নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

player
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা। ছবি: বিবিসি

বিবিসি জানায়, রোববার নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ১৯ তলাবিশিষ্টি ভবনটির দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় তলায় থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় শিশুসহ কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, রোববার নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ১৯ তলাবিশিষ্টি ভবনটির দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় তলায় থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কমিশনার ড্যানিয়েল নিগরো নিউইয়র্কের এই আগুনকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

কমিশনার নিগরো সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোববার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ভবনের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূচনা হয়। মুহূর্তেই ধোঁয়া ভবনের প্রতিটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

‘আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুশ’ কর্মী কাজ করছে। তারা ভবনের সিঁড়ির প্রতিটি তলায় ভিকটিমদের খুঁজে পেয়েছে এবং তাদেরকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন লাগার কয়েকদিনের ব্যবধানে এবার নিউ ইয়র্কে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। ফিলাডেলফিয়ায় ওই আগুনে আট শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

আইএনএস রনবীর যুদ্ধজাহাজে মঙ্গলবার বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি:

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়।

ভারতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। শহরের অদূরে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। তিন সেনা মারা গেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেনারা জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। আহতদের নেভাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

জাকার্তা থেকে রাজধানী সরাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া  

জাকার্তা থেকে রাজধানী সরাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

 

পরিবেশগত কারণে রাজধানী স্থানান্তরে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র থাকবে জাকার্তাই। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হবে পশ্চিম কালিমানতান থেকে, যা জাকার্তা থেকে দুই হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। নর্থ পেনাজাম পাসের এবং কুতাই কার্তাননেগারা অঞ্চল ঘিরে হবে নতুন এই রাজধানী।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী আর জাকার্তা থাকছে না। নতুন রাজধানী হতে যাচ্ছে বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতান অঞ্চলে, নাম- নুসানতারা। আশা করা হচ্ছে ২০২৪ সালে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ প্রশ্নে একটি বিল মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়। এর ফলে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা আইনি কাঠামো পেল।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র থাকবে জাকার্তাই। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হবে পশ্চিম কালিমানতান থেকে, যা জাকার্তা থেকে ২ হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। নর্থ পেনাজাম পাসের এবং কুতাই কার্তাননেগারা অঞ্চল ঘিরে হবে নতুন এই রাজধানী।

রাজধানী স্থানান্তরের পর দেশের সম্পদ পুনর্বন্টনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমান রাজধানী জাকার্তা জাভা দ্বীপে অবস্থিত। এই দ্বীপেই দেশটির ৬০ শতাংশ জনগণ বাস করেন। আর বোর্নিও দ্বীপের কালিমানতান জাভা থেকে প্রায় চার গুণ বড়।

এক কোটি জনসংখ্যা ধারণের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে জাকার্তা। প্রায়ই বন্যার কবলে পড়ে শহরটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়তে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে জাকার্তা। শহরটির উত্তরাঞ্চল বছরে গড়ে ২৫ সেন্টিমিটার করে তলিয়ে যাচ্ছে।

এসব বিবেচনায় ২০১৯ সালে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো। তবে মাঝে করোনা মহামারির জন্য পিছিয়ে যায় উদ্যোগটি। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে এক কোটি জনসংখ্যার শহর জাকার্তার ওপর চাপ কমে আসবে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পনামন্ত্রী সুহারসো মনোয়ারফা বলেন, ’৮০টির বেশি নামের মধ্য থেকে রাজধানীর হিসেবে নুসানতারা নামটি বেছে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এটি নামের অর্থ দ্বীপপুঞ্জ।’

শেয়ার করুন

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেসক্লাবের দখল নিয়েছে প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

সংবাদমাধ্যমের ওপর আবারও আগ্রাসন চালাল ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে তারা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন শ্রীনগরে অবস্থিত কাশ্মীর প্রেস ক্লাব দখল করে নিয়েছে।

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

এদিকে সরকারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটি। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্লাবটি বন্ধ করা, কিন্তু এ পদক্ষেপ কাশ্মীরের সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।

কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইশফাক তন্ত্রে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা এ উপত্যকার একমাত্র গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে অনুরণিত সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল।

তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের সাংবাদিকরা শিখা প্রজ্জ্বলিত রাখতে এবং সামনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যথেষ্ট সক্ষম এবং পেশাদার। আমি আবারও বলতে চাই যে কাশ্মীরে সাংবাদিকতা উন্নতি লাভ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।’

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে দেশটি কেন্দ্রের শাসনে চলে যায়। কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে, সরকার সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

গত বছর মে মাসে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন বর্ধিতকরণের আবেদন করে। রেজিস্ট্রার অফ সোসাইটিজ ২৯ ডিসেম্বর তাদের আবেদন মঞ্জুর করে।

তবে ১৪ জানুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়। এর পরদিনই কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে পুলিশ প্রেস ক্লাব ভবনের দখল নেয়।

পরবর্তী সময়ে সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০০-এর বেশি সাংবাদিকের সংগঠন কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং ক্লাবকে দেয়া ভবন ও জমির বরাদ্দও বাতিল করা হয়।

স্থানীয় সংবাদপত্র 'কাশ্মীরওয়ালা'র সম্পাদক ফাহাদ শাহ বলেছেন, ‘সাংবাদিকতা এই অঞ্চলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে সাংবাদিকদের ক্রমাগত তলব এবং আটকে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বাড়িতে ও অফিসেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে কতটা নির্লজ্জভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনগুলোকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে জনগণকে এমন একটি লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য যা সরকার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’

উল্লেখ্য , কাশ্মীরে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষদের গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোকে অকেজো করে দিয়ে সেগুলোকে অস্তিত্বহীন ঘোষণা করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।

কাশ্মীর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্সের অনুসরণে প্রেস ক্লাব হলো সর্বশেষ স্বাধীন সামাজিক সংগঠন, যেখানে আগস্ট ২০১৯ সাল থেকে জোরপূর্বক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেয়া হয়েছিল।

শনিবারের ঘটনার পর এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ভারতের প্রায় সব প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের সংগঠন প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।

শেয়ার করুন

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা  নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমনটাই জানা গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন প্রতিবেদনে।

৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বাইরের কোনো গোষ্ঠী এই সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে। ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে নাশকতার চক্রান্ত করা হচ্ছে। গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, স্থাপনা ও জনসমাবেশে হামলা চালানো।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা ছাড়াও কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে।

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরার পাশাপাশি ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে প্রায় ৫০ হাজার সন্দেহভাজন অপরাধীর তথ্য থাকবে। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

করোনা বিধির কারণে প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানের মোট ৪ হাজার টিকিট বাজারে পাওয়া যাবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ২৪ হাজার জন উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার দীপক যাদব জানিয়েছেন, জঙ্গি নাশকতার সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়তে থাকার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও দিল্লি পুলিশের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। পুলিশকে রাজধানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দীপক যাদব জানিয়েছেন, ‘নয়াদিল্লি এলাকা ও তার আশপাশে বসবাসকারী ভাড়াটে এবং হোটেলগুলোতে থাকা অতিথিদের ওপর বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে।

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা রয়েছে। উড়ন্ত কোনো বস্তু যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করতে পারে, সেই কারণে অ্যান্টি ড্রোন টিমও মোতায়েন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

বাংলা কমিক্সের জনক নারায়ণ দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

ভারতের কিংবদন্তি কার্টুনিস্ট, বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক, বাটুল দ্য গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ মারা গেছেন।

কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম হাসপাতালে মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার ভুগছিলেন। তখন থেকেই এই বর্ষীয়ান শিল্পী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, মঙ্গলবার সকালে আবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সোয়া ১০ নাগাদ তার মৃত্যু হয়।

বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাওড়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

নারায়ণ দেবনাথ তাদের পারিবারিক ব্যবসা গয়নার নকশা বানাতেন ছোট থেকেই। স্কুল শেষে তিনি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তিনি সে সময় তার ডিগ্রি কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে দেব সাহিত্য কুটিরের শুকতারা পত্রিকায় বাংলা কমিক্স সাহিত্য নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে ‘হাঁদা ভোঁদা’ নামে। টানা ৫৩ বছর ধারাবাহিকভাবে চলেছে এই কমিক্স স্ট্রিপ।

‘হাঁদা ভোঁদা’ ছিল সাদা কালো, কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুকতারার পাতায় এলো রঙিন বাংলা কমিক্স স্ট্রিপ ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। একে একে এসেছে নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল এবং অন্য সব বিখ্যাত চরিত্ররা। যারা কয়েক প্রজন্মের বাঙালির জীবনের সঙ্গে মননের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। ২০০৭ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। ২০১৩ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার, ২০১৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি দেয়। ২০২১ সালে শিল্পীকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

তার প্রয়াণে দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার বলেন, ‘তার সৃষ্টির জন্য আপামর বাঙালি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট, বাহাদুর বেড়াল, এদের বাঙালির সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাটুল দি গ্রেট আবাল বৃদ্ধবনিতাকে মানসিকভাবে চাঙা করে দিয়েছিল। নারায়ণ দেবনাথ বাঙালির মনের মণিকোঠায় থেকে যাবেন।’

শেয়ার করুন

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাজ্য

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের দাবি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষামূলক, যার রেঞ্জও খুবই স্বল্প। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করে আসছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনের কাছে আধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রি করছে।

ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সমাবেশ নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র সরবরাহ করল।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস জানিয়েছেন, রাশিয়ার আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউক্রেনকে স্বল্পপাল্লার ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের স্বল্পসংখ্যক সেনাও ইউক্রেনে যাবে দেশটির সেনাদের নতুন অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য।

তবে ঠিক কী পরিমাণ সমরাস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানায়নি দেশটি।

প্রতিরক্ষা সচিবের দাবি এই অস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষামূলক, যার রেঞ্জও খুবই স্বল্প। এটি কোনো কৌশলগত অস্ত্র নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার বিশাল ট্যাঙ্কবহর মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী করবে কয়েক শ মিটার রেঞ্জের এই অস্ত্রগুলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৮ সালে একই ধরনের জাভালিন ক্ষেপণাস্ত্র দেশটিকে সরবরাহ করে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করে আসছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনের কাছে আধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রি করছে।

এদিকে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রাশিয়া দেশটির সীমান্তে প্রায় ১ লাখ সেনা মোতায়েন করেছে। জানুয়ারির শেষ দিকে দেশটি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে পারে।

তবে রাশিয়াকে ইউক্রেনে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের ব্যাপারে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

সমস্যা সমাধানে একাধিকবার বাইডেনের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ হয়েছে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনা হয়েছে ভিয়েনায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে জেনেভা ও ব্রাসেলসে হয়ে যাওয়া আলোচনায় কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ পাওয়া গেলেও রাশিয়া মূলত চায় টেকসই সমাধান, যা এই আলোচনা থেকে আসেনি।

তবে এ আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় যুদ্ধের আশঙ্কা করছে পোল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেউস মোরাওয়েক্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ৩০ বছরের মধ্যে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন

পৃথিবীর পাশ দিয়ে ছুটে যাবে ১ কিলোমিটারের গ্রহাণু

পৃথিবীর পাশ দিয়ে ছুটে যাবে ১ কিলোমিটারের গ্রহাণু

১৯৯৪ সালে সিডিং অবজারভেটরি থেকে মহাকাশের দিকে নজর রাখার সময় গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) গ্রহাণুটি জোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকনাগেট খুঁজে পান। ছবি: সংগৃহীত

ধুমকেতুর আঘাতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘ডোন্ট লুক আপ’ নামের একটি চলচ্চিত্র ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

মানুষের সাপেক্ষে মহাবিশ্বের মহাজাগতিক বস্তুগুলো খুব দ্রুত চলে। কিন্তু দূরত্বের কারণে আমাদের কাছে সবকিছু স্থির মনে হয়। আমরা সূর্যের দিকে তাকাই, চাঁদের দিকে তাকাই, কিন্তু আমরা তাদের কক্ষপথে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা টের পাই না। গ্রহাণুর বিষয়টি আলাদা। এ ক্ষেত্রে আমরা মহাজাগতিক কোনো বস্তুকে দ্রুতগতিতে ছুটতে দেখি।

আজ ১৮ জানুয়ারি পৃথিবীর মানুষ এমন একটি সুযোগ আবারও পেতে যাচ্ছে।

১ হাজার ৫২ মিটার দীর্ঘ গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) আজ রাত ৯টা ৩১ মিনিটে (ইউনিভার্সাল টাইম) ১২ লাখ ৩০ হাজার মাইল দূর দিয়ে পৃথিবীকে অতিক্রম করবে, যা চাঁদের থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পাঁচ গুণ।

সম্প্রতি উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেই লাজারিয়ান অঞ্চলে অবস্থান করবে, ঠিক সেখান দিয়েই অতিক্রম করবে গ্রহাণুটি।

ধুমকেতুর আঘাতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘ডোন্ট লুক আপ’ নামের একটি চলচ্চিত্র ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানেটারি ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) এমন কোনো ঘটনাই ঘটাবে না। এটি পৃথিবী বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কোনোটিরই ক্ষতি করবে না।

১৯৯৪ সালের ৯ জুন সিডিং অবজারভেটরি থেকে মহাকাশের দিকে নজর রাখার সময় গ্রহাণু ৭৪৮২ (১৯৯৪ পিসি১) গ্রহাণুটি জোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকনাগেট খুঁজে পান।

শেয়ার করুন