করাচিতে হাবিব ব্যাংকে বিস্ফোরণ, নিহত ১৪

player
করাচিতে হাবিব ব্যাংকে বিস্ফোরণ, নিহত ১৪

বিস্ফোরণে ধসে গেছে করাচির হাবিব ব্যাংক। ছবি: বিবিসি

পুলিশ কর্মকর্তা সর্ফরাজ নওয়াজ বলেন, ‘আমাদের বিস্ফোরক টিম বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ভবনটি একটি নালার ওপর তৈরি হয়েছিল। গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।’

পাকিস্তানের করাচিতে হাবিব ব্যাংক ভবনে এক বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের নালায় জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাংকটির ভবনে বিস্ফোরণে পর ধ্বংসস্তুপে অনেকেই আটকা পড়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভবন ধসে যাচ্ছে। যানবাহনগুলো নিচে চলে যাচ্ছে। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি।

পুলিশ কর্মকর্তা সর্ফরাজ নওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বিস্ফোরক টিম বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ভবনটি একটি নালার ওপর তৈরি হয়েছিল। গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।’

হাবিব ব্যাংকের এক টুইট বার্তায় দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

আইএনএস রনবীর যুদ্ধজাহাজে মঙ্গলবার বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি:

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়।

ভারতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। শহরের অদূরে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। তিন সেনা মারা গেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেনারা জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। আহতদের নেভাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেসক্লাবের দখল নিয়েছে প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

সংবাদমাধ্যমের ওপর আবারও আগ্রাসন চালাল ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে তারা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন শ্রীনগরে অবস্থিত কাশ্মীর প্রেস ক্লাব দখল করে নিয়েছে।

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

এদিকে সরকারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটি। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্লাবটি বন্ধ করা, কিন্তু এ পদক্ষেপ কাশ্মীরের সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।

কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইশফাক তন্ত্রে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা এ উপত্যকার একমাত্র গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে অনুরণিত সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল।

তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের সাংবাদিকরা শিখা প্রজ্জ্বলিত রাখতে এবং সামনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যথেষ্ট সক্ষম এবং পেশাদার। আমি আবারও বলতে চাই যে কাশ্মীরে সাংবাদিকতা উন্নতি লাভ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।’

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে দেশটি কেন্দ্রের শাসনে চলে যায়। কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে, সরকার সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

গত বছর মে মাসে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন বর্ধিতকরণের আবেদন করে। রেজিস্ট্রার অফ সোসাইটিজ ২৯ ডিসেম্বর তাদের আবেদন মঞ্জুর করে।

তবে ১৪ জানুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়। এর পরদিনই কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে পুলিশ প্রেস ক্লাব ভবনের দখল নেয়।

পরবর্তী সময়ে সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০০-এর বেশি সাংবাদিকের সংগঠন কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং ক্লাবকে দেয়া ভবন ও জমির বরাদ্দও বাতিল করা হয়।

স্থানীয় সংবাদপত্র 'কাশ্মীরওয়ালা'র সম্পাদক ফাহাদ শাহ বলেছেন, ‘সাংবাদিকতা এই অঞ্চলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে সাংবাদিকদের ক্রমাগত তলব এবং আটকে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বাড়িতে ও অফিসেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে কতটা নির্লজ্জভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনগুলোকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে জনগণকে এমন একটি লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য যা সরকার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’

উল্লেখ্য , কাশ্মীরে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষদের গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোকে অকেজো করে দিয়ে সেগুলোকে অস্তিত্বহীন ঘোষণা করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।

কাশ্মীর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্সের অনুসরণে প্রেস ক্লাব হলো সর্বশেষ স্বাধীন সামাজিক সংগঠন, যেখানে আগস্ট ২০১৯ সাল থেকে জোরপূর্বক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেয়া হয়েছিল।

শনিবারের ঘটনার পর এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ভারতের প্রায় সব প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের সংগঠন প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।

শেয়ার করুন

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা  নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমনটাই জানা গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন প্রতিবেদনে।

৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বাইরের কোনো গোষ্ঠী এই সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে। ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে নাশকতার চক্রান্ত করা হচ্ছে। গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, স্থাপনা ও জনসমাবেশে হামলা চালানো।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা ছাড়াও কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে।

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরার পাশাপাশি ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে প্রায় ৫০ হাজার সন্দেহভাজন অপরাধীর তথ্য থাকবে। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

করোনা বিধির কারণে প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানের মোট ৪ হাজার টিকিট বাজারে পাওয়া যাবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ২৪ হাজার জন উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার দীপক যাদব জানিয়েছেন, জঙ্গি নাশকতার সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়তে থাকার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও দিল্লি পুলিশের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। পুলিশকে রাজধানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দীপক যাদব জানিয়েছেন, ‘নয়াদিল্লি এলাকা ও তার আশপাশে বসবাসকারী ভাড়াটে এবং হোটেলগুলোতে থাকা অতিথিদের ওপর বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে।

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা রয়েছে। উড়ন্ত কোনো বস্তু যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করতে পারে, সেই কারণে অ্যান্টি ড্রোন টিমও মোতায়েন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

বাংলা কমিক্সের জনক নারায়ণ দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

ভারতের কিংবদন্তি কার্টুনিস্ট, বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক, বাটুল দ্য গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ মারা গেছেন।

কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম হাসপাতালে মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার ভুগছিলেন। তখন থেকেই এই বর্ষীয়ান শিল্পী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, মঙ্গলবার সকালে আবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সোয়া ১০ নাগাদ তার মৃত্যু হয়।

বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাওড়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

নারায়ণ দেবনাথ তাদের পারিবারিক ব্যবসা গয়নার নকশা বানাতেন ছোট থেকেই। স্কুল শেষে তিনি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তিনি সে সময় তার ডিগ্রি কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে দেব সাহিত্য কুটিরের শুকতারা পত্রিকায় বাংলা কমিক্স সাহিত্য নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে ‘হাঁদা ভোঁদা’ নামে। টানা ৫৩ বছর ধারাবাহিকভাবে চলেছে এই কমিক্স স্ট্রিপ।

‘হাঁদা ভোঁদা’ ছিল সাদা কালো, কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুকতারার পাতায় এলো রঙিন বাংলা কমিক্স স্ট্রিপ ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। একে একে এসেছে নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল এবং অন্য সব বিখ্যাত চরিত্ররা। যারা কয়েক প্রজন্মের বাঙালির জীবনের সঙ্গে মননের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। ২০০৭ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। ২০১৩ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার, ২০১৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি দেয়। ২০২১ সালে শিল্পীকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

তার প্রয়াণে দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার বলেন, ‘তার সৃষ্টির জন্য আপামর বাঙালি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট, বাহাদুর বেড়াল, এদের বাঙালির সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাটুল দি গ্রেট আবাল বৃদ্ধবনিতাকে মানসিকভাবে চাঙা করে দিয়েছিল। নারায়ণ দেবনাথ বাঙালির মনের মণিকোঠায় থেকে যাবেন।’

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২৬

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২৬

আফগানিস্তানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ছবি: সংগৃহীত

দেশটির জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোল্লা জানান সায়েক হতাহতের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্ততপক্ষে ৭০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ আটকে যাওয়া এবং আরও নানাবিধ কারণে আফগানিস্তান ইতিমধ্যে মানবিক বিপর্যয়ে রয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বাঘদিস প্রদেশের মুখপাত্র বাজ মোহাম্মদ সারওয়ারি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কাদিস জেলায় বাড়ির ছাদ ধসে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য মতে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। তবে প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানার দুই ঘণ্টা পরই ৪.৯ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প প্রদেশটিতে আঘাত হানে।

ইউরোপীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য মতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার নিচে।

সারওয়ারি জানিয়েছেন, নিহত ২৬ জনের মধ্যে ৫ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুরো প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে দেশটির মকর জেলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জেলাটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।

আফগানিস্তানের জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোল্লা জানান সায়েক হতাহতের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্ততপক্ষে ৭০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাগদিস প্রদেশটি মূলত পাহাড়ি অঞ্চল। তূর্কমেনিস্তান সীমান্তের কাছের এই প্রদেশটি দেশটির সবচেয়ে পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত এলাকা। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার আগেও বৈদেশিক সাহায্যের খুব কমই এ প্রদেশে ব্যয় হয়েছে।

আফগানিস্তান একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রায়ই সেখানে ভূমিকম্প হচ্ছে। দেশটির অবস্থান হিন্দুকুশ পর্বতমালার কাছাকাছি হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। কারণ পর্বতমালাটি ইউরেশিয়ান এবং ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।

এর আগে ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে ২৮০ জন প্রাণ হারায়। রিখটারস্কেলে সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৫।

শেয়ার করুন

অপর্ণা সেনের নামে এফআইআর বিজেপির

অপর্ণা সেনের নামে এফআইআর বিজেপির

অপর্ণা সেন। ছবি: সংগৃহীত

বিজেপির অভিযোগ, অপর্ণা সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফকে খুনি, ধর্ষক বলে অপমান করেছেন। এ জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ (এফআইআর) দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থানায় এই অভিযোগ করেন বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি কল্যাণ চৌবে। শুধু তাই নয়, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

গত নভেম্বরে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে বিএসএফের কাজের দায়িত্ব বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ধিত এলাকায় বিএসএফের জওয়ানরা প্রবেশ করে কাউকে তল্লাশি, গ্রেপ্তার বা কোন কিছু বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আসাম ও পাঞ্জাবেও বিএসএফের কাজের পরিধি বাড়ানো হয়।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য চিঠি লেখেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়। বিএসএফের কাজের পরিধি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে নামেন অনেকে।

অভিনেত্রী অপর্ণা সেনও প্রতিবাদে সরব হন। কলকাতা প্রেসক্লাবে নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের কাজের পরিধি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন বিএসএফের কাজের পদ্ধতি নিয়েও।

বিজেপির অভিযোগ, অপর্ণা সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফকে খুনি, ধর্ষক বলে অপমান করেছেন। এ জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অসম্মান করার জন্য সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে অপর্ণাকে আইনজীবীর নোটিশ পাঠায় বিজেপি। দুমাস হয়ে গেলেও চিঠির কোনো জবাব দেননি অপর্ণা।

বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে বলেন, ‘বিএসএফ নিয়ে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অপর্ণা সেন তার মন্তব্য প্রত্যাহার করেননি, ক্ষমা চাননি, চিঠির কোনো জবাব দেননি। সেজন্য তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

সীমান্তে ভারতের রাস্তা নিয়ে নেপালের ক্ষোভ

সীমান্তে ভারতের রাস্তা নিয়ে নেপালের ক্ষোভ

ভারত-নেপাল সীমান্তে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্মাণ অবৈধ। ভারতকে কালী নদী এলাকায় রাস্তার একতরফা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

সীমান্তের কাছে রাস্তা নির্মাণের ঘোষণায় ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে নেপাল।

সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের লিপুলেখ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাস্তা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন।

ওই নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রোববার নেপালের পক্ষে বলা হয়েছে, এই নির্মাণ অবৈধ। ভারতকে কালী নদী এলাকায় রাস্তার একতরফা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

নেপাল ওই এলাকাকে নিজের বলে দাবি করে আসছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে বিজেপি আয়োজিত একটি নির্বাচনি সমাবেশে মোদি ঘোষণা দেন, তার সরকার লিপুলেখে নির্মিত রাস্তাটিকে আরও প্রশস্ত করতে চলেছে।

নেপালের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র বাহাদুর কারকি বলেন, ‘লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ কালী নদীর পূর্বের অঞ্চলগুলো নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভারতের উচিত কোনো রাস্তা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ বন্ধ করা।’

তিনি বলেন, ‘নেপাল ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে যেকোনো বিরোধ ঐতিহাসিক নথি, মানচিত্র এবং নথির ভিত্তিতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেতনা অনুযায়ী সমাধান করা উচিত।’

এদিকে শনিবার ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রশ্নে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘ভারত-নেপাল সীমান্তে ভারত সরকারের অবস্থান সুপরিচিত, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্পষ্ট। নেপাল সরকারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।’

কয়েক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়েছে নেপাল। বিতর্কিত বক্তব্যও দেয়া হয়েছে বহুবার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার আমলে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে মনে হলেও আবারও লিপুলেখে রাস্তা সম্প্রসারণের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ নেপাল।

শেয়ার করুন