অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

player
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

গবেষণার পেছনের দলটি বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত শিম্পাঞ্জি থেকে প্রাপ্ত ভাইরাসটির একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতে প্ররোচিত করতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা খুব কমসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনের পর অনেক দেশেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। শরীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কার্যকারিতা গবেষণায় প্রমাণিত। তবে এ টিকা মানবদেহে প্রয়োগের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

যেসব ভাইরাসের কারণে স্তন্যপায়ীদের ঠান্ডা-কাশি দেখা দেয়, সে রকম এডিনোভাইরাসের সঙ্গে করোনার জিনগত উপাদান মিশিয়ে এ টিকা তৈরি হয়। মাংসপেশিতে টিকা প্রয়োগের ফলে অনেক সময় রক্ত প্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়।

ফলে এর উপাদান রক্তের প্রোটিন কনা প্লাটিলেট ফ্যাক্টর-৪-কে আকর্ষণ করে। তখন অ্যান্টিবডি ও প্লাটিলেট ফ্যাক্টর-৪ মিলিত হওয়ার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

এডিনোভাইরাস এক ধরনের ভাইরাল ভ্যাক্টর। সাধারণত আণবিক জীববিজ্ঞানীরা কোষগুলোতে জিনগত উপাদান সরবরাহ করতে এটি ব্যবহার করেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় পাওয়া এডিনোভাইরাসটি শিম্পাঞ্জির মধ্যে দেখা যায়।

গবেষণার পেছনের দলটি বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত শিম্পাঞ্জি থেকে প্রাপ্ত ভাইরাসটির একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতে প্ররোচিত করতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা খুব কমসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে।

কার্ডিফের গবেষকদের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিজ্ঞানীরাও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টিকা নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনার চেয়ে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেয়ার পর অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ও কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। যদিও গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা জোর দিয়েছিলেন যে, ঘটনাটি খুব কমসংখ্যক মানুষের মধ্যে ঘটে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটিও করোনাভাইরাস থেকে মানব কোষে স্পাইক প্রোটিন বহন করার জন্য এডিনোভাইরাস ব্যবহার করে থাকে। ফলে জনসনের টিকাতেও বিরল রক্ত জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনের বরাতে, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা শরীরে ঝুঁকির চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বেশি তৈরি করে।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলেছে সরকার। ফাইল ছবি

দেশে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি কতোটা বিস্তার লাভ করেছে? এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল নেই বিএসএমএমইউ-এর গবেষণার। এদিকে আইইডিসিআর-ও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার চিত্র দিচ্ছে না। 

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা যাতায়াত করেননি এমন ব্যক্তির দেহে এ ধরন শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত ৭১ রোগীর নমুনা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জায় (জিআইএসএআইডি) জমা পড়েছে। এদের অর্ধেকের বেশির দেশের বাইরে যাওয়ার ইতিহাস নেই।

পাশাপাশি সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়েছে। সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া আট রোগী চট্টগ্রামের। এর আগে রোববার যশোরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

তবে ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে সরকারের কোনো সংস্থা এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গতবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা প্রকাশ করে সরকারের সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবার এই সংস্থাটিও অনেকটা নীরব।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ওমিক্রন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

ওমিক্রন ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত সোমবার বলেন, ‘জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি রয়েছে। এটা শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। তবে ঢাকার বাহিরেও আমরা মনে করি একই হাল হবে। এ কারণেই করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটির উৎস কী, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আমল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের। আমাদের হাতে এই তথ্য এসেছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে পারব না।’

‍তিনি বলেন, এখনও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য রয়েছে। এ ছাড়া ওমিক্রন ২০ শতাংশ ছড়িয়েছে। গ্রামে এই ধরনের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

গবেষণাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমিক্রনে দৈনিক কত জন আক্রান্ত, কত জন মারা গেলেন, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। পুরুষ ও নারী কত জন সে তথ্য দেয়াও সম্ভব নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুহূর্তে ওমিক্রন নিয়ে না ভেবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

‘কারণ সংক্রমণ আজ ১০ শতাংশ, কাল বেড়ে ১৫ শতাংশ আবার পরশু তা কমে ৫ শতাংশে আসতে পারে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ডেল্টার ক্ষেত্রেও তাই। এভাবে আলফা, বিটা ধরন এসেছিল, সেটা চলে গেছে, আবার আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ধরনটি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে এত বেশি গুরুত্ব না দিয়ে ওমিক্রনের উপস্থিতি যে বাংলাদেশে আছে, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ধরনটি তাড়াতাড়ি ছড়ায়। যত বেশি ছড়াবে, তত বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রোগী বাড়তে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও বাড়তে পারে।

‘আরেকটি বিষয় হলো, ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনে মৃত্যুহার কম। কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাদের কো-মরবিডিটি আছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাতায়াতের ইতিহাস না থাকা এবং ঢাকার বাইরে রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ওমিক্রনের প্রভাবে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই সর্তক হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে, সেখানে দেখা গেছে দেশে শনাক্ত হওয়া ২০ শতাংশ রোগীই বর্তমানে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

প্রকাশিত গবষণার প্রধান গবেষক ডা. লায়লা আনজুমান বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাসে ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এখানে ২০ শতাংশ করোনা রোগীর দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি ৮ জানুয়ারি শেষ হয়। যেহেতু সংক্রমণ বাড়ছে, ওমিক্রনের বিস্তার বাড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা ভালো। ৮ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ২০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ও ৮০ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পরবর্তী মাসে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জিনোম সিকোয়েন্স অনেক ব্যয়বহুল। একটি জিনোম সিকোয়েন্স করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। যে কারণে সব রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হয় না। অনেক প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে এই জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফল আসতে পারে। এ ছাড়া সময় ও দিনের ব্যবধানে চিত্রের পরিবর্তন হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ত আইইডিসিআরের একটা সোর্স থেকে এ কথা বলেছেন। এগুলো অনুমাননির্ভর জিনিস। ওমিক্রনে বেশির ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির মৃদ উপসর্গ বা আপার রেসপেরিটরি ইনফেকশন দেখা দেয়। ফলে বেশি সংখ্যক নমুনা নিয়ে কাজ না করলে সঠিকভাবে বলা কঠিন কোন ধরণটি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া জিনোম সিকোয়েন্সিং সময়সাপেক্ষে ও ব্যয়বহুল। এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে রোগী শনাক্তে দৈনিক কতটি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, কতজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সে ব্যাপারে আইইডিসিআর ভাল বলতে পারবে। তবে আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটাকে আপাতত ধরে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে নমুনা পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব মেলে। ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

সিভাসুর মাইক্রো বায়োলজি ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ ল্যাবের টিম লিড ড. ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, ‘বিশেষ কিটে ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ৭ ব্যক্তিই মৃদু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে এসেছিলেন।

‘তাদের হালকা সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা ৯৯-১০০ ডিগ্রির মতো ছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব আছে কি না।’

এদিকে সিভাসুতে ওমিক্রন শনাক্তে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ ধরনের ১০০টি কিট। যার মাধ্যমে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিতি জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

প্রতীকী ছবি

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

করোনার টিকার জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ না দিলেও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

ইউএনও জানান, শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দিতে সার্বিক খরচ বহন করছে সরকার। সেখানে শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা আছে কিনা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা সদর থেকে টিকা আনার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, টিকা পরিবহনের জন্য স্কুলপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ২২ শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা আনার জন্য ১৩ দিনে ২২ শ টাকা হিসেবে ২৮ হাজার ৬ শ টাকা এবং আরও দুই দিন টিকা আনার ভাড়া বাবদ চালককে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা। টিকা সরবরাহের জন্য সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬ শ টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

আঞ্চলিক উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা দেয়ার জন্য টাকা তোলার নিয়ম নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে তার বিরুদ্ধে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা আগৈলঝাড়ায় এনে দেয়ার জন্য পাঁচজন শিক্ষক নেতা মিলে বিভিন্ন স্কুল থেকে টাকা তুলেছেন। সেই টাকা জমা রেখেছিলেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মন্টু বাবুর কাছে। আগামী রোববার টাকার হিসেব দেয়ার কথা, কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

‘এমনভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে টিনের বক্সে একদিকে ৫০ টাকা ফেলেছেন অন্য দিকে টিকা নিয়েছেন। বিষয়টি তেমন নয়। শিক্ষক নেতারা টাকা উত্তোলন করে এখন আমার ওপর দায় দিচ্ছেন। ৭ লাখ টাকা উত্তোলন হাস্যকর বিষয়। সম্ভবত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না।

এর আগে নওগাঁপাবনাতেও করোনাভাইরাসের টিকা বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

সিঙ্গেল ডোজের জনসনের টিকা ঢাকায়

সিঙ্গেল ডোজের জনসনের টিকা ঢাকায়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তররের টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আজ সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে প্রথমবারের মতো জনসনের ৩ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ করোনা টিকা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই টিকা এসেছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। অন্যান্য টিকা করোনা প্রতিরোধে দুই ডোজ দেয়ার প্রয়োজন হলেও এই টিকা এক ডোজ দিতে হয়।’

প্রথমবারের মতো জনসন অ্যান্ড জনসনের সিঙ্গেল ডোজের ৩ লাখ ৩৬ হাজার টিকা দেশে এসেছে। কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এই টিকা দিয়েছে বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই টিকার চালান এসে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুকে জনসনের এই টিকা পাঠানোর উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেয়।

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আজ সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে প্রথমবারের মতো জনসনের ৩ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ করোনা টিকা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই টিকা এসেছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। ‘এই টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন অনেকটা সহজ। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেমন জটিলতা নেই। অন্যান্য টিকা করোনা প্রতিরোধে দুই ডোজ দেয়ার প্রয়োজন হলেও এই টিকা মাত্র এক ডোজ দিতে হয়।’

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

তৃতীয় ঢেউয়ের দ্বারপ্রান্তে করোনা

তৃতীয় ঢেউয়ের দ্বারপ্রান্তে করোনা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা করোনায় আক্রান্ত রোগী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী টানা ১৪ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ধরে নিতে হবে। বৃহস্পতিবার টানা ১৩ দিন সংক্রমণের হার পাওয়া গেল ৫-এর বেশি। আরেক দিন এই হারে রোগী পাওয়া গেলেই করোনার তৃতীয় ঢেউ ধরে নিতে হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ চলাকালে যে হারে সংক্রমণ হতো, সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০ হাজার ৮৮৮ জনের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা গত ১০ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

শাটডাউন চলাকালে সেদিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৬৪ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। সেই দিনটি ছিল শাটডাউনের শেষ দিন। এর পরদিন থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে থাকে।

বেশ কয়েক মাস পর দেশের ৬৪ জেলাতেই রোগী পাওয়া গেল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ, সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনার পরীক্ষা হয়েছে ৪১ হাজার ২৯৯ জনের। এদের মধ্যে ২৬.৩৭ শতাংশের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার শাটডাউনের সময়কালের ৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ছিল ২৭.১২ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা ১৩ দিন ৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী আর এক দিন ৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেলেই দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ধরে নিতে হবে।

গত ৪ অক্টোবর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়ে গত ৯ জানুয়ারি। সেদিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এরপর ১৩ দিনে তা পাঁচ গুণ বাড়ল।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনার পরীক্ষা হয়েছে ৪১ হাজার ২৯৯ জনের। এদের মধ্যে ২৬.৩৭ শতাংশের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার শাটডাউনের সময়কালের ৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ছিল ২৭.১২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী টানা ১৪ দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ধরে নিতে হবে।

রোগী বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আগের দিন যা ছিল ১২ জন।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি হলেও তৃতীয় ঢেউয়ের আগে আগে এই হার বেশ কম।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ২৮ হাজার ১৭৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৫ জন।

প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতোই তৃতীয় ঢেউয়েও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় যত রোগী পাওয়া গেছে, তার ৭০ শতাংশের মতোই পাওয়া গেছে এই বিভাগে।

পৌনে ১১ হাজার রোগীর মধ্যে ৭ হাজার ৩৭৯ জনই এই বিভাগের।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

আক্রান্ত হওয়ার ৯ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসমুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনামুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানও।

তিনি বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার স্ত্রী রাহাত আরা এবং তার বাসার অন্যরা করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্টে সবাই নেগেটিভ এসেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনা আক্রান্তের খবর আসে। তখন থেকেই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন তারা।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফখরুল।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ১০ এপ্রিল দলচির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। গুলশানের বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দেন। করোনা পরবর্তী জটিলতায় তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।

এ ছাড়া, গত বছর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নেয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমান সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠলেও করোনায় মারা যান দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশকিছু নেতা।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ

করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ডিসিদের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোভিড বাড়ছে, সরকার আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত। করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। আগে যে ধরনের সহযোগিতা উনাদের কাছ থেকে পেয়েছি, সে ধরনের সহযোগিতা আগামীতেও পাব বলে আশা করছি।’

করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোভিড বাড়ছে, সরকার আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত। করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। আগে যে ধরনের সহযোগিতা উনাদের কাছ থেকে পেয়েছি, সে ধরনের সহযোগিতা আগামীতেও পাব বলে আশা করছি।

‘অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে হলে আমাদের অবশ্যই করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ছিল, করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আমাদের রাখতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। ভ্যাকসিন কার্যক্রমেও ডিসিরা সহযোগিতা করছেন।’

অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১৫ কোটি ডোজ দেয়া হয়ে গেছে। সরকারের হাতে এখনও ৯ কোটি ডোজ টিকা রয়েছে। টার্গেট ১২ কোটি মানুষের ভ্যাকসিনেশন করতে যে টিকা লাগবে, সে টিকা সরকারের হাতে রয়েছে। এটি বিরাট বিষয়। অনেক দেশে এই পরিমাণ টিকা নাই। মজুত টিকা দিয়ে মাধ্যমে ১২ কোটি মানুষকে দ্বিতীয় দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ শিক্ষার্থীকে করোনার টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভ্যাকসিনেশন কমপ্লিট। যারা বাকি রয়েছে তাদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ডিসিরা কোনো দাবি জানিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলাপর্যায়ে প্রতিটি জেলায় হাসপাতাল নির্মাণে জেলা প্রশাসকদের একটি দাবি ছিল। সেই বিষয়ে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোর নির্মাণ কাজ চলমান।

‘কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেছেন, যার একেকটি সাড়ে ৪০০ বেডের। এখানে ক্যানসার কিডনি ও হার্টের রোগের চিকিৎসা হবে। সামনেও এমন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি।’

নদী দূষণে জড়িত শিল্প-কারখানার দিকে নজর দিতেও ডিসিদের আহ্বান জানিয়েছেন বলেন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী ও পানি দূষণ হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে। এই পানি যারা ব্যবহার করছে, তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই বিষয়ে নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকাফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন
‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ কোটি মানুষ’
করোনায় আরও ৩ মৃত্যু
ওমিক্রনে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

শেয়ার করুন