আমেরিকান শহরের নেতৃত্ব নিলেন মুসলিমরা

player
আমেরিকান শহরের নেতৃত্ব নিলেন মুসলিমরা

হ্যামট্র্যামক শহরে ধীরে ধীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠছেন মুসলিমরা। ছবি: সিএনএন

মাত্র দুই বর্গকিলোমিটারের এই শহরটি ঘরবাড়ি আর কলকারখানায় ঠাসা। মিশিগানের সবচেয়ে বড় শহর ডেট্রয়েট থেকে শহরটির দূরত্ব খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত হ্যামট্র্যামক শহরটিতে অসংখ্য বাংলাদেশি বসবাস করেন। তবে কয়েক দশক ধরে এ শহরটিকে অনেকে ‘ছোট্ট ওয়ারশ’ বলেও ডাকেন।

পোল্যান্ডের রাজধানীর নামে এমন নামকরণের কারণ হলো- একসময় এখানে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলেন পোলিশরা। শহরজুড়েই তাই পোলিশ লোক উপাদান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

সিএনএন জানিয়েছে, গত ৯৯ বছরে হ্যামট্র্যামক শহরে যত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সবাই ছিলেন পোলিশ। কিন্তু তাদের এমন আধিপত্য নতুন বছরের শুরুতেই শেষ হতে চলেছে।

পোলিশদের বিদায় করে হ্যামট্র্যামক শহরের নতুন শাসক দল হবে এখন মুসলিমরা। কারণ সম্প্রতি শহরটির নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আমের গালিব নামে এক মুসলিম ব্যক্তি। আগামী ২ জানুয়ারি তার নেতৃত্বেই শহরটির সরকারব্যবস্থায় যুক্ত হবেন সব মুসলিম সদস্য।

এর মধ্য দিয়ে হ্যামট্র্যামকই হতে যাচ্ছে আমেরিকার প্রথম শহর, যার সরকারব্যবস্থা পরিচালিত হবে শুধু মুসলিমদের দ্বারা।

শহরটির নতুন নির্বাচিত মেয়র আমের গালিব একজন ইয়েমেনি। খুব কম বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখেছিলেন। সে সময় ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে তার বেগ পেতে হতো। বর্তমানে ৪২ বছর বয়সী এই যুবক চিকিৎসক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন।

মাত্র দুই বর্গকিলোমিটারের এই শহরটি ঘরবাড়ি আর কলকারখানায় ঠাসা। মিশিগানের সবচেয়ে বড় শহর ডেট্রয়েট থেকে শহরটির দূরত্ব খুবই কম। এক সময়ের জাঁকজমকপূর্ণ এই শহর এখন প্রায় নিস্তেজ। শহরটির অসংখ্য কারখানা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

শহরটিতে যেসব পোলিশ থাকতেন, গত দুই দশকে তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বেশির ভাগ সদস্যই অন্যত্র, বিশেষ করে ডেট্রয়েটে গিয়ে বসবাস করছেন।

বর্তমানে হ্যামট্র্যামক শহরে বাংলাদেশি এবং ইয়েমেনিদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফলে এই শহরে এখন মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। শহরটিকে নতুন করে প্রাণচঞ্চল করে তুলছেন তারাই।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে মন্তব্যে জার্মান নৌ প্রধানের পদত্যাগ

ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে মন্তব্যে জার্মান নৌ প্রধানের পদত্যাগ

জার্মান নৌ প্রধান কে আচিন শোনবাখ। ছবি: বিবিসি

পদত্যাগ প্রসঙ্গে শনিবার শোয়েনবাখ বলেন, ‘নিজের বক্তব্য নিয়ে আরও ক্ষতি এড়ানোর জন্য আমি পদত্যাগ করছি। এটি শিগগিরই কার্যকর হবে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন সম্পর্ক ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে পদত্যাগ করলেন জার্মান নৌ সেনা প্রধান কে আচিন শোনবাখ।

বিবিসি জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি আলোচনা সভায় শোনবাখ দাবি করেন, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করবে এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, ‘সর্ব প্রেসিডেন্ট পুতিন চেয়েছিলেন সম্মান।’

শোনবাখের মতে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনাই নেই রাশিয়ার। দেশটি চায় না ইউক্রেন ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকুক। আর পুতিন মূলত নিজ দেশের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো সেনাদের অনুশীলনের বিরোধিতা করছেন।

আর এই ব্যপারটিকেই কি-না ইউক্রেনে মস্কোপন্থী সরকার গঠন করতে চাইছেন পুতিন, এমন প্রচারণা চালাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

শোনবাখ আরও দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া ফিরে পাওয়ার আর কোনো আশাই নেই।

তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন আসলে একটু সম্মান চান। আমিও মনে করি তিনি সম্মান পাওয়ার যোগ্য।’

রাশিয়া ও ইউক্রেন নিয়ে শোনবাখের এসব মন্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় এল তার পদত্যাগের খবরও।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে শনিবার শোয়েনবাখ বলেন, ‘নিজের বক্তব্য নিয়ে আরও ক্ষতি এড়ানোর জন্য আমি পদত্যাগ করছি। এটি শিগগিরই কার্যকর হবে।’

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

আবার আইএসের সশস্ত্র হামলা, নিহত ১২০

আবার আইএসের সশস্ত্র হামলা, নিহত ১২০

সিরিয়ায় ঘোয়রান কারাগারে কুর্দি বাহিনী-আইএসের চলমান সহিংসতায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন। ছবি: এপি

সিরিয়ার হাসাকেহ শহরে কুর্দি পরিচালিত ঘোয়রান কারাগারের ভেতর ও বাইরে চলা সহিংসতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পর্যবেক্ষণকারী এই সংগঠন জানিয়েছে, আইএসের সশস্ত্র জঙ্গিরা ঘোয়রান কারাগারে তাদের বন্দি সদস্যদের মুক্ত করার পাশাপাশি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমে কারা ফটকে গাড়িবোমা হামলা চালায়। এ সময় অনেক আইএস বন্দি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে জঙ্গিরা কারাগারের অস্ত্রাগারও দখলের চেষ্টা করে।

প্রায় তিন বছর পর ফের সিরিয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা। কারাগারে আইএসের হামলাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের সঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকেহ শহরে।

কুর্দি বাহিনী-আইএসের চলমান সহিংসতায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ আইএস সদস্য ও ৩৯ কুর্দি যোদ্ধা রয়েছে। সাত বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, কারারক্ষীরাও রয়েছেন নিহত ব্যক্তিদের তালিকায়।
দেশটির হাসাকেহ শহরে কুর্দি পরিচালিত ঘোয়রান কারাগারের ভেতর ও বাইরে চলা সহিংসতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পর্যবেক্ষণকারী এই সংগঠন জানিয়েছে, আইএসের সশস্ত্র জঙ্গিরা ঘোয়রান কারাগারে তাদের বন্দি সদস্যদের মুক্ত করার পাশাপাশি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমে কারা ফটকে গাড়িবোমা হামলা চালায়। এ সময় অনেক আইএস বন্দি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে জঙ্গিরা কারাগারের অস্ত্রাগারও দখলের চেষ্টা করে।

কারাগারে শতাধিক আইএস সদস্যের বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনী (এসডিএফ) জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত ১০৪ বন্দিকে আটক করা হয়েছে।

কুর্দি ও আইএসের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে থেমে চলছে।

কারাগারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও আশপাশের এলাকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের হটানোর চেষ্টা করছে কুর্দি বাহিনী।

আইএসের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম আমাক জানিয়েছে, আইএস সদস্যরা ঘোয়রান কারাগারের একটি অস্ত্রাগার দখলের পর দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলার মধ্য দিয়ে ওই অভিযান শুরু করে। এই সফল অভিযানে তারা তাদের কয়েক শ সদস্যকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: সংগৃহীত

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিজের বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

স্থানীয় সময় রোববার সাংবাদিকদের আরডার্ন এ কথা জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

দেশজুড়ে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় নিজের বিয়ে নিয়ে কথা বলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

দীর্ঘদিনের সঙ্গী টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। তবে বিয়ের তারিখ বা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও জানা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকতা সারবেন তারা। তবে এর মধ্যেই নতুন বিধিনিষেধে পিছিয়ে গেল জেসিন্ডা-গেফোর্ডের বিয়ে।

সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে বাতিলের ঘোষণায় কেমন অনুভব করছেন, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘জীবন এমনই।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে সাহস করে বলতে হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার বাসিন্দা যাদের জীবনে মহামারি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে তাদের থেকে আমি আলাদা নই। এই প্রভাবের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, কেউ যখন গুরুতর অসুস্থ হন, তখন প্রিয়জনের সাথে থাকতে পারেন না।’

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘এর বেদনা আমার অন্য যেকোনো দুঃখজনক ঘটনাকে ছাড়িয়ে যাবে।’

ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর পুরো নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ স্তরের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে সম্প্রতি। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতি না থাকা এবং দোকান ও গণপরিবহনে মাস্ক পরা।

২০২০ সালের মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ড অন্য দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে। মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৫ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের ‘সাব ভ্যারিয়েন্ট’ ভারতে

ওমিক্রনের ‘সাব ভ্যারিয়েন্ট’ ভারতে

ভারতে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। ঝুঁকি বাড়িয়েছে ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন।

ভারতে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে। একাধিক বড় শহরে প্রভাব ফেলছে এই ধরন। এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রনের সাব ভ্যারিয়েন্ট বিএ.২।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভ্যারিয়েন্ট) ওমিক্রনে বিপর্যস্ত ভারত; এমন অবস্থাতেই দেশটিতে এবার শনাক্ত হলো ওমিক্রনের একটি উপধরন (সাব ভ্যারিয়েন্ট)।

‘ইন্ডিয়ান সার্স-কভ-২ জেনেটিকস কনসোর্টিয়াম’ (আইএনএসএসিওজি) )-এর সর্বশেষ বুলেটিনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে। একাধিক বড় শহরে প্রভাব ফেলছে এই ধরন। এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রনের উপধরন বিএ.২।

কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে ওমিক্রনের এই উপধরন, তা জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

আইএনএসএসিওজি প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিএ.২ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। ওমিক্রনে আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই এখনও পর্যন্ত লক্ষণ নেই বা মৃদু লক্ষণ রয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং আইসিইউতে রাখার মতো পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনা সংক্রমণের জিনোম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থাটি জানিয়েছ, বর্তমানে বিশ্বের ৪০টি দেশে মোট ৮ হাজার ৪০টি ওমিক্রনের বিএ.২ রূপ ধরা পড়েছে। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ফিলিপাইনে। ডেনমার্কেও ৬৪১১ জিনোম সিকোয়েন্সের মধ্যে অধিকাংশই বিএ.২ উপ-ধরন বলে জানা গেছে।

ভারতেও ৫৩০টি নমুনায় ওমিক্রনের এই উপ-ধরন ধরা পড়েছে। এরপরই রয়েছে সুইডেন, সেখানে ১৮১টি নমুনায় এই নতুন উপ-ধরন ধরা পড়েছে। সিঙ্গাপুরে ১২৭টি নমুনায় ওমিক্রন বিএ.২ ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

খাদের কিনারে পাহাড়ির রাস্তায় ঘুরছে গাড়ি। ভিডিও থেকে নেয়া ছবি।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

পাহাড়ের ওপর ছোট্ট একটু রাস্তা। পাশেই বড় খাদ। মানুষ হাঁটলেও যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। সেখানে কি না একটি বড় গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলা হলো!

সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ভাইরাল হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা নিয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এক টুইটার ব্যবহারকারী এটি শেয়ারের পর তা ভাইরাল হয়েছে।

দক্ষ চালক না হলে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো যে কতটা কঠিন, তা বহু চালক হাড়ে হাড়ে টের পান। সাহস তো বটেই, তার সঙ্গে দক্ষতা জুড়ে গেলে অনেক কঠিন চড়াই-উতরাইও সহজ মনে হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এই চালককেও তা মনে করে প্রশংসা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

টুইটারে অনেকেই বলেছেন, একটু ভুল হলেই জীবন শেষ হয়ে যেতে পারত চালকের। একদিকে পাহাড়ের ঢাল, অন্যদিকে কয়েক শ ফুট গভীর খাদ। তার মাঝে পাঁচ ফুটের একটি রাস্তা। আর সেই রাস্তায় যেভাবে গাড়ি ঘোরালেন চালক, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টির দিনে পথচারীরা। ছবি: এএফপি

শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। শীতকালে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এত বৃষ্টিপাত গত ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সারা দিনে দিল্লিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

১৯৮৯ সালে দিল্লিতে জানুয়ারি মাসে ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

সফদরজং পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, তারা সকাল ৮টার আগে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছিল।

দেশটির আবহাওয়া অফিস জানায়, দিল্লির মতো পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং উত্তর রাজস্থানেও রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

এমন অবস্থার মধ্যেও দিল্লির বাতাসের মান খুব খারাপ বলে জানানো হয়েছে। বাতাসের সূচকে শনিবার দিল্লির স্কোর ৩১৬, যা ‘ভেরি পুওর’ ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ ভারতীয়

শেয়ার করুন