উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

player
উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অং সান সু চির। ফাইল ছবি/এএফপি

সু চির বিরুদ্ধে করা কমপক্ষে ১২টি মামলার কোনোটিরই রায় ঘোষণা করা হয়নি এখনও। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী এ নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে তাকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে উসকানির মামলায় রায় হতে পারে মঙ্গলবার। ফলে দুই দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে- কী আছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এ নেত্রীর ভাগ্যে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একগুচ্ছ মামলার মধ্যে উসকানির মামলায় প্রথম রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে সু চির।

প্রায় ১০ মাসে সু চির বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি, প্রতারণা, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা, অবৈধ ওয়াকিটকি আমদানিসহ কমপক্ষে ১২টি মামলা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সবশেষ গত ১৬ নভেম্বের সু চিসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির নতুন অভিযোগ গঠন করা হয়।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলারই রায় ঘোষণা করা হয়নি। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে।

রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা প্রথম মামলায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দিয়েছেন তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শ’র বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

মাঝে মাঝে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত উসকানির মামলাটিতে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। সু চির অপরাধ হিসেবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জনগণকে উসকানি দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্র।

রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর গঠিত বিশেষ আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ছিল। সু চির আইনজীবীদেরও গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সু চিকে নিয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায় বিলম্বিত হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর সু চির বিরুদ্ধে প্রথমে অনিবন্ধিত ওয়াকিটকি রাখা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় মহামারিকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী। এরপর ধাপে ধাপে অন্য মামলাগুলো করে জান্তা।

প্রায় প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সু চি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সাবেক জান্তা সরকারের আমলে ইয়াঙ্গুনে ঔপনিবেশিক আমলে পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িতে অনেক বছর গৃহবন্দি ছিলেন সু চি। সে সময় বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া লাখো জনতার সামনে মাঝে মাঝে বারান্দা দিয়ে দেখা দিতেন তিনি।

বর্তমানে অতি সুরক্ষিত রাজধানীতে অজ্ঞাত স্থানে সু চিকে বন্দি করে রেখেছে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠী। সু চির সঙ্গে আছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী।

এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে সু চির যোগাযোগ নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে শুনানিপূর্ব বৈঠকেই সীমিত।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির অন্য শীর্ষ পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা শেষের দিকে। চলতি মাসেই সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রীকে ৭৫ বছর আর সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

ভারতীয় কিশোরকে নিয়ে গেছে চীন

অপহরণের শিকার মিরাম তারান। ছবি: সংগৃহী

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত থেকে চীনের সেনারা এক কিশোরকে আটক করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য তাপির গাও।

প্রদেশটির আপার সিয়াং জেলার লুংটা যোর এলাকা থেকে মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অপহরণ করা হয়।

টুইটারে পোস্ট দিয়ে ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে সংসদ সদস্য তাপির গাও জানান, অপহৃত মিরাম তারানের বন্ধু জনি ইয়ায়িং কোনোভাবে চীনা বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। বন্ধুর অপহৃত হওয়ার বিষয়টি তিনিই জানান স্থানীয় প্রশাসনকে।

তাপির গাওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

প্রতিরক্ষা সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে হটলাইনে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল। একজন ভারতীয় পথ হারিয়ে ফেলেছেন বলে তাদের জানানো হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী তাকে খুঁজে বের করতে এবং ফিরিয়ে দিতে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

অরুণাচলের (পূর্ব) লোকসভা সংসদ সদস্য তাপির গাও বলেন, ‘তারান ও তার বন্ধু জনি শিকার করতে গিয়ে পথ হারিয়ে চীনা সৈন্যদের কবলে পড়েন। তবে ইয়াইয়িং পালিয়ে এসে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে টুইটারে তাপির গাও বলেছেন, ‘ভারত সরকারের সব সংস্থাকে ওই কিশোরের দ্রুত মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ধর্ম অবমাননা: বন্ধুর মামলায় নারীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: এএফপি

২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এই বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি। সতর্কের পরও অনড় থাকায় ২০২০ সালে আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক।

ধর্ম অবমাননার দায়ে পাকিস্তানে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদালত বুধবার এ রায় দেয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর নাম আনিকা আতিক। ২০২০ সালে ২৬ বছরের আনিকার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছিল।

ভারতের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ফার্স্টপোস্টের খবরে বলা হয়েছে, আনিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারুক হাসনাত নামে এক ব্যক্তি। তারা একসময় বন্ধু ছিলেন।

বুধবার রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এবং সাইবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

ফার্স্টপোস্ট বলছে, ২০১৯ সালে একটি গেমিং সাইটের মাধ্যমে আনিকার সঙ্গে পরিচয় হয় ফারুকের। পরে তারা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

সে সময়ে ফারুককে হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র পাঠাতেন আনিকা। ফেসবুকেও এ বিষয়ে তৎপর ছিলেন তিনি।

এসবে হতাশ হন ফারুক। তিনি আতিকাকে এসব বার্তা মুছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আতিকা। বাধ্য হয়ে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) সাইবার ইউনিটের কাছে অভিযোগ করেন ফারুক।

এতে বলা হয়, ইচ্ছাকৃত ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অপমানিত করেছেন আতিকা। এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে।

পাকিস্তানে ইসলাম অবমাননার আইন কঠোর। সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হক আশির দশকে এই আইন বাস্তবায়ন করেন।

গত ডিসেম্বরে একই ধরনের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিককে বেদম পেটানোর পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

লাহোরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

পাকিস্তানের লাহোরের একটি ব্যস্ত মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।

লাহোরি গেট এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাহোর পুলিশের মুখপাত্র নায়াব হাইদার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বোমাটি আগে থেকে পোঁতা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

লাহোরের মায়ো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্ফোরণে দুজন মারা গেছেন। আহত ২৬ জন চিকিৎসাধীন।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

ইসলামাবাদে গত সোমবার একটি তল্লাশি চৌকিতে গুলি করে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এক বন্দুকধারী। পরদিন এর দায় স্বীকার করে টিটিপি। ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এটা কেবল শুরু।

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল টিটিপির। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসে টিটিপি।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

গত বছর আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাগুলো নতুন সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়। ফলে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

এবার দেশটির ক্রম অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ জানিয়েছে, এ প্রকল্পগুলো আফগান জনগণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পগুলোর ব্যয় ২৬৮.৩ মিলিয়ন ইউরো এবং আফগানিস্তানে কাজ করে যাওয়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর ও আইওমের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনার জুত্তা ইউরপিলাইনেন বলেন, ‘বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।‘

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আফগানিস্তানকে সর্বমোট ৭০৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এমিলি হর্ন জানিয়েছিলেন, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যারা আফগানিস্তানে ও আফগান শরণার্থীদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও দরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুত ৭০৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবে।

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্যাভাব ও মানবিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, দেশটির অর্ধেক মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ যারা পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে, তাদের সহায়তার জন্যও ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

অজ্ঞাতের গুলিতে ছেলেসহ তালেবান কমান্ডার নিহত

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবানের একজন স্থানীয় কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী দেশটির পূর্ব কোনার প্রদেশের নারাং জেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এমনটাই জানিয়েছে নারাং জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলায় কমান্ডারের ছেলেও মারা গেছে। এ ছাড়া ৪ জন সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে গত আগস্টে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার সময়েই বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। দেশটিতে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

তবে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত বিরোধের থেকে হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

পাহাড়ে রোগীর জন্য পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

পাহাড়ে রোগীর জন্য পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

বক্সার পাহাড়ি এলাকায় ৮ টি অ্যাম্বুলেন্স চালু করবে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজ বাংলা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬ হাজার ফুট ওপরে কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসার জন্য সমতলে নামিয়ে আনা কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক।

ভারতের আলিপুরদুয়ার বক্সার পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মূল সমস্যা হলো উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬ হাজার ফুট ওপরে কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসার জন্য সমতলে নামিয়ে আনা কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধানে পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে জেলা প্রশাসন।

আলিপুরদুয়ারের জেলা প্রশাসক সুরেন্দ্র মীনা বলেন, 'মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে আমরা একটি পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরীক্ষামূলকভাবে চালু করি। সেটা মানুষের কাজে আসায় আমরা বক্সার প্রত্যন্ত এলাকার জন্য অন্তত ১টি করে পালকি অ্যাম্বুলেন্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই ৮টি পালকি অ্যাম্বুলেন্স চালু হবে।'

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের বক্সার পাহাড়ের ওপর ১১টি গ্রাম রয়েছে। উচ্চতার জন্য অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীদের সমতলের নামিয়ে এনে চিকিৎসা করানো খুবই সমস্যা সেখানে।

এত দিন বাঁশের মাচায় করে রোগীদের সমতলে নামিয়ে আনত স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকেরা। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে বাঁশের মাচায় রোগী নিয়ে নামা বিপজ্জনক, প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন সেখানকার বাসিন্দারা। এমনকি সেখানে দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

পাহাড়ের উচ্চতায় বসবাসকারী এসব মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্য দপ্তর ও ফ্যামিলি প্লানিং অফ ইন্ডিয়া যৌথ উদ্যোগে পালকি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে।

বক্সার ডারাগাওয়ের গ্রামের বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা পাশালহাম ডুকপার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে পালকি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে কালচিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়। সেখান থেকে তাকে সেই পালকি অ্যাম্বুলেন্সে আলিপুরদুয়ার হাসপাতালে নামিয়ে আনা হয়। সেখানে ১৪ জানুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পাশালহাম ডুকপা।

পাশালহামের স্বামী ওয়াঙ্গেল ডুকপা জানান, পাশালহামই বক্সা পাহাড়ের প্রথম নারী, যাকে গর্ভবতী অবস্থায় পালকি অ্যাম্বুলেন্সে সমতলে নামিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

মুম্বাই উপকূলে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ, ৩ সেনা নিহত  

আইএনএস রনবীর যুদ্ধজাহাজে মঙ্গলবার বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি:

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়।

ভারতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। শহরের অদূরে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের বিবৃতির বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএনএস রনবীর নামে জাহাজটিকে উপকূলে অভিযান চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি উপকূলে ফিরছিল। তখন ভেতরের কোনো একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। তিন সেনা মারা গেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেনারা জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। আহতদের নেভাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সু চির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নতুন অভিযোগ গঠন
মিয়ানমার ছাড়ছেন কারামুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক
মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ১১ বছরের জেল

শেয়ার করুন