দেড় বছর পর স্কুল খুলছে পশ্চিমবঙ্গে

দেড় বছর পর স্কুল খুলছে পশ্চিমবঙ্গে

প্রতীকী ছবি

প্রথম পর্যায়ে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে পারবে। তাদের মানতে হবে করোনার সময়ের স্বাস্থ্যবিধি।

করোনাভাইরাস মহামারিতে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর সশরীরে পাঠদান শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে।

প্রস্তুতি

২০২০ সালের এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার ব্যবহার উপযোগী ও স্যানিটাইজ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা তৈরি, তা সোমবার খতিয়ে দেখবেন স্কুল পরিদর্শক ও জেলা প্রশাসকরা।

মাস্ক বাধ্যতামূলক

প্রথম পর্যায়ে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে পারবে। তাদের মানতে হবে করোনার সময়ের স্বাস্থ্যবিধি।

প্রত্যেককে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। প্রত্যেকটি স্কুলে শয্যাসহ আইসোলেশন রুম থাকতে হবে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানে রাখা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘অভিভাবকরা চাইলে পড়ুয়াদের পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠাবেন। বাধ্যবাধকতা কিছু নেই।’

শঙ্কা উপস্থিতি নিয়ে

করোনাকালে দেড় বছরের বেশি সময় স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্র-ছাত্রী অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছেন। অনেক কিশোরীর বিয়ে হয়ে গেছে।

স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়ায় ছাড় দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

রেল ও বিমান ছাড়া ভারতের সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণে কোনো জাতীয় নীতি নেই। সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ করে রাজ্য সরকার। আর বাস ভাড়ায় কনসেশন দেয়া হয় বেশির ভাগ রাজ্যেই।

সড়ক পরিবহনের যাত্রীভাড়ায় কাদের কতটা ছাড় দেয়া হবে, অথবা আদৌ ছাড় দেয়া হবে কি না, সেসব সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়া সমস্যার সমাধানে কখনও কখনও জেলা প্রশাসনও স্থানীয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন বাস ভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড়।

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

যেমন নয়া দিল্লি। ভারতের রাজধানী শহরে বাস চলে পুরোপুরি দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (ডিটিসি) নিয়ন্ত্রণে। ডিটিসির সাধারণ বাসে ছাত্রদের জন্য একটি মাসিক কার্ড পাওয়া যায় ১০০ টাকায়। ওই কার্ডে দিল্লির মধ্যে যেকোনো রুটে যাতায়াত করা যায়। বিশেষ বাসের জন্য ওই কার্ডের দাম ১৫০ টাকা। তবে শীততাপনিয়ন্ত্রিত বাসে ওই কার্ড প্রযোজ্য নয়।

আবার জম্মু-কাশ্মীরে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি সব বাসে যাত্রীভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। তবে এই ছাড় শুধুমাত্র বাসস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ফিরে আসার জন্য। বাসে দেখাতে হবে ছাত্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। কোনো বাস যদি সরকারি নির্দেশ না মানে তবে ছাত্ররা অভিযোগ জানাতে পারে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে বৃহৎ মুম্বাই বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং পরিবহন (বেস্ট) পরিচালিত বাসগুলোতেও শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ছাড় দেয়া হয়।

তাদের একটি মাসিক ফর্ম আছে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্পসহ যেকোনো ডিপোতে জমা দিতে হয়। তারা শিক্ষার্থীদের এটিএম কার্ডের মতো একটি কার্ড প্রদান করে। এটি শুধু বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজে নন এসি বাসে যাওয়া-আসার জন্য কার্যকর।

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে বাস নিয়ন্ত্রণ করে সেখানকার পৌর সংস্থা। নাসিক মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অধীন নাসিক মহানগর পরিবহন মহামন্ডল লিমিটেডের বাসে শিক্ষার্থীরা এক মাসের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ৫০ শতাংশ এবং তিন মাসের জন্য ৬৬ শতাংশ ছাড় পায়। একমাসের মাসিক টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৫০০ রুপি । ছাত্রদের দিতে হয় ৭৫০ রুপি।

শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া ছাড় দেয়ায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ু অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই রাজ্যে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত সাতটি পরিবহন করপোরেশন।

২০১৫ সালে রাজ্য সরকার কমিউনিটি কলেজ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি আইটিআই, সঙ্গীত কলেজ এবং চেন্নাই করপোরেশন আইটিআইগুলোর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা প্রসারিত করেছিল। সুবিধা পেয়েছিলেন ৩২ লাখের বেশি ছাত্র।

এ ছাড়া ওই রাজ্যে বেসরকারি আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ, পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ফি ছাড় দেয়া হয়।

২০১৩ সাল পর্যন্ত শুধু স্কুল ও সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আইটিআই-এর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে ভ্রমণের মাধ্যমে পরিবহন করপোরেশনগুলোর ব্যয় প্রতি বছর ৪৪০-৪৫০ কোটি রুপি ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে তা বেড়ে ৭৩০ কোটি রুপি হয়।

দক্ষিণ ভারতের আর একটি রাজ্য কেরালা। বামজোটশাসিত এই রাজ্যেও বাসভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড় আছে। ২০১২ সালে সেখানে শেষবার বাসভাড়ায় পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ছাত্রদের জন্য নূন্যতম ভাড়া ছিল ১ রুপি।

সম্প্রতি সেখানে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে নূন্যতম সাধারণ যাত্রীভাড়া হতে পারে ১০ রুপি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ভাড়া ৫ রুপি করার প্রস্তাব আছে। বাস মালিকরা চাইছে ৬ টাকা করতে। অর্থাৎ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে ছাত্ররা।

বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে খুবই করুন অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। এ বিষয়ে সেখানকার এক ছাত্র ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, অধিকাংশ ছাত্রই জানে না যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের বাসে ছাত্রদের জন্য বিশেষ ভাড়া রয়েছে। আপনি যদি কন্ডাক্টরকে একজন ছাত্র ভাড়া টেন্ডার করতে বলেন তাহলে আপনি মূল ভাড়ার উপর ফ্ল্যাট ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। হ্যাঁ, অনেক কন্ডাক্টর ডিসকাউন্ট রেট দিতে অস্বীকার করতে পারে, তবে আপনি তাকে নিচের উল্লিখিত পদ্ধতিতে গাইড করতে পারেন।’

অর্থাৎ ছাত্র, বাসের কন্ডাক্টর কেউই জানেন না বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ছাড়ের বিষয়টি।

এই প্রতিবেদনটা লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।

একজন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়মের কথা জানি না। তবে আসানসোল, বরাকর, বার্নপুর, রানীগঞ্জ অঞ্চলে মিনি বাসে ছাত্র কনসেশন আছে বাস মালিকদের সংগঠনের সৌজন্যে।’

আবার মেদিনীপুরের একজন বলেছেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছাত্রদের বাস ভাড়ায় এক-তৃতীয়াংশ ছাড় দেয়া হয়।’

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক শিক্ষক বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।’

অর্থাৎ বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেবার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে আছে বিশৃঙ্খলা।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

ম্যাটাডোর ট্রাকে পাথরবোঝাই লরির ধাক্কায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৮ জনের। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত এক ব্যক্তির সৎকারের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণঘাতী এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন স্বজনরা।

রাজ্যের নদীয়া জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাঁসখালি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ নিয়ে একটি ম্যাটাডোর ট্রাক উত্তর ২৪ পরগনার বাগড়া এলাকা থেকে নবদীপ শ্মশানে যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে ম্যাটাডোর ট্রাকটিকে পাথরবোঝাই একটি লরি ধাক্কা দিলে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে।

ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়। আহতদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘন কুয়াশা আর গাড়ির গতি বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনখড়। জোর দিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ধনখড়।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অং সান সু চির। ফাইল ছবি/এএফপি

সু চির বিরুদ্ধে করা কমপক্ষে ১২টি মামলার কোনোটিরই রায় ঘোষণা করা হয়নি এখনও। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী এ নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে তাকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে উসকানির মামলায় রায় হতে পারে মঙ্গলবার। ফলে দুই দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে- কী আছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এ নেত্রীর ভাগ্যে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একগুচ্ছ মামলার মধ্যে উসকানির মামলায় প্রথম রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে সু চির।

প্রায় ১০ মাসে সু চির বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি, প্রতারণা, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা, অবৈধ ওয়াকিটকি আমদানিসহ কমপক্ষে ১২টি মামলা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সবশেষ গত ১৬ নভেম্বের সু চিসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির নতুন অভিযোগ গঠন করা হয়।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলারই রায় ঘোষণা করা হয়নি। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে।

রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা প্রথম মামলায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দিয়েছেন তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শ’র বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

মাঝে মাঝে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত উসকানির মামলাটিতে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। সু চির অপরাধ হিসেবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জনগণকে উসকানি দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্র।

রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর গঠিত বিশেষ আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ছিল। সু চির আইনজীবীদেরও গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সু চিকে নিয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায় বিলম্বিত হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর সু চির বিরুদ্ধে প্রথমে অনিবন্ধিত ওয়াকিটকি রাখা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় মহামারিকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী। এরপর ধাপে ধাপে অন্য মামলাগুলো করে জান্তা।

প্রায় প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সু চি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সাবেক জান্তা সরকারের আমলে ইয়াঙ্গুনে ঔপনিবেশিক আমলে পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িতে অনেক বছর গৃহবন্দি ছিলেন সু চি। সে সময় বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া লাখো জনতার সামনে মাঝে মাঝে বারান্দা দিয়ে দেখা দিতেন তিনি।

বর্তমানে অতি সুরক্ষিত রাজধানীতে অজ্ঞাত স্থানে সু চিকে বন্দি করে রেখেছে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠী। সু চির সঙ্গে আছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী।

এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে সু চির যোগাযোগ নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে শুনানিপূর্ব বৈঠকেই সীমিত।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির অন্য শীর্ষ পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা শেষের দিকে। চলতি মাসেই সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রীকে ৭৫ বছর আর সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দুই যাত্রীর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর তারা করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এমনই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে।

শনিবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই আফ্রিকানের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের শরীরে ‘ওমিক্রন’ মিলেছে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এ পর্যন্ত যে ক’টি ধরনের খোঁজ মিলেছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়। সেই ধরনেই আফ্রিকার এই নাগরিক আক্রান্ত কীনা তা নিয়েই চাঞ্চল্য বেঙ্গালুরুতে।

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দরে অবতরণ করা সংশ্লিষ্ট বিমানে মোট ৫৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই দশটি ‘হাই-রিস্ক’ দেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই বেঙ্গালুরুতে পা রেখেছেন ৯৪ জন। ওই ১০ দেশেই করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে।

কর্নাটক সরকার কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বেশ কয়েকটি কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাইয়ের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে সরকার বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্ক্রিনিং জোরদার করবে এবং কেরালা ও মহারাষ্ট্র থেকে আগতদের জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করবে।

সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে আগতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই দেশগুলো থেকে গত ১৫ দিনে যারা রাজ্যে প্রবেশ করেছে তাদের আবারও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। ছবি: জি নিউজ

তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে। দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

ভারতের মেঘালয় কংগ্রেস ছেড়ে ১১ জন বিধায়ক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা।

বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে তৃণমূল।

কংগ্রেস নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে বলে মনে করছেন দল ত্যাগ করা নেতারা।

তাদের তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে।

‘দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেস মেঘালয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলে মনে করেন এই নেতা। বলেন, ‘দিল্লিকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছিলাম, তাই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’

মুকুল সাংমা বলেন, ‘একমাত্র তৃণমূলই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা রাখে। তাই এ পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি আপ্লুত।’

৬০ আসন বিশিষ্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের বিধানসভায় ৪০ জন বিধায়ক নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। আর কংগ্রেস ১৮ জন বিধায়ক নিয়ে মেঘালয় বিধানসভার বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল।

মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অন্যদিকে তৃণমূল নতুন করে পেয়েছে ১২ জন বিধায়ক। আসন সংখ্যার ভিত্তিতে এখন মেঘালয় বিধানসভায় বিরোধীদল তৃণমূল।

২০১৮ সালে মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা ছিল ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে। কিন্তু ৬০ আসন বিশিষ্ট মেঘালয় বিধানসভায় ২১ টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি কংগ্রেস।

এনপিপি (ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি) বিজেপির ২টি আসন আর আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে এনডিএ। আর বিরোধী দলের আসনে বসে কংগ্রেস। পরে তিনজন কংগ্রেস বিধায়ক শাসক শিবিরে যোগ দিলে কংগ্রেসের বিধায়ক কমে দাড়ায় ১৮ জনে।

এদিকে সর্ব ভারতে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে চলছে তৃণমূল। কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে ত্রিপুরা, আসাম, গোয়া, হরিয়ানার পর মেঘালয় থেকে বিধায়করা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে।

এ সম্পর্কে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাগড়ে সাংবাদিকদের জানান, সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বৈঠকে ঠিক করা হয়, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষিজাত সামগ্রী বিক্রির বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হবে।

একই সঙ্গে, বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলসহ সব বিরোধীদলের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতের জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালের সমীক্ষায়ও পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ সালে এসে এই অনুপাত কমে দাড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল নারীর সংখ্যা।

সম্প্রতি দেশটির জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালেও পুরুষ ও নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ বর্ষে এসে এই অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, বর্তমানে ভারতে প্রতি এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে কন্যাসন্তানের সংখ্যা ৯২৯। ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষায় এ সংখ্যা ছিল এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে ৯১৯ কন্যাসন্তান।

কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যের ওপর হওয়া এই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভারত উন্নত দেশগুলোর দলে নাম লেখাতে চলেছে, এ ফলাফল তারই বহিঃপ্রকাশ। পুরুষের তুলনায় নারীর জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানানো হয়।

এদিকে জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ৮৮.৬ শতাংশ শিশুই জন্মগ্রহণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ভারত ধীরে ধীরে সর্বজনীন প্রাতিষ্ঠানিক জন্মগ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্যে প্রসবের পর নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুও অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব বলেও জানোনো হয়।

ভারতে বর্তমানে ৭৮ শতাংশ মায়েরাই প্রসবের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী যত্ন পেয়ে থাকেন। আগে এই হার ছিল ৬২.৪ শতাংশ। প্রসবের পর নবজাতকের পাশাপাশি মায়েরও যত্ন নেয়ায় দেশে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে জানানো হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও।

এ ছাড়া প্রসবের পরে এক মাসের মধ্যে শিশু বা মায়ের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকায় প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্য নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পৌরসভার স্থগিত নির্বাচন আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ডিসেম্বর ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

আইনি জটিলতায় আটকে ছিল পৌর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা। ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভায় নির্বাচন করাতে চেয়েছিলো রাজ্য সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট একসঙ্গে গ্রহণ করতে আবেদন জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সহসভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন।

কিন্তু গত সোমবার আদালতে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, এই মুহূর্তে রাজ্যে ১২২ টি পৌরসভা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পৌরসভার ভোট করানো সম্ভব নয়। একসঙ্গে ভোট করার মতো ইভিএম মজুত নেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে।

তাই নির্বাচন কমিশনের পথ অনুসরণ করে কয়েক দফায় ভোট গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকার। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।

এর মধ্যে আবার হাওড়া-বালি পৌরসভার বিচ্ছেদ বিলে সই করেননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাই হাওড়াকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন শুধু কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করায় নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দলের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটি শাসক দলের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।’

তবে বিজেপি নেতার মন্তব্যের বিপরীতে রাজ্যসভার সাংসদ ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় জানান, ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। এ সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারের কোনো হাত নেই। সরকার চায় রাজ্যের সব পৌরসভার নির্বাচন দ্রুত হোক।'

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটার যুক্তিটা কী? পাগলা দাশুর রাজত্ব চলছে। বাকিগুলোতে ভোট ঘোষণা করলো না কেন? এই প্রশ্ন থাকবেই। নির্বাচন হবে, আমরা লড়বো। লড়াইয়ের মতো পরিস্থিতি যেন থাকে।’

নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন যেন প্রহসনে পরিণত না হয়। বিনা ভয়-ভীতিতে মানুষ যেন ভোট দিতে পারে। সরকারের কাছে এটাই আবেদন।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবছর থেকেই বাকি রয়েছে রাজ্যের ১১২ টি পৌর সভার ভোট। বিজেপি রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট গ্রহণ একসঙ্গে চাইলেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আজকের বিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবার আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য বিজেপি।

আরও পড়ুন:
শিয়ালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে বসছেন পরিবহনমন্ত্রী
কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা
পশ্চিমবঙ্গের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট

শেয়ার করুন