নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

player
নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

আফগান নারী। ফাইল ছবি

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আফগানিস্তানে জোরপূর্বক বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে তালেবান প্রশাসন।

গত ৩ ডিসেম্বর এক ডিক্রি জারি করে তারা বলেছে, নারীদের ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। আর বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সম্মতি থাকতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, নির্দিষ্ট সময় পর বিধবাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করারও অনুমতি দিয়েছে আফগান প্রশাসন।

আল-জাজিরার খবর, ডিক্রিতে তালেবান প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা ঘোষণা করেছেন, নারী-পুরুষ উভয়ের সমান হওয়া উচিত। আফগানিস্তানে কেউ নারীদের জোর খাটিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে বিয়ে করতে পারবে না।

তবে, তালেবানের নতুন নির্দেশনায় নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ইতোপূর্বে এই বয়সসীমা ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের উপজাতীয় প্রথা অনুসারে, বিধবাকে তার প্রয়াত স্বামীর ভাই অথবা অন্য কোনো আত্মীয়কে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক ছিল। তালেবান নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে, তারা আফগান আদালতকে নারীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণের নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে বিধবাদের সঙ্গে।

গত আগস্টে ক্ষমতায় আসা গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, তারা জনগণের মধ্যে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছে। তালেবানের এ ধরনের ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট নারী অধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলো।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জার্মানিতে বোনকে খুন করল দুই আফগান ভাই

জার্মানিতে বোনকে খুন করল দুই আফগান ভাই

ঘটনার সিসিফুটেজ ও মরিয়ম। ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে পা রেখেছিলেন মরিয়ম। ২০১৭ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার। এই বিচ্ছেদ ও তার পশ্চিমাদের মতো চলাফেরা মেনে নিতে পারেননি সহোদর দুই ভাই।

জার্মানিতে বোনকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে দুই আফগান ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পাশ্চাত্য ধাঁচে বোনের চলাফেরা পছন্দ ছিল না বলেই তারা ওই খুনটি করেন।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত দুই আফগান ভাই সাইয়েদ ও সিয়াদের বয়স যথাক্রমে ২৬ ও ২২ বছর। গত ২৩ জুলাই তারা তাদের ৩৪ বছর বয়সী বড় বোন মরিয়মকে বার্লিনের একটি স্থানে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেন।

দেখা করতে গেলে মরিয়মকে তারা শ্বাসরোধ করে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরিয়মের মরদেহটি তারা কেটে টুকরো টুকরো করেন।

জার্মান বিচারকরা জানিয়েছেন, দুই সন্তানের জননী মরিয়মকে কেটে কয়েক টুকরো করার পর একটি ব্যাগের ভেতর ঢুকান তার ভাইয়েরা। পরে একটি ট্যাক্সিতে করে রেল স্টেশনে নিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজেও বার্লিনের সুদক্রুজ স্টেশনে সাইয়েদ ও সিয়াদকে কালো রঙের একটি বড় ব্যাগ ধরাধরি করে ট্রেনে তুলতে দেখা গেছে। ওই ব্যাগটি তারা প্রিমার্ক নামে একটি রিটেইল শপ থেকে ৬০ ইউরো দিয়ে কিনেছিলেন।

ব্যাগটি নিয়ে প্রথমে জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশে যান সাইয়েদ ও সিয়াদ। পরে তারা ওই প্রদেশের হলজকির্চেন এলাকার কাছাকাছি একটি ঘন জঙ্গলে গাড়ি চালিয়ে ব্যাগটিকে নিয়ে যান। ওই জঙ্গলেরই একটি গর্ত থেকে মাটি খুঁড়ে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাতের ফলেই মরিয়মের মৃত্যু ঘটেছে।

বিচারকরা দাবি করেছেন, পশ্চিমাদের মতো চলাফেরা করার শাস্তি দিতেই বড় বোনকে খুন করেছেন দুই আফগান ভাই। কারণ নারীদের সম্পর্কে তাদের যে প্রাচীণ ধ্যান ধারণা, তার সঙ্গে বোনের চলাফেরায় অনেক পার্থক্য ছিল। তারা এটাকে পরিবারের সম্মান হানীর বিষয় মনে করেছিল।

১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল মরিয়মের। কিন্তু তিনি তার অত্যাচারী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তার ১০ বছরের এক কন্যা ও ১৩ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

স্বামীর সঙ্গে বোনের বিচ্ছেদ ও নতুন সম্পর্কের বিষয়টিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি সাইয়েদ ও সিয়াদ। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন মরিয়ম। এটি জানার পর থেকে মরিয়মকে হিজাব ব্যবহারের জন্য তারা চাপ দিতে থাকেন।

তারা যে ব্যাগটি বহন করছিল তার মধ্যে কী ছিল- তা নিয়ে দুই ভাই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। সিয়াদ বলেছেন, ব্যাগের ভেতরে বক্সিং গ্লাভস আর ডাম্বেল ছিল। অন্যদিকে সাইয়েদ দাবি করেছেন, ব্যাগে কাপড়-চোপড় ও ভারি ধরনের কিছু বস্তু ছিল। তবে, তদন্তকারীরা নিশ্চিত ওই ব্যাগে করে তারা তাদের বোনের মরদেহই বহন করছিলেন।

জার্মানিতে মরিয়মের ঘনিষ্টজনরা দাবি করেছেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি মৃত্যু আতঙ্কে ছিলেন। ভাইয়েরা চাইতো তার সঙ্গে যেন অন্য কারো কোনো যোগাযোগ না থাকে।

গত ৩ আগস্ট থেকে কয়েদখানায় আছেন সাইয়েদ ও সিয়াদ। অভিযোগ প্রমাণীত হলে তাদের যাজ্জীবন হতে পারে।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে কার্গোভরে সহায়তা পাঠাল সৌদি

আফগানিস্তানে কার্গোভরে সহায়তা পাঠাল সৌদি

খাদ্যস্বল্পতায় মায়ের কোলে অপুষ্টির শিকার এক আফগান শিশু। ছবি: আল-জাজিরা

বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকেন্দ্রের সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল-বাবিয়া জানিয়েছেন, মোট ছয়টি কার্গো বিমানে করে আফগানিস্তানে ১৯৭ টন মানবিক সহায়তা পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা করছে সৌদি আরব।

সৌদি আরব দুটি কার্গো বিমানে করে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে শুক্রবার এই খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা

সৌদি প্রেস এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুটি কার্গো বিমানে করে অন্তত ৬৫ টন সহায়তা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে আফগানিস্তানে। এসব সামগ্রীর মধ্যে এক হাজার ৬৪৭ ঝুড়ি খাবারও রয়েছে।

সৌদি রাজতন্ত্র পরিচালিত ‘বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকেন্দ্র’ থেকে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। এই কেন্দ্রের সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল-বাবিয়া জানিয়েছেন, মোট ছয়টি কার্গো বিমানে করে আফগানিস্তানে ১৯৭ টন মানবিক সহায়তা পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা করছে সৌদি আরব।

এই হিসাবে সামনের দিনগুলোয় আফগানিস্তানে আরও চারটি কার্গো বিমান ভরে মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে।

আল-বাবিয়া জানান, আকাশপথ ছাড়াও স্থলপথে পাকিস্তান হয়ে অন্তত ২০০ ট্রাক সহায়তা পাঠানো হবে আফগানিস্তানে।

গত আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়ার পর দেশটিতে মানবিক বিপর্য় দেখা দিতে শুরু করে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বর্তমানে আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ খাদ্যস্বল্পতায় ভুগছে। আসন্ন শীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

ছবি: বিবিসি

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে।

২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গণে ভূমিকা রাখা অনুপ্রেরণাদায়ী ও সাড়াজাগানো ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। এই তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের অর্ধেকই আফগানিস্তানের নাগরিক।

মোট চার ক্যাটাগরিতে ১০০ জনের এই তালিকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখায় ৩১, পরিবেশ ও খেলাধুলায় ১৬, রাজনীতি ও অধিকারকর্মী ৩১ এবং বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যে ২২ জনকে স্থান দেয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই, সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফিয়ামে নাওমি মাতাফা, ভারতের আইনজীবী ও অধিকারকর্মী মঞ্জুলা প্রদীপ, সাবেক আফগান নারী পুলিশ সদস্য মোমেনা ইব্রাহিমি, আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথম নারী পাইলট মহাদেসি মিরজায়িও রয়েছেন। এছাড়াও আছেন, ভ্যাকসিন কনফিডেন্স প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক হেইডি জে লারসন ও প্রশংসিত লেখক চিমামান্ডা এনগোজি আদিচিসহ আরও অনেকেই।

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে। তালিকায় থাকা এসব আফগান নারীর অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এবং ছবি দেননি।

১০০ প্রভাবশালী নারী বাছাইয়ের জন্য বিবিসির একটি দল কাজ করে থাকে। এ দলের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নারীদের নামের তালিকা জমা দেন।

এরপর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নেটওয়ার্কের ভাষা নিয়ে কাজ করা দলের পরামর্শ অনুযায়ী ছোট তালিকা তৈরি করা হয়।

গত এক বছরে যারা নিজ নিজ অঙ্গণে সাফল্য দেখিয়েছেন, প্রশংসিত হয়েছেন কিংবা সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়।

প্রতিবছর একেকটি থিমের ভিত্তিতে প্রভাবশালী নারী বাছাই করা হয়। এ বছরের থিম হলো, পৃথিবীর বদলে নারী। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির কারণে অনেক মানুষই তাদের জীবনযাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাপনে পরিবর্তন ও যাপনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে যেসব নারী ভূমিকা রেখেছেন, তারা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ছবি:এএফপি

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেন, ‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ খুঁজে পায় তালেবান যোদ্ধারা।’

জাতির ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি তালেবান দেয়নি, জনগণের উচিত খাদ্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। দারিদ্র্য প্রশ্নে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে এ কথা বলেছেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

আফগানিস্তানের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খামা নিউজ এ খবর ছেপেছে।

এতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনে শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ৩০ মিনিটের অডিও বার্তায় বলেন, ‘ঘানি সরকারের দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপের কারণে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা। এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ তালেবান যোদ্ধারা খুঁজে পায়।’

তালেবানবিরোধীদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা বহাল থাকবে জানিয়ে আখুন্দ বলেন, ‘শাস্তি কেবল তারাই পাবেন, যারা অপরাধ করেছেন।‘

নারী অধিকার প্রশ্নে আখুন্দ বলেন, ‘ইসলামিক আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা পাবেন নারীরা। এটা নিশ্চিতভাবে ঘানি সরকারের চেয়ে উত্তম।’

তবে ঠিক কী ধরনের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, তা পরিষ্কার করেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তালেবান সরকার হস্তক্ষেপ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উদার পররাষ্ট্রনীতিতে চলবে আফগানিস্তান।‘

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট বিনা বাধায় কাবুল দখলে নেয় তালেবান। রাজনৈতিক এই অস্থিরতায় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি, চাকরি হারান হাজারও মানুষ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না নতুন সরকার। দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট।

যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ উদ্ধার হলে সংকট কিছুটা হলেও মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী সপ্তাহে দোহায় হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের বৈঠকে এই অর্থ উদ্ধারে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

দোহায় আগস্টে তালেবানের প্রতিনিধি দল। ফাইল ছবি/এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে। বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তানের শাসক দল তালেবানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের মধ্যস্থতায় রাজধানী দোহায় আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে আলোচনা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই, আফগানিস্তানে মানবিক সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবে দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস মঙ্গলবার জানান, আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন আফগানিস্তানবিষয়ক আমেরিকান বিশেষ দূত টম ওয়েস্ট।

কমপক্ষে দুই সপ্তাহ চলার কথা এ আলোচনা।

প্রাইস বলেন, ‘উভয় পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থগুলো নিয়ে কথা বলবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আফগানিস্তানে থেকে যাওয়া আমেরিকান নাগরিক ও ২০ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে কাজ করা আফগানদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি।

দুই সপ্তাহ আগে কট্টরপন্থি ইসলামিক গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তানে সাক্ষাৎ করেছিলেন টম ওয়েস্ট।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শেষে দেশের শাসনব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের শাসক দল হিসেবে তালেবানের সঙ্গে দোহায় গত ৯ ও ১০ অক্টোবর প্রথম বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের শাসনে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সে সময় আলোচনা করেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে যে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে, সে বিষয়টি গত শুক্রবারও স্পষ্ট করেন টম ওয়েস্ট।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পেতে হলে তালেবানকে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে হবে; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, তালেবানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র; তবে আপাতত কেবল মানবিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করবে।

শাসক দল তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী গত সপ্তাহে এক খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আফগানিস্তানের গচ্ছিত শত-কোটি ডলার ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে এখনও তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

বিনা বাধায় ১৫ আগস্ট কাবুলের দখল নেয় তালেবান। ছবি: এফপি

কথা দিয়েছিল নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে তারা। আশ্বস্ত করেছিল ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিল, তা থেকে সরে আসবে নতুন সরকার। কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের ১০০ দিনে কট্টর তালেবানের আচরণে বেশি ভুগছে সুশীল সমাজ। নারী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক সবাই নিজেদের অধিকার প্রশ্নে নীরব। যারাই গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নিপীড়ন। বলতে গেলে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে পুরোপুরি।

চলতি বছরের ১৫ আগস্ট যেদিন কাবুল দখলে নেয় তালেবান, সেদিন থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দেশটির অসংখ্য মানুষ। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ১৭ আগস্ট প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধের দিকে ঝুঁকবে না নতুন সরকার।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান। ওই সময়ে তাদের কঠোর শাসনের বলি হয়েছিলেন অনেকে। এ ছাড়া ক্ষমতা হারানোর পর, দীর্ঘ ২০ বছরে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল তাদের। এসব বিষয় মাথায় রেখে উদার নীতির বুলি আওড়েছিলেন তালেবান নেতারা।

কথা দিয়েছিলেন নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন তারা। আশ্বস্ত করেছিলেন ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিলেন, তা থেকে সরে আসবে নতুন তালেবান সরকার।

কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি। তাদের প্রথম টার্গেট হন নারীরা। বাদ যাননি মানবাধিকারকর্মী, বিচারক এমনকি সাংবাদিক।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার কাউন্সিল, সাধারণ অধিবেশনের পাশপাশি জি-সেভেন ও জি-টুয়েন্টি সম্মেলনেও ১৫ আগস্ট-পরবর্তী আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ জানাতে দেখা গেছে বিশ্বনেতাদের। কিন্তু দেশটিতে মানবাধিকার প্রশ্নে সমাধান দিতে পারেনি কেউ।

নারীর অধিকার কেড়ে নেয়া

ক্ষমতা দখলের ৩ দিন পর ১৮ আগস্ট তালেবান মুখপাত্র সুহিল শাহিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও চাকরি করার অধিকার আছে। তাই তারা এসব করতে পারবেন। চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্যান্য খাতের নারীরা নির্বিঘ্নে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরাও হিজাব পরে তাদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

কিন্তু প্রকৃত চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারে নারীদের রাখা তো দূরের কথা, নারীবিষয়ক যে মন্ত্রণালয়টি ছিল, তা কার্যত অচল রেখেছেন তালেবান শাসকরা। স্কুলে কেবল ছেলেরা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের বলা হয়েছে ঘরে থাকতে। টেলিভিশনের পর্দায় নারীর চেহারা দেখানো নিষিদ্ধ হয়েছে সম্প্রতি। অনেক প্রদেশে পুরুষ ছাড়া ঘর থেকে বেরুনোও মানা।

প্রাণহানির ঝুঁকিতে মানবাধিকারকর্মীরা

ভালো নেই আফগানিস্তানে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ম্যারি লওলর সম্প্রতি ১০০ মানবাধিকারকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানিয়েছেন, মারধর, গুম, গ্রেপ্তার এমনকি খুন হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন তারা। অনেক এনজিওর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তালেবানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ফোনে হুমকি, সতর্ক করে চিঠিও দেয়া হচ্ছে অনেককে।

গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব

বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কিছুই সহ্য করতে পারছে না তালেবান। করছে সহিংস আচরণ। অধিকার ফিরে পেতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা হয়েছে বেশ কয়েকটি।

১৮ আগস্ট শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলছিল জালালাবাদে। সেখানে আচমকা গুলি চালানো শুরু করে তালেবান। নিহত হন তিনজন। এদিন হেরাতেও নিহত হন তিনজন। কাবুল ও ফায়জাবাদের সমাবেশে অংশ নেয়াদের পেটানো হয় বেদম।

টার্গেটে সাংবাদিক, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম

ক্ষমতা দখলের পর তালেবান জানিয়েছিল, দেশ শাসনে গণমাধ্যম তাদের বড় সহায়ক হবে। ভুলত্রুটিগুলো উঠে আসবে প্রতিবেদনে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সমালোচনা নিতে পারছে না তালেবান।

দেশটির ২৮ প্রদেশের এক হাজার ৩৭৯ সাংবাদিকের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশের বেশি সাংবাদিককে এরই মধ্যে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু ছাপাতে সাফ নিষেধ করেছে তালেবান।

জরিপে আরও দেখা গেছে, তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর ৬৭ শতাংশ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০ প্রদেশে ১৫৩টি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
তালেবানের ভয়ে বেলগ্রেডে পালিয়ে ১১ আফগান বক্সার
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের
‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’
তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন
তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

শেয়ার করুন