ফোনালাপে কি নিরসন হবে সৌদি-লেবানন দ্বন্দ্ব

player
ফোনালাপে কি নিরসন হবে সৌদি-লেবানন দ্বন্দ্ব

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ছবি: রয়টার্স

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী কোরদাহি সৌদি জোটের সমালোচনা করলে সৌদিসহ দেশটির আরব মিত্র রাষ্ট্রগুলো গত মাসে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে। লেবাননের ওপর প্রচণ্ড চাপও সৃষ্টি করে সৌদি সরকার। এমন বাস্তবতায় শুক্রবার কোরদাহি পদত্যাগ করেন।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন নিয়ে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদাহির একটি বক্তব্য ঘিরে দ্বন্দ্ব শুরু হয় দুই আরব দেশের।

কোরদাহি বিদ্রোহী হুতিবিরোধী জোটের সমালোচনা করলে সৌদিসহ দেশটির আরব মিত্র রাষ্ট্রগুলো গত মাসে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।

লেবাননের ওপর প্রচণ্ড চাপও সৃষ্টি করে সৌদি সরকার। এমন বাস্তবতায় শুক্রবার কোরদাহি পদত্যাগ করেন। যদিও চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

রিয়াদ-বৈরুত সম্পর্কের এমন তিক্ততার মধ্যে স্থানীয় সময় শনিবার সৌদির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপ করেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি।

যৌথ এ ফোনালাপকে আরব দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন সংকট সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতার সফর শেষে সৌদি আরবে পৌঁছান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সৌদিতে তার সফর শুরুর দিনে ফোনকলটি দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী।

ফোনালাপ শেষে বৈরুত-রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে ফ্রান্স ও সৌদি আরব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

সৌদি ছাড়ার আগে ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ লেবানন নিয়ে মাখোঁ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লেবাননের জনগণকে সমর্থন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটি যাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমগুলো আবার চালু করতে পারে, তা নিশ্চিত করছি।

‘তাই আমরা চাই লেবানন সরকার একটি স্বাভাবিক উপায়ে কাজ করতে সক্ষম হোক এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিলিত হোক এবং দেশের অভ্যন্তরে কার্যকর সংস্কার নিয়ে আসুক।’

সরকারি দলের ব্যর্থতা ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননকে সহায়তা দেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেছেন, লেবাননকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে একসঙ্গে কাজ করবে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।

বৈশ্বিক পরাশক্তি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে সৌদি-লেবানন সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে, তবে এসব কথাবার্তা আশ্বাসই থেকে যাবে নাকি বাস্তবে রূপ নেবে, তা বোঝা যাবে সময় গড়ালেই।

কেন হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে সৌদি

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে আসছে।

হুতিদের বিদ্রোহকে ইরানের ছায়াযুদ্ধ এবং এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে সৌদি।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাচকে না করলেন মিসরীয় সেই শিক্ষিকা

নাচকে না করলেন মিসরীয় সেই শিক্ষিকা

আরব বিশ্বে জনপ্রিয় বেলি ড্যান্স। প্রতীকী ছবি

ইজিপ্ট ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কায়রোর পাশের মনসুরা শহরের একটি স্কুলের আরবি শিক্ষক আয়া ইউসুফ। সেদিন স্কুলের একটি প্রোগ্রাম ছিল। সহকর্মীদের সঙ্গে নীল নদে প্রমোদতরীতে উদযাপনের একপর্যায়ে বেলি ড্যান্স শুরু করেন আয়া। ভিডিওটি ভাইরাল হলে চাকরি হারান তিনি। তালাক দেন স্বামী।

নাচের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মিসরের কায়রোর স্কুলশিক্ষিকা আয়া ইউসুফ। নীল নদে একটি প্রমোদতরীতে সহকর্মীদের সঙ্গে বেলি ড্যান্স করার সময় কেউ একজন গোপনে ডিভিও করে অনলাইনে ছেড়ে দেন। আর এর পর পরই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে আয়ার ওপর।

চলে যায় স্কুলের চাকরিটা। অনুমতি না নিয়ে ড্যান্স করায় স্বামী তাকে তালাক দেন।

খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমালোচনার মুখে চাকরি ফিরিয়ে দেয় মিসরের শিক্ষা বোর্ড।

ইজিপ্ট ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, কায়রোর পাশের মনসুরা শহরের একটি স্কুলের আরবি শিক্ষক আয়া ইউসুফ। সেদিন স্কুলের একটি প্রোগ্রাম ছিল। সহকর্মীদের সঙ্গে নীল নদে প্রমোদতরীতে উদযাপনের একপর্যায়ে বেলি ড্যান্স শুরু করেন আয়া। আশপাশে তখন পুরুষ সহকর্মীদের দেখা গেছে। স্কার্ফ ও লম্বা হাতার পোশাকে মাতিয়ে তুলেছিলেন মহল।

আয়া ভেবেছিলেন ঘটনাটিতে নিজেদের মধ্যেই থাকবে। কিন্তু এক সহকর্মী গোপনে নাচের ভিডিও করেন। এতেই ক্ষান্ত থাকেননি, অনলাইনে সেটি আপলোডও করে দেন।

আরব নেট মাধ্যমে গত সপ্তাহে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে মিসরীয় রক্ষণশীলদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকে বলছেন, এই আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক; অনেকে আবার বলছেন, মিসরে শিক্ষা নিম্নমানের হয়ে গেছে।

এর পর পরই আয়াকে দাকাহলিয়া গভর্নরেটের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেখানে কয়েক বছর ধরে শিক্ষকতা করেছিলেন তিনি।

চাকরি ফিরে পাওয়ার পর আয়া বলেন, ‘এ ঘটনার পর সারা জীবন নাচ না করার প্রতিজ্ঞা করেছি। একবার তো আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলাম।

‘এই একটি ভিডিও আমার জীবন তছনছ করে দিয়েছিল। সেদিন কেউ একজন আমাকে অপদস্ত করতে ডিভিওটি এমনভাবে দৃশ্যায়ন করেন, যেখানে আমাকে খুব বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আমি আসলেই ভুল করেছিলাম। সেদিন অনেক উৎফুল্ল, মিশেছিলাম কিছু অসাধু মানুষের সঙ্গে। তারা আমাকে অপমানিত করেছে। চাকরি হারিয়েছিলাম, নিজের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। আমার অসুস্থ মা আছেন, তার চিকিৎসায় চাকরিটা খুব প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া আমার তিন সন্তান আছে।’

আয়া আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আমাকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আশা করছি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

মিসরে নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, কোনো ভুল করেননি আয়া, সমাজের গোঁড়ামির শিকার হয়েছিলেন তিনি।

ফারাওদের যুগে প্রথম বেলি ড্যান্স দেখা যেত। যদিও জনসমক্ষে বেলি ডান্সের সময় নারীদের তাচ্ছিল্যের চোখে দেখার অভ্যাসটা রয়ে গেছে অনেকেরই।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

সৌদি নারীরা চালাবেন ট্যাক্সি

সৌদি নারীরা চালাবেন ট্যাক্সি

গাড়ি চালাচ্ছেন এক সৌদি নারী। ছবি: এএফপি

আগ্রহীকে অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক হতে হবে। উবার বা কেয়ারিম-এর মতো রাইড অ্যাপগুলোতেও তারা চালক হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।

সৌদি আরবে গাড়ি চালানোর সুযোগ মেলার চার বছরের মাথায় এবার ট্যাক্সি চালানোর অনুমতি পেলেন নারীরা।

রিয়াদ, জেদ্দা, জাজান, আসির, নাজরান, জৌফ, হাইলি এবং তায়িফসহ রাজ্যের ১৮ শহরের ড্রাইভিং স্কুলে আগ্রহীরা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে রাজকীয় ডিক্রি জারির মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ প্রথমবারের মতো নারীদের সাধারণ গাড়ির পাশাপাশি বিমান, ট্রেন এমনকি রেসিং কার চালানোর অনুমতি দেন। দুই বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ জুন থেকে কার্যকর হয় সিদ্ধান্ত।

সৌদি জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ ট্রাফিকের বরাতে গলফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের আবেদন করতে ২০০ সৌদি রিয়াল (৫৩ ডলার) লাগবে।

আগ্রহীকে অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক হতে হবে। উবার বা কেয়ারিম-এর মতো রাইড অ্যাপগুলোতেও তারা চালক হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।

এর আগে, স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলার দেখার অনুমতি দেয়া হয় নারীদের। মূলত সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কট্টর অবস্থান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় আছে রিয়াদ।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

বিনা দোষে তিন বছর কারাবাসের পর মুক্ত সৌদি রাজকন্যা

বিনা দোষে তিন বছর কারাবাসের পর মুক্ত সৌদি রাজকন্যা

সৌদি রাজকন্যা বাসমা বিনতে সৌদ। ছবি: এএফপি

অনেকেই ধারণা করেন, বাসমা বিনতে সৌদ মানবিকতা এবং সংবিধান সংস্কারে সমর্থন জানিয়ে নানা সময়ে জোরালো আওয়াজ তুলেছেন। সে কারণেও তাকে কারাবরণ করতে হতে পারে বলে ধারণা।

তিন বছর জেল খাটার পর মেয়েসহ মুক্ত হয়েছেন সৌদি আরবের এক রাজকন্যা। দেশটির উচ্চ-নিরাপত্তার এক কারাগার থেকে তিনি শনিবার মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সৌদি রাজকন্যা বাসমা বিনতে সৌদকে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়। তিনি এখন চিকিৎসার জন্য সুইজারল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কেন তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিল, কিংবা তার এবং তার মেয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা জানা যায়নি।

তবে অনেকেই ধারণা করেন, বাসমা বিনতে সৌদ মানবিকতা এবং সংবিধান সংস্কারে সমর্থন জানিয়ে নানা সময়ে জোরালো আওয়াজ তুলেছেন। সে কারণেও তাকে কারাবরণ করতে হতে পারে বলে ধারণা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, তার পরিবার ২০২০ সালে জাতিসংঘের কাছে একটি লিখিত বিবৃতিতে জানায়, এটি সম্ভবত ‘অপরাধের স্পষ্টবাদী সমালোচক হওয়ায় অপব্যবহার’ করা হয়েছে।

অন্য সমর্থকরা মনে করেন, তাকে কারাবন্দি করার অন্যতম কারণ ছিল সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাইফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। নাইফকে গৃহবন্দি করা রাখা হয়েছে।

৫৭ বছর বয়সী রাজকন্যা বাসমা তার মুক্তির জন্য সৌদি রাজা সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে গত বছরের এপ্রিলে আবেদন করেন। আবেদনে জানান, তিনি কোনো ভুল কাজ করেননি এবং তার স্বাস্থ্য খুব খারাপ।

অবশ্য ২০১৯ সালে আটকের সময়ও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করা হলেও কী ধরনের অসুস্থার জন্য বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবেন সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

টুইটারে তার মুক্তির খবর জানিয়ে একটি মানবাধিকার সংগঠন জানায়, রাজকন্যা বাসমার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন। তাকে কারাগারে আটকে রাখা অবস্থায় জীবন হুমকিপূর্ণ হয়ে পড়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ায়।

বাসমা সৌদির সাবেক রাজা সৌদের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। সৌদ ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের রাজা হিসেবে দেশটির শাসনভার পরিচালনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

কাতারের ‘ব্যতিক্রমী লাল’ তালিকায় বাংলাদেশ

কাতারের ‘ব্যতিক্রমী লাল’ তালিকায় বাংলাদেশ

পূর্ণ ডোজ টিকাগ্রহণ করেননি এমন কোনও পর্যটক ‘ব্যতিক্রমী লাল’ তালিকায় স্থান পাওয়া দেশ থেকে কাতারে আসতে পারবেন না। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ নেপাল, মিসর, বোতসোয়ানা, লেসোথো, নামিবিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও জিম্বাবুয়েকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ দ্রুত বিস্তারের মাঝেই ভ্রমণ ও প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন বিধি-নিষেধ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। দেশটি এক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের জন্য আরোপিত বিধিনিষেধে ‘ব্যতিক্রমী লাল’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করেছে। যাতে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে বাইরের দেশগুলোকে এতোদিন লাল ও সবুজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে আসছে কাতার। এবার এ দুটির সঙ্গে ‘ব্যতিক্রমী লাল’ নামে আরেকটি তালিকা যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ নেপাল, মিসর, বোতসোয়ানা, লেসোথো, নামিবিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও জিম্বাবুয়েকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই নয় দেশ থেকে কেউ কাতারে এলে তার টিকা নেয়া না থাকলে সাতদিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। এছাড়াও দেশটিতে পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় ষষ্ঠ দিনে আবারও পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। সেই পিসিআর টেস্টের ফল নেগেটিভ এলে তিনি হোম কোয়ারেন্টিন থেকে বের হতে পারবেন।

আর যারা পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও কাতারে আসার ৭২ ঘণ্টা আগে পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। কাতারে এসেও দু’দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশটিতে পৌঁছানোর ৩৬ ঘণ্টা পর পুনরায় পিসিআর টেস্ট করাতে হবে।

তবে পূর্ণ ডোজ টিকাগ্রহণ করেননি এমন কোনও পর্যটক ‘ব্যতিক্রমী লাল’ তালিকায় স্থান পাওয়া দেশ থেকে কাতারে আসতে পারবেন না।

কাতার নতুন তালিকা করার পাশাপাশি বিদ্যমান লাল তালিকায়ও নতুন দেশের নাম যুক্ত করেছে। সর্বশেষ তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে সবুজ তালিকা থেকে সরিয়ে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে লাল তালিকায় স্থান পাওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭টি।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

দুই ওমরাহর মধ্যে ব্যবধান ১০ দিন

দুই ওমরাহর মধ্যে ব্যবধান ১০ দিন

প্রথম ওমরাহ পালনের ১০ দিন পর ইতমারনা বা তাওয়াক্কালনা অ্যাপের মাধ্যমে কেউ দ্বিতীয় ওমরাহর অনুমতি নিতে পারবেন। ছবি: সৌদি গ্যাজেট

চলতি বছর থেকে টিকা নেয়া ১২ বা তার বেশি বয়সী দেশি-বিদেশি হজযাত্রীরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে হজ ও ওমরাহ পালন করতে পারবে। নিবন্ধনে সুরক্ষিত প্রমাণ হলেই মিলবে হজ ও ওমরাহর সুযোগ।

ওমরাহ পালনের নতুন নিয়ম করেছে সৌদি সরকার। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে দুটি ওমরাহর মধ্যে ১০ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে। সব বয়সী হজযাত্রীর জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়, প্রথম ওমরাহ পালনের ১০ দিন পর ইতমারনা বা তাওয়াক্কালনা অ্যাপের (Eatmarna/Tawakkalna) মাধ্যমে দ্বিতীয় ওমরাহর জন্য অনুমতি নেয়া যাবে।

টুইটার অ্যাকাউন্টে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়, চলতি বছর থেকে টিকা নেয়া ১২ বা তার বেশি বয়সী দেশি-বিদেশি হজযাত্রীরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে হজ ও ওমরাহ পালন করতে পারবে। অ্যাপে সুরক্ষিত প্রমাণ হলেই মিলবে হজ ও ওমরাহর সুযোগ।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সতর্ক অবস্থানে সৌদি আরব। নানা ধরনের সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুটি পবিত্র মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে নিশ্চিতভাবে।

এর আগে দুটি ওমরাহর মধ্যে ১৫ দিনের ব্যবধান রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সৌদি সরকার। গত বছরের অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

করোনার ধাক্কা কিছুটা সামলে গত বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে মহানবীর (সা.) রওজা শরিফ পরিদর্শনের অনুমতি মেলে। ওই দিন থেকে মসজিদ আল-হারাম ও মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

সোলেইমানি হত্যায় ট্রাম্প এখনও ইরানের টার্গেট

সোলেইমানি হত্যায় ট্রাম্প এখনও ইরানের টার্গেট

সোলেইমানি হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, `সোলেইমানির হত্যার জন্য দোষী আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পরাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ও অন্যদের ন্যায়বিচার এবং প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।’

দুই বছর আগে ইরাকের বাগদাদে এক আমেরিকান ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার কাসেম সুলেইমানি। আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়।

সোমবার সুলেইমানি হত্যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচার দাবি করেছে ইরান। আর তা না হলে দেশটি যে কোনো মূল্যে ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

রাজধানী তেহরানের সবচেয়ে বড় মসজিদ থেকে দেয়া এক ভাষণে এমন অঙ্গীকারের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

রাইসি বলেন, `সোলেইমানির হত্যার জন্য দোষী আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পরাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ও অন্যদের ন্যায়বিচার এবং প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।’

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোলেইমানি হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানসহ দেশটির সমমনা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর বিভিন্ন মসজিদে হাজার হাজার মানুষ শোক সমাবেশ করেছে।

এ ছাড়া এদিন সকালে ইরাকের বাগদাদে বিমানবন্দরে অবস্থান করা আমেরিকান সৈন্যদের উদ্দেশে গুলি ছুড়েছে দুটি ড্রোন। একটি ছবিতে দেখা গেছে, ড্রোন দুটির ডানার মধ্যে আরবিতে লেখা আছে, ‘সোলেইমানির প্রতিশোধ’।

এ ছাড়া দেশটির শত্রু দেশ হিসেবে গণ্য হওয়া ইসরায়েলের গণমাধ্যমও হ্যাক করা হয় দিনটিতে। হ্যাক হওয়ার পর জেরুজালেম পোস্টের হোমপেজে একটি ছবি দেখা যেতে শুরু করে। ছবিতে দেখা যায়, আংটি পরা একটি আঙুল থেকে ছুটে যাচ্ছে একটি মিসাইল। এ ধরনের একটি আংটি সোলেইমানির আঙুলে শোভা পেত।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন কমান্ডার হলেও তিনি এই বাহিনীর বিশেষ শাখা ‘কুদস’ এর নেতৃত্ব দিতেন। অলিখিতভাবেই তার পদমর্যাদা ছিল দেশটির যেকোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে।

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কুদস বাহিনীটি গড়ে তুলেছিলেন। ইরাক, লেবানন, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে বাহিনীটির গভীর সংযোগ আছে।

তাই ইরানি এই সমরবিদ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক শক্তিতে অনেক বড় একটি আঘাত।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন

মক্কা-মদিনায় আবারও বিধিনিষেধ

মক্কা-মদিনায় আবারও বিধিনিষেধ

প্রতীকী ছবি

সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির দোকানপাট, শপিং সেন্টার এবং রেস্তোরাঁয় যেতে চাইলে সব সৌদি নাগরিক কিংবা সে দেশে বসবাসকারী ও দর্শনার্থীকে কোভিড বুস্টারের প্রমাণ দেখাতে হবে।

করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরন ঠেকাতে মক্কা ও মদিনায় আবার সামাজিক দূরত্বের বিধান আরোপ করেছে সৌদি সরকার।

বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সম্প্রতি এ খবর জানিয়েছে সামা টিভি।

সৌদি সরকার এ দুটি জায়গায় নামাজি ও উমরাহ পালনকারী সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘরের ভেতর ও বাইরে সব জায়গায় মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। এর সঙ্গে মিলিয়ে মক্কা ও মদিনাতেও একই বিধান চালু করা হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির দোকানপাট, শপিং সেন্টার এবং রেস্তোরাঁয় যেতে চাইলে সব সৌদি নাগরিক কিংবা সে দেশে বসবাসকারী ও দর্শনার্থীকে কোভিড বুস্টারের প্রমাণ দেখাতে হবে।

সৌদি আরবে গত মাসে কোভিড-১৯ কেসের সংখ্যা এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে।

গত বুধবার সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭৪৪টি নতুন কেস শনাক্ত করেছে।

গত বছরের আগস্টের পর এটি ছিল সবচেয়ে বেশি করোনার কেস।

মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৫৪ হাজার রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ৮৭৪ জন।

আরও পড়ুন:
মাখোঁকে চড়: কে সেই যুবক

শেয়ার করুন