ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চীনা চর: এমআই-ফাইভ

player
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চীনা চর: এমআই-ফাইভ

দ্য হাউস অফ পার্লামেন্ট ও দি এলিজাবেথ টাওয়ার। ছবি: সিএনএন

ব্রিটিশ গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্রিটিশ এমপিদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন লি। এই অর্থ আসছে হংকং ও চীনের নাগরিকদের কাছ থেকে, যারা বিভিন্ন দেশে বাস করছেন। 

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে এক নারীকে চীন নিয়োগ দিয়েছে বলে ব্রিটিশ এমপিদের সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-ফাইভ।

এমআই-ফাইভ বলছে, চীনা বংশদ্ভূত ব্রিটিশ ওই নারীর নাম ক্রিস্টিন কুই লি। তিনি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে কাজ করছেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার লিন্ডসে হোয়েল লন্ডন সময় বৃহস্পতিবার এমপিদের কাছে গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্রিটিশ এমপিদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন লি। এই অর্থ আসছে হংকং ও চীনের নাগরিকদের কাছ থেকে, যারা বিভিন্ন দেশে বাস করছেন।’

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন লেবার পার্টির এমপি বেরি গার্ডিনার। বলা হচ্ছে, ৪ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ নিয়েছেন গার্ডিনার।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেন, ‘অভিযোগ গুরুতর। কেউ একজন জেনেবুঝে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে আমাদের পার্লামেন্টে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে। কারা এই চক্রান্তে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।’

এসব অস্বীকার করেছে বেইজিং। তারা বলছে, এই অভিযোগ মারাত্মক। যুক্তরাজ্যে চীনা নাগরিকদের অপমান ও ভয় দেখাতে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

লন্ডনে চীন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে চলে চীন।’

দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘বিদেশি পার্লামেন্টে প্রভাব খাটানোর কোনো ইচ্ছাই নেই চীনের। আর এর প্রয়োজনও নেই। যুক্তরাজ্যে চীনা কমিউনিটিকে হেয় করার এই অপচেষ্টার নিন্দা জানাচ্ছি।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চীনা চর: এমআই-ফাইভ
ক্রিস্টিন কুই লি। ছবি: সিএনএন

ব্রিটিশ সরকারের তথ্য বলছে, লন্ডন ও বার্মিংহামে আইনি প্রতিষ্ঠান আছে লির। এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার লন্ডনে লির কার্যালয়ে পৌঁছায় সিএনএন কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরেই এই কার্যালয় বন্ধ আছে। দরজায় লেখা, ‘মহামারির কারণে কার্যক্রম আপাতত বন্ধ আছে।’

সেই নোটিশের নিচে দেয়া নম্বর ও ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে সিএনএন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। ছবি; সংগৃহীত

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির সরকার চাইছে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরির চেষ্টা করছে দেশটি।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। তিনি জানুয়ারির ২৪ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক বিচারপতি গুলজার আহমেদের অধীনে তিনি কাজ করবেন।

দেশটিতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

দুই দিন আগে, সংসদীয় কমিটির সবার সম্মতিতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে আয়েশা মালিকের অবস্থান চার নম্বরে।

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টিই বিবেচনা করা হবে।

বিচারপতি আয়েশা এ মালিক ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকবেন।

এদিকে বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইশা, বিচারপতি মকবুল বাহার, বিচারপতি সর্দার তারেক মাসুদ ও পাকিস্তান বার কাউন্সিলের প্রতিনিধি আখতার হুসেইন সংসদীয় কমিটির এই মনোনয়নের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার নীতিই অনুসরণ করা উচিত।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র এখন কাশ্মীরে

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র এখন কাশ্মীরে

কাশ্মীরে পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্টের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত অস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (পিএএফএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে এম ২৪৯ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ৫০৯ ট্যাকটিক্যাল বন্দুক, এম ১৯১১ পিস্তল এবং এম৪ কারবাইন রাইফেল ব্যবহার করতে দেখা যায়।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর রেখে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন কাশ্মীর উপত্যকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে।

একটি সশস্ত্র সংগঠনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ভিডিওতে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেল এবং পিস্তল সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (পিএএফএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে এম ২৪৯ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ৫০৯ ট্যাকটিক্যাল বন্দুক, এম ১৯১১ পিস্তল এবং এম৪ কারবাইন রাইফেল ব্যবহার করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকটি অভিযানে ৬ জন অস্ত্রধারীকে হত্যা করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা বিদেশি নাগরিক। তাদের সবার কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম৪১৬ কার্বাইন পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এম৪১৬ কার্বাইন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসল্ট রাইফেল।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটা অংশ আফগানিস্তানে তালেবানরা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।

পাকিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তালেবানদের কাছ থেকে এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনে সীমান্ত পেরিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় পাঠাচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ কাশ্মীরের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পড়বে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, কাশ্মীর উপত্যকায় প্রায় ৮৫ জন বিদেশি রয়েছেন। এই বিদেশি অস্ত্রধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসল্ট রাইফেল বহন করছেন।

ড্রোনের সাহায্যে সীমান্তের ওপার থেকে এই রাইফেল, পিস্তল, গ্রেনেড ইত্যাদি পাঠানো হচ্ছে বলেও মনে করেন নিরাপত্তা বাহিনী। তবে কয়েকবার সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এভাবে অস্ত্র পাচারের অনেক ঘটনা নস্যাৎও করেছে।

কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হাতে আসা এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র একটি নতুন এবং বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভারতীয় সরকারও জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশকে দেশের প্রথম পুলিশ বাহিনী হিসেবে তাদের মার্কিন তৈরি সিগ সাউয়ার ৭১৬ রাইফেলস এবং সিগ সাউয়ার এমপিএক্স ৯ এমএম পিস্তল দেবে।

শেয়ার করুন

মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে আগুন, মৃত ৭

মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে আগুন, মৃত ৭

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৩টি গাড়ি ও ৭টি ওয়াটার জেটি আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাই শহরের মেয়র কিশোরি পেডনেকার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আহত ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের মুম্বাইয়ে গান্ধী হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ২০ তলা ভবনের ১৮ তলায় এ আগুনের সূত্রপাত।

মুম্বাই শহরের মেয়র কিশোরি পেডনেকার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আহত ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগুন ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার পরিমাণ ব্যাপক। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৩টি গাড়ি ও ৭টি ওয়াটার জেটি আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত ৭ জনের ৫ জন নায়ের হাসপাতালে, ১ জন কাসটুরবা হাসপাতালে এবং ১ জন মারা গেছেন ভাটিয়া হাসপাতালে।

শেয়ার করুন

প্রাচীন প্রবাল প্রাচীরের সন্ধান পেল ইউনেসকো

প্রাচীন প্রবাল প্রাচীরের সন্ধান পেল ইউনেসকো

নতুন আবিষ্কৃত প্রবাল প্রাচীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন একজন গবেষক। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের উপকূলের কাছে যে গভীরতাটি ‘টোয়ালাইট জোন’ নামে পরিচিত, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপের তেমন একটি এলাকায় ডাইভিং অনুসন্ধানের সময় নভেম্বর মাসে প্রবাল প্রাচীরটির অবস্থান জানা যায়।

প্রবাল প্রাচীর হলো সমুদ্রের তলে সবচেয়ে হুমকিতে থাকা বাস্তুসংস্থান। অথচ সমুদ্রের প্রাণী বৈচিত্র্যের ২৫ শতাংশের বাস এই প্রবাল প্রাচীরে। সমুদের দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ইমিশন ডিসলভিং রসায়নই বদলে দিচ্ছে। তাই বিশ্বের পরিবেশবাদীরা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সমুদ্রের তলদেশের প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় সোচ্চার।

এবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার তাহিতি উপকূলে ৩০ মিটার গভীরে এক দীর্ঘ ও প্রাচীন প্রবাল প্রাচীরের সন্ধান পেয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইউনেসকোর) সাগরতলের অনুসন্ধানকারী দল।

সমুদ্রের উপকূলের কাছে যে গভীরতাটি ‘টোয়ালাইট জোন’ নামে পরিচিত, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপের তেমন একটি এলাকায় ডাইভিং অনুসন্ধানের সময় নভেম্বর মাসে প্রবাল প্রাচীরটির অবস্থান জানা যায়। পুরো অভিযানটি ‘সিবেড ২০৩০ প্রজেক্ট’-এর অংশ।

ইউনেসকো ইতিমধ্যে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সমুদ্রের এত গভীরে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর এটিই।

সংস্থাটির গবেষক ড. জুলিয়ান বারবাইরির মতে, হয়তো এমন বাসস্থান আরও অনেক আছে, যার সম্পর্কে আমরা এখনও জানি না। তবে বিশ্বব্যাপী প্রবাল প্রাচীরগুলোকে রক্ষার জন্য তাদের মানচিত্রের আওতায় আনতে হবে।

ইউনেসকোর ডিরেক্টর জেনারেল অউদ্রে আজউলেয় এই আবিষ্কারকে অবিশ্বাস্য বলছেন।

ফরাসী সমুদ্রতলের আলোকচিত্রী আলেক্সিস রোসেনফেল্ড বলেছেন, যতদূর চোখ যায় এই গোলাপের আকৃতির জাদুকরী এ প্রবাল প্রাচীর ততদূরই দেখা যায়। এটি অনেকটা শিল্পকলার মতো।

প্রফেসর মারি রবার্টস, এডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিডিং মেরিন সায়েন্টিস্ট বলেছেন, ‌‘এই আবিষ্কারেই স্পষ্ট হয়, আমরা সমুদ্রের বিষয়ে কত কম জানি।

‘এত দিন ধরে আমরা ভেবেছিলাম এই প্রবাল প্রাচীরগুলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার অগভীর সমুদ্র উপকূলে হয়ে থাকে। কারণ গভীর জলের চেয়ে অগভীর জল দ্রুত উষ্ণ হয়। এ ছাড়া প্রবালের গায়ে লেগে থাকা শৈবালের আলো প্রয়োজন। কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গভীর সমুদ্রই ভবিষ্যৎ প্রবালের আশ্রয়স্থল। তাই এই স্থানগুলোর ম্যাপিং করতে, তাদের পরিবেশগত ভূমিকা বুঝতে এবং ভবিষ্যতে প্রবালগুলো রক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে।’

তবে অতিরিক্ত গভীরতায় থাকায় প্রবাল প্রাচীরটি বেশ অক্ষতই আছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী মাসে সেখানে আরও অনুসন্ধান করা হবে।

শেয়ার করুন

সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৭০

সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৭০

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) বার্তা সংস্থা এএফপিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার হুতিদের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা উত্তর ইয়েমেনের সা’দাহতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই চলে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের। সৌদি সামরিক জোটের হামলার জবাবে প্রায়ই সৌদির বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে দেশটিতে ৩ জন নিহত হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার সৌদি জোটের বিমান হামলায় ইয়েমেনের একটি কারাগারে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) বার্তা সংস্থা এএফপিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় হাসপাতাল থেকেই তথ্যগুলো এসেছে।

সেইভ দ্য চিলড্রেনও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশুও রয়েছে।

শুক্রবার হুতিদের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা উত্তর ইয়েমেনের সা’দাহতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনছেন।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অ্যান্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

শেয়ার করুন

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

সেলিনা রদ্রিগেজ। বয়স মাত্র ১১ বছর। এই বয়সে সেলিনা ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটে প্রচণ্ড রকম আসক্ত হয়ে পড়ে। প্ল্যাটফর্ম দুটির কিছু ‘ভয়ংকর’ ফিচারে আসক্ত হয়ে গত বছরের জুলাইয়ে ‘আত্মহত্যা’ করে সেলিনা।

সেলিনাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এবং স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট রাজ্যে ঘটেছে মামলার এ ঘটনা।

শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ভয়ের মধ্যেই মামলার খবরটি সামনে এসেছে।

স্যোশাল মিডিয়া ভিক্টিম ল সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেলিনার মা ট্যামি তার শিশুসন্তানের আত্মহত্যার জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটিতে ‘চরম’ আসক্তির কথা বলেছেন।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়, সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সেলিনা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসা পেয়েছেন।

সেলিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে তাকে থেরাপি দিচ্ছিলেন যে চিকিৎসক, তিনি এর আগে কাউকে তিনি মাধ্যমে এত আসক্ত দেখেননি বলে দাবি করেন।

২০২১ সালের ২১ জুলাই সেলিনা আত্মহত্যা করার আগে ঘুমের অভাব ও বিষণ্ণতায় ভুগছিল।

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আসক্তি মূলত বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে।

মামলার অভিযোগের মধ্যে ছিল, সেলিনাকে যৌন শোষণমূলক সামগ্রীর অনুরোধ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সে শেয়ার করেছিল।

স্ন্যাপচ্যাটের মুখপাত্র সেলিনার মৃত্যুর বিষয়টিকে ‘বিধ্বস্ত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কমিউনিটির মানুষের সুস্থতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বিষয়টি নিয়ে বিবিসির প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

৩৫টি ‘পাকিস্তানভিত্তিক’ ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করল ভারত

৩৫টি ‘পাকিস্তানভিত্তিক’ ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করল ভারত

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব অপূর্ব চন্দ্র বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো পাকিস্তান থেকে চালানো হতো। তারা ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচার করছিল।’

ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলে ৩৫টি ‘পাকিস্তানভিত্তিক’ ইউটিউব চ্যানেল ও একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে ভারত।

দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব অপূর্ব চন্দ্র শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩৫টি ইউটিউব চ্যানেল, দুটি টুইটার অ্যাকাউন্ট, দুটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, দুটি ওয়েবসাইট ও একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো পাকিস্তান থেকে চালানো হতো। তারা ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচার করছিল।’

অপূর্ব চন্দ্র আরও বলেন, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে চিঠি লিখেছিলাম। তারা ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় সব অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিক্রম সহায় বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুসারে এসব ইউটিউব চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মোট সাবস্ক্রাইবার ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি। এসব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও ১৩০ কোটি বারেরও বেশি দেখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ডিসেম্বরে ভারতবিরোধী তথ্য সম্প্রচারের অভিযোগ তুলে ২০টি ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করা হয়।

শেয়ার করুন