২০২১ সালে ফ্রান্সে শতাধিক নারী খুন

player
২০২১ সালে ফ্রান্সে শতাধিক নারী খুন

নু তুত এ ধরনের ঘটনা ঘটার জন্য প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন ও সরকারের নীরবতাকেই দায়ী করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

এর মাঝে একজন নারীর মরদেহ দেশটির পূর্বাঞ্চলের মুখতে মুসেল শহরে পাওয়া যায়। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ৫৬ বছর বয়সী ওই নারীর ৫০ বছর বয়সী সঙ্গীই তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

নতুন বছরের প্রথম দিনই ফ্রান্সে পারিবারিক সহিংসতায় দেশটির ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মারা গেছেন তিন নারী। এ ঘটনায় নারীবাদীদের সংগঠন নু তুত (আমরা সবাই) সরকারের নীরবতাকেই দায়ী করেছে।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন বছরের শুরুর দিনে ফ্রান্সের তিনটি শহরে পারিবারিক সহিংসতায় তিনজন নারী তার পুরুষ সঙ্গীর আঘাতে প্রাণ হারান।

এর মাঝে একজনের মরদেহ দেশটির পূর্বাঞ্চলের মুখতে মুসেল শহরে পাওয়া যায়। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ৫৬ বছর বয়সী ওই নারীর ৫০ বছর বয়সী সঙ্গীই তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

ফ্রান্সের নিস শহরের ৪৬ বছর বয়সী আরেক নারীকে হত্যা করেন তার স্বামীই। গাড়ির ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পশ্চিম ফ্রান্সের সাউমুর শহরে পৃথক আরেকটি ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারী সৈনিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার ২১ বছর বয়সী পুরুষ সঙ্গীকে আটক করেছে পুলিশ।

দেশটির নারীবাদীদের অভিযোগ, যখন পুরো দেশবাসী নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উৎসবের আমেজে আছে, ঠিক সেই সময়ই তিনজন মানুষকে প্রাণ দিতে হলো শুধু নারী হওয়ার অপরাধে।

নারীবাদীদের সংগঠন নু তুত এ ধরনের ঘটনা ঘটার জন্য প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন ও সরকারের নীরবতাকেই দায়ী করেছেন। পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে নারীদের রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার, এমনটাই অভিযোগ তাদের।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জিম কাস্তেক্স পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন, শুধু ২০২১ সালেই দেশটিতে শতাধিক নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

নারীবাদী সংগঠন নু তুতও এমনটাই জানাচ্ছে, তাদের দাবি ২০২১-এ ১১৩ নারী খুন হন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সঙ্গী বা সাবেক সঙ্গীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এদিকে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নারী হত্যা বন্ধে দেশটি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

কাস্তেক্স জানিয়েছেন, নারীদের সুরক্ষার জন্য সরকার ২৪ ঘণ্টার হটলাইন সেবা চালু করেছে। এ ছাড়া প্রায় ৯০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নারীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তিনি জানিয়েছেন, শুধু পারিবারিক সহিংসতার থেকে নারীদের সুরক্ষার জন্য প্রতি বছর সরকার ১ বিলিয়ন ইউরো খরচ করবে।

তবে নারী অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চুম্বন ও আমার বয়ঃসন্ধিকাল

চুম্বন ও আমার বয়ঃসন্ধিকাল

মহর্ষি বাৎস্যায়নের কামসূত্রের ‘চুম্বন’ অধ্যায় আমার সামনে যেন এক মহা রহস্যের হাতছানি হয়ে দাঁড়াল। ঠাকুরমার ঝুলির দৈত্য বা পাতালপুরির রাজকন্যা আমাকে আর টানে না। দস্যু বনহুরের সবগুলো সিরিজ পড়ি। নূরি আর মনিরা, একজন জঙ্গলে আরেকজন শহরে, বনহুরের দুই স্ত্রী। তাদের সঙ্গে বনহুরের সম্পর্ক ভালোবাসার। অথচ তাদের মধ্যে চুম্বন নেই।

আব্বা হয়তো চাইতেন আমাকে বৈশ্বিক করে তুলতে, কিন্তু রেডিও আর দুদিন পর ঢাকা থেকে আসা ইত্তেফাক ছাড়া তখন তো আর কোনো উপায় নেই জানলা খুলে আকাশ দেখার!

বাড়িতে চার ব্যাটারির একটা ওয়ান ব্যান্ড রেডিও ছিল। তা দিয়েই খবর, আধুনিক গানের অনুরোধের আসর, নাটক বা কথিকা শুনতাম, আর ছিল সিনেমা হল।

সিনেমা হলে শো ছিল তিনটি। ম্যাটিনি, ইভিনিং আর নাইট শো। তবে ‘মর্নিং শো’ নামে ছুটির দিনের সকালে মাঝেমধ্যে বিদেশি ইংরেজি ছবি দেখানো হতো।

আব্বা আমাকে মর্নিং শো দেখতে নিয়ে যেতেন। কাহিনি, সংলাপ কিছুই বুঝতাম না। ঘোড়ার দৌড়, গোলাগুলি, খুব জোরে গাড়ির চলা ছাড়া আর যে দৃশ্যের কথা এখনও মনে আছে তা হলো চুম্বন।

প্রায়ই দেখতাম পুরুষ আর নারী মুখে মুখ লাগিয়ে পরস্পরের ঠোঁট চুষছে। ব্যাপারটা বুঝতাম না। আব্বাকে জিজ্ঞেস করলাম ওরা এমন করে কেন?

আব্বার জবাব, ‘ওরা চুমু খাচ্ছে।'

পানজর্দা বা ভাতমাছ খাওয়া জ্ঞান নিয়ে চুমু খাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হতো না। আবারও প্রশ্ন করলাম, ‘কেন চুমু খাচ্ছে?’

আব্বার জবাব, ‘ওরা একজন স্বামী আর একজন স্ত্রী, দুজন দুজনকে ভালোবাসে, তাই চুমু খাচ্ছে।’

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা থাকলে চুমু খায়, এ পর্যন্ত বুঝলাম। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়া এটাও বুঝলাম, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো ভালোবাসা নেই। কারণ, তারা স্বামী-স্ত্রী হলেও চুমু খায় না।

এ রকম সময়েই একদিন বাড়িতে একটা মলাট দেয়া বই পেলাম ‘স্বামী-স্ত্রীর মিলন রহস্য’। বইয়ের একটা অধ্যায় ছিল ‘বাসর রাত’।

সেখানে বাসর রাতে স্বামীর করণীয় হিসেবে নববিবাহিতা স্ত্রীর প্রতি আচরণের স্টেপ বাই স্টেপ বিবরণ দেয়া ছিল। যেমন স্বামী বাসরঘরে ঢুকবেন, এক গ্লাস দুধ খাবেন, তারপর স্ত্রীর ‘কপোলদেশে চুম্বন’ করবেন।

এ পর্যন্ত পড়ে আমাকে থামতে হয়। কারণ, তখন আমি কপাল চিনি, কপোল চিনি না। বাংলাদেশ চিনি কপোলদেশ চিনি না। চুমু চিনি, চুম্বন চিনি না!

‘স্বামী-স্ত্রীর মিলন রহস্য’ লুকিয়ে পড়ার পর চুম্বন বিষয়ে আগ্রহ বেড়ে গেল। একদিকে বই পড়া ধারণা, আরেক দিকে বাস্তবের সঙ্গে অমিল।

এর মধ্যে হাতে এলো ঝিনুক প্রকাশনীর সুলভ সংস্করণের ‘বাৎস্যায়নের কামসূত্র’। বাড়িতেই ছিল। হয়তো আব্বাই চেয়েছেন আমি পড়ি। তাই বইটি বাইরে ফেলে রেখেছেন যেন আমার চোখে পড়ে।

আমি তখন ক্লাস সেভেন বা এইটের ছাত্র। আব্বাকে ভয় নেই, তিনি সারা দিন অফিসে থাকেন। মার চোখ ফাঁকি দেয়া কঠিন নয়। অতএব বইটা পড়ে ফেললাম এবং প্রায় কিছুই বুঝলাম না।

অনেক ধোঁয়াটে বাংলা শব্দ, যা কোথাও কোনো দিন পড়িনি বা শুনিনি। তবে প্রবল এক আকর্ষণ বোধ করলাম বইটার ওপর। পড়ার বইয়ের ফাঁকে, লেপের ভাঁজে, বালিশের খোলের ভিতর লুকিয়ে রাখি আর বারবার পড়ি। শব্দগুলো ভেঙে ভেঙে বোঝার চেষ্টা করি। যেমন: ওষ্ঠ মানে যেহেতু ঠোঁট, তাহলে উপরোষ্ঠ হলো ওপরের ঠোঁট, আর নিম্নোষ্ঠ হলো নিচের। ঠোঁট তাহলে দুটো! একটা না, কী আশ্চর্য! শব্দে শব্দে বিস্ময়!

ততদিনে আমি জেনে গেছি যাহা চুমু তাহাই চুম্বন। এই বইয়ে পেলাম চুম্বন নামে একটি আলাদা অধ্যায়। যেখানে দেখলাম কেবল ওষ্ঠ নয় বরং আরও অন্তত ১০টি জায়গায় চুম্বন করা যায়, যার কোনোটাই আমি চিনি না।

সিনেমায় দেখা কেবল ওই এক রকম নয় বরং আরও অন্তত সাত রকমভাবে চুম্বন করা যায়। যেমন নায়ক যখন কাজে ব্যস্ত থাকে তখন তাকে বিরক্ত বা বিব্রত করার জন্য ইয়ার্কি ধরনের চুম্বনকে ‘চলিতক’ বলে।

আবার নায়ক ও নায়িকা একজন আরেক জনকে মনের ভাব জানানোর জন্য দূর থেকে ইশারায় যে চুমু দেয় তাকে ‘ছায়াচুম্বন’ বলে (এই ছায়াচুম্বনকেই সম্ভবত আজকাল ফ্লাইংকিস বলা হয়)।

যাহোক, আগেই বলেছি, পাতায় পাতায় বিস্ময়! এক অধ্যায় ছেড়ে আরেক অধ্যায় বানান করে করে পড়ি আর যেন দুধের সাগর থেকে ক্ষীরের সাগরে হাবুডুবু খাই।

মজার ব্যাপার হলো, আব্বা বলেছিলেন, স্বামী আর স্ত্রী ‘চুমু খায়’, তবে এই বইয়ে লেখা ‘নায়ক আর নায়িকা’। কোথাও স্বামী-স্ত্রীর কথা নেই।

তাহলে কি স্বামী-স্ত্রী না হলেও চুমু খাওয়া যায়? তাহলে কি সিনেমার বাইরেও মানুষ নায়ক বা নায়িকা হতে পারে?

ঝিনুকের ওই সংক্ষেপিত সুলভ সংস্করণে সব প্রশ্নের জবাব নেই। আব্বাকে প্রশ্নেরও সুযোগ নেই। মনে প্রবল জানার ইচ্ছা, শরীরে অজানা শিহরণ। আমি তখন ১৪ বছর, আমার তখন বয়ঃসন্ধিকাল।

মহর্ষি বাৎস্যায়নের কামসূত্রের ‘চুম্বন’ অধ্যায় আমার সামনে যেন এক মহা রহস্যের হাতছানি হয়ে দাঁড়াল। ঠাকুরমার ঝুলির দৈত্য বা পাতালপুরির রাজকন্যা আমাকে আর টানে না। দস্যু বনহুরের সবগুলো সিরিজ পড়ি। নূরি আর মনিরা, একজন জঙ্গলে আরেকজন শহরে, বনহুরের দুই স্ত্রী। তাদের সঙ্গে বনহুরের সম্পর্ক ভালোবাসার। অথচ তাদের মধ্যে চুম্বন নেই।

বাৎস্যায়ন লিখেছেন, কেবল নায়কই চুম্বন করবে তা নয়, নায়িকাও চুম্বন করতে পারে। তবে যা পড়ি তাতে কোথাও এসবের উল্লেখ নেই।

এ রকম প্রশ্নময় বয়ঃসন্ধিতে আব্বা কুষ্টিয়ার কুমারখালী বদলি হলেন। আমি যোগেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি, পাবলিক লাইব্রেরিটা পাশেই। লাইব্রেরির শিশু সদস্য হলাম। ছোটদের রবীন্দ্রনাথ, ছোটদের শেক্সপিয়ার এ রকম ছোটদের বই অনেক। তবে আমার আগ্রহ বড়দের বইয়ে। লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ি, বই বাড়িতেও আনি।

অনেক উপন্যাসও পড়ছি তখন। প্রেম-ভালোবাসা বিরহের সব কাহিনি। ভালো লাগছে। মনে আছে ‘শাপমোচন’ পড়ে জীবনের বইপড়া কান্নার শুরু। সরলরেখার মতো কাহিনি অথচ প্রচণ্ড ভালো লাগা। এক বিজয়ার দিনে চাকরিপ্রার্থী মহেন্দ্র আসে ধনী মাধুরীদের বাড়িতে। মাধুরী তাকে ভালোবাসতে শুরু করে, কিন্তু সে ভালোবাসায় সাড়া না দিয়ে মহেন্দ্র গ্রামে ফিরে যায়। হারিয়ে যায় মাধুরীর জীবন থেকে। অথচ বিরহী মাধুরী অপেক্ষায় থাকে। প্রত্যেক বিজয়ার দিনে মহেন্দ্রকে চিঠি লেখে, ভাবে একবার যদি এই চিঠি মহেন্দ্রর হাতে পড়ে, যদি আবার মহেন্দ্র ফিরে আসে! সেইসব চিঠির কোনো দিন কোনো উত্তর আসে না।

মহেন্দ্রর এই ভীরুতা ভালো লাগে না আমার। মনে হয়, সে যদি শহরে থেকে যেত, সেও যদি ভালোবাসত, তাহলে তাদের মধ্যে চুম্বন হতে পারত। আর একবার চুম্বন হয়ে গেলে এই বিরহ মিলনে রূপ নিত। কতই না ভালো হতো সেটা।

দেবদাস পড়েও একই রকম মনে হয়েছিল। মনে পড়ে সেই অংশটা। দেবদাস ছিপ ফেলে বসে আছে, পার্বতীও ঠিক সময়ে এসে পড়েছে পুকুর ঘাটে।

“-আমি এসেচি পারু !

পার্ব্বতী কিছুক্ষণ কথা না কহিয়া, শেষে অতি মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করিল,

-কেন?

-তুমি আসতে লিখেছিলে, মনে নেই?

-না।

-সে কি পারু! সে রাত্রের কথা মনে পড়ে না?

-তা পড়ে। কিন্তু সে কথার আর কাজ কী?”

এরপর দেবদাস রেগে গিয়ে ছিপ দিয়ে পার্বতীর মাথায় বাড়ি দেয়। পার্বতীর কপাল কেটে ‘সমস্ত মুখ রক্তে ভাসিয়া গেল। মাটিতে লুটাইয়া পড়িয়া বলিল, দেবদা, করলে কী!’

ঠিক এই সময়ে আমার মনে হয়, ছিপের বাড়ির চেয়ে একটা চুমুর অ্যাকশন বেশি হতে পারত। দেবদাস সাহস করে পার্বতীকে একটা চুম্বন দিয়ে দিলে সব মান, অভিমান, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়ে যেত। ফলে দেবদাসকে মরতে হতো না, আবার পার্বতীকেও বুড়ো দোজবরকে বিয়ে করতে হতো না।

যে বই-ই পড়ি সবখানেই ‘হতে হতেও হয় না’। কোথাও চুমুর কোনো বাস্তব বিবরণ নেই। তবে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাটা পড়ে ধারণাটি একটু স্পষ্ট হয়।

‘চিত চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর’ পড়ে মনে হয় চুম্বনের মধ্যে একটা কম্পনের, একটা আবেশের, একটা মুগ্ধতার ব্যাপার আছে। সুতরাং এটা বেশ স্পেশাল একটা ব্যাপার। এটা যে সত্যি স্পেশাল তা বুঝলাম রবীন্দ্রনাথের ‘চুম্বন’ কবিতাটি পড়ে।

অধরের কানে যেন অধরের ভাষা।

দোঁহার হৃদয় যেন দোঁহে পান করে।

গৃহ ছেড়ে নিরুদ্দেশ দুটি ভালোবাসা

তীর্থযাত্রা করিয়াছে অধর সংগমে।

আর এই কবিতা পড়া মাত্র আমার বোঝার উপর শাকের আঁটি উঠে গেল! কারণ ওষ্ঠ জানি, অধর জানি না। দোঁহা বা দোঁহে কী জানি না। আর সংগম তো জানিই না।

রবীন্দ্রনাথের ‘চুম্বন’ পড়ার পর আমাকে ডিকশনারি কিনতে হলো। মানে আব্বাকে বলে কেনাতে হলো। আর আমি সাগ্রহে অধর, দোঁহা, সংগম ইত্যাদি শব্দের অর্থ খুঁজে নিলাম।

পুরো কবিতাটি আমি বারবার পড়ি আর অজানা শিহরণ, অচেনা অনুভব আর অনাস্বাদিত পুলকে দেহ-মন জেগে ওঠে। একি অকালবোধন নাকি নবজন্ম?

পরে জেনেছি, সেটাই ছিল আমার যৌনজাগরণ (sexual awakening) এবং আমার যৌনদিকস্থিতি (sexual orientation)।

রবীন্দ্রনাথ আমাকে বোঝালেন, চুম্বন কোনো যেনতেন ব্যাপার নয়। কেবল ঠোঁট চোষা নয়। চুম্বন হলো একজনের হৃদয় অন্যজনে পান করা। সাগরের গভীরে ঢেউয়ের উদ্ভব হলে তাকে যেমন একসময় তীরে এসে আছড়ে পড়তেই হয়; তেমন দুটি মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক প্রেমের নিয়মে যে উচ্ছ্বাস আর অনাবিল কামনা তৈরি হয়; সেটাই অবশেষে চুম্বন হয়ে ‘ভাঙ্গিয়া মিলিয়া যায় দুইটি অধরে’

দুজনের অবরুদ্ধ ব্যাকুল বাসনা দেহের সীমায় এসে দুজনকে খুঁজে পায়। অতঃপর প্রেমের যে গান তার চূড়ান্ত স্বরলিপি লেখা হয় ঠোঁটে ঠোঁটে-

ব্যাকুল বাসনা দুটি চাহে পরস্পরে

দেহের সীমায় আসি দুজনের দেখা।

প্রেম লিখিতেছে গান কোমল আখরে

অধরেতে থর থরে চুম্বনের লেখা।

লাইব্রেরির বই পড়ি। হলরুমে টিভিতে ইংলিশ সিরিজ দেখি। ‘হাওয়াই ফাইভ ও’ নামে একটা সিরিজ চলত তখন। কুমারখালী শহরে তখন টিভি দেখা যায় তিন জায়গায়- লাইব্রেরি, কলেজ আর গার্লস স্কুলে।

বই পড়ার পাশাপাশি ফুটবল খেলি তখন নিয়মিত। পুকুরে বা গড়াই নদীতে সাঁতার দিয়ে গোসল করি। গড়াই তখনও প্রাণময়, সেখানে আমি ইলিশ ধরতেও দেখেছি।

শীতে আমাদের স্কুলের মাঠে যাত্রা হতো রুপালি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে। বন্ধু উমর সেখানে শিশু চরিত্রে অভিনয় করত। আব্বা সৌজন্য প্রবেশপত্র পেতেন, আর সেটার ব্যবহার করতাম আমি।

লাকি খান নামে একজন নৃত্যশিল্পী ঢাকা থেকে এসেছিলেন একবার। তার নাচ দেখলাম কাছ থেকে। ছোট কাপড়ে সেই প্রথম নারীদেহের চড়াই-উতরাই দেখা। একদিকে চুম্বনের প্রতি আগ্রহ, অন্যদিকে নারীদেহের পৃথক বৈশিষ্ট্য আমাকে বড় করে তুলছিল। আমার কথা বলা কমল, কল্পনা করা বাড়ল।

কৌতূহলের মাত্রা যাই হোক, সত্যি বলছি, নিজে চুম্বন করব বা আমাকে কেউ চুম্বন করবে এমন কোনো ভাবনা তখনও মনে আসেনি। তবে প্রশ্ন এসেছে। বাৎস্যায়ন, নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের বর্ণিত চুম্বনের সঙ্গে মর্নিং শোর সিনেমায় দেখা সাদা মেম-সাহেবদের চুম্বনে মিল নেই কেন? এদের চুম্বনে ওই কম্পন, আবেশ বা হৃদয় পান করার মেজাজটা নেই কেন?

ফলে নিজেদের দেশের দুটি মানুষ চুম্বন করছেন এটা দেখার, দেখে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট করে বোঝার ইচ্ছাটা যেন আরও জোরালো হলো।

এই সময়ে আশার আলো নিয়ে এলো ‘অনন্ত প্রেম’। চিত্রালীতে পড়লাম ‘অনন্ত প্রেম’ নামে একটা সিনেমা আসছে যেখানে রাজ্জাক-ববিতা চুম্বন করবে। কুমারখালীর ‘জলি’ সিনেমা হলে আসার আগেই নতুন সিনেমাগুলো প্রথমে আসত কুষ্টিয়ার বনানী, রক্সি বা কেয়া হলে। আমি অপেক্ষায়। এই সিনেমা আমাকে দেখতেই হবে।

সিনেমা এলো রক্সি হলে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে দেখলাম। কিন্তু চুমু তো নেই! তাহলে?

‘অনন্ত প্রেম’-এ চুম্বন না দেখতে পেয়ে ভাঙা মনের রথে চেপে রক্সি হল থেকে বেরিয়ে বড় বাজার রেলগেট পার হয়ে রবীন্দ্রনাথের টেগর লজ ডানে রেখে কুষ্টিয়া স্টেশনে এসে ট্রেনে চেপে কুমারখালী ফিরলাম।

ছবিটা সুন্দর, ভীষণ রোমান্টিক। কিন্তু রাজ্জাক আর ববিতার চুম্বন দৃশ্য দেখা হলো না বলে আমার কেবলই মনে হচ্ছিল টাকাই নষ্ট। এতগুলো টাকা জোগাড় করতে হলে আমাকে এরপর বহুবার বাসার বাজার করতে যেতে হবে।

পরে চিত্রালীতেই পড়েছিলাম, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য ববিতার পারিশ্রমিক ছিল ৫০ হাজার টাকা। পরিচালক রাজ্জাক ছবির শেষ দৃশ্যে চুম্বন যুক্ত করায় ববিতা আরও ২০ হাজার টাকা বেশি নিয়েছিলেন। দৃশ্যটি সেন্সরে ছাড়ও পেয়েছিল, কিন্তু রাজ্জাক ছবিটি বাজারজাত করার আগে চুম্বনটি বাদ দেন।

ববিতা তখন ১৭ বছরের অবিবাহিতা। তিনি তার বিয়ের ব্যাপারে উৎকণ্ঠিত ছিলেন। হয়তো সে কারণেই রাজ্জাক দৃশ্যটি আর রাখেননি।

কবিতার কোনো চল ছিল না বাড়িতে। আব্বা মাঝে মাঝে স্মৃতি থেকে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের কবিতা আওড়াতেন। ক্লাসের বইয়ে গদ্যের সঙ্গে পদ্যও থাকত। তবে কেবল কবিতা নিয়েই আলাদা বই হতে পারে এমন ধারণা ছিল না। এমন সময়ে পাবলিক লাইব্রেরিতে একদিন বুদ্ধদেব বসুর একটা কবিতার বই পেলাম। নাম মনে নেই, কিন্তু মনে আছে একটা কবিতা ছিল এমন-

রুপোলি জল শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছে সমস্ত আকাশ

নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকের উপর সূর্যের চুম্বনে।

কিংবা-


শুধু নয় সুন্দর অপ্সর-যৌবন

কম্পিত অধরের চম্পক-চুম্বন।

তাহলে মানব-মানবী নয় কেবল, সূর্যও চুমু খায় রুপোলি জলকে? আমার আরেক সর্বনাশ ঘটল এই কবিতার বইটি পড়ে। কত কত সুন্দরের বিবরণ! অধরা, অদেখা সব শব্দের খেলা। কিছু বুঝি, বেশির ভাগই বুঝি না।

জীবনে কবিতা এলো। রোদ, আলো, সমুদ্রের উপমা এলো। এখন বুঝি, সেই সময়ে, আজকের যে আমি, তার নির্মাণ ঘটছিল। প্রতিদিন নতুন কিছু যুক্ত হচ্ছিল অনুভবে, কল্পনায়। আমি বড় হয়ে উঠছিলাম সেই চৌদ্দ বছর বয়সে।

লেখক: জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের হিউম্যান রাইটস অফিসার

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ৩

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে ঘটনার হোতা ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ, তার সহযোগী নারী আরজেসহ আরেকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় ট্রান্সজেন্ডার এক নারীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রোববার রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে ঘটনার হোতা ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ, তার সহযোগী নারী আরজেসহ আরেকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে পরে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানাবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় ট্রান্সজেন্ডার নারীর করা মামলায় বলা হয়, তাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সঙ্গে তার মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া হয়।

মামলায় বলা হয়, ভুক্তভোগী ট্রান্সজেন্ডার নারী একজন মেকআপ আর্টিস্ট। সে সূত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ১০ জানুয়ারি বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি-সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে তার দেখা হয়। ওই যুবক কথার একপর্যায়ে জানান, তার স্ত্রী ওই ট্রান্সজেন্ডার নারীর ভক্ত। স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য তাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এজাহারে ভুক্তভোগী জানান, তিনি ওই যুবকের কথা বিশ্বাস করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে ৫ নম্বর সড়কের এক বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি এক নারী ও আরেকজন পুরুষকে দেখতে পান।

ওই তিনজন ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এতে বাধা দিলে তিনজন তাকে মারধর শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, এই ভিডিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। এ সময় তিনজন নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দেন। তাদের কাছে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ছিল বলে জানান তিনি।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগীর কাছে থাকা মোবাইল ফোন, সোনার চেইন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে বলা হয়, না দিলে মেরে পূর্বাচলে ফেলে দেয়া হবে।

পরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাবে বলে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে রাত ৮টার দিকে রামপুরা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে ফেলে যায়।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার ওই ব্যক্তির অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অভিযুক্ত নারী। একটি রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কখনও দেখা হয়নি। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।’

কোনো পরিচয় না থাকলে কেন তাকে ফাঁসানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ওই নারী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য এমনটি করতে পারে। আর ওই ট্রান্সজেন্ডার যে মিথ্যাচার করছে, তার সব প্রমাণসহ আমার ফেসবুকে পোস্ট দেব। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও জানাব।

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক পেল পাকিস্তান

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। ছবি; সংগৃহীত

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির সরকার চাইছে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে। তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরির চেষ্টা করছে দেশটি।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক। তিনি জানুয়ারির ২৪ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক বিচারপতি গুলজার আহমেদের অধীনে তিনি কাজ করবেন।

দেশটিতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

দুই দিন আগে, সংসদীয় কমিটির সবার সম্মতিতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে আয়েশা মালিকের অবস্থান চার নম্বরে।

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টিই বিবেচনা করা হবে।

বিচারপতি আয়েশা এ মালিক ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকবেন।

এদিকে বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইশা, বিচারপতি মকবুল বাহার, বিচারপতি সর্দার তারেক মাসুদ ও পাকিস্তান বার কাউন্সিলের প্রতিনিধি আখতার হুসেইন সংসদীয় কমিটির এই মনোনয়নের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার নীতিই অনুসরণ করা উচিত।

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

মেয়ের ‘আত্মহত্যা’, মেটা-স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

সেলিনা রদ্রিগেজ। বয়স মাত্র ১১ বছর। এই বয়সে সেলিনা ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটে প্রচণ্ড রকম আসক্ত হয়ে পড়ে। প্ল্যাটফর্ম দুটির কিছু ‘ভয়ংকর’ ফিচারে আসক্ত হয়ে গত বছরের জুলাইয়ে ‘আত্মহত্যা’ করে সেলিনা।

সেলিনাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এবং স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট রাজ্যে ঘটেছে মামলার এ ঘটনা।

শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ভয়ের মধ্যেই মামলার খবরটি সামনে এসেছে।

স্যোশাল মিডিয়া ভিক্টিম ল সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেলিনার মা ট্যামি তার শিশুসন্তানের আত্মহত্যার জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটিতে ‘চরম’ আসক্তির কথা বলেছেন।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়, সেলিনার মা দীর্ঘদিন থেকেই তার মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে ডিভাইস দিতেন না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সেলিনা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসা পেয়েছেন।

সেলিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে তাকে থেরাপি দিচ্ছিলেন যে চিকিৎসক, তিনি এর আগে কাউকে তিনি মাধ্যমে এত আসক্ত দেখেননি বলে দাবি করেন।

২০২১ সালের ২১ জুলাই সেলিনা আত্মহত্যা করার আগে ঘুমের অভাব ও বিষণ্ণতায় ভুগছিল।

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আসক্তি মূলত বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে।

মামলার অভিযোগের মধ্যে ছিল, সেলিনাকে যৌন শোষণমূলক সামগ্রীর অনুরোধ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সে শেয়ার করেছিল।

স্ন্যাপচ্যাটের মুখপাত্র সেলিনার মৃত্যুর বিষয়টিকে ‘বিধ্বস্ত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কমিউনিটির মানুষের সুস্থতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বিষয়টি নিয়ে বিবিসির প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

শিশুর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য অভিভাবকদের আপত্তির কারণে শিশুটির ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই শিশুর বাবা অটোরিকশাচালক। নগরীতে রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

এজাহারসূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। এর ভিডিও ধারণ করে সে। ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। পরদিন ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। আবাসনের ব্যবস্থা আছে বলে তিনি ভেবেছিলেন, মেয়ে এখানে নিরাপদে থাকবে।

মায়ের অভিযোগ, ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ফেরত দেয়া হয়েছে ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।

‘আমাকে বলল, “আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করেন।” আমি বললাম, আমার মেয়ের কোনো সমস্যা? তখন বললেন, “না, দূরে কোথাও ভর্তি করেন।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, আপনার মেয়ের সঙ্গে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি কী করবেন? তখন কোনো কথা বলছে না সে (মাদ্রাসা পরিচালক)।

‘আমাকে টাকাটা ফেরত দিয়ে মেয়েকে বের করে দিল। আমার মেয়ের কোনো সমস্যা দেখাতে পারছে না, খালি বলছে- “দূরে কোথাও ভর্তি করেন।”’

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে আমি ভুক্তভোগী হচ্ছি। সমাজের কাছে এত লাঞ্ছনা শুনতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। মেয়েটাকে সবাই খারাপ চোখে দেখছে। ছোট সেটাও কেউ বুঝছে না। ওই ঘটনাটাই তুলে ধরছে সবাই।’

মেয়েকে অন্য একটা স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানেও যদি কেউ কিছু বলে, আবার যদি বের করে দেয়, এই ভয় পাচ্ছি। এখন আমি একটা সুষ্ঠু বিচার চাই। যে আমার মেয়ের ক্ষতি করেছে তার যেন শাস্তি হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মেয়েটার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এসে অভিযোগ করে আমাকে বলেছিল যে, তার সমস্যা আছে। আমি নাকি যাকে তাকে ভর্তি নিয়ে নিচ্ছি। অভিভাবকদের আপত্তি থাকায় এই মেয়েটার ভর্তি বাতিল করতে হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়েছে।’

ধর্ষণের সেই মামলার বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদ বলেন, ‘শিশুটার মায়ের করা মামলাটা তদন্তাধীন। তদন্ত চলাকালে বেশি কিছু বলব না। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তারপর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ সারাহ গিল। ছবি: সংগৃহীত

সারাহ বলেন, একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

পাকিস্তানের একজন নেতৃস্থানীয় অধিকার কর্মী সারাহ গিল দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক হয়েছেন। ড. গিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জিন্নাহ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ (জেএমডিসি) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি সারাহ গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন।

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

সারাহ গিল বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ডাক্তার হিসেবে গর্বিত এবং আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, ‘একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

আমি ডাক্তার হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

যদিও তার সহপাঠীরা তার সম্পর্কে জানেন কিন্তু তার পরিবারের চাপে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময় পুরুষের পরিচয়েই ভর্তি হন।

আরও পড়ুন:
প্লাতিনির স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমে ক্যারিয়ার শেষ ফুটবলারের
বিচার চান ফ্রান্সের গির্জায় যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীরা
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন