গর্ভপাতে অভিযুক্ত তিন নারীকে মুক্তি সালভাদরের

player
গর্ভপাতে অভিযুক্ত তিন নারীকে মুক্তি  সালভাদরের

কঠোর আইনের বেড়াজালে বন্দি এল সালভাদরের নারীদের জীবন। ছবি: সংগৃহীত

যদিও দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এসিডেট জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীদের ভ্রূণ অপসারণ করতে হয়েছিল গর্ভবতি থাকা অবস্থায় শারীরিক জটিলতার কারণে। এটি স্বেচ্ছায় ভ্রূণ অপসারণের কোনো ঘটনা ছিল না।

কঠোর আইনের বেড়াজালে বন্দি এল সালভাদরের নারীদের জীবন। হতাশ না হয়ে তারা সম্মিলিতভাবে নারীবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলও পেতে শুরু করেছে দেশটির নারীরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, গর্ভপাতের দায়ে কারাগারে বন্দি তিনজন নারীকে মুক্তি দিয়েছে এল সালভাদর কর্তৃপক্ষ।

ভ্রূণ অপসারণের অভিযোগে তাদের কারাগারে যেতে হয়েছিল।

যদিও দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এসিডেট জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীদের ভ্রূণ অপসারণ করতে হয়েছিল গর্ভবতি থাকা অবস্থায় শারীরিক জটিলতার কারণে। এটি স্বেচ্ছায় ভ্রূণ অপসারণের কোনো ঘটনা ছিল না।

অভিযুক্ত তিন নারী কারেন ৬ বছর, কেথি ৮ বছর ও এভিলেন ১৩ বছর ধরে জেলে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার তারা মুক্তি পান। সেই সুবাদে অনেক দিন পর বড়দিনে পরিবারের সঙ্গেও মিলিত হতে পেরেছেন।

এল সালভাদর সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করেছে। দেশটিতে ভ্রূণ অপসারণকে হত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর জন্য কঠোর বিচারিক শাস্তিও রয়েছে। অনেক নারীই গর্ভের জটিলতার কারণে গর্ভপাতের ঘটনা হয়ে যায়। ফলে তাদের জেলে যেতে হয়। এমনকি গর্ভপাতের ঘটনায় ৫০ বছরের জেল হতে পারে।

দেশটির বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন এই আইনের বিরোধিতা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের এই মুক্তিকে নারী অধিকার সংগঠনগুলো একটি বিজয় হিসেবে দেখছে।

এসিডেট জানিয়েছে, এই তিন নারীর মতো আরও ১৪ জন এখনো কারাগারে আটক রয়েছেন।

সংগঠনটির একজন সদস্য মোরেরা হিরিরা বলেন, ‘কারাবন্দি বাকিদের মুক্ত করার আগ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।’

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

নিজের কর্মস্থলে বিন্দু ও মিম। ছবি: নিউজবাংলা

বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ট্রান্সজেন্ডার বিন্দু ও মিম জীবনের বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ সফল উদ্যোক্তা। নিজেদের দক্ষতা আর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় সমাজে আজ তারা প্রতিষ্ঠিত।

জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে এবার অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বিউটিশিয়ান বিন্দু ও মিম। জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তারা বিনা মূল্যে দেবেন বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ।

নরসিংদীর মাধবদীতে বিন্দু ও মিমের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান- ‘ত্রিনয়ন রূপশিল্প’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে এ ঘোষণা দেন তারা।

মাধবদী পৌর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন সাফল্যের এক বছর।

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় নরসিংদীর তৎকালীন প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ আলম মিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় গত বছরের জানুয়ারিতে এই পার্লারটি গড়ে ওঠে।

মূলত ট্রান্সজেন্ডারদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মমুখী প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্তি করার অংশ হিসেবে এ কাজটি করেন তারা।

মাধবদী পৌর শহরের বড় মসজিদ রোডে অবস্থিত ইসলাম প্লাজার বিউটি পার্লারটি অল্প সময়ে সুনাম কুড়িয়েছে ব্যাপক।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেয়া বক্তব্যে আপ্লুত কণ্ঠে বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিতে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ত্রিনয়ন রূপশিল্পের নিয়মিত গ্রাহক এবি ব্যাংক মাধবদী শাখার ব্যবস্থাপক সুমি আক্তার। তিনি বলেন, ‘মাধবদী থেকে এখন আর রাজধানীতে যেতে হচ্ছে না। এখানে রাজধানীর মতো রূপচর্চার সেবা পাচ্ছি। এটা আমাদের মতো নারী উদ্যোক্তাদের গর্ব ও অহংকার।’

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল-আমিন বলেন, ‘দেশে অনেক অবহেলিত মানুষ আছেন। বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়ালে মিম ও বিন্দুর মতো অনেকের জীবন পাল্টে যাবে।’

যেভাবে হলো বিন্দু-মিমের পুনর্বাসন

ট্রান্সজেন্ডার রত্না শেখ ওরফে বিন্দুর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। আর মিম আক্তারের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার কিসমত বানিয়াদী গ্রামে।

প্রায় ১১ বছর আগে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন মিম। পরে কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর অবৈধ পথে ভারতে চলে যান তিনি। সেখানে পরিচয় হয় মুন্সিগঞ্জের রত্না ওরফে বিন্দুর সঙ্গে। এরপর সেখানে রূপচর্চার প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরেন দেশে।

বিন্দুকে নিয়ে নিজ বাড়ি নরসিংদীতে আসেন মিম। তবে এতে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবারও বাড়ি ছাড়া হন তারা। ট্রান্সজেন্ডার অনেকের মতো বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা সংগ্রহ শুরু করেন তারা।

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

সমাজ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। এক রাতে মিমের বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের।

তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের প্রচেষ্টায় বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এগিয়ে আসেন তারাও। উদ্যোগ নেন তাদের পুনর্বাসনের।

জেলা প্রশাসনের অর্থায়ন আর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে শহরের কেন্দ্রে একটি বিউটি পার্লার গড়ে তোলা হয় মিম ও বিন্দুর জন্য।

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

আরও কবর খুঁজে পেলেন কানাডার আদিবাসীরা

আরও কবর খুঁজে পেলেন কানাডার আদিবাসীরা

ক্যাথলিক স্কুলপ্রাঙ্গণে খুঁজে পাওয়া কবরের মাঝে ৩ বছরের শিশুর কবরও রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কানাডা ১ লাখ ৫০ হাজার আদিবাসী শিশুকে ১৮০০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জোরপূর্বক আবাসিক স্কুলে যোগদানে বাধ্য করেছিল। সেখানে শিশুদের থেকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, ভাই-বোন থেকেও আলাদা করা হয়েছিল এবং এসব শিশু মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারও হয়েছিল।

অনেক উন্নত দেশেরই ঝলমলে বর্তমানের পেছনে রয়েছে গাঢ় অন্ধকার। অনেক দেশই অতীতে এলাকার দখল নিতে সেখানকার আদিবাসীদের উচ্ছেদ করেছে কিংবা আফ্রিকা থেকে নিয়ে এসেছে ক্রীতদাস। কানাডাও এর বাইরে নয়। দেশটি একসময় সেখানকার আদিবাসী যারা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বছর আগে থেকে বসবাস করছিল, তাদের শিশুদের সভ্য করার নামে আবাসিক স্কুলে নিয়ে আসতো। জোরপূর্বক কেড়ে নেয়া হতো ভাষা ও সংস্কৃতি।

এই আবাসিক স্কুলের চাপ সহ্য করতে না পেরেই প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার শিশু। গত বছরেও নামবিহীন প্রায় ২১৫টি কবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবার নতুন করে নাম-পরিচয়হীন আরও অনেকগুলো কবরের সন্ধান পেয়েছে কানাডার আদিবাসী সম্প্রদায়।

উইলিয়াম লেক ফার্স্ট নেশন সোমবার জানিয়েছে, ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ৯৩টি কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রাক্তন কামলপস ইন্ডিয়ান আবাসিক স্কুল বা সেন্ট জোসেফ আবাসিক স্কুলের এলাকায় এই কবরগুলো পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই কবরগুলো সেন্ট জোসেফ আবাসিক স্কুলের ছাত্রদেরই।

প্রায় হাজার হাজার উইলিয়াম লেক ফার্স্ট নেশন ও অন্যান্য আদিবাসী শিশুদের জোরপূর্বক সেন্ট জোসেফ স্কুলে রাখা হয়েছিল। এই স্কুলটি ১৮৮১-১৯৮১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

গত বছর মে মাসেও এই আবাসিক স্কুলের আশপাশে প্রায় ২১৫টি নামবিহীন কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

কানাডা ১ লাখ ৫০ হাজার আদিবাসী শিশুকে ১৮০০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জোরপূর্বক আবাসিক স্কুলে যোগদানে বাধ্য করেছিল।

সেখানে শিশুদের থেকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, ভাই-বোন থেকেও আলাদা করা হয়েছিল এবং এসব শিশু মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারও হয়েছিল।

হাজার হাজার শিশু মারা গিয়েছিল এমন পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে।

বিভিন্ন গীর্জা বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিক চার্চ এই স্কুলগুলো পরিচালনা করতেন।

২০১৫ সালে দেশটির ফেডারেল কমিশনও তদন্তের পর এ ঘটনার সত্যতা পায়। তারা কানাডার আবাসিক স্কুল পদ্ধতিকে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছে।

এই মাসের শুরুর দিকে কানাডার ফেডারেল সরকার উইলিয়াম লেক ফার্স্ট নেশনের জন্য ১.৯ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার তহবিল ঘোষণা করে, যাতে তারা প্রাক্তন আবাসিক স্কুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত সমাধিগুলো নিয়ে তদন্ত করতে পারে।

সর্বোপরি নতুন এই কবরগুলো খুঁজে পাওয়ায়, জোরপূর্বক-আত্মীকরণ প্রতিষ্ঠানের শিকার হওয়া এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

তালেবানের বিরুদ্ধে নারী আন্দোলন কর্মী গুমের অভিযোগ

তালেবানের বিরুদ্ধে নারী আন্দোলন কর্মী গুমের অভিযোগ

তালেবান নারী আন্দোলন কর্মীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ছবি: সংগৃহীত

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তামানা পারিয়ানি, পারায়ান ইব্রাহিমখেল ছাড়াও আরও কয়েকজন নারী কর্মী আফগানিস্তানে নিখোঁজ হয়েছেন।

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকেই তারা নারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে থাকে। নারীদের পুরুষ সঙ্গী ছাড়া দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণে নিষেধ করা হয়েছে, গাড়িচালকদের আহ্বান জানানো হয়েছে বোরকা ছাড়া গণপরিবহনে উঠতে না দিতে।

এমতাবস্থায় দেশটির নারীরাও বসে নেই। তারাও তালেবান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তামানা পারিয়ানি, পারায়ান ইব্রাহিমখেল ছাড়াও আরও কয়েকজন নারী কর্মী আফগানিস্তানে নিখোঁজ হয়েছেন।

তবে তালেবান নারী আন্দোলন কর্মীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারাও নিখোঁজ নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও এর আগে তালেবান নারী কর্মীদের বেআইনিভাবে কণ্ঠ রোধ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল।

গত ১৬ জানুয়ারি, পারিয়ানি ও ইব্রাহিমখেল কাবুলে তালেবানবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর ঠিক ২ দিন পরই ১৯ জানুয়ারি, সশস্ত্র কিছু ব্যক্তি নিজেকে তালেবান গোয়েন্দা বলে পরিচয় দিয়ে দরজা ভেঙে ৩ বোনসহ পারিয়ানিকে ধরে নিয়ে যায়। সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকার আগ মুহূর্তের একটি ভিডিও পোস্ট করেন পারিয়ানি।

ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে ইব্রাহিমখেলের ক্ষেত্রে। তাদের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতায় আসার পর তালেবান দেশটির নারীদের কাজ ও পড়াশোনার অধিকারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দেশের বেশির ভাগ অংশে নারীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছে। শান্তিপূর্ণ নারী বিক্ষোভকারীদের মারধর, পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেছে।

এমনকি এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সীমিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের আটক ও মারধর ছাড়াও আগের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গুম করার অভিযোগ আসছে তালেবানের বিরুদ্ধে।

২৩ জানুয়ারি নরওয়ের রাজধানী অসলোতে তালেবান কর্তৃপক্ষ এবং বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন আফগান কর্মী হোদা খামোশ প্রকাশ্যে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকিকে বলেন, ‘এখনই কাবুলে ফোন করুন, অবিলম্বে তাদের (গুম হওয়া নারীদের) মুক্তির নির্দেশ দিন।’

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তালেবান তাদের সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে যে কোনো গুম-খুনে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া তালেবান দাবি করে থাকে যে, তারা নারীদের শিক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। এ বছরের মার্চ মাস থেকে পুরো আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলগুলো মেয়েদের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের। তালেবান কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা শরীয়াহ-এর আলোকে নারীদের সব ধরনের অধিকারই দেবে।

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

শপথ নিলেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক

শপথ নিলেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারক

প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ এপেক্স কোর্টে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

আয়েশা এ মালিক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন জ্যেষ্ঠতার বিচারে তিনজন বিচারপতিকে ডিঙিয়ে।

আজ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারপক হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি আয়েশা এ মালিক।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ এপেক্স কোর্টে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনজীবীরা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিচারপতি আয়েশা এ মালিক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হয়েছেন জ্যেষ্ঠতার বিচারে তিনজন বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। দেশটিতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

সংসদীয় কমিটির সবার সম্মতিতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে মনোনয়ন দেয়া হয়। যদিও জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে আয়েশা মালিকের অবস্থান চার নম্বরে।

সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, নারী হওয়ার কারণেই বিচারপতি আয়েশা এ মালিককে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টিই বিবেচনা করা হবে।

বিচারপতি আয়েশা এ মালিক ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকবেন।

এদিকে বিচারপতি কাজী ফায়েজ ইশা, বিচারপতি মকবুল বাহার, বিচারপতি সর্দার তারেক মাসুদ ও পাকিস্তান বার কাউন্সিলের প্রতিনিধি আখতার হুসেইন সংসদীয় কমিটির এই মনোনয়নের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার নীতিই অনুসরণ করা উচিত।

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

চুম্বন ও আমার বয়ঃসন্ধিকাল

চুম্বন ও আমার বয়ঃসন্ধিকাল

মহর্ষি বাৎস্যায়নের কামসূত্রের ‘চুম্বন’ অধ্যায় আমার সামনে যেন এক মহা রহস্যের হাতছানি হয়ে দাঁড়াল। ঠাকুরমার ঝুলির দৈত্য বা পাতালপুরির রাজকন্যা আমাকে আর টানে না। দস্যু বনহুরের সবগুলো সিরিজ পড়ি। নূরি আর মনিরা, একজন জঙ্গলে আরেকজন শহরে, বনহুরের দুই স্ত্রী। তাদের সঙ্গে বনহুরের সম্পর্ক ভালোবাসার। অথচ তাদের মধ্যে চুম্বন নেই।

আব্বা হয়তো চাইতেন আমাকে বৈশ্বিক করে তুলতে, কিন্তু রেডিও আর দুদিন পর ঢাকা থেকে আসা ইত্তেফাক ছাড়া তখন তো আর কোনো উপায় নেই জানলা খুলে আকাশ দেখার!

বাড়িতে চার ব্যাটারির একটা ওয়ান ব্যান্ড রেডিও ছিল। তা দিয়েই খবর, আধুনিক গানের অনুরোধের আসর, নাটক বা কথিকা শুনতাম, আর ছিল সিনেমা হল।

সিনেমা হলে শো ছিল তিনটি। ম্যাটিনি, ইভিনিং আর নাইট শো। তবে ‘মর্নিং শো’ নামে ছুটির দিনের সকালে মাঝেমধ্যে বিদেশি ইংরেজি ছবি দেখানো হতো।

আব্বা আমাকে মর্নিং শো দেখতে নিয়ে যেতেন। কাহিনি, সংলাপ কিছুই বুঝতাম না। ঘোড়ার দৌড়, গোলাগুলি, খুব জোরে গাড়ির চলা ছাড়া আর যে দৃশ্যের কথা এখনও মনে আছে তা হলো চুম্বন।

প্রায়ই দেখতাম পুরুষ আর নারী মুখে মুখ লাগিয়ে পরস্পরের ঠোঁট চুষছে। ব্যাপারটা বুঝতাম না। আব্বাকে জিজ্ঞেস করলাম ওরা এমন করে কেন?

আব্বার জবাব, ‘ওরা চুমু খাচ্ছে।'

পানজর্দা বা ভাতমাছ খাওয়া জ্ঞান নিয়ে চুমু খাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হতো না। আবারও প্রশ্ন করলাম, ‘কেন চুমু খাচ্ছে?’

আব্বার জবাব, ‘ওরা একজন স্বামী আর একজন স্ত্রী, দুজন দুজনকে ভালোবাসে, তাই চুমু খাচ্ছে।’

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা থাকলে চুমু খায়, এ পর্যন্ত বুঝলাম। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়া এটাও বুঝলাম, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো ভালোবাসা নেই। কারণ, তারা স্বামী-স্ত্রী হলেও চুমু খায় না।

এ রকম সময়েই একদিন বাড়িতে একটা মলাট দেয়া বই পেলাম ‘স্বামী-স্ত্রীর মিলন রহস্য’। বইয়ের একটা অধ্যায় ছিল ‘বাসর রাত’।

সেখানে বাসর রাতে স্বামীর করণীয় হিসেবে নববিবাহিতা স্ত্রীর প্রতি আচরণের স্টেপ বাই স্টেপ বিবরণ দেয়া ছিল। যেমন স্বামী বাসরঘরে ঢুকবেন, এক গ্লাস দুধ খাবেন, তারপর স্ত্রীর ‘কপোলদেশে চুম্বন’ করবেন।

এ পর্যন্ত পড়ে আমাকে থামতে হয়। কারণ, তখন আমি কপাল চিনি, কপোল চিনি না। বাংলাদেশ চিনি কপোলদেশ চিনি না। চুমু চিনি, চুম্বন চিনি না!

‘স্বামী-স্ত্রীর মিলন রহস্য’ লুকিয়ে পড়ার পর চুম্বন বিষয়ে আগ্রহ বেড়ে গেল। একদিকে বই পড়া ধারণা, আরেক দিকে বাস্তবের সঙ্গে অমিল।

এর মধ্যে হাতে এলো ঝিনুক প্রকাশনীর সুলভ সংস্করণের ‘বাৎস্যায়নের কামসূত্র’। বাড়িতেই ছিল। হয়তো আব্বাই চেয়েছেন আমি পড়ি। তাই বইটি বাইরে ফেলে রেখেছেন যেন আমার চোখে পড়ে।

আমি তখন ক্লাস সেভেন বা এইটের ছাত্র। আব্বাকে ভয় নেই, তিনি সারা দিন অফিসে থাকেন। মার চোখ ফাঁকি দেয়া কঠিন নয়। অতএব বইটা পড়ে ফেললাম এবং প্রায় কিছুই বুঝলাম না।

অনেক ধোঁয়াটে বাংলা শব্দ, যা কোথাও কোনো দিন পড়িনি বা শুনিনি। তবে প্রবল এক আকর্ষণ বোধ করলাম বইটার ওপর। পড়ার বইয়ের ফাঁকে, লেপের ভাঁজে, বালিশের খোলের ভিতর লুকিয়ে রাখি আর বারবার পড়ি। শব্দগুলো ভেঙে ভেঙে বোঝার চেষ্টা করি। যেমন: ওষ্ঠ মানে যেহেতু ঠোঁট, তাহলে উপরোষ্ঠ হলো ওপরের ঠোঁট, আর নিম্নোষ্ঠ হলো নিচের। ঠোঁট তাহলে দুটো! একটা না, কী আশ্চর্য! শব্দে শব্দে বিস্ময়!

ততদিনে আমি জেনে গেছি যাহা চুমু তাহাই চুম্বন। এই বইয়ে পেলাম চুম্বন নামে একটি আলাদা অধ্যায়। যেখানে দেখলাম কেবল ওষ্ঠ নয় বরং আরও অন্তত ১০টি জায়গায় চুম্বন করা যায়, যার কোনোটাই আমি চিনি না।

সিনেমায় দেখা কেবল ওই এক রকম নয় বরং আরও অন্তত সাত রকমভাবে চুম্বন করা যায়। যেমন নায়ক যখন কাজে ব্যস্ত থাকে তখন তাকে বিরক্ত বা বিব্রত করার জন্য ইয়ার্কি ধরনের চুম্বনকে ‘চলিতক’ বলে।

আবার নায়ক ও নায়িকা একজন আরেক জনকে মনের ভাব জানানোর জন্য দূর থেকে ইশারায় যে চুমু দেয় তাকে ‘ছায়াচুম্বন’ বলে (এই ছায়াচুম্বনকেই সম্ভবত আজকাল ফ্লাইংকিস বলা হয়)।

যাহোক, আগেই বলেছি, পাতায় পাতায় বিস্ময়! এক অধ্যায় ছেড়ে আরেক অধ্যায় বানান করে করে পড়ি আর যেন দুধের সাগর থেকে ক্ষীরের সাগরে হাবুডুবু খাই।

মজার ব্যাপার হলো, আব্বা বলেছিলেন, স্বামী আর স্ত্রী ‘চুমু খায়’, তবে এই বইয়ে লেখা ‘নায়ক আর নায়িকা’। কোথাও স্বামী-স্ত্রীর কথা নেই।

তাহলে কি স্বামী-স্ত্রী না হলেও চুমু খাওয়া যায়? তাহলে কি সিনেমার বাইরেও মানুষ নায়ক বা নায়িকা হতে পারে?

ঝিনুকের ওই সংক্ষেপিত সুলভ সংস্করণে সব প্রশ্নের জবাব নেই। আব্বাকে প্রশ্নেরও সুযোগ নেই। মনে প্রবল জানার ইচ্ছা, শরীরে অজানা শিহরণ। আমি তখন ১৪ বছর, আমার তখন বয়ঃসন্ধিকাল।

মহর্ষি বাৎস্যায়নের কামসূত্রের ‘চুম্বন’ অধ্যায় আমার সামনে যেন এক মহা রহস্যের হাতছানি হয়ে দাঁড়াল। ঠাকুরমার ঝুলির দৈত্য বা পাতালপুরির রাজকন্যা আমাকে আর টানে না। দস্যু বনহুরের সবগুলো সিরিজ পড়ি। নূরি আর মনিরা, একজন জঙ্গলে আরেকজন শহরে, বনহুরের দুই স্ত্রী। তাদের সঙ্গে বনহুরের সম্পর্ক ভালোবাসার। অথচ তাদের মধ্যে চুম্বন নেই।

বাৎস্যায়ন লিখেছেন, কেবল নায়কই চুম্বন করবে তা নয়, নায়িকাও চুম্বন করতে পারে। তবে যা পড়ি তাতে কোথাও এসবের উল্লেখ নেই।

এ রকম প্রশ্নময় বয়ঃসন্ধিতে আব্বা কুষ্টিয়ার কুমারখালী বদলি হলেন। আমি যোগেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি, পাবলিক লাইব্রেরিটা পাশেই। লাইব্রেরির শিশু সদস্য হলাম। ছোটদের রবীন্দ্রনাথ, ছোটদের শেক্সপিয়ার এ রকম ছোটদের বই অনেক। তবে আমার আগ্রহ বড়দের বইয়ে। লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ি, বই বাড়িতেও আনি।

অনেক উপন্যাসও পড়ছি তখন। প্রেম-ভালোবাসা বিরহের সব কাহিনি। ভালো লাগছে। মনে আছে ‘শাপমোচন’ পড়ে জীবনের বইপড়া কান্নার শুরু। সরলরেখার মতো কাহিনি অথচ প্রচণ্ড ভালো লাগা। এক বিজয়ার দিনে চাকরিপ্রার্থী মহেন্দ্র আসে ধনী মাধুরীদের বাড়িতে। মাধুরী তাকে ভালোবাসতে শুরু করে, কিন্তু সে ভালোবাসায় সাড়া না দিয়ে মহেন্দ্র গ্রামে ফিরে যায়। হারিয়ে যায় মাধুরীর জীবন থেকে। অথচ বিরহী মাধুরী অপেক্ষায় থাকে। প্রত্যেক বিজয়ার দিনে মহেন্দ্রকে চিঠি লেখে, ভাবে একবার যদি এই চিঠি মহেন্দ্রর হাতে পড়ে, যদি আবার মহেন্দ্র ফিরে আসে! সেইসব চিঠির কোনো দিন কোনো উত্তর আসে না।

মহেন্দ্রর এই ভীরুতা ভালো লাগে না আমার। মনে হয়, সে যদি শহরে থেকে যেত, সেও যদি ভালোবাসত, তাহলে তাদের মধ্যে চুম্বন হতে পারত। আর একবার চুম্বন হয়ে গেলে এই বিরহ মিলনে রূপ নিত। কতই না ভালো হতো সেটা।

দেবদাস পড়েও একই রকম মনে হয়েছিল। মনে পড়ে সেই অংশটা। দেবদাস ছিপ ফেলে বসে আছে, পার্বতীও ঠিক সময়ে এসে পড়েছে পুকুর ঘাটে।

“-আমি এসেচি পারু !

পার্ব্বতী কিছুক্ষণ কথা না কহিয়া, শেষে অতি মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করিল,

-কেন?

-তুমি আসতে লিখেছিলে, মনে নেই?

-না।

-সে কি পারু! সে রাত্রের কথা মনে পড়ে না?

-তা পড়ে। কিন্তু সে কথার আর কাজ কী?”

এরপর দেবদাস রেগে গিয়ে ছিপ দিয়ে পার্বতীর মাথায় বাড়ি দেয়। পার্বতীর কপাল কেটে ‘সমস্ত মুখ রক্তে ভাসিয়া গেল। মাটিতে লুটাইয়া পড়িয়া বলিল, দেবদা, করলে কী!’

ঠিক এই সময়ে আমার মনে হয়, ছিপের বাড়ির চেয়ে একটা চুমুর অ্যাকশন বেশি হতে পারত। দেবদাস সাহস করে পার্বতীকে একটা চুম্বন দিয়ে দিলে সব মান, অভিমান, ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়ে যেত। ফলে দেবদাসকে মরতে হতো না, আবার পার্বতীকেও বুড়ো দোজবরকে বিয়ে করতে হতো না।

যে বই-ই পড়ি সবখানেই ‘হতে হতেও হয় না’। কোথাও চুমুর কোনো বাস্তব বিবরণ নেই। তবে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাটা পড়ে ধারণাটি একটু স্পষ্ট হয়।

‘চিত চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর’ পড়ে মনে হয় চুম্বনের মধ্যে একটা কম্পনের, একটা আবেশের, একটা মুগ্ধতার ব্যাপার আছে। সুতরাং এটা বেশ স্পেশাল একটা ব্যাপার। এটা যে সত্যি স্পেশাল তা বুঝলাম রবীন্দ্রনাথের ‘চুম্বন’ কবিতাটি পড়ে।

অধরের কানে যেন অধরের ভাষা।

দোঁহার হৃদয় যেন দোঁহে পান করে।

গৃহ ছেড়ে নিরুদ্দেশ দুটি ভালোবাসা

তীর্থযাত্রা করিয়াছে অধর সংগমে।

আর এই কবিতা পড়া মাত্র আমার বোঝার উপর শাকের আঁটি উঠে গেল! কারণ ওষ্ঠ জানি, অধর জানি না। দোঁহা বা দোঁহে কী জানি না। আর সংগম তো জানিই না।

রবীন্দ্রনাথের ‘চুম্বন’ পড়ার পর আমাকে ডিকশনারি কিনতে হলো। মানে আব্বাকে বলে কেনাতে হলো। আর আমি সাগ্রহে অধর, দোঁহা, সংগম ইত্যাদি শব্দের অর্থ খুঁজে নিলাম।

পুরো কবিতাটি আমি বারবার পড়ি আর অজানা শিহরণ, অচেনা অনুভব আর অনাস্বাদিত পুলকে দেহ-মন জেগে ওঠে। একি অকালবোধন নাকি নবজন্ম?

পরে জেনেছি, সেটাই ছিল আমার যৌনজাগরণ (sexual awakening) এবং আমার যৌনদিকস্থিতি (sexual orientation)।

রবীন্দ্রনাথ আমাকে বোঝালেন, চুম্বন কোনো যেনতেন ব্যাপার নয়। কেবল ঠোঁট চোষা নয়। চুম্বন হলো একজনের হৃদয় অন্যজনে পান করা। সাগরের গভীরে ঢেউয়ের উদ্ভব হলে তাকে যেমন একসময় তীরে এসে আছড়ে পড়তেই হয়; তেমন দুটি মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক প্রেমের নিয়মে যে উচ্ছ্বাস আর অনাবিল কামনা তৈরি হয়; সেটাই অবশেষে চুম্বন হয়ে ‘ভাঙ্গিয়া মিলিয়া যায় দুইটি অধরে’

দুজনের অবরুদ্ধ ব্যাকুল বাসনা দেহের সীমায় এসে দুজনকে খুঁজে পায়। অতঃপর প্রেমের যে গান তার চূড়ান্ত স্বরলিপি লেখা হয় ঠোঁটে ঠোঁটে-

ব্যাকুল বাসনা দুটি চাহে পরস্পরে

দেহের সীমায় আসি দুজনের দেখা।

প্রেম লিখিতেছে গান কোমল আখরে

অধরেতে থর থরে চুম্বনের লেখা।

লাইব্রেরির বই পড়ি। হলরুমে টিভিতে ইংলিশ সিরিজ দেখি। ‘হাওয়াই ফাইভ ও’ নামে একটা সিরিজ চলত তখন। কুমারখালী শহরে তখন টিভি দেখা যায় তিন জায়গায়- লাইব্রেরি, কলেজ আর গার্লস স্কুলে।

বই পড়ার পাশাপাশি ফুটবল খেলি তখন নিয়মিত। পুকুরে বা গড়াই নদীতে সাঁতার দিয়ে গোসল করি। গড়াই তখনও প্রাণময়, সেখানে আমি ইলিশ ধরতেও দেখেছি।

শীতে আমাদের স্কুলের মাঠে যাত্রা হতো রুপালি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে। বন্ধু উমর সেখানে শিশু চরিত্রে অভিনয় করত। আব্বা সৌজন্য প্রবেশপত্র পেতেন, আর সেটার ব্যবহার করতাম আমি।

লাকি খান নামে একজন নৃত্যশিল্পী ঢাকা থেকে এসেছিলেন একবার। তার নাচ দেখলাম কাছ থেকে। ছোট কাপড়ে সেই প্রথম নারীদেহের চড়াই-উতরাই দেখা। একদিকে চুম্বনের প্রতি আগ্রহ, অন্যদিকে নারীদেহের পৃথক বৈশিষ্ট্য আমাকে বড় করে তুলছিল। আমার কথা বলা কমল, কল্পনা করা বাড়ল।

কৌতূহলের মাত্রা যাই হোক, সত্যি বলছি, নিজে চুম্বন করব বা আমাকে কেউ চুম্বন করবে এমন কোনো ভাবনা তখনও মনে আসেনি। তবে প্রশ্ন এসেছে। বাৎস্যায়ন, নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের বর্ণিত চুম্বনের সঙ্গে মর্নিং শোর সিনেমায় দেখা সাদা মেম-সাহেবদের চুম্বনে মিল নেই কেন? এদের চুম্বনে ওই কম্পন, আবেশ বা হৃদয় পান করার মেজাজটা নেই কেন?

ফলে নিজেদের দেশের দুটি মানুষ চুম্বন করছেন এটা দেখার, দেখে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট করে বোঝার ইচ্ছাটা যেন আরও জোরালো হলো।

এই সময়ে আশার আলো নিয়ে এলো ‘অনন্ত প্রেম’। চিত্রালীতে পড়লাম ‘অনন্ত প্রেম’ নামে একটা সিনেমা আসছে যেখানে রাজ্জাক-ববিতা চুম্বন করবে। কুমারখালীর ‘জলি’ সিনেমা হলে আসার আগেই নতুন সিনেমাগুলো প্রথমে আসত কুষ্টিয়ার বনানী, রক্সি বা কেয়া হলে। আমি অপেক্ষায়। এই সিনেমা আমাকে দেখতেই হবে।

সিনেমা এলো রক্সি হলে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে দেখলাম। কিন্তু চুমু তো নেই! তাহলে?

‘অনন্ত প্রেম’-এ চুম্বন না দেখতে পেয়ে ভাঙা মনের রথে চেপে রক্সি হল থেকে বেরিয়ে বড় বাজার রেলগেট পার হয়ে রবীন্দ্রনাথের টেগর লজ ডানে রেখে কুষ্টিয়া স্টেশনে এসে ট্রেনে চেপে কুমারখালী ফিরলাম।

ছবিটা সুন্দর, ভীষণ রোমান্টিক। কিন্তু রাজ্জাক আর ববিতার চুম্বন দৃশ্য দেখা হলো না বলে আমার কেবলই মনে হচ্ছিল টাকাই নষ্ট। এতগুলো টাকা জোগাড় করতে হলে আমাকে এরপর বহুবার বাসার বাজার করতে যেতে হবে।

পরে চিত্রালীতেই পড়েছিলাম, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য ববিতার পারিশ্রমিক ছিল ৫০ হাজার টাকা। পরিচালক রাজ্জাক ছবির শেষ দৃশ্যে চুম্বন যুক্ত করায় ববিতা আরও ২০ হাজার টাকা বেশি নিয়েছিলেন। দৃশ্যটি সেন্সরে ছাড়ও পেয়েছিল, কিন্তু রাজ্জাক ছবিটি বাজারজাত করার আগে চুম্বনটি বাদ দেন।

ববিতা তখন ১৭ বছরের অবিবাহিতা। তিনি তার বিয়ের ব্যাপারে উৎকণ্ঠিত ছিলেন। হয়তো সে কারণেই রাজ্জাক দৃশ্যটি আর রাখেননি।

কবিতার কোনো চল ছিল না বাড়িতে। আব্বা মাঝে মাঝে স্মৃতি থেকে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের কবিতা আওড়াতেন। ক্লাসের বইয়ে গদ্যের সঙ্গে পদ্যও থাকত। তবে কেবল কবিতা নিয়েই আলাদা বই হতে পারে এমন ধারণা ছিল না। এমন সময়ে পাবলিক লাইব্রেরিতে একদিন বুদ্ধদেব বসুর একটা কবিতার বই পেলাম। নাম মনে নেই, কিন্তু মনে আছে একটা কবিতা ছিল এমন-

রুপোলি জল শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছে সমস্ত আকাশ

নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকের উপর সূর্যের চুম্বনে।

কিংবা-


শুধু নয় সুন্দর অপ্সর-যৌবন

কম্পিত অধরের চম্পক-চুম্বন।

তাহলে মানব-মানবী নয় কেবল, সূর্যও চুমু খায় রুপোলি জলকে? আমার আরেক সর্বনাশ ঘটল এই কবিতার বইটি পড়ে। কত কত সুন্দরের বিবরণ! অধরা, অদেখা সব শব্দের খেলা। কিছু বুঝি, বেশির ভাগই বুঝি না।

জীবনে কবিতা এলো। রোদ, আলো, সমুদ্রের উপমা এলো। এখন বুঝি, সেই সময়ে, আজকের যে আমি, তার নির্মাণ ঘটছিল। প্রতিদিন নতুন কিছু যুক্ত হচ্ছিল অনুভবে, কল্পনায়। আমি বড় হয়ে উঠছিলাম সেই চৌদ্দ বছর বয়সে।

লেখক: জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের হিউম্যান রাইটস অফিসার

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ৩

ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে ঘটনার হোতা ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ, তার সহযোগী নারী আরজেসহ আরেকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় ট্রান্সজেন্ডার এক নারীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রোববার রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে ঘটনার হোতা ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ, তার সহযোগী নারী আরজেসহ আরেকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে পরে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানাবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানায় ট্রান্সজেন্ডার নারীর করা মামলায় বলা হয়, তাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সঙ্গে তার মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়া হয়।

মামলায় বলা হয়, ভুক্তভোগী ট্রান্সজেন্ডার নারী একজন মেকআপ আর্টিস্ট। সে সূত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ১০ জানুয়ারি বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি-সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে তার দেখা হয়। ওই যুবক কথার একপর্যায়ে জানান, তার স্ত্রী ওই ট্রান্সজেন্ডার নারীর ভক্ত। স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য তাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এজাহারে ভুক্তভোগী জানান, তিনি ওই যুবকের কথা বিশ্বাস করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে ৫ নম্বর সড়কের এক বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি এক নারী ও আরেকজন পুরুষকে দেখতে পান।

ওই তিনজন ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এতে বাধা দিলে তিনজন তাকে মারধর শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, এই ভিডিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। এ সময় তিনজন নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দেন। তাদের কাছে অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ছিল বলে জানান তিনি।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগীর কাছে থাকা মোবাইল ফোন, সোনার চেইন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে বলা হয়, না দিলে মেরে পূর্বাচলে ফেলে দেয়া হবে।

পরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাবে বলে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে রাত ৮টার দিকে রামপুরা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে ফেলে যায়।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার ওই ব্যক্তির অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অভিযুক্ত নারী। একটি রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কখনও দেখা হয়নি। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।’

কোনো পরিচয় না থাকলে কেন তাকে ফাঁসানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ওই নারী বলেন, ‘আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য এমনটি করতে পারে। আর ওই ট্রান্সজেন্ডার যে মিথ্যাচার করছে, তার সব প্রমাণসহ আমার ফেসবুকে পোস্ট দেব। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও জানাব।

আরও পড়ুন:
নারীর ওপর ১ টাকা বিনিয়োগে ফেরে ৯ টাকা: শিক্ষামন্ত্রী
রিতু, আনাইয়ের পর প্রস্তুত আছেন আরও ৩০ ফুটবলার
নারী দলের আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে কলসিন্দুরকে
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি

শেয়ার করুন