‘ইহুদি রক্ষায়’ যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে হামাস

‘ইহুদি রক্ষায়’ যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে হামাস

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। ছবি: রয়টার্স

আল-জাজিরার খবরে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাস হলে সে দেশে বাস করা হামাস সমর্থকদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া হামাসের প্রতি সমর্থন, সংগঠনটির পতাকা ওড়ানো, এমনকি সভা আয়োজন হবে আইনের লঙ্ঘন।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের বরাতে এ খবর ছেপেছে আল-জাজিরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাটেল শুক্রবার জানান, হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখাকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই পুরো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি।

হামাসের সামরিক শাখা দ্য আল কাশেম ব্রিগ্রেডসকে ২০০১ সালের মার্চে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল যুক্তরাজ্য। তারপর থেকে রাজনৈতিক নেতারা সংগঠনটির কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আল-জাজিরার খবরে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাস হলে সে দেশে বাস করা হামাস সমর্থকদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া হামাসের প্রতি সমর্থন, সংগঠনটির পতাকা ওড়ানো এমনকি সভা আয়োজন হবে আইনের লঙ্ঘন।

সরকারি সফরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। সেখান থেকেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্যাটেল। বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যে হামাসের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা মিলেছে। সংগঠনটির মধ্যে ইহুদি বিদ্বেষ তীব্র। এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় হামাসকে নিষিদ্ধ করা হবে।’

চলতি মাসের শুরুতে এক যুবক হামাসের আরেক সামরিক শাখা প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদকে সমর্থন করা একটি টি-শার্ট পরে ব্রিটিশ আদালতে হাজির হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ নিষিদ্ধ হয়েছিল যুক্তরাজ্যে।

এর আগে গত জুনে ফেরাস আল জয়োসি নামের এক ব্যক্তিকে হামাসের সমর্থন করা টি-শার্ট পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় পূর্ব লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায়।

প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি গাজার হামাস নেতারা। তারা বলছেন, নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিক্রিয়া জানাবেন তারা।

যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। টুইটে তিনি জানিয়েছেন, মৌলবাদী সংগঠনটির লক্ষ্য নিরীহ ইসরায়েলিরা। তারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়।

এই সিদ্ধান্তকে তেল আবিব-লন্ডনের যৌথ উদ্যোগের প্রতিফলন বলছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড।

হামাস কারা

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে ১৯৮৭ সালে গঠন হয় হামাস। গাজাভিত্তিক সংগঠনটি ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পায়। নিয়ন্ত্রণে নেয় গাজা উপত্যকার।

চলতি বছরের মে মাসে হামাস দমনে গাজায় ১১ দিনের অভিযান চালায় ইসরায়েল। এতে নিহত হন ৬৬ শিশুসহ কমপক্ষে ২৫০ ফিলিস্তিনি।

পরে তেল আবিব দাবি করে, অভিযানের সময় হামাসের পাল্টা হামলায় দুই শিশুসহ ১৩ ইসরায়েলির প্রাণহানি হয়েছিল।

এর আগে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুয়েতে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ সাবাহ খালিদের পুনর্নিয়োগ

কুয়েতে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ সাবাহ খালিদের পুনর্নিয়োগ

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহ। ফাইল ছবি

গত ৮ নভেম্বর কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয় দেশটির সরকার। ১৪ নভেম্বর সে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন আমির।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারও নিয়োগ দেয়া হয়েছে শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহকে।

কুয়েতের সংবাদ সংস্থা কুনার বরাত দিয়ে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ সাবাহ খালিদকে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিতে কুয়েতের আমিরের পক্ষে মঙ্গলবার আদেশ জারি করেন যুবরাজ শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ।

আদেশে নতুন সরকার গঠনে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা অনুমোদনের জন্য জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৮ নভেম্বর কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয় দেশটির সরকার। ১৪ নভেম্বর সে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন আমির।

বিরোধীদলীয় সাংসদদের সঙ্গে সংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পদত্যাগ করেছিল কুয়েত সরকার। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই পদক্ষেপ নেয় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশটির সরকার।

করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দুর্নীতি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদকে পার্লামেন্টে প্রশ্ন করতে চেয়েছিল বিরোধীরা। প্রশ্নোত্তর এড়াতে পার্লামেন্ট অধিবেশনের আগেই পদত্যাগ করে সরকার।

পার্লামেন্টে অচলাবস্থার ফলে আটকে যায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া।

চলতি বছর কুয়েতে সরকারের পদত্যাগের এটি ছিল দ্বিতীয় ঘটনা। গত জানুয়ারিতে দেশটির আগের সরকার ক্ষমতা থেকে সরে গেলে মার্চে শেখ সাবাহ আল-খালিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়।

কুয়েতের মন্ত্রিসভাতেও রদবদল প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাক্ষী সাবেক সহযোগী

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সাক্ষী সাবেক সহযোগী

আদালতে আইনজীবীদের মাঝখানে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবারের ছবি/এএফপি

তিনটি পৃথক মামলা চলছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। শুনানিতে অংশ নেয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বেশ কয়েকবারই আদালতে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষী হয়েছেন তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নির হেফেৎজ। নেতানিয়াহুর সাবেক মুখপাত্র হেফেৎজ।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন হেফেৎজ। আদালতের কাছে নেতানিয়াহুকে তিনি আখ্যায়িত করেছেন ‘কর্তৃত্বপরায়ণ উন্মাদ’ হিসেবে।

পূর্ব জেরুজালেমের আদালতে দাঁড়িয়ে হেফেৎজ বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতানিয়াহু যতটা না সময় দেন, ততটাই সময় কাটান সংবাদমাধ্যমের পেছনে। যেকোনো মানুষই অর্থহীন বলে মনে করবেন, এমন ইস্যুগুলোতেও প্রচুর সময় ব্যয় করেন তিনি।

‘জনগণের সামনে ভাবমূর্তি বজায় রাখার প্রশ্নে তিনি ভয়াবহ কর্তৃত্বপরায়ণ। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় তিনি এতটাই নিয়ন্ত্রণ করতে চান যে অন্য কোনো কিছু তার কাছে এত গুরুত্ব পায় না।’

টানা ১২ বছর ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকার পর চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন ৭২ বছর বয়সী নেতানিয়াহু। ঘুষ, আস্থা লঙ্ঘন, প্রতারণাসহ তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে নিজের বিষয়ে ইতিবাচক খবর প্রচারের জন্য নেতানিয়াহু ঘুষ দিতেন, ধনকুবের বন্ধুদের অবৈধভাবে বিভিন্ন সুবিধা দিতেন এবং শতকোটি ডলারের উপহার নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনটি পৃথক মামলা চলছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। শুনানিতে অংশ নেয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে সোমবারের শুনানিসহ বেশ কয়েক দিনই আদালতে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি নেতানিয়াহু। আদালত প্রাঙ্গণে নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেছে।

শেয়ার করুন

ইসরায়েলিকে হত্যা, পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলিকে হত্যা, পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত

জেরুজালেমে রোববারের হামলার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করছে পুলিশ। ছবি: এএফপি

হামলাকারীকে পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দাবি করেছে, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার একজন সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী তিনদিন আগে দেশ ত্যাগ করেছে। হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দায় স্বীকার করেনি হামাস।

পবিত্র নগরী জেরুজালেমের প্রবেশপথে এক ফিলিস্তিনির হামলায় নিহত হয়েছে এক ইসরায়েলি নাগরিক, আহত হয়েছে আরও চারজন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে প্রাণ গেছে ওই ফিলিস্তিনিরও।

পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রোববার এ ঘটনা ঘটে।

চলতি বছরের মে মাসেও আল আকসায় মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের উপর ব্যাপক সহিংসতা চালায় ইসরায়েল।

পুলিশ জানায়, সবশেষ হামলায় আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাকিদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত।

হামলাকারীকে পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দাবি করেছে, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার একজন সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী তিনদিন আগে দেশ ত্যাগ করেছে।

হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দায় স্বীকার করেনি হামাস।

এক সপ্তাহের মধ্যে জেরুজালেমে এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে বুধবার সীমান্তে দুই ইসরায়েলি পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে এক ফিলিস্তিনি কিশোর। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা।

ইসরায়েলিদের ‌ওপর ছুরি নিয়ে, গুলি করে কিংবা গাড়ি তুলে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের হামলাচেষ্টা নতুন কিছু নয়। যদিও গাড়ি তুলে দেয়ার কয়েকটি ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা ছিল বলে দাবি অনেক অধিকারকর্মীর। এসব ঘটনায় ইসরায়েলি সেনারা অপ্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেছে বলেও অভিযোগ তাদের।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের পাশাপাশি খ্রিস্টান, মুসলিম ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র হিসেবে গণ্য পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল।

শেয়ার করুন

রিয়াদ-জেদ্দাসহ সৌদির কয়েকটি শহরে হুতিদের হামলা

রিয়াদ-জেদ্দাসহ সৌদির কয়েকটি শহরে হুতিদের হামলা

২০২০ সালের নভেম্বরেও জেদ্দায় আরামকোর তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ফাইল ছবি/এএফপি

হুতিদের হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি জোট। তবে একই দিনে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্রের গুদামসহ ১৩টি লক্ষ্যে হামলার তথ্য দিয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং সাদা ও মারিব প্রদেশে হুতিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।

সৌদি আরবের কয়েকটি শহর লক্ষ্য করে ১৪টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবারের এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার আরামকোর জেদ্দায় অবস্থিত একটি কারখানাও।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী রিয়াদ, বন্দরনগরী জেদ্দা, আভা, জিজান ও নাজরান শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি ‘অবরোধ প্রত্যাহার ও এসব অপরাধ’ বন্ধ না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে।

তবে সারির বিবৃতিতে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন- জেদ্দার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ভুল ছিল বিবৃতিতে; কিং খালিদ সেনা ঘাঁটির ভুল অবস্থান হিসেবে রিয়াদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঘাঁটিটি সৌদি আরবের দক্ষিণে অবস্থিত।

হুতিদের হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি জোট। তবে একই দিনে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সেনা অভিযানের অংশ হিসেবে অস্ত্রের গুদামসহ ১৩টি লক্ষ্যে হামলার তথ্য দিয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং সাদা ও মারিব প্রদেশে হুতিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।

ইরান সমর্থিত শিয়া হুতিরা প্রায়ই সৌদি ভূখণ্ডে রকেট ও ড্রোন হামলার ঘোষণা দিয়ে থাকে। তাদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি জোটের আক্রমণের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালায় তারা।

সৌদি আরব ও ইরানের ছায়া যুদ্ধের ক্ষেত্র ইয়েমেন। ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশটিতে সাত বছরের সহিংসতায় নিহত হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার মানুষ।

বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্বসম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় পুরোটাই হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

ইয়েমেনে অস্ত্রবিরতি কার্যকরে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা থমকে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

শেয়ার করুন

গণতন্ত্রকামীদের ঠেকাতে বিচ্ছিন্ন সুদানের রাজধানী

গণতন্ত্রকামীদের ঠেকাতে বিচ্ছিন্ন  সুদানের রাজধানী

অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান। ছবি: এএফপি

বুধবার রাজধানী খার্তুমে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল গণতন্ত্রকামীরা। তাদের ঠেকাতে বাহরি ও ওমদুরমান শহরের সঙ্গে খার্তুমের সংযোগ সেতু বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক সরকার। 

সুদানে সামরিক শাসনের অবসানের দাবিতে চলা বিক্ষোভ দমাতে হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী।

বুধবার রাজধানী খার্তুমে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল গণতন্ত্রকামীরা। তাদের ঠেকাতে বাহরি ও ওমদুরমান শহরের সঙ্গে খার্তুমের ৪টি সংযোগ সেতু বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক সরকার।

সুদানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।

২০১৯ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে সেনাবাহিনী। বেসামরিক সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশ শাসন করে আসছিল সামরিক বাহিনী।

কিন্তু দুই বছর যেতে না-যেতেই আসল রূপে ফেরে সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদুকসহ বেসামরিক নেতৃত্বকে গত ২৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে সামরিক প্রধান জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল বুরহান ক্ষমতার দখল নেন। এই অভ্যুত্থানকে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাকে শোধরানোর পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন জেনারেল বুরহান।

প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রতিবাদের মুখে গত সপ্তাহে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দাবি করেন বুরহান। নিজের নেতৃত্বে গঠন করেন নতুন সভরেইন কাউন্সিল। জানান, ২০২৩ সালে নতুন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে।

এ ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে পারেনি দেশটির সাধারণ জনগণ। অবিলম্বে গণতান্ত্রিক সরকারের দাবিতে গ্রাফিতি, স্লোগান আর বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সামরিক সরকার। বিক্ষোভে গুলি চালানো শুরু করে সেনারা।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসেবে, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে দেশটিতে সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংক। সদস্য পদ হারিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন থেকেও।

শেয়ার করুন

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন গাদ্দাফিপুত্র সাইফ

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন গাদ্দাফিপুত্র সাইফ

সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফি।

বিদ্রোহীদের হাতে আটক হওয়ার পর গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে লিবিয়ার একটি উপজাতি গোষ্ঠীর আশ্রয়ে সৌভাগ্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম।

আগামী মাসেই লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে এবার প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির বেঁচে যাওয়া পুত্র সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফি (৪৯)।

রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়- সাইফ একসময় তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী ছিলেন। কিন্তু ১০ বছর আগে বিদ্রোহীদের উপর নৃশংস দমন-পীড়নে সমর্থন দেয়ার জন্য তিনি কলঙ্কিত হয়েছেন।

গাদ্দাফির পতনের পরও দেশটির অশান্ত পরিস্থিতি এখনও চলমান রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ২৪ ডিসেম্বরের নির্বাচন দেশটির সংঘাত থামাতে কাজে দেবে।

তবে কিছু মানবাধিকার গ্রুপ আশঙ্কা করছে এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দেশটির সেবহা শহরের নির্বাচনী কার্যালয় হাজির হয়েছেন এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে তাকে মনোনয়নপত্রে সই করতেও দেখা গেছে।

প্রার্থী হতে সাইফের মনোনয়ন জমা দেয়ার বিষয়টি এক নির্বাচনী কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে যারা প্রেসিডেন্ট লড়াই করবেন বলে জানা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে আছেন লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক বাহিনীর কমান্ডার খলিফা হাফতার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ আল দিবাহ ও পার্লামেন্টের স্পিকার আজুলা সালেহ।

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতন ঘটে ২০১১ সালে। বিদ্রোহীদের হাতে আটক হওয়ার পর গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে দেশটির একটি উপজাতি গোষ্ঠীর আশ্রয়ে সৌভাগ্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম।

শেয়ার করুন