যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় চীনের আরও ১২ প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় চীনের আরও ১২ প্রতিষ্ঠান

১৫ নভেম্বরের ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

চীনভিত্তিক আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরিতে চীনের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য। সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের নকশা চুরি বা চুরির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির দোহাই দিয়ে বাণিজ্য খাতে চীনের আরও ১২টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটি চীনের সেনাবাহিনীকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রোগ্রাম আধুনিকায়নে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন। অথচ চলতি মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দ্বিপক্ষীয় ভার্চুয়াল সম্মেলনে বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন, জাপান, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের মোট ২৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় চীন ও পাকিস্তান থেকে। ‘পাকিস্তানের অনিরাপদ পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

চীনভিত্তিক আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরিতে চীনের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য। সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের নকশা চুরি বা চুরির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

একইভাবে রাশিয়ার মস্কো ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজির ওপরেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শুধু সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কথা।

তালিকাভুক্তির ফলে চীন ও রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি, আর পাকিস্তানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি পরিচালনায় সহযোগিতা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো রকম আর্থিক লেনদেনে জড়াতে বা তাদের সমর্থন দিতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামল থেকে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করছে ওয়াশিংটন। ২০১৯ সালে এ তালিকায় যুক্ত হয় চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে।

কালো তালিকায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগের মতো আর পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কিছু বিক্রি করতে হলে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অনুমতি নিতে হবে, যা প্রত্যাখ্যান হওয়ার শঙ্কাই বেশি।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেরকেল অধ্যায় শেষ, শলৎসের নেতৃত্বে জার্মানি

মেরকেল অধ্যায় শেষ, শলৎসের নেতৃত্বে জার্মানি

শপথ নিচ্ছেন জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। ছবি: বিবিসি

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জার্মানি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেসটাগে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হয়। ৭০৭টির মধ্যে ৩৯৫ ভোট পেয়েছেন শলৎস, বিপক্ষে পড়ে ৩০৩টি। ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন ছয়জন।

জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নিয়েছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ওলাফ শলৎস। এর মধ্য দিয়ে অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটল।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জার্মান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেসটাগে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হয়। ৭০৭টির মধ্যে ৩৯৫ ভোট পেয়েছেন শলৎস, বিপক্ষে পড়ে ৩০৩টি। ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন ছয়জন।

ভোটের এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এসপিডি জোটের সব সদস্য শলৎসকে ভোট দেননি। সবার সমর্থন পেলে তার ৪১৬ ভোট পাওয়ার কথা।

ভোটের পর জার্মান প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে যান শলৎস। সেখানে প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যান্সেলর পদের নিয়োগপত্র তুলে দেন। এরপর বুন্দেসটাগে ফিরে শপথ নেন ৬৩ বছরের এই মধ্য বামপন্থি নেতা।

শপথের পর ঘোষণা করেন নতুন মন্ত্রিসভা। ১৬ মন্ত্রীর মধ্যে সাতজন শলৎসের দল এসপিডির। পাঁচজন গ্রিন পার্টির, এফডিপি থেকে থাকছেন চারজন। শিগগিরই শপথ নেবেন তারা।

গত সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে শলৎসের মধ্য বামপন্থি এসপিডি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে। দুই মাসের আলোচনার পর জোট বাঁধে পরিবেশবাদী গ্রিনস এবং নব্য উদারপন্থি এফডিপির সঙ্গে৷

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

ফাইজারের তিন ডোজ ‘ঠেকাবে’ ওমিক্রন

ফাইজারের তিন ডোজ ‘ঠেকাবে’ ওমিক্রন

ফাইজার ও বায়ো-এনটেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা। ছবি: সংগৃহীত

ওমিক্রনের ওপর ফাইজারের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণাগারে পরীক্ষার পর প্রাপ্ত ফলের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফাইজারের টিকার দুই ডোজ নতুন ও অতিসংক্রামক ধরনটির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারছে না। তবে তৃতীয় ডোজটি দেয়ার পরই দেখা গেছে আক্রান্তের শরীরে ওমিক্রন প্রতিরোধী ক্ষমতা বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ।

করোনা প্রতিরোধী ফাইজারের তিন ডোজ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রুখে দিতে সক্ষম হবে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির প্রতিষ্ঠান বায়ো-এনটেক যৌথ বিবৃতিতে এমনটি জানিয়েছে।

ওমিক্রনের ওপর ফাইজারের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণাগারে পরীক্ষার পর প্রাপ্ত ফলের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফাইজারের টিকার দুই ডোজ নতুন ও অতিসংক্রামক ধরনটির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারছে না। তবে তৃতীয় ডোজটি দেয়ার পরই দেখা গেছে আক্রান্তের শরীরে ওমিক্রন প্রতিরোধী ক্ষমতা বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ।

কমপক্ষে এক মাস আগে ফাইজারের তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নেয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়র আশঙ্কা অনেক কম।

ফাইজারের শীর্ষ কর্মকর্তা আলবার্ট বৌরলার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা ফাইজারের প্রথম দুই ডোজ নিয়েছেন তাদের দ্রুত বুস্টার ডোজ নিয়ে নিতে হবে। এই ডোজই ওমিক্রনের বিরুদ্ধে মানব শরীরে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফাইজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুস্টার ডোজ নেয়ার পরামর্শ থাকলেও ওমিক্রন প্রতিরোধী টিকা তৈরিতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সাউথ আফ্রিকায় করোনা গবেষণা সংস্থা আফ্রিকা হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের দেয়া তথ্যের অনেক মিল রয়েছে। সাউথ আফ্রিকার গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘করোনার প্রথম দুই ডোজের প্রতিরোধ শক্তিকে ওমিক্রন এড়িয়ে যেতে পারলেও তৃতীয় ডোজটি সংক্রমণকে রুখে দিতে পারে।’

গত আগস্টে সাউথ আফ্রিকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিবেশী বোতসোয়ানার পাশাপাশি হংকংয়েও ছড়িয়েছে বি ওয়ান ওয়ান ফাইভ টু নাইন নামের ধরনটি। গত ৩০ আগস্ট দেশটিতে সি ওয়ান টু নামের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছিল।

পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নতুন ধরনটির নাম দেয় ওমিক্রন।

সাউথ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফাহলা জোহানেসবার্গে গত ২৫ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘করোনার নতুন এই ধরনটি অন্যান্য ধরনের চেয়ে দ্রুত মিউটেশন করতে পারে। দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় টিকা খুব একটা কাজ করছে না। এ কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। মাসের শুরুতে দৈনিক সংক্রমণ গড়ে এক শ থাকলেও তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তা ১২ গুণ বেড়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ টুলিও ডি অলিভেইরা জানিয়েছেন, নতুন ধরনটির কমপক্ষে ১০টি রূপ এখন পর্যন্ত তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। যদিও ডেলটা ধরনের রূপ রয়েছে কেবল দুটি আর বেটার রয়েছে তিনটি।

বিজ্ঞানীরা জানান, নতুন ধরনের এমন ঊর্ধ্বমুখী শনাক্তের হার সাউথ আফ্রিকাসহ পাশের দেশগুলোতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান সস্ত্রীক নিহত

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান সস্ত্রীক নিহত

ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত প্রাণ হারিয়েছেন হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতীয় বিমান বাহিনীর এক টুইটে বলা হয়, জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত এবং হেলিকপ্টারের আরও ১১ আরোহী দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। হেলিকপ্টারের ১৪ আরোহীর মধ্যে কেবল একজন জীবিত আছেন, তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত নিহত হয়েছেন। তার স্ত্রীসহ আরও ১২ আরোহীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের বরাতে নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।

বিধ্বস্ত সামরিক হেলিকপ্টারটিতে বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা ও ক্রুসহ মোট ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ জনেরই মৃত্যু নিশ্চিত করে ভারতীয় বিমান বাহিনী।

নিহতদের মধ্যে বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতও আছেন। এ ঘটনায় বেঁচে থাকা একজন এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

ভারতীয় বিমান সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, বুধবার তামিলনাড়ুর কুন্নুরে নীলগিরি জঙ্গলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। পরে অগ্নিদগ্ধ, গুরুতর আহত অবস্থায় ভারতীয় প্রতিরক্ষাপ্রধানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষাপ্রধানকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বুধবার দিল্লি থেকে তামিলনাড়ুর সুলুরে যাচ্ছিল।

এমআই-১৭ভি৫ মডেলের হেলিকপ্টারটি রাশিয়ার তৈরি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে সেনা সূত্র জানায়, হেলিকপ্টারে ৯ যাত্রী ও ৫ ক্রু ছিলেন। যাত্রীরা হলেন- বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত, ব্রিগেডিয়ার এলএস লিড্ডের, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হারজিন্দার সিং, নায়েক গুরসেবক সিং, নায়েক জিতেন্দ্র কুমার, ল্যান্সনায়েক বিবেক কুমার, ল্যান্সনায়েক বি সাই তেজা, হাবিলদার সাত পাল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬৩ বছর বয়সী জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ভারত সরকারের সেনা সম্পর্কিত নতুন বিভাগের প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

নাইজেরিয়ায় ৩০ বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

নাইজেরিয়ায় ৩০ বাসযাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

দুজন স্থানীয় গ্রামবাসী, যারা শুরুর দিকেই আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তারা জানান, বাসে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছিল। দেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তা শনাক্তের উপায় নেই। তবে তারা ৩০ জনের দেহাবশেষ গুনতে সক্ষম হন।

নাইজেরিয়ায় কমপক্ষে ৩০ বাসযাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, মঙ্গলবার সোকতো রাজ্যে ডাকাতরা যাত্রীবোঝাই একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উত্তর-পশ্চিম বোরনো রাজ্যের পুলিশের মুখপাত্র সানুসি আবু বকর জানান, ‘বাসে ২৪ যাত্রী ছিল। তবে সাতজন আহত অবস্থায় বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

দুজন স্থানীয় গ্রামবাসী, যারা শুরুর দিকেই আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তারা জানান, বাসে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছিল। দেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তা শনাক্তের উপায় নেই। তবে তারা ৩০ জনের দেহাবশেষ গুনতে সক্ষম হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাবোন বিরনি এলাকা এবং বোরনো প্রদেশের গিদান বাওয়া এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সড়কে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। যাদের স্থানীয়ভাবে ডাকাত বলা হয়।

ডাকাতরা জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় এবং গ্রামবাসীকে প্রায়ই চাঁদা আদায়ের জন্য অপহরণ করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

কীভাবে বিধ্বস্ত ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানের হেলিকপ্টার

কীভাবে বিধ্বস্ত ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানের হেলিকপ্টার

ভারতের প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়কের বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতসহ ১২ সামরিক কর্মকর্তা বহনকারী সর্বাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টারটি কী কারণে বিধ্বস্ত তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কাটাছেড়া, ওঠে এসেছে নানামুখি প্রশ্ন ও সন্দেহ। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিকভাবে সর্বাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্তের কারণ হিসেবে দুটি তত্ত্ব উঠে আসছে – যান্ত্রিক গোলযোগ বা দৃশ্যমানতার অভাব। আর তার সঙ্গে অবশ্যই আরও একটি তত্ত্ব উঠে আসছে। অন্তর্ঘাত কিংবা নাশকতার তত্ত্ব। বিমান বাহিনী ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতসহ ১২ সামরিক কর্মকর্তা বহনকারী সর্বাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টারটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এদিকে, দিল্লির সেনা ছাউনিতে শুক্রবার বিকেলে প্রয়াত প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়ক জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং তার স্ত্রী মধুলিকার শেষকৃত্য হবে।

বিধ্বস্ত সামরিক হেলিকপ্টারটিতে বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা ও ক্রুসহ মোট ১৪ যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ জনেরই মৃত্যু নিশ্চিত করে ভারতীয় বিমান বাহিনী। এ ঘটনায় বেঁচে থাকা একজন এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

বুধবার দুপুরে মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ে ভারতীয় সেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। গুরুতর জখম রাওয়াতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। সেখানে মৃত্যু হয় দেশের প্রথম প্রতিরক্ষাপ্রধানের।

দুর্ঘটনা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কাটাছেড়া, ওঠে এসেছে নানামুখি প্রশ্ন ও সন্দেহ।

রাওয়াতের মতো হাই-প্রোফাইল সেনা কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হেলিকপ্টারে সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা থাকে? সেগুলি কী এভাবে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে?

প্রথমে মনে করা হয়েছিল, হাইটেনশন তারে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ার পর আগুন লেগে গিয়েছিল হেলিকপ্টারটিতে। তবে যত সময় এগোচ্ছে, তত সেই তত্ত্ব হালকা হয়ে আসছে। কারণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ দাবি করছেন, তারা আকাশেই হেলিকপ্টারটিতে আগুন লেগে যেতে দেখেছেন। এরপর জ্বলন্ত হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।

কীভাবে বিধ্বস্ত ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানের হেলিকপ্টার
জেনারেল বিপিন রাওয়াতের হেলিকপ্টার ওয়েলিংটন যাওয়ার পথে নীলগিরি পাহাড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ছবি:সংগৃহীত

উল্লেখ্য, প্রয়াত প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াত যে হেলিকপ্টারটিতে ছিলেন, সেটি এমআই-১৭-ভি-৫ মডেলের। এমআই সিরিজ়ের সর্বাধুনিক হেলিকপ্টার হল এই এমআই-১৭-ভি-৫। বহুবিদ কাজে ব্যবহার করা যায় এই হেলিকপ্টার। তাই এর চাহিদাও অনেক বেশি।

২০০৮ সালে রাশিয়া থেকে কেনার জন্য ৮০টি এমআই -১৭-ভি-৫ হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছিল ভারত। ২০১১ থেকে হেলিকপ্টারগুলো একে একে ভারতে আসতে শুরু করে। ২০১৮-র মধ্যেই ভারতে চলে আসে সবকটি হেলিকপ্টার।

রাশিয়া থেকে যে হেলিকপ্টারগুলো ভারত পেয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধুনিক হল এই ভি-৫ মডেল। সাধারণত এই ধরনের হেলিকপ্টারগুলোতে ডাবল ইঞ্জিন থাকে। অর্থাৎ, যদি ছোটখাটো কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ হয়, বা যদি একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, তাহলে তা সামাল দেয়ার জন্য বিকল্প একটি ইঞ্জিন থাকে। সেই কারণে শুধু প্রতিরক্ষা প্রধানই নন, আরও যারা শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন… এমনকী প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো ভিভিআইপিরা এই ধরনের চপার (হেলিকপ্টার) ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু তারপরেও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরা থেকে যাচ্ছে।

সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে দৃশ্যমানতার অভাব। কারণ দৃশ্যমানতা কম হয়ে গেলে, তা হেলিকপ্টার পাইলটের কাছে এক বিভীষিকার সমান।

বুধবার নীলগিরির যে অংশের ওপর দিয়ে এই হেলিকপ্টারটি যাচ্ছিল, সেই এলাকায় দৃশ্যমানতা অনেকটাই কম থাকে। এছাড়া বিগত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া খারাপ ছিল। সেই কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু যে হেলিকপ্টারে প্রতিরক্ষা প্রধানের মতো হাই প্রোফাইল সামরিক কর্মকর্তা যাচ্ছেন, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা অনেক আঁটসাঁট থাকে।

এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনও হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি যখন হেলিকপ্টারে চড়েন, তখন সেটির প্রযুক্তিগত কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা, তা উড্ডয়নের আগে একাধিকবার পরীক্ষা করা হয়ে থাকার কথা। বিমান বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এই বিষয়টি।

এছাড়া আজকের উড্ডয়নটি যখন আগে থেকেই নির্ধারিত, তখন তা নিশ্চয়ই একাধিকবার পরীক্ষা করা হয়েছে। তারপরেও কেন এমন দুর্ঘটনা? প্রশ্ন অনেকের।

প্রাথমিকভাবে দুটি তত্ত্ব উঠে আসছে – যান্ত্রিক গোলযোগ বা দৃশ্যমানতার অভাব। আর তার সঙ্গে অবশ্যই আরও একটি তত্ত্ব উঠে আসছে। অন্তর্ঘাত কিংবা নাশকতার তত্ত্ব।

বিমান বাহিনী ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

কী বলছেন ভারতীয় বিমান কর্মকর্তা

এই দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, দেশের প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়কের হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ল কী করে? উত্তর খুঁজতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার যোগাযোগ করে বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রমেশকুমার দাসের সঙ্গে।

রাওয়াতের হেলিকপ্টার ওয়েলিংটন যাওয়ার পথে নীলগিরি পাহাড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে ওয়েলিংটনের ওই স্টাফ কলেজেই প্রশিক্ষণ নিয়ে ছিলেন রমেশ। তাই ওই এলাকা এবং নীলগিরি পাহাড়ি এলাকা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা অনেক পুরনো বলে জানান তিনি।

ওয়েলিংটনের ডিফেন্স স্টাফ কলেজে নিয়মিত বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারা বক্তৃতা দিতে আসেন, বলে জানান রমেশ। সিডিএস বিপিন রাওয়াতও ওই কলেজেই বক্তৃতা দিতে সুলুর থেকে রওনা দিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ নীলগিরি পাহাড়ে, কুন্নুরের জঙ্গলে ভেঙে পড়ে তার হেলিকপ্টার।

খারাপ আবহাওয়াকে অনেকেই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছেন। তবে একাধিক কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন রমেশ। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই তামিলনাড়ুর আবহাওয়া খারাপ। নীলগিরি পাহাড়ে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়। হেলিকপ্টার টেক-অফ করার পর হয়তো আবহাওয়া খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই খারাপ আবহাওয়ার বিষয়টি একে বারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। দুর্ঘটনার কারণ খোঁজার সময় এটাও নিশ্চয় তদন্ত করে দেখা হবে।’

যদিও দেশের প্রতিরক্ষাপ্রধানের মতো ভিআইপি-দের আকাশ পথে যাতায়াতের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকেও বিশেষ নজর দেয়াই নিয়ম।

সুলুর এয়ারবেস থেকে ওয়েলিংটন যেতে আকাশপথে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে বলে জানান রমেশ। নীলগিরির পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে এই পথ। তার মতে আবহাওয়ার সঙ্গে এলোমেলো হাওয়ার ফলে সেই সময় হেলিকপ্টারটি কোনও বিপদে পড়েছিল কী না সেটিও দেখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, “হেলিকপ্টারে একাধিক ‘মুভিং পার্টস’ থাকে। হেলিকপ্টারের মাথার ওপর যেমন ব্লেড ঘোরে, তেমনই থাকে ‘টেল রোটার’ অর্থাৎ হেলিকপ্টারের পিছনে বা লেজের দিকে পাখা ঘুরতে থাকে। পাহাড়ে বিভিন্ন মুখী হাওয়া চলে। কখনও উপর দিক থেকে নীচের দিকে, কখনও নীচ থেকে উপরে হাওয়া ওঠে। অনেক সময় এর হঠাৎ তারতম্য ঘটলে অসুবিধায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।”

একই সঙ্গে রমেশ এটাও জানান যে, এই সব বিষয়গুলো বিমান কর্মকর্তা ও পাইলটরা মাথায় রাখেন। কী ধরনের সমস্যার মুখে তারা পড়তে পারেন তা সম্পর্কেও ধারণা থাকে তাদের।

রুশ এমআই-১৭ দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট উল্লেখ করে রমেশ বলেন, “যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হেলিকপ্টারে ওঠার আগে সেই হেলিকপ্টারের একাধিক পরীক্ষা করা হয়। ‘সার্ভিস এবিলিটি’ অর্থাৎ পরীক্ষার সঙ্গে যন্ত্রাংশ খুঁটিয়ে দেখা হয়।’’

তিনি বলেন, ‘কোনও এয়ারবেসের স্কোয়াড্রনে যত এয়ারক্রাফট থাকে তার মধ্যে সব থেকে ভালটাই ব্যবহার করা হয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহনের কাজে। অভিজ্ঞ পাইলটই সেই হেলিকপ্টারের চালকের আসনে থাকেন।’

সেনা সর্বাধিনায়কের শেষকৃত্য শুক্রবার

দিল্লির সেনা ছাউনিতে শুক্রবার বিকেলে প্রয়াত প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়ক জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং তার স্ত্রী মধুলিকার শেষকৃত্য হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তামিলনাড়ুর সুলুর বিমানঘাঁটি থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজে জেনারেল রাওয়াত এবং তার স্ত্রী মধুলিকার মরদেহ দিল্লিতে আনা হবে। এরপর দু’জনের মরদেহ রাখা থাকবে রাওয়াতের বাড়িতে।

সেনা বাহিনীর বরাতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রয়াত প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়কের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন তার অনুরাগীরা। এরপর কামরাজ মার্গ থেকে শুরু হবে শেষযাত্রা। দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের ব্রার স্কোয়ারে অন্ত্যেষ্টিস্থলে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় হবে শেষকৃত্য।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতি

সস্ত্রীক জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভারতের তিন প্রতিরক্ষা বাহিনীও।

প্রয়াত প্রতিরক্ষাপ্রধানকে সম্মান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাকে একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। টুইটারে লিখেছেন, ‘জেনারেল বিপিন রাওয়াত একজন অসাধারণ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কৌশলগত বিষয়ে তার অন্তর্দৃষ্টি এবং দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যতিক্রমী। তার মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষাপ্রধান হিসাবে, জেনারেল রাওয়াত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কারসহ আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করেছেন। সেনাবাহিনীতে কাজের একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তিনি পরবর্তীতে ব্যবহার করেছিলেন। ভারত তার ব্যতিক্রমী সেবা কোন দিন ভুলবে না।’

বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকরের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় ড. মোমেন হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মাধুলিকা রাওয়াত এবং সহযাত্রীদের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাদের সবার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

ফোর্বস বলছে, এবারের মেয়াদকে নিজের শেষ হিসেবে মনে করছেন শেখ হাসিনা। এ মেয়াদে তিনি জোর দিচ্ছেন খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ।

চলতি বছরের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। এতে ৪৩তম অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালে তালিকায় ৩৯তম স্থানে ছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ম্যাকেঞ্জি স্কট তালিকায় শীর্ষে আছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এর পরই ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে।

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আছেন ৩৭ নম্বরে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অবস্থান ৭০-এ।

টানা ১১ বার শীর্ষে থাকা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের স্থান হয়নি এবারের তালিকায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘসময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। চতুর্থ মেয়াদের মধ্যে টানা তৃতীয়বার এই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয় পেয়েছে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ফোর্বস বলছে, এবারের মেয়াদকে নিজের শেষ হিসেবে মনে করছেন শেখ হাসিনা। এ মেয়াদে তিনি জোর দিচ্ছেন খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ।

প্রতিবছরের শেষে বিশ্বের রাজনীতি, মানবসেবা, ব্যবসা এবং গণমাধ্যম খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বস।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধানের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পর উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতের অবস্থা জানা যায়নি।

ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ তথা প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াতকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিপিনের স্ত্রীসহ আরও ১৩ যাত্রী ছিলেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ভারতের বিমানবাহিনীর এক টুইটবার্তায় জানানো হয়, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বুধবার দিল্লি থেকে তামিলনাড়ুর সুলুরে যাচ্ছিল।

এমআই-১৭ভি৫ মডেলের হেলিকপ্টারটি রাশিয়ার তৈরি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সেনা সূত্রে জানা যায়, হেলিকপ্টারে ৯ যাত্রী ও ৫ ক্রু ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিপিনের অবস্থা কী, তা জানা যায়নি। হেলিকপ্টারটি বুধবার দুপুরেই সুলুর সেনাঘাঁটি থেকে ওয়েলিংটন সেনাঘাঁটিতে যাচ্ছিল।

৯ যাত্রীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তারা হলেন বিপিন রাও, তার স্ত্রী মাধুলিকা রাওয়াত, ব্রিগেডিয়ার এলএস লিড্ডের, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হারজিন্দার সিং, নায়েক গুরসেবক সিং, নায়েক জিতেন্দ্র কুমার, ল্যান্সনায়েক বিবেক কুমার, ল্যান্সনায়েক বি সাই তেজা, হাবিলদার সাত পাল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬৩ বছর বয়সী জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ভারত সরকারের সেনা সম্পর্কিত নতুন বিভাগের প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
তাইওয়ানের স্বাধীনতা ‘আগুন নিয়ে খেলা’, বাইডেনকে শির হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন