ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!

player
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!

ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ওপরে সবুজ আলো বিচ্ছুরণের এ ছবিটি তোলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে সবুজ আলো ছড়িয়ে কোনো বস্তুকে উড়ে যেতে দেখা যায়। দাবি করা হয়েছে, এটি একটি গ্রহাণু; যা উড়ে গেছে ভারতের ওপর দিয়ে।

অন্তত তিনটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে গত ২৯ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে। এর বাইরে একটি নাটকীয় ছবি কয়েক দিন ধরেই ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সবুজ আলো বিচ্ছুরিত সেই ছবিটি পোস্ট করে অনেকেই দাবি করছেন, চলতি মাসেই এই গ্রহাণুটি ভারতের আকাশে দেখা গেছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘এটি একটি গ্রহাণু, যা এক দিন আগেই ভারতের আকাশের ওপর দিয়ে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে।’

রোববার পর্যন্ত ওই পোস্টটি অন্তত ২ হাজার ৪০০ মানুষ শেয়ার করেছেন। কিন্তু এ ঘটনাটিকে মিথ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন গণমাধ্যম ইউএসএ-টুডে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটিতে যে বস্তুটিকে সবুজ আলো ছড়াতে দেখা গেছে, তা আসলে একটি উল্কাপিণ্ড। এটি কোনো গ্রহাণু নয়। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- ছবিটি তোলা হয়েছিল আরও ছয় বছর আগে।

ছবিটি যিনি তুলেছিলেন, সেই ফটোগ্রাফার প্রসেনজিৎ যাদবের সঙ্গেও যোগাযোগ করে ইউএসএ-টুডে।

এক ই-মেইল বার্তায় প্রসেনজিৎ জানান, ফেসবুকে যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, সেই ছবিটি তিনি ২০১৫ সালে তুলেছিলেন। ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ওপর দিয়ে সবুজ আলো ছড়িয়ে একটি উল্কাপিণ্ড চলে যাওয়ার সময় ছবিটি তোলা হয়। পরে ২০১৭ সালে ছবিটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনেও ব্যবহার করা হয়।

এই ছবি তোলার জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পক্ষ থেকে প্রজেনজিৎকে পুরস্কৃতও করা হয়।

নাসার ওয়েবসাাইটে বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রতিদিন অসংখ্য উল্কাপিণ্ডের অন্তত ৪৮ দশমিক ৫ টন উপাদান পৃথিবীর বুকে খসে পড়ে।’

কোনো উল্কাপিণ্ড থেকে বিচ্ছুরিত আলোর রং নির্ভর করে মূলত ওই উল্কাপিণ্ডের মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদানের ওপর।

উল্কাপিণ্ডের ছবি তোলা সহজ ব্যাপার নয়। কারণ দুর্দান্ত গতিতে এটিকে মুহূর্তের মধ্যেই খসে যেতে দেখা যায়।

ভাইরাল হওয়া ছবিটি ২০১৯ সালে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে প্রসেনজিৎ যাদব লিখেছিলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে আমার তোলা স্মরণীয় ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম।’

তাই বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গ্রহাণু দাবি করা পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সর্বপ্রথম যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল, সেই পোস্টটিকে ইতিমধ্যেই ‘মিথ্যা’ হিসেবে একটি ট্যাগ জুড়ে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও।

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাপ কি বশ মানে দুধ-কলায়?

সাপ কি বশ মানে দুধ-কলায়?

বিষধর বা নির্বিষ- যে ধরনের সাপই হোক না কেন, এই প্রাণীকে দুধ-কলা দিয়ে কি বশ মানানো সম্ভব? প্রচলিত বিশ্বাস ও লোকগল্পের কতটা সত্যি বা কতটা মিথ্যা, তা যাচাই করেছে নিউজবাংলা।  

সাপকে ভয় পান না, এমন মানুষ হাতে গোনা খুব বেশি নেই। সাপকে ‘পোষ মানানোর’ অনেক বিদ্যা নিয়ে আছে কৌতূহল। এ-সংক্রান্ত প্রচলিত অনেক গল্প-কল্পনায় আকৃষ্ট হয় মানুষ।

উপমহাদেশের বিভিন্ন উপকথা, পুরাণ, গ্রামীণ কাহিনিতে সাপকে বর্ণনা করা হয় ভয়ংকর ক্ষতিকর ও বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী প্রাণী হিসেবে।

মহামূল্যবান মণি সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে উড়তে পারা ও মানুষকে সম্মোহিত করার অলৌকিক ক্ষমতার গল্প সাপকে ঘিরে প্রচলিত। এসবের কতটা সত্যি বা কতটা মিথ্যা, তা যাচাই করেছে নিউজবাংলা।

প্রাণিজগতে সাপ রেপটিলিয়া শ্রেণির স্কুয়ামাটা বর্গের একটি প্রাণী। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বলছে, বিশ্বে তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতির সাপ রয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ছাড়া বিশ্বের সব জায়গাতেই কম-বেশি সাপের দেখা মেলে।

আর বিভিন্ন প্রজাতির সাপের প্রায় ৯৫ শতাংশই নির্বিষ। আর প্রায় সব জাতই কার্নিভোরাস বা মাংসাশী।

উপমহাদেশে সবচেয়ে পরিচিত ও বিষধর চার প্রজাতির সাপ হলো, গোখরা (Indian cobra- Naja naja), শঙ্খিনী বা কাল কেউটে (Common krait/Blue krait- Bungarus caeruleus), চন্দ্রবোড়া (Russell's viper- Daboia russelii) ও খুদে চন্দ্রবোড়া (saw-scaled viper- Echis carinatus)। এই চার প্রজাতির সাপই মাংসাশী।

বিষধর বা নির্বিষ- যে ধরনের সাপই হোক না কেন, এই প্রাণীকে দুধ-কলা দিয়ে কি বশ মানানো সম্ভব?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেবারেই সম্ভব নয়। বরং দুধ-কলা সাপের পছন্দের কোনো খাবারই নয়। এর মধ্যে অতি তৃষ্ণা পেলে এবং পানির কোনো উৎস না পেলে নিরুপায় হয়ে পানীয় হিসেবে সাপ হয়তো দুধে মুখ রাখতে পারে, তবে জোর করেও সাপকে কলা গেলানো প্রায় অসম্ভব।

লোককথা বা প্রচলিত বিশ্বাসে অনেক সময় গরুর খামারে সাপের লুকিয়ে দুধ খাওয়ার বিবরণ মেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। দুধ বা দুধজাতীয় খাবার হজম করতে পারে না সাপের পাকস্থলী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাপ মূলত কার্নিভোরাস। সে অন্য প্রাণী খায়, কলা তো খায়ই না। দুধ যেহেতু পানির মতো, সে হিসেবে সে খেতে পারে। তবে সাধারণত সে অন্য প্রাণী বা অন্য ছোট সাপ খায়। এ ছাড়া অন্য কোনো খাবার তার জন্য অস্বাভাবিক।’

গরুর ওলানে সাপের কামড় বা গরুর দুধ খাওয়ার গল্পেরও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানান অধ্যাপক মনিরুল।

তিনি বলেন, ‘এগুলো ভ্রান্ত ধারণা। অনেক সময় গরুর বাটে পোকা কামড় দেয়। সেখান থেকে লোকে ধারণা করে যে সাপে কেটে গেছে।’

সাপের মাথায় মণি বা রত্নের বিষয়টিকেও কুসংস্কার বলছেন এই প্রাণিবিদ।

তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। সাপের মণি বলে কিছু নেই। সাপের প্রতি মানুষের এক ধরনের কুসংস্কার আছে। সাপ অন্য প্রাণী থেকে একেবারেই ভিন্ন। কিছু সাপ বিষধর। যেগুলোর কামড়ে মানুষ মারা যায়।

‘যে কারণে আদিকাল থেকেই সাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে কুসংস্কার আছে। সভ্য, শিক্ষিত হওয়ার পরেও কিছু মানুষের মধ্যে সেই ধারাটা এখনও আছে।’

পুরাণ বা লোকগল্পে যেমনটা বলা হয়, সাপ আসলে সে রকম ভয়ংকর বা খল চরিত্রের কোনো প্রাণী নয়। বরং অন্যান্য প্রাণীর মতোই এটিও মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে।

সাপ সম্বন্ধে কুসংস্কার ও আতঙ্ক দূর করে সঠিক তথ্য প্রচারে জোর দিচ্ছেন অধ্যাপক মনিরুল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমে কুসংস্কার দূর করতে হবে। মানুষকে বাস্তব তথ্য জানাতে হবে। সাপের মধ্যে ৯৫ ভাগ নির্বিষ। এ তথ্যটা বেশির ভাগ মানুষ জানেন না বা এ নিয়ে সচেতন নন। বেশির ভাগ সাপ নির্বিষ আর সেগুলো চেনাও খুব কঠিন কাজ নয়।
‘তাই এগুলো মারার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ছাড়া আইনি বিষয় আছে। বন্য প্রাণী আইন অনুযায়ী, যেকোনো বন্য প্রাণীকে ইচ্ছামতো ধরা বা মারা যায় না। এসব বিষয় সামনে নিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একযোগে পদত্যাগের হুমকির তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে। এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। এর মধ্যে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে।

এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক শরিফুল হাসান তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে শনিবার বিকেলে লিখেছেন, ‘৩৪ জন একযোগে পদত্যাগ করলে এই জাতি খুব খুশি হবে। কিন্তু ৩৪ জন তো দূরের কথা, একজনও পদত্যাগ করবেন না। বরং যেকোনো মূল্যে পদে থাকতে এরা কী করেন, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। এদের মতো আত্মমর্যাদাহীন খুব কম আছে। মর্যাদা থাকলে এরা নিজেরাই চলে যেতেন!’

একযোগে উপাচার্যদের পদত্যাগের হুমকির তথ্যের উৎস জানতে চাইলে শরিফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক সুপন রায়। এরপর সেই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকম শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সুপন রায়ের স্ট্যাটাস ও আমাদের সময় ডটকমের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
ফেসবুকে সাংবাদিক সুপন রায়ের স্ট্যাটাস

সাংবাদিক সুপন রায় ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসটি দেন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে। এতে তিনি লেখেন, ‘৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করবেন! প্রচণ্ড অস্বস্তিতে আছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় আজ ৩৪ উপাচার্য একত্রে বসেছেন। বক্তব্য রেখেছেন ২২ জন। সম্মানজনক সমাধান জরুরি।’

সুপন রায়ের এই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২৯ মিনিটে ‘সুপন রায়: ৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করব!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমাদের সময় ডটকম। এই প্রতিবেদনে সুপন রায়ের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য এতে নেই।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
সুপন রায়ের স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এর পরই বিষয়টি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে। সংবাদকর্মী মুকিমুল আহসান হিমেল ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘৩৪ জন ফরিদ নাকি এক হয়েছিলেন ভার্চুয়ালি। ঐতিহাসিক এই ফরিদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত- পদত্যাগ করতে হলে ৩৪ জন উপাচার্য একসাথেই করবেন। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা ফরিদের তরে!’

কাজল দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘কত বড় কালপ্রিটরা এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় চালায় দেখেন। ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন, সাস্টের ভিসির পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। দরকার হলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন। কীভাবে এরা ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন, একবার ভাবেন। দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এখন আন্দোলনে নামা উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাল, ডাল কিংবা গার্মেন্টস মালিকদের সিন্ডিকেইটবাজির বিষয় নয়। এইসব মাফিয়া ভিসির হাত থেকে ক্যাম্পাস সুরক্ষা করতে গণজোয়ারের বিকল্প নেই।’

রাজু নুরুল নামে একজন লিখেছেন, ‘শাহজালালের ভিসিকে পদত্যাগ করতে হলে নাকি ৩৪ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একযোগে পদত্যাগ করবেন। এটা শোনার পর থেকে আমি শুধু নিলুফার ইয়াসমিনের গাওয়া সেই গানটাই বারবার শুনছি- এত সুখ সইবো কেমন করে...’

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
৩৪ উপাচার্যের একযোগে পদত্যাগের গুজব ছড়িয়েছে ফেসবুকে

তবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দাবি, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান তারা নেননি।

উপাচার্যদের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ৩৪ জন উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি বা এ বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’

ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই বৈঠকে ছিলাম। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমানও ছিলেন ওই বৈঠকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল কি পরশু বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের একটি সভা হয়েছিল। তবে আমি মিটিংয়ের একদম শেষে জয়েন করেছি।’

৩৪ উপাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। সবার শেষে জয়েন করাতে অনেকের বক্তব্যও শুনতে পাইনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো মিটিংয়ে ছিলাম না। এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তো আমাকে জানানো হতো।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সভার আমন্ত্রণ পেয়েছি। তবে অসুস্থ থাকায় উপস্থিত ছিলাম না।’

সংবাদিক সুপন রায় কোন উৎস থেকে এমন তথ্য পেলেন তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

কবরে আগুন জ্বলছিল গাছের পাতা ও কাগজ থেকে

কবরে আগুন জ্বলছিল গাছের পাতা ও কাগজ থেকে

গাছের পাতা ও কাগজ দিয়ে কবরে আগুন জ্বালানো হয়েছিল। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে স্থানীয় মনির রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজের সময় কে বা কারা কবরে গাছের পাতা, পলিথিন ও কাগজ দিয়ে আগুন লাগিয়েছিল। তা ভাইরাল করতে ফেসবুকে ডিভিওটি আপলোড করা হয়।’

সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ কবরস্থানের একটি কবর থেকে আগুন জ্বলার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর কবরটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়ছেই।

বিষয়টি নজরে আসে নিউজবাংলার। অনুসন্ধানে জানা যায়, আগুন কবর থেকে জ্বলেনি; স্থানীয় কিছু তরুণ শুকনা পাতা, পলিথিন ও কাগজে আগুন লাগিয়ে কবরের ওপর রেখেছিল।

নিউজবাংলাকে স্থানীয় মনির রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজের সময় কে বা কারা কবরে গাছের পাতা, পলিথিন ও কাগজ দিয়ে আগুন লাগিয়েছিল। তা ভাইরাল করতে ফেসবুকে ডিভিওটি আপলোড করা হয়।’

স্থানীয় চা বিক্রেতা মোস্তফা শেখ বলেন, ‘মাগরিবের নামাজ শেষে দেখি কবরস্থানে আগুন জ্বলছে। আমাদের দেখে কিছু ছেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের কাউকে চিনতে পারিনি।’

কবরস্থানের খাদেম আফজাল হোসেন বলেন, ‌'আমরা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। কেউ হয়তো ইচ্ছা করে মোবাইলে প্রচার করার জন্য এ কাজ করেছে। তবে আপনারা কেউ দয়া করে কবরের ছবি ওঠাবেন না। কবরের ছবি তোলা নিষেধ।’

জনি আহমেদ নামের স্থানীয় আরেক যুবক বলেন, ‘ছেলেদের হয়তো উদ্দেশ্য ছিল ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল করে তাদের পেজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কারা এ কাজ করেছে, তাদের শনাক্ত করতে পারলে মূল ঘটনা জানা যাবে।’

স্থানীয় কাউন্সিলর জুলফিকার হাসান খান বলেন, ‘কিছু কুচক্রী মহল কুসংস্কার ছড়ানোর জন্য এ কাজ করেছে। কবরস্থানে পরিত্যক্ত আগাছা আর শুকনা পাতায় তারা আগুন ধরিয়েছিল। আমরা তাদের খুঁজচ্ছি। পাওয়া মাত্র প্রশাসনের হাতে তুলে দেব।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানামাত্র তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমার মনে হয়, টিকটক বানানোর জন্যই এ কাজ করেছে ছেলেরা।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার চলাকাল শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর এ ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবিটির উৎস খুঁজে বের করেছে নিউজবাংলা। ২০২১ সালের ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তোলা হয়েছিল সেটি। সেদিন আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন শামীম। এর দুই দিন আগে বিকেলে শহরের দেওভোগের বাসায় ৭০ বছর বয়সে মারা যান আইভীর মা মমতাজ বেগম।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাথায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের হাত। একই দলের দুই নেতার মধ্যে আগের প্রজন্ম থেকে চলে আসা দ্বন্দ্বের মধ্যে চলছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই সময় ছবিটি তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক মনে করে ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধান বলছে, ছবিটি ৫ মাস ১৬ দিন আগের।

আগামী ১৬ জানুয়ারির ভোটে শামীম ওসমান কোনো অংশ নন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রচারেও নামতে পারেন না। তবে আইভীর আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি। নৌকার প্রার্থী নিজ দলের সংসদ সদস্যকে বলেছেন ‘গডফাদার’।

আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের মার্কা ধানের শীষ নয়, হাতি। এর কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভোট বর্জন করেছে দলটি। তার পরও ভোটে আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াইয়ের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে আইভী অভিযোগ করছেন, তৈমূর আসলে শামীমের প্রার্থী। আর এই অভিযোগের মধ্যে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার পক্ষে তার অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। পর দিনই আইভীর মাথায় হাত রেখে শামীম ওসমানের ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে এ ছবিটির উৎস খুঁজে বের করেছে নিউজবাংলা। ২০২১ সালের ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তোলা হয়েছিল সেটি। সেদিন আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন শামীম।

এর দুই দিন আগে বিকেলে শহরের দেওভোগের বাসায় ৭০ বছর বয়সে মারা যান আইভীর মা মমতাজ বেগম।

আইভীর বাড়িতে শামীম ওসমান- এমন খবরে সেখানে ছুটে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের ক্যামেরায় বন্দি হয় এ ছবিটি।

আইভীর বাড়িতে যাওয়ার আগে তার মায়ের কবরেও যান শামীম ওসমান।

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো
আইভীর বাড়িতে যাওয়ার আগে তার মায়ের করবও জিয়ারত করেন শামীম ওসমান

দৈনিক ইত্তেফাকে নারায়ণগঞ্জের ফটোসাংবাদিক তাপস সাহাও তুলেছিলেন সেই ছবিটি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান যখন আইভীর বাড়িতে এলেন, আমি তাকে দেখে অবাক হই। পরে ভাবলাম মেয়রের মায়ের মৃত্যু হয়েছে, সান্ত্বনা দিতে আসতেই পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যখন দেখি আইভীর মাথায় হাত রেখে শামীম ওসমান তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার মায়ের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

‘আমি ভাবতে পারিনি তাদের এমন একটা ছবি আমার ক্যামেরায় বন্দি করতে পারব- উল্লেখ করে তাপস সাহা জানান, ছবিটি তিনি তার কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

ফটোসাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আইভীর মায়ের মৃত্যুর পর সেখানে আরও অনেকে গিয়েছিলেন। শামীম ওসমানের বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানও গেছেন। তবে সবচেয়ে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ছিল, যেদিন শামীম ওসমান আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রাখেন। শুধু আমি নই, সেখানে থাকা অনেক ফটোসাংবাদিক এ ছবিটি তুলতে অস্থির হয়ে ওঠেন। আমরা তো ভেবেছিলাম এই বুঝি নারায়ণগঞ্জের সব ঝামেলা মিটে গেল। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি।’

নানা সময়ে বিরোধের জেরে আলোচনায় এসেছেন আইভী ও শামীম ওসমান। ২০১১ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনে দুজন ছিলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

তবে দ্বন্দ্বের শুরু আরও বহু বছর আগের। দুই নেতার বাবার আমলে।

শামীম ওসমানের দাদা খান বাহাদুর এম ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তার ছেলে ও শামীম ওসমানের বাবা আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহাও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রেখেছেন।

পাকিস্তান আমলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিকাশে অবদান রাখেন আরেক নেতা আলী আহম্মদ চুনকা। এক দলের হলেও তার সঙ্গে শামসুজ্জোহার দ্বন্দ্ব ছিল। এই চুনকার মেয়েই আইভী। পূর্বপুরুষদের দ্বন্দ্ব এখন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শামীম-আইভী।

সিটি নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসানো নিয়ে আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থক এবং হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আইভীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের সময় আইভীকে ‘ছোট বোন’ আখ্যা দিয়ে তাকে নৌকা প্রতীকের ছবিসহ শাড়ি উপহার দেন শামীম ওসমান।

তবে এবার কোনো উপহার না দিয়ে শামীম ওসমান এই ভোটে সমর্থন দিয়েছেন আইভীর প্রতীককে, প্রার্থীকে নয়।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, ‘কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সৈকতে সমাগম নেই পর্যটকদের। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। 

কক্সবাজারে সম্প্রতি পর্যটকের সংখ্যায় ধস নেমেছে। এর পেছনে নিরাপত্তাহীনতা, খাবারের বেশি দামসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

আকস্মিকভাবে পর্যটকদের সৈকতবিমুখ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজারের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণের সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার দুই সপ্তাহের পরিস্থিতিও যাচাই করা হয়েছে।

দেখা গেছে, কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটাতেও দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটক-খরা চলছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকেই মন্দা শুরু হয়। এর জন্য বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী বলে মনে করছেন দুটি সৈকতের পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

শীতে পর্যটনের ভরা মৌসুমে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ছিল টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি। এ সময়ে কক্সবাজারে ঢল নামে পর্যটকের। সে সময় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কক্সবাজারে শুধু ডাল-ভাতের দামই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রাখা হচ্ছে। আবাসিক হোটেলের চড়া ভাড়া নিয়েও প্রকাশিত হয় বেশ কিছু প্রতিবেদন। এগুলো ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা যায়, হোটেল কক্ষের ভাড়া লাগামহীন হলেও ডাল-ভাতের দাম ৩০০-৪০০ টাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে খাবারের দাম আসলে কত?

এরপর ২৩ ডিসেম্বর সৈকত এলাকা থেকে এক ‘পর্যটক দম্পতি’কে অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ধর্ষণের অভিযোগটি তদন্ত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

তবে নিউজবাংলার আরেকটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারী পর্যটক হিসেবে সেখানে যাননি। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে তিন মাস ধরেই কক্সবাজারে আছেন। ধর্ষণে অভিযুক্তরা তাদের পরিচিত।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী

এ দুটি ঘটনার পর পরই কক্সবাজারে পর্যটক-খরা তৈরি হয়েছে। থার্টিফার্স্ট নাইটেও প্রাণহীন ছিল এই পর্যটন নগরী। এর এক সপ্তাহ পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেখা যায়নি ভ্রমণপিপাসুর চাপ।

সৈকতে গত শুক্রবার যাদের দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছেন। শহরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা।

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে শুক্রবার কক্সবাজারে আসেন অনেকে

ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। অথচ স্বাভাবিক চিত্র হলো, বছরের এ সময়ে পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। সেখানকার পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে এই মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

দুটি সৈকতের ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ এবার ব্যবসার ক্ষতি করেছে। তবে এর সঙ্গে থার্টিফার্স্টের আগে লম্বা ছুটি, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও পর্যটকরা সৈকতে ছুটি কাটানোর আগ্রহ হারিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা বা লাবনীতে রয়েছে ৫১৬টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। এসব হোটেলে দেড় লাখের বেশি পর্যটক থাকতে পারেন।

শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে পর্যটন মৌসুমে (শীতকালে) কক্সবাজারে ১৫ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের সামগম থাকত। তবে এবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

‘ভিজতা বে’ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং ছিল। গত শুক্রবার তাও হয়নি। উল্টো অনেক বুকিং বাতিল হচ্ছে। বিকাশের একটি দল আসার কথা ছিল। রুমও বুকিং দিয়েছিল তারা। কিন্তু ওমিক্রনের কারণ দেখিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছে।’

সুগন্ধা মোড়ের হোটেল হিল টাওয়ারের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হোটেলে শতাধিক কক্ষ আছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ছুটির দিন ঘিরে বুকিং ছিল মাত্র ১২টি, আগে এমন হয়নি।’

তবে সৈকতে কিছুটা পর্যটক ভিড় দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাতলীর হোটেল আমিন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই কুমিল্লা, নোয়াখালী বা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। এ ছাড়া কক্সবাজারের আশপাশের উপজেলার পর্যটক তো আছেনই। এদের অনেকে দিনে এসে দিনে চলে যান।’

তার কথার সত্যতা মেলে নোয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা সাজ্জাদুর রহমানের কথায়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৮০ জনের মতো ব্যবসায়ী পিকনিক করতে এসেছি। দুটি বাসে ভোরে রওনা দিয়েছিলাম, পৌঁছেছি ১০টার দিকে। আবার রাতে ফিরে যাব।’

চট্টগ্রাম থেকে পরিবারের ১৪ সদস্য নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মাওলানা রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর থেকে ভোরে রওনা দিলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছানো যায়। সে কারণে হোটেল ভাড়া নিইনি, রাতে আবার ফিরে যাব।’

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারীকে ধর্ষণের মামলা আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করেছে। সেই ক্ষতি বড় হয়ে উঠছে করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের ঘোষণায়।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারের নিরাপত্তা অনেক ভালো রয়েছে। যে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, তেমন কিছু দেখছি না। তবে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সচেতন করা হচ্ছে।’

কুয়াকাটাতেও হতাশা


কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজ তুষার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে টানা ছুটির সময় (বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি) পর্যটকের অনেক চাপ ছিল। তখন সব হোটেল-মোটেল হাউসফুল ছিল। মূলত ওই ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার কারণেই থার্টিফার্স্ট নাইট এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে পর্যটক উপস্থিতি কম।’


সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
পর্যটক উপস্থিতি কমেছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতেও


কুয়াকাটায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে পর্যটক সমাগমের পর ভিত্তিহীন কিছু প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুয়াকাটার সমুদ্রবাড়ী রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে প্রচুর মানুষ কুয়াকাটায় আসেন। তখন বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করে কুয়াকাটায় কোনো সিট নেই। এর ফলে অনেকেই থার্টিফার্স্ট উদযাপনে আর কুয়াকাটাকে বেছে নেননি।’

গুজবের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেলে নভেম্বরে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরে ওই ছাড় বাতিল করা হয়। বিষয়টি না জেনে যারা কুয়াকাটা এসেছিলেন, তাদের অনেকে পরে ফেসবুকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার গুজব ছড়ান।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মোতালেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকের মনের মধ্যে আশঙ্কা, করোনা দিন দিন বাড়ছে। যেকোনো সময় আবার লকডাউন হতে পারে। এ কারণেও অনেকে দূরে কোথাও যাওয়ার চিন্তা করছেন না।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

মোয়ামোয়ায় তছনছ রেমিনের জীবন

মোয়ামোয়ায় তছনছ রেমিনের জীবন

অসুস্থতার আগে শারমিন জামান রেমিন। ছবি: সংগৃহীত

রেমিনের পরিবার মনে করছে বাজির শব্দেই তছনছ হয়ে গেছে তাদের সাজানো পরিবার। তবে ঢাকা ও ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাপত্রে রেমিন মস্তিষ্কের ধমনিসংক্রান্ত জটিল রোগ মোয়ামোয়ায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছিল স্ট্রোকের পাঁচ বছর আগে থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ শব্দের সঙ্গে মোয়ামোয়া রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

শারমিন জামান রেমিন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। ক্লাস ফাইভ ও এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসিতে পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস। এরপর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ আঘাত।

২০১৭ সালে জুনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে থমকে যায় রেমিনের স্বাভাবিক জীবন। তার পরিবারের দাবি, বাড়ির পাশে ফোটানো বাজির শব্দে ব্রেইন স্ট্রোক হয় রেমিনের। এরপর থেকে সে প্যারালাইজড। ২১ বছরে পৌঁছানো মেয়েটি এখন বলতে গেলে শয্যাশায়ী।

রেমিনের বাবা জাহিদ রিপন নিউজবাংলাকে জানান, ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুরে থাকতেন তারা। ঈদুল ফিতরের দুদিন আগের রাতে বাসার পাশে বিকট শব্দে বাজি ফোটাতে শুরু করে এলাকার কিছু শিশু। আর সেই শব্দে ব্রেইন স্ট্রোক হয় রেমিনের। এতে একপাশ পুরো প্যারালাইজড হয়ে যায়। দেশে-বিদেশে চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও তার ডান হাত আর ডান পা প্যারালাইজড।

সাড়ে চার বছর আগের ঘটনাটির রাতের বর্ণনা দিয়ে জাহিদ রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে আমার বাসার পাশে বাচ্চারা বাজি ফুটাচ্ছিল। আমি তাদের বলেছি, এদিকে ফুটাইয়ো না, ওই দিকে যাও। আমি না করার পরেও শোনেনি, আবার একটু পরে আসছে।

‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার মেয়ে আমার পাশে বসা। আমরা খাচ্ছি। এমন সময় বোমার মতো শব্দে একটা বাজি ফুটেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছি। পরে ও আর ভাতটা খেতে পারল না। এরপর রাতে ঘুমিয়েছে কি না আমরা অতটা খেয়াল করতে পারিনি। সকালবেলা আমি একটা প্রোগ্রামে ফরিদপুরের বাইরে চলে গেছি। ওর আম্মু ফোন করে জানাল, ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কেমন যেন করছে।‘

তিনি বলেন, ‘বাসায় ফিরে এসে মেয়েকে মেডিক্যালে নিলাম। সেখানে ডাক্তার দেখে রোগটা ধরতে পারেননি। উনি ওষুধ দিয়ে বললেন, রাতে মনে হয় স্বপ্ন-টপ্ন দেখেছে, ঠিক হয়ে যাবে। এরপর দুপুর পর্যন্ত যখন ঠিক হলো না, তখন আরেক জন ডাক্তার ফরিদপুর মেডিক্যালের সহযোগী অধ্যাপক আহাবউদ্দিনকে দেখালাম। উনিও দেখে বের করতে পারলেন না, বললেন ঢাকায় নিয়ে যান।‘

ঢাকায় এনে রেমিনকে ১০ দিন স্কয়ার হাসপাতালে রাখা হয়। অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদের অধীনেও তার চিকিৎসা চলে। পরে রেমিনকে ভারতের ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নিয়ে যান জাহিদ রিপন। সেখানে ডা. আরি জর্জ চাকোর অধীনে চিকিৎসা হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি তখন বাংলাদেশে ছিলেন।

এরপর রেমিনকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্কয়ার হাসপাতালে ডা. আরি জর্জ চাকোর অধীনে অস্ত্রোপচার করানো হয়। ঢাকায় ফেরার আগে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দেখানো হয় তাকে। তবে এত চিকিৎসার পরেও এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি রেমিন।

রেমিনের কেন এই দুর্বিষহ জীবন

রেমিনের পরিবার মনে করছে বাজির শব্দেই তছনছ হয়ে গেছে তাদের সাজানো পরিবার। তবে ঢাকা ও ভারতে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাপত্রে রেমিন মস্তিষ্কের ধমনিসংক্রান্ত জটিল রোগ মোয়ামোয়ায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মোয়ামোয়া মস্তিষ্কের ধমনির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমাগত বাড়তে থাকা রোগ। মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো সরু হয়ে যায়। এর ফলে ধমনি ব্লকও হয়ে যেতে পারে এবং এ থেকে ইসকেমিক স্ট্রোক (রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক), রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক ও খিঁচুনি হতে পারে।

জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মোয়ামোয়া রোগ বেশি দেখা যায়। আর পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আক্রমণ করতে পারে।

নারী ও বংশগতভাবে এশিয়ানদের মধ্যে মোয়ামোয়া রোগের ঝুঁকি বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগটির সঙ্গে জিনগত যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

মোয়ামোয়া শব্দটি জাপানি। এর অর্থ ঝাপসা ধোঁয়া বা মেঘ। মোয়ামোয়া আক্রান্ত রোগীদের এনজিওগ্রামে (মস্তিষ্কের স্ক্যান) রক্তনালিগুলোকে ঠিক তেমনটাই দেখা যায়। ওষুধ বা অস্ত্রোপচার করে লক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই এর চিকিৎসা পদ্ধতি।

মোয়ামোয়া রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্তদের ছোটখাটো স্ট্রোক হতে পারে, কারও ক্ষেত্রে মৃগীর লক্ষণ থাকতে পারে। এ ছাড়া ধমনিতে ব্লকের কারণে ইসকেমিক স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক করতে পারে। শরীরের যেকোনো একদিকে দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে এবং ক্রমাগত স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণের কারণে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ কমতে পারে।

স্কয়ার হাসপাতালে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট রেমিনের চিকিৎসাপত্রের একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ডা. আরি জর্জ চাকোর সই করা ওই নথিতে রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সংক্ষিপ্ত ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রিতে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি আমাদের কাছে একটি হুইলচেয়ারে চড়ে এসেছে। তার শরীরের ডান দিকে পাঁচ বছর ধরে ক্রমবর্ধমান ব্যথা ছিল। কৈশোর থেকে তার দুর্বলতা ছিল। পাঁচ বছর আগে লেখার সময় প্রথমবার তার দুর্বলতা ধরা পড়ে। এবং সাত মাস আগে তার মুখে দুর্বলতা শুরু হয় ও কথায় জড়তা চলে আসে। এর দুই দিনের মধ্যে তার ডান দিকের অংশে দুর্বলতা শুরু হয়। তখন থেকে তিনি হাঁটতে পারেন না। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও ডান দিকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়।

এর আগে ওই বছরের ১০ জুলাই এস.পি.আর.সি. অ্যান্ড নিউরোলজি হাসপাতালের দেয়া ছাড়পত্রে রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এই হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ভারতের ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অ্যাপোলো হাসপাতালের নথিপত্রেও রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নথির কোনোটিতেই উচ্চশব্দজনিত কারণে রেমিনের অসুস্থতার বিবরণ নেই। এসব চিকিৎসাপত্রের অনুলিপি নিউজবাংলার কাছে থাকলেও রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নীতি অনুসরণ করে সেগুলোর ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রেমিনের বাবা বলছেন, বাজির বিষয়টি জানানো হলেও চিকিৎসকরা তা আমলে নেননি। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়াজের থেকে যে হয়েছে এটা ডাক্তাররা মানতে চান না। এই ঘটনাটা যখন ঘটল তখন আমি তো ওর (রেমিন) পাশে বসা। এর আগে-পরের সবকিছুই তো আমি জানি। কিন্তু ডাক্তাররা ওইটাকে (বাজির শব্দ) কিছু বলতে চান না। তারা বলেন যে এই (মোয়ামোয়া থেকে) সমস্যা হচ্ছে।’

রেমিনের ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রিতে পাঁচ বছর আগে থেকেই সমস্যা থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাহিদ রিপন বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ভোগা বলতে সে আসলে একটু ভীতু প্রকৃতির ছিল। ও শব্দ বেশি নিতে পারত না। একটু চুপচাপ থাকত। তবে এরপরেও সে ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে, এইটে বৃত্তি পেয়েছে, এসএসসিতে সে এ প্লাস পেয়েছে। সে একটু ভীতু প্রকৃতির ছিল। সেটার জন্য তো আমরা ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে ছিলাম। এটার জন্য অন্য কোনো সমস্যা ছিল না।’

‘ভীতু প্রকৃতির’ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্নায়ু দুর্বল ছিল আরকি। মানে দুর্বল চিত্তের কিছু মানুষ থাকে না- যারা কিছু দেখলে ভয় পায়, আওয়াজ নিতে পারে না। ও দুর্বল চিত্তের ছিল।

‘সে প্রাণী দেখে ভয় পায় না। সে শুধু শব্দ নিতে পারত না। কুকুর ঘেউ করে উঠলেও সমস্যা। বাসার সামনে মোটরসাইকেল হর্ন দিলেও সমস্যা। আমার বাসাটা তো তিন রাস্তার মোড়ে। আমি সে কারণে নিজের এই বাসা ছেড়ে ভাড়া বাসায় চলে গিয়েছিলাম। পরে আর্থিক কারণে ফিরে আসি। আমি নিজের বাড়ি রেখে তিন বছর বাইরে ছিলাম। অন্য বাসায় ভাড়া ছিলাম।’

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

শারমিন জামান রেমিনের শারীরিক অবস্থা ও মোয়ামোয়া রোগটি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতিমার সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

শিশু নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. কানিজ বলেন, ‘মোয়ামোয়া রোগটি মূলত মস্তিষ্কের একটি সমস্যা। মস্তিষ্কের যেসব রক্তনালি থাকে সেগুলো জন্মগতভাবে বা পরবর্তী সময়ে সরু হয়ে যায়। এ কারণে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটা মাথাব্যথা দিয়ে শুরু হতে পারে ও পরবর্তীতে স্ট্রোক হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মোয়ামোয়া রোগে মস্তিষ্কের কোনো একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ওই অঞ্চলে যে কাজগুলো থাকে মস্তিষ্ক সেটা আর করতে পারে না। ফলে শরীরের একটা পাশ অবশ হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে, মাথাব্যথা হতে পারে। এ কারণে মৃত্যুও হতে পারে।’

ডা. কানিজ ফাতিমা বলেন, ‘আমরা যেমনটা পাই যে ৩-৪ বছর থেকে সাধারণত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে এটা জন্মগত সমস্যা বলে জন্মের সময় থেকেও সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে সেটা খুবই বিরল। বেশির ভাগ সময় ৩-৪ বছর বা ২ বছরেও পাই। এটা বড়দেরও হতে পারে।’

উচ্চ শব্দের সঙ্গে মোয়ামোয়া রোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান ডা. কানিজ। শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোকের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তিনি।

বিএসএমএমইউর এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, ‘শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হয় এমনটা আমরা কখনও শুনিনি। তবে কোনো শিশু অনেক বেশি অসুস্থ থাকলে সে শব্দ থেকে ভয় পেতে পারে। কিন্তু শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

খাঁটি মধুও কি জমে

খাঁটি মধুও কি জমে

খাঁটি মধু জমে যাওয়াকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত

খাঁটি মধুও কেন জমে যায়, তার কারণ ব্যাখ্যা করে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মৌ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে যত মধু রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর জমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো মধু খুব দ্রুত জমে যায়; কোনো কোনো মধু জমতে সময় লাগে।’

বাজার থেকে বোতলজাত মধু কিনে কিছুদিন পর জমতে দেখলে অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তারা মনে করেন মধুতে নিশ্চয়ই ভেজাল আছে। আদতে বিষয়টি তা নাও হতে পারে।

মধু কেন জমে, তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে চট্টগ্রামভিত্তিক মধু গবেষক ও মধু জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঈনুল আনোয়ারের সঙ্গে।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মধু নিয়ে গবেষণা করা মঈনুল আনোয়ার প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইমেইলে দেশ-বিদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত পাঠান।

খাঁটি মধুও কেন জমে যায়, তার কারণ ব্যাখ্যা করে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মৌ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে যত মধু রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর জমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো মধু খুব দ্রুত জমে যায়; কোনো কোনো মধু জমতে সময় লাগে।

‘মধুর জমা মূলত নির্ভর করে মধুতে বিদ্যমান আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং উৎসের ওপর। একই সঙ্গে মধুতে বিদ্যমান গ্লুকোজের পরিমাণের ওপরও এটি নির্ভর করে। যেসব মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি, সাধারণত সেসব মধু দ্রুত জমে যায়।’

জমে যাওয়া মধু নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মধু জমে যাওয়াটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জমে যাওয়া মধু সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে সব ধরনের গুণগত মান অটুট থাকে।

‘কোনো কারণে মধু জমে গেলে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট যদি রেখে দেয়া হয়, তাহলে সেটি আবার আগের তরল অবস্থায়, অর্থাৎ লিকুইড ফরমে চলে আসবে।’

খাঁটি মধুও কি জমে

মধু জমে যাওয়া নিয়ে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক স্বপন বলেন, ‘মধুতে প্রধানত চার ধরনের সুগার থাকে। এগুলো হলো ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ম্যালটোজ। সরিষার মধুতে দ্রুত জমে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিলক্ষিত হয়। সরিষার মধুতে ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজের অনুপাত প্রায় সমান সমান। অর্থাৎ সুন্দরবনের মধুর চেযে সরিষার মধুতে বেশি গ্লুকোজ থাকে।

‘ফ্রুকটোজের চেয়ে কম দ্রবণীয় গ্লুকোজ। পাকা সরিষার মধুতে পানির পরিমাণ কম থাকে। শীতকালে সরিষার মধু সংগ্রহ করা হয় বলে তাপমাত্রাও কম থাকে। এসব কারণে পাকা সরিষার খাঁটি মধু জমে যায়। আর এই জমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ও ভালো সরিষার মধু নির্দেশ করে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বেয়ার হানি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডাস্টিন ভ্যানেস বলেন, “মধুর ক্রিস্টালাইজেশন বা স্ফটিকায়ন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, মধুতে ভেজাল মেশানো হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মধু ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে জমে যেতে পারে। এর মূল কারণ মধুতে থাকা খনিজ উপাদানগুলো।

“প্রায়ই দেখা যায়, কালো বর্ণের মধুগুলো হালকা বর্ণেরগুলোর চেয়ে দেরিতে জমাট বাঁধে। এ জমাট বাঁধার কারণ হলো ‘সুপার স্যাচুরেটেড দ্রবণ’ নামের একটি প্রক্রিয়া।”

খাঁটি মধুও কি জমে

এ খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘মধুর দুটি অংশ—পানি ও চিনি। চিনি কঠিন পদার্থ। মধুতে ফ্রুকটোজের পরিমাণ বেশি থাকলে তা জমাট বাঁধতে শুরু করে, বিশেষ করে পাত্রের তলানিতে।’

আরও পড়ুন:
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন