প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পথে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। ফাইল ছবি/এএফপি

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের। সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।

পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে চূড়ান্ত হবে তার ভাগ্য।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।

চলতি মাসে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী এই নেত্রী। মঙ্গলবার বামপন্থিদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয় তার।

পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির শর্তে অ্যান্ডারসনকে সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে লেফট পার্টি। পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে অ্যান্ডারসনের পক্ষে রায় দেবেন দলটির আইনপ্রণেতারা।

স্টকহোমের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হবে ভোট।

সুইডেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন দরকার হয় না। প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেই চলে।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের জোটের অংশীদার গ্রিন আর সেন্টার পার্টির সমর্থনও আগেই নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে সেন্টার পার্টি অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

লেফট পার্টির প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হলে অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি আগেই দিয়েছিল মধ্যপন্থিরা।

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধামন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের।

সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনার ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। নিউজবাংলা

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিয়েবহির্ভূত সর্ম্পকের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে।

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

লাঞ্ছিত ওই নারী নিউজবাংলাকে জানান, মারধরের পর তার টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছেন।

এ ঘটনা উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের সিংগাতী গ্রামের।

ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরীসহ গ্রামের কয়েকজন লোক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল।

ইউপি সদস্য বলেন, ‘এগুলো আমাদের কাছে খারাপ লাগে। সোমবার রাতে নিজের মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে ওই নারীকে এক ঘরে পেয়ে তাদেরকে ধরা হয়। এরপর তার বিচার করা হয়।

‘কেবল জুতার মালা গলায় দিয়ে ও কঞ্চির লাঠি দিয়ে বাড়িয়ে লাঞ্ছিত করছি, তার বিচার আরও কঠিন হওয়া উচিত ছিল।’

ওই নারী বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাকে ধরে আমার সিঁড়ির কাছে নিয়ে আমার গলায় চেইন ছিল এক ভরি ওজনের, আট আনা ওজনের কানের দুল ও ৯৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল নিয়ে গেছে। কাওসার মেম্বার ও জানিক ছিল, এরা আমারে জুতার মালা দেছে ও কঞ্চি দিয়ে বাইড়াইছে।

‘আমি এর বিচার প্রশাসনের কাছে চাই। আর এই যে ভিডিও সব জায়গা ছড়াইছে, আমার মানসম্মান যা যাবার তা তো গেইছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুনীয়া আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অনিন্দ্য মন্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। শোনা গেছে তিনি ওই ঘটনার পর গ্রাম ছেড়েছেন।'

রুনীয়া আক্তার বলেন, ‘ওই নারীকে এলাকায় পাওয়া যায়‌নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পা‌রি‌নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে‌ছি। বিষয়‌টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখ‌ছি।’

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, ‘থানায় অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

ছবি: বিবিসি

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে।

২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গণে ভূমিকা রাখা অনুপ্রেরণাদায়ী ও সাড়াজাগানো ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। এই তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের অর্ধেকই আফগানিস্তানের নাগরিক।

মোট চার ক্যাটাগরিতে ১০০ জনের এই তালিকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখায় ৩১, পরিবেশ ও খেলাধুলায় ১৬, রাজনীতি ও অধিকারকর্মী ৩১ এবং বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যে ২২ জনকে স্থান দেয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই, সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফিয়ামে নাওমি মাতাফা, ভারতের আইনজীবী ও অধিকারকর্মী মঞ্জুলা প্রদীপ, সাবেক আফগান নারী পুলিশ সদস্য মোমেনা ইব্রাহিমি, আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথম নারী পাইলট মহাদেসি মিরজায়িও রয়েছেন। এছাড়াও আছেন, ভ্যাকসিন কনফিডেন্স প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক হেইডি জে লারসন ও প্রশংসিত লেখক চিমামান্ডা এনগোজি আদিচিসহ আরও অনেকেই।

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে। তালিকায় থাকা এসব আফগান নারীর অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এবং ছবি দেননি।

১০০ প্রভাবশালী নারী বাছাইয়ের জন্য বিবিসির একটি দল কাজ করে থাকে। এ দলের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নারীদের নামের তালিকা জমা দেন।

এরপর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নেটওয়ার্কের ভাষা নিয়ে কাজ করা দলের পরামর্শ অনুযায়ী ছোট তালিকা তৈরি করা হয়।

গত এক বছরে যারা নিজ নিজ অঙ্গণে সাফল্য দেখিয়েছেন, প্রশংসিত হয়েছেন কিংবা সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়।

প্রতিবছর একেকটি থিমের ভিত্তিতে প্রভাবশালী নারী বাছাই করা হয়। এ বছরের থিম হলো, পৃথিবীর বদলে নারী। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির কারণে অনেক মানুষই তাদের জীবনযাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাপনে পরিবর্তন ও যাপনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে যেসব নারী ভূমিকা রেখেছেন, তারা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

শেয়ার করুন

বর্ণবিদ্বেষ নিয়েও সচেতনতা চান বিশেষজ্ঞরা

বর্ণবিদ্বেষ নিয়েও সচেতনতা চান বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত

সমাজবিজ্ঞানী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, নারীর মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি বর্ণবাদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণামূলক আচরণ ও শব্দের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। বন্ধ করতে হবে ‘কালো তালিকা’ বা ‘কালো হাত’-এর মতো শব্দের প্রয়োগ।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন ডা. মুরাদ হাসান। তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। সেখানে বিএনপির রাজনীতি সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন। এ সময় আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও ছিল মুরাদের কণ্ঠে।

সমাজবিজ্ঞানী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, জেন্ডার সংবেদনশীলতার পাশাপাশি বর্ণবাদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণামূলক আচরণ ও শব্দ প্রয়োগের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার না করার নীতি গ্রহণ করছে বিভিন্ন রাষ্ট্র। টেকজায়ান্ট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলেও শব্দের বর্ণবাদী ব্যবহার নিয়ে সচেতন হতে হবে।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বিতর্কিত স্পাইওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এনএসও-এর পণ্য বিক্রি ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ তালিকাভুক্ত করে। খবরটি প্রচারের সময় নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা হয় ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার মতো বর্ণবাদী শব্দ। এই শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রেই।

গুগলের প্রোডাক্ট সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির গ্লোবাল হেড ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে অধিকারমূলক সাইট শেয়ার দ্য মাইক ইন সাইবার ক্যামিলা স্টুয়ার্ট কারেন্ট ভাইসকে বলেন, ‘ব্ল্যাকলিস্ট' কালোকে খারাপের সঙ্গে এবং সাদাকে ভালোর সঙ্গে সম্পর্কিত করে। বর্ণবাদের শিকড় যে কত গভীরে সেটি এ ধরনের শব্দ প্রয়োগ থেকে বোঝা যায়।’

তবে অনেক টেক জায়ান্ট ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা ‘হোয়াইটলিস্ট’-এর মতো শব্দের ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। মাইক্রোসফটের এজ ও গুগলের ক্রোম ব্রাউজারের ওপেন সোর্স কোড ক্রোমিয়ামের ডেভেলপাররা ২০১৯ সালে ঘোষণা করেন, কালো=খারাপ এবং হোয়াইট=ভালো এমন ধারণাকেই জোরদার করে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ ও ‘হোয়াইটলিস্ট’। এ কারণে ডেভেলপাররা এখন ‘ব্লকলিস্ট’ ও ‘অ্যালাউলিস্ট’ শব্দ ব্যবহার করছেন। বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ পাইথন ২০১৮ সালে বর্ণবাদী শব্দগুলোর ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) গত বছর এক ব্লগ পোস্টে জানায়, ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ ও ‘হোয়াইটলিস্ট’ পরিভাষাতে তীব্র বর্ণবাদ রয়েছে। এ ধরনের শব্দ মানসিকভাবে এমন ধারণা দেয় যাতে মনে হতে পারে, সাদা মানেই ভালো ও নিরাপদ; আর কালো মানে খারাপ, বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ। ‘ব্ল্যাকলিস্ট’-এর পরিবর্ত ‘ব্লকলিস্ট’ বা ‘ডিনাইলিস্ট’ শব্দ ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে এনসিএসসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি) চলতি বছরের শুরুতে পরিভাষার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখানে ‘ব্ল্যাকলিস্ট/হোয়াইটলিস্ট’-এর মতো পক্ষপাতমূলক শব্দ ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

আরেক সংস্থা ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স ২০১৮ সালে এক নথিতে উল্লেখ করে, ‘প্রভু-দাসের মতো, ভালো-মন্দ বোঝাতে সাদা-কালোর রূপক ব্যবহার আক্রমণাত্মক। প্রভু-দাসকে বর্ণবাদের গুরুতর উদাহরণ বলে মনে হলেও সাদা-কালো আরও খারাপ শব্দ; কারণ এ দুটি শব্দের প্রয়োগ অনেক বিস্তৃত।’

আন্তর্জাতিক পরিসরে বর্ণবিদ্বেষী শব্দ ও ভাষার প্রয়োগ বন্ধ হওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান, তবে বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে অসচেতনতার মাত্রা প্রকট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের সংবাদমাধ্যমসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন জায়গায় ‘কালো তালিকা’ একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। অনিয়মে অভিযুক্ত বা প্রতিপক্ষের ‘কালো হাত’ ভেঙে দেয়ার দাবি তোলা হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মিছিলে। এমনকি বিতর্কিত ব্যক্তিকে ‘ইহুদি’র সঙ্গে তুলনা করাও একটি জনপ্রিয় স্লোগান।

সমালোচনার মুখে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হওয়া ডা. মুরাদ হাসান ‘খারাপ ব্যক্তির’ প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে এনেছেন আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে। তাদের তিনি ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ সম্বোধন করেন ফেসবুক লাইভে। এ ছাড়া উপহাসের ভঙ্গিতে ব্যবহার করেন ‘মক্ষীরানি’র মতো শব্দ।

বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত বর্ণবাদী শব্দ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতিমা রেজিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ বছরের যে ইতিহাস রয়েছে, সেখানে সাদারা কালোদের নির্যাতন করেছে। এখনও আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি।’

তিনি বলেন, “‘কালো হাত ভেঙে দাও’ বা ‘কালো অধ্যায়’ না বলে ‘অশুভ হাত বা অধ্যায়’ এ রকম শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শব্দ থেকে আমরা রাতারাতি উত্তরিত হতে পারব বলে আমি মনে করি না। সময় লাগবে। তারপরেও বিষয়টিকে যদি আমরা অভ্যাস হিসেবে নিতে পারি তাহলে হবে।”

ফেসবুক লাইভে মুরাদ হাসানের অসংবেদনশীল ও বর্ণবাদী শব্দ প্রয়োগে ভীষণ ক্ষুব্ধ আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি (মুরাদ) একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, জাইমা কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে থাকেন, এটার মানে কী? কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে থাকাটা কি অপরাধ? কৃষ্ণাঙ্গ বলতে উনি কী বুঝিয়েছেন? কৃষ্ণাঙ্গরা খুবই খারাপ? কৃষ্ণাঙ্গরা খুবই সেক্সিস্ট? ওদের সঙ্গে খারাপ মেয়েরা থাকে?

‘আমরা কিন্তু এখন কৃষ্ণাঙ্গ শব্দটাই ব্যবহার করি না। আমরা বলি আফ্রিকান-আমেরিকান। আমরা নিগ্রো বলি না। আমরা ব্ল্যাক বলার সময় চিন্তা করি, বলব কি না। কিন্তু উনি অবলীলায় বলে ফেললেন। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক, হতাশাজনক।'

জিনাত আরা হক বলেন, “উনি (মুরাদ) ‘মক্ষীরানির’ মতো শব্দ বলেছেন। এ ধরনের কথা বলার মধ্য দিয়ে যে নারীরা প্রান্তিক, যে নারীরা অনেক বেশি বিপর্যস্ত, তাদের আরও বিপর্যস্ত করছেন। এই শব্দগুলো আসলে কারা বলে? যারা লেম্যান, যাদের জানাশোনা কম, সমাজে যারা প্রথাগত আচরণ করে তারা বলে।’'

বাংলা ভাষায় বর্ণবাদী বিভিন্ন শব্দ নিয়ে এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের ঔপনিবেশিক মন। আমরা জানতাম সাদা মানে ভালো, সুন্দর, প্রগ্রেসিভ ও ইতিবাচক।

‘গায়ের রং কেমন জিজ্ঞেস করলে আমরা উত্তরে বলতাম ময়লা। শ্যামলা বলতাম না। এগুলো মাথার মধ্যে গেঁথে গেছে। তবে আমরা এখন এই বর্ণবাদের বিষয়গুলো বুঝতে পারছি। এটা তো এক দিনে হবে না। আমাদের গবেষণা করে বর্ণবাদী শব্দ চিহ্নিত করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দূর করতে হবে।’

বর্ণবাদী মানসিকতা দূর করতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার ওপরেও জোর দিচ্ছেন জিনাত আরা হক।

তিনি বলেন, “আপনি যখন কোনো মিডিয়া হাউসে কাজ করছেন, তখন আপনাকেই শব্দগুলো বদলাতে হবে। ‘কালো তালিকা’কে অন্যভাবে লিখতে হবে। আমরা যখন কাজ করি তখন বাবা-মার জায়গায় মা-বাবা বলি। বৈষম্য দূর করতে সচেতনভাবে এগুলো করতে হবে। দায়টা আমাদের সবার। সরকারের জায়গা থেকেও বর্ণবাদী শব্দগুলো পরিহার করতে হবে।”

কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে বলে মনে করছেন জিনাত। তিনি বলেন, “শিশু ও নারীবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি যখন বলল, ‘ধর্ষিতা’ বলা যাবে না, ‘ধর্ষণের শিকার’ বলতে হবে; এর মানে সরকার থেকেও প্রস্তাব আসছে। এখন যেমন ‘ব্যাটসম্যান’ না বলে বলা হচ্ছে ‘ব্যাটার’। এটা কিন্তু একটা দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। এভাবে খুবই পরিকল্পনা মাফিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নিতে হবে।

‘দীর্ঘদিন আমরা মহিলা বলতাম। তবে এখন আমরা নারীতে এসেছি।‘

অ্যাকাডেমিশিয়ান এবং মিডিয়া ও কমিউনিকেশন নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের নারী বা বর্ণবিদ্বেষী শব্দ নিয়ে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন জিনাত আরা হক।

শেয়ার করুন

ইউপি মেম্বার হতে লড়ছেন ট্রান্সজেন্ডার সবুজা

ইউপি মেম্বার হতে লড়ছেন ট্রান্সজেন্ডার সবুজা

নেত্রকোণার গড়াডোবা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনে মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার সবুজ মিয়া। যিনি সবুজা নামে পরিচিত। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রান্সজেন্ডার সুবজ মিয়া সবুজা নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানসন্ততি নেই। তাই কোনো পিছুটানও নেই। এলাকার মানুষের সেবা করার মতো পর্যাপ্ত সময় এবং মনমানসিকতা আছে আমার। আর এ কারণেই প্রার্থী হয়েছি। আশা করি ভোটাররা আমাকে সহজভাবে গ্রহণ করবেন। আমি নিজেকে সব সময় দুর্নীতিমুক্ত রাখব।’

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনে মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার সবুজ মিয়া।

আসল নাম সবুজ মিয়া হলেও সবুজা নামেই তিনি বেশি পরিচিত। প্রতীক বরাদ্দ না পেলেও এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

সবুজা রোববার বিকেলে গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এ সময় সবুজার সঙ্গে তার কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক ছিলেন। সবুজা ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গড়াডোবা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের আবুল কালাম ও মরিয়ম বেগম দম্পতির সন্তান সবুজা।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানসন্ততি নেই। তাই কোনো পিছুটানও নেই। এলাকার মানুষের সেবা করার মতো পর্যাপ্ত সময় এবং মনমানসিকতা আছে আমার। আর এ কারণেই প্রার্থী হয়েছি। আশা করি, ভোটাররা আমাকে সহজভাবে গ্রহণ করবেন। আমি নিজেকে সব সময় দুর্নীতিমুক্ত রাখব।’

‘তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নিয়মিত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি’ বলেন সবুজা।

বাশাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সবুজা খুব সহজ সরল মানুষ। এলাকার অনেকে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। আশা করি তিনি জয়ী হবেন।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছানোয়ার হোসেন সবুজার মনোনয়নপত্র জমাদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সবুজার আগে এ উপজেলায় ট্রান্সজেন্ডার আর কেউ কখনও প্রার্থী হয়েছেন কি না আমার জানা নেই।’

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ জানুয়ারি এ উপজেলার ইউপি নির্বাচনে ভোট হবে।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু।

দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে একযোগে কাজের আহ্বান

জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে একযোগে কাজের আহ্বান

ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ইউএসএআইডি) উদ্যোগে রোববার জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ‘সাংবাদিকতায় নারীর সমৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাথরিন স্টিভেনস বলেন, ‘আমরা ডব্লিউজেএনবির মতো বিভিন্ন সংগঠনকে জেন্ডার বৈষম্য প্রতিরোধে কাজ করতে দেখে আশাবাদী। সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই আমাদের মা, বোন, মেয়েসহ প্রতিটি নারী ও মেয়ে শিশু সমান সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠবে এবং সমৃদ্ধ জীবন গড়তে পারবে।’

করোনা মহামারির সময়ে বিশ্বজুড়েই নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে সহিংসতামুক্ত ও সমতার সমাজ গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

রোববার ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ইউএসএআইডি) উদ্যোগে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ‘সাংবাদিকতায় নারীর সমৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি এ কর্মশালায় উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ডব্লিউজেএনবি) সদস্যরা অংশ নেন।

আলোচনায় মিডিয়া ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ও সেটি উত্তরণে করণীয়সহ দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেটওয়ার্কিংয়ের বিষয়ও উঠে আসে।

সমাপনী সেশনে ইউএসএআইডি মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন স্টিভেনস বলেন, ‘আমরা ডব্লিউজেএনবির মতো বিভিন্ন সংগঠনকে জেন্ডার বৈষম্য প্রতিরোধে কাজ করতে দেখে আশাবাদী। সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই আমাদের মা, বোন, মেয়েসহ প্রতিটি নারী ও মেয়ে শিশু সমান সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠবে এবং সমৃদ্ধ জীবন গড়তে পারবে।’

মহামারি বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনার মহামারির সময় বিশ্বজুড়েই নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে বৈষম্যও। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে সহিংসতামুক্ত ও সমতার সমাজ গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রশিক্ষণ সেশনে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের সম্পাদক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, ফ্যাক্ট চেকিং ও জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

শেয়ার করুন

মুরাদ এখনও কীভাবে প্রতিমন্ত্রী, প্রশ্ন নারীপক্ষের

মুরাদ এখনও কীভাবে প্রতিমন্ত্রী, প্রশ্ন নারীপক্ষের

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

নারীপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সরকার দাবি করে যে তারা নারীবান্ধব। নারীর প্রতি ন্যূনতম সম্মান রেখে কথা বলতে পারেন না সেই ব্যক্তি কী করে পদে বহাল থাকেন? আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করি।’

নারীর প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের পরও কীভাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এখনও স্বপদে বহাল থাকেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নারীবাদী সংগঠন নারীপক্ষ। প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেছে তারা।

রোববার সন্ধ্যায় এ কথা জানিয়ে গণমাধ্যমে ‘প্রতিবাদ বিবৃতি’ পাঠিয়েছে নারীপক্ষ।

এতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সরকার দাবি করে যে তারা নারীবান্ধব। নারীর প্রতি ন্যূনতম সম্মান রেখে কথা বলতে পারেন না সেই ব্যক্তি কী করে পদে বহাল থাকেন? আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করি।’

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া এবং নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে দেয়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের মন্তব্যকে ‘অশ্রাব্য’ বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

প্রতিবাদ বিৃবতিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক জিয়া এবং নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে যে নোংরা গালাগালি করেছেন, এ জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।’

নারীপক্ষ তাদের বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছে, ‘কোনো নারীকে লুইচ্ছা বলে গালি দেয়া এবং প্রতিরাতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের সঙ্গে না শুইলে হয় না ধরনের নারীবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী কথন কী করে একজন জনপ্রতিনিধি কেবল নয়, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যও বটে, উচ্চারণ করতে পারেন এবং এর জন্য আবার গর্ব প্রকাশ করেন?’

সাক্ষাৎকার নেয়া নাহিদ রেইনস প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য উপভোগ করছিলেন বলে দৃশ্যমান হয়েছে বলেও মনে করে নারীপক্ষ। তাদের দাবি, ‘তার অঙ্গভঙ্গি ও প্রশ্ন করার ধরন প্রতিমন্ত্রীকে এহেন বক্তব্য দিতে আরও উসকিয়ে দেয়।’

১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুকে লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। লাইভটির সঞ্চালক ছিলেন নাহিদ রেইনস নামে এক ইউটিউবার ও ফেসবুকার।

লাইভে বিএনপির রাজনীতি সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবার নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর এসব বক্তব্য ‘প্রচণ্ড আপত্তিকর’ উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আলোচিত লাইভটি শনিবার রাত পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজের টাইমলাইনে দেখা গেলেও রোববার আর দেখা যাচ্ছে না। তবে টাইমলাইন থেকে সরিয়ে নিলেও প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজের ভিডিও অংশে এটি দেখা গেছে।

শেয়ার করুন

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগ মোকাবিলায় ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে সহায়তা করায় বরখাস্ত হলেন সিএনএনের অভিজ্ঞ সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভাই অ্যান্ড্রু কুওমোর মামলায় ক্রিস কুওমোর জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে সিএনএন কর্তৃপক্ষ।

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

সিএনএন অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে গত সপ্তাহের শুরুতেই ৫১ বছর বয়সী ক্রিসকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

ক্রিস সিএনএনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘প্রাইম টাইম নিউজ শো’ এর উপস্থাপক ছিলেন। আইন সংস্থার সহায়তা নিয়ে সিএনএন কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছে।

তবে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ক্রিস আগেই স্বীকার করেছিলেন, ভাইকে জনসংযোগ দৃষ্টিকোণ থেকে অভিযোগগুলো পরিচালনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সিএনএনের কিছু নিয়ম তিনি ভঙ্গ করেছেন।

সিএনএন থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর টুইটারে এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিস। তিনি বলেন, ‘আমি চাইনি যে, সিএনএনে এভাবে আমার সময় শেষ হোক। তবে আমি ইতিমধ্যে বলেছি কেন এবং কীভাবে আমি আমার ভাইকে সাহায্য করেছি।’

ক্রিসের ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে যৌন অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তদন্তে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অধস্তন নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণ এবং রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর জেরে ৬৩ বছর বয়সী অ্যান্ডু কুওমোকে গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অ্যান্ড্রু কুওমো একজন ডেমোক্রেট নেতা। চলমান মহামারি ইস্যুতে নিউ ইয়র্ক কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে সে সম্পর্কে তিনি ব্রিফ করতেন। প্রায়ই তার ভাইয়ের শোতে উপস্থিত হতেন।

তাদের বাবা প্রয়াত মারিও কুওমোও নিউ ইয়র্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেয়ার করুন