মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

player
মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

মৃত বন্ধুকে এভাবেই কফিন থেকে বাইকে নিয়ে তোলা হয়। ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন।

আততায়ীর গুলিতে খুন হয়েছে বন্ধু! ব্যাপারটিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না একদল যুবক। বন্ধুকে হারিয়ে তারা পাগলপ্রায়। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যেতে তাই মৃত বন্ধুকেই তুলে নেয়া হলো মোটরসাইকেলে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে।

শনিবার ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মানাবির পর্তোভিজো শহরেই বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে দিনগুলো কাটছিল ২১ বছর বয়সী এরিক শেডেনোর। কিন্তু এই হাসি-আনন্দ থেমে যায় গত সপ্তাহের শেষ দিনটিতে। সে সময় একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার পথ আগলে দাঁড়ায় দুই আততায়ী। তাদের গুলিতেই অকালে প্রাণ হারান এরিক।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন। বাইকটি চালাচ্ছিলেন এক বন্ধু। আর মৃত এরিককে মাঝখানে বসিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন আরেক বন্ধু।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বন্ধুকে কফিন থেকে বের করে বাইকে তোলার ঘটনাটি আশপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল অসংখ্য মানুষ। বাইকটি যাত্রা শুরু করার পর পেছনে দাঁড়ানো অন্য বন্ধুদের হাত উঁচিয়ে উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

স্পেনিশ ভাষার পত্রিকা লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, কবর দেয়ার সময় এরিকের কফিনে মদও ঢেলে দিয়েছেন তার বন্ধুরা। তারা দাবি করেছেন, এরিকের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই তাকে বাইকে চড়িয়ে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাটিকে ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা কোনো তদন্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

বিশ্বের জীবিত গরুর মধ্যে সবচেয়ে খর্বাকৃতির স্বীকৃতি পাওয়ার পথে সাভারের শিকড় অ্যাগ্রোর চারু। ছবি: নিউজবাংলা

রানির পর বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর জায়গা এবার পেতে যাচ্ছে শিকড় অ্যাগ্রোরই আরেকটি গরু, নাম চারু। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে গরুর মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুর কথা উঠলেই আসে সাভারের শিকড় অ্যাগ্রোর রানির নাম। খর্বাকৃতির গরুটি বাংলাদেশ তো বটেই জায়গা করে নেয় বিশ্ব মিডিয়ায়ও। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে মারা যায় রানি। মৃত্যুর পর গিনেস বুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতি গরুর স্বীকৃতি পায় এটি।

রানির এই জায়গা এবার পেতে যাচ্ছে শিকড় অ্যাগ্রোরই আরেকটি গরু, নাম চারু। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে গরুর মালিকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

সাভারের আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকায় শিকড় অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সুফিয়ান বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শিকড় অ্যাগ্রো থেকে চারুর বিষয়ে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল। তারা চারুকে এই স্বীকৃতি দেয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তবে এর আগে গিনেস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কিছু নথি চেয়েছে।

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু
চারুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়ার আগে গিনেজ কর্তৃপক্ষের নথি চেয়ে পাঠানো মেইল

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারু নামের গরুটির জন্ম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। সে হিসেবে তার বয়স আড়াই বছর। চারুর এখন চার দাঁত। উচ্চতা ২৩.৫০ ইঞ্চি, লম্বা ২৭ ইঞ্চি ও ওজন ৩৯ কেজি।

২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গিনেস বুকে মৃত গরু হিসেবে রেকর্ড গড়া রানির উচ্চতা ছিল ২০ ইঞ্চি, লম্বা ২৪ ইঞ্চি ও ওজন ২৬ কেজি।

শিকড় অ্যাগ্রো খামারে গিয়ে দেখা মেলে চারু নামের গরুটির। হেলে দুলে পুরো খামারে হেঁটে বেড়াচ্ছে এটি। খামারটিতে আরও বেশ কয়েকটি ভুট্টি জাতের ছোট গরু থাকলেও চারু কিছুটা আলাদা। লালচে রঙের চারুর কান দুটো খাড়া, পা দুটো খাটো ও মোটা।

খুব দ্রুত সময় লেজ নাড়তে নাড়তে আয়েশ করে খাবার খায় চারু। পুরো খামারজুড়েই ঘাস, পাতা এসব খেতে বেশ ব্যস্ত। ছবি তুলতে গেলে ফিরিয়ে নেয় মুখ, ফিরে যায় ক্যামেরার উল্টো দিকে।

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

চারুকে দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা খামারের কর্মচারী মো. মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের শিকড় অ্যাগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ খামারে অনেক রকমের পশু-পাখি পালন করি। রানি মারা যাওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে চারুকে আমরা সিলেট থেকে সংগ্রহ করেছি। যেভাবে রানিকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেভাবেই চারুকে আনা হয়েছে।

‘যেহেতু আমাদের রানি মারা গেছে, তাই চারুর প্রতি একটু বেশি যত্ন নেই। স্যাররা এখানে আসার পর ওর নাম চারু দিয়েছে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী একাধিকবার চারুর মাপের ছবি এবং ভিডিও পাঠানো হয়েছে।’

চারুর চলাফেরার ধরন নিয়ে খামারের আরেক কর্মচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে অনেক ধরনের গরু আছে। তবে চারুর চলাফেরা, খাওয়া, ঘুমানো সবার চেয়ে একটু ভিন্ন টাইপের। দেখা যায়, ছবি তুলতে চাইলে ও একটু অন্য টাইপের হয়ে যায়। মুখটা ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে, পেছন দিকে দৌড়াতে থাকে। আকারে ছোট আর পাগুলো গোছাগোছা মোটা। কানগুলো খরগোশের মতো।

‘রানি ছিল আমাদের অমূল্য সম্পদ। রানির চেয়ে চারু একটু পিছিয়েই। যেহেতু একবার রানিকে নিয়ে আমাদের একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। এজন্য ওই দিক থেকে সতর্ক থেকে চারুকে আমরা একটু বেশি কেয়ারিং থাকি। চলাফেরা, খাওয়া, ঘুমানো সব দিক থেকে সতর্ক থাকি। আর সব গরুর মতই চারু ঘাস, খর, দানাদার খাবার খায়। অন্যান্য গরু, ছাগল সবার সঙ্গে মিলে চারু খাবার খায়।’

শিকড় অ্যাগ্রোর পশু চিকিৎসক প্রতি দু সপ্তাহ পরপর চারুকে দেখতে আসেন এবং চারুর ওজন, শরীর চকচকে আছে কি না, গঠন বাড়ছে কি না এসব দেখে যান।

খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাজী সুফিয়ানের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। এই খামারি চারুকে নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত এই সৌখিন খামারি, তেমনি রানির কথা মনে করে বাকরুদ্ধ হয় পড়েন। রানির সঙ্গে কোনো গরুকেই তুলনা করতে রাজি নন তিনি। তার মতে শিকড় খামারে রানি ছিল একটি সিগনেচার!

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু

সুফিয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে স্থান করে নেয় আমাদের শিকড় অ্যাগ্রোর রানি। পরম করুণাময়ের ইচ্ছাতেই অফিশিয়ালি বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাবার আগেই আমাদের সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে রানি মারা যায়। পরবর্তীতে, রানির দেহাবশেষ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন অ্যান্ড মিউজিয়াম ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অফ বাংলাদেশে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ওই খামারি আরও বলেন, ‘অল্প কদিনেই রানির উল্লেখযোগ্য ভক্ত তৈরি হয়ে গেছিল। আর তাই বেশির ভাগ মানুষই রানির মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। আমরা অনেক টাকায় বিক্রির অফার পেয়েও কেন বিক্রি করিনি সেটা নিয়েও অনেকে বিদ্রূপ করেছেন। কেউ কেউ আমাদের গাফেলতির কথা বলে আমাদের বকাও দিয়েছেন। ঐ সময়টায় ভীষণ খারাপ লাগলেও আমরা দাঁতে দাঁত চেপে পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলাম। আসলে রানির প্রতি সবার ভালবাসাটা আমরা বুঝতাম।’

সুফিয়ান বলেন, ‘রানির মৃত্যুর পর গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করে আমাদের ই-মেইল পাঠান। তারা জানান, রানির সম্মানার্থে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে আরও একটা ক্যাটাগরি তারা চালু করবেন এবং আমাদের কাছে কমপিট করার মতন কিছু থাকলে চাইলে এতে অংশগ্রহণ করতে পারি।’

বিশ্বের খর্বাকৃতি গরুর রেকর্ড গড়ার পথে চারু
চারুকে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরুর স্বীকৃতি চেয়ে করা আবেদনের তথ্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ

রানির পর চারুকে কীভাবে খুঁজে পেলেন সে প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিকড় অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। তিনি বলেন, ‘যারা শিকড় অ্যাগ্রো সম্পর্কে জানেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের সুদক্ষ এবং নির্ভরশীল কর্মীবাহিনী প্রতিদিনই দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। রানির জীবদ্দশায়ই আমাদের সংগ্রহশালায় নতুন চমক যোগ হয় ৪ দাঁতের প্রাপ্তবয়স্ক দেশীয় প্রজাতির বামন গরু চারু। এটিকে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত ছোট গরু হিসেবে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ স্বীকৃতি দিয়েছে।’

চারুকে নিয়ে পরিকল্পণার বিষয়ে সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে ছিল বিশ্বরেকর্ডধারী রানিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে দেয়া। যেন সরকারের তত্ত্বাবধানে রানি তার জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে। কিন্তু রানি অকালে চলে যাওয়ায় সে সুযোগটা আর আমরা পাইনি। এদিকে চারুর বিশ্ব রেকর্ডে স্থান করার আবেদনের শুরু থেকেই আমরা সঙ্গত কারণেই চরম গোপনীয়তা বজায় রেখেছি।

‘বিশ্বরেকর্ডধারী চারু যেন জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করতে পারে এটা আমাদের একান্তই প্রার্থনা। আর তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপহার হিসেবে চারুকে তুলে দিয়ে চারুর জীবনের সর্বোচ্চ সময়টা উপভোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাঙ্গালি জাতিকে শিকড় অ্যাগ্রোর পক্ষ থেকে এটি উপহার দিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন

খানজাহানের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে সুলতানি আমলের নিদর্শন। ছবি: নিউজবাংলা

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, ‘সাড়ে ৬০০ বছর আগের এ বসতভিটা খননে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করা। খননের মাধ্যমে পাওয়া স্থাপনা, ইট, তৈজসপত্রসহ নানা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা গবেষণা করব।’

ইসলাম ধর্ম প্রচারক হযরত খানজাহানের সাড়ে ৬০০ বছর আগের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে প্রাচীন সুলতানি আমলের দেয়াল, টেরাকোটা, ড্রেন, তৈজসপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাগেরহাটে সুলতানি আমলের পুরাকীর্তিগুলো বিশ্বের দরবারে অনেক দিন ধরে সমাদৃত। ষাট গম্বুজ মসজিদসহ হযরত খানজাহানের (রহ.) বিভিন্ন পুরাকীর্তি দেখতে প্রতিদিনই বাগেরহাটে আসেন দেশি-বিদেশি হাজারও দর্শনার্থী।

ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশে সুন্দরঘোনা গ্রামে হযরত খানজাহানের বসতভিটায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু হওয়া খননে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে ১৪ শ্রমিক নিদর্শন সংরক্ষণে কাজ করছেন। এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে দেয়াল, টেরাকোটা ও প্রাচীন আমলের তৈজসপত্রসহ অজানা প্রত্নবস্তু।

মাসব্যাপী শুরু হওয়া এ খননের ফলে উন্মোচিত হচ্ছে অনেক অজানা তথ্য। শুধু তা-ই নয়, ২০ বছর ধরে খননের ফলে নতুন নতুন তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, সুলতানি আমলে খানজাহানের বসতভিটার ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করাই এই খননের উদ্দেশ্য। মাটির নিচে পাওয়া বিভিন্ন প্রত্নবস্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন জাদুঘরে রাখা হবে। ৩১ ডিসেম্বর মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই খননকাজ শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ১৭টি স্থাপনাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বাগেরহাট সদরের সুন্দরঘোনা এলাকায় খানজাহান আলী (রহ.)-এর বসতভিটা অন্যতম।

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন
খানজাহানের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে সুলতানি আমলের নিদর্শন। ছবি: নিউজবাংলা

২০০০ সালের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বসতভিটার প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নির্ণয়ের জন্য কয়েক দফা খনন করে। সেখানে টিনশেডের একটি অস্থায়ী অফিসও তৈরি করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতার নেতৃত্বে আবারও খনন শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন গ্রেডের সাত কর্মকর্তা ও অনিয়মিত ১৪ শ্রমিক এই খননকাজ ও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন।

এবার শুরু হওয়া খননকাজ এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। সিমেন্ট ও বালুর তৈরি মেঝে, সুলতানি আমলের দেয়াল, টেরাকোটা, ড্রেন, সুলতানি আমলে ব্যবহৃত মাটির তৈরি পানির পাত্র, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে।

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, ‘সাড়ে ৬০০ বছর আগের এ বসতভিটা খননে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করা। খননের মাধ্যমে পাওয়া স্থাপনা, ইট, তৈজসপত্রসহ নানা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা গবেষণা করব।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, ‘শুধু এই বছরই নয়। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে খানজাহানের বসতভিটা খনন চলছে। যতদিন পর্যন্ত নিদর্শনগুলো উদ্ঘাটন সম্ভব হবে, ততদিন খনন চলবে। আর এই খননের ফলে শুধু দেশের প্রজন্ম নয়, বিদেশেও আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

টাকা ভাঙাতে লটারি কিনে মিলল ১২ কোটি

টাকা ভাঙাতে লটারি কিনে মিলল ১২ কোটি

লটারির টিকিট হাতে সদানন্দন। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

বাজার করতে সেদিন সকালে ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সদানন্দন। বিড়ম্বনায় পড়েন যখন দোকানি খুচরা দিতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে কিনেছিলেন একটি লটারি। এতেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা।

একেই বলে ভাগ্য। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দিনমজুর থেকে বনে গেলেন কোটিপতি! শুনতে অবাক লাগলেও বৈধ পথে এখন ১২ কোটি টাকার মালিক কেরালার ওই রংমিস্ত্রি।

কোট্টায়ম শহরে বাস করা ওই ভাগ্যবান সদানন্দন ওলিপারাম্বিল। আচমকা ধনী হওয়ার মধুর ধাক্কা সামলাতে তিনি এখন ব্যস্ত।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, লটারি কেনার ভীষণ বাতিক সদানন্দনের। এর আগে কয়েকবার লটারিতে টাকা জিতলেও সে টাকার পরিমাণ ছিল অল্প।

বাজার করতে সেদিন সকালে ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সদানন্দন। বিড়ম্বনায় পড়েন যখন দোকানি খুচরা দিতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে কিনেছিলেন একটি লটারি।

বিকেলে একটি খবরে এলাকায় হইহই পড়ে যায়। জানা যায়, এলাকার এক ব্যক্তি লটারির প্রথম পুরস্কার জিতেছেন। তবে জানতেন না, কে সেই আশীর্বাদপুষ্ট।

সদানন্দনের তখন মনে পড়ে সকালের লটারি কেনার কথা। দৌড়ে বাড়ি ফেরেন। জামার পকেট থেকে লটারি বের করে কাঁপা কাঁপা পায়ে রওনা দেন সেই দোকানে। সেখানে নম্বর মিলিয়ে হতভম্ব হয়ে যান তিনি।

লটারির প্রথম পুরস্কার ১২ কোটি টাকা জেতা সেই ভাগ্যবান যে সদানন্দন নিজেই। কয়েক দফা নম্বর মিলিয়ে দাবি করেন তার টাকা।

পুরো টাকা অবশ্য পাচ্ছেন না সদানন্দন। আয়কর কেটে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা পাবেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

টয়লেট ফ্লাশের উচ্চ শব্দে দিতে হলো ক্ষতিপূরণ

টয়লেট ফ্লাশের উচ্চ শব্দে দিতে হলো ক্ষতিপূরণ

প্রতীকী ছবি।

মিররের খবরে বলা হয়েছে, এক দম্পতির পাশের ফ্ল্যাটে কমোড ফ্লাশের উচ্চ শব্দের অভিযোগ গড়ায় আদালতে। রাতে ফ্লাশের উচ্চ শব্দে তাদের ঘুমে ব্যাঘাত হয় বলে জানান দম্পতি। ১৯ বছর পর আদালতের রায়ে ৮ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন দম্পতি।

প্রতিবেশীর টয়লেটের ফ্লাশের উচ্চ শব্দ নিয়ে আপত্তি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। আইনি লড়াইয়ে ১৯ বছর পর জিতেছেন অভিযোগ তোলা দম্পতি। ক্ষতিপূরণ বাবদ তারা পেয়েছেন ৮ হাজার ইউরো।

ঘটনাটি ইতালির লা স্পেজিয়া শহরের। বিপত্তির শুরুটা ২০০৩ সালে। গলফ অফ পয়েটস এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন চার ভাই। খুব যত্ন করে সাজিয়ে সেখানে বাস করতে থাকেন তারা।

মিররের খবরে বলা হয়েছে, পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন ওই দম্পতি। ফ্লাশের উচ্চ শব্দের বিষয়টা শুরুতে গুরুত্ব দেননি তারা। কিন্তু একপর্যায়ে তা হয়ে উঠে অসহনীয়। প্রতি রাতেই ফ্লাশের উচ্চ শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। আর প্রতিবেশীর অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি চার ভাই। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন দম্পতি।

লা স্পেজিয়ার আদালতে তারা দাবি করেন, পাশের ফ্ল্যাটের কমোডের ফ্ল্যাশের আওয়াজ কমাতে হবে। শুধু তাই নয়, এই শব্দের জন্য এতোদিন তাদের ঘুমের যে ব্যাঘাত হয়েছে, তার জন্য দিতে হবে ক্ষতিপূরণ।

তবে প্রথম দফায় আদালত অভিযোগ খারিজ করে দেন। এতে দমে যাননি দম্পতি। তারা যান জেনোয়ার আপিল আদালতে। বিচারকের নির্দেশে তদন্তদল ফ্ল্যাট দুটি পরিদর্শন শেষে জানায়, অভিযোগ সত্য। তাই অভিযুক্তদের কমোড ফ্লাশ সরাতে হবে। আর গত ১৯ বছর ধরে জ্বালাতনের শাস্তি হিসেবে ওই দম্পতিকে দিতে হবে ৮ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রোমের সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন চার ভাই। তবে সেখানেও রায় যায় দম্পতির পক্ষে। বিচারক জানান, এই চার ভাইয়ের কারণে রাতে ঘুমানোর অধিকার হারান ওই দম্পতি। তাই আগের রায় বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা

হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা

বিহারের এই ব্যক্তি আধার কার্ড ও ভোটার আইডি দেখিয়ে ১২ বার করোনার টিকা নেয়ার দাবি করেছেন। ছবি: দ্য ওয়্যার

ভারতে চলছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। তা মোকাবিলায় গণটিকা কর্মসূচি চালাচ্ছে দেশটির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিহারের এক বৃদ্ধ দাবি করছেন, এ পর্যন্ত দুটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে ১২ ডোজ টিকা নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, করোনার টিকা নিলে উপশম হয় হাড়ের ব্যথা।

করোনা টিকায় সারে হাড়ের ব্যথা- এমন বিশ্বাস থেকে ১২ বার টিকা নেয়ার দাবি করেছেন ভারতের ডাক বিভাগের সাবেক এক কর্মী। এর মধ্যে আধার কার্ডে ৯ বার এবং তিনবার টিকা নিয়েছেন ভোটার কার্ড দেখিয়ে। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ২৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাধেপুর জেলার বাসিন্দা ব্রহ্মদেব মণ্ডল। ৮৪ বছরের এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগছেন।

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানান ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে এই ব্যথা। তারা ওষুধ দিলেও কাজ হয়নি।

‘এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমি করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিই। পরের মাসে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার আগে মনে হচ্ছিল ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে। শরীর ঠিক রাখতে তখন আরও টিকা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এরপর যতবার সুযোগ পেয়েছি, টিকা নিয়েছি।’

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহকারীরা যখন জানতে চাইতেন, আগে টিকা নিয়েছি কি না- আমি না বলতাম এবং টিকা নিয়ে নিতাম।’

আধার কার্ডে ৯ টিকা, তিনটি ভোটার কার্ডে

ব্রহ্মদেবের দাবি, তার নেয়া ১২ টিকার ৯টি নিয়েছেন আধার কার্ড দিয়ে, বাকি তিনটি ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে।

তবে আধার কিংবা ভোটার কার্ডে টিকা নেয়ার তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ খুবই কম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দ্য ওয়্যারকে বলেন, ‘তিনি দুটি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে থাকলে চার ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। অথচ দুই কার্ডে ১২ ডোজ পাওয়া মানে, তথ্য ঠিকমতো পোর্টালে সংরক্ষণ হচ্ছে না বা তিনি নকল টিকা নিয়েছেন।’

ব্রহ্মদেব বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টিকা নেয়ার সময় আমার আইডি কার্ডের তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়নি। একটি রেজিস্ট্রার খাতায় লিখে রাখা হতো।’

এ পর্যন্ত টিকা নেয়ার পাঁচটি সনদ পেয়েছেন ব্রহ্মদেব। সেখানে নাম-ঠিকানা একই। পার্থক্য কেবল টিকা নেয়ার তারিখে।

তদন্ত শুরু

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিহারের স্বাস্থ্য বিভাগ। মাধেপুরার সিভিল সার্জন অমরেন্দ্র নারায়ণ সাহি বলেন, ‘আমরা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। টিকা নেয়া ব্যক্তিদের তথ্য কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে, তা দেখাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিহারে টিকা নিয়ে জটিলতা শুরু থেকেই। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, টিকা না নিয়েই তারা টিকা নেয়ার মেসেজ পেয়েছেন। অনেকে বলছেন, মেসেজে উল্লেখ করা কোম্পানির টিকা তারা পাননি।

বিহারে টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে গত বছর একটি অনুসন্ধান চালায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এতে রাজ্যের ছয়টি কেন্দ্রে চরম অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।

করোনার টিকায় শরীরের ব্যথা কি দূর হয়

ভারতের মহামারি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিদ অ্যান্থনি কোল্লানোর বলেন, ‘করোনার টিকায় স্বাস্থ্যের অন্য কোনো উপকার হয় কি না, তা নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কীভাবে টিকাকে আরও কার্যকর করা যায়। তাই ওই ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন

পাত্রী খুঁজতে বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন। ছবি: বিবিসি

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে (পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়ে) আস্থা কম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ মালিকের। তাই বিলবোর্ডে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি। আশা করছেন, শিগগিরই উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে যেসব ভীতি কাজ করে, সেগুলোর অন্যতম- কেমন হবে হবু জীবনসঙ্গী। প্রেমের বিয়েতে এই ঝঁক্কি না থাকলেও পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়েতে (অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ) এই অনিশ্চয়তা কাজ করে প্রচণ্ড।

এমন এক দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন মোহাম্মদ মালিক নামে এক যুবক। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে ভীষণ ভয় তার। তাই তো পাত্রী খুঁজতে অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন ২৯ বছরের এই ব্রিটিশ যুবক।

লন্ডন এবং বার্মিংহামের বিলবোর্ডে পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন মালিক। আগ্রহীদের জন্য খুলেছেন একটি ওয়েবসাইটও।

বিলবোর্ডে লেখা, ‘সেভ মি ফ্রম অ্যান অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ অর্থাৎ (পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়ে থেকে আমাকে বাঁচান)।

তিনি বলেন, ‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে আমার আপত্তি নেই। তবে আমার পছন্দ, নিজে থেকে কাউকে খুঁজে বের করা।’

পেশায় ব্যাংক পরামর্শক মালিক এখন পর্যন্ত উপযুক্ত কারও সাড়া পাননি। তবে হাল ছাড়তে চান না মালিক। আশা করছেন, তার বিশেষ ওয়েবসাইট findmalikawife.com ভাগ্য বদলে দেবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার বিজ্ঞাপনটি দেয়ার পর থেকে ইনবক্সে শত শত আগ্রহীর বার্তা পেয়েছেন মালিক।

তিনি বলেন, ‘এখনও সেসব দেখার সময় পাইনি। আমাকে এ জন্য কিছু সময় বের করতে হবে। এ ধাপটি নিয়ে আগে ভাবিনি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মালিক আরও বলেন, ‘বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে নারীদের সঙ্গে দেখা করার নানা উপায় খুঁজছিলাম। ডেটিং অ্যাপস, ডেটিং ইভেন্ট ছিল। কিন্তু এগুলোয় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম না।

‘অবশেষে বন্ধুর পরামর্শে বিজ্ঞাপনের ধারণা মাথায় আসে। ভাবলাম, এটা তো খারাপ কিছু নয়।’

বিয়ের জন্য রাস্তায় বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট খুলে বিজ্ঞাপন
মালিকের দাবি ইনবক্সে শত শত আগ্রহীর বার্তা পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন ও বার্মিংহামের রাস্তায় এই বিজ্ঞাপনগুলো থাকবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ কাজে শুরু থেকে পরিবারের সমর্থন ছিল বলে দাবি মালিকের। যদিও তাদের মানাতে বেগ পেতে হয়েছে যথেষ্ট।

মালিকের আশা, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে নিজের ধর্মীয় মতাদর্শ মিলবে; স্ত্রীর সুসম্পর্ক থাকবে তার পরিবারের সঙ্গে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের টেক্সারকানা শহরে ২৯ ডিসেম্বর বৃষ্টির সঙ্গে পড়া মাছ। ছবি: ফক্স নিউজ

বড়দিন শেষে নতুন বছর উদযাপনের প্রস্তুতিতে তখন ব্যস্ত সবাই। সচরাচর এ সময়ে ওই অঞ্চলে খুব একটা বৃষ্টি হয় না। তারপরও সেদিন বর্ষণমুখর ছিল শহর। সেই বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে টুপটাপ পড়ছিল জীবন্ত মাছ, ছোট ব্যাঙ আর কাঁকড়া।

বৃষ্টির সঙ্গে শীলা পড়ার দৃশ্যের সঙ্গে কম-বেশি সবাই পরিচিতি। ছোটবেলায় অনেকের ঝুম বৃষ্টিতে শীলা কুড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তাই বলে বৃষ্টির সঙ্গে মাছ পড়বে!

বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে আটলান্টিকের ওপারে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের টেক্সারকানা শহরে।

দিনটি ছিল ২৯ ডিসেম্বর। বড়দিন শেষে নতুন বছর উদযাপনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। সচরাচর এই সময়ে ওই অঞ্চলে খুব একটা বৃষ্টি হয় না। তারপরও সেদিন বর্ষণমুখর ছিল শহর। ছিল দমকা হাওয়া। সেই বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে টুপটাপ পড়ছিল জীবন্ত মাছ, ছোট ব্যাঙ আর কাঁকড়া।

মাছবৃষ্টি ফেসবুকে লাইভ করেছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তেই সেগুলো ভাইরাল হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছে শহর কর্তৃপক্ষও। তাদের বরাতে এই খবর ছেপেছে ফক্স নিউজ

শহরের সরকারি ফেসবুক পেজে ২৯ ডিসেম্বর একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘বিস্ময়ের সব বাঁধ ভেঙেছে ২০২১ সালে… টেক্সারকানা শহরে আজ মাছবৃষ্টি হয়েছে… এটা কিন্তু কোনো কৌতুক নয়।’

ওই পোস্টে অবশ্য এমন ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

তারা লেখেন, ‘এমন ঘটনা তখনই ঘটে, যখন জলাশয়ের উপরিভাগের তুলনামূলক হালকা প্রাণী ঝড়ের দাপটে ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে আসে। পরে সেগুলো বৃষ্টির সঙ্গে নিচে পড়তে থাকে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে, এমন ঘটনা তখনই ঘটে যখন বাতাসের তীব্রতায় পানিতে শক্তিশালী ঘূর্ণি হয়। তখন হালকা প্রাণী ও বস্তু ওপরের দিকে ধাবিত হয়। বৃষ্টি শুরু হলে কিছুটা শক্তি হারায় বাতাস। তখন বৃষ্টির সঙ্গে এসব মাটিতে আছড়ে পড়ে।

আকাশ থেকে পড়ল জীবন্ত মাছ!
বাতাসের তীব্রতায় শক্তিশালী ঘূর্ণিতে হালকা বস্তু বা প্রাণী ওপরের দিকে ধাবিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

মাছবৃষ্টির পর নতুন বছরে সব জায়গায় সাবধানে পা ফেলার পরামর্শও দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

এমন ঘটনার সাক্ষী আগে একবার হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরেক রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া। ২০১৭ সালে ওরোভিল শহরের একটি স্কুলে বৃষ্টির সঙ্গে মাছ পড়েছিল।

এ ছাড়া গত তিন দশকে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের লাজামানু শহরবাসী অন্তত তিনবার এমন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় ‘লেডি বাইকার’ রিয়ার জামিন
মামলা দেয়ায় বাইক পোড়ালেন আরও এক চালক
বাইকের শোরুমে ঢুকে কুপিয়ে টাকা লুট
শৈলকুপায় দুই বাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর বাইক ভ্রমণে নিহত এক

শেয়ার করুন