ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৯, মোদির শোক

player
ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৯, মোদির শোক

শুক্রবার সকালে লাইনচ্যুত ট্রেনের বগি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি শহরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে নয়জন হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলপাইগুড়ির স্থানীয় এক হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।

দোমোহনি এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বিকানের গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা গুনীত কৌর জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনযাত্রীদের রাত ৩টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার লাইনচ্যুত বগিগুলো সরানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ট্রেনের ভেতর আর কোনো যাত্রী আটকে নেই বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূল কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা দুজনেই দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। আহতরা পাবেন ১ লাখ রুপি; সামান্য আঘাত পাওয়াদের দেয়া হবে ২৫ হাজার রুপি করে।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে কাফন মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের গায়ে ছিল কাফনের কাপড় আর সামনে খাটিয়ায় রাখা ছিল একটি প্রতীকী মরদেহ।

শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিন শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুর দিকে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না।

এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছল করেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। প্রয়োজনে আমরা মারা যাবো, তবু আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের ঢাকায় গিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, অসুস্থ ও মুমূর্ষ অবস্থায় সহযোদ্ধাদের ফেলে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য তারা শিক্ষামন্ত্রীকে ভিডিওকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন অথবা শিক্ষামন্ত্রী শাবিতে এসে তাদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা ঢাকায় না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শুক্রবার ঢাকায় গেছেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদেন ডিন ড. মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

শনিবারই তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারও আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। পরে দাবি মেনে নেয়া হবে বলে, উপাচার্যের এমন আশ্বাসে হলে ফেরেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাদের দাবি না মেনে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন। পরে সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থী আবারও ক্যাম্পাসে এসে অনশনে যোগ দিয়েছেন।

হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১২ শিক্ষার্থী। তারা সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একটি দল। এই দলের সদস্য নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতেই বেশি কাতর হয়েছেন অনশনকারীরা। তাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জ্বরও আসছে। এ ছাড়া পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার তাদের কাছে যান শিক্ষকদের একাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় থাকেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজি হলেও পরে ঢাকায় যেতে সম্মত হননি। শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে আসার অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। তবে আলোচনা করতে ঢাকায় গেছেন শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


শুক্রবার রাতে তারা ঢাকায় যান। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস। তিনি শনিবার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় যেতে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমরাই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উনার (শিক্ষামন্ত্রীর) সঙ্গে কথা বলব।’

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ফিজিক্যাল সায়েন্সের অনুষদ ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়েরুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

শাবি সংকট: ভিসির তদন্ত কমিটির খোঁজ নেই

শাবি সংকট: ভিসির তদন্ত কমিটির খোঁজ নেই

শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফাইল ছবি

১৩ জানুয়ারির হামলা-সংঘর্ষসহ সব ঘটনা তদন্ত করতে ১৭ জানুয়ারি আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। কমিটির প্রধান করা হয় অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারকে। এ ছাড়া পাঁচ অনুষদের ডিন, প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টাকে রাখা হয় কমিটিতে। তবে অধ্যাপক রাশেদ বলেন, তাকে আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ দেয়া হয়নি।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় গত সোমবার একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছিলেন উপাচার্য। তবে পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও শুক্রবার পর্যন্ত এই তদন্ত কমিটি কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি।

এমনকি এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠাানিক কোনো চিঠি পাননি বলেও জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান গণিত বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার।

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। ১৬ জানুয়ারি তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ছাত্রদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য। এই সিদ্ধান্ত আসার রাতেই উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার থেকে তারা শুরু করেন অনশন।

শাবি সংকট: ভিসির তদন্ত কমিটির খোঁজ নেই

১৩ জানুয়ারির হামলা-সংঘর্ষসহ সব ঘটনা তদন্ত করতে ১৭ জানুয়ারি আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। কমিটির প্রধান করা হয় অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারকে। এ ছাড়া পাঁচ অনুষদের ডিন, প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টাকে রাখা হয় কমিটিতে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হলো তা বের করা হবে।’

তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি এখনও পাইনি। ফলে কমিটির কার্যক্রমও শুরু হয়নি।’

পাঁচ দিনেও তদন্ত কমিটি চিঠি না পাওয়া প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ আহমদের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। শুক্রবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনিক ভবনেও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। এ কারণে তদন্ত কমিটির সদস্যদের এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেই চিঠি প্রেরণ করা হবে।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে টানা তিন দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ২৩ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শাবি সংকট: ভিসির তদন্ত কমিটির খোঁজ নেই

আন্দোলন শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা একাধিকবার আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের বলেন, তদন্ত করে এই ঘটনায় যাদেরই দোষ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনও গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার তদন্ত কমিটি করে যদি আমার দোষ পায় তাহলে যে ব্যবস্থা নেবে তা মেনে নেব।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবশ্য কমিটি নিয়ে ভাবছেন না। এদের একজন সাব্বির আহমদ বলেন, ‘আমরা কোনো তদন্ত কমিটি চাই না। উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। তবু শিক্ষকরা তদন্তের কথা বলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এটি করেছে। কিন্তু এই কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু না করাই প্রমাণ করে তদন্ত কমিটির নামে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

ঘানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৭, আহত ৫৯

ঘানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৭, আহত ৫৯

ঘানায় বিস্ফোরণস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। ছবি: সংগৃহীত

ঘানা সরকারের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমের বোগোসো শহরের অ্যাপিয়েট এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। খনিতে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক বহন করা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিস্ফোরণ ঘটে।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় বিস্ফোরণে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত কমপক্ষে ৫৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়িঘর।

ঘানা সরকারের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমের বোগোসো শহরের অ্যাপিয়েট এলাকায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। খনিতে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক বহন করা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘানার তথ্যমন্ত্রী কোজো ওপাং বলেন, ‘ ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯ জনকে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এনএডিএমও) ডেপুটি ডিরেক্টর সেজি সাজি বলেন, ‘বিস্ফোরণে অন্তত ৫০০ বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে জোর উদ্ধার অভিযান চলছে।’

বিস্ফোরকভর্তি ট্রাকটি কানাডাভিত্তিক মাইনিং কোম্পানি ছিরানো গোল্ড মাইনের। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, খনি থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। তাদের আশ্রয় দিতে পাশের শহরগুলোর স্কুল ও চার্চগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলছেন ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আদ্দো। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন টুইটে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামীর জবানবন্দি

শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামীর জবানবন্দি

স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। ছবি: সংগৃহীত

আদালত পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘রিমান্ড চলাকালেই বৃহস্পতিবার আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর শেষ বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন।’

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২১ শুক্রবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের আদালত পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রিমান্ড চলাকালেই গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর শেষ বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন।

‘সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের হাকিম সাইফুল ইসলাম নোবেলের এবং আরেক জ্যেষ্ঠ হাকিম মিশকাত শুকরানা আব্দুল্লাহ ফরহাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

গত ১৮ জানুয়ারি এ দুই আসামিকে মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

শিমুকে খুনের বিষয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে কলাতিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলীপুর ব্রিজ থেকে ৩০০ গজ উত্তর পাশে পাকা রাস্তাসংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ৩২ বছর বয়সী এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

‘মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। পোস্টমর্টেমের জন্য মৃতদেহটি মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে মৃতদেহের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তকালে জানা যায়, মৃতদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর।’

তিনি বলেন, ‘খুনিরা যদিও খুবই পরিকল্পিতভাবে লাশটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুরে ফেলে যায়। তবে তারা কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসি। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ফলে শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

‘বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। দাম্পত্য কলহের জেরে ১৬ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭-৮টার মধ্যে যেকোনো সময় খুন হন শিমু। তার লাশ গুম করতে সহায়তা করেন আব্দুল্লাহ ফরহাদ।’

তারা খুন করার পর শিমুর বস্তাবন্দি লাশ গাড়িতে নিয়ে গুম করা ও আলামত নষ্ট করার জন্য ২ ঘণ্টা ধরে ঘোরাঘুরির পর উল্লিখিত স্থানে ঝোপের মধ্য লাশ ফেলে আসেন।

এরপর লাশ শনাক্ত হলে শিমুকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই হারুনুর রশীদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

মত পাল্টালেন শাবি শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

মত পাল্টালেন শাবি শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখপাত্ররা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া বলেন, ‘এখানে আন্দোলনকারীদের ফেলে ঢাকা যাওয়া সম্ভব না। আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেট আসতে আহ্বান জানিয়েছি। কিংবা ভিডিও কলেও আলোচনা হতে পারে।’

উপাচার্য ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আলোচনা করতে ঢাকায় আসছেন বলে দুপুরে জানালেও বিকেলে মত পাল্টেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় নয়, আলোচনা হবে সিলেটেই। সে জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেট যেতে হবে অথবা আলোচনা ভিডিও কলে হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া আফরিন নিউজবাংলাকে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানান, শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবে ঢাকা যেতে রাজি হয়েছিলেন। এক ঘণ্টা সময় চেয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে কারা যাবে সেটি সিদ্ধান্ত নিতে। তবে পরে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয়।

সাদিয়া বলেন, ‘এখানে আন্দোলনকারীদের ফেলে ঢাকা যাওয়া সম্ভব না। আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেট আসতে আহ্বান জানিয়েছি। কিংবা ভিডিও কলেও আলোচনা হতে পারে।’

সাদিয়া জানান, তাদের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলকে জানানো হয়েছে। তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জানাবেন।

এর আগে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে আলোচনার জন্য তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা যাবে।

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্দোলন মোড় নেয় উপাচার্য পদত্যাগের এক দফা দাবিতে।

এই দাবি নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা।

মত পাল্টালেন শাবি শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফোনে শুক্রবার দুপুরে আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে লাউড স্পিকারে তিনি আলাপ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভালো থাকবে। তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। ক্যাম্পাসও ঠিক থাকবে।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপার আছে। আমরা তাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে শিক্ষার্থীরা কষ্ট পাবে, এটাও চাই না। সব সমস্যার সমাধান আছে। এটারও নিশ্চয় আছে। আলোচনার মাধ্যমে সেই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে চার-পাঁচজন যদি আসেন, শিক্ষক সমিতির নেতারাও যদি আসেন, তবে আমরা আলাপ করে একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে আসবেন। পরে নিজেদের মধ্যে যেন ঝামেলা না হয়।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। সন্ধ্যার আগেই আমাদের পাঁচজন ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে যাবেন। আশা করছি, মন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় গেলেও অনশন যথারীতি চলবে।’

এরপর প্রতিনিধি দল ঠিক করতে এক ঘণ্টা সময় নেন তিনি। এর মধ্যেই আন্দোলনকারীরা মত পাল্টে বিকালে জানান, তারা ঢাকা যাবেন না।

এর আগে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ক্যাম্পাসে যান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মত পাল্টালেন শাবি শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

এরপর তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের বাসভবনেও যান।

সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিউল আলম নাদেল। তার আগে সাংগঠনিক সম্পাদকের মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

নাদেল বলেন, ‘এভাবে অচলাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। আমাদের সন্তানদের এই কষ্ট মেনে নিতে পারছি না।’

‘শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা নিয়ে এখানে এসেছি। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করব। উপাচার্যও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি। তা হলো উপাচার্যের পদত্যাগ। এই দাবি আদায় না হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। প্রয়োজনে আমরা মারা যাব।’

এদিকে অনশনকারীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। বেলা ৩টা পর্যন্ত ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সেখানেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয়াদের সবার স্যালাইন চলছে।

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন

শাবির আন্দোলনের অনুঘটক শিক্ষকদের বিরোধ?

শাবির আন্দোলনের অনুঘটক শিক্ষকদের বিরোধ?

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে শিক্ষকদের বলয়গুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতপন্থি বলয় এখন অনেকটাই কোণঠাসা। অন্য দুই বলয়ের শিক্ষকরাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দায়িত্বশীল পদ পাওয়া নিয়ে এই দুই বলয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি এখন রূপ নিয়েছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা এখন এতটাই অনড় যে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ২৪ জন। শিক্ষকদের আলোচনার সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারা।

একটি হলের কয়েক ছাত্রীর ছোট আন্দোলন এমন ব্যাপক আকার ধারণ করার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক রাজনীতির ইন্ধনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হয়ে ওঠে বলে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিজেদের গ্রুপিংয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ভুল বুঝিয়েছেন। নিজেরা সুবিধা আদায় করতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘ করতে ইন্ধন দিয়েছেন। যে ঘটনা শুরুতেই সমাধান করা যেত তা জিইয়ে রেখে আন্দোলনকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন।

এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক নেতারা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার ফলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে; আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিমাদ্রী শেখর রায় বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ আছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সংকটে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাই। এখনও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি।’

কারা সেদিন পুলিশকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অনুমতি দিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউই এ দায় স্বীকার করতে চাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশেই পুলিশ হামলা চালায়।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তিনটি বলয় রয়েছে। আওয়ামী-বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ ও বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক পরিষদ’।

শাবির আন্দোলনের অনুঘটক শিক্ষকদের বিরোধ?

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে শিক্ষকদের এই বলয়গুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতপন্থি বলয় এখন অনেকটাই কোণঠাসা। অন্য দুই বলয়ের শিক্ষকরাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দায়িত্বশীল পদ পাওয়া নিয়ে এই দুই বলয়ের শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

এই দ্বন্দ্বের জেরেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করার পর প্রকাশ্যে তিন বলয়ের শিক্ষকদেরই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বলয়ের শিক্ষক নেতারাই একসঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। তারা একসঙ্গে উপাচার্যের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী-বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদের দুজন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা ও মেডিক্যালের দায়িত্বেও রয়েছেন এই বলয়ের দুজন শিক্ষক। একটি হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন এই বলয়ের একজন।

আর আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকরা তিন হলের প্রাধ্যক্ষ, রিসার্চ সেন্টার, সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, ইনস্টিটিউশন অফ মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজের দায়িত্বে রয়েছে।

সর্বশেষ শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে জয় লাভ করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। সভাপতি-সম্পাদক পদে জয়ী হন তাদের প্যানেলের শিক্ষকরা। এর আগে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী-বামপন্থি শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা করছেন, তবে উপাচার্য আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ শিক্ষকদের এই দায়িত্ব দেন।

শাবির আন্দোলনের অনুঘটক শিক্ষকদের বিরোধ?

এ নিয়ে দুই বলয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরেই ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রাধ্যক্ষবিরোধী আন্দোলনকে পুঁজি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করায় ইন্ধন জোগানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে শিক্ষকরা এমন কিছু অস্বীকার করেছেন।

শিক্ষক রাজনীতির কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার কথা অস্বীকার করে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কিছু ছিল বলে আমি মনে করি না। আমার চোখে অন্তত পড়েনি। এগুলো খামাখা ওড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রথমে ছোটই ছিল। প্রশাসন হয়তো সমাধানে কিছুটা দেরি করেছে, তবে তারা চেষ্টা করেছে।

‘পুলিশের হামলার পরই পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যায়, তবে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকদের সভাপতি অধ্যাপক মো. আখতারুল ইসলামও এমন কিছু অস্বীকার করে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই মূল বিষয় বেরিয়ে আসবে। এখন আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বাসে ট্রেনের ধাক্কা: মৃত্যু বেড়ে ৪
বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ৩, তদন্তে কমিটি
বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২

শেয়ার করুন