পৃথিবীর কাছে ঘুরছে চাঁদের ভাঙা টুকরো

পৃথিবীর কাছে ঘুরছে চাঁদের ভাঙা টুকরো

সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে কামো ওয়ালেয়া। ছবি:

পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানরত আধা-উপগ্রহগুলোর একটি কামো ওয়ালেয়া। পৃথিবীর সঙ্গে এই গ্রহাণুটিও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব মাত্র নয় মাইল। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে পৃথিবী ও কামো ওয়ালেয়ার দূরত্ব খুব কম হলেও এটি পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

পৃথিবী ও সূর্যের মাঝামাঝি অবস্থানে এবং পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা গ্রহাণুটির পরিচয় শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। জানিয়েছেন, পৃথিবীর কাছে ঘূর্ণায়মান গ্রহাণুটি চাঁদের ভেঙে যাওয়া টুকরো।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে আবিষ্কৃত গ্রহাণুটির নাম কামো ওয়ালেয়া। প্রায় পাঁচ বছর আগে বিজ্ঞানীরা এটির দেখা পেলেও এতদিন গ্রহাণুটির বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানতেন না তারা।

নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চাঁদের ভাঙা অংশ। বহুকাল আগে মহাজাগতিক কোনো সংঘর্ষে অংশটি চাঁদ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, অ্যাপোলো অভিযানে সংগৃহীত চাঁদের পাথরের সঙ্গে কামো ওয়ালেয়া থেকে প্রতিফলিত আলোর মিল রয়েছে।

পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানরত আধা-উপগ্রহগুলোর একটি কামো ওয়ালেয়া। পৃথিবীর সঙ্গে এই গ্রহাণুটিও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব মাত্র নয় মাইল।

তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে পৃথিবী ও কামো ওয়ালেয়ার দূরত্ব খুব কম হলেও এটি পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কারণ এটি আকারে চক্রাকার নাগরদোলার চাকতির মতো। দুর্বলতম তারার চেয়েও বহুগুন বেশি দুর্বল কামো ওয়ালেয়া, ফলে খালি চোখেও এটি দেখা যায়।

তবে এটি পর্যবেক্ষণে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপের প্রয়োজন হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্রাহাম পর্বত থেকে লার্জ বাইনোকুলার টেলিস্কোপের সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যে আভাস মিলেছে, চাঁদের বুক থেকে সংগৃহীত পাথুরে নমুনার সঙ্গে কামো ওয়ালেয়ার সাদৃশ্য আছে। এ থেকেই ধারণা করা হচ্ছে যে গ্রহাণুটির উৎস চাঁদ।

মহাকাশে পৃথিবীর কাছাকাছি ছুটে চলা অন্য গ্রহাণুগুলো থেকে প্রতিফলিত আলোর সঙ্গে কামো ওয়ালেয়া থেকে প্রতিফলিত আলো মিলিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, কামো ওয়ালেয়ার কক্ষপথও অন্যরকম। মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝিতে দলবদ্ধ গ্রহাণুদের থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা অন্য মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গেও মিল নেই কামো ওয়ালেয়ার।

চাঁদ থেকে কিভাবে কামো ওয়ালেয়ার বিচ্যুতি ঘটেছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত নয় বিজ্ঞানীদের দলটি। কারণ এর আগে এমন কোনো গ্রহাণুর সন্ধান কখনও মেলেনি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, এক লাখ থেকে ৫০০ বছর আগ পর্যন্ত কোনো এক সময়ে কোনো সংঘর্ষের ফলে ভাঙন ধরেছিল চাঁদের বুকে।

কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটি।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, 
থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত রোবট মাছ। ছবি: ডেইলি মেইল

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অতি ক্ষুদ্র রোবটটি দেখতে ঠিক মাছের মতো। ক্যানসার প্রতিরোধে এবার এই রোবট মাছকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। কেমোথেরাপির সঙ্গে এই বস্তুটিকে সরাসরি টিউমারে পাঠানো হবে। কেমোথেরাপিতে শরীরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, এই পদ্ধতিতে তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি ক্ষুদ্র রোবট মাছগুলো আয়তনে এক মিলিমিটারের ১০০ ভাগের এক ভাগের সমান। বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে একটি জেল থেকে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এক দল চীনা বিজ্ঞানী। ভিন্ন পিএইচ মাত্রায় গেলে এরা আকৃতি পরিবর্তন করে।

আবিষ্কারের পর রোবট মাছটিগুলোকে আয়রন অক্সাইড সল্যুশনে চুবিয়ে রেখে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এগুলোর মধ্যে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেমো চিকিৎসায় এই চৌম্বক শক্তিকেই কাজে লাগানো হবে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এই মাছগুলোকে প্রথমে রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে চৌম্বক শক্তি এদের নিয়ে যাবে টিউমারের কাছে।

ক্যানসার কোষগুলো টিউমারের চারপাশের রক্তরসে থাকা পিএইচ লেভেলকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেমোর ওষুধ নিয়ে সেখানে হাজির হবে রোবট মাছ। পরে ভিন্ন পিএইচ মাত্রার সংস্পর্শে যাওয়ায় এগুলোর আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে। এক পর্যায়ে এরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেমোর ওষুধ মুখ হা করে ছেড়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মাছগুলোর এমন আচরণ কাচের পাত্রে পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এগুলোর আকৃতি আরও ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শারীরিক অস্বস্তি ও চুল পড়ে যাওয়া এর অন্যতম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোবট মাছ শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই নিশানা করবে, এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকবেন রোগীরা।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

বিবাহিত নারী-পুরুষের ১৮ মাসেই ‘নিরানন্দ জীবন’

বিবাহিত নারী-পুরুষের ১৮ মাসেই ‘নিরানন্দ জীবন’

দাম্পত্য জীবন মানেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য বোঝাপড়া, আর খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত জীবনে মানুষ অনেক ভাবে বদলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বদল মানুষের আগের চরিত্রের একদম বিপরীত। কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকতে প্রতিদিন বহুমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। অংশীদারি জীবনে খাপ খাইয়ে চলার এই নিরন্তর সংগ্রামে নিজেদের খাঁটি ব্যক্তিত্ব আর টিকে থাকে না।

বিয়ের আগে যেকোনো প্রেমময় সম্পর্ক ঘিরে থাকে সীমাহীন ভালোবাসা ও উত্তেজনার গভীর অধ্যায়। সঙ্গীর ভুলগুলোও তখন মনে হয় অত্যন্ত মধুর, প্রতিশ্রুতি থাকে আজীবন সেই ভুলগুলো মাথায় তুলে রাখার।

তবে বিয়ের পরেই ঘটে ছন্দপতন। দাম্পত্য জীবন মানেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য বোঝাপড়া, আর খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ। অনেকেই বলেন, মধুচন্দ্রিমা পার হলেই শুরু হয় আসল ‘বিবাহিত জীবন’। সঙ্গীর যেসব ‘মধুর ভুল’-এ মুগ্ধ হয়ে প্রেমের শুরু, বিবাহিত জীবনে সেগুলোই হয়ে ওঠে ‘গলার কাঁটা’। অনেকে এমনও বলেন, বেশির ভাগ দাম্পত্য জীবনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে সমঝোতা ও দায়িত্বের বোঝা, আর ‘গভীর প্রেম’ পালিয়ে যায় জানালা দিয়ে।

দাম্পত্য জীবন কি সত্যিই এতটা ফ্যাকাশে? আমরা চাইলেও কি বিয়ের আগে যেভাবে কেটেছে, সেভাবেই দাম্পত্যকে আমৃত্যু মধুরতম রাখতে পারি? বিয়ের পরেও কি থাকা যায় আগের মতোই প্রাণচঞ্চল?

এসব প্রশ্নের খুব বেশি স্বস্তিকর জবাব নেই মনোবিজ্ঞানীদের কাছে। উল্টো তারা বলছেন, বিয়ের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই বদলে যায় মানুষ। এই বদলে যাওয়া ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়, এমনকি জিনগত বৈশিষ্ট্যও আটকে রাখতে পারে না ব্যক্তিত্বের রূপান্তর।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ জর্জিয়ার ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাস্টিন ল্যাভনারের নেতৃত্বে এক দল গবেষক দাবি করছেন, বিয়ে মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্বকে প্রচণ্ড বদলে দেয়।

কিছু কিছু মনোবিদ মনে করেন, মানুষের বৈশিষ্ট্য ও আচরণ মূলত জিনগত ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর সঙ্গে শৈশবের পরিবেশেরও বড় প্রভাব রয়েছে। তাদের ধারণা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর মানুষের আচরণ ও বৈশিষ্ট্যে বড় ধরনের আর কোনো পরিবর্তন ঘটে না।

তবে ল্যাভনারের দলের গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত জীবনে মানুষ অনেক ভাবে বদলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বদল মানুষের আগের চরিত্রের একদম বিপরীত। কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকতে প্রতিদিন বহুমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। অংশীদারি জীবনে খাপ খাইয়ে চলার এই নিরন্তর সংগ্রামে নিজেদের খাঁটি ব্যক্তিত্ব আর টিকে থাকে না।

গবেষণায় ১৬৯ দম্পতিকে বেছে নিয়ে তাদের বিবাহিত জীবনের তিনটি পর্যায়ে কিছু প্রশ্নের জবাব নেয়া হয়েছে। বিয়ের ছয় মাস, ১২ মাস এবং ১৮ মাসে এসব প্রশ্নের জবাব থেকে বৈবাহিক জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনের মাত্রা পরিমাপ করেছেন গবেষকেরা।

একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ে ‘বিগ ফাইভ’ তত্ত্ব বেশ জনপ্রিয়। এই তত্ত্বে ব্যক্তিত্বের পাঁচটি মৌলিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। এগুলো হচ্ছে- অকপটতা (ওপেননেস), সুবিবেচনা (কনসিয়েনসেচনেস), বহির্মুখীনতা (এক্সট্রাভার্সন), অন্যের মতকে গ্রহণের ক্ষমতা (এগ্রিয়েবলনেস) এবং মানসিক অস্থিরতা (নিউরটিকিজম)। সহজে মনে রাখার জন্য বিগ ফাইভকে ইরেজিতে বলা হয় ওশান (OCEAN)।

ল্যাভনারের দলের গবেষণায় বিয়ের আগে-পরে নারী-পুরুষের ব্যক্তিত্বে বিগ ফাইভের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সবচেয়ে খারাপ খবর হলো, প্রেম উপচে পড়া স্বামী-স্ত্রীকে বিয়ের মাত্র দেড় বছর বা ১৮ মাস মধ্যেই দেখা গেছে উল্টো চেহারায়।

অকপটতা: ১৮ মাসে স্ত্রীদের অকপট চরিত্রে রীতিমতো ধস নামতে দেখেছেন গবেষকেরা। তারা বলছেন, বিয়ে পরবর্তী একঘেয়ে জীবন পরিচালনার প্রয়োজনেই সম্ভবত নারীর জীবনে এমন পরিবর্তন।

সুবিবেচনা: বিবাহিত জীবনে স্বামীদের আগের চেয়ে ‘বিবেচক’ হয়ে উঠতে দেখেছেন গবেষকেরা, তবে এক্ষেত্রে স্ত্রীদের অগ্রগতি বলতে গেলে শূন্য। গবেষকদের ধারণা, সংসার জীবনে নির্ভরতা ও দায়িত্বশীলতার চাপ থেকেই হয়ত পুরুষ ‘সুবিবেচক’ হয়ে উঠতে বাধ্য হয়।

বহির্মুখীনতা: গবেষণায় দেখা গেছে বিয়ের প্রথম দেড় বছরে স্বামীরা লাগামছাড়া জীবনের পরিবর্তে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে ওঠেন। আরও কয়েকটি গবেষণাতেও এসেছে, বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক নেটওয়ার্ক অনেক সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।

অন্যের মতকে গ্রহণের ক্ষমতা: বিয়ের পর ধীরে ধীরে দম্পতিদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হতে দেখা গেছে গবেষণায়। সামান্য বিষয় নিয়েও বিবাদে জড়িয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। এ ক্ষেত্রে স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর দ্বিমত করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। বিয়ের পর সময় যত গড়িয়েছে স্ত্রীরা তত বেশি নিজেদের মতকে জাহির করতে চেয়েছেন।

মানসিক অস্থিরতা: বিয়ের পর মানসিক স্থিতি পেতে স্বামীদের তুলনায় স্ত্রীদের অনেক এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সাধারণ ভাবে পুরুষের তুলনায় নারীর মানসিক অস্থিরতা বেশি লক্ষ করা গেলেও বিবাহিত জীবনে এর উল্টো ঘটতে দেখা গেছে।

ল্যাভনারের দলের গবেষণায় বিবাহিত জীবন নিয়ে তৃপ্তিও ধীরে ধীরে কমতে দেখা গেছে। এক কথায় মধুচন্দ্রিমার সময়টিই বিবাহিত জীবনের একমাত্র ‘সুখকর অধ্যায়’ বলে চিহ্নিত হয়েছে গবেষণায়।

একটাই শুধু আশার কথা, বিয়ের শুরুতে যে স্বামীরা প্রচণ্ড খোলামেলা মানসিকতার ছিলেন, তাদের দাম্পত্য জীবন ফ্যাকাশে হতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। আর যারা শুরুতেই ছিলেন গোটানো, তাদের সংসার রং হারিয়েছে কয়েক মাসের মধ্যে।

অন্যদিকে, স্থির মানসিকতার নারীদের সংসার সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, বিপরীতে ১৮ মাসের মধ্যে সংসারে আকর্ষণ অনেকটাই হারিয়েছেন অস্থির মানসিকতার নারীরা। গবেষকদের ধারণা, স্ত্রীর মানসিক স্থিরতা স্বামীর ওপরেও প্রভাব ফেলে, আর তাই দাম্পত্য তৃপ্তি কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

গবেষণায় বেরিয়ে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো, বিয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের যে পরিবর্তন ঘটে তাকে কোনো উপায়েই ঠেকানো সম্ভব নয়। গবেষকেরা বলছেন, বেশি বা কম বয়সে বিয়ে করা দম্পতিদের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফলাফল একই এসেছে। এমনকি বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো নারী-পুরুষও বিয়ের পর দীর্ঘমেয়াদে সুখী দাম্পত্য সম্পর্ক গড়তে খুব একটা সফল হননি।

এই গবেষণা চলার সময়ে কয়েক দম্পতির ঘরে এসেছে সন্তান। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাদের জীবনেও ১৮ মাসের মধ্যেই ভর করেছে হতাশা ও অতৃপ্তি।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

মধু ছেড়ে মাংস খাওয়া শিখছে মৌমাছি!

মধু ছেড়ে মাংস খাওয়া শিখছে মৌমাছি!

মাংস খেতে শকুনি মৌমাছির মুখে গজিয়েছে দাঁত। ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সম্পূর্ণ মাংসাশী মৌমাছির খোঁজ পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মধু সংগ্রহের প্রবল প্রতিযোগিতা এড়াতেই সম্ভবত এমন বিবর্তন। এ ধরনের মৌমাছির মুখে মধু শুষে নেয়ার ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে গজিয়েছে তীক্ষ্ণ দাঁত।

ফুলের সঙ্গে মৌমাছির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা সবাই আমরা জানি। ফুল মধুর বিনিময়ে মৌমাছির গায়ে জড়িয়ে দেয় রেণু, সেই রেণু ছড়িয়ে যায় দূরের কোনো ফুলে, এভাবেই ঘটে পরাগায়ন।

তবে হাজারো বছরের এমন স্বাভাবিকতার মাঝে সবার অগোচরেই ঘটছে ছন্দপতন। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, ফুলের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠছে মৌমাছির কিছু প্রজাতি। এরা নিরামিষ জীবন ছেড়ে পুরোপুরি মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। আবার নিরামিষ-আমিষ দুই খাবারে আসক্ত মৌমাছিও পাওয়া গেছে।

পঁচা মাংস ছিড়ে খেতে কিছু মৌমাছির মুখে গজিয়েছে দাঁত, এমনকি হজমে গণ্ডগোল এড়াতে এদের পরিপাকতন্ত্রও প্রস্তুত।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সম্পূর্ণ মাংসাশী মৌমাছির খোঁজ পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মধু সংগ্রহের প্রবল প্রতিযোগিতা এড়াতেই সম্ভবত এমন বিবর্তন। এ ধরনের মৌমাছির মুখে মধু শুষে নেয়ার ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে গজিয়েছে তীক্ষ্ণ দাঁত।

প্রাণিবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণায়, কর্মী মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে ‌মৌ-রস সংগ্রহ করে। এই মৌ-রসকে ইংরেজিতে বলে নেকটার। নেকটার হলো ফুলের রেণুতে থাকা মিষ্টি তরল। মৌমাছির শরীরে দুটি পাকস্থলি রয়েছে। একটিতে সে মৌ রস জমা করে, আর অন্যটিতে স্বাভাবিক ভাবে খাবার পরিপাক হয়।

কর্মী মৌমাছি পেটে মৌ-রস নিয়ে এসে মৌচাকে জমা করে। মৌচাকের প্রকোষ্ঠে মধু ঢালার আগে এরা পেট থেকে মধু মুখে নিয়ে আসে। মধু প্রকোষ্ঠে ভরার পর ডানা ঝাপটে বাড়তি পানি বাষ্পীভূত করে দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন মধু ভালো রাখার জন্য মৌমাছি নিজের পেট থেকে মোম বের করে প্রকোষ্ঠের মুখ বাতাসরোধী করে আটকে দেয়।

তবে মাংসাশী মৌমাছির বেলায় এই রুটিনের কোনো বালাই নেই। এরা মাংস চিবিয়ে খেতে দক্ষ প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড (ইউসিআর) এর কীটতত্ত্ববিদ ডগ ইয়ানেগা বলছেন, ‘এরা এমন ধরনের মৌমাছি যারা উদ্ভিদজাত খাদ্য উৎসের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা উৎস ব্যবহারের জন্য বিবর্তিত হয়েছে। এটি মৌমাছির খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।’

দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে পাওয়া মাংসাশী মৌমাছির পরিপাক তন্ত্রে মাংস হজমের উপযোগী রূপান্তরও লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।

খাবার হজমে সহায়তার জন্য প্রতিটি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব। প্রাণিবিজ্ঞানীরা বলছেন, মধু জাতীয় খাদ্য পরিপাকে মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে মূলত পাঁচটি অণুজীব সক্রিয়। প্রায় আট কোটি বছর ধরে এগুলোই প্রায় সব প্রজাতির মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে মাংসাশী মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে একদম আলাদা ধরনের অণুজীব।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড এর গবেষক দলটির গবেষণাটি সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অফ মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। মাংস খেতে সক্ষম মৌমাছিরা ‘ভালচার বি’ বা শুকুনি মৌমাছি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

শকুনি মৌমাছির দেখা মিলেছে কোস্টারিকার বনে-জঙ্গলে। এদের আচরণ ও খ্যাদ্যাভাস পর্যবেক্ষণে ইউসিআর গবেষক দলটি গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল মুরগির কাঁচা মাংসের টুকরো। দেখা গেছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে শুকুনি মৌমাছিরা। মাংস ও মধু- দুটিই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এমন প্রজাতিও পাওয়া গেছে সেখানে।

গবেষক দলটি বলছে, মাংসাশী, সর্বভুক এবং কেবল মধু খাওয়া মৌমাছিদের পরিপাক তন্ত্রের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ইউসিআর-এর কীটতত্ত্ববিদ কুইন ম্যাকফ্রেডরিক বলেন, ‘শকুনি মৌমাছির অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম অ্যাসিড সম্মৃদ্ধ ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ, সাধারণভাবে অন্যান্য মৌমাছিতে যা একেবারেই দেখা যায় না। শকুন, হায়েনার মতো প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রেও এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া দেখা যায়। এসব ব্যাকটেরিয়া পঁচা মাংসের রোগজীবাণু থেকে খাদ্য গ্রহণকারী প্রাণীকে রক্ষা করে।’

শকুনি মৌমাছির অন্ত্রে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার একটি হল ল্যাকটোব্যাসিলাস, যা দই জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া শক্ত খাবার হজমে সাহায্য করে।

গবেষক দলের সদস্য জেসিকা ম্যাকারো বলছিলেন, ‘মৌমাছি কোনো প্রাণীর মৃতদেহ ছিড়ে খাচ্ছে, এটা ছিল ভয়ঙ্কর দৃশ্য। মৃতদেহের পঁচা মাংসে ক্ষতিকর অনেক জীবাণু থাকে, তবে এসব জীবাণুকে প্রতিরোধের ক্ষমতা শকুনি মৌমাছি অর্জন করেছে।’

কোস্টারিকায় পাওয়া শকুনি মৌমাছির বেশিরভাগ প্রজাতির হুল নেই। তবে আক্রমণ ঠেকাতে এদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কয়েকটি প্রজাতি কামড়ানোর শক্তি রাখে, আর সেই কামড়ে ত্বকে ফোস্কা পড়াসহ, ঘা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

কম্পিউটার ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

টিকে থাকার প্রয়োজনে জীবের বংশবৃদ্ধি আবশ্যিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এই প্রথম জৈবিক প্রজননে সক্ষম রোবট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই জীবন্ত রোবট ক্রমাগত তৈরি করতে পারে নিজের প্রতিলিপি।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীর তৈরি রোবট এক ধরনের জেনোবট (জীবন্ত রোবট) । তবে রোবট বলতে প্রচলিত অর্থে আমরা যা বুঝি এই জেনোবট ঠিক তেমন নয়। সুপার কম্পিউটারের ডিজাইন অনুসারে জৈবিক বংশবিস্তারের এক নতুন কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে এ ক্ষেত্রে।

গবেষণাগারে এই ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

এক মিলিমিটারের চেয়েও ছোট (০.০৪ ইঞ্চি) জেনোবটগুলো শিশু জেনোবট তৈরি করতে পারে। এসব শিশু জেনোবট এরপর আবার নতুন কোষ খুঁজে বের করে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জেনোবট সনাতনি ধরনের রোবট যেমন নয়, তেমনি আবার কোনো প্রচলিত প্রাণীও নয়। কম্পিউটারে তৈরি ডিজাইন অনুসারে এটি কাজ করে এবং অতিক্ষুদ্র এই জীবসত্তার মাধ্যমে আগামীতে মানবদেহের অভ্যন্তরে ওষুধ পরিবহন সম্ভব।

গবেষণা দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভারমন্টের (ইউভিএম) কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও রোবটিকস বিশেষজ্ঞ জশুয়া বোনগার্ড বলেন, ‘সঠিক ডিজাইন করা গেলে জেনোবটগুলো নিজে থেকেই নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করবে।’

তাদের গবেষণার ফল গত ২৯ নভেম্বর প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।

জেনোবট তৈরিতে বেছে নেয়া হয়েছে আফ্রিকান ব্যাঙের প্রজাতি জেনোপাস লিভিসের বিশেষ ধরনের কোষ। এই ভ্রূণ কোষগুলো পরে ব্যাঙের ত্বকে পরিণত হয়।

গবেষণা দলের আরেক সদস্য ম্যাসাচুসেটসের টাফটস ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘বিশেষ ভ্রূণকোষগুলো ব্যাঙাচি জন্মের ত্বক আবরণ তৈরি করে। এই কোষ শ্লেষাজাতীয় পদার্থের নিঃসরণ ঘটিয়ে ব্যাঙকে রোগজীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। তবে ল্যাবরেটরিতে আমরা এদের নতুন একটি পরিস্থিতিতে রেখেছি। এগুলোর বহুকোষী বৈশিষ্ট্যকে নতুন ভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছি। এর ফলে কোষগুলো নতুন যা তৈরি করছে তা ত্বক থেকে একেবারে আলাদা।’

গবেষক দলের সদস্য টাফটস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডগলাস ব্ল্যাকিস্টন বলেন, ‘এতদিন মানুষের ধারণা ছিল, জীবনের বিস্তার বা বংশবৃদ্ধি কীভাবে ঘটে সে বিষয়ক সব রহস্য ভেদ করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এই পরীক্ষা এমন কিছু পাওয়া গেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গবেষক দলটি। অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘এই কোষগুলোতে ব্যাঙের জিনোম রয়েছে, কিন্তু এরা ব্যাঙাচিতে পরিণতা হওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। ফলে এরা যৌথ বুদ্ধিমত্তা, নমনীয়তা প্রয়োগ করে অবাক করার মতো অনেক কিছু ঘটাতে সক্ষম।’
গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে ডিজাইন করা কোষগুলো নিজে থেকেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।

গবেষণা দলের প্রধান স্যাম ক্রিগম্যান বলেন, ‘ব্যাঙের এই কোষগুলো নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করছে এক দম আলাদা পদ্ধতিতে। ব্যাঙের দেহে সাধারণভাবে প্রতিলিপি তৈরির চেয়ে এই প্রক্রিয়া একেবারে ভিন্ন।’

জেনোবটের জনক কোষ নিজে থেকেই ৩ হাজার কোষের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘এগুলো সন্তান তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর পরই প্রক্রিয়াটির অবসান ঘটে। এই প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখার পদ্ধতিটি খুবই জটিল।’

জেনোবটের আকৃতি তৈরির জন্য গবেষণায় ডিপ গ্রিন সুপার কম্পিউটারে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রোগ্রামের নতুন ধরনের এলগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। কোন আকৃতি বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী সেটি জানতে ত্রিভূজ, চতুষ্কোণ, পিরামিড বা তারকাকৃতি তৈরি করা হয়েছে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘আমরা কম্পিউটারকে বলেছিলাম, জনকের আকৃতি ঠিক করতে। এআই কয়েক মাস চেষ্টার পর কয়েকটি অদ্ভূত ধরনের আকৃতি তৈরি করে, যার একটি দেখতে প্যাক-ম্যানের (ভিডিও গেইম চরিত্র) মতো। এটা সে সজ্ঞানে করেনি। এরপর ওই জনক থেকে সন্তান তৈরি হলো। তাদের থেকে আবার সন্তান ও তাদের থেকে আবারও। এক কথায় সঠিক ডিজাইনের কারণে বংশবিস্তার কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত চলেছে।’

বোনগার্ড বলেন, ‘আমরা আবিষ্কার করেছিম অর্গানিজম বা কোনো কোষীয় জীবন ব্যবস্থার মধ্যে এমন সব জায়গা রয়েছে যার সম্বন্ধে আমরা জানতাম না। এর আগে আমরা হাঁটতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। সাঁতরাতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। আর এই গবেষণায় পেলাম এমন কিছু জেনোবট যারা নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।’

নতুন জেনোবটের সম্ভাবনা নিয়ে বোনগার্ড বলেন, ‘নতুন ওষুধ তৈরি করা বা পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিষ্কার করার কাজে এ যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করা যাবে। আমরা চাই যে হারে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, ঠিক একই হারে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করতে।’

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

‘শি’-কে ভয়, তাই এলো ‘ওমিক্রন’!

‘শি’-কে ভয়, তাই এলো ‘ওমিক্রন’!

গ্রিক বর্ণমালার অক্ষরগুলো দিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের নামকরণ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গ্রিক বর্ণমালার ক্রমানুসারে ১২টি অক্ষরের নামে করোনার ১২টি ভ্যারিয়েন্টের নামকরণের পর হঠাৎ করেই দুটি অক্ষর বাদ দিয়ে পঞ্চদশ অক্ষর ‘ওমিক্রন’ বেছে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এতেই তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

কোভিড ১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের সবশেষ ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে উদ্বেগ এখন সারা বিশ্বে।

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’, তবে শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি এবং এটি কতটুকু ক্ষতির কারণ হতে পারে- তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নতুন ধরনটির নাম নিয়েও চলছে হৈ চৈ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিকে এটি ‘২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস’ হিসেবে পরিচিতি পায়। মানবদেহে সংক্রমিত যে কোনো নতুন করোনাভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নামকরণের আগে ‘নভেল (নতুন) করোনাভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটির নাম দেয় সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস টু (সার্স-কভ-২)। এর পর একের পর এক ভাইরাসটির নতুন ধরন তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর নতুন বৈজ্ঞানিক নামও দিতে থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে এসব নাম বেশ জটিল হওয়ায় ভাইরাসের পরবর্তী ধরনগুলো এদের পরিচিতি পেতে থাকে প্রথম শনাক্ত হওয়া দেশের নামে। যেমন বি.১.৬১৭.২ ভ্যারিয়েন্টটি ভারতীয় ধরন হিসেবে সংবাদ মাধ্যমে পরিচিত পায়। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের সহজ নামকরণের উদ্যোগ নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই নামকরণে একটি পদ্ধতিও ঠিক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক্ষেত্রে গ্রিক বর্ণমালার অক্ষরগুলো দিয়ে শুরু হয় নামকরণ।

২৪ অক্ষরের গ্রিক বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘আলফা’। সে অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া একাধিক মিউটেশনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া করোনার ‘বি.১.১.৭’ ধরনটির নাম দেয়া হয় ‘আলফা’। এরপরে ২০২০ সালেই সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া আরেকটি উচ্চ মিউটেশনের ধরনের (বি.১.৩৫১) নামকরণ হয় গ্রিক বর্ণমালার দ্বিতীয় অক্ষর ‘বেটা’ নামে।

ব্রাজিলে প্রথমবার শনাক্ত হওয়া আরেকটি ধরনের (পি.১) নাম রাখা হয় ‘গামা’। এটি গ্রিক বর্ণমালার তৃতীয় অক্ষর। চতুর্থ অক্ষর ‘ডেল্টা’ নামকরণ করা হয় ভারতে শনাক্ত হওয়া ধরনটির (বি.১.৬১৭.২)।

এভাবে ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শনাক্ত হওয়া ধরনগুলোর নাম রাখা হয়েছে- এপসাইলন, জেটা, এটা, থেটা, আইওটা, কাপা, ল্যাম্বডা, মিউ। এগুলোর মধ্যে ল্যাম্বডা ছাড়া বাকিগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা কম হওয়ায় খুব বেশি আলোচনায় আসেনি।

এভাবে গ্রিক বর্ণমালার ক্রমানুসারে ১২টি অক্ষরের নামে করোনার ১২টি ভ্যারিয়েন্টের নামকরণের পর হঠাৎ করেই দুটি অক্ষর বাদ দিয়ে পঞ্চদশ অক্ষর ‘ওমিক্রন’ বেছে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এতেই তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ওমিক্রনের আগে পাশ কাটিয়ে যাওয়া গ্রিক অক্ষর দুটি হলো- নু এবং শি।

অনেকের অভিযোগ, চীনা প্রেসিডেন্ট চিনপিং-এর পারিবারিক উপাধি শি হওয়ার কারণেই এই অক্ষরটিকে এড়িয়ে গেছে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকারও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের বক্তব্য হলো, ‘শি’ শব্দটি পারিবারিক উপাধি হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন, তাই এটি বাদ দেয়া হয়েছে। আর ‘নু’ এর উচ্চারণ ইংরেজি শব্দ ‘নিউ’ এর সঙ্গে মিলে যায় বলে, বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য অক্ষরটি বাদ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের দাবি, যে কোনো নতুন রোগের নাম নির্ধারণে তারা খুবই সতর্ক থাকেন, যাতে এই নাম কোনো সংস্কৃতি, সমাজ, জাতি, অঞ্চল বা গোষ্ঠীর জন্য বিব্রতকর না হয়।

তবে ‘শি’ এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনীতি রয়েছে বলে তীর্যক মন্তব্য ছুড়ছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর এক টুইটে লিখেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের কম্যুনিস্ট পার্টিকে এতটাই ভয় পেলে তারা পরে কীভাবে বিশ্বাস করবে যে, দেশটি একটি মহামারিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে।’

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়র টুইটে লিখেছেন, ‘আমি যতদূর জানি, শি ভ্যারিয়েন্টই হলো করোনার আসল ভ্যারিয়েন্ট।’

প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেণী নামে এক ভারতীয় রাজনীতিক লিখেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের নাম নিতে ভয় পায়। কিন্তু তারা ভারত আর সাউথ আফ্রিকাকে দোষারোপ করতে এক পা সবসময় বাড়িয়ে রাখে।’

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

ভাঙা প্রেমে কেন ভেঙে যায় বুক?

ভাঙা প্রেমে কেন ভেঙে যায় বুক?

ভেঙে যাওয়া প্রেমকে ভুলে যাওয়া কারও কারও জন্য সত্যিই খুব কঠিন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেঙে যাওয়া প্রেমকে ভুলে যাওয়া কারও কারও জন্য সত্যিই খুব কঠিন। বিরহ এমন এক আসক্তি জন্ম দিতে পারে, যার মাত্রা কোকেইনে আসক্তির মতোই।  

প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার দুদিনের মাথায় নতুন প্রেমে জড়ানোর উদাহরণ আজকাল অফুরন্ত।

বিচ্ছেদের পর অনেকে খুব সহজে সব ভুলে যেতে পারেন। কেউ কেউ আবার নিয়মিত বিরতিতে সঙ্গী বদলকে গৌরবজনকও মনে করেন।

তবে সবাই তো আর এমন ‘পেশাদার’ প্রেমিক বা প্রেমিকা নন, কেউ কেউ এখনও আছেন ভীষণ আটপৌঢ়ে। তাদের কাছে প্রেম ভেঙে যাওয়া মানে সব কিছু ‘শেষ হয়ে’ যাওয়া।

শুধু পুরোনো দিনের ঢাকাই সিনেমার বিবাগি প্রেমিক নয়, বাস্তব জীবনেও ব্যর্থ প্রেমের হাহাকারের নজির অসংখ্য।

ভালোবাসা হারানোকে সহজে মেনে নিতে পারেন না অনেকেই। বুকে একরাশ ব্যথা নিয়ে বিষাদে কাতর কেউ কেউ বুক পকেটে আগলে রাখেন প্রাক্তনের ছবি। কেউ কেউ নানান উপলক্ষ্য ধরে যোগাযোগের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। আবার কারও কাছে একেবারেই তুচ্ছ মনে হয় জীবন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেঙে যাওয়া প্রেমকে ভুলে যাওয়া কারও কারও জন্য সত্যিই খুব কঠিন। বিরহ এমন এক আসক্তি জন্ম দিতে পারে, যার মাত্রা কোকেইনে আসক্তির মতোই।

বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকার প্রতি কেনো মানুষের তীব্র আকর্ষণ- সেটি জানতে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রুটগার্স ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যানথ্রপলজির অধ্যাপক হেলেন ই. ফিশার ও তার কয়েক সহকর্মী।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সবারই ছিল ব্রেক আপের অভিজ্ঞতা। তাদের একটি লিফলেট দেয়া হয়, যেখানে প্রশ্ন ছিল, ‘প্রেমে বিচ্ছেদের পর কি প্রাক্তনকে ভুলতে পারছেন?’

অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই জানান, তারা প্রাক্তনের কাছে ফিরে যেতে চান এবং ব্রেক আপের চাপ সামাল দিতে পারছেন না। এদের অনেকেই মানসিক বিষাদের মাত্রা সামলাতে না পেরে মদ্যপান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, মন খারাপ এবং ডুকরে কান্না ছিল নিয়মিত ঘটনা। অনেকে প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেমে প্রত্যাখ্যানের ঘটনা কোনো কিছু হারিয়ে ফেলার মতো গভীর আবেগ জন্ম দিতে পারে মনের মাঝে। অনেক ক্ষেত্রে এটি তীব্র মানসিক হতাশার জন্ম দেয়, যেটি হত্যা বা আত্মহত্যার মতো ঘটনাতেও গড়াতে পারে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তাদের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার ছবি দেখানো হয়। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে, তাদের পরিচিত কোনো মানুষের ছবি।

দেখা গেছে, দুই ধরনের ছবি দেখার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের মনোসংযোগের মাত্রা ছিল আলাদা।

অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা প্রেমকে একটি ‘লক্ষ্য অর্জনভিত্তিক আবেগ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের বাকি সব আবেগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক এতটা নিবিষ্টভাবে কাজ করে না।

ফিশার ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন, সাবেক প্রেমিক/প্রেমিকার দিকে তাকিয়ে থাকা এবং কোকেইন সেবনের তীব্র ইচ্ছার মধ্যে একটি স্নায়বিক সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে একটি হাইপোথিসিস হলো, প্রেমে প্রত্যাখ্যানও এক ধরনের প্রবল আসক্তির জন্ম দিয়ে থাকে।

তীব্র আসক্তি কি ‘অসুস্থতা’?

প্রেমের ক্ষত কী করে দূর করা হয়, সে বিষয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ডাকোটা স্কুল অফ মেডিসিনের ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়রাল সায়েন্সের অধ্যাপক এম. সানচেস। তার সঙ্গে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টারের ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়রাল সায়েন্সের অধ্যাপক ভি.পি জন।

‘ট্রিটমেন্ট অফ লাভ অ্যাডিকশন: কারেন্ট স্ট্যাটাস অ্যান্ড পারসপেক্টিভ’ শিরোনামে ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাদের গবেষণাপত্রে প্রাক্তনের প্রতি মাত্রাছাড়া আসক্তিকে এক ধরনের ‘মানসিক ব্যাধি’ বলা হয়েছে।

সানচেস ও জন ‘অসুস্থ ভালোবাসা’র ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে, যেখানে সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট, মাত্রাছাড়া ও তীব্র আগ্রহ দেখা যায়। এর ফলে মানুষ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং অন্য আর সব কিছুতে তার আগ্রহ শূন্যে নেমে আসে। আচরণগত বিভিন্ন পরিবর্তনও আসে অতি বিরহীর জীবনে।

এই গবেষকেরা বলছেন, অনেকেই বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন ও মানসিক তীব্র দহনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন না।

বিচ্ছেদ ব্যথা সামলাবেন কী করে

ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন করা যখন এত কঠিন তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে, হৃদয়ে ক্ষত সারানোর উপায় কী?

মন গবেষকদের মতে, বিচ্ছেদ যন্ত্রণাদায়ক হলেও এটি হৃদয়কে অন্যান্য সম্পর্ককে বিবেচনায় নেয়ার পথ খুলে দিতে পারে। ফলে বিচ্ছেদ শুধু হতাশাই তৈরি করে না, উন্মোচন করে সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়।

তাই প্রাক্তনের পেছনে অযথা ঘুরঘুর না করে নিজেকে সামলাতে শিখুন। এছাড়া অন্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে ব্যস্ত থাকা, বন্ধু- পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং সারাক্ষণ দুঃখের গান না শুনে মন চনমনে রাখা কাজে নিজেকে জড়িত করা।

সবচেয়ে ভালো ওষুধ হচ্ছে সময়। সময়ের সঙ্গে মানুষের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, ধারণা বদলায় এবং আবেগের মাত্রা হালকা হতে থাকে। সেই সময়কে আসতে দিন, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন এবং নতুন কোনো সম্পর্কের জন্য তৈরি করে নিন।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন

চুমু খেলে কমে কোলেস্টেরল

চুমু খেলে কমে কোলেস্টেরল

গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো মানের চুমু মানুষের দেহে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। কোনো যুগল ডিনারে প্রচুর পরিমাণে হাই-কোলেস্টেরল খাবার খেলেও উদ্বেগের খুব একটি কারণ নেই। ডিনার শেষে একান্তে দীর্ঘক্ষণ পরস্পরকে চুম্বনে আবদ্ধ রাখলে সেই হাই-কোলেস্টেরল হৃদযন্ত্রের বারোটা নাও বাজাতে পারে।

ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে চুমুর বিকল্প নেই। শিল্প, চলচ্চিত্র বা সাহিত্যে তাই বারবারই এসেছে চুমুর জয়গান।

বিভিন্ন গবেষণাতেও এসেছে, সুখী জুটির পেছনে চুমুর সঙ্গোপন ভূমিকা। বলা হয়ে থাকে, দাম্পত্য সম্পর্ক ফিকে হয়ে যাওয়া ঠেকাতে চাইলে নিয়মিত চুমু খাওয়া ভুলে গেলে চলবে না।

এটা তো গেল সম্পর্কের আকর্ষণ ধরে রাখতে চুমুর টোটকা; বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্যও দীর্ঘ ও নিয়মিত চুমু খাওয়া প্রয়োজন। এটি সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখার পাশাপাশি আপনাকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।

বিষয়টি ঘেঁটে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোন স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনসের অধ্যাপক কোরি ফ্লয়েড ও তার সহকর্মীরা একটি গবেষণা চালিয়েছেন। ৫২ জোড়া বিবাহিত ও অবিবাহিত জুটিকে বেছে নিয়ে তারা যাচাই করেছেন চুমু খাওয়ার দৃশ্যমান বা পরিমাপযোগ্য কোনো সুবিধা আছে কিনা।

ফ্লয়েডের দল আগে থেকেই জানতেন, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে চুমুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ফলে তারা সম্পর্ক জোরদারে চুমুর প্রয়োজনীতা নিয়ে মাথা ঘামাননি; গবেষণায় দেখা হয়েছে, সুস্বাস্থ্যের উন্নতিতে চুমুর অবদান কী।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চুমুর সময়ে লালা বা থুতু বিনিময়ে মনোনিউক্লিওসিস (কিসিং ডিজিজ) ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে ফ্লয়েড ও তার সহকর্মীরা চুম্বনের এই ঝুঁকির বাইরে উপকারিতাই বেশি খুঁজে পেয়েছেন।

তারা দেখেছেন, নিয়মিত চুমু খাওয়ার অভ্যাস অ্যালার্জির বিরুদ্ধে দেহের ইমিউন সিস্টেমকে তাতিয়ে তোলে। তার চেয়েও বড় কথা, মানসিক চাপ এক নিমিষে কমিয়ে দেয় গভীর ও দীর্ঘ চুমু।

স্নায়ুতন্ত্রের প্যারাসিম্প্যাথেটিক সিস্টেমকেও চাঙা করে তোলে চুম্বন। সহজ কথায় প্যারাসিম্প্যাথেটিক সিস্টেম হলো স্নায়ুতন্ত্রের এমন কার্যকলাপ, যা আরামদায়ী বা নিশ্চিন্ত থাকার সময়ে দেহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ফলে প্যারাসিম্প্যাথেটিক সিস্টেম সক্রিয় থাকা মানেই হলো বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর বাড়তি চাপ কমে যাওয়া।

গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকে বিদ্যমান সিবাম নামের বিশেষ একটি পদার্থ চুমু খাওয়ার সময় সঙ্গীর দেহে পরিবাহিত হতে পারে। আর এই সিবাম মস্তিষ্ককে বন্ধন ও ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ রাসায়নিক সিগন্যাল দেয়।

চুমুর আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বেরিয়ে এসেছে গবেষণায়। দেখা গেছে, ভালো মানের চুমু মানুষের দেহে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। কোনো যুগল ডিনারে প্রচুর পরিমাণে হাই-কোলেস্টেরল খাবার খেলেও উদ্বেগের খুব একটি কারণ নেই। ডিনার শেষে একান্তে দীর্ঘক্ষণ পরস্পরকে চুম্বনে আবদ্ধ রাখলে সেই হাই-কোলেস্টেরল হৃদযন্ত্রের বারোটা নাও বাজাতে পারে।

গবেষণার সময় চুমু খাওয়ার অনুমতি পাওয়া যুগলেরা জানিয়েছেন তারা কম চাপ অনুভব করছেন ও নিজেদের শরীরও বেশ ঝরঝরে লাগছে। এমনকি পরিমাপ করে দেখা গেছে তাদের দেহে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমেছে।
চুমু খেতে পারা গ্রুপের যুগলেরা গবেষণা চলার সময়ে বেশি ব্যায়াম করেছেন, কম ঝগড়া করেছেন, তর্ক করে সময় অপচয়ের আগ্রহও ছিল কম। একে অপরকে আরও ভালো বুঝতে পেরেছেন এই যুগলেরা।

আর বলাই বাহুল্য, চুমুবঞ্চিত যুগলদের ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল একদম উল্টো।

আরও পড়ুন:
পৃথিবী ঘেঁষে ছুটে যাবে আইফেল টাওয়ারের সমান গ্রহাণু
পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি বানাতে পারে যে গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত হানবে বেনু?
ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর ‘আঘাতের ক্ষত’ লুইজিয়ানায়
মানুষ-বানরের কোষ দিয়ে হাইব্রিড ভ্রূণ

শেয়ার করুন