× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
3 arrested for trying to sell women at online auction
hear-news
player
google_news print-icon

অনলাইনে নারীদের নিলামের চেষ্টা; আটক ৩

অনলাইনে-নারীদের-নিলামের-চেষ্টা-আটক-৩-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি আপলোড করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে নিলামে নারীদের বিক্রির চেষ্টার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে ‘সুল্লি ডিলস’ (Sulli Deals) নামে একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট খুলে ৮০ জনের বেশি মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করা হয়েছিল। ছবির সঙ্গে লেখা থাকে ‘ডিলস অফ দ্য ডে’। ব্যবসায়িক পরিভাষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত দামে সেরা অফারকে বলা হয় ‘ডিলস অফ দ্য ডে’ (deals of the day)। 

ভারতে ‘বুল্লি বাই’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে তাদের নিলামে বিক্রির চেষ্টার পর এবার ফেসবুক ও টেলিগ্রামে একই কায়দায় হেনস্তার শিকার হচ্ছেন হিন্দু নারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় আপলোড করা হচ্ছে তাদের আপত্তিকর ছবি।

হিন্দুস্তান টাইমসের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর নজরে আনা হলে টেলিগ্রাম চ্যানেলটি ব্লক করে দেয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালের জুনে তৈরি হওয়া টেলিগ্রামে ওই আইডিটি ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এই চ্যানেলে হিন্দু নারীদের আপত্তিকর ছবি আপলোড করা হতো। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তেন। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’

এদিকে ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে তাদের বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিশাল কুমার ও উত্তরাখণ্ড থেকে শ্বেতা সিংকে আটকের পর বুধবার আটক হন উত্তরাখণ্ডের আরেক যুবক মায়াংক রাওয়াত।

মুম্বাই পুলিশের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর ছেপেছে। তারা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ২১ বছরের বিশাল ও ১৮ বছরের তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হবেন।

মুম্বাই পুলিশ কমিশনার হেমন্ত নাগরালে বলেন, ‘কারা এই অ্যাপ তৈরি করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী- এসব এখনও পরিষ্কার না।’

বিবিসিকে মহারাষ্ট্রের কনিষ্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতেজ প্যাটেল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

দীর্ঘদিন অনলাইনে মুসলিম নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া ‘বুল্লি বাই’ (bulli bai) নামে এক অ্যাপে আপলোড করে আসছিল চক্রটি। ছবির পাশে লেখা থাকে, ‘নিলামে বিক্রির জন্য।’

ভারতে নিলামে নারীদের বিক্রির চেষ্টার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে ‘সুল্লি ডিলস’ (Sulli Deals) নামে একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট খুলে ৮০ জনের বেশি মুসলিম নারীর ছবি আপলোড করা হয়েছিল। ছবির সঙ্গে লেখা থাকে ‘ডিলস অফ দ্য ডে’। ব্যবসায়িক পরিভাষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত দামে সেরা অফারকে বলা হয় ‘ডিলস অফ দ্য ডে’ (deals of the day)

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Religious minorities have no holidays in the media

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই সংবাদমাধ্যমে। ছবি: নিউজবাংলা  
হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

দেশের সংবাদমাধ্যম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিয়ে কথা বললেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ছুটি নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংবাদকর্মীরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে সরকার ঘোষিত ছুটির দিনে ‘ঐচ্ছিক’ ছুটি ভোগ করার সুযোগ পান। তবে সংবাদমাধ্যমে এসব দিনে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই।

সংবাদপত্রে ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে ৯ দিনের ছুটি রয়েছে, তবে সবগুলোই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক। আর টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ধর্মীয় উৎসবকেন্দ্রিক ছুটির নিয়ম প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদা। তবে সেখানেও হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই।

সংবাদপত্রে ছুটির বিষয়টি মূলত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার’স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা নোয়াব নির্ধারণ করে। নোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুসারে বছরে ১১দিন বন্ধ থাকে সংবাদপত্র প্রকাশনা।

এই ১১ দিনেরমধ্যে ৯ দিনই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক ছুটি। এগুলো হলো: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ৩ দিন করে ৬ দিন, ঈদে মিলাদুন্নবিতে একদিন, শবে বরাতে একদিন এবং আশুরাতে একদিন। এছাড়া পহেলা বৈশাখে একদিন ও মে দিবসে একদিন ছুটি রয়েছে।

এর বাইরে জাতীয় তিন দিবসে সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা বের করা হয়।

অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি ছুটি দিতে হয় সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি থাকা উচিত। আর যদি ছুটি না দেয়, যেহেতু গণমাধ্যম প্রতিদিন মানুষের দোরগাড়ায় যায়, সেক্ষেত্রে ছুটি বাতিল হলে নিজস্ব উদ্যোগে পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

‘এক সম্প্রদায় ধর্মীয় ছুটি পেল, অন্য সম্প্রদায় পেল না এটা শোভন নয়। এটা এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বলে আমি মনে করি।’

সাংবাদিক সংগঠন থেকে কখনও বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এ ধরনের দাবি কখনও জানানো হয়নি। সাংবাদিক সংগঠনগুলো আলোচনা করে গণমাধ্যমের মালিক, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিডিয়ায় এ ছুটিগুলো যখন নির্ধারণ করা হয় তখন মিডিয়া মূলত সংবাদপত্র ও এজেন্সি নির্ভর ছিল। অর্থাৎ সব অফলাইনের ছিল।

‘এখন কালের বিবর্তনে অনলাইন পত্রিকা, নিউজ এজেন্সি, অনলাইনে টেলিভিশন এগুলো সব ২৪ ঘণ্টার হয়ে গেছে। মিডিয়া এখন অত্যাবশ্যকীয় সেবার আওতায় এসে গেছে। ঈদের দিনেও মানুষ সংবাদ দেখতে চায়।‘

তিনি বলেন, ‘তবে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন মিলিয়ে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ছুটির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। নির্ধারিত উৎসবের দিনেই ছুটি নিতে হবে বিষয়টি তেমন নয়। আলোচনার মাধ্যম আগে পিছে করে ছুটি নেয়া উচিত।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি একসময় সংবাদমাধ্যমে ছিল। তবে কালের পরিক্রমায় দেখা যায় হিন্দু বা অন্য সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় ছুটি নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

‘আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলি, সব ধর্মের সমন্বয়ের কথা বলি, সব ধর্মের সমান সযোগের কথা বলি, অথচ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উৎসবে কোনো ছুটি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। সংবাদপত্রে ছুটি তো সরকার নয়, নোয়াব নির্ধারণ করে। তারা কেন এগুলো বিবেচনা করে না আমি ঠিক জানি না।

‘বাংলাদেশে এখন অধিকাংশ ওনার বা মালিকরাই সম্পাদক। তারা চাইলে এ সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারে।’

নোয়াব থেকে কখনও অন্য ধর্মের উৎসবে ছুটির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি জানিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, ‘বিজয় দশমী, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে একদিন করে ছুটি থাকা দরকার্। এ ব্যাপারে নোয়াবকে কখনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও কখনও উদ্যোগ নেননি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে নোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমানে সদস্য দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কখনও অন্য সংবাদমাধ্যমকে কমেন্ট দিই না। আমি কোনো বিষয়ে আমার যেটা বক্তব্য সেটা নিজের কাগজে লিখি, নিজের কলমে লিখি। তাই সচারচর আমার কোনো মন্তব্য অন্য কোথাও দেখবেন না।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা অবশ্য মনে করছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে সংবাদমাধ্যমে সবার জন্য ছুটি থাকার যৌক্তিকতা নেই।

গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীরা ছুটির জন্য চাকরি করেন না। তারা জানেন এটা একটা অন্যরকম পেশা। অন্য পেশা থেকে আলাদা, এখানে সময় বেশি দিতে হয়, কাজের পরিবেশ ও ঝুঁকিও বেশি।

‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম জরুরি সেবার আওতায় পড়ে। জরুরি সেবার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসা, পরিবহন, আইনশৃংখলা বাহিনী এদের মতো গণমাধ্যমকেও সবসময় ছুটি দেয়া যায় না। আমি মনে করি, সেই বিবেচনায় গণমাধ্যম সব ছুটি পাবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ঈদের দিনও কাজ করা হয়। সংবাদপত্র বন্ধ থাকলেও তাদের অনলাইন ভার্সন চালু থাকে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ করতে হয়।

‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে সবাই কিন্তু সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি দিচ্ছে না। বড়দিনে ছুটি দেয়া হয়। কারণ এটা তাদের বড় ধর্মীয় উৎসব। তেমনি আমাদের এখানে ঈদে বড় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিনে স্ব স্ব ধর্মালম্বীদের ছুটি দেয়া হয়।’

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় কারণে আমরা যে অনেকগুলো ছুটি কাটাই সেগুলো সংক্ষিপ্ত করা উচিত। এর পরিবর্তে জাতীয় উৎসব হিসেবে ঈদে আর একটু বেশি ছুটি দিলে মানুষের বাড়িতে যাওয়ার ছোটাছুটি আরও সহজ করে ফেলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংবাদপত্রে যারা কাজ করে তারা বছরে মাত্র ১১ বা ১২ দিন ছুটি পায়। তবে অনলাইন গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের নির্ধারিত ছুটি না থাকলেও তাদেরকে স্ব স্ব অফিস ছুটি দেয়।

‘তবে এসব ছুটির একটা নীতিমালা থাকা উচিত। অন্তত দুর্গাপূজায় একটি দিন ছুটি দেয়া উচিত। কারণ মুসলিমরা দু্ই ঈদে ছুটি পায়। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গা উৎসব। এজন্য গণমাধ্যমে অফিসিয়ালি একটা ছুটি দেয়া উচিত। কারণ, কাজের বাইরে পরিবারকে সময় দেয়া জরুরি।’

আরও পড়ুন:
‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি
গণমাধ্যম আইনের কিছু দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের আপত্তি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iranian film stars in solidarity with ongoing protests

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা নাজানিন বোনাইদি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রায় ২০ হাজার মানুষের তেমন এক সমাবেশে ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা নাজানিন বোনাইদি নেতৃত্ব দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইরানি বিক্ষোভকারী নারীদের প্রতি সংহতি। বিশ্বনেতাদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন আরও বেশি কিছু করার।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানালেন ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা ‘লর্ড অফ দ্য রিং: দ্য রিংস অফ পাওয়ার’-এর অভিনেত্রী ও অ্যাকটিভিস্ট নাজানিন বোনিয়াদি।

লস অ্যাঞ্জেলসে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী যখন কঠোরভাবে তা দমন করছে উল্লেখ করে বোনিয়াদি ইরানি নারীদের রক্ষা করার জন্য ও ইরানি কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করাতে বিশ্বনেতাদের আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের অধিকার আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া, আমাদের স্বাধীনতার নাজুক পরিস্থিতি, ইরানে হেফাজতে (নৈতিকতা পুলিশের) মাহসা আমিনির মৃত্যু বা হত্যা আমাদের অনুভূতির সব কিছুর কেন্দ্রে আঘাত করেছে।

‘সুতরাং এটি একটি ছন্দে আঘাত করেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ অনুধাবন করতে পারে যে যদি আপনার কাছ থেকে (অধিকার) কেড়ে নেয়া হয়, তবে কেমন লাগে? বিশেষ করে আমি মনে করি, নারী অধিকার।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে আয়োজিত এক র‍্যালিতে বক্তব্য রাখছেন নাজানিন বোনাইদি

তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, নারীরাই এখন সামনের সারিতে রয়েছে। তাদের হত্যার শিকার ও কারারুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এরপরও তারা তা (বিক্ষোভ) করছে।

শনিবার বোনিয়াদি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলসে এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। আয়োজকরা জানান, সে বিক্ষোভে ২০ হাজার মানুষ সমর্থন জানাতে আসে।

তবে এ ধরনের বিক্ষোভ শুধু আমেরিকায় নয়, কানাডাসহ ইউরোপের অনেক দেশে হচ্ছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
অ্যামাজনের সেটে সহশিল্পীর সঙ্গে নাজানিন বোনাইদি

নাজানিন বোনিয়াদির পরিবার ইরানেই থাকত। যখন তার বয়স মাত্র ২০ দিন, তখন তার পরিবার ইরান থেকে পালিয়ে যায়। আমিনির মৃত্যুর পর একজন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে তাকে বেশ সোচ্চার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা তিনি স্বীকার করে নেন। যদিও চলমান বিক্ষোভ পশ্চিমা ইন্ধনে বলে আবারও দাবি করেছেন তিনি। জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে শত্রুদের নিরাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
নাক কেটে, মাথা চূর্ণ করে কিশোরীদের হত্যা করছে ইরানি পুলিশ
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
EU MPs shed their hair to demand freedom in Iran

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন  

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন

  ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চুল কেটে ফেলছেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নারীরা। চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ তারকা সংগীতশিল্পীরাও নিজেদের চুল কেটে ইরানি নারীদের সমর্থন দিচ্ছেন।

সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ইরাকি বংশোদ্ভূত সুইডিশ এই নারী ইইউ অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা শেষে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অধিবেশনের বৈঠকে বুধবার ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন সাহলানি। তিনি বলেন, ‘ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ক্রোধ অত্যাচারীদের চেয়ে বেশি হবে। যতক্ষণ না ইরানের নারীরা মুক্ত হবে, আমরা তাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন সাহলানি। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন ও ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Oscar winning actresses next to Iranian women with shaved heads

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা জুলিয়েট বিনোচে (বাঁয়ে) এবং মেরিয়ন কোটিলার্ড। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন অস্কারজয়ী জুলিয়েট বিনোচে এবং মেরিয়ন কোটিলার্ডসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেত্রী। ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা নিজেদের চুল কেটে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ অভিনেতা শার্লট র‌্যাম্পলিং, শার্লট গেইনসবার্গ এবং সঙ্গীতশিল্পী জেন বার্কিনও চুল কেটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের স্ত্রী জুলি গেয়েতও।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন এবং ফ্রান্সের নারীরাও।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

soutienfemmesiran নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্রিটিশ অভিনেত্রী গেইনসবার্গকে দেখা যায়, মা বির্কিনের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি। soutienfemmesiran (সোটিনফেমেসিরান) এর অর্থ- ইরানি নারীর প্রতি সমর্থন।

ভিডিও-র একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, এই নারী, পুরুষরা সমর্থন চাইছে। তাদের সাহস এবং একাগ্রতায় আমরা মুগ্ধ। প্রতিবন্ধকতাগুলো ছেঁটে ফেলে আমরা তাদের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন:
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iranian schoolgirls threw off their hijabs to protest

হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা

হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা শিরাজ শহরে কয়েক ডজন স্কুলছাত্রীকে একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করার সময় তাদের মাথার স্কার্ফ বাতাসে নাড়তে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
কারাজ শহরে সোমবার হিজাববিহীন ছাত্রীদের কর্তৃপক্ষ ভেবে এক ব্যক্তিকে স্কুল থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে। টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে দেখা যায়, ‘আপনার লজ্জা থাকা উচিত’-স্লোগানে এক ব্যক্তির দিকে তেড়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে তারা। বাধ্য হয়ে তিনি তখন স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে যান।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে এবার যোগ দিয়েছে দেশটির স্কুলছাত্রীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ভিডিও-তে দেখা যায়, ইউনিফর্ম পরা ছাত্রীরা মাথার স্কার্ফ বাতাসে নেড়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে গোটা ইরানে।

কারাজ শহরে সোমবার হিজাববিহীন ছাত্রীদের কর্তৃপক্ষ ভেবে এক ব্যক্তিকে স্কুল থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে। টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে দেখা যায়, ‘আপনার লজ্জা থাকা উচিত’-স্লোগানে এক ব্যক্তির দিকে তেড়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে তারা। বাধ্য হয়ে তিনি তখন স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে যান।

কারাজ শহরের ভাইরাল আরেকটি ভিডিও-তে ছাত্রীদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যদি এক না হই, তবে তারা একে একে আমাদের হত্যা করবে।’

স্কুল ছাত্রীদের বিক্ষোভ হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজেও। কয়েক ডজন ছাত্রী একটি প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা মাথার স্কার্ফ বাতাসে নেড়ে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেয়।

রাজধানী তেহরান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ এবং সানন্দাজে স্কুলছাত্রীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

শ্রেণীকক্ষে মাথার স্কার্ফ খুলে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছাত্রীর ছবিও ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতিকৃতির সামনে কেউ কেউ তাদের মধ্যমা আঙ্গুল দেখায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সোমবার প্রথমবার বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, ইরানের চিরশত্রু আমেরিকা এবং ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গার’ মদদ দিচ্ছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ শুরু করে স্কুলছাত্রীরা।

খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীকেও তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন; যারা প্রতিবাদের জবাবে হিংসাত্মক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Same sex marriage legalized in Cuba

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে প্রতীকী ছবি
ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবায় সমলিঙ্গদের বিয়ে এবং সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার বৈধতা পেয়েছে। এ-বিষয়ক গণভোটে কিউবানরা বিদ্যমান আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কিউবার এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতিবাচক মনোভাবের বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চার দশকের পুরোনো একটি ‘পারিবারিক আইনে’ বড় সংস্কার আনার পক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট দেয় কিউবার মানুষ। এই সংস্কারের ফলে দেশটির বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু অধিকার নিশ্চিত হবে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কোনো আইন নিয়ে গণভোট আয়োজনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। বিরল সে ধরনেরই এক গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আইন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ছয় দশক আগেও কিউবায় সমপ্রেমী বিয়ে এবং সন্তান দত্তকের ভাতা পাওয়ার ঘটনা ছিল কষ্টকল্পনা।

ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর সমপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। কাস্ত্রো পরে অবশ্য ওই নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চান। বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৯৭৯ সালে কিউবায় সমপ্রেম বৈধতা পায়, তবে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়নি।

গত এক দশকে দেশটির এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন কাস্ত্রো পরিবারেরই এক সদস্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে মারিলা কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক রায় দিয়েছেন আইন সংস্কারের পক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
সঙ্গিনী থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর সেই তরুণী কেটেছেন হাত
ফের বিচ্ছিন্ন সেই ২ তরুণী, যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
স্কুলছাত্রীর প্রেমে নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে তরুণী
দুই তরুণীর প্রেম, বিয়েতে পরিবারের ‘না’

মন্তব্য

p
উপরে