ভারতে কৃষক আন্দোলনের চূড়ান্ত জয়

player
ভারতে কৃষক আন্দোলনের চূড়ান্ত জয়

বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির রাস্তায় কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল। ছবি: এএফপি

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস করা হবে, এ কথা আগেই জানা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, আইন প্রত্যাহারের বিল পাস করার আগে, তা নিয়ে আলোচনা করা হোক।

কৃষক আন্দোলনের জয় হলো ভারতে।

দেশটির সংসদের উভয় কক্ষে বিনা আলোচনায় পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়ে গেল বিলটি।

বিরোধী দলগুলো এই বিল নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে তা নাচক হয়ে যায়।

সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি পাস হয়ে যাওয়ায় আইন প্রত্যাহারের কাজ এক প্রকার শেষই হয়ে গেল।

বিল পাস হওয়ার পরই বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করায় রাজ্যসভার অধিবেশন স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস করা হবে, এ কথা আগেই জানা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, আইন প্রত্যাহারের বিল পাস করার আগে, তা নিয়ে আলোচনা করা হোক।

অধিবেশনের শুরুতেই সেই দাবি নিয়ে বিরোধীরা হই-হট্টগোল শুরু করে। তাদের শান্ত হতে বলার অনুরোধ করলেও বিরোধী সাংসদরা বিক্ষোভ জারি রাখেন। বাধ্য হয়ে লোকসভা দুপুর ১২টা অবধি স্থগিত করে দেয়া হয়।

ফের অধিবেশন শুরু হলে কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার। মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই বিনা আলোচনায়, ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই বিল লোকসভায় পাস করিয়ে দেয়া হয়।

বেলা দুইটোয় রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হলে কৃষিমন্ত্রী ফের একবার এই বিল পেশ করেন। বিরোধীরা আলোচনার দাবিতে সরব হওয়ার মাঝেই ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই বিল রাজ্যসভাতেও পাস করিয়ে দেওয়া হয়।

রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই লোকসভায় আলোচনা করতে না দেয়ার বিরোধিতা করে বিরোধী সাংসদরা। তবে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান বিরোধীদের বক্তব্য পেশ করার জন্য বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দুই মিনিট সময় দেন।

লোকসভায় আলোচনা করার সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘আমরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি নিয়ে কথা বলতে চাই। কৃষক আন্দোলন চলাকালে যেসব কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও লখিমপুর খেরির ঘটনা নিয়ে আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ দেয়া হলো না।’

বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাজ্যসভাতেও আইন প্রত্যাহারের বিল বিনা আলোচনাতেই পাস করানোর প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আগেই আমরা সরকারকে আইন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আজ সেই আইন প্রত্যাহার করা হল। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আলোচনা ছাড়াই আইন প্রত্যাহার করে নেয়া হলো।

‘এই সরকার আলোচনায় ভয় পায়। আসল সত্যিটা হল যে কৃষকরা দেশের মানুষদের প্রতিনিধি হিসাবে যে শক্তি হয়ে উঠে এসেছে, তার সামনে দাঁড়াতে পারছে না কেন্দ্রীয় সরকার।’

রাহুল বলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিষয়টিও তাদোর মাথায় ঘুরছে। সেই কারণেই আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।’

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টেক্সাসে জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাজ্যে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক গ্রেপ্তার

টেক্সাসে জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাজ্যে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন।

যুক্তরাজ্যের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) জিম্মি ঘটনায় নিহত হয়েছেন জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার সেই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে আটক হলো দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্মি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক মালিক ফয়সাল আকরাম পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক আটকের ঘটনা জানাল।

তবে ম্যানচেস্টারে আটক হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নাকি মেয়ে এবং তাদের বয়সও প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ম্যানচেস্টারের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, জিম্মি ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিক মৃত্যুর পর তাদের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, জিম্মিকারী আকরাম দুই সপ্তাহ আগে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট দিয়ে নিউ ইয়র্কে আসেন।

পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর আগে আকরাম টেক্সাসের একটি সিনাগগে ৪ জনকে জিম্মি করেন। এর মাঝে একজন ইহুদি ধর্মগুরুও (রাবাই) ছিলেন।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সাগরতলে ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি

সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গাতে সুনামি আঘাত হেনেছে। এমনকি জাপানের শিকোকু দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কোচি প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৃদু সুনামি, কিন্তু ঠিক কী কারণে সাগরতলের হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাতে সুনামির সৃষ্টি হলো?

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির ১৫ তারিখে হওয়া হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের অগ্ন্যুৎপাত ঠিক কী কারণে সুনামির জন্ম দিল তা স্পষ্ট নয়।

আগ্নেয়গিরি বিশারদ ও বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক রবিন জর্জ এন্ড্রুসের মতে, এটি কি অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে নাকি আগ্নেয়গিরির কোনো ধসে পানির স্থানচ্যুতি হয়েছে অথবা দুটির কারণেই হয়েছে। তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে এন্ড্রুর মতে, হা’আপায়ে এ ধরনের বিস্ফোরণ হাজার বছরে একবারই হয়।

আসলে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর কী পরিস্থিতি হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝেই বিতর্ক আছে।

হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা-হা’আপায়ের মতো সাগরতলে প্রায় ১০ লাখ আগ্নেয়গিরি আছে।

এসব আগ্নেয়গিরি শুধু লাভাই উদগিরণ করে না, ব্যাপক পরিমাণে আগ্নেয়গিরির ছাইও তৈরি করে।

গ্লোবাল ফাউন্ডেশন ফর ওশানিক এক্সপ্লোরেশন গ্রুপের মতে, আগ্নেয়গিরিসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর চার ভাগের তিন ভাগই ঘটে সমুদ্রের তলদেশে।

পানির নিচের আগ্নেয়গিরির কারণে সমুদ্র পর্বতও তৈরি হয়।

এদিকে হুঙ্গা-টোঙ্গা-হুঙ্গা হা’আপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকা থেকে জনগণকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

তবে বড় আকারের সুনামি শুধু টোঙ্গাতেই আঘাত হেনেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

নারীদের সমাবেশে মরিচ পানি ছুড়ল তালেবান

নারীদের সমাবেশে মরিচ পানি ছুড়ল তালেবান

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে আফগান নারীদের আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনা ও কাজের অধিকারের দাবিতে প্রায় ২০ জন নারী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশ করলে তালেবান বাহিনী এ ঘটনা ঘটায়।

গতবছর আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে বেকায়দায় পড়েছে নারীরা। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মজীবী নারীর চাকরি চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না নারী শিক্ষার্থীরা। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণেও দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নারীদের বোরকা পরতে বলছে দেশটির পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়। এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করে প্রায়ই রাস্তায় আন্দোলন করছেন নারীরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনরত একদল নারীকে লক্ষ্য করে এবার পিপার (গোল মরিচ) স্প্রে ছুড়েছে তালেবান।

পড়াশোনা ও কাজের অধিকারের দাবিতে প্রায় ২০ জন নারী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশ করলে তালেবান বাহিনী এ ঘটনা ঘটায়। এ সময় নারীরা ‘সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার’ এবং ‘নারী অধিকার, মানবাধিকার’ লেখা ব্যানার নিয়ে আসে।

তিনজন নারী আন্দোলনকারী এএফপিকে বলেন, ‘আন্দোলন ভেস্তে যায় যখন কয়েকটি গাড়িতে তালেবান যোদ্ধারা ঘটনাস্থলে আসে এবং আমাদের লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে ছুড়ে।’

একজন নারী জানান, পিপার স্প্রে লাগায় তার ডান চোখ যেন পুড়ছিল।

এ সময় তিনি একজন তালেবান যোদ্ধাকে বলেন, ‘তোমার লজ্জা হওয়া উচিত।’ তখন যোদ্ধাটি তার দিকে বন্দুক তাক করে।

এ ছাড়া পিপার স্প্রের পর একজন নারীর এলার্জির সমস্যা হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

তালেবানরা দেশটির দায়িত্ব গ্রহণের পর নারীরা চাকরি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অধিকাংশ মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে নারীরা এখনও ফিরতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে বারবার রাস্তায় নেমে আসছে।

যদিও তালেবান সরকারের দাবি, নারীদের অধিকার প্রদানে আন্তরিক তালেবান। ধীরে ধীরে তাদের নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার ইসলামি শরিয়াহর আলোকে নারীদের সব অধিকার প্রদান করবে।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

ইহুদি উপাসনালয় ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।   

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে চারজনকে জিম্মি করা ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।

ডালাসের কোলিভিলের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় এক ব্যক্তি চারজনকে জিম্মি করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপসনালয়ের ধর্মগুরুও (রাবাই)।

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে এক ব্যক্তির উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পর পরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

এদিকে আফিয়ার আইনজীবী সিএনএন জানান, ওই ব্রিটিশ জিম্মিকারী আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে জঘন্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

টেক্সাসের বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া ফ্রান্সিস বন্ধ হওয়ায় আগ পর্যন্ত লাইভ স্ট্রিমিং দেখেছিলেন। অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমেরিকাকে নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। তার কাছে বোমা আছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

৩১ জানুয়ারি ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে ভারতের কৃষকরা

৩১ জানুয়ারি ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে ভারতের কৃষকরা

বিভিন্ন দাবিতে ভারতের কৃষকদের আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার এক চিঠিতে কৃষকদের দাবি পূরণে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর ভিত্তিতে কৃষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

ভারত সরকার বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি সংবলিত চিঠি দিয়ে চলমান কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিল। সংযুক্ত কিষান মোর্চাকে গত ৯ ডিসেম্বর ওই চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির ভিত্তিতেই ১৩ মাসের কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহার করে কিষান মোর্চা। কিন্তু চিঠিতে দেয়া প্রতিশ্রুতির একটিও পালন করেনি সরকার। হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা আগামী ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ পালন করবে।

দিল্লি-হরিয়ানার সিংঘু সীমান্তের কাছে কাজারিয়া গ্রামে শনিবার অনুষ্ঠিত কিষান মোর্চার বৈঠকে উপস্থিত ছিল শতাধিক কৃষক সংগঠন। গত ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহারের পর এটাই ছিল সংগঠনটির প্রথম বৈঠক। ওই বৈঠক থেকে চলমান ‘মিশন উত্তরপ্রদেশ’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কিষান মোর্চা এক বিবৃতিতে বলেছে, লখিমপুর খেরি হত্যাকাণ্ডে সরকার ও বিজেপির নির্লজ্জ মনোভাব থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা জনগণের মর্যাদাকে পাত্তা দেয় না। বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টে ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করা সত্ত্বেও এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী অজয় মিশ্র টেনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থেকে কৃষকদের ক্ষতে লবণ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই ঘটনায় কৃষকদের জড়িত করতে ও গ্রেপ্তার করতে তৎপর। এর বিরোধিতা করতে লখিমপুর খেরিতে স্থায়ী অবস্থান বিক্ষোভের ঘোষণা করবে সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা। সম্মিলিত কিষাণ মোর্চা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘মিশন উত্তরপ্রদেশ’ চলবে। এর মাধ্যমে এই কৃষকবিরোধী রাজনীতিকে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে।

কাজারিয়া গ্রামের ওই বৈঠকে কৃষক নেতারা পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে মোর্চার অংশগ্রহণ সম্পর্কে চলতে থাকা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সংযুক্ত কিষান মোর্চা প্রথম থেকেই একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল যে কোনো রাজনৈতিক দল মোর্চার নাম, ব্যানার বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচনেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার সঙ্গে যুক্ত যে কোনো কৃষক সংগঠন বা নেতা, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বা নির্বাচনে যে কোনো দলের হয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন, তারা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চায় থাকবেন না। প্রয়োজনে এই বিধানসভা নির্বাচনের পর এপ্রিল মাসে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি চারটি শ্রমবিরোধী কোড প্রত্যাহারের পাশাপাশি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবিতে এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। কিষান মোর্চা গ্রামীণ ধর্মঘটের আকারে এই আহ্বানকে সমর্থন ও সফল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

ট্যাবলো বাদ, মোদিকে চিঠি মমতার

ট্যাবলো বাদ, মোদিকে চিঠি মমতার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লিখেছেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমি ব্যথিত। শুধু আমি নই, রাজ্যের সব বাসিন্দা মর্মাহত।’

ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এবারও পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার মমতা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমি ব্যথিত। শুধু আমি নই, রাজ্যের সব বাসিন্দা মর্মাহত।’

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের অবদান চিরস্মরণীয়। রাজ্যের ট্যাবলো এভাবে বাতিল করায় সবাই শোকাহত।’

ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন উদযাপন করছে কেন্দ্র সরকার। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন্দ্রের থিম ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’। অন্যদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের থিমের নাম দেয়া হয়েছে ‘নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনী’।

নেতাজি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ট্যাবলোতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, শ্রী অরবিন্দ, মাতঙ্গিনী ও অন্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তুলে ধরার কথা ছিল।

এই প্রথমবার নয়। গত বছরও দিল্লির কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো বাদ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন

‘কোভিড বেচে’ এশিয়ায় ২০ নতুন বিলিয়নিয়ার  

‘কোভিড বেচে’ এশিয়ায় ২০ নতুন বিলিয়নিয়ার  

এশিয়ার এক শতাংশ ধনীর মোট সম্পদ ৯০ শতাংশ দরিদ্রের মোট সম্পদের চেয়ে বেশি। ছবি: এএফপি

২০২০ সালের মার্চ থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এশিয়া অঞ্চলে ধনীর সংখ্যা বেড়েছে এক-তৃতীয়াংশ। ২০২০ সালের মার্চে এ অঞ্চলে বিলিয়নিয়ার ছিলেন ৮০৩ জন; দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮৭ জনে। গড়ে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।  

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। তবে এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি গড়েছেন অঢেল সম্পদ। কেবল এশিয়া অঞ্চলেই নতুন বিলিয়নিয়ার হয়েছেন ২০ জন। করোনা মোকাবিলায় ফার্মাসিউটিক্যালস ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রি করে তারা এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

বৈশ্বিক দারিদ্র্য নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বিপুল মুনাফা অর্জন করেন এই ২০ ব্যক্তি। যদিও এই সময়ে চাকরি হারিয়ে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েছেন অঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষ।

নব্য এসব ধনকুবের চীন, হংকং, ভারত এবং জাপানের নাগরিক। তাদের মধ্যে আছেন উইনার মেডিক্যালের মালিক লি জিয়ানকুয়ান। চীনা এই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) উৎপাদন করে। আছেন আরেক চীনা ব্যবসায়ী ডাই লিঝং। তার প্রতিষ্ঠান সানসুর বায়োটেক করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদন করে থাকে। বাকিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অক্সফামের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এশিয়া অঞ্চলে ধনীর সংখ্যা বেড়েছে এক-তৃতীয়াংশ। ২০২০ সালের মার্চে এ অঞ্চলে বিলিয়নিয়ার ছিলেন ৮০৩ জন; দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮৭ জনে। গড়ে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এশিয়ার এক শতাংশ ধনীর মোট সম্পদ দরিদ্র ৯০ শতাংশ ব্যক্তির মোট সম্পদের চেয়ে বেশি।

মহামারির শুরুতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সতর্ক করেছিল, বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। অক্সফামের গবেষণায় সে বিষয়টি সত্যি হলো।

অক্সফাম এশিয়ার কর্মকর্তা মোস্তফা তালপুর বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মহামারিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন, হারিয়েছেন চাকরি। দশক ধরে চলে আসা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন, তা থেকে ছিটকে পড়েছেন তারা।’

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসেবে ২০২০ সালে ৮১ মিলিয়ন চাকরি হারিয়ে গেছে। কর্মঘণ্টা কমে আসায় আরও ২২-২৫ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যে পতিত হয়েছেন। যেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বেড়েছে অন্তত এক দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এই অর্থ এশিয়ায় চাকরি হারানো প্রত্যেককে ১০ হাজার ডলার করে বেতন দিতে যথেষ্ট।

করোনায় এশিয়ায় মারা গেছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। গবেষণা বলছে, মৃত্যু ও দারিদ্র্যের কারণে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কোম্পানি ক্রেডিট সুইস বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আরও ৪২ হাজার ব্যক্তি নতুন করে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হবেন; ৯৯ হাজার হবেন বিলিয়নিয়ার।

২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়নে; যা ২০২০ সালের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
৭০০ কৃষকের মৃত্যুর দায় কার, প্রশ্ন ভারতের কৃষক নেতার
কৃষক আন্দোলন: মৃতের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ দাবি
ভারতে আবার কৃষক বিদ্রোহ
ভারতে ১৫ আগস্ট কিষান দিবস পালনের ডাক কৃষকদের
ভারতে ১০০ কৃষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

শেয়ার করুন