মিয়ানমারে জেড পাথরের খনি ধস, নিখোঁজ অন্তত ৫০

player
মিয়ানমারে জেড পাথরের খনি ধস, নিখোঁজ অন্তত ৫০

মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের হাকান্ত এলাকায় জেড পাথরের খনি ধসে কমপক্ষে ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার ২০২২-এর মার্চ পর্যন্ত খনিতে খননের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই খনিতে অবৈধ উপায়ে খননের কাজ চলত। শ্রমিকরা রাতে কাজ করতেন। দিনে ঘুমাতেন।

মিয়ানমারে খনি ধসে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটির কাচিন রাজ্যের হাকান্ত এলাকায় জেড পাথরের খনি ধসে কমপক্ষে ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৫ জন।

কাচিনের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার ২০২২-এর মার্চ পর্যন্ত খনিতে খননের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই খনিতে অবৈধ উপায়ে খননের কাজ চলত। শ্রমিকরা রাতে কাজ করতেন। দিনে ঘুমাতেন।

সাধারণত অবৈধ খননে জড়িত শ্রমিকরা অধিকাংশই অদক্ষ।

বিশ্বে জেড পাথরের সবচেয়ে বড় উৎস মিয়ানমার। সরকারব্যবস্থায় অস্থিরতার সুযোগে এখানে অবৈধ উপায়ে খননকাজ চলে। অধিকাংশ খনিতেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকায় এবং অসময়ে খননকাজ চালানোয় দুর্ঘটনা হয়। কয়েক দিন আগেও একই এলাকায় অন্য একটি খনিতে দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতে খোলাবাজারে করোনা ভ্যাকসিন

ভারতে খোলাবাজারে করোনা ভ্যাকসিন

ভারতে খোলাবাজারে বিক্রির অনুমোদন দিলেও কোনো ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে না ওইসব ভ্যাকসিন। আপাতত তা হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে কিনতে হবে। প্রতি ডোজের দাম হতে পারে ২৭৫ টাকা।

ভারতে সহজলভ্য হতে চলেছে করোনাভাইসের ভ্যাকসিন। শুধু টিকাকরণ কেন্দ্র নয়, খোলাবাজারেও কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিনের মতো টিকা পাওয়া যাবে। শর্তসাপেক্ষে বাজারে টিকা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তবে সবাই সেই ভ্যাকসিন কিনতে পারবে না।

শর্তের অধীনে, সংস্থাগুলোকে চলমান ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ডেটা জমা দিতে হবে এবং টিকাকরণ কর্মসূচির জন্য নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে ভ্যাকসিনগুলো। টিকাদানের পর প্রতিকূল ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা অব্যাহত থাকবে।

তবে এখনই ভারতে কোনো ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে না ওইসব ভ্যাকসিন। আপাতত তা হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে কিনতে হবে।

এতদিন পর্যন্ত ভারতে কেবল টিকাকরণ কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হতো। সাধারণ মানুষ চাইলেও টিকা কিনতে পারত না। এতদিন পর্যন্ত ভারতে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য এই দুই টিকায় অনুমোদন দিয়েছিল ডিসিজিআই। তবে এবার পূর্ণ অনুমোদন মিলল, যা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর জন্যও স্বস্তির খবর।

বাজারে টিকা বিক্রির অনুমোদন দেয়ার জন্য কোভ্যাক্সিনের উৎপাদক ভারত বায়োটেক ও কোভিশিল্ডের উৎপাদক সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তথ্য দেয়া হয়েছিল ডিসিজিআই-কে। সেই তথ্য খতিয়ে দেখে বাজারে বিক্রির অনুমোদন দেয়া হলো।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর ভ্যাকসিন খোলা বাজারে বিক্রির অনুমোদন চেয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সেরাম ইনস্টিটিউটের অন্যতম কর্তা প্রকাশ কুমার ঝা। এ ছাড়া ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়েছিলেন ডিরেক্টর ভি কৃষ্ণ মোহন। কোভ্যাক্সিনের রসায়ন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে পাওয়া তথ্য সবটাই জমা দেয়া হয়েছিল। সে সব তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিসিজিআই’র বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকরা জানান, এতদিন পর্যন্ত জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য শুধু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। প্রতি ১৫ দিন অন্তর টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতো ডিসিজিআই-কে।

ভারতে এখনও পর্যন্ত কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন মিলিয়ে ১৬৪ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। মোটামুটিভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এই টিকাগুলোর কার্যকারিতা রয়েছে এবং এগুলো নিরাপদ। তাই এবার টিকাগুলো বাজারে বিক্রি নিরাপদ বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের দাম কমতে পারে প্রতি ডোজ়ের দাম হতে পারে ২৭৫ টাকা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত পরিষেবা চার্জ সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হতে পারে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই’র প্রতিবেদন বলছে, করোনার এই দুই ভ্যাকসিনের দাম কমানোর বিষয়টি ডিসিজিআই’র কাছে পাঠানো হয়েছে। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটিকে ইতোমধ্যে দাম নির্ধারণে কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!

কান্দাহারের গাঁজা ক্ষেতে কাজ করছেন আফগান চাষী। ছবি: এএফপি

৫৬ বছর বয়সী ভের্নার জিমারমান সিফার্ম ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি জানান, তালেবানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিরক্ত। অনেকেই চুক্তিটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করছে এবং মিডিয়া এর পিছু ছাড়ছে না।

আফগানিস্তানে গত আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। গত ছয় মাসে দেশটি ছেড়ে পালিয়েছেন অসংখ্য নাগরিক। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে।

অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে তালেবান সরকারও উদ্বিগ্ন। নানাভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে তারা। এমনকি দেশটিতে গাঁজা চাষে বিদেশি বিনিয়োগ পেতেও মরিয়া সরকার।

গত নভেম্বরে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইট বার্তায় জানায়, আফগানিস্তানে গাঁজা প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা স্থাপনের জন্য তারা সিফার্ম নামে একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ৪০ কোটি ইউরোর চুক্তি করেছে।

খবরটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান সিফার্ম। প্রতিষ্ঠানটি দাবি, এ চুক্তির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।

পরে জানা যায়, সিফার্ম ইন্টারন্যাশনাল (ইসিআই) একটি জার্মান গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠান গত ২০ বছর ধরে গাঁজা গাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

৫৬ বছর বয়সী ভের্নার জিমারমান প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইসকে জানান, চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিরক্ত। অনেকেই চুক্তিটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করছে এবং মিডিয়া পিছু ছাড়ছে না।

জিমারমান জানান, তার প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিশ্বের অনেকগুলো দেশের সঙ্গে কাজ করেছে। এসব দেশের মধ্যে আছে লেসুটু, মরক্কো, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, নর্থ মেসিডোনিয়া ও সাইপ্রাস।

সিফার্ম ইন্টারন্যাশনাল গাঁজা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে পারদর্শী। এছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে কীভাবে গাঁজা আইনিভাবে রপ্তানি করা যায় সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি পরামর্শ দেয়। কাজাখস্তানে পাঁচ লাখ ইউরোর একটি কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে সিফার্ম। এর পরই কাজ শুরু হবে আফগানিস্তানে।

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!
কান্দাহারে গাঁজা গাছ পরখ করছেন আফগান চাষী। ছবি: এএফপি

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আফগানিস্তানে ওষুধি গাঁজা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে জিমারমানের। তবে জার্মানির মতো দেশগুলো গাঁজা সেবন বৈধ ঘোষণা করলে তার প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তানে সাধারণ গাঁজা চাষও করবে।

আফগানিস্তানে শত শত বছর ধরে গাঁজা গাছ চাষ হচ্ছে। ১৯৭০ এর দশকে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গাঁজা সেবন নিষিদ্ধ করা হলেও, তালেবান ক্ষমতার আসার আগ পর্যন্ত দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাঁজা সেবনের রীতি ছিল।

জিমারমান বেশ কয়েক বার আফগানিস্তান গেছেন। একজন পেশাদার অ্যাথলিট ও দূরপাল্লার দৌড়বিদ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা জিমারমান ১৯৮৯ সালে কাজাখস্তানের আলমাটিতে তখনকার সোভিয়েত সৈনিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তার সঙ্গে বেশ কিছু আফগান নাগরিকেরও দেখা হয়। ১৯৯১ সালে জিমারমান আফগানিস্তান ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

জিমারমানের দাবি, আফগানিস্তানে তিনি সোভিয়েতবিরোধী গেরিলা নেতা আহমাদ শাহ মাসুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। সোভিয়েত সেনাদের বিতাড়িত করার পর শাহ মাসুদ সামরিক বাহিনী নর্থ অ্যালায়েন্স গঠন করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকারের বিরোধী ছিল এই বাহিনী। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাসুদকে হত্যা করা হয়। তার ছেলে আহমাদ মাসুদ বর্তমান তালেবান প্রতিরোধ শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

জিমারমানের দাবি, আফগানিস্তান সম্বন্ধে তার জানাশোনা অনেক বিস্তৃত। তিনি জানান, বর্তমানে পরামর্শ দেয়ার জন্য আফগানিস্তান থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছেন না। তার প্রতিষ্ঠান তখনই আয় করা শুরু করবে যখন গাঁজা আইনিভাবে রপ্তানি শুরু হবে।

প্রশ্ন উঠছে জার্মান একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন একটি সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করবে যাকে জার্মানির সরকারই স্বীকৃতি দেয়নি! জিমারমান অবশ্য মনে করছেন, জার্মানির উচিত তালেবানদের স্বীকৃতি দেয়া। যে কারণে মূলত তার ভূমিকা হচ্ছে তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সহায়তা দেয়া এবং অদূর ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

জিমারমান বলেন, ‘আমরা তো অপরাধী নই!’

গাঁজা চাষে বিনিয়োগে জার্মান ব্যবসায়ীর সঙ্গে তালেবানের চুক্তি!
গাঁজা ক্ষেতে কাজ করছে আফগান কিশোর। ছবি: এএফপি

তালেবানদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে জিমারমান বলেন, ‘আমি সেগুলো জানি। তবে আফগানিস্তান একক কিছু নয়। অনেকগুলো গোত্র ও পরিবারের সদস্যরা দেশের ইমেজকে বিদেশে প্রভাবিত করছে। আমি পেশাদার ভাবে কাজ করি। আমার কাজ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে। আমার প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি তাদের সমর্থন করি।’

জার্মান এ ব্যবসায়ী জোর দিয়ে বলেছেন তিনি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেন না। আফগানিস্তানে চলমান মানবাধিকার সংকটের বিষয়ে তিনি অনেকটাই নিয়তিবাদী।

জিমারমান বলেন, ‘আফগানিস্তানের চলমান নৈতিকতা ও আদর্শের সঙ্গে আমি যেভাবে মানবতাকে দেখি তার কোনো মিল নেই। তবে আমি একে বদলাতে পারব না। আমি আফগান সরকারকে সমর্থন করি বলে বলছি না, তবে আমার মনে হয় জীবনে আফগানিস্তানে সমতা ফিরবে না।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে একাধিক দেশ ইতোমধ্যে তালেবান সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র আফগানের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। দেশটিতে এখন ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

আপাতত, সিফার্ম ও তালেবানের মধ্যে চুক্তি স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সিফার্ম বলছে, বিনিয়োগ করার আগে তারা নতুন তালেবান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়।

জিমারমান জানান, তিনি আপাতত এ চুক্তি স্থগিতের কথা ভাবছেন। কারণ তিনি ইউরোপিয়ান ড্রাগ কার্টেলগুলোর কাছ থেকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। আফগানিস্তানে জিমারমানের গাঁজার ব্যবসা তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একই ধরনের সতর্ক বার্তা জিমারমান পেয়েছেন কিরগিজস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। কিরগিজস্তানের মন্ত্রী তার বন্ধু। দেশটিতে জিমারমানের একটি বাড়িও রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা অনুমান করা কঠিন। তবে, জিমারমানের দাবি তার মনের শক্তি অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

সরকারি হস্তক্ষেপে কমেছে টুইটার অনুসারী, অভিযোগ রাহুলের

সরকারি হস্তক্ষেপে কমেছে টুইটার অনুসারী, অভিযোগ রাহুলের

টুইটার সিইও পরাগ আগারওয়ালকে চিঠি লিখেছেন রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

রাহুলের অভিযোগ, গত আগস্টে তার অনুসারীর সংখ্যা যখন অমিত শাহকেও ছাড়িয়ে যায়, তখনই টুইটার তার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে দেয়। এর আগে তিনি কৃষক আন্দোলনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টুইট করেন।

গত আগস্টে কোনো কারণ না দেখিয়েই টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর। তার দাবি, ক্ষমতাসীন বিজেপির চাপেই এমন কাজ করেছে টুইটার।

রাহুল গান্ধী টুইটার সিইও পরাগ আগারওয়ালকে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালের প্রথম ৭ মাস তার অনুসারীর সংখ্যা গড়ে ৪ লাখ করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু আগস্টে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট ৮ দিনের জন্য ব্লক করে দিলে তার অনুসারীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। অথচ এই সময় অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুসারী ঠিকই বৃদ্ধি হয়েছে।

চিঠিতে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের টুইটার অ্যাকাউন্টের নমুনা দিয়েছেন।

রাহুলের অভিযোগ, গত আগস্টে তার অনুসারীর সংখ্যা যখন অমিত শাহকেও ছাড়িয়ে যায়, তখনই টুইটার তার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে দেয়। এর আগে তিনি কৃষক আন্দোলনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টুইট করেন।

রাহুলের দাবি, যে ছবি পোস্ট করার কারণে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়, সেই একই ছবি আরও অনেকেই পোস্ট করেছেন। অথচ তাদের কিছুই হয়নি।

তার আরও সংযোজন, ‘আমি আগেও টুইটার ইন্ডিয়ার কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম যে সরকারের তরফে তাদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করা হচ্ছে আমার কণ্ঠস্বর অবরুদ্ধ করার জন্য। বিনা কারণেই আমার অ্যাকাউন্টও কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সরকারি অ্যাকাউন্টসহ একাধিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ছবিই পোস্ট করা হয়েছিল, কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা হয়নি। শুধু আমার অ্যাকাউন্টকেই নিশানা বানানো হয়েছিল। আমি ১০০ কোটি ভারতীয়র হয়ে বলছি, ভারতের চিন্তাধারাকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টায় তুরুপের তাস হবেন না।‘

টুইটারের মুখপাত্রকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, অনেক সময়ই টুইটারে ফলোয়ার্সের সংখ্যা কম-বেশি হয়ে থাকে, কারণ টুইটার স্প্যাম ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন অ্যাকাউন্টগুলোকে আটকাতে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, টুইটারের নীতিভঙ্গের কারণেও প্রতি সপ্তাহেই লক্ষাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে ফলোয়ার্সের সংখ্যা কমে যেতেই পারে।

যদিও কংগ্রেসের তরফে এই ব্যাখ্যা খারিজ করে দেয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধীর ডিজিটাল কমিউনিকেশনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রীবাস্তব জানান, এটা কখনোই সন্তোষজনক ব্যাখ্যা হতে পারে না। টুইটার যে দাবি করছে, তার সঙ্গে অনুসারী কমার গতিবিধির মিল নেই।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

শিমেকার মতো হাজারও নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রে

শিমেকার মতো হাজারও নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রে

হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে ফিরছেন পৌলা হিলস। ছবি: সংগৃহীত

১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২০২০ সালে সর্বনিম্ন ৫ লাখ নিখোঁজের অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর মাঝে ১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৮০ হাজার নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়ে কর্তৃপক্ষের কাছে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, গুম, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে ব্যাপক সোচ্চার দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে দেশটির নাগরিকরাই বছরের পর বছর এ ধরনের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ আছে, অনেক ঘটনারই প্রতিকার পান না আমেরিকানরা।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে ২০২০ সালের ২৫ মে। জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে আটক করার সময় হাঁটু দিয়ে ঘাড় চেপে ধরে তাকে হত্যা করে পুলিশ।

অনলাইনে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশি নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ নামের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই দেশটিতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। স্ট্যাটিসটিকায় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু গত বছরেই পুলিশের গুলিতে দেশটিতে ৮১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দেশটিতে গত ৯ বছরে শুধু পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ৫৮৬ জন। যদিও এই পরিসংখ্যানে ফ্লয়েডের মতো পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের হিসাব রাখা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্রাইম ইনফরমেশন সেন্টারের (এনসিআইসি) তথ্য বলছে, ২০২০ সালেই দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮ জন নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এসেছে।

অবশ্য এফবিআইয়ের ডেটা অনুযায়ী, এর মাঝে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮৭২টি অভিযোগের সুরাহা হয়েছে। তবে অমীমাংসিত থেকে গেছে ২ হাজার ১৪৬টি অভিযোগ।

১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২০২০ সালে সর্বনিম্ন ৫ লাখ নিখোঁজের অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর মাঝে ১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৮০ হাজার নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়ে কর্তৃপক্ষের কাছে।

২০০৮ সালে বড়দিনের কিছু দিন আগে পৌলা হিলের মেয়ে শিমেকা কোসি নিখোঁজ হন। হারিয়ে যাওয়া শিমেকাকে এখনও খুঁজে ফিরছেন তার মা।

দ্য সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের মতো বিষয়ে খুব অল্প ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে তদন্তের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই অর্থে পুলিশি নির্যাতনের বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির ঘটনা ঘটেনি।

২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পুলিশি হত্যাকাণ্ডের ৯৮.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো জবাবদিহি করতে হয়নি।

গত বছর ১১ এপ্রিল জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিচার চলাকালীন বিচারস্থলের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যান ২০ বছর বয়সী আরেক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ডন্ট রাইট। পুলিশের দাবি, ডন্ট গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন।

৬ আগস্ট নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার শহরে পুলিশের গুলিতে মারা যান ২৪ বছর বয়সী সিমরান গর্ডন নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ। গর্ডনের স্বজনের অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজন তথ্য দিয়েছে দ্য জার্নালিস্ট'স রিসোর্স। আমেরিকাভিত্তিক এই জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার আশঙ্কা এক হাজার ভাগের এক ভাগ।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দেশটিতে গুলিতে মারা যান আড়াইগুণ বেশি কৃষ্ণাঙ্গ।

এত ঘটনা ও অভিযোগ, এমনকি পরিসংখ্যানের পরেও নিজ দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হতাশাজনক বলে মনে করছে দেশটির বিভিন্ন সংগঠন।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত ইউক্রেন-রাশিয়া

গৃহযুদ্ধ নিয়ে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত ইউক্রেন-রাশিয়া

ইউক্রেনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ দিমিত্রি কোজাক (বাঁয়ে) এবং রাশিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই মেশকভ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালের পর এই প্রথমবার ইউক্রেন ও রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে।

পূর্ব ইউরোপে উত্তেজনার মাঝেই ইউক্রেনে চলমান গৃহযুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হলো।

দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের কূটনীতিকদের মধ্যস্ততায় প্যারিসে মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিদলের দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা আলোচনার পর দেশ দুটি অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

আলোচনায় ইউক্রেনের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ দিমিত্রি কোজাক এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই মেশকভ।

ফ্রান্স অস্ত্রবিরতি সম্মত হওয়ার ঘটনাকে ‘শুভ সংকেত’ হিসেবে দেখছে।

২০১৯ সালের পর এই প্রথমবার ইউক্রেন ও রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে।

এই ৪টি দেশ ২০১৪ সাল থেকেই পূর্ব ইউক্রেনে রুশ অধ্যুষিত অঞ্চলে শান্তি আনায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর একজন সহযোগী ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের হুমকির বিষয়ে এই সম্মতিতে আসেনি। এটি ২০১৪ সাল থেকে পূর্ব ইউরোপে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনের সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে প্রায় ১ লাখ সেনা মোতায়েন করে। ফলে কিয়েভ আশঙ্কা প্রকাশ করে, দেশটি যে কোনো সময় আগ্রাসন চালাতে পারে। এই বিষয়ে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার দফায় দফায় আলোচনাতেও কোনো মীমাংসা হচ্ছে না।

ন্যাটোর দাবি, রাশিয়াকে অবশ্যই সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। ওদিকে রাশিয়াও পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর প্রভাব কমিয়ে আনার দাবি করেছে। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

কানাডায় এক বাড়িতে ৪ মরদেহ

কানাডায় এক বাড়িতে ৪ মরদেহ

ঘটনাটি তদন্তে এরই মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিমকে (আইএইচআইটি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার কাছাকাছি সময়ে এসব ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার শিকার ব্যক্তিরা একে অপরকে চিনতেন।

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে অভিবাসী অধ্যুষিত ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের রিচমন্ড আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে ৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

কানাডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের হোমিসাইড ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

রিচমন্ড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ভ্যানকুভারের দক্ষিণের গার্ডেন সিটির ৪৫০০-ব্লক থেকে ফোন আসে। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হলে দেখতে পায়, স্থানীয়রা একটি বাড়ির ভেতরে ৪টি মরদেহ পেয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার কাছাকাছি সময়ে এসব ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার শিকার ব্যক্তিরা একে অপরকে চিনতেন।

ঘটনাটি তদন্তে এরই মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিমকে (আইএইচআইটি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে বাড়ির সামনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় বিস্তারিত এখনও জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি) এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখছি। আশা করছি, আমরা কমিউনিটিকে শিগগিরই জবাব দিতে পারব।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন

চাঁদে আছড়ে পড়ছে ইলন মাস্কের রকেট

চাঁদে আছড়ে পড়ছে ইলন মাস্কের রকেট

এটিই হতে যাচ্ছে মানব ইতিহাসে প্রথম কোনো রকেট চাঁদে গিয়ে বিধ্বস্ত হবার ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতিকে মাল্টিপ্ল্যানেটারি স্পিসিসে পরিণত করার ইলন মাস্কের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দূরের গ্রহের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্যাটেলাইট পৌঁছে দেয়াই ছিল মিশনের উদ্দেশ্য।

মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে চান স্পেসএক্সের সিইও ও ইনফ্লয়েনশিয়াল বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক। এ কথা সবারই জানা। শুধু তা-ই নয়, নাসার চাঁদে যাওয়ার মিশন প্রজেক্ট আর্টিমেসের সঙ্গেও যুক্ত স্পেসএক্স।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার আর্টিমেসের আগেই ইলন মাস্কের রকেট পৌঁছে যাচ্ছে চাঁদে।

যদিও এটি কোনো চন্দ্রাভিযান নয়। ২০১৫ সালে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট মহাকাশে গমন করে। তার অভিযান ছিল পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বেরও ৪ গুণ বেশি দূরে। মানবজাতিকে মাল্টিপ্ল্যানেটারি স্পিসিসে পরিণত করার ইলন মাস্কের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দূরের গ্রহের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্যাটেলাইট পৌঁছে দেয়াই ছিল মিশনের উদ্দেশ্য।

কিন্তু মিশন শেষ করার পর পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে রকেটটি আর পৃথিবীতে ফেরত আসতে পারেনি। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বলয়ে আটকে এটি মহাকাশেই অবস্থান করতে থাকে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডয়েল বলেছেন, এটিই হতে যাচ্ছে মানব ইতিহাসে প্রথম কোনো রকেট চাঁদে গিয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা। যদিও মহাকাশ বিজ্ঞানে এর প্রভাব সামান্য।

জোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী ৪ মার্চ চাঁদে আছড়ে পড়বে মহাকাশ যানটি।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫
এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

শেয়ার করুন