপ্তার ৪
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
মেম্বার প্রার্থী ট্রান্সজেন্ডার আলামিন
সদস্য পদে মনোনয়ন জমা ট্রান্সজেন্ডার সাথীর
ইউপি মেম্বার হতে লড়ছেন ট্রান্সজেন্ডার সবুজা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Madhuri as a homosexual for the first time

প্রথমবার সমকামী চরিত্রে মাধুরী

প্রথমবার সমকামী চরিত্রে মাধুরী বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত
এই সিনেমায় মাধুরী দীক্ষিতের চরিত্রটি খুবই সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তাই তার মতো একজন তারকা এই ধরনের আউট অফ দ্য বক্স চরিত্রে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

আর দুই বছর পরেই বলিউডে যাত্রার চার দশক পূর্ণ করবেন ‘ধকধক গার্ল’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। নব্বইয়ের দশকে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা এই অভিনেত্রী উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট সিনেমা।

সেই সময়েই ছক ভেঙে নানা বোল্ড লুক ও চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, তবে আসন্ন সিনেমার যে চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তা আগে কখনো করেননি। এই প্রথমবার সমকামী চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাধুরী।

সিনেমার নাম মাজা মা। এটি পরিচালনা করছেন আনন্দ তিওয়ারি। দুই সপ্তাহ আগে ইনস্টাগ্রামে সিনেমাটির পোস্টারও প্রকাশ করেছেন পরিচালক।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিনেমায় মাধুরী সমকামী চরিত্রে অভিনয় করবেন। সিনেমায় একজন প্রেমময় মা যখন তার ছেলের বিয়ের পরিকল্পনা করছেন, তখন তার যৌন প্রবণতা দ্বন্দ্ব, উন্মাদনা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

এখানে মাধুরী দীক্ষিতের চরিত্রটি খুবই সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তাই তার মতো একজন তারকা এই ধরনের আউট অফ দ্য বক্স চরিত্রে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

সিনেমাটি আসবে অ্যামজন প্রাইম ভিডিওতে। মাধুরী ছাড়াও এতে অভিনয় করছেন গজরাজ রাও, ঋত্বিক ভৌমিক, বরখা সিং, সৃষ্টি শ্রীবাস্তব, মালহার ঠাকর, শীবা চাড্ডা, রাজিত কাপুর এবং সিমোন সিংসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
নিজের যে সিনেমার রিমেক দেখতে চান মাধুরী
কেন কোনো নায়ককে বিয়ে করেননি মাধুরী ও জুহি
৫৩তেও মাধুরীর সৌন্দর্যে পরাস্ত ৮ থেকে ৮০
পঁচিশ বছর পর নেটফ্লিক্স এক করল তাদের

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The child will be born in the mature ovum of the trans male

ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান

ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান ট্রান্স পুরুষদের জৈবিকভাবে সন্তান নেয়ায় জটিলতা অনেক। ছবি: সংগৃহীত
একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, তারা টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপির মধ্যে থাকা ট্রান্স পুরুষদের ডিম্বাশয় থেকেই পরিপক্ব ডিম্বাণু তৈরির উপায় বের করেছেন।

ট্রান্সজেন্ডার পুরুষেরা টেস্টোস্টেরন থেরাপি নেয়ার পরেও তাদের ডিম্বাশয়ের অপরিপক্ব ডিম্বাণু পরিপক্ব করার সহজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে ট্রান্সজেন্ডার পুরুষের সন্তান জন্ম দেয়ার জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিম্বাশয়ে হাজারও অপরিপক্ব ডিম অনেকটা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এর মধ্যে প্রতি মাসে একটি পরিপক্ব হয়ে ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হয়। এ সময় ডিমটি শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হওয়ার সুযোগ পেলে তা ভ্রূণ তৈরি করে।

ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ জন্মগতভাবে নারীর দেহবৈশিষ্ট্য ধারণ করেন, তবে মানসিকভাবে তাদের যৌনবৈশিষ্ট্য পুরুষের। বিশ্বের অনেক দেশে টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপির মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে পুরুষালি বৈশিষ্ট্যের দিকে নিয়ে যান।

তবে এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণকারীদের জৈবিকভাবে সন্তান নেয়ার বিষয়টি বেশ জটিল। সন্তান নিতে চাইলে শুরুতেই টেস্টোস্টেরন থেরাপি বন্ধ করে মাসিক চক্র ফিরিয়ে আনেন চিকিৎসকেরা। এতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপর নারীর বিভিন্ন হরমোনভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগ করে ডিম্বাশয়কে উদ্দীপ্ত করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় পরিপক্ব ডিম। পরে সেই ডিম্বাণু ল্যাবরেটরিতে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয় এবং সুবিধাজনক সময়ে নিষিক্ত করা হয় শুক্রাণুর সঙ্গে।

অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিটি বেশ জটিল। এ ছাড়া কয়েক মাস ধরে টেস্টোস্টেরন থেরাপি বন্ধ রাখলে অবসাদ, মেজাজে পরিবর্তন এবং ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

এই প্রথম একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, তারা টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপির মধ্যে থাকা ট্রান্স পুরুষদের ডিম্বাশয় থেকেই পরিপক্ব ডিম্বাণু তৈরির উপায় বের করেছেন।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন জীববিজ্ঞানী ইভলিন টেলফারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় গবেষণাটি। এতে দেখা গেছে, কয়েক বছর টেস্টোস্টেরন থেরাপি নেয়ার পরেও ট্রান্সজেন্ডার পুরুষের ডিম্বাশয় থেকে কার্যকর ডিম্বাণু পাওয়া সম্ভব।

টেলফারের নেতৃত্বে গবেষক দলটির প্রথম কাজ ছিল টেস্টোস্টেরন থেরাপি ডিম্বাশয়ে কী প্রভাব ফেলে তা খুঁজে বের করা। এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে, যুক্তরাজ্যের দুটি লিঙ্গনির্ধারণী ক্লিনিকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে দলটি।

ওই দুটি ক্লিনিকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারী যেসব ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ডিম্বাশয় অপসারণ করেছেন, সেগুলোর সঙ্গে নারীর স্বাভাবিক ডিম্বাশয়ের তুলনা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে টেস্টোস্টেরন থেরাপি গ্রহণকারী ট্রান্সজেন্ডার পুরুষদের ডিম্বাশয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। কোলাজেন বেশি এবং ইলাস্টিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ডিম্বাশয়ের টিস্যু শক্ত হতে শুরু করে। এর ফলে ফলিকলগুলোর পক্ষে পরিপক্ব, নিষিক্ত হওয়ার উপযোগী ডিম্বাণু তৈরির কাজটি জটিল হয়ে যায়।

গবেষণায় ট্রান্স পুরুষের ডিম্বাশয়ের প্রতিটি ফলিকলের চারপাশের শক্ত টিস্যু কেটে সাফল্য পাওয়া গেছে। এটি টিস্যুগুলোর মধ্যে সিগন্যালিংকে উদ্দীপ্ত করে ফলিকলগুলো পরিপক্ব ডিম মুক্ত করতে সাহায্য করে। গবেষকেরা প্রাথমিকভাবে একটি বিন্দুতে অল্পসংখ্যক ডিম পরিপক্ব তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন, যেগুলোকে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই উদ্ভাবন সন্তানধারণের জন্য ট্রান্সজেন্ডার পুরুষদের নানামুখী শারীরিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার অবসান ঘটাবে। মিনেসোটার মায়ো ক্লিনিকের প্রজনন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সামির বাবায়েভের মতে, ‘এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে চলেছে যা সম্ভাব্য অনেককে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
মানুষ সভ্য হবে ২৩৭১ সালে
হৃদয় মণ্ডলের ধর্ম অবমাননার প্রমাণ মেলেনি
এক মাস পর ক্লাসে হৃদয় মণ্ডল, সম্প্রীতি সমাবেশ
হৃদয় মণ্ডলের ঘটনা অনুসন্ধানে স্কুলে তদন্ত কমিটি
ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Injured in a clash between two transgender people

ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ট্রান্সজেন্ডারদের দুইপক্ষের মধ্যের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার বলেন, ‘এ ঘটনায় ভোলা থানায় রাতেই একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান, তিনি হিজড়া বা সাধারণ মানুষ যাই হোন না কেন।’

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভোলা সদর উপজেলায় ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার বাংলাবাজার বটতলা এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন স্বর্ণা, রিদিলা, জারা, সুমনা, সাগরিকা, পাপড়ি ও শারমিন। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফরহাদ সরদার।

ভোলা সদর উপজেলার ট্রান্সজেন্ডারদের সর্দার জুঁইয়ের বরাতে তিনি জানান, ঈদে টাকা কালেকশনের জন্য সদরের হিজড়াদের ৭ জনের একটি দল সন্ধ্যায় বাংলাবাজার এলাকায় যান। এ সময় পাশের দৌলতখান উপজেলার হিজড়া নেতা মোনার নেতৃত্বে সদরের হিজড়াদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনও এ হামলা চালান।

এ সময় তাদের রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করে ওই ৭ জনকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় জুঁই বলেন, ‘আমরা অসহায়। মানুষের কাছ থেকে পাঁচ-দশ টাকা চেয়ে নিয়ে দুইটা ডাল-ভাত খেয়ে জীবন চালাই। কিন্তু আমাদের ওপর এমন অত্যাচার চলতে থাকলে আমরা কিভাবে বাঁচব। কিছুদিন আগে হুমকি দিয়েছে, আজ মেরেছে, কালকে হয়তো মেরেই ফেলবে।

‘ওরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় আর দোষ দেয় আমাদের। এভাবে যদি রাস্তা-ঘাটে আমাদের মারে, আমরা কোথায় যাব। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আহত সাগরিকা বলেন, ‘আমরা তো মোনা হিজরার এলাকায় ঢুকে বা তার থেকে ঈদ বোনাসের টাকা উঠাইনি। সদর উপজেলার বর্ডারের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা ঈদ উপলক্ষে টাকা তুলছিলাম। মোনার তো আমাদের মারার কথা না। এ হামলার কঠিন বিচার চাই।’

এ ঘটনা জানতে ট্রান্সজেন্ডার মোনার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাকে এসএমএস করা হলেও তিনি এর কোনো উত্তর দেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদ সরদার বলেন, ‘এ ঘটনায় ভোলা থানায় রাতেই একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান, তিনি হিজড়া বা সাধারণ মানুষ যাই হোন না কেন।’

আরও পড়ুন:
কিশোরের যৌনাঙ্গ কর্তন: ট্রান্সজেন্ডার জুঁই কারাগারে
পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট
ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Parlor foodcourt for transgender people at the initiative of the police

পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট

পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বিউটি পার্লার ও ফুডকোর্ট উদ্বোধন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক অনন্যা বণিক বলেন, ‘আমরা যেন সমাজের পিছিয়ে পড়ার কথাটা পিছিয়ে দিয়ে সামনে দাঁড়াতে পারি। দাঁড়িয়ে আমাদের অধিকারটাকে নিশ্চিত করতে পারি। আমরা যারা রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করছি, বাসে চাঁদা তুলছি এই সংখ্যাটা যেন শূন্যের কোটায় চলে আসে এটাই প্রত্যাশা।’

ঢাকার সাভারে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির উদ্যোগে দুটি বিউটি পার্লার ও একটি ফুডকোর্ট চালু করা হয়েছে।

আশুলিয়ার নিরিবিলি ও ডেন্ডাবর এলাকায় শুক্রবার দুপুরে বিউটি পার্লার দুটি ও ফুড কোর্ট উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।

ট্রান্সজেন্ডার ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য ডিআইজি হাবিবুর রহমানের গড়া প্রতিষ্ঠান উত্তরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এগুলো চালু করা হয়।

উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক অনন্যা বণিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান ডিআইজি হাবিবুর রহমান স্যারের প্রশংসা বলে শেষ করা যাবে না। তার পাশাপাশি যারা আমাদের জন্য কাজ করছেন তাদের মঙ্গল কামনা করছি।

‘আমরা যেন সমাজের পিছিয়ে পড়ার কথাটা পিছিয়ে দিয়ে সামনে দাঁড়াতে পারি। দাঁড়িয়ে আমাদের অধিকারটাকে নিশ্চিত করতে পারি। আমরা যারা রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করছি, বাসে চাঁদা তুলছি এই সংখ্যাটা যেন শূন্যের কোটায় চলে আসে এটাই প্রত্যাশা।’

পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট

স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ডিআইজি হাবিবুর রহমান সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ দুটি বিউটি পার্লার ও ফুড কোর্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

এসপি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আজকে যে দুইটা বিউটি পার্লার ও একটি ফুডকোর্ট উদ্বোধন করা হয়েছে তাতে কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডারের কর্মসংস্থান হবে। তারা আবার কয়েকজনকে কর্মমুখী করতে পারবেন। এভাবে তাদের মতো আরও অনেকে কর্মমুখী হবেন। তারাও আমাদের দেশের জিডিপিতে অবদান রাখতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা
ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে শিশু, ফাঁড়িতে হট্টগোল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Organizing Womens Day with transgender women

ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নিয়ে নারী দিবসের আয়োজন

ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নিয়ে নারী দিবসের আয়োজন
ট্রান্স নারীদের বিষয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতোটা অমানবিক হয়ে দাঁড়ায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচকেরা অনেকেই বলেন, নারীর সংজ্ঞা শুধু শরীরকেন্দ্রিক নয়, শরীর এবং বায়োলজির বাইরে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নিয়ে ধানমন্ডিতে হয়ে গেল বিশেষ আয়োজন।

‘ব্রেক দ্যা বায়াস’ অর্থাৎ পক্ষপাত ভঙ্গ করুন- এই স্লোগানে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘নো পাসপোর্ট ভয়েস’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমেরিকান দূতাবাস ঢাকার সহযোগিতায় ধানমন্ডির এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টারে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনের শুরুতেই আয়োজক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার ফাতেমা ওয়ারিত্তাহ আহসান দেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। ট্রান্সজেন্ডার নারীদের লড়াই ও নারী দিবসে তাদেরকে নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

তিনি জানান, ট্রান্স নারীরাও নারী।

আলোচনার পর কানাডাভিত্তিক বাংলাদেশি নির্মাতা নাদিম ইকবালের ডকুমেন্টারি ‘বিহাইন্ড স্প্রিং, আন্ডার দ্যা শ্যাডো, ডিসগ্রেসড’ দেখানো হয়।

অনুষ্ঠানে সহায়তায় ছিলেন অল লেডিস লীগ ঢাকা চ্যাপ্টার ও সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ অ্যান্ড কুইয়্যার অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক সায়ান। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে নো পাসপোর্ট ভয়েসের গুডউইল এম্ব্যাসেডর ফর দ্যা ট্রান্সজেন্ডার রাইটস হো চি মিন ইসলাম।

পরবর্তিতে প্যানেল ডিসকাশনও হয়। তাতে ট্রান্স নারীদের বিষয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতোটা অমানবিক হয়ে দাঁড়ায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচকেরা অনেকেই বলেন, নারীর সংজ্ঞা শুধু শরীরকেন্দ্রিক নয়, শরীর এবং বায়োলজির বাইরে।

আলোচনা শেষে নাচ ও পারফর্মিং আর্টও দেখানো হয়।

আরও পড়ুন:
নারী নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মান জানাল আইইউবি
নারী দিবসে বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প
মেয়েদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে সংবর্ধনা পেলেন গ্রামপুলিশ মা
সিইউবি’তে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন
বৈষম্যমূলক বিষয় পাঠ্যপুস্তকে না রাখার আহ্বান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The law is to protect transgender people

ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন

ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য সংকট, বৈষম্য নিরসনে করণীয় শীর্ষক সংলাপে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আইনটি বাস্তবায়িত হলে এই কমিউনিটির মানুষগুলো আর সেবা নিতে বৈষম্যের শিকার হবে না। বিদেশ যেতে পাসপোর্ট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জটিলতার নিরসন হবে। আইন দ্বারা তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে।’

বৈষম্য ও লাঞ্ছনার শিকার ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা ও অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আইন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ‘ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা আইন’ নামের আইনটি পাস হলে বৈষম্য থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে ট্রান্সজেন্ডারদের।

বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘আইনটি পাস হলে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর বৈষম্য ও হয়রানির থেকে মুক্তি মিলবে।’

এদিন রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্যসংকট, বৈষম্য নিরসনে করণীয় শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উপপরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতের জন্য ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য এই জনগোষ্ঠী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে একটি আইন তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর এটি সংসদে উপস্থাপন হবে। তারপর বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইনটি বাস্তবায়িত হলে এই কমিউনিটির মানুষগুলো আর সেবা নিতে বৈষম্যের শিকার হবে না। বিদেশ যেতে পাসপোর্ট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জটিলতার নিরসন হবে। আইন দ্বারা তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে।’

অনুষ্ঠানে ‘সম্পর্কের নয়া সেতু’ সংগঠনের সভাপতি জয়া সিকদার বলেন, ‘মহামারিতে সৃষ্ট সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারিভাবে দুর্যোগকালীন জনগোষ্ঠীর জন্য তহবিল গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে লিঙ্গবৈচিত্র্যয়ম জনগোষ্ঠী ও সংগঠনগুলো তালিকাভুক্ত করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সব সদস্যের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে সব জটিলতা দূর করতে হবে। সবার জন্য বৈষম্যহীন নীতি চালু করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদাভাবে সেবা নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের মেডিক্যাল অফিসার ফারহানা কবীর বলেন, ‘করোনা টিকা নিতে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন জটিলতা দূর করতে সুরক্ষা অ্যাপে নারী-পুরুষের পাশাপাশি অন্য নামে কোনো কর্নার খোলার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ছাড়া টিকা নেয়ার জন্য নারী-পুরুষের মতো আলাদা কোনো সারি করা যায় কি না এ বিষয়েও আলোচনা করা হবে।’

সংলাপে নারী পক্ষ, সচেতন হিজড়া অধিকার সংঘ, সুস্থ জীবন, পদ্মকুঁড়ি হিজড়া সংঘ, আলোকিত শিশুসহ বেশকিছু সংগঠনের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা
ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে শিশু, ফাঁড়িতে হট্টগোল
তাসনুভাকে নিয়ে গর্বিত আমেরিকান দূতাবাস

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
I want to eradicate the beginning of inequality in the family

‘বৈষ্যমের শুরুটা পরিবারে, দূর করতে চাই শিক্ষা’

‘বৈষ্যমের শুরুটা পরিবারে, দূর করতে চাই শিক্ষা’ মঙ্গলবার শূন্য বৈষম্য দিবসে নিউজবাংলা কার্যালয়ে আলোচনায় অংশ নেন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হো চি মিন ইসলাম ও সংবাদকর্মী খাদিজাতুল কোবরা ইভা। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার শূন্য বৈষম্য দিবসে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বিশেষ আয়োজনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হো চি মিন ইসলাম বলেন, ‘বৈষ্যমের শুরুটা হয় পরিবারের সদস্যদের দিয়ে। তারপর সেটা যায় সমাজে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই বৈষম্য দূর করতে চাই শিক্ষা।’

‘বৈষ্যমের শুরুটা হয় একেবারে পরিবার থেকে, পরিবারের সদস্যদের দিয়ে। তারপর সেটা যায় সমাজে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।’

মঙ্গলবার শূন্য বৈষম্য দিবসে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বিশেষ আয়োজন ‘বৈষম্য কতদূর?’ শীর্ষক আলোচনায় এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হো চি মিন ইসলাম।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও বড় ধরনের বৈষম্য দেখা যায় উল্লেখ করে সমাজের প্রচলিত বৈষম্য ভেঙে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

হো চি মিন ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও নিজেকে প্রশ্ন করি। আমার ভেতরে হয়তো লুকানো একটা শক্তি ছিল। যখনই বৈষ্যমের শিকার হয়েছি, আমার মন বলেছে- এটার শেষটা দেখতে চাই। শেষটা দেখার এই ইচ্ছাশক্তির বলেই হয়তো এই বৈষম্য কাটিয়ে এতোদূর আসতে পেরেছি।’

নিজে ‘একেবারে বৈষম্যমুক্ত’ হয়েছেন সেটা বলার এখনো সময় আসেনি বলে মনে করেন এই ট্রান্সজেন্ডার। তিনি বলেন, ‘এখনও কিন্তু আমাকে ট্রিট করা হয় বেইজড অন মাই আইডেনটিটি।’

‘কালো মেয়ে কালো বইলা কইর না গো হেলা’- এমন প্রচলিত লোকগান থাকলেও বর্ণবৈষম্যর অভিঘাত থেকে রক্ষা মেলে না। সমাজে বর্ণবৈষম্য এখনও তীব্রভাবে আছে বলে মনে করেন সংবাদকর্মী খাদিজাতুল কোবরা ইভা।

ইভা বলেন, ‘প্রথমে আমি বর্ণবৈষম্যের বিষয়টি বুঝতাম না। বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছি- এটা হয়তো বুঝতাম। তবে কীভাবে হচ্ছি তা বুঝতাম না। সেটা অনেক পরে বুঝেছি। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এখনও বৈষম্যের শিকার হতে হয়।‘

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দু-তিন বছর আগে নিউজরুমে একজন এসে অন্য একটা টেলিভিশনের স্ক্রিনে ‘মোটা মেয়ে উপস্থাপনা করছে’ মন্তব্য করে সেই অনুষ্ঠানের প্রযোজককে ফোন দেন। বলেন, আপনারা কি আর কাউকে পাননি? আমি ওই সময় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। কারণ আমি জানি ওই লোকটিও একই ধরনের বৈষ্যমের শিকার হন।’

সমাজের এসব প্রচলিত সমস্যার জন্য শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেন ইভা। বলেন, ‘কোথাও না কোথাও শিক্ষার একটা গ্যাপ আছে। এই শিক্ষাটা আসলে কে দেবে? সেক্ষেত্রে অনেক জায়গায় কাজ করতে হবে।’

খাদিজাতুল কোবরা ইভা আরও বলেন, ‘ছোট বেলায় দেখেছি আমার হিন্দু বান্ধবী বৈষ্যমের শিকার হয়েছে। হয়তো বা আমি নিজেও করেছি। কিন্তু বিষয়টি তখন জানতামই না। এর কারণ হলো শিক্ষা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটা নেই। আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে যেন এই বৈষম্য দূর করা যায়।’

মন্তব্য

p
উপরে