মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯

player
মিয়ানমারে হেলিকপ্টার হামলায় নিহত ৯

মিয়ানমারের সামরিক সরকার অভ্যুত্থান দমনে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর এই বর্বরোচিত হামলায় পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রায় ছয় হাজার অধিবাসীর এই গ্রামকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন সেনারা।

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে বিমান হামলার পর অন্তত ৯ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। নিহতদের অনেকে বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে রয়েছে দুই শিশু।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ-তে মঙ্গলবার প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ম্যাগওয়ে অঞ্চলের গাংগ শহরের উপকণ্ঠে নান খার গ্রামে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহগুলো দেখতে পান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,নিহতদের মধ্যে দুজন অভ্যুত্থানবিরোধী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য, বাকি সাতজন গ্রামবাসী।

এএফপিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর এই বর্বরোচিত হামলায় পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেনারা প্রায় ৬ হাজার অধিবাসীর এই গ্রামে হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন।

তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সরকারের নির্দেশে কমপক্ষে তিনটি হেলিকপ্টার থেকে গ্রামটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে অভ্যুত্থানবিরোধী মিলিশিয়াদের এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, অভ্যুত্থান দমনে একটি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনী নির্যাতন চালিয়ে আসছে এমন অভিযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত একটি মামলাও বিচারাধীন আছে। ঠিক এমন সময় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এবার বেসামরিক লোকদের ওপর গণহত্যা চালানোর বিষয়টি উঠে আসে সংবাদ সংস্থা বিবিসির এক অনুসন্ধানে।

গত ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চাক্ষুষ সাক্ষী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সেনারা শুরুতে গ্রামবাসীদের ঘিরে ধরে। এরপর যাদের হত্যা করা হবে, তাদের সবার থেকে আলাদা করা হয়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডে শামিল অনেক সেনাই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গত ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে।

এর পর থেকেই সে দেশের বেসামরিক লোকজন সেনাশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক লোকজন সশস্ত্র প্রতিরোধও গড়ে তুলেছেন। এর পর অভ্যুত্থান প্রতিরোধের নামে বিমান হামলাসহ সশস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে সামরিক সরকার।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, মৃত ৭

মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, মৃত ৭

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৩ টি গাড়ি ও ৭ টি ওয়াটার জেটি আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাই শহরের মেয়র কিশোরি পেডনেকার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আহত ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের মুম্বাইয়ে গান্ধী হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭ টায় ২০ তলা ভবনের ১৮ তলায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুম্বাই শহরের মেয়র কিশোরি পেডনেকার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আহত ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগুন ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রনে এসেছে। তবে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার পরিমাণ ব্যাপক। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৩ টি গাড়ি ও ৭ টি ওয়াটার জেটি আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত ৭ জনের ৫ জন নায়ের হাসপাতালে, ১ জন কাসটুরবা হাসপাতালে এবং ১ জন মারা গেছেন ভাটিয়া হাসপাতালে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

দিল্লিতে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

দিল্লিতে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ওই ব্যক্তির নাম রাজভর গুপ্তা। তার বয়স ৫০। তিনি উত্তর প্রদেশের নয়দা শহরের বাসিন্দা। আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ জানা যায়নি।

দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ২টার দিকে আদালতের নতুন ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম রাজভর গুপ্তা। তার বয়স ৫০। তিনি উত্তর প্রদেশের নয়দা শহরের বাসিন্দা। আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ জানা যায়নি।

এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। লোক নায়েক জয় প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে তিনি ভর্তি আছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল। কেবল চুল এবং কাপড় পুড়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

অপহরণের শিকার মিরাম তারান। ছবি: সংগৃহী

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত থেকে চীনের সেনারা এক কিশোরকে আটক করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য তাপির গাও।

প্রদেশটির আপার সিয়াং জেলার লুংটা যোর এলাকা থেকে মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অপহরণ করা হয়।

টুইটারে পোস্ট দিয়ে ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে সংসদ সদস্য তাপির গাও জানান, অপহৃত মিরাম তারানের বন্ধু জনি ইয়ায়িং কোনোভাবে চীনা বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বন্ধুর অপহৃত হওয়ার বিষয়টি তিনিই জানান স্থানীয় প্রশাসনকে।

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

প্রতিরক্ষা সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে হটলাইনে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল। একজন ভারতীয় পথ হারিয়ে ফেলেছেন বলে তাদের জানানো হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী তাকে খুঁজে বের করতে এবং ফিরিয়ে দিতে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

অরুণাচলের (পূর্ব) লোকসভা সংসদ সদস্য তাপির গাও বলেন, ‘তারান ও তার বন্ধু জনি শিকার করতে গিয়ে পথ হারিয়ে চীনা সৈন্যদের কবলে পড়েন। তবে ইয়াইয়িং পালিয়ে এসে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে টুইটারে তাপির গাও বলেছেন, ‘ভারত সরকারের সব সংস্থাকে ওই কিশোরের দ্রুত মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: এএফপি

২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এই বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি। সতর্কের পরও অনড় থাকায় ২০২০ সালে আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক।

ধর্ম অবমাননার দায়ে পাকিস্তানে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদালত বুধবার এ রায় দেয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর নাম আনিকা আতিক। ২০২০ সালে ২৬ বছরের আনিকার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছিল।

ভারতের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফার্স্টপোস্টের খবরে বলা হয়েছে, আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক হাসনাত নামে এক ব্যক্তি। তারা একসময় বন্ধু ছিলেন।

বুধবার রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এবং সাইবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

ফার্স্টপোস্ট বলছে, ২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এ বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি।

এসবে হতাশ হন ফারুক। তিনি আতিকাকে এসব বার্তা মুছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আতিকা। বাধ্য হয়ে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) সাইবার ইউনিটের কাছে অভিযোগ করেন ফারুক।

এতে বলা হয়, ইচ্ছাকৃত ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অপমানিত করেছেন আতিকা। এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে।

পাকিস্তানে ইসলাম অবমাননার আইন কঠোর। সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হক আশির দশকে এই আইন বাস্তবায়ন করেন।

গত ডিসেম্বরে একই ধরনের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিককে বেদম পেটানোর পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

লাহোরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

পাকিস্তানের লাহোরের একটি ব্যস্ত মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।

লাহোরি গেট এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাহোর পুলিশের মুখপাত্র নায়াব হাইদার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বোমাটি আগে থেকে পোঁতা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

লাহোরের মায়ো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্ফোরণে দুজন মারা গেছেন। আহত ২৬ জন চিকিৎসাধীন।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

ইসলামাবাদে গত সোমবার একটি তল্লাশি চৌকিতে গুলি করে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এক বন্দুকধারী। পরদিন এর দায় স্বীকার করে টিটিপি। ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এটা কেবল শুরু।

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল টিটিপির। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসে টিটিপি।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

গত বছর আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাগুলো নতুন সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়। ফলে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

এবার দেশটির ক্রম অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ জানিয়েছে, এ প্রকল্পগুলো আফগান জনগণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পগুলোর ব্যয় ২৬৮.৩ মিলিয়ন ইউরো এবং আফগানিস্তানে কাজ করে যাওয়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর ও আইওমের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনার জুত্তা ইউরপিলাইনেন বলেন, ‘বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।‘

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আফগানিস্তানকে সর্বমোট ৭০৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এমিলি হর্ন জানিয়েছিলেন, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যারা আফগানিস্তানে ও আফগান শরণার্থীদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও দরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুত ৭০৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবে।

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্যাভাব ও মানবিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, দেশটির অর্ধেক মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ যারা পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে, তাদের সহায়তার জন্যও ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবানের একজন স্থানীয় কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী দেশটির পূর্ব কোনার প্রদেশের নারাং জেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এমনটাই জানিয়েছে নারাং জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গেছে। এ ছাড়া ৪ জন সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে গত আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার সময়েই বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। দেশটিতে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

তবে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত বিরোধের থেকে হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের গণহত্যা উন্মোচিত
থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার ফিরল ৬ শতাধিক শরণার্থী
মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

শেয়ার করুন