নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

player
নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

নাগাল্যান্ডে জঙ্গি ভেবে ১২ সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: বিবিসি

শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিল একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

সন্ত্রাস দমন অভিযানে বেরিয়ে ভুলবশত ‘অনুপ্রবেশকারী জঙ্গি’ ভেবে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে ১২ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে। এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নাগাল্যান্ড প্রশাসন।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিও রিও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘ওটিংয়ে গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।’

মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষীরা শাস্তি পাবে বলে জানান তিনি।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

এদিকে গ্রামের লোকজন তাদের পরিজনদের ফিরে আসতে দেরি দেখে খুঁজতে বেরিয়ে দেখে মিনি পিকআপ ভ্যান ভর্তি লাশ। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বাহিনীর তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়।

সেখানে একজন বিএসএফ জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে বলে অসম রাইফেলসের বিবৃতিতে জানানো হয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রোববারের টুইটে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। নিহতদের পরিবার বিচার পাবে।’

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রজাতন্ত্র দিবসে ৭১-এর সমরাস্ত্র দেখালো ভারত

প্রজাতন্ত্র দিবসে ৭১-এর সমরাস্ত্র দেখালো ভারত

মাইগভ নামের পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভারতীয়রা সরাসরি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। ছবি: সংগৃহীত

শুধু পূর্ণ ডোজ দেয়া প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৫ বছরের নিচে একটি ডোজ দেয়ারা প্যারেড অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবে। প্যান্ডেমিকের কারণে এবার বাইরের দেশের কোনো কন্টিনজেন্ট প্যারেডে অংশগ্রহণ করবে না।

আজ ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস। সেই উপলক্ষে রামনাথ কোবিন্দ ২১টি তোপধ্বনির মধ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। রাজধানী দিল্লির রাজপথে হয়েছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ৭৫টি বিমান ও হেলিকপ্টার, দেশটির সেনাবাহিনীর রাজপূত রেজিমেন্ট, আসাম রেজিমেন্ট, জম্মু-কাশ্মীর লাইট রেজিমেন্ট, শিখ লাইট রেজিমেন্ট, আর্মি অর্ডন্যান্স কর্পস এবং প্যারাশুট রেজিমেন্ট ও নৌবাহিনীর চৌকস দল।

এছাড়াও এবারের কুচকাওয়াজে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহার করা সেঞ্চুরিয়ান ট্যাঙ্ক, পিটি-৭৬ ট্যাঙ্ক, ৭৫/২৪ প্যাক হুইটজার এবং ওটি-৬২ টোপাজ সাঁজোয়া যান প্রদর্শন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র সক্রিয় অশ্বারোহী ইউনিট ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্ট আজকের প্যারেডে প্রথম মার্চ করা দল।

এবার, করোনা মহামারী মোকাবেলার ফ্রন্টলাইনের কর্মী, অটোরিকশা চালক, নির্মাণ শ্রমিকরা এ কুচকাওয়াজের বিশেষ অতিথি ছিলেন।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনেক কিছুই ছিল নতুন। প্রথমবারের মত ফ্লাইপাস্টে অংশ নেয় বিমানবাহিনীর ৭৫ টি যুদ্ধবিমান। এদিন আকাশে ওড়ে রাফালে যুদ্ধবিমানও।

রাফালে যুদ্ধবিমানের নারী পাইলট শিবাঙ্গী সিং প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ট্যাবলোতে অংশ নিয়েছেন। তিনি ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ট্যাবলোতে অংশ নিয়েছেন।

‘বন্দে ভারতম’ নৃত্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত ৪৮০ নৃত্যশিল্পীও নৃত্য পরিবেশন করবেন, এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। ন্যাশনাল ক্যাডেট ক্রপসের অনুষ্ঠান ‘শহীদও কো সাত সাত সালাম’ উপভোগ করতে পারবে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ দেখতে আসা দর্শক।

শুধু পূর্ণ ডোজ দেয়া প্রাপ্তবয়স্করাই কেবল অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবার বাইরের দেশের কোনো কন্টিনজেন্ট প্যারেডে অংশগ্রহণ করেনি এবং দেশের বাইরের কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিও এবার উপস্থিত হননি।

এ ছাড়া মাইগভ নামের পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমেও ভারতীয়রা সরাসরি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে পেরেছে।

সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে দেশবাসীকে ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেন।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

‘পদ্মভূষণ’ প্রত্যাখ্যান করলেন বুদ্ধদেব

‘পদ্মভূষণ’ প্রত্যাখ্যান করলেন বুদ্ধদেব

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক বিবৃতিতে জানান, পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে এ নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের দেয়া পদ্মভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তার পারিবারিক সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার রাতে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য জানান, বুদ্ধদেব শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আগের মতোই দৃঢ়চেতা এবং সবল। সেভাবেই তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব পদ্মভূষণ সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক বিবৃতিতে জানান, ‘পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে এ নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।’

পশ্চিমবঙ্গের শেষ কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের দেয়া পদ্মভূষণ সম্মাননা গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল। অবশেষে বিবৃতিতে দিয়ে তিনি নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটান।

মঙ্গলবার রাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িতে ফোন করা হয়েছিল।

এদিন দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি ফোনে জানান, বুদ্ধদেব পদ্মভূষণ পাচ্ছেন। এটুকু জানানোর পরই ফোনের লাইন কেটে যায়। রাতে বুদ্ধদেবের নাম পদ্মভূষণ সম্মাননার জন্য ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তখনও বিষয়টি জানতেন না। পরে খবর পেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

উত্তর প্রদেশে নির্বাচন: গরু রক্ষার খেসারত গুনতে পারে যোগী সরকার

উত্তর প্রদেশে নির্বাচন: গরু রক্ষার খেসারত গুনতে পারে যোগী সরকার

বেওয়ারিশ গরুর উত্তর প্রদেশের শহর গ্রামে অহরহ দেখা মেলে। ছবি: বিবিসি

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে এমন ঘটনা সম্প্রতি বাড়ছে। রাজ্যটিতে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার পর বেওয়ারিশ গরুর সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আর এটিই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ভারতের উত্তর প্রদেশে গত নভেম্বরের এক সকালে বাড়িতে বসে আয়েশ করে চা পান করছিলেন রাম রাজ। আচমকা বেওয়ারিশ এক গরু তাকে আক্রমণ করে বসে।

বিষয়টির এখানেই শেষ হয়নি। এর পরপর আক্রমণের শিকার হয় তার নাতি। এ ঘটনায় ৫৫ বছরের কৃষক রাম প্রাণ হারান। হাসপাতাল পর্যন্ত নেয়া যায়নি তাকে।

রামের পুত্রবধূ আনিতা কুমারী বলেন, ‘আমাদের জীবনের ভয়াবহ ঘটনা ছিল এটি। শোকে থেকে আমার শাশুড়ির খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে এমন ঘটনা সম্প্রতি বেড়েছে। রাজ্যটিতে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার পর বেওয়ারিশ গরুর সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আর এটি যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হিন্দু মতে, গরু পবিত্র, পূজনীয়। তারপরও অনেক কৃষক তাদের বুড়ো হয়ে যাওয়া গরুগুলোকে কসাইখানায় বিক্রি করে দেয়।

উত্তর প্রদেশে নির্বাচন: গরু রক্ষার খেসারত গুনতে পারে যোগী সরকার
হিন্দু মতে গরু পবিত্র প্রাণী। ছবি: বিবিসি

কৃষক শিব পুজান বলেন, ‘গরু যখন দুধ দেয়া বন্ধ করে দেয় অথবা বৃদ্ধ হয়ে যায় (চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে) তখন আমরা তা বিক্রি করে দিই।’

কিন্তু কেন্দ্রে আসীন ক্ষমতাসীন দল বিজেপি গো-হত্যার চরম বিরোধী। উত্তর প্রদেশসহ ১৮ রাজ্যে গো-হত্যা অবৈধ ঘোষণা করেছে মোদি সরকার।

কট্টর মতাদর্শের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২০১৭ সালে ক্ষমতায় এসেই কসাইখানা বন্ধ করে দেন; যদিও এটি রাজ্যের অন্যতম বড় খাত।

গরু ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগ মুসলিম, আছে কিছু দলিত সম্প্রদায়ের লোক। রাজ্য সরকারের আদেশ অমান্যে তাদের অনেকের ওপর হামলা হয়েছে। খুন হয়েছেন অনেকেই। স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা অনেকটা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই এসব নিপীড়ন চালিয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠের চাপে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। খাবারের জোগান দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে বুড়ো গরুগুলোকে পাশের জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসে তারা।

কৃষক পুজান বলেন, ‘এখানে গরুর কোনো ক্রেতা নেই। আমাদের বাধ্য করা হয়েছে বুড়ো গরুগুলোকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিতে।’

জঙ্গলে খাবার না পেয়ে এসব গরু ঢুকে পড়ে শহর কিংবা গ্রামের লোকালয়ে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর গরুগুলো তখন হয়ে ওঠে বেপরোয়া।

পুজান বলেন, ‘এমন কোনো একটি গরু সেদিন রাম রাজের বাড়িতে খাবারের সন্ধানে ঢুকে পড়েছিল। তার পরিবার গরুটিকে দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করলে আক্রমণ করে বসে গরুটি।

ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে সম্প্রতি এমন দুটি গরুর আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন পুজান নিজেও।

তিনি বলেন, ‘গরু দুটি আমাকে গুঁতো দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করছিল। কোনোরকমে দৌড়ে জীবন বাঁচাই। তারকাঁটার বেড়ায় হাত কেটে যায়। এখন ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরছি।’

পুজান নিজেও ধর্মভীরু। কিন্তু তাতেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তার দাবি, বেওয়ারিশ এসব গরু ফসল নষ্ট করছে, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা মানুষ হত্যা করছে।

উত্তর প্রদেশে নির্বাচন: গরু রক্ষার খেসারত গুনতে পারে যোগী সরকার
কৃষক পুজান গরুকে পবিত্র মানলেও বেওয়ারিশ গরুকে মানুষের জন্য হুমকি বলছেন। ছবি: বিবিসি

এসব বেওয়াশির গরুর কারণে জীবন পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে পুনম বোল নামের এক বিধবার। গরুর আক্রমণে প্রাণ গেছে তার স্বামীর, সন্তান হয়ে গেছে শারীরিক প্রতিবন্ধী।

করোনার কারণে ২০২০ সালে চাকরি খুইয়েছিলেন ৩৬ বছরের যুবক ভূপেন্দ্র দুবে। গ্রামে ফেরার কিছুদিনের মাথায় গরুর আক্রমণে প্রাণ হারান তিনি। স্থানীয় বাজারে ছেলের জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়েছিলেন ভূপেন্দ্র। সেখানেই বেওয়ারিশ এক গরু আক্রমণ করেছিল তাকে।

চার বছরের বেশি সময়ে এমন ঘটনার নজির অনেক। ২০১৯ সালে রাম খালি নামে ৮০ বছরের এক ব্যক্তি গরুর আক্রমণের শিকার হয়ে কোমায় চলে যান।

আগামী ২২ মার্চ উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যের বেশির ভাগ বাসিন্দা কৃষক। ভোটার টানতে তাই এই ইস্যুটিকে সামনে তুলে আনছে বিরোধীরা।

বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। তাদের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এই সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র সমির সিং বলেন, ‘হিন্দু রীতিতে বৃদ্ধ গরুকে জঙ্গলে পাঠানোর কোনো নিয়ম নেই। আমরা কখনও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে এমন করি না। তবে গরুকে কীভাবে মরার জন্য রাস্তায় ছেড়ে আসা হয়?

‘এসব গরুর জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এমন হাজার হাজার আশ্রয়কেন্দ্রের খরচ জোগাতে মদের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।’

কিন্তু এই উদ্যোগ যে কার্যকরী না তার প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি। অযোধ্যায় সরকার পরিচালিত একটি গরু আশ্রয়কেন্দ্র বিবিসি হিন্দির শত্রুঘ্ন তিওয়ারি সরেজমিনে ঘুরে দেখতে পান, কানায় কানায় ঠাসা প্রতিটি কেন্দ্র।

তিনি বলেন, ‘এখানে ২০০ গরু আছে। এটাই সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা। আরও ৭০০ থেকে ১০০০ গরু আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

ফসল বাঁচাতে কেন্দ্রে আশ্রয় না পাওয়া এসব বেওয়ারিশ গরু নজরে রাখছে স্থানীয় কৃষকরা। ঠাণ্ডা আর সাপের ছোবল উপেক্ষা করে পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিয়ে যাচ্ছে তারা।

উত্তর প্রদেশে নির্বাচন: গরু রক্ষার খেসারত গুনতে পারে যোগী সরকার
রাত জেগে ফসল পাহারা দিচ্ছেন এক নারী কৃষক। ছবি: বিবিসি

৬৪ বছরের কৃষক বিমলা কুমারী বলেন, ‘সকালে একদল এসে পাহারা দেয়, রাতে অন্য দল। এই বিষয়টা নিয়ে আমরা চরম বিরক্ত। ভাবছি নির্বাচন বয়কট করব।’

দিনা নাথ নামে আরেকজন বলেন, ‘কেন এমন নির্বাচনে ভোট দেব, যেখানে নির্বাচিতরা সাধারণের কষ্ট বুঝবে না।’

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

মহারাষ্ট্রে সেতু থেকে গাড়ি পড়ে মেডিক্যালের ৭ শিক্ষার্থী নিহত

মহারাষ্ট্রে সেতু থেকে গাড়ি পড়ে মেডিক্যালের ৭ শিক্ষার্থী নিহত

দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বলছে, চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত সাতজন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ভারতের মহারাষ্ট্রে সেতু থেকে গাড়ি গড়িয়ে পড়ে কংগ্রেসের এক আইনপ্রণেতার (এমএলএ) ছেলেসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।

রাজ্যটির ওয়ার্দা জেলার সেলসুরা গ্রামের কাছে সোমবার রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি

নিহত সাতজন সাওয়াঙ্গী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা দেওলি থেকে গাড়িতে ওয়ার্দা যাচ্ছিলেন।

নিহতদের মধ্যে গোন্ডিয়া জেলার তিরোরার বিজেপি বিধায়ক আবিষ্কার রাহাঙ্গদালের ছেলে বিজয়ও রয়েছেন।

ওয়ার্দার পুলিশ সুপার প্রশান্ত হল্কার জানান, চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গাড়িটি সেতু থেকে পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। গাড়ির গতি বেশি ছিল নাকি অন্য কোনও কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দু লাখ রূপি এবং আহতদের মাথাপিছু ৫০ হাজার রূপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

দুই টিকা না থাকলে পাকিস্তানে মসজিদে প্রবেশে মানা

দুই টিকা না থাকলে পাকিস্তানে মসজিদে প্রবেশে মানা

দেশটিতে ইতোমধ্যে ৩৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ মানুষ পূর্ণ ডোজ টিকার আওতায় এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

এর আগেও গত বছরের নভেম্বরে দেশটির সিন্ধু প্রদেশ কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস টিকা ও মাস্ক ছাড়া মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল, সে সময় সিন্ধু প্রদেশের মসজিদগুলো থেকে কার্পেটগুলোও সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।

পাকিস্তানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। ন্যাশনাল কমান্ড অ্যান্ড অপারেশন সেন্টারের (এনসিওসি) দেয়া নতুন বিধিনিষেধে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নেয়া ছাড়া মসজিদে ঢুকতে পারবেন না নামাজ আদায়কারীরা।

দেশটিতে ইতোমধ্যে ৩৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ মানুষ পূর্ণ ডোজ টিকার আওতায় এসেছে।

এনসিওসি এমন সময় এই সিদ্ধান্ত নিল, যখন পাকিস্তানে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে ১৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ২৯ হাজার ১০৫ জন।

এর আগেও গত বছরের নভেম্বরে দেশটির সিন্ধু প্রদেশ কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস টিকা ও মাস্ক ছাড়া মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল, সে সময় সিন্ধু প্রদেশের মসজিদগুলো থেকে কার্পেটগুলোও সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

ভারতে ৩ লাখের ওপর শনাক্ত টানা পাঁচ দিন

ভারতে ৩ লাখের ওপর শনাক্ত টানা পাঁচ দিন

ভারতে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে তবু উপেক্ষা মানুষের। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৪ জন। যা আগের দিনের চেয়ে ৮ শতাংশ কম। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৮ জনে।

করোনার বিপর্যস্ত ভারতে বাড়ছে সংক্রমণ। ওমিক্রনের প্রভাবের মধ্যেই টানা পাঁচদিন ধরে দেশটিতে তিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এতথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

সোমবার সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৪ জন। যা আগের দিনের চেয়ে ৮ শতাংশ কম। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস ভারতে প্রাণ কেড়েছে ৪৩৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ হাজার ৮৪৮ জনের।

আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় এ দেশে করোনা পরীক্ষা হয়েছে গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কম। দেশজুড়ে এখন মোট সক্রিয় রোগী ২২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩৫ জন।

নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ এক দিনে আরও ৯ হাজার ১৯৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে যা ১৯ শতাংশ কম। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৫ জনের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হচ্ছে। রূপ বদলাচ্ছে করোনা।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের অবস্থানে আছে ভারত।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

খাদের কিনারে পাহাড়ির রাস্তায় ঘুরছে গাড়ি। ভিডিও থেকে নেয়া ছবি।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

পাহাড়ের ওপর ছোট্ট একটু রাস্তা। পাশেই বড় খাদ। মানুষ হাঁটলেও যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। সেখানে কি না একটি বড় গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলা হলো!

সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ভাইরাল হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা নিয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এক টুইটার ব্যবহারকারী এটি শেয়ারের পর তা ভাইরাল হয়েছে।

দক্ষ চালক না হলে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো যে কতটা কঠিন, তা বহু চালক হাড়ে হাড়ে টের পান। সাহস তো বটেই, তার সঙ্গে দক্ষতা জুড়ে গেলে অনেক কঠিন চড়াই-উতরাইও সহজ মনে হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এই চালককেও তা মনে করে প্রশংসা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

টুইটারে অনেকেই বলেছেন, একটু ভুল হলেই জীবন শেষ হয়ে যেতে পারত চালকের। একদিকে পাহাড়ের ঢাল, অন্যদিকে কয়েক শ ফুট গভীর খাদ। তার মাঝে পাঁচ ফুটের একটি রাস্তা। আর সেই রাস্তায় যেভাবে গাড়ি ঘোরালেন চালক, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
কামরাঙ্গা পাড়তে গিয়ে কামরাঙ্গীরচরে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত
রাজশাহীতে বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
মহেশপুরে সড়কে প্রাণ হারালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

শেয়ার করুন