যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অস্ত্রে তালেবানের সামরিক কুচকাওয়াজ

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অস্ত্রে তালেবানের সামরিক কুচকাওয়াজ

রোববার কাবুলের রাজপথে অস্ত্র প্রদর্শনী করে তালেবান। ছবি: সংগৃহীত

তালেবান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সাবেক সেনাবাহিনীর পাইলট, যন্ত্রকৌশলী ও অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়েই গঠন করা হচ্ছে নতুন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তালেবান যোদ্ধারাও এতদিনের পরনে থাকা ঐতিহ্যবাহী আফগান পোশাক ছেড়ে ধরছে প্রচলিত সামরিক পোশাক।

নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সড়কে অস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে শাসকদল তালেবানের যোদ্ধারা। যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত সাঁজোয়া যান আর রাশিয়ার হেলিকপ্টার প্রদর্শনের পাশাপাশি রোববার কুচকাওয়াজেও অংশ নেয় তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনের যোদ্ধাদের অন্য সব দেশের মতো সুবিন্যস্ত সেনাবাহিনীতে রূপ নেয়ার চেষ্টা দেখাতেই তালেবানের এ উদ্যোগ।

দুই দশকের বেশি সময় বিদ্রোহী সংগঠন হিসেবে আফগানিস্তানে সক্রিয় ছিল তালেবান। চলতি বছরের আগস্টে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

আন্তর্জাতিক জোটের বিদায় ও পশ্চিমা সমর্থিত সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র নিজেদের ভাণ্ডারে যোগ করেছে তালেবান।

তালেবানশাসিত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারাজমি জানান, বাহিনীতে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫০ জন সেনা যোগ দেয়ায় কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

এতে কাবুলের সড়ক ধরে ধীরে ধীরে চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক এম১১৭ সাঁজোয়া নিরাপত্তা যান; আকাশে ওড়ানো হয় এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের এম৪ রাইফেল বহন করছিল সেনারা।

বর্তমানে তালেবানশাসিত সরকারের ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্র আর সামরিক সরঞ্জামই আফগানিস্তানে এসেছিল সাবেক সরকারের আমলে, ওয়াশিংটন থেকে। তালেবানবিরোধী যুদ্ধে আফগান সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গত ২০ বছরে এসব অস্ত্র দিয়েছিল আমেরিকান সরকার।

কিন্তু আন্তর্জাতিক জোটের সেনাদের বিদায়ের পর তালেবানের আগ্রাসনের বিপরীতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আফগান সেনাবাহিনীর প্রতিরোধ। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালানোর পর বিপুল সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার কব্জা করে তালেবান।

তালেবান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সাবেক সেনাবাহিনীর পাইলট, যন্ত্রকৌশলী ও অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়েই গঠন করা হচ্ছে নতুন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তালেবান যোদ্ধারাও এতদিনের পরনে থাকা ঐতিহ্যবাহী আফগান পোশাক ছেড়ে ধরছে প্রচলিত সামরিক পোশাক।

আফগানিস্তান পুনর্গঠনবিষয়ক বিশেষ মহাপরিদর্শকের গত বছর প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আফগান সরকারকে দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধবিমান, নজরদারির প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

যুদ্ধবিমানগুলোর কয়েকটি নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কিছু সেনা। বাকি সব তালেবানের দখলে। এর মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কতগুলো, তা অস্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তান থেকে বিদায় নেয়ার সময় ৭০টির বেশি যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় আফগানদের জয়জয়কার

ছবি: বিবিসি

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে।

২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গণে ভূমিকা রাখা অনুপ্রেরণাদায়ী ও সাড়াজাগানো ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। এই তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের অর্ধেকই আফগানিস্তানের নাগরিক।

মোট চার ক্যাটাগরিতে ১০০ জনের এই তালিকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখায় ৩১, পরিবেশ ও খেলাধুলায় ১৬, রাজনীতি ও অধিকারকর্মী ৩১ এবং বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যে ২২ জনকে স্থান দেয়া হয়েছে।

প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই, সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফিয়ামে নাওমি মাতাফা, ভারতের আইনজীবী ও অধিকারকর্মী মঞ্জুলা প্রদীপ, সাবেক আফগান নারী পুলিশ সদস্য মোমেনা ইব্রাহিমি, আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের প্রথম নারী পাইলট মহাদেসি মিরজায়িও রয়েছেন। এছাড়াও আছেন, ভ্যাকসিন কনফিডেন্স প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক হেইডি জে লারসন ও প্রশংসিত লেখক চিমামান্ডা এনগোজি আদিচিসহ আরও অনেকেই।

আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া নারীদের উৎসর্গ করা হয়েছে এবারের তালিকা। তাই এতে ৫০ আফগান নারীকে রাখা হয়েছে। তালিকায় থাকা এসব আফগান নারীর অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এবং ছবি দেননি।

১০০ প্রভাবশালী নারী বাছাইয়ের জন্য বিবিসির একটি দল কাজ করে থাকে। এ দলের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নারীদের নামের তালিকা জমা দেন।

এরপর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নেটওয়ার্কের ভাষা নিয়ে কাজ করা দলের পরামর্শ অনুযায়ী ছোট তালিকা তৈরি করা হয়।

গত এক বছরে যারা নিজ নিজ অঙ্গণে সাফল্য দেখিয়েছেন, প্রশংসিত হয়েছেন কিংবা সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়।

প্রতিবছর একেকটি থিমের ভিত্তিতে প্রভাবশালী নারী বাছাই করা হয়। এ বছরের থিম হলো, পৃথিবীর বদলে নারী। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির কারণে অনেক মানুষই তাদের জীবনযাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাপনে পরিবর্তন ও যাপনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে যেসব নারী ভূমিকা রেখেছেন, তারা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

আফগান নারী। ফাইল ছবি

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আফগানিস্তানে জোরপূর্বক বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে তালেবান প্রশাসন।

গত ৩ ডিসেম্বর এক ডিক্রি জারি করে তারা বলেছে, নারীদের ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। আর বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সম্মতি থাকতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, নির্দিষ্ট সময় পর বিধবাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করারও অনুমতি দিয়েছে আফগান প্রশাসন।

আল-জাজিরার খবর, ডিক্রিতে তালেবান প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা ঘোষণা করেছেন, নারী-পুরুষ উভয়ের সমান হওয়া উচিত। আফগানিস্তানে কেউ নারীদের জোর খাটিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে বিয়ে করতে পারবে না।

তবে, তালেবানের নতুন নির্দেশনায় নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ইতোপূর্বে এই বয়সসীমা ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের উপজাতীয় প্রথা অনুসারে, বিধবাকে তার প্রয়াত স্বামীর ভাই অথবা অন্য কোনো আত্মীয়কে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক ছিল। তালেবান নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে, তারা আফগান আদালতকে নারীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণের নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে বিধবাদের সঙ্গে।

গত আগস্টে ক্ষমতায় আসা গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, তারা জনগণের মধ্যে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছে। তালেবানের এ ধরনের ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট নারী অধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলো।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ছবি:এএফপি

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেন, ‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ খুঁজে পায় তালেবান যোদ্ধারা।’

জাতির ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি তালেবান দেয়নি, জনগণের উচিত খাদ্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। দারিদ্র্য প্রশ্নে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে এ কথা বলেছেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

আফগানিস্তানের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খামা নিউজ এ খবর ছেপেছে।

এতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনে শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ৩০ মিনিটের অডিও বার্তায় বলেন, ‘ঘানি সরকারের দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপের কারণে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা। এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ তালেবান যোদ্ধারা খুঁজে পায়।’

তালেবানবিরোধীদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা বহাল থাকবে জানিয়ে আখুন্দ বলেন, ‘শাস্তি কেবল তারাই পাবেন, যারা অপরাধ করেছেন।‘

নারী অধিকার প্রশ্নে আখুন্দ বলেন, ‘ইসলামিক আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা পাবেন নারীরা। এটা নিশ্চিতভাবে ঘানি সরকারের চেয়ে উত্তম।’

তবে ঠিক কী ধরনের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, তা পরিষ্কার করেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তালেবান সরকার হস্তক্ষেপ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উদার পররাষ্ট্রনীতিতে চলবে আফগানিস্তান।‘

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট বিনা বাধায় কাবুল দখলে নেয় তালেবান। রাজনৈতিক এই অস্থিরতায় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি, চাকরি হারান হাজারও মানুষ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না নতুন সরকার। দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট।

যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ উদ্ধার হলে সংকট কিছুটা হলেও মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী সপ্তাহে দোহায় হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের বৈঠকে এই অর্থ উদ্ধারে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

দোহায় আগস্টে তালেবানের প্রতিনিধি দল। ফাইল ছবি/এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে। বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তানের শাসক দল তালেবানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের মধ্যস্থতায় রাজধানী দোহায় আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে আলোচনা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই, আফগানিস্তানে মানবিক সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবে দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস মঙ্গলবার জানান, আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন আফগানিস্তানবিষয়ক আমেরিকান বিশেষ দূত টম ওয়েস্ট।

কমপক্ষে দুই সপ্তাহ চলার কথা এ আলোচনা।

প্রাইস বলেন, ‘উভয় পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থগুলো নিয়ে কথা বলবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আফগানিস্তানে থেকে যাওয়া আমেরিকান নাগরিক ও ২০ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে কাজ করা আফগানদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি।

দুই সপ্তাহ আগে কট্টরপন্থি ইসলামিক গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তানে সাক্ষাৎ করেছিলেন টম ওয়েস্ট।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শেষে দেশের শাসনব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের শাসক দল হিসেবে তালেবানের সঙ্গে দোহায় গত ৯ ও ১০ অক্টোবর প্রথম বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের শাসনে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সে সময় আলোচনা করেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে যে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে, সে বিষয়টি গত শুক্রবারও স্পষ্ট করেন টম ওয়েস্ট।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পেতে হলে তালেবানকে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে হবে; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, তালেবানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র; তবে আপাতত কেবল মানবিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করবে।

শাসক দল তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী গত সপ্তাহে এক খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আফগানিস্তানের গচ্ছিত শত-কোটি ডলার ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে এখনও তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

বিনা বাধায় ১৫ আগস্ট কাবুলের দখল নেয় তালেবান। ছবি: এফপি

কথা দিয়েছিল নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে তারা। আশ্বস্ত করেছিল ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিল, তা থেকে সরে আসবে নতুন সরকার। কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের ১০০ দিনে কট্টর তালেবানের আচরণে বেশি ভুগছে সুশীল সমাজ। নারী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক সবাই নিজেদের অধিকার প্রশ্নে নীরব। যারাই গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নিপীড়ন। বলতে গেলে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে পুরোপুরি।

চলতি বছরের ১৫ আগস্ট যেদিন কাবুল দখলে নেয় তালেবান, সেদিন থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দেশটির অসংখ্য মানুষ। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ১৭ আগস্ট প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধের দিকে ঝুঁকবে না নতুন সরকার।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান। ওই সময়ে তাদের কঠোর শাসনের বলি হয়েছিলেন অনেকে। এ ছাড়া ক্ষমতা হারানোর পর, দীর্ঘ ২০ বছরে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল তাদের। এসব বিষয় মাথায় রেখে উদার নীতির বুলি আওড়েছিলেন তালেবান নেতারা।

কথা দিয়েছিলেন নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন তারা। আশ্বস্ত করেছিলেন ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিলেন, তা থেকে সরে আসবে নতুন তালেবান সরকার।

কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি। তাদের প্রথম টার্গেট হন নারীরা। বাদ যাননি মানবাধিকারকর্মী, বিচারক এমনকি সাংবাদিক।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার কাউন্সিল, সাধারণ অধিবেশনের পাশপাশি জি-সেভেন ও জি-টুয়েন্টি সম্মেলনেও ১৫ আগস্ট-পরবর্তী আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ জানাতে দেখা গেছে বিশ্বনেতাদের। কিন্তু দেশটিতে মানবাধিকার প্রশ্নে সমাধান দিতে পারেনি কেউ।

নারীর অধিকার কেড়ে নেয়া

ক্ষমতা দখলের ৩ দিন পর ১৮ আগস্ট তালেবান মুখপাত্র সুহিল শাহিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও চাকরি করার অধিকার আছে। তাই তারা এসব করতে পারবেন। চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্যান্য খাতের নারীরা নির্বিঘ্নে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরাও হিজাব পরে তাদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

কিন্তু প্রকৃত চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারে নারীদের রাখা তো দূরের কথা, নারীবিষয়ক যে মন্ত্রণালয়টি ছিল, তা কার্যত অচল রেখেছেন তালেবান শাসকরা। স্কুলে কেবল ছেলেরা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের বলা হয়েছে ঘরে থাকতে। টেলিভিশনের পর্দায় নারীর চেহারা দেখানো নিষিদ্ধ হয়েছে সম্প্রতি। অনেক প্রদেশে পুরুষ ছাড়া ঘর থেকে বেরুনোও মানা।

প্রাণহানির ঝুঁকিতে মানবাধিকারকর্মীরা

ভালো নেই আফগানিস্তানে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ম্যারি লওলর সম্প্রতি ১০০ মানবাধিকারকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানিয়েছেন, মারধর, গুম, গ্রেপ্তার এমনকি খুন হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন তারা। অনেক এনজিওর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তালেবানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ফোনে হুমকি, সতর্ক করে চিঠিও দেয়া হচ্ছে অনেককে।

গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব

বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কিছুই সহ্য করতে পারছে না তালেবান। করছে সহিংস আচরণ। অধিকার ফিরে পেতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা হয়েছে বেশ কয়েকটি।

১৮ আগস্ট শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলছিল জালালাবাদে। সেখানে আচমকা গুলি চালানো শুরু করে তালেবান। নিহত হন তিনজন। এদিন হেরাতেও নিহত হন তিনজন। কাবুল ও ফায়জাবাদের সমাবেশে অংশ নেয়াদের পেটানো হয় বেদম।

টার্গেটে সাংবাদিক, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম

ক্ষমতা দখলের পর তালেবান জানিয়েছিল, দেশ শাসনে গণমাধ্যম তাদের বড় সহায়ক হবে। ভুলত্রুটিগুলো উঠে আসবে প্রতিবেদনে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সমালোচনা নিতে পারছে না তালেবান।

দেশটির ২৮ প্রদেশের এক হাজার ৩৭৯ সাংবাদিকের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশের বেশি সাংবাদিককে এরই মধ্যে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু ছাপাতে সাফ নিষেধ করেছে তালেবান।

জরিপে আরও দেখা গেছে, তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর ৬৭ শতাংশ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০ প্রদেশে ১৫৩টি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৩ মাস পর বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা

আফগানিস্তানে ৩ মাস পর বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা

আগে থেকেই বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়েছে পড়েছে। ফাইল ছবি/এএফপি

বেতনের বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষ দূতরা। তারা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কর্মরতদের বেতন পরিশোধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এর সঙ্গে তালেবানের শনিবারের ঘোষণার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকি থাকা বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে শুরু করেছে তালেবানশাসিত সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়া সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্ণ বেতন পরিশোধের কাজ শুরু হচ্ছে আজই।’

লাখো আফগান সরকারি কর্মীর কমপক্ষে তিন মাসের বেতন এখনও বাকি। তিন মাস আগে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন থেকেই নৈরাজ্য চলছে দেশটিতে; প্রবল অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে পুরো দেশ।

এমন পরিস্থিতিতে বেতনের বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

চলতি বছরের আগস্টে তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে থেকেই সরকারি বিভিন্ন খাতে বেতন পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মী।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গচ্ছিত শতকোটি ডলার অর্থ জব্দ করেছে আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান প্রশাসন। বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ বিপুল অঙ্কের অনুদান বাতিল করেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে তালেবানশাসিত সরকারকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তহবিল স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও।

গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষ দূতরা। তারা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কর্মরতদের বেতন পরিশোধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এর সঙ্গে তালেবানের শনিবারের ঘোষণার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

তালেবানের আরেক মুখপাত্র ইনামুল্লাহ সামানগনি টুইটারে জানিয়েছেন, তালেবানশাসিত প্রশাসনের দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসে কর্মদিবস ছিল ৭৮টি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ৭৮ দিনে আমরা প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি আফগান মুদ্রা (২৯ কোটি ডলার) আয় করেছি।

‘শুধু গত বুধবারই আমরা ৫৫ কোটি ৭০ লাখ আফগান মুদ্রা (৫৯ লাখ ডলার) আয় করেছি।’

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশন প্রদানের কাজও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন

কাবুলের শিয়া এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ

কাবুলের শিয়া এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের একটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

তাৎক্ষনিকভাবে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আইএস জঙ্গিদেরই কাজ।

আফগানিস্তানের কাবুলে শিয়া অধ্যুষিত দাশত-ই বারচি এলাকায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

শনিবার এক প্রতিবেদনে প্রেসটিভি জানায়, কাবুলের শহরতলীতে অবস্থিত দাশত-ই বারচি এলাকাটিতে প্রধানত শিয়া ধর্মাবলম্বী হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে।

শনিবার সেখানে একটি মিনিবাসের মধ্যে কেউ বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট আওয়াজে শক্তিশালী ওই বোমাটি বিস্ফোরিত হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিনিবাসটির চালক মুর্তজা সংবাদ সংস্থা এপিকে জানান, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার একটু আগেই এক সন্দেহভাজন লোক তার বাসে চড়েন। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই বাসের পেছনের অংশে বিস্ফোরণটি ঘটে।

এ সময় মুর্তজা দেখতে পান, বাসের পেছনের দিকে দুজন পড়ে আছেন। তাদের গায়ের কাপড়ে আগুন ধরে গেছে। বাকি যাত্রীরা মুহূর্তের মধ্যেই বাস থেকে ছিটকে বেরিয়ে যান।

তাৎক্ষনিকভাবে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আইএস জঙ্গিদের কাজ। গত আগস্টে তালেবানরা পুরো আফগানিস্তান দখল করে নেয়ার পর থেকেই সংগঠিত হয়ার চেষ্টা করছে ওই অঞ্চলে থাকা আইএস খোরাসানের জঙ্গিরা।

আগের দিন গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানী ঘটেছে। এ ছাড়া মসজিদের ইমামসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরেছে: আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের
আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনই রাখছে তালেবান
স্থিতিশীল আফগানিস্তানের জন্য ৮ দেশের ঘোষণাপত্র
আফগানিস্তানে অধিকারকর্মীসহ ৪ নারীকে হত্যা

শেয়ার করুন