× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
The most expensive city is Tel Aviv
google_news print-icon

সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তেল আবিব

সবচেয়ে-ব্যয়বহুল-শহর-তেল-আবিব
ইসরায়েলের তেল আবিব শহর। ছবি: এএফপি
ইআইইউ বলছে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর ইসরায়েলের তেল আবিব। গত বছর এ তালিকায় শীর্ষে থাকা প্যারিস এবার যৌথভাবে সিঙ্গাপুর সিটির সঙ্গে দ্বিতীয় অবস্থানে। আর জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়ের শহর সিরিয়ার দামেস্ক।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের (ইআইইউ) বুধবার এ তালিকা প্রকাশ করে।

চলতি বছরের ডলারের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৭৩ শহরে কমপক্ষে ৫০ হাজার পণ্য ও সেবার ব্যয় বিবেচনায় এ সূচক তৈরি করেছে ইআইইউ।

ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা করা হয়। এ সময়ে নৌপথে পরিবহন খরচের পাশাপাশি পণ্যের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে গড় দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বলা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বে দ্রুততম মুদ্রাস্ফীতির রেকর্ড হয়েছে এবার।

পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

তালিকায় প্রথম পাঁচে আছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক আছে ষষ্ঠ অবস্থানে।

প্রথম দশের মধ্যে আছে সুইজারল্যান্ডের আরেক শহর জেনেভা, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও জাপানের ওসাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ১৪, মেলবোর্ন ১৬ ও যুক্তরাজ্যের লন্ডন তালিকার ১৭ নম্বরে।

জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর সিরিয়ার দামেস্কের আগের ঠিক ওপরে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Putin and Kim signed a defense pact

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন পুতিন ও কিম

প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন পুতিন ও কিম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
কিম জং উন বলেছেন, ‘রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে এবং উত্তর কোরিয়া নিঃশর্তভাবে রাশিয়ার সব নীতিকে সমর্থন করবে। মস্কোর সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর উত্তর কোরিয়া তার দেশ বা রাশিয়ার মুখোমুখি হওয়া ঘটনা বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিনা দ্বিধায় জবাব দেবে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বুধবার পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া পশ্চিমাদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মুখোমুখি। এ অবস্থায় দুই দেশ বাইরের যেকোনো আক্রমণের সময় একে অপরকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে পিয়ংইয়ংয়ে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির বিকল্প নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এই চুক্তির ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোর সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া প্রসারিত করতে পারে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এনবিসি নিউজকে বলেছেন, এ ধরনের চুক্তি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য তা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

পুতিন ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বুধবার উত্তর কোরিয়ায সফরে আসেন। তিনি ঠিক এমন সময়ে সফর করছেন যখন ক্রেমলিনের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব ও উত্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কিয়েভের প্রতিরক্ষার জন্য দেশটি তার মিত্রদের কাছ থেকে জোরালো প্রতিশ্রুতি পাচ্ছে।

কিমের দাদা ও উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতার নামে মধ্য পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ারে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মধ্যাহ্নে পৌঁছান পুতিন।

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দেশটির সাধারণ নাগরিক ও শিশুরা পুতিন ‌এবং কিমকেকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে কিম ও পুতিন কুমসুসান প্রাসাদে শীর্ষ বৈঠকের জন্য রওনা হন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানায়, আলোচনা শুরুর আগে পুতিন এক বক্তব্যে বলেন, ‘ইউক্রেনসহ রুশ নীতির প্রতি আপনার ধারাবাহিক ও অবিচল সমর্থনের আমরা ভূয়সী প্রশংসা করি।’

তিনি ইউক্রেনের বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থানকে ‘তার সার্বভৌম নীতির আরেকটি প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পুতিন এ সময় দাবি করেন, রাশিয়া দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের চাপিয়ে দেয়া সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

অস্ত্র পরীক্ষা ত্বরান্বিত করা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা উস্কে দেয়ার জন্য দায়ী কিম বুধবার ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে- কিম তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক সমৃদ্ধির নতুন যুগে প্রবেশ করছে এবং উত্তর কোরিয়া নিঃশর্তভাবে রাশিয়ার সব নীতিকে সমর্থন করবে।

‘উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক মৈত্রীর নতুন স্তরে পৌঁছেছে।’

কিম জং উন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মস্কোর সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর উত্তর কোরিয়া তার দেশ বা রাশিয়ার মুখোমুখি হওয়া ঘটনা বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিনা দ্বিধায় জবাব দেবে।’

তবে এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া কী হবে বা তিনি ঘটনা বা যুদ্ধ হিসেবে কী বোঝাতে চেয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, ‘আমাদের দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন ঘটনা বা যুদ্ধের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়ার দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা, দ্বিধা বা সিদ্ধান্তে কোনো পার্থক্য করবে না।’

দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি একটি বহু মেরুর বিশ্ব সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করবে যেখানে কোনো একক দেশ আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।’

দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়। কিম ও পুতিনের মধ্যে সামনাসামনি অতিরিক্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এর আগে বুধবার ভোরে পুতিন পিয়ংইয়ং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছলে কিম তাকে স্বাগত জানান। এ সময় দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং জড়িয়ে ধরেন। এরপর তিনি পুতিনের সঙ্গে লিমুজিনে করে কুমসুসান রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে যান। সফরকালে পুতিন এখানেই অবস্থান করছেন।

পুতিন বুধবার এই কৌশলগত চুক্তিকে একটি ‘মৌলিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই চুক্তি রাশিয়া ও নর্থ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে একটি শক্তিশালী রূপ দেবে।

হনুলুলুর এশিয়া-প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক লামি কিম বলেন, এই চুক্তি অস্ত্র ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করতে পারে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতাকে সহজতর করতে পারে।

এদিকে পুতিনের কোরিয়া সফরে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির শঙ্কা নিয়ে পশ্চিমা কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, এই চুক্তি ইউক্রেনে পুতিনের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবে এবং এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন মঙ্গলবার অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আগ্রাসনের যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে এমন দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিকাশ ও জোরদার করার জন্য রাশিয়া মরিয়া হয়ে উঠেছে।

‘উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য উল্লেখযোগ্য অস্ত্র সরবরাহ করছে।

অ্যামেরিকার ছয় সিনিয়র কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পুতিন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু সাবমেরিন ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন। তারা বলেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক সশস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম প্রথম সাবমেরিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত পদক্ষেপ সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে, যা নিয়ে বাইডেন প্রশাসন উদ্বিগ্ন।

তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া উভয়েই অস্বীকার করেছে।

রাশিয়া চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। অভিযোগ করা হয় যে মস্কো তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছে এবং কিমকে তার অস্ত্র পরীক্ষার ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা করতে চীনের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পত্তিকেন্দ্রিক জি৭ চুক্তি, ‘চুরি’ বললেন পুতিন
অর্থনীতিবিদ বেলাউসভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানাচ্ছেন পুতিন
পঞ্চম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন পুতিন
পারমাণবিক অস্ত্র মহড়ার নির্দেশ পুতিনের
ন্যাটো দেশে হামলা নয়, ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিলে ধ্বংস করা হবে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hajj ends with stoning Satan and Tawaf of Kaaba Sharif

শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজ সমাপ্ত

শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজ সমাপ্ত মিনায় তিন দিনের পাথর ছুঁড়ে মারার অনুষ্ঠানটি হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমগুলোর মধ্যে একটি। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুসারে, মক্কা ও এর আশেপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। প্রচণ্ড গরমে বৃদ্ধদের অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া, হিট স্ট্রোকে হাজিদের বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যে তৃতীয় দিন মঙ্গলবার শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ এবং মক্কায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফ তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) করার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ করেছেন হাজিরা।

মক্কার বাইরে মরু এলাকা মিনায় তিন দিনের পাথর ছুঁড়ে মারার অনুষ্ঠানটি হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমগুলোর মধ্যে একটি। এটি অশুভ ও পাপ দূরীকরণের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। শনিবার আরাফাতের ময়দানে হাজিদের জমায়েতের একদিন পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।

হজের শেষ দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা একসঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করে। এসময় আর্থিক সামর্থ্যের আলোকে বিশ্বাসীরা ইসলামের নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর বিশ্বাসের পরীক্ষার কথা স্মরণ করেন। আল্লাহ তাকে (নবী ইব্রাহিম) তার একমাত্র পুত্রকে (ইসমাইল) কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গবাদি পশু জবাই করে এর মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে মুসলমানরা।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন অনুসারে, এর অনুষ্ঠানগুলো মূলত নবী ইব্রাহিম ও তার পুত্র নবী ইসমাইল, ইসমাইলের মা হাজেরা এবং নবী মুহাম্মদের (সা.) বর্ণনায় উঠে এসেছে।

ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, সেদিন আল্লাহ তার রহমতের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ইসমাইলকে রক্ষা করেন।

ইয়েমেন থেকে আসা হাজি মেজাহেদ আল-মেহরাবি পাথর ছুড়ে মারার অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, ‘আমি শান্তি পেয়েছি। এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। যদি কারও (মক্কায়) গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করার সুযোগ থাকে, তার তা অবশ্যই করা উচিত।’

নাইজেরিয়ার হাজি আমির ওমর প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ শেষ করার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে যে, আমি আমার ধর্মের একটি ফরজ পালন করেছি। আমি (আল্লাহর প্রতি) খুব কৃতজ্ঞ বোধ করছি।’

মঙ্গলবার সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুসারে, মক্কা ও এর আশেপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। প্রচণ্ড গরমে বৃদ্ধদের অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া, হিট স্ট্রোকে হাজিদের বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে বলে জানা গেছে।

জর্ডান ও তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪১ জন জর্ডানের এবং ৩৫ জন তিউনিসিয়ার নাগরিক। মিসরের স্থানীয় গণমাধ্যমও মিশরীয় হাজিদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এবারের হজে এখনও মোট মৃত্যুর সংখ্যা জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

হজ পালনের সময় আরও অনেক হাজির হিসাব পাওয়া যায়নি। অনেক মিসরীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাফাতের ময়দান ও মিনা উল্লেখ করে তাদের আত্মীয়দের খোঁজে পোস্ট দিয়েছেন। কয়েকজন হাজি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের মক্কার আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের পর হাজিরা গ্র্যান্ড মসজিদে কাবা শরিফকে সাতবার তাওয়াফ করতে করতে মক্কার দিকে রওনা হন। শেষ তাওয়াফ নামে পরিচিত এই প্রদক্ষিণের মাধ্যমে হজের সমাপ্তি করে হাজিরা মক্কা শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হজ শেষে পুরুষরা তাদের মাথা ন্যাড়া করবে এবং নারীরা সমস্ত চুল ধরে আঙুলের এক কড় কেটে ফেলবেন, যা ইসলামের নবী রাসূলের সুন্নাহ।

এরপর অধিকাংশ হাজি মক্কা ছেড়ে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে মদিনা শহরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কবর জিয়ারত করবেন।

নবীজির কবরের পবিত্র কক্ষটি নবীর মসজিদের অংশ, ইসলামের তিনটি পবিত্রতম স্থানগুলোর মধ্যে একটি। অন্য দুটি হচ্ছে- মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ ও জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ।

শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে একবার হজ করা বাধ্যতামূলক (ফরজ)। অনেক ধনী মুসলমান একাধিকবারও হজ করে থাকেন।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৪ সালে ২২টি দেশের ১৬ লাখেরও বেশি হাজি এবং প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার সৌদি নাগরিকসহ ১৮ লাখ ৩ হাজারেরও বেশি মুসলমান হজ পালন করেছেন।

২০২৪ সালে বিধ্বংসী হামাস- ইসরায়েল যুদ্ধের পটভূমিতে হজের কার্যক্রম শুরু হয়। হামাস ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধটি মধ্যপ্রাচ্যকে আঞ্চলিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি উপত্যকায় যুদ্ধ এবং নিজ দেশে এক দশক ধরে চলা সংঘাতের কথা উল্লেখ করে ইয়েমেনের হাজি আল-মেহরাবি বলেন, ‘আমি প্রথমে গাজা ও পরে ইয়েমেনের জন্য প্রার্থনা করেছি।’

আরও পড়ুন:
শয়তানকে পাথর ছোড়ার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
হজের চূড়ান্ত পর্বে আরাফাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রার্থনা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Putin in North Korea to strengthen defense ties

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন বিমানবন্দরে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানান কিম। ছবি: এএফপি
২০০০ সালের পর এটি পুতিনের উত্তর কোরিয়ায় প্রথম সফর।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন বুধবার পিয়ংইয়ংয়ে শীর্ষ বৈঠক শুরু করেছেন। বৈঠকে তাদের মধ্যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল ও পারস্পরিক সামরিক সম্পর্ক বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পুতিন কুমসুসান স্টেট গেস্ট হাউসে আয়োজিত এ আলোচনার আগে একটি অনুষ্ঠানের জন্য কিম ইল সুং স্কোয়ারে পৌঁছেছিলেন। স্থানটি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা এবং দুই নেতার বড় প্রতিকৃতি দিয়ে সজ্জিত ছিল। খবর বাসসের

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, পুতিনের এ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

এর আগে কিম বিমানবন্দরে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানান। এই সময় দুই নেতা লাল গালিচায় আলিঙ্গন করেন। এটি ২০০০ সালের পর উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর।

পুতিন ও কিম দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দেন। তাদের এই ঘোষণা সিউল ও ওয়াশিংটনে জন্য উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো কিমকে উভয় দেশের উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ এনেছে। যদিও মস্কো ও পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সেপ্টেম্বরে স্পেস এয়ারপোর্টে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের জন্য কিম তার বুলেট প্রুফ ট্রেনে রাশিয়ার সুদূর পূর্ব অঞ্চলে যাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক।

পুতিনের এই ফিরতি সফর দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘অজেয়তা ও স্থায়িত্ব’ তুলে ধরছে। পুতিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভসহ বেশ কয়েকজন রুশ কর্মকর্তার সঙ্গে সফর করছেন।

এই সফরটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কের দিকে মনোনিবেশ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। যদিও নেতারা অর্থনৈতিক খাতে দুই দেশের সহযোগিতাকে প্রকাশ্যে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে যে কোনো ধরনের অস্ত্র চুক্তি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যে রেজুলেশন রয়েছে, তা লঙ্ঘন করবে।

উত্তর কোরিয়াবিষয়ক গবেষক ডংগুক বিশ্ববিদ্যালয় ইমেরিটাস অধ্যাপক কোহ ইউ-হওয়ান বলেন, ‘ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সমর্থন প্রয়োজন, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ কমাতে উত্তর কোরিয়ার খাদ্য, শক্তি ও উন্নত অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন প্রয়োজন।’

দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে পুতিনের এই উত্তর কোরীয় সফরটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।

দুই কোরিয়া তাদের ১৯৫০-৫৩ সালের দ্বন্দ্বের পর থেকে প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধে লিপ্ত এবং তাদের বিভক্ত করা সীমান্তটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুরক্ষিত সীমানা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন সংকট নিরসনে চীনের পরিকল্পনায় সমর্থন পুতিনের
অর্থনীতিবিদ বেলাউসভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানাচ্ছেন পুতিন
মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধের প্রস্তাবে রাশিয়ার ভেটো
নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে ইরান-রাশিয়া সমঝোতা
ইউক্রেন যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Biden orders legalization of millions of immigrant spouses

লাখ লাখ অভিবাসী স্বামী-স্ত্রীকে বৈধতা দিতে বাইডেনের আদেশ

লাখ লাখ অভিবাসী স্বামী-স্ত্রীকে বৈধতা দিতে বাইডেনের আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাঁচ লক্ষাধিক অভিবাসী আমেরিকান স্বামী বা স্ত্রীর বৈধতা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দশ বছর ধরে আছেন এবং বৈধভাবে সেখানে কাজ করার অনুমতি আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন এই নীতি প্রযোজ্য হবে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লাখ লাখ অভিবাসী আমেরিকান স্বামী বা স্ত্রীর বৈধতা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দশ বছর ধরে আছেন এবং বৈধভাবে সেখানে কাজ করার অনুমতি আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন এই নীতি প্রযোজ্য হবে।

হোয়াইট হাউজ প্রত্যাশা করছে, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে পাঁচ লক্ষাধিক স্বামী বা স্ত্রী উপকৃত হবেন। নতুন স্পাউস পলিসির আওতায় মা-বাবার যে কোনো একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এমন ২১ বছরের কম বয়সী ৫০ হাজার যুবক সুবিধা পাবেন।

বর্তমান অভিবাসন ইস্যু বাইডেনের জন্য নির্বাচনী বছরের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইডেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে রেকর্ড অভিবাসী আগমন রোধে অভিবাসন আইনে ব্যাপক সংশোধন এনেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত করার অঙ্গীকার করেছেন।

জনমতে দেখা গেছে, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে অনেক ভোটারের কাছে অভিবাসন ইস্যুটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওবামা প্রশাসন ২০১২ সালে ‘ড্রিমার্স’ নামে পরিচিত শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা পাঁচ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বিতাড়ন থেকে রক্ষায় ‘ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস’ বা ‘ডাকা’ প্রণয়নের পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বাসন কর্মসূচি হতে যাচ্ছে।

ডাকা’র ১২তম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানের আগে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আদেশ দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এর আগে সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অনিবন্ধিত স্বামী বা স্ত্রী যদি ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করেন এবং ১৭ জুনের মধ্যে বিবাহিত হন তবে তারা এই নীতির আওতায় সুবিধা পাবেন।

দম্পতিরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার জন্য তিন বছর সময় পাবেন এবং তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিট পাবেন।

হোয়াইট হাউজ মনে করছে, যারা এই প্রক্রিয়ার জন্য যোগ্য তারা গড়ে ২৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।

অনুমতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা জামিনে থাকবেন এবং তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে বলে সোমবার প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান।

এদিকে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা সংগঠন নাম্বারসইউএসএ নতুন নীতিকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করে এই নীতির নিন্দা জানিয়েছে।

সংস্থাটির চিফ এক্সিকিউটিভ জেমস মাসা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সীমান্ত সংকট সমাধানের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করছেন। এই নীতির আওতায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ রয়েছে।’

হোয়াইট হাউস ড্রিমারসহ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী বা নিজ নিজ ক্ষেত্রে চাকরির প্রস্তাব পাওয়া অত্যন্ত দক্ষ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করছে।

নতুন এই নীতি ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগে বাইডেন এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অনুরোধ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই ঘোষণার সময় বাইডেন এই পদক্ষেপকে যারা খুব কঠোর বলে মনে করেন তাদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সামনের সপ্তাহগুলোতে আমি আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত করা যায় তা নিয়ে কথা বলব।’

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউ গত সপ্তাহে বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তি দেখিয়েছে যে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছে।

আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের পলিসি ডিরেক্টর অ্যারন রেইচলিন-মেলনিক বলেন, ‘যদিও দুটি ঘোষণা একে অপরের সঙ্গে মোটেও যুক্ত নয়; তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি প্রশাসনকে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে নেয়া পদক্ষেপের বিপরীতে কিছু ইতিবাচক সমর্থন পেতে সহায়তা করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
শীর্ষ আইএসআইএস নেতার আস্তানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
জি-৭ সম্মেলনে বাইডেনের ‘বিব্রতকর’ ভুল
পাকিস্তানের স্বপ্ন ভাঙল বৃষ্টি, সুপার এইটে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও জিতে সুপার এইটে ভারত
আর্শদীপের বোলিং তোপের পর ১১০ রানে থামল যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israeli strikes on two refugee camps in Gaza kill 17

গাজায় দুটি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১৭

গাজায় দুটি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১৭ ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহতের কফিন জড়িয়ে কাঁদছেন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সোমবার গাজা উপত্যকার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তারা রাফাহর বেশ কয়েকটি এলাকায় ট্যাংক ও বিমান থেকে ভারী বোমাবর্ষণ করেছে। মধ্য গাজার আল-নুসেইরাত ও আল-বুরেইজে পৃথক শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়।

গাজা উপত্যকার দুটি শরণার্থী শিবিরে সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি ট্যাংক রাফাহর আরও গভীরে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকরা।

বাসিন্দারা রাফাহর বেশ কয়েকটি এলাকায় ট্যাংক ও বিমান থেকে ভারী বোমাবর্ষণের কথা জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর মে মাসের আগে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ইসরায়েলি বাহিনী শহরটিতে হামলা চালালে বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী উত্তর দিকে পালিয়ে যায়। বিমান বাহিনী সোমবার গাজা উপত্যকার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

মধ্য গাজা উপত্যকায় দুটি পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল-নুসেইরাত এবং আল-বুরেইজে ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত গাজার ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক খলিল বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টা বিলম্বের পর ইসরায়েল আরও বেশি মানুষকে হত্যা করছে। আমরা এখনই যুদ্ধবিরতি চাই।’

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে ১৭ জন নিহতের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী গাজার মধ্যাঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় ইসলামিক জিহাদের একটি স্নাইপার সেলের কমান্ডার নিহত হয়েছেন এবং সেনারা একটি জঙ্গি সেলকেও নির্মূল করেছে বলে দাবি করেছে তারা।

হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র শাখাগুলো জানিয়েছে, যোদ্ধারা ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট ও মর্টার বোমার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সেনা ইউনিটগুলোর ওপর আগে থেকে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

রাফাহর এক বাসিন্দা চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে রয়টার্সকে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই রাফায় বোমা ফেলা হচ্ছে। ইসরায়েলিরা এখানে বিনাবাধায় হামলা করছে।’

রাফাহর পশ্চিমে তেলসমৃদ্ধ আল-সুলতান, আল-ইজবা ও জুরুব এলাকা এবং শহরের কেন্দ্রস্থল শাবুরার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি ট্যাংক আক্রমণ করে।

তারা পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা ও উপকণ্ঠের পাশাপাশি মিসর সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দখল করতে থাকে।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘বেশিরভাগ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী রয়েছে। কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা রেখেছে তারা যার জন্য রাফাহবাসীকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তারা শহর ও শরণার্থী শিবির ধ্বংস করছে।’

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালে রাফাহর পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, গত সপ্তাহে আরও অনেকে নিহত হয়েছেন বলে তাদের ধারণা। তবে উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছতে পারেনি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা রাফায় সুনির্দিষ্ট, গোয়েন্দা-ভিত্তিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গত দিনের যুদ্ধে তারা খুব কাছ থেকে প্যালেস্টেনিয়ান বন্দুকধারীদেরকে হত্যা করেছে এবং অস্ত্র জব্দ করেছে।

বিমান বাহিনী গত দিনে গাজা উপত্যকার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন নেতানিয়াহু
গাজায় হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ৮ সেনা নিহত
শিগগিরই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে পরিবর্তন চায় হামাস, অস্বীকার দলটির
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ৪

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
China must suffer the consequences of helping Russia in war NATO chief

যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার ফল ভোগ করতে হবে চীনকে: নেটো প্রধান

যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার ফল ভোগ করতে হবে চীনকে: নেটো প্রধান নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীন দুদিকেই সুবিধা নিতে চাইছে। দেশটি একদিকে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।’

পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, চীন তার অবস্থান না বদলালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন দেয়ার পরিণতি ভোগ করতে হবে দেশটিকে।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘চীন দুদিকেই সুবিধা নিতে চাইছে। দেশটি একদিকে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।’

ওয়াশিংটন সফরকালে নেটো প্রধানের সঙ্গে কথা হয় বিবিসির। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও কথা বলেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন- মঙ্গলবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এটা নিশ্চিত করার পরই ওয়াশিংটন সফরে আসেন নেটো প্রধান।

পুতিন এর আগে গত মাসে চীন সফর করেন।

একদিন আগেই সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি সম্মেলন শেষ হয়েছে, যেখানে কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে অনেক রাষ্ট্র।

তবে রাশিয়া সম্মেলনটিকে ‘সময়ের অপচয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করলেই কেবল তারা শান্তি আলোচনায় সম্মত হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার এমন অনমনীয় অবস্থানের মধ্যেই নেটো মহাসচিবের মন্তব্যটি এলো।

রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থনের ব্যাপারে নেটো দেশগুলো কী করতে পারে- এমন প্রশ্নে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি আলোচনা চলমান।’

রাশিয়ায় অনেক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে চীন। এর মধ্যে মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক্সের এতা প্রযুক্তিও আছে, যা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে,’ যোগ করেন স্টলটেনবার্গ।

তিনি বলেন, ‘চীন যদি তাদের এই আচরণ না পাল্টায়, আমাদের কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে হবে।

‘বেইজিং ইতোমধ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। গত মাসে চীন ও হংকংভিত্তিক ২০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

‘কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র বিক্রি করছে না দাবি করে চীন মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে এবং আইন-কানুন মেনেই সুকৌশলে ডুয়াল-ইউজ (দ্বিমুখী ব্যবহারযোগ্য) ব্যবস্থায় পণ্য রপ্তানি করছে।’

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক

২০২২ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া বিশ্ব মঞ্চে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকে।

পুতিন বার বার বলে আসছেন, পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য সরে যাচ্ছে। আর তিনি সমমনা নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করে যাচ্ছেন।

‘রাশিয়া আরও বেশি বেশি কর্তৃত্ববাদী শাসকদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে,’ বিবিসিকে বলেন স্টলটেনবার্গ। উদাহরণ হিসেবে ইরান, চীন ও উত্তর কোরিয়ার নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া গোলা-বারুদ পাঠাচ্ছে। বিনিময়ে দেশটির মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিচ্ছে রাশিয়া। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে।’

দুই বছর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীন ও রাশিয়া ‘আনলিমিটেড পার্টনারশিপ’-এর ঘোষণা দেয়। সেই মাসেই ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এখনও সেই যুদ্ধে জড়িয়ে আছে রাশিয়া।

যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চীনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে রাশিয়াকে।

তবে রাশিয়ায় চীনের সামরিক-বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যায় এমন দ্রব্য এবং অস্ত্র রপ্তানির সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।

চীনের কাস্টমস্ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত বছর ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এতে সময়ের অনেক আগেই পূরণ হয়েছে দেশ দু’টির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা। তাতে প্রবৃদ্ধি ২৬ শতাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের সময় রাশিয়ায় চীনের গাড়ি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। সাড়ে নয় লাখ গাড়ি রপ্তানি হয়েছে গত বছর। আগের বছরের তুলনায় ৪৮১ শতাংশ বেড়েছে এই খাতের বাণিজ্য।

অন্যদিকে রাশিয়া স্বল্প মূল্যে চীনের কাছে খনিজ জ্বালানি বিক্রি করছে। রুশ কোম্পানি গ্যাজপ্রম এখন চীনের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কটা মূলত বাজার চাহিদার ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে।

তাদের মতে, এই সুযোগ যতটা না চীনের সহায়তার কারণে হচ্ছে, তারচেয়ে বেশি হচ্ছে পশ্চিমা চাপের কারণে। এর ফলে, দুই দিকের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রণোদনা পাবে।

পশ্চিম দিক থেকে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে পড়ার পর রাশিয়ার অর্থনীতি প্রাচ্যমুখী হয়েছে। রুশ কূটনীতির খাতায় বন্ধু তালিকায় পশ্চিমের চেয়ে পূর্বদিকের দেশের সংখ্যাই বেশি।

আরও পড়ুন:
রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পত্তিকেন্দ্রিক জি৭ চুক্তি, ‘চুরি’ বললেন পুতিন
ইউক্রেনকে ৫ হাজার কোটি ডলার দেবে জি-৭
চীনের ‘শাস্তিমূলক’ মহড়ার জবাবে সেনা মোতায়েন তাইওয়ানের
সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের ‘লিটল মস্কোতে’ পুতিন
চীন-রাশিয়ার ‘কষ্টার্জিত’ সম্পর্কের লালনপালন চান শি

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Heavy rains kill 13 in El Salvador and Guatemala

ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি

ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি মধ্য আমেরিকায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এল সালভাদর। ছবি: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
মধ্য আমেরিকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শত শত লোক প্রাণ হারায় এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

মধ্য আমেরিকায় প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্যারিসভিত্তিক টিভি নেটওয়ার্ক ফ্রান্স টোয়েন্টিফর।

মধ্য আমেরিকায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এল সালভাদর।

দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান লুইস আমিয়া বলেছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় তাকুবা জেলায় সোমবার ভূমি ধসে পাঁচ জন মারা গেছেন। শুক্রবার ও রোববারের মধ্যে বন্যা ও ভূমি ধসে আরও চার ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার রাজধানীতে গাছ ও খুঁটি উপড়ে একটি গাড়ির ওপর পড়লে আরও দুই জন নিহত হন।

এ প্রেক্ষিতে দেশটির কংগ্রেস ত্রাণ সরবরাহের সুবিধার্থে জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছে।

এ ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে এক্সে জানিয়েছেন, যাতায়াতসহ অন্যান্য ঝুঁকি এড়াতে তিনি মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করতে বলেছেন কংগ্রেসকে।

গুয়েতেমালায় পশ্চিম পৌরসভা সাকাপুলাসের চাচায়া গ্রামে ৫৯ বছরের এক নারী এবং ৬৮ বছরের এক পুরুষ দেয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার থেকে উভয় দেশেই বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ইকুয়েডরে ভূমি ধসে প্রাণহানির সংখ্যা ছয় থেকে সাত জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে ২২ জন।

মধ্য আমেরিকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শত শত লোক প্রাণ হারায় এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুন:
মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু
ফুলপুরে পানিতে ডুবে এক পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু
দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পুকুরে মিলল মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ
ঢামেকে অসুস্থ হাজতির মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে