বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

player
বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে। বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে টক্কর দিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতায় একলা চলো নীতিতেই আস্থা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে আসতে চাইলে স্বাগত জানাবে দল।

সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজেপি-বিরোধিতায় নিজেদের শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে।’

তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধানে কিছু পরিবর্তন হবে জানিয়ে ডেরেক বলেন, ‘বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। আর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তিনি বলেন, ‘মমতাদির লড়াই, ‘কর্মীদের মৃত্যু গোটা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে তৃণমূলের ডিএনএ পরিবর্তন হচ্ছে না, শুধু দলের সংবিধান পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

জেডিইউ ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে আসা পবন বর্মা বলেন, ‘আজ দেশের যে অবস্থা তাতে এটা স্পষ্ট যে সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দায়িত্ব নিতে হবে।’

বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা, মেঘালয়, উত্তরপ্রদেশের তৃণমূল নেতারা। ছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ি মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য যশবন্ত সিনহা। তৃণমূলের পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসবে দিল্লিতে।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

গত বছর আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাগুলো নতুন সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়। ফলে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

এবার দেশটির ক্রম অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ জানিয়েছে, এ প্রকল্পগুলো আফগান জনগণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পগুলোর ব্যয় ২৬৮.৩ মিলিয়ন ইউরো এবং আফগানিস্তানে কাজ করে যাওয়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর ও আইওমের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনার জুত্তা ইউরপিলাইনেন বলেন, ‘বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।‘

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আফগানিস্তানকে সর্বমোট ৭০৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এমিলি হর্ন জানিয়েছিলেন, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যারা আফগানিস্তানে ও আফগান শরণার্থীদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও দরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুত ৭০৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবে।

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্যাভাব ও মানবিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, দেশটির অর্ধেক মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ যারা পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে, তাদের সহায়তার জন্যও ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবানের একজন স্থানীয় কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী দেশটির পূর্ব কোনার প্রদেশের নারাং জেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এমনটাই জানিয়েছে নারাং জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গেছে। এ ছাড়া ৪ জন সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে গত আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার সময়েই বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। দেশটিতে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

তবে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত বিরোধের থেকে হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

পাহাড়ে রোগীর জন্য পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

পাহাড়ে রোগীর জন্য পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

বক্সার পাহাড়ি এলাকায় ৮ টি অ্যাম্বুলেন্স চালু করবে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজ বাংলা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬ হাজার ফুট ওপরে কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসার জন্য সমতলে নামিয়ে আনা কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক।

ভারতের আলিপুরদুয়ার বক্সার পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মূল সমস্যা হলো উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬ হাজার ফুট ওপরে কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসার জন্য সমতলে নামিয়ে আনা কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধানে পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে জেলা প্রশাসন।

আলিপুরদুয়ারের জেলা প্রশাসক সুরেন্দ্র মীনা বলেন, 'মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে আমরা একটি পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরীক্ষামূলকভাবে চালু করি। সেটা মানুষের কাজে আসায় আমরা বক্সার প্রত্যন্ত এলাকার জন্য অন্তত ১টি করে পালকি অ্যাম্বুলেন্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই ৮টি পালকি অ্যাম্বুলেন্স চালু হবে।'

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের বক্সার পাহাড়ের ওপর ১১টি গ্রাম রয়েছে। উচ্চতার জন্য অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীদের সমতলের নামিয়ে এনে চিকিৎসা করানো খুবই সমস্যা সেখানে।

এত দিন বাঁশের মাচায় করে রোগীদের সমতলে নামিয়ে আনত স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকেরা। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে বাঁশের মাচায় রোগী নিয়ে নামা বিপজ্জনক, প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন সেখানকার বাসিন্দারা। এমনকি সেখানে দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

পাহাড়ের উচ্চতায় বসবাসকারী এসব মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্য দপ্তর ও ফ্যামিলি প্লানিং অফ ইন্ডিয়া যৌথ উদ্যোগে পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে।

বক্সার ডারাগাওয়ের গ্রামের বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা পাশালহাম ডুকপার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে পালকি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে কালচিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়। সেখান থেকে তাকে সেই পালকি অ্যাম্বুলেন্সে আলিপুরদুয়ার হাসপাতালে নামিয়ে আনা হয়। সেখানে ১৪ জানুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পাশালহাম ডুকপা।

পাশালহামের স্বামী ওয়াঙ্গেল ডুকপা জানান, পাশালহামই বক্সা পাহাড়ের প্রথম নারী, যাকে গর্ভবতী অবস্থায় পালকি অ্যাম্বুলেন্সে সমতলে নামিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

আইএনএস রনবীর যুদ্ধজাহাজে মঙ্গলবার বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি:

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়।

ভারতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। শহরের অদূরে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। তিন সেনা মারা গেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেনারা জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। আহতদের নেভাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেস ক্লাব বিলুপ্ত করল ভারত সরকার

কাশ্মীর প্রেসক্লাবের দখল নিয়েছে প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

সংবাদমাধ্যমের ওপর আবারও আগ্রাসন চালাল ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে তারা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন শ্রীনগরে অবস্থিত কাশ্মীর প্রেস ক্লাব দখল করে নিয়েছে।

প্রথমে প্রশাসন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে ক্লাবের জমি ও ভবনের সরকারি বরাদ্দ বাতিল করে ভবনটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

এদিকে সরকারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটি। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সরকারের লক্ষ্য ছিল ক্লাবটি বন্ধ করা, কিন্তু এ পদক্ষেপ কাশ্মীরের সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।

কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইশফাক তন্ত্রে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা এ উপত্যকার একমাত্র গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে অনুরণিত সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল।

তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের সাংবাদিকরা শিখা প্রজ্জ্বলিত রাখতে এবং সামনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যথেষ্ট সক্ষম এবং পেশাদার। আমি আবারও বলতে চাই যে কাশ্মীরে সাংবাদিকতা উন্নতি লাভ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।’

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে দেশটি কেন্দ্রের শাসনে চলে যায়। কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পরে, সরকার সেন্ট্রাল সোসাইটি অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলে।

গত বছর মে মাসে কাশ্মীর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন বর্ধিতকরণের আবেদন করে। রেজিস্ট্রার অফ সোসাইটিজ ২৯ ডিসেম্বর তাদের আবেদন মঞ্জুর করে।

তবে ১৪ জানুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়। এর পরদিনই কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে পুলিশ প্রেস ক্লাব ভবনের দখল নেয়।

পরবর্তী সময়ে সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০০-এর বেশি সাংবাদিকের সংগঠন কাশ্মীর প্রেস ক্লাবকে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং ক্লাবকে দেয়া ভবন ও জমির বরাদ্দও বাতিল করা হয়।

স্থানীয় সংবাদপত্র 'কাশ্মীরওয়ালা'র সম্পাদক ফাহাদ শাহ বলেছেন, ‘সাংবাদিকতা এই অঞ্চলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে সাংবাদিকদের ক্রমাগত তলব এবং আটকে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের বাড়িতে ও অফিসেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে কতটা নির্লজ্জভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনগুলোকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে জনগণকে এমন একটি লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য যা সরকার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’

উল্লেখ্য , কাশ্মীরে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষদের গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোকে অকেজো করে দিয়ে সেগুলোকে অস্তিত্বহীন ঘোষণা করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।

কাশ্মীর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্সের অনুসরণে প্রেস ক্লাব হলো সর্বশেষ স্বাধীন সামাজিক সংগঠন, যেখানে আগস্ট ২০১৯ সাল থেকে জোরপূর্বক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাধা দেয়া হয়েছিল।

শনিবারের ঘটনার পর এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ভারতের প্রায় সব প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের সংগঠন প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

মোদির ওপর হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা  নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমনটাই জানা গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন প্রতিবেদনে।

৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বাইরের কোনো গোষ্ঠী এই সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে। ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে নাশকতার চক্রান্ত করা হচ্ছে। গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, স্থাপনা ও জনসমাবেশে হামলা চালানো।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে দেশটির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা ছাড়াও কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে।

সম্প্রতি গাজিপুরের ফুলের বাজারে আইইডি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরার পাশাপাশি ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে প্রায় ৫০ হাজার সন্দেহভাজন অপরাধীর তথ্য থাকবে। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

করোনা বিধির কারণে প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানের মোট ৪ হাজার টিকিট বাজারে পাওয়া যাবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ২৪ হাজার জন উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার দীপক যাদব জানিয়েছেন, জঙ্গি নাশকতার সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়তে থাকার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও দিল্লি পুলিশের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। পুলিশকে রাজধানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দীপক যাদব জানিয়েছেন, ‘নয়াদিল্লি এলাকা ও তার আশপাশে বসবাসকারী ভাড়াটে এবং হোটেলগুলোতে থাকা অতিথিদের ওপর বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে।

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা রয়েছে। উড়ন্ত কোনো বস্তু যেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করতে পারে, সেই কারণে অ্যান্টি ড্রোন টিমও মোতায়েন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

চলে গেলেন বাংলা কমিক্সের জনক

বাংলা কমিক্সের জনক নারায়ণ দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

ভারতের কিংবদন্তি কার্টুনিস্ট, বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক, বাটুল দ্য গ্রেট, নন্টে ফন্টের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ মারা গেছেন।

কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোম হাসপাতালে মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার ভুগছিলেন। তখন থেকেই এই বর্ষীয়ান শিল্পী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, মঙ্গলবার সকালে আবার তার অবস্থার অবনতি হয়ে সকাল সোয়া ১০ নাগাদ তার মৃত্যু হয়।

বাংলা কমিক্স সাহিত্যের জনক নারায়ণ দেবনাথ ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাওড়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সোনার গয়নার ব্যবসা ছিল নারায়ণ দেবনাথের পরিবারের। বাংলাদেশের বিক্রমপুর থেকে তার পরিবার পাকাপাকিভাবে হাওড়া যায়। ছোটবেলা থেকেই তার আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল।

নারায়ণ দেবনাথ তাদের পারিবারিক ব্যবসা গয়নার নকশা বানাতেন ছোট থেকেই। স্কুল শেষে তিনি ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তিনি সে সময় তার ডিগ্রি কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে দেব সাহিত্য কুটিরের শুকতারা পত্রিকায় বাংলা কমিক্স সাহিত্য নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে ‘হাঁদা ভোঁদা’ নামে। টানা ৫৩ বছর ধারাবাহিকভাবে চলেছে এই কমিক্স স্ট্রিপ।

‘হাঁদা ভোঁদা’ ছিল সাদা কালো, কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুকতারার পাতায় এলো রঙিন বাংলা কমিক্স স্ট্রিপ ‘বাটুল দ্য গ্রেট’। একে একে এসেছে নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল এবং অন্য সব বিখ্যাত চরিত্ররা। যারা কয়েক প্রজন্মের বাঙালির জীবনের সঙ্গে মননের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। ২০০৭ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। ২০১৩ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার, ২০১৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি দেয়। ২০২১ সালে শিল্পীকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।

তার প্রয়াণে দেব সাহিত্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার বলেন, ‘তার সৃষ্টির জন্য আপামর বাঙালি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট, বাহাদুর বেড়াল, এদের বাঙালির সংস্কৃতি থেকে আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাটুল দি গ্রেট আবাল বৃদ্ধবনিতাকে মানসিকভাবে চাঙা করে দিয়েছিল। নারায়ণ দেবনাথ বাঙালির মনের মণিকোঠায় থেকে যাবেন।’

আরও পড়ুন:
মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

শেয়ার করুন