কুয়েতে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ সাবাহ খালিদের পুনর্নিয়োগ

কুয়েতে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ সাবাহ খালিদের পুনর্নিয়োগ

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহ। ফাইল ছবি

গত ৮ নভেম্বর কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয় দেশটির সরকার। ১৪ নভেম্বর সে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন আমির।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারও নিয়োগ দেয়া হয়েছে শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহকে।

কুয়েতের সংবাদ সংস্থা কুনার বরাত দিয়ে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ সাবাহ খালিদকে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিতে কুয়েতের আমিরের পক্ষে মঙ্গলবার আদেশ জারি করেন যুবরাজ শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ।

আদেশে নতুন সরকার গঠনে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা অনুমোদনের জন্য জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৮ নভেম্বর কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয় দেশটির সরকার। ১৪ নভেম্বর সে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন আমির।

বিরোধীদলীয় সাংসদদের সঙ্গে সংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পদত্যাগ করেছিল কুয়েত সরকার। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই পদক্ষেপ নেয় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশটির সরকার।

করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দুর্নীতি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদকে পার্লামেন্টে প্রশ্ন করতে চেয়েছিল বিরোধীরা। প্রশ্নোত্তর এড়াতে পার্লামেন্ট অধিবেশনের আগেই পদত্যাগ করে সরকার।

পার্লামেন্টে অচলাবস্থার ফলে আটকে যায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া।

চলতি বছর কুয়েতে সরকারের পদত্যাগের এটি ছিল দ্বিতীয় ঘটনা। গত জানুয়ারিতে দেশটির আগের সরকার ক্ষমতা থেকে সরে গেলে মার্চে শেখ সাবাহ আল-খালিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়।

কুয়েতের মন্ত্রিসভাতেও রদবদল প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রন: ১৪ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সৌদি আরবের

ওমিক্রন: ১৪ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সৌদি আরবের

সৌদি সরকার বলেছে, এই ১৪ দেশের কোনো প্রবাসী সৌদি আরবে প্রবেশও করতে পারবেন না, যেতেও পারবেন না। সম্প্রতি দেশগুলো থেকে যারা এসেছেন তাদের পিসিআর টেস্ট করা হবে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের আতঙ্কে ১৪ দেশের ওপর সব ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। সব দেশই আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের।

স্থানীয় সময় রোববার সাতটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় সৌদি সরকার। দেশগুলো হলো মালাউই, মাদাগাস্কার, অ্যাঙ্গোলা, সিচেলিস, মরিশাস ও কমোরস।

এর আগে শুক্রবার আরও সাতটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সৌদি আরব। ওই দেশগুলো হলো সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লেসোথো ও সোয়াজিল্যান্ড।

বলা হয়েছে, এই ১৪ দেশের কোনো প্রবাসী সৌদি আরবে প্রবেশও করতে পারবেন না, যেতেও পারবেন না।

এসব থেকে কোনো সৌদি নাগরিক বা প্রবাসী কোনো উপায়ে যদি চলেই আসেন তাহলে তাদের অবশ্যই পাঁচ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এমনকি যাদের টিকা নেয়া আছে তাদেরও এই নির্দেশনা মানতে হবে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ১৪টি দেশ থেকে ভ্রমণ করে যারা ১ নভেম্বরে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন, তাদের পিসিআর টেস্ট করানো হবে।

তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ওমিক্রনে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

ওমিক্রন থেকে নিরাপদে থাকতে বিভিন্ন দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। করোনার এই ধরনটি নিয়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। সতর্ক অবস্থানে আছে বাংলাদেশও।

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

তবে ওমিক্রনের শঙ্কায় ঢালাওভাবে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনা করেছেন সাউথ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রী সিরিল রামাফোসা। বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা করোনার নতুন ধরন রোধে কার্যকর নাও হতে পারে। এটা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই ডেকে আনবে।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

তীব্র পানি সংকটে বিক্ষুব্ধ ইরানি শহর, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

তীব্র পানি সংকটে বিক্ষুব্ধ ইরানি শহর, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

শুকিয়ে যাওয়া জায়ান্দিরুদ নদীর বুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ। শুক্রবারের ছবি/এএফপি

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মালভূমির সবচেয়ে বড় নদী জায়ান্দিরুদের তীরে নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইসফাহান শহর। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে নদীটির বুকে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহর। সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় ৬৭ জনকে গ্রেপ্তারের পর শহরজুড়ে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পানির সংকট তীব্র রূপ নেয়ায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই আন্দোলন চলছে শহরটিতে। গত ৯ নভেম্বর আন্দোলন শুরুর পর শুক্রবার প্রথম সহিংস হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা।

পরদিন শনিবার ইরান পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান কারামি জানান, নাশকতাকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, শুক্রবারের কর্মসূচিতে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স ও আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মালভূমির সবচেয়ে বড় নদী জায়ান্দিরুদের তীরে নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইসফাহান শহর। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা।

এমন পরিস্থিতিতে নদীটির বুকে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অনেক জায়গায় অগ্নিসংযোগও করে তারা।

সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে পরদিন শহরের পরিস্থিতি শান্ত ও রাস্তাঘাট থমথমে বলে জানান বাসিন্দারা। শহরের খাদজু সেতুতে মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইসফাহানে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। শহরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার নিদর্শন বেশ কিছু মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো জায়ান্দিরুদ নদীর খাদজু সেতু।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কৃষকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার পানিবণ্টন চুক্তিতে পৌঁছেছে স্থানীয় প্রশাসন।

খরা ছাড়াও ইসফাহানে পানি সংকটের অন্যতম কারণ প্রতিবেশী ইয়াজদ্ প্রদেশে জায়ান্দিরুদ নদীর পানির গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়া। ওই প্রদেশটিও তীব্র পানি সংকটে ভুগছে।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

ওমিক্রন আতঙ্কেও সব দেশের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

ওমিক্রন আতঙ্কেও সব দেশের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

সৌদিতে প্রবেশে করোনা প্রতিরোধী টিকার অন্তত এক ডোজ নেয়া থাকবে হবে। ফাইল ছবি

সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অতিথিদের তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে রিয়াদ। বিবৃতিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ফ্লাইট স্থগিত থাকা আফ্রিকার সাত দেশ থেকে আগতদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের মধ্যেই মহামারিকালীন ভ্রমণ নীতিমালা আরও শিথিল করছে সৌদি আরব। ৪ ডিসেম্বর থেকে শর্ত সাপেক্ষে সব দেশের নাগরিকদের স্বাগত জানাবে সৌদি প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমিক্রন শনাক্তের জেরে আফ্রিকার সাত দেশ থেকে ফ্লাইট স্থগিতের এক দিন পরই নতুন ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রিয়াদের পক্ষ থেকে শনিবার জানানো হয়, করোনা প্রতিরোধী টিকার একটি ডোজ নেয়া থাকলেই যেকোনো দেশের নাগরিকরা সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। আগামী শনিবার থেকে কার্যকর হবে এ নিয়ম।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অতিথিদের তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে। এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ফ্লাইট স্থগিত থাকা আফ্রিকার সাত দেশ থেকে আগতদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা।

ওমিক্রন ইস্যুতে সৌদি সরকার শুক্রবার সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লেসোথো ও ইসওয়াতিনি থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে।

একই কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর ওপর শুক্রবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ। যুক্তরাজ্যে দুই ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন শনাক্তের পর শনিবার অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করে ব্রিটিশ সরকারও। জার্মানি, ইতালি আর ইসরায়েলেও শনাক্ত হয়েছে করোনার নতুন ধরনটি।

সাউথ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার ওমিক্রন প্রজাতি। প্রাথমিক গবেষণায় এটি উহানে শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের আদি রূপের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন এবং করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ধরনটির টিকার কার্যকারিতাকে ফাঁকি দিতে কতটা সক্ষম এবং মানুষ থেকে মানুষে কতটা সহজে সংক্রমণযোগ্য- সেটাই খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাক্ষী সাবেক সহযোগী

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাক্ষী সাবেক সহযোগী

আদালতে আইনজীবীদের মাঝখানে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবারের ছবি/এএফপি

তিনটি পৃথক মামলা চলছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। শুনানিতে অংশ নেয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বেশ কয়েকবারই আদালতে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষী হয়েছেন তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নির হেফেৎজ। নেতানিয়াহুর সাবেক মুখপাত্র হেফেৎজ।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন হেফেৎজ। আদালতের কাছে নেতানিয়াহুকে তিনি আখ্যায়িত করেছেন ‘কর্তৃত্বপরায়ণ উন্মাদ’ হিসেবে।

পূর্ব জেরুজালেমের আদালতে দাঁড়িয়ে হেফেৎজ বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতানিয়াহু যতটা না সময় দেন, ততটাই সময় কাটান সংবাদমাধ্যমের পেছনে। যেকোনো মানুষই অর্থহীন বলে মনে করবেন, এমন ইস্যুগুলোতেও প্রচুর সময় ব্যয় করেন তিনি।

‘জনগণের সামনে ভাবমূর্তি বজায় রাখার প্রশ্নে তিনি ভয়াবহ কর্তৃত্বপরায়ণ। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় তিনি এতটাই নিয়ন্ত্রণ করতে চান যে অন্য কোনো কিছু তার কাছে এত গুরুত্ব পায় না।’

টানা ১২ বছর ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকার পর চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন ৭২ বছর বয়সী নেতানিয়াহু। ঘুষ, আস্থা লঙ্ঘন, প্রতারণাসহ তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে নিজের বিষয়ে ইতিবাচক খবর প্রচারের জন্য নেতানিয়াহু ঘুষ দিতেন, ধনকুবের বন্ধুদের অবৈধভাবে বিভিন্ন সুবিধা দিতেন এবং শতকোটি ডলারের উপহার নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনটি পৃথক মামলা চলছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। শুনানিতে অংশ নেয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে সোমবারের শুনানিসহ বেশ কয়েক দিনই আদালতে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি নেতানিয়াহু। আদালত প্রাঙ্গণে নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেছে।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

ইসরায়েলিকে হত্যা, পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলিকে হত্যা, পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত

জেরুজালেমে রোববারের হামলার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করছে পুলিশ। ছবি: এএফপি

হামলাকারীকে পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দাবি করেছে, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার একজন সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী তিনদিন আগে দেশ ত্যাগ করেছে। হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দায় স্বীকার করেনি হামাস।

পবিত্র নগরী জেরুজালেমের প্রবেশপথে এক ফিলিস্তিনির হামলায় নিহত হয়েছে এক ইসরায়েলি নাগরিক, আহত হয়েছে আরও চারজন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে প্রাণ গেছে ওই ফিলিস্তিনিরও।

পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রোববার এ ঘটনা ঘটে।

চলতি বছরের মে মাসেও আল আকসায় মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের উপর ব্যাপক সহিংসতা চালায় ইসরায়েল।

পুলিশ জানায়, সবশেষ হামলায় আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাকিদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত।

হামলাকারীকে পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দাবি করেছে, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার একজন সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী তিনদিন আগে দেশ ত্যাগ করেছে।

হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দায় স্বীকার করেনি হামাস।

এক সপ্তাহের মধ্যে জেরুজালেমে এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে বুধবার সীমান্তে দুই ইসরায়েলি পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে এক ফিলিস্তিনি কিশোর। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা।

ইসরায়েলিদের ‌ওপর ছুরি নিয়ে, গুলি করে কিংবা গাড়ি তুলে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের হামলাচেষ্টা নতুন কিছু নয়। যদিও গাড়ি তুলে দেয়ার কয়েকটি ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা ছিল বলে দাবি অনেক অধিকারকর্মীর। এসব ঘটনায় ইসরায়েলি সেনারা অপ্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেছে বলেও অভিযোগ তাদের।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের পাশাপাশি খ্রিস্টান, মুসলিম ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র হিসেবে গণ্য পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন

রিয়াদ-জেদ্দাসহ সৌদির কয়েকটি শহরে হুতিদের হামলা

রিয়াদ-জেদ্দাসহ সৌদির কয়েকটি শহরে হুতিদের হামলা

২০২০ সালের নভেম্বরেও জেদ্দায় আরামকোর তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ফাইল ছবি/এএফপি

হুতিদের হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি জোট। তবে একই দিনে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্রের গুদামসহ ১৩টি লক্ষ্যে হামলার তথ্য দিয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং সাদা ও মারিব প্রদেশে হুতিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।

সৌদি আরবের কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে ১৪টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবারের এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার আরামকোর জেদ্দায় অবস্থিত একটি কারখানাও।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী রিয়াদ, বন্দরনগরী জেদ্দা, আভা, জিজান ও নাজরান শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি ‘অবরোধ প্রত্যাহার ও এসব অপরাধ’ বন্ধ না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে।

তবে সারির বিবৃতিতে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন- জেদ্দার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ভুল ছিল বিবৃতিতে; কিং খালিদ সেনা ঘাঁটির ভুল অবস্থান হিসেবে রিয়াদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঘাঁটিটি সৌদি আরবের দক্ষিণে অবস্থিত।

হুতিদের হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি জোট। তবে একই দিনে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্রের গুদামসহ ১৩টি লক্ষ্যে হামলার তথ্য দিয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং সাদা ও মারিব প্রদেশে হুতিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।

ইরান সমর্থিত শিয়া হুতিরা প্রায়ই সৌদি ভূখণ্ডে রকেট ও ড্রোন হামলার ঘোষণা দিয়ে থাকে। তাদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি জোটের আক্রমণের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালায় তারা।

সৌদি আরব ও ইরানের ছায়া যুদ্ধের ক্ষেত্র ইয়েমেন। ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশটিতে সাত বছরের সহিংসতায় নিহত হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার মানুষ।

বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্বসম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় পুরোটাই হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

ইয়েমেনে অস্ত্রবিরতি কার্যকরে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা থমকে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

আরও পড়ুন:
পদত্যাগপত্র জমা কুয়েত সরকারের
সরাসরি কুয়েত যেতে পারবে না বাংলাদেশিরা

শেয়ার করুন