পোষা কুকুর মেরে ফেলায় তুলকালাম চীনে

পোষা কুকুর মেরে ফেলায় তুলকালাম চীনে

ছবি: বিবিসি

গৃহপালিত একটি কুকুর মেরে ফেলায় এর বিচার দাবিতে উত্তপ্ত এখন চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সিসিক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হয়েছেন সেই হত্যাকারীও।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন মালিক। এই অনুপস্থিতির সুযোগে তার পোষা কুকুরটিকে মেরে ফেলেছেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। এ নিয়ে এখন উত্তপ্ত চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। চীনা নেটিজেনরা ওই স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার এবং বরখাস্ত দাবি করছেন।

বিবিসি’র খবরে জানা গেছে, কুকুর মেরে ফেলার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের জিয়াংচি প্রদেশে অবস্থিত সাংগ্রাও শহরের কাছাকাছি একটি এলাকায়। ওই এলাকার এক নারীর শরীরে করোনা ধরা পড়লে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। পরে ওই নারীর বাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে যান সরকারি এক স্বাস্থ্যকর্মী। তখনই ঘটে বিপত্তি। বাড়িতে থাকা কোভিড আক্রান্ত নারীর পালিত কুকুরটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন ওই স্বাস্থ্যকর্মীটি। কিন্তু এই ঘটনাটি তার অলক্ষ্যেই সিসিক্যামেরায় থেকে যায়।

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে কুকুরের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করতে গিয়েই সিসিক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন ওই নারী। এ সময় তিনি দেখতে পান, তার আদরের কুকুরটিকে নির্মমভাবে একটি শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছেন বাড়ি জীবানুমুক্ত করতে যাওয়া সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী।

পরে ঘটনাটির বিচার দাবি করে তিনি ওই ফুটেজ চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!

ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!

২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে তোলা হয়েছিল এই ছবিটি। ডেইলি মেইল

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। তবে এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা। 

কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরছে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছবি। নির্বাণ লাভের পরও তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের প্রতিচ্ছবি দৃষ্টি কেড়েছে নেটিজেনদের।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, সম্প্রতি হিমালয়ের দুর্গম এক পাহাড়ি গুহা থেকে এই প্রাচীন বৌদ্ধ ভিক্ষুর শরীর উদ্ধার করেছে নেপালের কিছু নৃতত্ত্ববিদ ও পুলিশ। পরে একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা করে জানিয়েছে, ওই ভিক্ষুর শরীরে এখনও প্রাণ আছে। আর ফরেনসিক টিমের বক্তব্য হলো- ওই ভিক্ষুর বয়স ২৫০ থেকে ৩০০ বছর হতে পারে। বর্তমানে তিনি সজ্ঞানে নেই। ধ্যানরত অবস্থায় সমাধি লাভ করেছেন। অর্থাৎ শরীরের ভেতর প্রাণ থাকলেও জ্ঞান নেই‌।

আরও দাবি করা হয়, ধ্যানরত ওই ভিক্ষুর পাশ থেকে এক টুকরো কাগজও পাওয়া গেছে। সাংকেতিক ভাষায় ওই লেখাটির মর্মার্থ দাঁড়ায়- ‘সবাই কাঁচা বাদাম বেচলে কিনবে কে?’

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। তবে এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভিক্ষুর ছবিটির উৎস বের করতে গিয়েই মিলেছে এমন তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তিটি আসলে বৌদ্ধ ভিক্ষু লুয়াং ফোর পিয়ানের। ২০১৭ সালে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মারা যান।

ছবিটি দিয়ে গুগল ইমেজে সার্চ করে দেখা যায়, ২০১৮ সালেও এই ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম। এর মধ্যে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ব্যাংককের একটি হাসপাতালে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছিল ৯২ বছর বয়সী ভিক্ষু পিয়ানের।

আরও জানানো হয়, মৃত্যুর দুই মাস পর একটি কফিনের ভেতর থেকে পিয়ানের মরদেহটি ছবি তোলার জন্য তার অনুসারীরা বের করে আনেন। সে সময় একটি ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে মরদেহে নতুন পোশাক পরানো হয়।

থাইল্যান্ডে মারা গেলেও লুয়াং ফোর পিয়ানের জন্ম কম্বোডিয়ায়। পরে জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি থাইল্যান্ডের লবপুরিতে বৌদ্ধ গুরু হিসেবে কাটান।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম মেট্রোর এক খবরে বলা হয়, মৃত্যুর দুই মাস পরও ভিক্ষু পিয়ানের দেহ অনেকটা সজীব ছিল। সাধারণত কেউ মারা গেলে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে যেসব তথ্যসহ ভিক্ষু পিয়ানের ছবিটি ভাইরাল করা হয় সেগুলোর মূল উৎসও পাওয়া গেছে। তবে সেসব তথ্য যে ভিক্ষুকে কেন্দ্র করে তার মরদেহ ২০১৫ সালে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় অবিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা মরদেহটি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দাবি করেন, অন্তত ২০০ বছর আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা

পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ টাউন হলরুমে এমপির সামনে ইউএনওকে অপদস্ত ও ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, মহান বিজয় দিবসের আলোচনার শেষপর্যায়ে হঠাৎ এমপির উপস্থিতিতেই ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করতে থাকেন চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। এ সময় এমপিসহ উপস্থিত সবাই বিদ্যুৎকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যুৎ এমপিকে উপেক্ষা করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইউএনও নয়ন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ। পরে তিনি ইউএনওর সঙ্গে তর্কে জড়ান।

গাইবান্ধার সংসদ সদস্য (এমপি) ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির উপস্থিতিতেই এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করে ইউএনও বাগবিতণ্ডা ও জেরার মুখে পড়েন।

তবে ব্যাংক ম্যানেজারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। আর সংসদ সদস্য বলছেন, ঘটনাটি দুঃখজনক।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ টাউন হলরুমে ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে। এদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা চলছিল।

সভায় পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান নয়নের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনের এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি, পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, পৌর মেয়র গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর প্রধান ও সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার ম্যানেজার রওশন জামিলসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, মহান বিজয় দিবসের আলোচনার শেষপর্যায়ে হঠাৎ এমপির উপস্থিতেই ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করতে থাকেন চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ।

এ সময় এমপিসহ উপস্থিত সবাই বিদ্যুৎকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যুৎ এমপিকে উপেক্ষা করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইউএনও নয়ন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ। পরে তিনি ইউএনওর সঙ্গে তর্কে জড়ান।

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা


সেদিনের অনুষ্ঠানের প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ভিডিওর শুরুতেই এমপি স্মৃতির সামনেই আঙুল তুলে ইউএনওকে শাসাতে দেখা যায় চেয়ারম্যান বিদ্যুৎকে। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সে (রওশন জামিল) ‘শয়তানের বাচ্চা’ আবারও বললাম- আপনি (ইউএনও) লেখেন আমার বিরুদ্ধে।’’

জবাবে ইউএনও বলেন, ‘আমি লিখব না তো; আমার ওতো হক নাই। সে তো একজন অফিসার। সে তো এমনি এমনি আসে নাই। তার বাবা বেঁচে আছে কি না- তাকে তুলে এভাবে (গালিগালাজ), এটা কী হয়।’

এভাবে চলা বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আপনার মতো বহু ইউএনওর সঙ্গে চাকরি করে আসছি। আমি পলাশবাড়িতেই থাকব।’

এ সময় নিজেকে সামান্য ইউএনও দাবি করে নয়ন বলেন, ‘আমি পলাশবাড়িতে হয়তো থাকব না। এটাই তো।’

তর্কের একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলে ওঠেন, ‘এই নির্বাচনটাও (তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন) তো আপনার জন্য হারছে পলাশবাড়িতে।’

‘সেটা যদি; নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারেন দেন। এখানে আমার অনিয়মটা কোথায়।’ বলেন ইউএনও।

দীর্ঘ সময় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের চলা বাগবিতণ্ডা বারবার থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এমপি স্মৃতি। এ সময় তাদের তর্ক দাঁড়িয়ে শুনছিলেন অন্যরা।

মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় লাঞ্ছিত হওয়া ব্যাংক ম্যানেজার রওশন জামিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনার নিজের নামে (উপজেলা চেয়ারম্যান) একটা লোন প্রস্তাব ছিল ১৫ লাখ টাকার। উনি ব্যবসার ওপর এসএমই লোন চান। কিন্তু আদৌ উনার কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নাই।

‘এই লোনের বিপরীতে আমার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৪ লাখ। তবে প্রিন্সিপাল অফিস চাইলে দিতে পারে। কিন্তু তারাও প্রস্তাবটা ফেরত দিয়েছেন।’

ম্যানেজার বলেন, ‘আমিও তাকে সম্মানের সঙ্গে বলেছি, এটা তো এভাবে প্রসেস করা সম্ভব হচ্ছে না। তো এটাই উনার ক্ষোভ আর কী? এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ সেদিনের ঘটনা।’

বিজয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানের দিন কখন কীভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ প্রশ্নে রওশন জামিল বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে আমিসহ জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এমপি স্যারকে সালাম জানাতে তার কাছে যাই। সালাম দিয়ে আপার সঙ্গে কথা বলছিলাম- ঠিক এমন সময় হঠাৎ উনি (উপজেলা চেয়ারম্যান) গালিগালাজ শুরু করেন। বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার একটা শয়তানের বাচ্চা।’ কথাটা বারবার বলল। আমি তখনও আপার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’

এমপির সামনে ‘অপদস্ত’ ইউএনও, ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা


সবার সামনে আপনাকে গালিগালাজ দেয়ার পর কেউ প্রতিবাদ করেনি। এমন প্রশ্নে জামিল বলেন, ‘প্রথমে ম্যাডামই (এমপি) কথা ধরেছেন, বলেন- এই বিদ্যুৎ; তুমি কী বলছ এসব! থাম; কী হয়েছে, বিষয়টা শুনি। এর পরপরই ইউএনও স্যার কথা ধরেছেন।’

তবে ব্যাংক লোনের জন্য প্রস্তাব ও ব্যাংক ম্যানেজারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। আমি তো তার কাছে লোন চাই নাই। তার কাছে কোনো পেপার্স (ডকুমেন্ট) আছে; আমার লোন চাওয়ার।’

এক প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমার তো তার সঙ্গে কিছুই হয়নি। উনি যদি একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধটুকু না রাখেন; পলিটিক্স করতে চান! করুক। উনি তো চাকরিবাকরি করবেন না এলাকায়। পলিটিক্স করবেন- সমস্যা কী, করুক। আমি তো ওনাকে অপমান-অপদস্ত করিনি। ওনার গায়ে হাত দেইনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাকে যা করা হয়েছে-সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই। তবে আমার মনে হয়েছে, একজন অফিসারকে এভাবে বলাটা ঠিক সমীচীন নয়- তাই আমি বলেছি (প্রতিবাদ)। আমার ধারণা, হঠাৎ করে রাগের মাথায় ঘটে থাকতে পারে ঘটনাটি।’

ইউএনও বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তাই এটা নিয়ে আমরা সবাই বিব্রত।’

ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়।’

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার

জেব্রা ক্রসিং দেখা গেলেও রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছবি: নিউজবাংলা

আশরাফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘এখানে ক্রসিং দিয়ে চালকদের ধোঁকা দেয়া হয়েছে। কারণ এই চিহ্ন দেখলে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়ার কথা। তবে রাস্তা পার হওয়ার তো ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, এটির কোনো প্রয়োজনই নেই। আবার যদি ক্রসিং দেয়াই হলো, তবে সেখানে পকেট গেট কেন রাখা হলো না।’

রাজশাহীর রেলস্টেশন থেকে ভদ্রা মোড় পর্যন্ত রাস্তায় আছে বেশ কয়েকটি জেব্রা ক্রসিং। কিছুদূর পরপর রাস্তা পার হতে রাখা হয়েছে পকেট গেট।

ছোট এসব গেট জেব্রা ক্রসিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুভ পেট্রল পাম্পের পাশে একটি জেব্রা ক্রসিং দেখা গেলেও রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিভাজক অংশে লোহার পাত, রড বসানো হয়েছে। মাঝখানে লাগানো হয়েছে গাছ। সম্প্রতি এই ক্রসিংয়ের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, কীভাবে এই জেব্রা ক্রসিংটি এলো সেটি তাদের অজানা।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেব্রা ক্রসিংয়ের এক পাশে কোনো স্থাপনা নেই। অন্য পাশে রয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগ। রাস্তায় সাদা প্রলেপ দেয়া জায়গাটি থেকে এক পাশে প্রায় ২০ গজ দূরে আছে ছোট পকেট গেট। আরেক পাশে প্রায় ৫০ গজ দূরে আছে ইউটার্ন নেয়ার মতো রাস্তা। এ অবস্থায় সেখানে এই জেব্রা ক্রসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আশরাফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘এখানে ক্রসিং দিয়ে চালকদের ধোঁকা দেয়া হয়েছে। কারণ এই চিহ্ন দেখলে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়ার কথা। তবে রাস্তা পার হওয়ার তো ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, এটির কোনো প্রয়োজনই নেই। আবার যদি ক্রসিং দেয়াই হলো, তবে সেখানে পকেট গেট কেন রাখা হলো না।’

পথচারী ষাটোর্ধ্ব আবুল কাশেমকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রথমে তিনি হাসতে শুরু করেন। তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে তিনি মাঝেমধ্যে যাওয়া-আসা করেন। তবে এভাবে তার নজরে আসেনি। এটি বড় কোনো ঘটনা না হলেও একটা ভুল। কর্তৃপক্ষের এটি নজরে নেয়া বা ভাবনা থাকা উচিত ছিল।’

৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজের ফ্যান পেজে পোস্ট করেন মাহফুজ আরেফিন নামে এক কৌতুকশিল্পী। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার বার। এতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ।

রহমান শিশির নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, ‘হাইজাম্প শেখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যে এটা করা হয়েছে তা কে বোঝাবে!’

মেরাজ মুহাম্মদ মেসবাহ নামে একজন লিখেছেন, ‘কাজলা এবং মেইন গেটে স্পিড ব্রেকারের ওপর দিয়ে জেব্রা ক্রসিং দেয়া। মানে কী বলব বুঝতে পারছি না।’

নবিউল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, ‘মুরগি দিয়ে হাল চাষ করলে এমনই হয়।’

পোস্টদাতা কৌতুকশিল্পী মাহফুজ আরেফিন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কমেডি রিয়েলিটি শো ‘হা-শোর’ সিজন পাঁচে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই জেব্রা ক্রসিংয়ের মালিকানা কার


নিউজবাংলাকে মাহফুজ আরেফিন বলেন, ‘আমি ওই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত যাওয়া-আসা করতাম। দেখতাম জেব্রা ক্রসিং দিয়ে কেউ পার হচ্ছে না। সেখান থেকে ১০-১২ হাত দূর দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। সেটি দেখতে গিয়ে দেখি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখান থেকে ১০-১২ হাত দূরে পকেট গেট আছে।

‘আমার মনে হয়, সেখানে লোহার রড দিয়ে যে ডিভাইডার দেয়া হয়েছে, ভুলটা সেখানেই হয়েছে। যে গেটটি ১০ হাত দূরে করেছে, সেটি ক্রসিং চিহ্নর সামনে করলে এটা নিয়ে কথা উঠত না।’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে এসেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগেরও। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রসিংয়ের বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। এটি সিটি করপোরেশনের দেয়া জেব্রা ক্রসিং কিনা এটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যতটুকু মনে হচ্ছে, এটি আমাদের করা নয়। এটি কে করেছে, কখন করেছে, কেন করেছে এসব আমরা খতিয়ে দেখছি।’

যে কেউ যে কোনো স্থানে ইচ্ছে হলেই জেব্রা ক্রসিং দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য প্রশাসন রয়েছে। এসব দেয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হয়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানার চেষ্টা করছি আদৌ সেখানে কোনো ক্রসিং দরকার আছে কি না। যদি থাকে তবে পকেট গেট করে দেব। আর না থাকলে ক্রসিং মুছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

‘কাঁচা বাদাম’ গানের কপিরাইট চান ভুবন

‘কাঁচা বাদাম’ গানের কপিরাইট চান ভুবন

গান গেয়ে বাদাম বিক্রি করছেন ভারতের ভুবন বাদ্যকর। ছবি: সংগৃহীত

ভুবন বলেন, ‘গানটি ভাইরাল হওয়ার পর আমার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তারা গানের ভিডিও করছেন। পরে সেই গান ইন্টারনেটে ছেড়ে অনেক টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। অথচ আমার হাত খালি।’

বাদাম বাদাম, দাদা কাঁচা বাদাম, আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম... গানটি নিয়ে তোলপাড় নেট দুনিয়ায়। বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষাভাষিদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি।

এর গায়ক ভুবন বাদ্যকর। ভারতের বীরভূমের কুড়ালজুড়ি গ্রামের ভুবন পেশায় বাদাম বিক্রেতা। আর সুর নিয়ে খেলা তার নেশা।

গানটিকে রিমেক করে সামাজিক মাধ্যমগুলোয় বাহবা কুড়িয়ে নিচ্ছেন বহু মানুষ। কামিয়ে নিচ্ছেন টাকাও। আর এখানেই আপত্তি ভুবন বাদ্যকরের। অর্থ তো পাচ্ছেনই না, মিলছে না কৃতজ্ঞতাও।

ক্ষুব্ধ ভুবন বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না। উপায়ান্তর না দেখে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করে বসলেন।

ভুবন বলেন, ‘গানটি ভাইরাল হওয়ার পর আমার বাড়িতে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তারা গানের ভিডিও করছেন। পরে সেই গান ইন্টারনেটে ছেড়ে অনেক টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। অথচ আমার হাত খালি।’

ইউটিউবে গানটির স্বত্ব ‘সংরক্ষিত’ দেখানো হলেও সেখানে নিজের কোনো অ্যাকাউন্টই নেই বলে জানিয়েছেন ভুবন।

বিষয়টি তদন্ত করে দুবরাজপুর থানা পুলিশ যেন তার প্রাপ্য টাকা পাইয়ে দেয়, সেই দাবি ভুবনের।

গান জনপ্রিয় হওয়ায় রীতিমতো খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভুবন। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া ভুবনকে দেখলেই লোকজন ছুটে আসে। তার সঙ্গে ছবি তুলতে চায়। আর এ কারণে শুক্রবার হেলমেট পরে থানায় উপস্থিত হন।

মজার বিষয় হলো থানায় যখন হেলমেট খোলেন, সেখানেও বেঁধে যায় জটলা। ছবি তোলার আবদার নিয়ে আসেন অনেকেই। অবশ্য হাসিমুখেই তাদের আবদার মেটান ভুবন বাদ্যকর।

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ধারা’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হবে শাহ্‌ সিমেন্টের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী- এই শব্দগুলো নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected]এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

চেকে মাসের নাম বাংলায় লেখার পর ব্যাংক থেকে প্রত্যাখানকে ‘ভাষার অপমান’ হিসেবে নিয়ে আত্মহত্যার ইচ্ছা জেগেছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের মনে। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘কোন দেশে আছি?’

ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। টাকা তুলতে চেক দিয়ে একজনকে ব্যাংকে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু টাকা তুলতে ব্যর্থ হলেন সেই চেক বাহক। ব্যাংক জানাল, চেকের পাতায় তারিখ লেখা হয়েছে বাংলায়।

সেই কথা কানে আসতেই নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। তিনি লিখেছেন, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা রি একটি চেকে মি ডিসেম্বর বাংলায় লিখেছি বলে কাউন্টার থেকে চেকটি ফেরৎ দিয়েছে কোন দেশে ছি?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মন্ত্রীর সঙ্গে। তবে ব্যাংকের নাম জানাতে চাইলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের নাম বলব না। কারণ, ব্যাংক একটা ভুল করেছে। সেই ভুলের জন্য অ্যাকচুয়েলি ব্যাংকের নাম সামনে আনার দরকার নেই। আমার যে ব্যবস্থা নেয়ার সে আমি নিয়েছি। এবং যথারীতি আমার চেক তারা অনার করে টাকা যে প্রাপক ছিল তাকে দিয়ে দিয়েছে।’

তাহলে সমস্যা কোথায় ছিল- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (ব্যাংক) যে জায়গাটির মধ্যে ভুল করেছিল, সেই জায়গাটি হচ্ছে, ওদের নিজস্ব প্রসিডিওর যে চেকে তারিখের জায়গাতে বাংলায় যদি কোনো মাসের নাম লেখা হয়, ওটা ওরা প্রসেস করে না। পরবর্তীকালে আমি যখন কথা বলেছি, একেবারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কথা বলার প্রেক্ষিতে ওরা তাদের ভুলটা বুঝতে পেরেছে এবং সেটা সংশোধন করে নিয়েছে।’

ডিসেম্বর বোঝাতে সংখ্যায় ‘১২’ লেখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, ১২ লিখি নাই, আমি ডিসেম্বর লিখেছিলাম। ২ ডিসেম্বর ২১। ২ আর ২১ লিখেছিলাম সংখ্যায় আর ডিসেম্বর লিখেছিলাম কথায়।’

চেকের প্রথম পৃষ্ঠায় কথায় তারিখ লেখার সুযোগ কী আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

‘চেকের সবই বাংলায় লিখেছি। ওখানে একটাও ইংরেজি শব্দ নেই’ দাবি করে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমি কনফার্ম করেছি, ব্যাংকের বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন- বাংলা লেখার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু কাউন্টারে যে লোক ছিলেন, অথবা শাখার যে ব্যবস্থাপনা ছিল অথবা তাদের যে প্রসিডিওর আছে, নিজেরা যেটা তৈরি করেছে সেখানে তাদের গলদটা ছিল। এই গলদটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়েছে।’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

চেক ফিরিয়ে দেয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি চেকের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করিনি। কিন্তু অবশেষে সেটাকে তারা অনার করেছেন। এবং প্রাপক, যে টাকা পাওয়ার কথা তিনি পেয়ে গেছেন।’

তবে এমন ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি চান না মন্ত্রী। তিনি চান সাধারণ মানুষও যেন বাংলায় লিখে, তার প্রাপ্য সেবাটা বুঝে পান।

তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানেই তো ব্যাংক, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আমার ধারণা, এই ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

‘ইভেন আমি যে ব্যাংক, তাদের এমডি (ব্যাবস্থাপনা পরিচালক) পর্যায়ে কথা বলেছি। ওনিও দ্বিমত পোষণ করেননি এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন যে এ ধরনের আচরণ আমাদের কাউন্টার থেকে করা উচিত হয়নি। কোনো অবস্থাতেই আমরা বাংলা ভাষার বিপক্ষে না। সেটা আমরা হতেও চাই না। সেক্ষেত্রে যতটুকু ভুল করা হয়েছে, ওইটা একটা পার্টিকুলার শাখায় হয়েছে।’

নাম বলতে না চাইলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেছেন, ওই ব্যাংকের সঙ্গে তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো ছিল।

তিনি বলেন, ‘ওদের হেড অফিসে আমার ব্যাংকিং হয়। সেক্ষেত্রে আমার কখনই কোনো প্রবলেম হয়নি। একটা শাখা অফিসে বিয়ারার চেক নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে এই প্রবলেম হয়েছে।’

যেদিন থেকে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই চেকের মধ্যে পুরোটা বাংলায় লিখে আসছেন বলেও জানান মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন ইংরেজি লিখেছি, আমার মনে পড়ে না।’

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ

টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা জ্যাক ডরসির টুইটার ছাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যধিক চাপের কথা উল্লেখ করছেন।

মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মর্কতা বা সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি।

টুইটার জানায়, তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল।

টুইটারের সিইও হিসেবে যোগ দিয়ে বিশ্বের বড় কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব উঠে এলো ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, গুগলের সুন্দর পিচাইয়ের পর টুইটারের সিইও হিসেবে যোগ দিলেন পরাগ আগারওয়াল।

বিবিসির খবরে বলা হয়, জ্যাক ডরসি ২০০৬ সালে বিজ স্টোন, ইভান উইলিয়ামস এবং নোয়া গ্লাসের সঙ্গে মিলে টুইটার প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় থেকেই তিনি টুইটারের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন।

পরে নিয়ে আসেন পেমেন্ট গেটওয়ে ফার্ম স্কয়ার। সেটিরও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডরসি।

দায়িত্ব নিয়ে টুইটারকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করেন ডরসি। নিয়ে আসেন নানা ধরনের নতুন সব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন।

এক বিবৃতিতে ডরসি বলেন, ‘অবশেষে আমার চলে যাওয়ার সময় হলো।’

বলেন, ‘কোম্পানি এখন সামনের দিকে এগোতে প্রস্তুত।’

ডরসি জানান, গভীর বিশ্বাস থেকেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।

টুইটার ছাড়ছেন ডরসি, দায়িত্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ
টুইটারের নতুন সিইও ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরাগ আগারওয়াল (বাঁয়ে) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। ছবি: এএফপি

‘আমি তার দক্ষতা, মন ও আত্মার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এটাই তার নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত সময়’, বলেন ডরসি।

পরাগ আগারওয়াল ২০১১ সালে টুইটারে যোগ দেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন।

বিশ্লেষকরা জ্যাক ডরসির টুইটার ছাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যধিক চাপের কথা উল্লেখ করছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পেমেন্ট গেটওয়ে স্কয়ার চালুর পর টুইটার তার নিজের কাজে কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছে।

সে জন্য বিনিয়োগকারীরা মাধ্যমটির উপর কিছুটা নাখোশ।

ডরসি জানান, তিনি টুইটারের সিইও পদ ছাড়লেও প্রতিষ্ঠানটির বোর্ডে থাকবেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাকে ওই বোর্ডে থাকতে হচ্ছে।

আগারওয়াল বিবৃতিতে বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়ে টুইটারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করবেন।

আরও পড়ুন:
কুকুরের জন্য ভালোবাসা
চবিতে এক দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৫
১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর
২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল
লুয়ের বিশ্বরেকর্ড

শেয়ার করুন