রিটেনহাউসের খালাসে দুই ভাগে বিভক্ত আমেরিকা

রিটেনহাউসের খালাসে দুই ভাগে বিভক্ত আমেরিকা

আদালতকক্ষে কাইল রিটেনহাউস।

রিটেনহাউস বেকসুর খালাস পাওয়ার পর আদালতের বাইরে অপেক্ষমাণ শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদিরা তাদের গাড়ির হর্ন বিরামহীন বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ জানালা দিয়ে চিৎকার করে বলেছে, ‘কাইলের মুক্তি দাও’ এবং ‘আমরা দ্বিতীয় সংশোধনীকে ভালোবাসি’।

গত কয়েক বছরে আদালতের কোনো রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এত মতানৈক্য দেখা যায়নি। যেমনটি দেখা গেছে, কাইল রিটেনহাউসের মামলায় রায় নিয়ে।

গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে দুই প্রতিবাদকারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন তিনি। শনিবার আলোচিত এই মামলার রায়ে কাইলকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, মামলার রায় পড়ে শুনানোর সময় ১৮ বছর বয়সী রিটেনহাউস নিজেই অবাক হয়েছিলেন। কারণ হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর পাঁচটি অভিযোগই খারিজ করে দেন বিচারক।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ২০২০ সালেই ১৭ বছর বয়সী রিটেনহাউস বলেছিল, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট বিক্ষোভ চলার সময় বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে তাকে আক্রমণ করতে এলে নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন রিটেনহাউস। সে সময় আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর তার বিরুদ্ধে ওই পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

রিটেনহাউস বেকসুর খালাস পাওয়ার পর আদালতের বাইরে অপেক্ষমাণ শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদিরা তাদের গাড়ির হর্ন বিরামহীন বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ জানালা দিয়ে চিৎকার করে বলেছে, ‘কাইলের মুক্তি দাও’ এবং ‘আমরা দ্বিতীয় সংশোধনীকে ভালোবাসি’।

মার্কিন সংবিধানে এই দ্বিতীয় সংশোধনীর মধ্য দিয়ে যেকোনো আমেরিকানকে আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র বহন করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা এই রায়ে দারুণ খুশি হলেও বেজার হয়েছে আমেরিকার বড় একটি অংশ; যারা ব্ল্যাক লাইভ মেটার আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। রায় ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

রিটেনহাউসের খালাসে দুই ভাগে বিভক্ত আমেরিকা
আদালতকক্ষের বাইরে রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে এভাবেই অনেকে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন, রিটেনহাউসের কাছে থাকা অ্যাসল্ট রাইফেলটি ছিল অবৈধ। তা ছাড়া সেই সময়টিতে অস্ত্র বের করার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না।

রিটেনহাউসের বিচার আবারও আমেরিকায় বন্দুক রাখা এবং ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার আইনগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এই রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে। কেউ বলছেন, রিটেনহাউস দেশপ্রেমিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই গুলি চালান তিনি। আবার কেউ বলছেন, রিটেনহাউস চাইলেই এই হত্যাকাণ্ড এড়াতে পারতেন।

রিটেনহাউসের খালাস দেয়ার বিরুদ্ধে উইসকনসিনের পোর্টল্যান্ড শহরে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ শুরু হলে সেখানকার পুলিশ এটিকে দাঙ্গা হিসেবে ঘোষণা করে।

বলা হচ্ছে, রিটেনহাউসের চালানো গুলিতে আহত ব্যক্তি গ্রসক্রুৎজ আদালতে বলেছেন, রিটেনহাউস গুলি চালানোর আগেই তিনি বন্দুক তাক করেছিলেন। এতেই রিটেনহাউসের পক্ষে রায় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানো অ্যাকাউন্ট মুছে দিল ফেসবুক

করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানো অ্যাকাউন্ট মুছে দিল ফেসবুক

ভুয়া ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন পাঁচ শতাধিক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে ফেসবুক। বলা হচ্ছে, এসব অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করত চীনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র।    

অনলাইনে গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহার হচ্ছে- এমন অভিযোগ পুরোনো। ফেসবুকের এলগরিদম গুজব শনাক্তের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় বলেও দাবি করে আসছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

সম্প্রতি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে ফেসবুক। ভুয়া ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন পাঁচ শতাধিক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে ফেসবুক। বলা হচ্ছে, এসব অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করত চীনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে ৫২৪টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২০টি পেজ, ৪টি গ্রুপ ও ৮৬টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে।

বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে, উইলসন এডওয়ার্ডস নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার হয় করোনার উৎস খুঁজতে যে তদন্ত দল কাজ করছে তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আর চীনের গণমাধ্যমগুলো সেটা ফলাও করে প্রচার করছে।

ওই প্রোফাইল ঘেঁটে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের নাগরিক এডওয়ার্ডস একজন জীববিজ্ঞানী। তবে সুইস সরকার বলছে, এ নামে তাদের দেশে কারও অস্তিত্ব নেই।

গত জুলাইয়ে উইলসন এডওয়ার্ডস নামের অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেকে সুইস জীববিজ্ঞানী দাবি করে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে দলটি করোনার উৎস খুঁজছে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করছে, যেন দায় চীনের ওপর চাপানো হয়।

সিজিটিএন, সাংহাই ডেইলি, গ্লোবাল টাইমসসহ চীনের প্রায় সব সরকারি গণমাধ্যম ওই পোস্টটিকে গুরুত্বসহকারে প্রচার করে। যদিও ওই পোস্টের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বলছে, এই অপপ্রচারগুলো চালানো হয়েছে চীনের সিচুয়ান সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি থেকে।

সিচুয়ান সাইলেন্স ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড একটি তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর দেখভাল করে তারা।

ফেসবুক বলছে, ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোর উৎপত্তিস্থল আড়াল রাখতে চীনা প্রতিষ্ঠানটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। ভুয়া আইডির চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তারা ব্যবহার করেছে ‘মেশিন লার্নিং’ প্রযুক্তি।

করোনার উৎস এখনও অজানা। বিজ্ঞানীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন রহস্য উদ্ঘাটনের। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীনের উহান থেকেই ছড়িয়েছে করোনার নতুন গোত্রটি। এ নিয়ে টানাপড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের

যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ তালেবানের

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক। ফাইল ছবি

সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে আনতে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দিনের আলোচনায় মিলিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিদল। সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দকৃত অর্থ ফেরত চেয়েছে তালেবান।

আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর নতুন সরকারের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই চলছিল পশ্চিমা বিশ্ব। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে নেয়ার চেষ্টায় উভয় পক্ষই।

এর অংশ হিসেবে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দিনের আলোচনায় মিলিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিদল। সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দকৃত অর্থ ফেরত চেয়েছে তালেবান।

এ ছাড়া তালেবান নেতাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্ববান জানিয়েছে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করা সংগঠনটি।

সম্মেলনে তালেবান সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও আমেরিকার প্রতিনিধি ছিলেন আফগানবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত থমাস ওয়েস্ট।

আফগানিস্তানে আমেরিকান সেনাদের প্রত্যাহারের পর তালেবানদের সঙ্গে আমেরিকার এই নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হলো।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনতে শুরু থেকেই দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দেশ হিসেবে তিনি পাকিস্তান সফর করেন। ইরানের সঙ্গেও তিনি উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও শুরু থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মুত্তাকি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি। তিনি জানান, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানবিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং এবং নগদ সুবিধা প্রদান নিয়ে আলোচনা করেছে।

বালখি বলেন, তালেবান প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জব্দকৃত অর্থ ফেরত, কালো তালিকা বাতিল ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্ববান জানানো হয়েছে। মানবিক বিষয়গুলোকে রাজনীতির বাইরে রাখতেও দাবি জানায় তালেবান প্রতিনিধিদল।

যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে যেসব তালেবান নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তার মধ্যে তালেবান সরকারের প্রধান মোল্লা হাসান আখুন্দও রয়েছেন।

আখুন্দ তালেবানের অন্যতম পুরাতন সদস্য। ১৯৯৬ সালে তালেবানরা যখন প্রথম আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তখন তিনি সেই সরকারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তী সময়ে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ উমরের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

আফগান সরকারের সঙ্গে সংঘাত (২০০১-২০২১) চলাকালীন আখুন্দ তালেবানের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ পর্ষদ শুরা কাউন্সিলের নেতৃত্বে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও তিনি রয়েছেন।

দ্বিতীয়বারের মতো আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯৫০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। ফলে আফগানিস্তানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নগদ আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা, সরকারি কর্মীদের বেতন না পাওয়া, অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির কারণে আফগানিস্তানে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই শীতেই চরম খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

এমন অবস্থায় তালেবান দোহার আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।

এই সম্মেলনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক শুরুর ঘোষণা দেয় তালেবান। গত অক্টোবরেও তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলন শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান থমাস ওয়েস্ট জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে তালেবানকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। তালেবানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে হবে। নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়াও দোহায় তালেবান প্রতিনিধিদল জাপান ও জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

এবার যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের হানা

ওমিক্রন আতঙ্কে আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান এন্থোনি ফাউসি জানান, ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়া ব্যক্তি বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তার সংস্পর্শে আসা সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আর কারোর দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি।

আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হলো করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাউথ আফ্রিকা ফেরত ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তির শরীরে করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিডিসি)।

হোয়াইট হাউসের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান এন্থোনি ফাউসি জানান, ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়া ব্যক্তি বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তার সংস্পর্শে আসা সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আর কারোর দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনকে খুবই উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ধরন এরই মধ্যে বিশ্বের ২৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফাউসি শুরু থেকেই আমেরিকানদের করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে আসছেন। সবাইকে টিকা নেয়ার পাশাপাশি মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ফাউসি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রন শনাক্ত হবে।’

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য ২৬ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ওমিক্রন নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে যায় পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো। তারা আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। করোনার নতুন ধরনটি পাওয়া গেছে ইসরায়েল ও ব্রাজিলেও।

তবে ওমিক্রন আতঙ্কে ঢালাওভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করেছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেস।

যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, সাউথ আফ্রিকাকে শাস্তি দেয়ার জন্য নয়। আমেরিকার জনগণকে রক্ষা করার জন্যই এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বাজির কারখানায় বিস্ফোরণে ৩ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে বাজির কারখানায় বিস্ফোরণে ৩ জনের মৃত্যু

বিস্ফোরণে উড়ে যায় বাজির কারখানার কংক্রিকের ছাদ। ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে । প্রচণ্ড শব্দে কারখানা সংলগ্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। দুই কামরার ঘরের কংক্রিটের ছাদ উড়ে যায়। ভেঙে পড়ে জানালার কাঁচ। আগুন ধরে যায় পুরো বাড়িতে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালিতে বাজি তৈরির কারখানায় বারুদে আগুন লেগে বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে বজবজ ২ নম্বর ব্লকের নস্করপুর পঞ্চায়েতের মোহনপুরে অসীম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে । এখানে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় বেআইনিভাবে বাজি তৈরির এই কারখানা চালানো হচ্ছিল।

জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় বাজি তৈরির কাজ চলছিল। সে সময় পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে । বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিলো যে প্রচণ্ড শব্দে কারখানা সংলগ্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। দুই কামরার ঘরের কংক্রিটের ছাদ উড়ে যায়। ভেঙে পড়ে জানালার কাঁচ। আগুন লেগে যায় পুরো বাড়িটিতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তারা দেখতে পান দাউ দাউ করে ওই বাজি কারখানায় আগুন জ্বলছে। মুহূর্তেই গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নোদাখালি থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা আগুনে দগ্ধ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। তারা হলেন- অসীম মণ্ডল, অতিথি হালদার ‌ও কাকলি মিদ্যা। প্রত্যেকেই মোহনপুরের বাসিন্দা। কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাতগাছিয়ার বিধায়ক মোহন চন্দ্র নস্কর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অসীম মণ্ডল প্রতিবেশীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বেশ কয়েক বছর ধরে নিজের বাড়িতে বাজি কারখানা চালাচ্ছিলেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

এটি কিন্তু ব্লাউজ নয়

এটি কিন্তু ব্লাউজ নয়

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

ইনস্টাগ্রামের ওই পোস্টে মিশ্র প্রক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে নতুন ফ্যাশনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আরও চমকের অপেক্ষায় থাকার কথা বলছেন কেউ; কেউ আবার বলছেন, সেলাইয়ের টাকা বাঁচানোর ফন্দি। অনেকে আবার বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত বলছেন।

মেহেদি কেবল হাতে পরার জন্য এ কথা কে বলেছে? ভারতের পাঞ্জাবে এক ডিজাইনার মেহেদির ব্যবহারকে নিয়ে গেছেন এমন এক পর্যায়ে, যা নিয়ে নেট দুনিয়ায় তোলপাড়।

মুম্বাইভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই ডিজাইনার হয়তো বলিউডের জনপ্রিয় ‘মেহেদি লাগাকে রাখ না’ গানটিকে একটু বেশিই গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। যার কারণে ‘মেহেদি ব্লাউজ’ ডিজাইন করে চমক সৃষ্টি করেছেন ফ্যাশন দুনিয়ায়।

ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে দেখা গেছে, সাদা শাড়ির সঙ্গে এক নারী চিরাচরিত ব্লাউজের পরিবর্তে পরেছেন মেহেদি দিয়ে আঁকা ব্লাউজ। মানে শরীরে ব্লাউজের আদলে এঁকেছেন মেহেদির নকশা। এক ঝলক দেখে বোঝার উপায় নেই এটি মেহেদি দিয়ে আঁকা নকশা।

ইনস্টাগ্রামের ওই পোস্টে মিশ্র প্রক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে নতুন ফ্যাশনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আরও চমকের অপেক্ষায় থাকার কথা বলছেন কেউ; কেউ আবার বলছেন, সেলাইয়ের টাকা বাঁচানোর ফন্দি। অনেকে আবার বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত বলছেন।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, কয়েক বছর আগেও মেহেদি দিয়ে শুধু হাতে ও পায়ে নকশা করা হতো। তবে ভারতজুড়ে এই বিয়ের মৌসুমে অনেক কনেই এখন ব্লাউজ ছেড়ে মেহেদির নকশার দিকে ঝুঁকছেন।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড মোকাবিলায় তৎপর ইইউ

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড মোকাবিলায় তৎপর ইইউ

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প পশ্চিম বলকান ছাড়িয়ে মন্টিনিগ্রো পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ছবি: এএফপি

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে অনেক দেশই সন্দেহের চোখে দেখে। ‘চীনা ঋণের ফাঁদ’ কথাটি এখন বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত। এশিয়া ও আফ্রিকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রধানত মহাসড়ক, রেলপথ, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা অবকাঠামোয় সহজ শর্তে যে বিপুল ঋণ দিয়ে থাকে বেইজিং, তাতে বেশির ভাগ দেশ প্রলুব্ধ হচ্ছে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ প্রকল্পের বিপরীতে বিশ্বব্যাপী কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ ও জ্বালানি খাত ঘিরে বিনিয়োগের এই পরিকল্পনা নিয়েছে ইইউ।

আফ্রিকাসহ বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় একে পশ্চিমাদের নেয়া শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান ভন ডার লেইন এ প্রচেষ্টাকে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ শিরোনামে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ইইউ ইতোমধ্যে খতিয়ে দেখছে এই প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করে ঠিক কীভাবে তারা লাভবান হতে পারে।

স্টেট ইউনিয়নের ভাষণে গত সেপ্টেম্বরে ভন ডার লেইন জানিয়েছিলেন, টেকসই অবকাঠামো, পণ্য বিপণন ব্যবস্থাপনা ও সেবা খাতে সারা বিশ্বে বিনিয়োগ করতে চায় ইইউ।

ধারণা করা হচ্ছে, চীনের বৈশ্বিক নীতির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গ্লোবাল গেটওয়ে প্রকল্পটিকে এখনই সামনে আনতে চাচ্ছে না ইইউ। তবে জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ট্রান্সআটলান্টিকের ফেলো এন্ড্রু স্মল মনে করছেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ প্রকল্প থেকেই গ্লোবাল গেটওয়ের ধারণা এসেছে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ শুধু বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এটি চীনের পররাষ্ট্রনীতিরও অংশ। যার মাধ্যমে প্রভাবশালী দেশটি উন্নয়নশীল দেশে নতুন রাস্তা, বন্দর, রেলপথ ও সেতু নির্মাণে বিনিয়োগ ও ঋণ দিয়ে থাকে। পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়ার অনেক দেশই এখন এই প্রকল্পের অংশ। এ ছাড়া আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ও জিবুতিতেও চীনের অনেক প্রকল্প আছে। ইইউর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী পশ্চিম বলকানও তাদের কব্জায়।

সম্ভাবনার পাশাপাশি একই সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে অনেক দেশই সন্দেহের চোখে দেখে। ‘চীনা ঋণের ফাঁদ’ কথাটি এখন বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত। এশিয়া ও আফ্রিকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রধানত মহাসড়ক, রেলপথ, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা অবকাঠামোয় সহজ শর্তে যে বিপুল ঋণ দিয়ে থাকে বেইজিং, তাতে বেশির ভাগ দেশ প্রলুব্ধ হচ্ছে।

এই ঋণের দায়ে সমুদ্রবন্দরও চীনকে ইজারা দিতে বাধ্য হয়েছে শ্রীলংকা। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর চীনা ঋণে আগ্রহ থাকলেও, তাদের মধ্যে ভীতিও কাজ করে। আর এই ভীতিকেই হয়তো কাজে লাগাতে চাচ্ছে গ্লোবাল গেটওয়ে।

এন্ড্রু স্মল গ্লোবাল গেটওয়েকে দেখছেন চীনের নব্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের বিপরীতে প্রথম কোনো পশ্চিমা পদক্ষেপ হিসেবে। তিনি মনে করেন, এতে চীনের সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন

সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তেল আবিব

সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তেল আবিব

ইসরায়েলের তেল আবিব শহর। ছবি: এএফপি

ইআইইউ বলছে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর ইসরায়েলের তেল আবিব। গত বছর এ তালিকায় শীর্ষে থাকা প্যারিস এবার যৌথভাবে সিঙ্গাপুর সিটির সঙ্গে দ্বিতীয় অবস্থানে। আর জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়ের শহর সিরিয়ার দামেস্ক।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের (ইআইইউ) বুধবার এ তালিকা প্রকাশ করে।

চলতি বছরের ডলারের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৭৩ শহরে কমপক্ষে ৫০ হাজার পণ্য ও সেবার ব্যয় বিবেচনায় এ সূচক তৈরি করেছে ইআইইউ।

ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা করা হয়। এ সময়ে নৌপথে পরিবহন খরচের পাশাপাশি পণ্যের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে গড় দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বলা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বে দ্রুততম মুদ্রাস্ফীতির রেকর্ড হয়েছে এবার।

পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

তালিকায় প্রথম পাঁচে আছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক আছে ষষ্ঠ অবস্থানে।

প্রথম দশের মধ্যে আছে সুইজারল্যান্ডের আরেক শহর জেনেভা, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও জাপানের ওসাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ১৪, মেলবোর্ন ১৬ ও যুক্তরাজ্যের লন্ডন তালিকার ১৭ নম্বরে।

জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর সিরিয়ার দামেস্কের আগের ঠিক ওপরে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ।

আরও পড়ুন:
আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়
শোককে শক্তিতে পরিণত করার আগস্ট
ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা রেডিও বন্ধ ঘোষণা
কোপা আমেরিকার সেমি লাইনআপ
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ চূড়ান্ত

শেয়ার করুন