কপ২৬

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাদ দিয়েই গ্লাসগো চুক্তি সই

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাদ দিয়েই গ্লাসগো চুক্তি সই

২০০ দেশের অংশগ্রহণে জাতিসংঘের এ বছরের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের চূড়ান্ত অধিবেশনে যুক্তরাজ্যের কপ২৬ প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা। ছবি: এএফপি

গ্লাসগো চুক্তির বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন দুই দশমিক চার ডিগ্রিতে সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে। আর দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে কার্বনের বড় উৎসগুলো বন্ধে করণীয় নির্ধারণে আগামী বছর আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বসম্প্রদায়।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৬তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে এ বছরের চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে প্রায় ২০০ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রণীত এ চুক্তিতে উপেক্ষিত হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলার বিষয়টি।

তবে গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তিই প্রথম, যেখানে পরিবেশ রক্ষায় কয়লার ব্যবহার কমানোর জন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কয়লার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনের প্রাথমিক আলোচনার খসড়ায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ভারতের বিরোধিতায় মাঝপথেই থমকে যায় সে প্রচেষ্টা।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ নেই চুক্তিটিতে।

বায়ুমণ্ডলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন ধরনের গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হলেও নেয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাড়তি অর্থসহায়তা দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বিশ্বসম্প্রদায়।

চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে অব্যাহত কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘সামনের বছরগুলোতে আরও অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। সে পথে গ্লাসগো চুক্তি একটি বড় পদক্ষেপ।

‘কয়লার ব্যবহার কমানোর এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি পেয়েছি আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এবং বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পানি ও পৃথিবীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিশ্ব।’

তবে জনসন কিংবা কেরির মতো আশাবাদী নন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রহ এক ভগ্নদশার মধ্যে রয়েছে। আর এক পা পরই গভীর খাদ। অথচ এখনও আমরা জলবায়ু বিপর্যয় নিয়ে শুধু আলোচনাই করে যাচ্ছি।

‘জরুরি অবস্থা ধরে নিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সময়। না হলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন শূন্যে নামানোর সম্ভাবনাই শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে।’

গ্লাসগো চুক্তির বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে। আর দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে কার্বনের বড় উৎসগুলো বন্ধে করণীয় নির্ধারণে আগামী বছর আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বসম্প্রদায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা না গেলে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে পৃথিবী। তীব্র গরমে খরা আর হিমবাহ ও বরফের আস্তর গলে নামা পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যায় ভুক্তভোগী হবে কোটি কোটি মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে কয়লার ব্যবহার বন্ধে গ্লাসগো চুক্তিতে জোরালো পদক্ষেপ না থাকলেও আশা হারাতে রাজি নন অনেক পর্যবেক্ষক। তারা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতেও গ্লাসগো চুক্তি নতুন আশার আলো। কারণ জাতিসংঘের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিতে সুনির্দিষ্টভাবে কয়লার উল্লেখ এবারই প্রথম।

প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তার প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী কয়লা। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার বিষয়ে আলোচনা কেন্দ্রে এই জীবাশ্ম জ্বালানি।

এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছিল। ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়েও আশা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু পরের ছয় বছরে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারেকাছেও পৌঁছায়নি বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

ইউএসজিএসের ভূমিকম্প মানচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৩২.৮ কিলোমিটার।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নিয়ে পোস্টে বলা হয়, এটি ঢাকা থেকে ৩৪৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে এক পোস্টে অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.১।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৩২.৮ কিলোমিটার।

সংস্থাটি আরও জানায়, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের হাখা থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।’

তিনি বলেন, ‘উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৬.১, তবে আশপাশের এলাকায় ৫.৭ মাত্রায় অনুভূত হয়েছে।’

ভূমিকম্প সিলেটেও বড় ঝাকুনি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফেনী শহরে ভূমিকম্পের সময় লোকজনকে বাসাবাড়িতে শোরগোল করতে শোনা যায়। এতে শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শহরের বাসিন্দা ফারুকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মসজিদে নামাজরত ছিলাম। মসজিদ শুধু দোলনার মতো দুলতেছে। আর তখনই টের পেয়েছি ভূমিকম্প হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

মাথায় কনটেইনার আটকে মরতে বসেছিল হরিণটি

মাথায় কনটেইনার আটকে মরতে বসেছিল হরিণটি

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস রাজ্যের পনি প্রেইরি পার্কে এই অবস্থায় হরিণটিকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

উইচিটার শহরের পনি প্রেইরি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, মাথায় কনটেইনার আটকে যাওয়া হরিণটিকে কয়েক দিন আগে দেখতে পান স্থানীয়রা। কিন্তু কেউ ওকে সাহায্য করতে পারছিল না। মানুষ দেখলেই পালিয়ে যেত সে।  

একবার ভেবে দেখুন তো, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর আপনি। কিন্তু মুখ খুলতে না পারায় কিছুই মুখে তুলতে পারছেন না। কারও কাছে সাহায্য চাইবেন, সেই উপায়ও নেই। এমন পরিস্থিতিতে হয়তো পড়তে চাইবেন না কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস রাজ্যের একটি শহরে সম্প্রতি এমন অবস্থায় দেখা গেছে একটি হরিণকে। প্লাস্টিকের একটি কনটেইনার পুরো মাথায় আটকে গিয়েছিল হরিণটির। কয়েক দিনের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার হরিণটিকে ধরতে সক্ষম হন স্থানীয়রা। খুলে নেয়া হয় কনটেইনারটি।

উইচিটার শহরের পনি প্রেইরি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, মাথায় কনটেইনার আটকে যাওয়া হরিণটিকে কয়েক দিন আগে দেখতে পান স্থায়ীয়রা। কিন্তু কেউ ওকে সাহায্য করতে পারছিল না। মানুষ দেখলেই পালিয়ে যেত সে।

স্থানীয় বাসিন্দা জেসিকা নেভিল বলেন, ‘চার দিন ধরে হরিণটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি পুকুরে সে পানি পানের চেষ্টা করছিল। আমাদের দেখে পালিয়ে যায়। পরে রাতের আঁধারে একটি বাড়ির আঙিনার সামনে ওকে ধরতে পারি। জাপটে ধরে ওর মাথা থেকে কনটেইনারটি বের করি।’

আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ায় পরামর্শ দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা ও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; নদীগুলো দখল হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভিশনারি নেতৃত্ব ও কীর্তি যাতে না থাকে সেজন্য নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার কীর্তি না রাখতে দেশের নদীগুলো দখল হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে সারা দেশের নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; নদীগুলো দখল হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভিশনারি নেতৃত্ব ও কীর্তি যাতে না থাকে সেজন্য নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা ও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ঢাকার চারপাশের নদী নয়, সারা দেশের নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নদীগুলো একদিনে দখল হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের জট। দ্রুত কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সেগুলো উদ্ধারে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ নদী নিয়ে চিন্তা করছে-এটাই সাফল্য। নদী রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করছি-সেটি সফলতা। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘নদীগুলোর নাব্যতা কমে গেছে; নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ওইসময় সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত নদী খননের জন্য কোনো ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ বছরে ৩৮টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছেন। এর সুফল আমরা পাচ্ছি।’

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহসীনুল করিম লেবুর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) সিনিয়র অ্যাডভাইজার ড. মমিনুল হক সরকার।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অখিল কুমার বিশ্বাস, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদাত।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। ছবি: বিবিসি

অ্যালবেট্রস নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততায় অ্যালবেট্রস পাখিরা জগদ্বিখ্যাত। এর মানে এই নয় যে, তারা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যায় না। তবে সেই সংখ্যাটি নগন্যই বলা চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই পাখিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার বেড়ে গেছে বহুগুণে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে ফকল্যান্ড আইল্যান্ডে সাড়ে ১৫ হাজার অ্যালবেট্রস যুগলের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। একবার তাদের মনের মিল হয়ে গেলে- সারাজীবনই তারা একে অপরকে সঙ্গ দিয়ে চলে। সাধারণ হিসেবে, খুব বেশি হলে এক শতাংশ অ্যালবেট্রস যুগলের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে; যা মানুষের সমাজের চেয়ে অনেকাংশেই কম।

অ্যালবেট্রস নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

কিন্তু বিগত বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা যত বাড়ছে অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের হারও তত বাড়ছে। বর্তমানে এমন বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ৮ শতাংশেরও বেশি অ্যালবেট্রস যুগলকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো অ্যালবেট্রস যুগল প্রজননে ব্যার্থ হলেই তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজনন মৌসুমের জন্য তারা নতুন সঙ্গীর খোঁজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একটি সফল প্রজনন মৌসুম কাটানোর পরও অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, অ্যালবেট্রসদের বিচ্ছেদ বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী একটি সম্পর্ক মানিয়ে চলতে তারা হয়তো অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকার কারণে অ্যালবেট্রস পাখিদের আরও দীর্ঘ সময় শিকার খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। শিকারের সন্ধানে তারা আগের চেয়েও দূর-দূরান্তে উড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে তাদের অনেকেই সময়মতো নীড়ে ফিরতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই ফাঁকে তাদের সঙ্গীরা নতুন কোনো সঙ্গীকে বেছে নিচ্ছে।

আবার এমনও হতে পারে, বিরূপ আবহাওয়া অ্যালবেট্রস পাখিদের হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার বৈশিষ্ট্যগুলো তারা হারিয়ে ফেলছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, ‘প্রজনন শর্তগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়া আর খাদ্যের অভাব অ্যালবেট্রস পাখিদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। ফলে তারা একে অপরের সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না। যার ফল শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই গড়াচ্ছে।

এমন প্রবণতা অ্যালবেট্রসের সংখ্যার ওপরও প্রভাব ফেলছে। ২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০-এর দশকের তুলনায় প্রজননক্ষম অ্যালবেট্রস যুগলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফ্রান্সিকো মনে করেন, বৈশ্বিক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যত বাড়বে অ্যালবেট্রস পাখিদের সমাজে এমন বিচ্ছেদের গল্পও তত বাড়বে।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

রিসোর্ট থেকে সাফারি পার্কে ৪ মায়া হরিণ

রিসোর্ট থেকে সাফারি পার্কে ৪ মায়া হরিণ

গাজীপুরের রিসোর্টে পাওয়া গেছে এই মায়া হরিণগুলো। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় রিসোর্টের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তার এই অবকাশ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণী মুক্ত রাখা হবে। তাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে চারটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রার্ণী অপরাধ দমন ইউনিট। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে চিত্রা হরিণের ৫৬টি শিংও পাওয়া গেছে।

ঢাকা বন বিভাগের সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের ওই রিসোর্টে অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় রিসোর্টের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তার এই অবকাশ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণী মুক্ত রাখা হবে। তাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবকাশ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। পরে কর্তৃপক্ষকে বন্যপ্রাণী আইন সম্পর্কে অবহিত করলে তারা এসব প্রাণী ও শিং স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন।’

তিনি জানান, মায়া হরিণগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, হরিণ হত্যা, এর দেহের অংশ সংরক্ষণ, পরিবহন ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

দূষিত ১০০ শহরে বাংলাদেশের ৪টি, ভারতের ৪৬

দূষিত ১০০ শহরে বাংলাদেশের ৪টি, ভারতের ৪৬

বিশ্বের দূষিত ১০০ নগরীর তালিকায় বাংলাদেশে শীর্ষে মানিকগঞ্জ। ফাইল ছবি/এএফপি

দূষিততম শত নগরীর তালিকায় থাকা বাংলাদেশের চারটি শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মানিকগঞ্জ; সামগ্রিকভাবে অবস্থান ১৬তম। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৩তম অবস্থানে রাজধানী ঢাকা, ৬০তম অবস্থানে আজিমপুর ও ৬১তম অবস্থানে রয়েছে শ্রীপুর।

বিশ্বের দূষিততম ১০০ শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকাসহ রয়েছে বাংলাদেশের চারটি শহর। দূষিত নগরীর সংখ্যার দিক থেকে তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ভারত; চরম দূষণের শিকার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিসহ ৪৬টি শহর।

বাতাসের মান নির্ধারণী আইকিউএয়ারের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, বিশ্বের দূষিততম শহর চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের হোতান শহর। আর সবচেয়ে দূষিত ১০টি শহরের মধ্যে বাকি ৯টিই ভারতের, যার শীর্ষে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ। সর্বোচ্চ দূষণে দশম অবস্থানে দিল্লি।

সবচেয়ে দূষিত ১৫টি শহরের মধ্যে নেই বাংলাদেশের কোনো শহর।

দূষিততম শত নগরীর তালিকায় থাকা বাংলাদেশের চারটি শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মানিকগঞ্জ; সামগ্রিকভাবে অবস্থান ১৬তম। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৩তম অবস্থানে রাজধানী ঢাকা, ৬০তম অবস্থানে আজিমপুর ও ৬১তম অবস্থানে রয়েছে শ্রীপুর।

কীভাবে বাতাসের দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়

বাতাসে পিএম২.৫, পিএম ১০, ওজোন গ্যাস, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ও কার্বন মনোঅক্সাইডের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

বাতাসে পিএম বা পার্টিকুলেট ম্যাটার বা ক্ষুদ্র ধাতব কণার পরিমাণ বেশি হলে তা মানবদেহের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। পিএমের আকৃতি নানারকম হতে পারে, সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো পিএম২.৫ আর পিএম১০। পিএম২.৫ কণার ব্যাস ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটারের কম এবং পিএম১০ কণার ব্যাস ১০ মাইক্রোমিটারের কম; যেখানে মানুষের একেকটি চুলের ব্যাস হয়ে থাকে ৫০ থেকে ৭০ মাইক্রোমিটার।

বাতাসে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১২-এর কম হলে তা বিশুদ্ধ বাতাস বলে ধরে নেয়া হয়। পিএম২.৫-এর পরিমাণ ৫৫ থেকে ১৫০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর ও ২৫০ বা এর বেশি হলে হয় বিপজ্জনক।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর কোনগুলো

২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০০ শহর মাত্র ছয়টি দেশের। এর মধ্যে ৯৪টি শহরই ভারত, চীন ও পাকিস্তানের।

আইকিউএয়ারের সূচকে দূষিত নগরীর সংখ্যার দিক থেকে ৪৬টি শহর নিয়ে শীর্ষে ভারত, চীনের ৪২টি, পাকিস্তানের ছয়টি, বাংলাদেশের চারটি, ইন্দোনেশিয়ার একটি ও থাইল্যান্ডের একটি।

সব শহরের বাতাসে পিএম২.৫-এর মাত্রা ৫০-এর বেশি।

দূষণে শীর্ষ হোতানে বাতাসের গুণগত মান সবচেয়ে খারাপ। গত বছর শহরটির বাতাসে পিএম২.৫-এর পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১১০ দশমিক ২।

মানবদেহে বায়ুদূষণের প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে বায়ুদূষণের ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ লাখ মানুষের।

ডব্লিউএইচওর অনুমোদিত মাত্রা ছাড়িয়ে দূষণ হয়, এমন অঞ্চলে বাস বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের।

শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ অসংখ্য স্বাস্থ্য জটিলতার সঙ্গে বায়ুদূষণের যোগসূত্র পাওয়া যায়।

ভারতে দূষণের মাত্রা প্রাণঘাতী

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু ভারতেই।

প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটি সময়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির আকাশ ছেয়ে থাকে ঘন ধোঁয়াশায়। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুই কোটি বাসিন্দার শহরটিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্ধ রাখা হয় সব স্কুল, যেন তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে না হয়।

নয়াদিল্লির বাতাসে ক্ষুদ্র ধাতব কণা, বা পিএম২.৫ পার্টিকেলসের মাত্রা ডব্লিউএইচওর অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৩৪ গুণ বেশি। এই দূষিত কণা মানুষের ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিষাক্ত এ ধোঁয়াশা শীতকালে উদ্বেগজনক রূপ নেয়, কারণ কৃষকদের আগাছা পোড়ানোর সময় এটি।

ভারতের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের ১৫টিই দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। শরৎ ও শীতকালজুড়ে এসব অঞ্চলে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নেয়।

দেশটিতে বাতাসে পিএম২.৫ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে যানবাহন ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া, ময়লা পোড়ানোসহ নানা কারণ।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন

বাড়িতে ইলেক্ট্রিক কার চার্জার রাখার আইন করল যুক্তরাজ্য

বাড়িতে ইলেক্ট্রিক কার চার্জার রাখার আইন করল যুক্তরাজ্য

প্রতীকী ছবি

ভলভো ও জাগুয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন একটি আইন করেছে ব্রিটিশ সরকার। এই আইনের ফলে যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে এখন থেকে নতুন বাড়ি করলেই এতে থাকতে হবে ইলেক্ট্রিক কার চার্জার। সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক ঘোষণায় এ কথা জানান।

বিবিসি জানিয়েছে, কপ-২৬ সম্মেলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এরপর থেকে দেশটিতে শুধু বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বেচা-কেনা হবে। এ লক্ষ্যে তারা সারা দেশে প্রতিবছর অন্তত ১ লাখ ৪৫ হাজার ইলেক্ট্রিক কার চার্জার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। ইতোমধ্যে আইনও পাশ করা হয়েছে।

এর ফলে নতুন কোনো সুপার মার্কেট, অফিস, আদালত ও ভবন তৈরি করলেই এতে ইলেক্ট্রিক কার চার্জার রাখা এখন থেকে বাধ্যতামূলক।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দেশের অর্থনীতিকে সবুজ শিল্প বিপ্লবে রূপান্তর করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। নতুন আইন তারই ধারবাহিকতা।

এদিকে, ভলভো ও জাগুয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর পর থেকে তাদের নির্মিত সব গাড়িই হবে বিদ্যুৎচালিত। তবে, ভক্সওয়াগন, টয়োটা, রিনাল্ট, নিশান ও হুন্দাইয়ের মতো বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি নির্মাণ বন্ধে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
কপ-২৬, খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
জলবায়ু ইস্যুতে চমকে দেয়া মতৈক্য যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
এলিসি প্রাসাদে শেখ হাসিনা
জলবায়ু সম্মেলন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

শেয়ার করুন