স্থিতিশীল সম্পর্ক নিশ্চিতে ‘একমত’ চীন-ভারত

স্থিতিশীল সম্পর্ক নিশ্চিতে ‘একমত’ চীন-ভারত

পূর্ব লাদাখ সীমান্তের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান চাচ্ছে ভারত ও চীন। ছবি: সংগৃহীত

ডব্লিউএমসিসির ২৩তম বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে পথ খুঁজে বের করতে চায় ভারত ও চীন। শান্তি ও স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধার করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রটোকলগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে পথ খুঁজে বের করতে চায় ভারত ও চীন। দুই দেশের সীমান্তবিষয়ক কাজ ও পরামর্শের জন্য গঠন করা ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) স্থিতিশীল এ সম্পর্ক নিশ্চিতে একমত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডব্লিউএমসিসির ২৩তম বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বলা হয়, শান্তি ও স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধার করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রটোকলগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

চীন তার ২২ হাজার ১০০ কিলোমিটার স্থল সীমান্তে দেশের টহল কার্যক্রমসংক্রান্ত বিতর্কিত নতুন স্থল সীমান্ত আইন চালু করার পর এটিই প্রথম ডব্লিউএমসিসির বৈঠক। ভারতের জন্য চীনের এই নতুন আইন বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ১০ অক্টোবর সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের কর্পস কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার ১৩তম রাউন্ডে কোনও অগ্রগতি না হওয়ার পর ভারত ও চীন তাদের কঠোর অবস্থানে দৃঢ় থাকে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা অচলাবস্থা কাটাতে বৃহস্পতিবার দুই দেশের কূটনীতিকরা ‘সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখায় অবশিষ্ট সমস্যাগুলোর একটি দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তায়’ সম্মত হন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডব্লিউএমসিসির বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে দুশানবেতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের চুক্তির কথা মেনে চলার সিদ্ধান্ত হয়।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা পূর্ব লাদাখ সীমান্তের অবশিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পরস্পর আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পূর্ব লাদাখে সীমান্ত বিবাদ মেটাতে দুই দেশের কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের ১৪তম বৈঠক যত দ্রুত সম্ভব করা।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পূর্ব এশিয়া) নবীন শ্রীবাস্তব। চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমানা ও মহাসাগরীয় বিভাগের মহাপরিচালক হং লিয়াং।

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনা সংঘর্ষের পর থেকে চীন ও ভারত একে অপরের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ বাক্যবিনিময় করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে দুই পক্ষই যৌথ বিবৃতি জারি করে বৈঠকের যে ফল প্রকাশ করেছে, তা ইতিবাচক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ডব্লিউএমসিসির বৈঠক হয়েছিল ২৫ জুন।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

বাগদাদে আদালতের বাইরে বাল্যবিবাহবিরোধীদের বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

ইরাকে ১২ বছরের এক মেয়েশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তোলপাড়; এতটাই যে আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এতে। মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল ক্ষোভ সত্ত্বেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরাকে বাল্যবিবাহের বহু ঘটনা ঘটলেও সেগুলো এত আলোচিত হয় না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার শুনানিতে এক বিচারক ১২ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের ধর্মমতে বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে গত সপ্তাহে শুনানি স্থগিত করা হয়।

রাজধানী বাগদাদের কাধামিয়া জেলা আদালতে রোববার আবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা। তবে এ দিন রায় দেয়া হবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

‘বাল্যবিবাহ শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ’ এবং ‘বাল্যবিবাহকে না বলুন’সহ বিক্ষুব্ধদের নানা স্লোগানে গত সপ্তাহে মুখর হয়েছিল আদালত প্রাঙ্গণ।

এক বিক্ষোভকারী আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে সে সময় বলেছিলেন, ‘শিশুদের ঘরে বসে কার্টুন দেখার কথা, বিয়ে করার কথা নয়। তাই আমরা এখানে নিন্দা জানাতে এসেছি।’

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

কিন্তু মেয়েটি, তার সৎ বাবা ও তার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিবৃতিতে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কাজ করা একটি বিভাগ জানায়, মেয়েটিকে বিয়েতে জোর করা হয়নি।

ইরাকের নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক আইনজীবী হালা বলেন, ‘যাই হোক না কেন, ১২ বছরের একটা শিশু আর ২৫ বছর বয়সের একটা লোকের বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইরাকের আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পিতার মত সাপেক্ষে সর্বনিম্ন ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নির্মূলবিষয়ক সার্বজনীন সমঝোতাপত্রেও ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হলে তা জোরপূর্বক হয়েছে বলে ধরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইনি বাধা সত্ত্বেও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই বাল্যবিবাহ বহু প্রচলিত, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলগুলোতে। দারিদ্র ও ধর্মচর্চার অংশ হিসেবে অনেক মা-বাবা পরিবারের বোঝা কমাতে বা আর্থিক সহায়তা পেতে ছোট ছোট মেয়ে সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন।

২০১৮ সালে ইরাক সরকারের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটিতে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের প্রথম বিয়েটি হয়েছিল ১৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার আগেই। ২০ দশমিক দুই শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

পেরুতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: এএফপি

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। এতে কমপক্ষে ৭৫টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন ১০ জন। প্রাণহানির কোনো খবর মেলেনি এখনও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রত্যন্ত আমাজন অঞ্চলে স্থানীয় সময় রোববার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কম্পন অনুভূত হয়েছে সুদূর রাজধানী লিমা পর্যন্ত।

পেরুর ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ পেরু (আইজিপি) জানিয়েছে, কনডরক্যানক্যু প্রদেশের সান্তা মারিয়া ডি নিয়েভা শহর থেকে ৯৮ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১৩১ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনটির উৎসস্থল।

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ২২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৮১টি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ৭৫টি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও দুটি শপিং সেন্টার।

বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর ফুটেজে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে আমাজন বনাঞ্চলের পেরুর অংশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোপেরুর এক হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তেলের পাইপলাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি ভূমিকম্পে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ ও ভুক্তভোগীদের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাসটিলো।

ভূমিকম্পের ফলে সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনকে চলতি সপ্তাহে ওমিক্রন নাম দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১৯ সালে চীনের উহানে শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে ওমিক্রন একেবারেই আলাদা।

কোভিডের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ধরনগুলোর মধ্যে এর আগে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল ডেল্টাকে। ওমিক্রনের অস্তিত্ব শনাক্তের পর থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি শোনা যাচ্ছে, তা হলো ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও বিপজ্জনক কি না।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই ডব্লিউএইচও রোববার ওমিক্রনের বিষয়ে সবশেষ সংগৃহীত কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

ওমিক্রনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা ভাইরাসটির আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত করা সাউথ আফ্রিকার স্বাস্থ্যবিদদের মতে, এখন পর্যন্ত অর্ধশত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে নতুন ধরনে। এর বহিঃ আবরণীতে থাকা আমিষের যে অংশটি ভাইরাসকে কোষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে, সেই ‘স্পাইক প্রোটিন’-এর সংখ্যা ৩০টি।

করোনা প্রতিরোধী টিকা মূলত ভাইরাসের এই ‘স্পাইক প্রোটিন’কেই আক্রমণ করে। কারণ ‘স্পাইক প্রোটিন’ ব্যবহার করেই ভাইরাসটি দেহের কোষে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে।

ভাইরাস তার যে অংশ ব্যবহার করে প্রথমবার মানবদেহের কোষের সংস্পর্শে আসে, করোনার নতুন ধরনেই সেই অংশে ১০টি পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো আগের ধরনটি, অর্থাৎ করোনার ডেল্টা ভাইরাসে এ পরিবর্তনের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই।

ফলে এসব পরিবর্তন ওমিক্রনকে আরও সহজে ও দ্রুত সংক্রমণযোগ্য করে তুলেছে কি না, কিংবা আরও গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে কি না ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

ডেল্টাসহ করোনার অন্য ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত কেবল আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমেই নতুন ধরনটি শনাক্ত করা সম্ভব।

টিকার ওপর এই ভ্যারিয়েন্টটির প্রভাব খতিয়ে দেখতেও কাজ শুরু করেছে ডব্লিউএইচও।

ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কতটা, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়নি। উপসর্গের দিক থেকে করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন আলাদা কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য মেলেনি।

প্রাথমিক তথ্য অবশ্য বলছে যে সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শুধু ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে বরং এ ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও হতে পারে এটি।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

করোনার ওমিক্রন ধরন ঠেকাতে আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেশ কিছু দেশ। ফাইল ছবি

সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

করোনা ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, এটা আফ্রিকা অঞ্চলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সিরিল রামাফোসা আফ্রিকার ওপর দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ বলে উল্লেখ করেন। এতে দেশগুলোর সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।

ওমিক্রন ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এটি খুব দ্রুত সংক্রমিত ধরন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয় আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায়। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বুধবার ধরনটি সম্পর্কে জানায়।

বতসোয়ানার পর সাউথ আফ্রিকার গৌটেং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণটি শনাক্ত হয়। এরপর দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই এটি ধরা পড়েছে।

সাউথ আফ্রিকার পাশাপাশি অনেক দেশেই এরই মধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে।

ওমিক্রন শনাক্তের পর খুব দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে কয়েকটি দেশের আফ্রিকার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘটনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখনটি এমন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। এজন্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নজর দেয়া উচিত।

রোববার সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এক বক্তৃতায় বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি করার ফলে আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বিভিন্ন দেশ যে উত্তরণ করছিল, এমন কর্মকাণ্ডে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যেসব দেশ এরইমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের তা প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, ‘আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আগেই তাদের এ সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে।’

ওমিক্রন ছড়ানোর কারণ হিসেবে রামাফোসা বিশ্বে করোনার টিকা বৈষম্যকে দায়ী করেন। আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি টিকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলেও দাবি তার।

আফ্রিকার বাইরে এরইমধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েলের মতো দেশে।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

২ ইরানি জেলেকে বাঁচাল আমেরিকার নৌবাহিনী

২ ইরানি জেলেকে বাঁচাল আমেরিকার নৌবাহিনী

সমুদ্রের বুকে এভাবেই ভাসছিলেন দুই জেলে। ছবি: দ্য ন্যাশনাল নিউজ

আরব সাগর এতটা বিপদসংকূল না হলেও বর্তমানে এই অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের হার বেড়েছে। ফলে ছোট আকারের নৌযানগুলোকে প্রায়ই বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

টানা ৮ দিন ধরে সমুদ্রের বুকে ভাসছিলেন দুই ইরানি জেলে। পরে উপসাগরীয় জলসীমা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী।

রোববার দ্য ন্যাশনাল নিউজ জানিয়েছে, ৮ দিন ধরে সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়ালেও উদ্ধারের সময় ইরানি জেলেরা বেশ সুস্থ ও সবল ছিলেন। সমুদ্রে ভাসতে দেখে তাদের দিকে খাবার, পানি আর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে এগিয়ে যায় নৌবাহিনীর কার্গো জাহাজ ‘চার্লস ড্রিউ’। উদ্ধারের পর তাদের মাসকাটের কাছাকাছি জলসীমায় ওমানের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আমেরিকার নৌবাহিনী দাবি করেছে, সমুদ্র থেকে এভাবে বেসামরিক ইরানিদের উদ্ধার করা একটি বার্ষিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এ নিয়ে তিনবার ইরানিদের উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যান্য সাগরের মতো আরব সাগর এতটা বিপদসংকূল না হলেও বর্তমানে এই অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের হার বেড়েছে। ফলে ছোট আকারের নৌযানগুলোকে প্রায়ই বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ছোটোখাটো বিপদে এডেন উপসাগরে এর আগে ইরানি নৌবাহিনীরও সহায়তা পেয়েছে আমেরিকার বাহিনী।

সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য আমেরিকান জাহাজগুলো বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসব জাহাজে শক্তিশালী ইনফ্রারেড ক্যামেরা ছাড়াও দুর্যোগ নজরদারির জন্য সার্বক্ষণিক লোক নিযুক্ত থাকেন।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’

নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’

আমস্টারডামের স্কিপল বিমানবন্দরে সাউথ আফ্রিকা থেকে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

সাউথ আফ্রিকা থেকে আমস্টারডামে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের প্রায় ৬০০ যাত্রীকে পরীক্ষার পর ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়। তাদের বিমানবন্দরের কাছেই একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের ১৩ যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৪৮ জনের দেহে।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম করোনার ‘বি.১.১.৫২৯’ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়, যাকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওমিক্রন’ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনার নতুন এই ধরনটি এরই মধ্যে সাউথ আফ্রিকাতেও শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়াতে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।

এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশ শুক্রবার সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার দক্ষিণের সাতটি দেশ থেকে ইউরোপে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই শুক্রবার সাউথ আফ্রিকা থেকে দুটি ফ্লাইট পৌঁছায় আমস্টারডামে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই দুটি ফ্লাইটের প্রায় ৬০০ যাত্রীকে করোনা পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরেই রেখেছিল ডাচ সরকার। এরপর কোভিড শনাক্ত হওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরের কাছেই একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি তারা নিজেদের বাড়িতে পাঁচ দিনের আইসোলেশনে থাকবেন। এরপর আবার তাদের করোনা পরীক্ষা হবে।

এর আগে মিশর থেকে বেলজিয়াম ভ্রমণে যাওয়া একজনের দেহেও ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ইউরোপে বেলজিয়ামই প্রথম দেশ, যেখানে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল ও হংকংয়েও শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি।

১৩ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিউগো দে জং সাম্প্রতিক সময়ে সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে আসা সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করাতে ‘জরুরি অনুরোধ’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে নেদারল্যান্ডসে ওমিক্রন সংক্রমিত আরও অনেকে আছেন।’

সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগের মূল কারণ, এর অনেকবারের মিউটেশন। মিউটেশন হলো এমন এক অভিযোজন কৌশল যার মাধ্যমে ভাইরাস বিরূপ বা নতুন পরিস্থিতিতেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে ৩২টি মিউটেশন খুঁজে পেয়েছেন। অন্যদিকে অত্যন্ত সংক্রামক হিসেবে বিবেচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে মিউটেশন হয়েছে মাত্র আটবার।

স্পাইক প্রোটিনের বেশি মিউটেশন মানেই ভাইরাসটি বেশি প্রাণঘাতী, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুবার মিউটেশনের কারণে ওমিক্রনের সঙ্গে মানুষের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউনিটি সিস্টেম) লড়াই করা কঠিন হতে পারে।

ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিন প্রচলিত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের তুলনায় অনেকটা বদলে যাওয়ায় দেহের ইমিউনিটি সিস্টেম দ্রুত একে শনাক্ত করতে পারে না, ফলে এটি সংক্রমণের হার বাড়াতে পারে। যেকোনো করোনাভাইরাস এদের স্পাইকের সাহায্যেই শ্বাসতন্ত্রের কোষে যুক্ত হয়ে কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।

প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে, নতুন ভ্যারিয়েন্টটি টিকার কার্যক্ষমতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের দুটি মিউটেশন- আর ২০৩কে এবং জি ২০৪আর ভাইরাসটির দ্রুত প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া তিনটি মিউটেশন- এইচ৬৫৫ওয়াই, এন ৬৭৯কে এবং পি ৬৮১এইচ ভাইরাসটিকে আরও সহজে মানব কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। তারা বলছেন, শেষ দুটি মিউটেশনের একসঙ্গে উপস্থিতি বিরল ঘটনা এবং এর ফলে ওমিক্রন টিকা প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ইনস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োটেকনোলজির আণবিক জীববিজ্ঞানী ডা. উলরিচ এলিংয়ের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ থেকে মনে হচ্ছে করোনার নতুন রূপটি ডেল্টার চেয়ে ৫০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক হতে পারে।

অবশ্য নতুন ভ্যারিয়েন্টটি সার্স কভ টুর আগের ধরনগুলোর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী- এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়ায় ছাড় দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

রেল ও বিমান ছাড়া ভারতের সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণে কোনো জাতীয় নীতি নেই। সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ করে রাজ্য সরকার। আর বাস ভাড়ায় কনসেশন দেয়া হয় বেশির ভাগ রাজ্যেই।

সড়ক পরিবহনের যাত্রীভাড়ায় কাদের কতটা ছাড় দেয়া হবে, অথবা আদৌ ছাড় দেয়া হবে কি না, সেসব সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়া সমস্যার সমাধানে কখনও কখনও জেলা প্রশাসনও স্থানীয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন বাস ভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড়।

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

যেমন নয়া দিল্লি। ভারতের রাজধানী শহরে বাস চলে পুরোপুরি দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (ডিটিসি) নিয়ন্ত্রণে। ডিটিসির সাধারণ বাসে ছাত্রদের জন্য একটি মাসিক কার্ড পাওয়া যায় ১০০ টাকায়। ওই কার্ডে দিল্লির মধ্যে যেকোনো রুটে যাতায়াত করা যায়। বিশেষ বাসের জন্য ওই কার্ডের দাম ১৫০ টাকা। তবে শীততাপনিয়ন্ত্রিত বাসে ওই কার্ড প্রযোজ্য নয়।

আবার জম্মু-কাশ্মীরে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি সব বাসে যাত্রীভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। তবে এই ছাড় শুধুমাত্র বাসস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ফিরে আসার জন্য। বাসে দেখাতে হবে ছাত্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। কোনো বাস যদি সরকারি নির্দেশ না মানে তবে ছাত্ররা অভিযোগ জানাতে পারে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে বৃহৎ মুম্বাই বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং পরিবহন (বেস্ট) পরিচালিত বাসগুলোতেও শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ছাড় দেয়া হয়।

তাদের একটি মাসিক ফর্ম আছে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্পসহ যেকোনো ডিপোতে জমা দিতে হয়। তারা শিক্ষার্থীদের এটিএম কার্ডের মতো একটি কার্ড প্রদান করে। এটি শুধু বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজে নন এসি বাসে যাওয়া-আসার জন্য কার্যকর।

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে বাস নিয়ন্ত্রণ করে সেখানকার পৌর সংস্থা। নাসিক মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অধীন নাসিক মহানগর পরিবহন মহামন্ডল লিমিটেডের বাসে শিক্ষার্থীরা এক মাসের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ৫০ শতাংশ এবং তিন মাসের জন্য ৬৬ শতাংশ ছাড় পায়। একমাসের মাসিক টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৫০০ রুপি । ছাত্রদের দিতে হয় ৭৫০ রুপি।

শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া ছাড় দেয়ায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ু অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই রাজ্যে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত সাতটি পরিবহন করপোরেশন।

২০১৫ সালে রাজ্য সরকার কমিউনিটি কলেজ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি আইটিআই, সঙ্গীত কলেজ এবং চেন্নাই করপোরেশন আইটিআইগুলোর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা প্রসারিত করেছিল। সুবিধা পেয়েছিলেন ৩২ লাখের বেশি ছাত্র।

এ ছাড়া ওই রাজ্যে বেসরকারি আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ, পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ফি ছাড় দেয়া হয়।

২০১৩ সাল পর্যন্ত শুধু স্কুল ও সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আইটিআই-এর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে ভ্রমণের মাধ্যমে পরিবহন করপোরেশনগুলোর ব্যয় প্রতি বছর ৪৪০-৪৫০ কোটি রুপি ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে তা বেড়ে ৭৩০ কোটি রুপি হয়।

দক্ষিণ ভারতের আর একটি রাজ্য কেরালা। বামজোটশাসিত এই রাজ্যেও বাসভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড় আছে। ২০১২ সালে সেখানে শেষবার বাসভাড়ায় পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ছাত্রদের জন্য নূন্যতম ভাড়া ছিল ১ রুপি।

সম্প্রতি সেখানে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে নূন্যতম সাধারণ যাত্রীভাড়া হতে পারে ১০ রুপি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ভাড়া ৫ রুপি করার প্রস্তাব আছে। বাস মালিকরা চাইছে ৬ টাকা করতে। অর্থাৎ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে ছাত্ররা।

বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে খুবই করুন অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। এ বিষয়ে সেখানকার এক ছাত্র ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, অধিকাংশ ছাত্রই জানে না যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের বাসে ছাত্রদের জন্য বিশেষ ভাড়া রয়েছে। আপনি যদি কন্ডাক্টরকে একজন ছাত্র ভাড়া টেন্ডার করতে বলেন তাহলে আপনি মূল ভাড়ার উপর ফ্ল্যাট ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। হ্যাঁ, অনেক কন্ডাক্টর ডিসকাউন্ট রেট দিতে অস্বীকার করতে পারে, তবে আপনি তাকে নিচের উল্লিখিত পদ্ধতিতে গাইড করতে পারেন।’

অর্থাৎ ছাত্র, বাসের কন্ডাক্টর কেউই জানেন না বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ছাড়ের বিষয়টি।

এই প্রতিবেদনটা লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।

একজন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়মের কথা জানি না। তবে আসানসোল, বরাকর, বার্নপুর, রানীগঞ্জ অঞ্চলে মিনি বাসে ছাত্র কনসেশন আছে বাস মালিকদের সংগঠনের সৌজন্যে।’

আবার মেদিনীপুরের একজন বলেছেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছাত্রদের বাস ভাড়ায় এক-তৃতীয়াংশ ছাড় দেয়া হয়।’

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক শিক্ষক বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।’

অর্থাৎ বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেবার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে আছে বিশৃঙ্খলা।

আরও পড়ুন:
সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের আবারও ধাক্কাধাক্কি
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

শেয়ার করুন