সাগরতলে অগ্ন্যুৎপাত, টোঙ্গায় সুনামি

player
সাগরতলে অগ্ন্যুৎপাত, টোঙ্গায় সুনামি

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হু্ঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় স্যাটেলাইট থেকে নেয়া ছবি।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে হুঙ্গা-টোঙ্গা-হু্ঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরি থেকে শনিবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ৮ মিনিট চলে অগ্ন্যুৎপাত। শকওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে। সুনামি সতর্কতা জারি হয় কাছের টোঙ্গা, ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে। সতর্ক অবস্থায় নিউজিল্যান্ড সরকার।  

সাগরের নিচের আগ্নেয়গিরি থেকে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের পর সুনামি আঘাত হেনেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায়। সুনামি সতর্কতা জারি আছে ফিজিতে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

টোঙ্গায় সুনামি আঘাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের পানি শহরে ঢুকে পড়ছে। বেশ কিছু বাড়ি ও একটি চার্চের ভেতর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সুনামিতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। আগ্নেয়গিরির ছাই এসে পড়েছে রাজধানী নুকু’আলোফায়। শহরটি আগ্নেয়গিরি থেকে ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে হুঙ্গা-টোঙ্গা-হু্ঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরি থেকে শনিবার অগ্নুৎপাত শুরু হয়। ৮ মিনিট চলে অগ্ন্যুৎপাত। শকওয়েভ ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে।

সঙ্গে সঙ্গে সুনামি সতর্কতা জারি হয় কাছের টোঙ্গা, ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে। সতর্ক অবস্থায় নিউজিল্যান্ড সরকার।

টোঙ্গার বাসিন্দা মেরে টাউফা বলেন, ‘খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক এ সময়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। আমার ভাই ভেবেছিল বোমা বিস্ফোরণ এটি। সবাই টেবিলের নিচে আশ্রয় নিই। আশপাশের বাড়ির লোকজনও তাই করেছে।

‘একসময় দেখি বাড়িতে পানি ঢুকছে। সবাই চিৎকার করছিল, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিল।’

গ্যাস, ধোঁয়া ও ছাই অন্তত ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওপরে ওঠে বলে জানিয়েছে টোঙ্গার ভূতাত্ত্বিক বিভাগ।

ইউনিভার্সিটি অফ অকল্যান্ডের আগ্নেয়গিরিবিশারদ অধ্যাপক শেন ক্রোনিন বলেন, ‘গত ৩০ বছরের মধ্যে টোঙ্গায় সবচেয়ে বড় অগ্নুৎপাতের ঘটনা এটি। ধোঁয়া আর ছাইয়ে আকাশ ছেয়ে গিয়েছিল। ধারণা করছি, কয়েক সেন্টিমিটার হবে ছাইয়ের পুরুত্ব। সতর্কতা জারি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যে।

৮০০ কিলোমিটার দূরের ফিজিতেও বিপদের আশংকা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিজি সরকার। জারি হয়েছে সুনামি সতর্কতা।

নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি নর্থ আইল্যান্ডের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উপকূলের বাসিন্দাদের অপ্রত্যাশিত ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সিআরবি অবরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র মানবে না চট্টগ্রামবাসী’

‘সিআরবি অবরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র মানবে না চট্টগ্রামবাসী’

সিআরবি এলাকায় প্রবেশের তিন পথে গেট নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেলওয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামবাসীর মতামত উপেক্ষা করে রেলওয়ের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন জনপ্রিয় উন্মুক্ত স্থানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করে অবরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

তিন পথে গেট নির্মাণ করে সিআরবি অবরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠনটি এ প্রতিবাদ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সিআরবিতে শতবর্ষী গাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে এখন তিনটি প্রবেশপথে গেট নির্মাণ করে সিআরবি এলাকায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেলওয়ে।

সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মী, পরিবেশবিদ, রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

চট্টগ্রামবাসীর মতামত উপেক্ষা করে রেলওয়ের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন জনপ্রিয় উন্মুক্ত স্থানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করে অবরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা চট্টগ্রামবাসী শান্তিপূর্ণভাবে রুখে দেবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

দেড় শ বছরে ষষ্ঠ উষ্ণতম ২০২১: নোয়া

দেড় শ বছরে ষষ্ঠ উষ্ণতম ২০২১: নোয়া

সংগৃহীত ছবি

ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে ০.৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

দেড় শ বছরে পৃথিবীর ষষ্ঠ উষ্ণতম ছিল ২০২১ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা ও দেশটির ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-নোয়া বৃহস্পতিবার তাদের বৈশ্বিক তাপমাত্রা গণনার রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে।

নোয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, উষ্ণতম বছরের তালিকায় ২০১৬ ও ২০২০ সালের পরই ২০২১ সালের অবস্থান।

সংস্থা দুটির বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উষ্ণায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পুরো বিশ্বেই গত দশক ধরে উষ্ণতা বেড়েছে। এ বছরগুলোর মধ্যে উষ্ণতম ছিল ২০১৬ ও ২০২০ সাল। তবে উষ্ণতার নিরিখে এর পরই ছিল ২০২১।

২০১৫ সালে প্যারিসে ১৯০টি দেশের নেতারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার কথা বলেন। কিন্তু গত বছরই ইউরোপে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডায় তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আগস্টে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বেশিরভাগ এলাকা দাবানলে পুড়েছে। প্রাণ গেছে শত শত মানুষের।

নোয়ার পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে ০.৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১.৫১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল।

আন্তর্জাতিকভাবে সব দেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রার হিসাব রাখা শুরু হয় ১৮৮০ সালে। এই হিসাব অনুযায়ী নাসা জানায়, গত ১৪১ বছরের ইতিহাসে ২০২১ ও ২০১৮ সাল ছিল উষ্ণতার দিক থেকে ষষ্ঠ।

জলবায়ু গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থ বৃহস্পতিবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সে প্রতিবেদনেও বলা হয় ২০১৮ ও ২০১৫ সালের সঙ্গে ষষ্ঠ উষ্ণতম বছর ছিল ২০২১।

তবে নোয়ার দাবি, উষ্ণতার দিক থেকে এককভাবে ২০২১ সাল ষষ্ঠ স্থানটির দাবিদার।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা দ্য কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানায়, গত সাত বছর ছিল বিশ্বের উষ্ণতম বছর। এ তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিল ২০২১ সাল।

নাসা ও নোয়া জানায়, উষ্ণায়নের জন্য গত এক বা দুই দশকে উদ্বেগজনকভাবে শুধুই ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়েছে তা নয়, সে সঙ্গে বেড়েছে মহাসাগরগুলোর পানির উপরিতলের তাপমাত্রাও। ফলে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ আরও দ্রুত গলছে। সমুদ্রের পানির স্তরও উপরে উঠে আসছে আশঙ্কাজনকভাবে।

নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের পরিচালক ও এজেন্সির প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী গ্যাভিন স্মিথ। তিনি বলেন, গত আট বছরই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ।

নোয়ার জলবায়ু বিশেষজ্ঞ রাসেল হোস বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২০২২ সালটির দশম উষ্ণতম বছর হয়ে ওঠার আশঙ্কা ৯৯ শতাংশ। আর গত দেড় শ বছরের ইতিহাসে এ বছর সবচেয়ে উষ্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা ১০ শতাংশ।’

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

রাতে শীত আরও বাড়বে

রাতে শীত আরও বাড়বে

উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়ায় খড়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টায় শিশুরা। ফাইল ছবি

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে দিনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে রাতে তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে শীতের তীব্রতা বাড়াবে। রাতে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে আসবে।’

সারা দেশে রাতের আবহাওয়া ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আগামী ৩ দিন এমন শীত অব্যাহত থাকবে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে দিনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে রাতে তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে শীতের তীব্রতা বাড়াবে। রাতে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়ে। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিকেল ৩টার পর জানানো যাবে। তাপমাত্রা কমে আসায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। আজও কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমবে। রোববার সকালে রংপুর, রাজশাহীসহ এই বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়।’

এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘চলতি মাসেই সারা দেশে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম থাকতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে‌ বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা পূর্বাভাসে বলা হয়- রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। এর প্রভাবে সারা দেশেই রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

উত্তর ভারতজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ

উত্তর ভারতজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ

বহমান শৈত্যপ্রবাহে দিল্লির অনেক জায়গায় রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানীর নয়াদিল্লিতে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে সেখানে। তীব্র শীতে মানুষকে রক্ষায় দিল্লির অনেক জায়গায় রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

উত্তর ভারতের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে বহমান শৈত্যপ্রবাহে। অনেক রাজ্যে পাহাড়ে চলছে তুষারপাত, বাদ নেই বৃষ্টি। কাশ্মীরের তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকছে প্রায় এক সপ্তাহ। এ ছাড়া দিল্লিসহ উত্তর ভারতজুড়ে বইছে হিমশীতল ঠান্ডা হাওয়া।

আবহাওয়া দপ্তর জানায়, রাজস্থান, আসাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরায় আগামী দুই দিন ঘন কুয়াশার আভাস আছে।

পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও দিল্লিতে আগামী তিন দিন এবং উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিমে আগামী পাঁচ দিন ঘন কুয়াশা দেখা যাবে। এ ছাড়া দুই দিনের মধ্যে পশ্চিম-উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোয় শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।

কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরালায় হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তর ভারতজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ
ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে চারদিক। ছবি: সংগৃহীত

শনিবার দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে সেখানে। তীব্র শীতে মানুষকে রক্ষায় দিল্লির অনেক জায়গায় রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

লোধি রোড এলাকার নৈশ আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মনোজ কুমার জয়সওয়াল বলেন, ‘এখানে পর্যাপ্ত কম্বল রাখা হয়েছে। মানুষকে তিন বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। করোনার কারণে নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপও করা হচ্ছে।’

এ সময়ে দিল্লির বাতাসের মানে উন্নতি হয়নি। শনিবার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৩৩৯ রেকর্ড করা হয়। বাতাসের গুণমান ‘খুব খারাপ’ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

কাশ্মীরে তীব্র শীতের প্রকোপ অব্যাহত আছে। চলছে তাপমাত্রার পতন। শুক্রবার রাত থেকে উপত্যকার বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা কমেছে। শুধু উত্তর কাশ্মীরের গুলমার্গ রিসোর্টে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা বেড়েছে। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা আগের দিন ছিল মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহে গুলমার্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম ছিল।

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

লাউয়াছড়ায় মা হারা তিন বনবিড়াল শাবকের মৃত্যু

লাউয়াছড়ায় মা হারা তিন বনবিড়াল শাবকের মৃত্যু

বন বিভাগের লোকজন শাবকগুলোকে মাটিচাপা দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজাম বলেন, ‘দুটি শাবক সম্ভবত ঠান্ডা ও অনাহারে মারা গেছে। হয়তো মাকে ওরা হারিয়ে ফেলেছিল। বাচ্চা দুটি একে-অপরকে জড়িয়ে ছিল। সম্ভবত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল। অন্যটি একটু দূরে ঝোপের মধ্যে পড়েছিল। কোনো প্রাণির হামলার শিকার হয়েছিল এটি।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বনবিড়ালের তিনটি মৃত শাবক উদ্ধার হয়েছে। বাঘমারা ক্যাম্পের বিপরীতে একটি টিলা থেকে শুক্রবার সকালে এগুলো উদ্ধার হয়।

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজাম ছবি তুলতে ওই স্থানে গেলে শাবকগুলোকে মৃত অবস্থায় পান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দুটি শাবক সম্ভবত ঠান্ডা ও অনাহারে মারা গেছে। হয়তো মাকে ওরা হারিয়ে ফেলেছিল। বাচ্চা দুটি একে-অপরকে জড়িয়ে ছিল। সম্ভবত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল।

অন্যটি একটু দূরে ঝোপের মধ্যে পড়েছিল। কোনো প্রাণির হামলার শিকার হয়েছিল এটি। মাথায় কামড়ের চিহ্ন ছিল। তবে মৃত্যুর পর হামলার শিকার হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত না। বন বিভাগের লোকজন এগুলোকে মাটিচাপা দেয়।’

আশপাশের লোকজন জানান, তিনদিন আগে স্থানীয় আজগর আলীর বাড়ি থেকে একটি হাঁস নিয়ে যায় বনবিড়াল। এরপর থেকে সেটিকে আর দেখা যায়নি।

আজগর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতে আমার কোনো ক্ষোভ ছিল না। রিজিকে ছিল না, তাই নিয়ে গেছে।’

রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মা বনবিড়ালটিকে কেউ মেরে ফেলেছে কিংবা গাড়িচাপায় মৃত্যু হয়েছে। বাচ্চগুলো মায়ের অপেক্ষায় ছিল। এক সময় বাইরে বেরিয়ে আসে খাবারের সন্ধানে। ক্ষুধা আর ঠান্ডায় এদের মৃত্যু হয়। এদের মায়ের দেহ খোঁজা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন

শীতেই ফুটেছে বসন্তের ফুল পলাশ

শীতেই ফুটেছে বসন্তের ফুল পলাশ

শীতেই নওগাঁ শহরে ফুটেছে পলাশ। ছবি: নিউজবাংলা

নওগাঁয় পৌষের শেষে থোকায় থোকায় পলাশ ফুটেছে। নগরবাসী এতে আনন্দিত হলেও উদ্ভিদবিশারদ ও নিসর্গবিদরা বলছেন, এটা অস্বাভাবিক এবং ঋতুচক্রে পরিবর্তনের আভাস।

এখনও শীত শেষ হয়নি। মাঘ মাসে কেবল শুরু। কিছুদিন ধরে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। তবে এবার শীতেই নওগাঁ শহরে ফুটেছে পলাশ ফুল। বসন্তের ফুল শীতে কেন ফুটল, এ নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।

লালচে কমলা রঙের আভা নওগাঁ শহরের ব্যস্ততম মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর রাঙিয়ে দিয়েছে। আর এই ফুল ঘিরে অসময়ে বসন্ত উৎসবে মেতেছে কোকিল, বুলবুলি, শালিকের মতো গানের পাখিরা।

নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মনে করা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরকে। এই চত্বরের এক পাশে গাছে গাছে রঙের পসরা সাজিয়েছে পলাশ।

পলাশ পর্ণমোচী বৃক্ষজাতীয় ফুলগাছ। উচ্চতা গড়ে ১২-১৫ মিটার। শাখা-প্রশাখায় থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। কুঁড়ি অনেকটা বাঘের নখের আকৃতির। বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী, দেখতে অনেকটা মান্দারগাছের পাতার মতো হলেও আকারে বড়।

শীত মৌসুমে পলাশ গাছের সব পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মে নতুন পাতা গজায়। ফুল ফোটার সময় গাছ থাকে পাতাশূন্য। গাছের শাখা-প্রশাখা নরম। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে পলাশের বংশবিস্তার ঘটানো হয়।

পলাশ বসন্তজুড়েই মুগ্ধতা ছড়ায়। সংস্কৃতিতে ফুলটি কিংসুক নামে আর মনিপুরী ভাষায় পাঙ গোঙ নামে পরিচিত।

নওগাঁর রাস্তার পাশে অন্তত ১০-১২টি পলাশ গাছ রয়েছে, যাতে শীতের মধ্যভাগেই লালচে কমলা রঙের ফুলের দেখা মিলছে। এই পথে আসা-যাওয়ার সময় নগরবাসীদের মনে পলাশ ফুল দেখে ভালো লাগার আবহ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

অসময়ে পলাশ ফুল ফোটার পেছনে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার বলছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া ও ঋতুচক্রে অদল-বদল ঘটে চলেছে।

নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা মিলি মনে করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর চারিত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে। বসন্ত ঋতু আসার আগে পলাশ ফুল ফোটার পেছনেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। একসময় গ্রামে-গঞ্জে অনেক পলাশ গাছ দেখা গেলেও আজকাল কদাচিৎ দেখা যায়। এমন অবস্থায় অসময়ে নওগাঁ শহরে পলাশের পসরাকে শহরবাসী দেখছেন প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে।

শীতেই ফুটেছে বসন্তের ফুল পলাশ

নিসর্গবিদ মোকাররম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, সাধারণত মাঘের শেষে ফাল্গুন-চৈত্রে পলাশ ফোটে। এ সময় পলাশ ফোটা অস্বাভাবিক। গত কয়েকদিন ধরে শীতের প্রকোপ কমে গিয়ে বসন্তের মতো আবহাওয়া দেখা দিয়েছিল। এ কারণে এটা ঘটে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
আবার জেগেছে নিরাগঙ্গো, আতঙ্কে ডিআর কঙ্গো
ভাঙল ৮০০ বছরের ঘুম

শেয়ার করুন