উত্তপ্ত কাজাখস্তানে রুশ সেনা

player
উত্তপ্ত কাজাখস্তানে রুশ সেনা

কাজাখস্তানে বিক্ষোভ দমাতে ব্যস্ত নিরাপত্তাবাহিনী। ছবি: এএফপি

ইন্টারফ্যাক্সকে রাশিয়ার এমপি লিওনিদ কালাসনিকোভ বলেন, ‘কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট যতদিন মনে করবেন আমাদের প্রয়োজন আছে, ততদিন সেনারা অবস্থান করবে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাজাখস্তানের অবকাঠামো যেন ভেঙে না পড়ে, তা দেখভাল করবে এই জোট।’  

সময়ের সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে কাজাখস্তান পরিস্থিতি। কয়েক দিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে মধ্য এশিয়ার দেশটিতে প্যারাট্রুপার পাঠিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে মস্কোর নেতৃত্বে এই বাহিনী দেশটির অবকাঠামো রক্ষায় কাজ করবে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের সামরিক জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) বরাতে এ খবর ছেপেছে দ্য গার্ডিয়ান।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসেম-জোমার্ট তোকায়েভ দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সিএসটিওর হস্তক্ষেপ চান। রাশিয়ার নেতৃত্বে এই জোটে আছে আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান।

ঠিক কত সেনা পাঠানো হয়েছে তা নিশ্চিত না হলেও, ইন্টারফ্যাক্সকে রাশিয়ার এমপি লিওনিদ কালাসনিকোভ বলেন, ‘কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট যতদিন মনে করবেন আমাদের প্রয়োজন আছে, ততদিন সেনারা অবস্থান করবে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাজাখস্তানের অবকাঠামো যেন ভেঙে না পড়ে, তা দেখভাল করবে এই জোট।’

উত্তপ্ত কাজাখস্তানে রুশ সেনা
কাজাখস্তানে অবতরণ করছে রুশ প্যারাট্রুপার। ছবি: বিবিসি

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিক্ষোভ শুরু হয় কাজাখস্তানে। পরে আরও কিছু দাবি আন্দোলনে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় সহিংসতায়। বলা হচ্ছে, ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এমন পরিস্থিতি দেখেনি দেশটির জনগণ।

বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী আসকার মামিন ও তার সরকার। দেশজুড়ে জারি হয় দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা।

কিন্তু তারপরও দমানো যাচ্ছে না বিক্ষুব্ধদের। বুধবার দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী আলমাতির কিছু সরকারি ভবন ও বিমানবন্দর দখলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

এদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ। জানান, আক্রান্ত হয়েছে আলমাতি। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বলি হয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এর পরপর সিএসটিওর হস্তক্ষেপ চান প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ।

সহিংসতা চলে বৃহস্পতিবারও। বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

উত্তপ্ত কাজাখস্তানে রুশ সেনা
বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থানে নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: বিবিসি

তারা বলছে, সহিংসতায় অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি ৩৫৩ নিরাপত্তারক্ষীসহ বহু বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। মারা গেছেন অন্তত ১২ জন।

কাজাখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ৮ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

অপহরণের শিকার মিরাম তারান। ছবি: সংগৃহী

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত থেকে চীনের সেনারা এক কিশোরকে আটক করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য তাপির গাও।

প্রদেশটির আপার সিয়াং জেলার লুংটা যোর এলাকা থেকে মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অপহরণ করা হয়।

টুইটারে পোস্ট দিয়ে ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে সংসদ সদস্য তাপির গাও জানান, অপহৃত মিরাম তারানের বন্ধু জনি ইয়ায়িং কোনোভাবে চীনা বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বন্ধুর অপহৃত হওয়ার বিষয়টি তিনিই জানান স্থানীয় প্রশাসনকে।

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

প্রতিরক্ষা সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে হটলাইনে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল। একজন ভারতীয় পথ হারিয়ে ফেলেছেন বলে তাদের জানানো হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী তাকে খুঁজে বের করতে এবং ফিরিয়ে দিতে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

অরুণাচলের (পূর্ব) লোকসভা সংসদ সদস্য তাপির গাও বলেন, ‘তারান ও তার বন্ধু জনি শিকার করতে গিয়ে পথ হারিয়ে চীনা সৈন্যদের কবলে পড়েন। তবে ইয়াইয়িং পালিয়ে এসে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে টুইটারে তাপির গাও বলেছেন, ‘ভারত সরকারের সব সংস্থাকে ওই কিশোরের দ্রুত মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

লাইবেরিয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ২৯ মৃত্যু

লাইবেরিয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ২৯ মৃত্যু

লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া। সংগৃহীত ছবি

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা ছুরি নিয়ে উপাসকদের উপর হামলা চালালে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, মনরোভিয়ার উত্তরে নিউ ক্রু টাউনে বুধবার রাতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা ছুরি নিয়ে উপাসকদের উপর হামলা চালালে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের মুখপাত্র মোসেস কার্টার বলেন, পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ২৯ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, তদন্ত করে পরে জানানো হবে।

দেশটির উপ তথ্যমন্ত্রী জালাওয়াহ টনপো এ ঘটনাকে ‘দেশটির ইতিহাসে শোকের দিন’ বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

লাহোরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

পাকিস্তানের লাহোরের একটি ব্যস্ত মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।

লাহোরি গেট এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাহোর পুলিশের মুখপাত্র নায়াব হাইদার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বোমাটি আগে থেকে পোঁতা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

লাহোরের মায়ো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্ফোরণে দুজন মারা গেছেন। আহত ২৬ জন চিকিৎসাধীন।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

ইসলামাবাদে গত সোমবার একটি তল্লাশি চৌকিতে গুলি করে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এক বন্দুকধারী। পরদিন এর দায় স্বীকার করে টিটিপি। ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এটা কেবল শুরু।

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল টিটিপির। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসে টিটিপি।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডালাসের একটি হোটেলে মালিক ফয়সাল আকরাম। ছবি: জুইশ ক্রনিকল

ফোনে আকরামের ভাই গুলবার তাকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। বলেছিলেন, যাদের জিম্মি করা হয়েছে, তারা নিরপরাধ। এসব মানুষের সন্তানদের কথা চিন্তা করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন গুলবার। জবাবে আকরাম বলেন, ‘শহীদ হয়ে মর। আমি দুই সপ্তাহ ধরে এখানে আছি। সবাই এখন আমার বন্দুকের নিশানায়। আমি বাড়ি ফিরব, তবে বডি ব্যাগে করে।’

আত্মাহুতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) জিম্মিকারী মালিক ফয়সাল আকরাম। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে শেষ ফোন কলে এই ইচ্ছার কথা নিজের ভাইকে জানান তিনি। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ প্রকাশ হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইহুদি সম্প্রদায়ের লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক জুইশ ক্রনিকল ওই ফোনালাপটি প্রকাশ করেছে।

এতে আকরামকে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। ফয়সালের পরিবার থাকে ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্ন এলাকায়।

ফোনে আকরামের ভাই গুলবার তাকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। বলেছিলেন, যাদের জিম্মি করা হয়েছে, তারা নিরপরাধ। এসব মানুষের সন্তানদের কথা চিন্তা করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন গুলবার।

জবাবে আকরাম বলেন, ‘শহীদ হয়ে মর’।

তারপর তিনি আবার বলেন, ‘আমি দুই সপ্তাহ ধরে এখানে আছি। সবাই এখন আমার বন্দুকের নিশানায়। আমি বাড়ি ফিরব, তবে বডি ব্যাগে করে।’

আকরাম আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।’

জুইশ ক্রনিকলের প্রতিবেদন বলছে, উপাসনালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে ফোনালাপের এই অডিও ক্লিপটি পেয়েছেন তারা। এটির সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে বিবিসি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অডিওটি আসল।

ডালাসের কোলিভিলে ১৫ জানুয়ারি স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় আকরাম চারজনকে জিম্মি করেন।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে জিম্মিকাণ্ড ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে আকরামকে উচ্চ স্বরে কথা বলতে শোনা যায় ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।

‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পরপরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন। পরে এফবিআইয়ের অভিযানে মারা পড়েন আকরাম।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
উপাসনালয়টি ঘিরে রেখেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: এএফপি

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত এক যুগলকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টার থেকে তাদের আটকের কথা জানায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলায় এই তরুণ-তরুণীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

যেভাবে বোকা হলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা

আকরাম তার শেষ ফোন কলে জানিয়েছিলেন, দুই বছর ধরে এমন কিছুর পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তার আচরণে সন্দেহ হয়েছিল গোয়েন্দাদের। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ২০২০ সালে তাকে ‘সাবজেক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ তালিকায় রেখেছিল। ৯ মাসের বেশি সময় ধরে চলা নজরদারির পর হাল ছেড়ে দেন তারা।

আকরামকে নিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী এমআই-সিক্স। ১৮ মাসে তাদেরও ধোঁকা দিয়েছেন নিপুণ দক্ষতায়। ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকায় ২০২১ সালে ‘সাবজেক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয় আকরামকে।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
জিম্মিকাণ্ড অবসানের পর এফবিআইয়ের ব্রিফিং। ছবি: এএফপি

এই সুযোগটাই যেন খুঁজছিলেন আকরাম। চলতি মাসের শুরুতে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর দিয়ে নিউ ইয়র্ক প্রবেশ করেন আকরাম। ধারণা করা হচ্ছে, নিউ ইয়র্কের কোনো দোকান থেকেই অস্ত্রটি কিনেছিলেন তিনি।

আকরামের পরিবারের প্রতিক্রিয়া

যাদের জিম্মি করা হয়েছিল, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আকরামের ভাই গুলবার। জানিয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি।

ব্ল্যাকবার্নে থাকা আকরামের এক বন্ধু জানান, আচমকা ওর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলাম। ওকে তখন ভীষণ অস্থির দেখাচ্ছিল।

কে এই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন আকরাম। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

যদিও আফিয়ার আইনজীবী সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, আকরাম আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ সারাহ গিল। ছবি: সংগৃহীত

সারাহ বলেন, একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

পাকিস্তানের একজন নেতৃস্থানীয় অধিকার কর্মী সারাহ গিল দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক হয়েছেন। ড. গিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জিন্নাহ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ (জেএমডিসি) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি সারাহ গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন।

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

সারাহ গিল বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ডাক্তার হিসেবে গর্বিত এবং আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, ‘একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

আমি ডাক্তার হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

যদিও তার সহপাঠীরা তার সম্পর্কে জানেন কিন্তু তার পরিবারের চাপে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময় পুরুষের পরিচয়েই ভর্তি হন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

পেগাসাস বিতর্ক, পার্লামেন্টের মুখোমুখি ইসরায়েলি পুলিশ

পেগাসাস বিতর্ক, পার্লামেন্টের মুখোমুখি ইসরায়েলি পুলিশ

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার না করার দাবি করেছে পুলিশ কমিশনার কোবি। ছবি: সংগৃহীত

অনেক পার্লামেন্ট সদস্যই উদ্বেগের কথা আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্পষ্টতই এই ঘটনা ব্যক্তির গোপনীয়তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।

ইসরায়েলি পুলিশ দেশটির জনগণের ওপর বিতর্কিত হ্যাকিং প্রযুক্তি পেগাসাস ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট দেশটির পুলিশের কাছে পেগাসাস ব্যবহারের ব্যাখ্যা চেয়েছে।

এর আগে কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ক্যাটালিস্ট ফিন্যান্সিয়াল ডেইলির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি পুলিশ এনএসও গ্রুপের বানানো স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায়ই পুলিশ কোর্টের অনুমতি ছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে পেগাসাস ব্যবহার করেছে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্য মেইরাভ বেন আরি জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহেই নাগরিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির মুখোমুখি হবে পুলিশ। সেখানে পুলিশকে ক্যাটালিস্টের প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।

বেন আরি আরও জানিয়েছেন, অনেক পার্লামেন্ট সদস্যই উদ্বেগের কথা আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্পষ্টতই এই ঘটনা ব্যক্তির গোপনীয়তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।

ক্যাটালিস্টের প্রতিবেদনের সম্পর্কে বলতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার কোবি সাবটাই বলেন, পুলিশ থার্ড পার্টি সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে তিনি পেগাসাস ব্যবহারের বিষয়ে কিছু বলেননি।

তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোবি।

এ বিষয়ে এনএসওর কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে জানিয়েছে, ক্লায়েন্টের তথ্য তারা প্রকাশ করে না। কোনো সরকার বা সংস্থার কাছে প্রযুক্তি বিক্রির পর তারা সেখানে কোনোভাবেই সেখানকার এক্সেস আর তাদের হাতে থাকে না।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে পেগাসাস যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: এএফপি

২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এই বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি। সতর্কের পরও অনড় থাকায় ২০২০ সালে আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক।

ধর্ম অবমাননার দায়ে পাকিস্তানে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদালত বুধবার এ রায় দেয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর নাম আনিকা আতিক। ২০২০ সালে ২৬ বছরের আনিকার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছিল।

ভারতের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফার্স্টপোস্টের খবরে বলা হয়েছে, আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক হাসনাত নামে এক ব্যক্তি। তারা একসময় বন্ধু ছিলেন।

বুধবার রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এবং সাইবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

ফার্স্টপোস্ট বলছে, ২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এ বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি।

এসবে হতাশ হন ফারুক। তিনি আতিকাকে এসব বার্তা মুছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আতিকা। বাধ্য হয়ে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) সাইবার ইউনিটের কাছে অভিযোগ করেন ফারুক।

এতে বলা হয়, ইচ্ছাকৃত ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অপমানিত করেছেন আতিকা। এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে।

পাকিস্তানে ইসলাম অবমাননার আইন কঠোর। সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হক আশির দশকে এই আইন বাস্তবায়ন করেন।

গত ডিসেম্বরে একই ধরনের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিককে বেদম পেটানোর পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল কাজাখস্তান

শেয়ার করুন