স্কুলশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির মামলায় এমপি কারাগারে

স্কুলশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির মামলায় এমপি কারাগারে

যৌন হয়রানি ও এমপি জৌহায়ের মাখলুফের বিরুদ্ধে উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা তিউনিসিয়ায়। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ওই শিক্ষার্থী আরও জানিয়েছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ওই এমপি গাড়িতে বসে তাকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অশালীন ইঙ্গিত করতেন। পরে ওই শিক্ষার্থী ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এবং আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশ্লীল হামলার অভিযোগ তোলে।

স্কুলশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তিউনিসিয়ার পার্লামেন্টের এক সদস্যকে (এমপি) এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এমন হয়রানির প্রতিবাদে মি টু হ্যাশ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আরব বিশ্বের এই দেশটিতে।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী নাইমা চাববৌহ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা শুনানির পর এমপি জৌহায়ের মাখলুফকে অশালীন যৌন আচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।’

অভিযোগে বলা হয়, উপকূলীয় শহর নাবিউলে একটি গার্লস হাই স্কুলের সামনে ২০১৯ সালের অক্টোবরে এমপি জৌহায়ের মাখলুফ তার গাড়ি থামিয়ে যৌনকর্ম (হস্তমৈথুন) করছিলেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী এমপির ছবি মোবাইল ফোনে তুলে রাখেন। পরে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি শেয়ার দেয় সেই ছাত্রী। আর এর পরই যৌন হয়রানি ও ওই এমপির বিরুদ্ধে উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা আরব দেশটিতে।

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ওই শিক্ষার্থী আরও জানিয়েছেন, সে ওই সময় একজন নাবালিকা ছিল, তাই সবকিছু তেমন বুঝত না। ছাত্রীটি আরও জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ওই এমপি গাড়িতে বসে তাকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অশালীন ইঙ্গিত করতেন। পরে ওই শিক্ষার্থী ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এবং আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশ্লীল হামলার অভিযোগ তোলে।

তবে প্রথম থেকেই কলব তৌনেস পার্টি থেকে নির্বাচিত এই এমপি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ৫৮ বছর বয়সী এই এমপি জানান, তিনি ডায়াবেটিকস আক্রান্ত। প্রস্রাবের বেগ সামাল দিতে না পেরে গাড়িতে থাকা পানির বোতলে তিনি প্রস্রাব করছিলেন।

যুগান্তকারী রায়টির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একজন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাজা পেতে হয়েছে।

মাখলুফের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর তার আইনপ্রণেতা পদের জন্যে তাকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

পরে বিক্ষোভ ও জনগণের চাপে আইনপ্রণেতাদের দায়মুক্তির সেই ক্ষমতা বাতিল করে দেয় দেশটির পার্লামেন্ট। এতে তাকে (এমপিকে) বিচারের আওতায় আনার পথ খুলে যায়।

নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেত্রীরা এমন রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী রায় বলে উল্লেখ করেন।

তিউনিসিয়াকে আরব বিশ্বে নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হিসেবে দেখা হয়। দেশটিতে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে পাবলিক স্পেসে বা প্লেসে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে আইন পাস হয়। এই আইনে প্রথম সাজা দেয়া হয়েছে এমপি মাখলুফকে।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অর্থনৈতিক সংকটেও বিপুল বেতন নিচ্ছেন তালেবান নেতারা

অর্থনৈতিক সংকটেও বিপুল বেতন নিচ্ছেন তালেবান নেতারা

আগে থেকেই বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়েছে পড়েছে। ফাইল ছবি/এএফপি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়ালি হাকমাল বলেন, ‘আগের সরকারের বেতন স্কেল অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। একেক বিভাগে একেক রকম বেতন। এর বদল হওয়া দরকার।’

আফগানিস্তানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বেতন হিসেবে বিপুল পরিমাণ টাকা নিচ্ছেন শীর্ষ তালেবান নেতারা। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে সবার চেয়ে বেশি বেতন নেন তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

রোববার আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, বেতন হিসেবে মাসে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ আফগানি নেন হিবাতুল্লাহ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ৯৮ হাজার আফগানি, মন্ত্রীদের বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার আফগানি এবং প্রাদেশিক গভর্নরদের বেতন ৯৭ হাজার ৫০০ আফগানি।

এছাড়া প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বেতন ২৫ হাজার ২০০ আফগানি থেকে ৩০ হাজার ৫০০ আফগানি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের বেতন ১৬ হাজার ৬০০ আফগানি থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৬০০ আফগানি।

এর আগে শনিবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বেতন কমানোর কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়ালি হাকমাল বলেন, ‘আগের সরকারের বেতন স্কেল অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। একেক বিভাগে একেক রকম বেতন। এর বদল হওয়া দরকার।’

চলতি বছরের আগস্টে তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে থেকেই সরকারি বিভিন্ন খাতে বেতন পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মী।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গচ্ছিত শতকোটি ডলার অর্থ জব্দ করেছে আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান প্রশাসন। বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ বিপুল অঙ্কের অনুদান বাতিল করেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে তালেবানশাসিত সরকারকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তহবিল স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও।

এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় তিন মাস পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া শুরু করেছে তালেবান সরকার।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

বন্দুক হামলার ‘প্রতিবাদে’ অস্ত্রসহ সপরিবারে কংগ্রেসম্যান

বন্দুক হামলার ‘প্রতিবাদে’ অস্ত্রসহ সপরিবারে কংগ্রেসম্যান

কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির পোস্ট করা ছবিতে পরিবারের সদস্যদের হাতে এম৬০ মেশিনগান, এআর-১৫ সেমি-অটোমেটিক রাইফেল এবং থমসন সাব-মেশিনগান দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় চার কিশোর নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের মধ্যে কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি এই ধরনের ছবি ছেড়েছেন। টুইটার পোস্টে ওই ছবির ক্যাপশনে কংগ্রেসম্যান লিখেন, মেরি ক্রিসমাস। সান্তা, দয়া করে অস্ত্র-বারুদ নিয়ে আসুন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার টুইটারে পোস্ট করা ওই ছবিতে তাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

কয়েকদিন আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় চার কিশোর নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের মধ্যে কংগ্রেস সদস্য এই ধরনের ছবি ছেড়েছেন।

টুইটার পোস্টে ওই ছবির ক্যাপশনে থমাস ম্যাসি লিখেন, মেরি ক্রিসমাস। সান্তা, দয়া করে অস্ত্র-বারুদ নিয়ে আসুন।

গত মঙ্গলবার স্কুলে নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৫ বছর বয়সী ইথান ক্রাম্বলির বাবা-মাকে আটক করে পুলিশ। ক্রিসমাস উপলক্ষে ছেলেকে অস্ত্র কিনতে দেয়া এবং অস্ত্রের ব্যবহার বিষয়ে তাকে সতর্ক না করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসির পোস্ট করা ছবিতে পরিবারের সদস্যদের হাতে এম৬০ মেশিনগান, এআর-১৫ সেমি-অটোমেটিক রাইফেল এবং থমসন সাব-মেশিনগান দেখা যায়।

কয়েকটি সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানের মতো সম্পূর্ণ অটোমেটিক অস্ত্রের মতো দেখাচ্ছে।

দেশটির আইন অনুসারে মেশিনগানের মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্সধারী নাগরিকদের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এ বিষয়ে টুইটারে ম্যাসির নির্বাচনি প্রচারনাবিষয়ক কর্মকর্তা জনাথান ভ্যান নরম্যানের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ম্যাসির এমন অস্ত্র-সজ্জিত ছবির তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রিপ্রেজেনটেটিভ জন ইয়ারমুথ।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

নাগাল্যান্ডে জঙ্গি ভেবে ১২ সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: বিবিসি

শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিল একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

সন্ত্রাস দমন অভিযানে বেরিয়ে ভুলবশত ‘অনুপ্রবেশকারী জঙ্গি’ ভেবে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে ১২ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে। এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নাগাল্যান্ড প্রশাসন।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিও রিও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘ওটিংয়ে গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।’

মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষীরা শাস্তি পাবে বলে জানান তিনি।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

এদিকে গ্রামের লোকজন তাদের পরিজনদের ফিরে আসতে দেরি দেখে খুঁজতে বেরিয়ে দেখে মিনি পিকআপ ভ্যান ভর্তি লাশ। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বাহিনীর তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়।

সেখানে একজন বিএসএফ জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে বলে অসম রাইফেলসের বিবৃতিতে জানানো হয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রোববারের টুইটে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। নিহতদের পরিবার বিচার পাবে।’

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

ভাইরাল ভিক্ষুর পরিচয় জানা গেছে

ভাইরাল ভিক্ষুর পরিচয় জানা গেছে

২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে তোলা হয়েছিল এই ছবিটি। ডেইলি মেইল

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। কিন্তু এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলার ফেক নিউজ প্রতিরোধ সেল।

কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরছে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছবি। নির্বাণ লাভের পরও তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের প্রতিচ্ছবি দৃষ্টি কেড়েছে নেটিজেনদের।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, সম্প্রতি হিমালয়ের দুর্গম এক পাহাড়ি গুহা থেকে এই প্রাচীন বৌদ্ধ ভিক্ষুর শরীর উদ্ধার করেছে নেপালের কিছু নৃতত্ত্ববিদ ও পুলিশ। পরে একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা করে জানিয়েছে, ওই ভিক্ষুর শরীরে এখনও প্রাণ আছে। আর ফরেনসিক টিমের বক্তব্য হলো- ওই ভিক্ষুর বয়স ২৫০ থেকে ৩০০ বছর হতে পারে। বর্তমানে তিনি সজ্ঞানে নেই। ধ্যানরত অবস্থায় সমাধি লাভ করেছেন। অর্থাৎ শরীরের ভেতর প্রাণ থাকলেও জ্ঞান নেই‌।

আরও দাবি করা হয়, ধ্যানরত ওই ভিক্ষুর পাশ থেকে এক টুকরো কাগজও পাওয়া গেছে। সাংকেতিক ভাষায় ওই লেখাটির মর্মার্থ দাঁড়ায়- ‘সবাই কাঁচা বাদাম বেচলে কিনবে কে?’

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। কিন্তু এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলার ফেক নিউজ প্রতিরোধ সেল।

এ ক্ষেত্রে সবার প্রথমেই বলে নেয়া উচিত, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভিক্ষুর ছবিটির উৎস বের করতে গিয়েই এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তিটি আসলে বৌদ্ধ ভিক্ষু লুয়াং ফোর পিয়ানের। ২০১৭ সালে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

ছবিটি দিয়ে গুগল ইমেজে সার্চ করে দেখা যায়- ২০১৮ সালেও এই ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। এর মধ্যে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ব্যাংককের একটি হাসপাতালে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছিল ৯২ বছর বয়সী ভিক্ষু পিয়ানের।

আরও জানানো হয়, মৃত্যুর দুই মাস পর একটি কফিনের ভেতর থেকে পিয়ানের মরদেহটি তার অনুসারীরা বের করে আনলে ছবিটি তোলা হয়। একটি ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে মরদেহটিকে নতুন পোশাক পরানো হয়।

থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করলেও লুয়াং ফোর পিয়ানের জন্ম হয়েছিল কম্বোডিয়ায়। পরে জীবনের বেশির ভাগটা সময় তিনি থাইল্যান্ডের লবপুরিতে বৌদ্ধ গুরু হিসেবে অতিবাহিত করেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোর এক খবরে বলা হয়, মৃত্যুর দুই মাস পরও ভিক্ষু পিয়ানের শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে, যেমনটি কেউ মারা গেলে ৩৬ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে থাকে।

আরেকটি ব্যাপার হলো, যেসব তথ্যসহ ভিক্ষু পিয়ানের ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তেমন খবরেরও সন্ধান মিলেছে। তবে সেই ভিক্ষুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল ২০১৫ সালে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর থেকে। সে সময় প্রায় অবিকৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, ২০০ বছর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

মিয়ানমারে মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৫

সেনাবাহিনীর হামলার পর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় পড়ে আছেন এক বিক্ষোভকারী। ছবি: এএফপি

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আঘাত পেয়ে আমি একটি ট্রাকের সামনে পড়ে যাই। এক সেনা রাইফেল দিয়ে আমাকে আঘাত করে। তবে আমি সেটি ঠেকাতে সক্ষম হই। পরে আমি পালানোর সময় সে গুলি ছোঁড়ে। সৌভাগ্যক্রমে, আমি পালাতে সক্ষম হই।’

মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে জান্তাবিরোধী মিছিলে সেনাবাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১৫ বিক্ষোভকারী।

রোববার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিন সকালে আয়োজিত সেনা শাসনবিরোধী এক বিক্ষোভ মিছিলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মিছিল শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ির ধাক্কার পর হতাহতরা রাস্তায় পড়ে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আঘাত পেয়ে আমি একটি ট্রাকের সামনে পড়ে যাই। এক সেনা রাইফেল দিয়ে আমাকে আঘাত করে। তবে আমি সেটি ঠেকাতে সক্ষম হই। পরে আমি পালানোর সময় সে গুলি ছোঁড়ে। সৌভাগ্যক্রমে, আমি পালাতে সক্ষম হই।’

তিনি জানান, সেনাসদস্যদের বহন করা একটি গাড়ি মিছিলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরে তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া বিক্ষোভকারীদের ধরে পেটাতে থাকে। অনেকে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।

মিছিলে সেনাদের হামলায় নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জান্তাবিরোধী নিয়ে গঠিত মিয়ানমারের ছায়া সরকার। তবে এ বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য জানায়নি।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী।

রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত প্রায় আট মাস ধরে চরম অস্থিতিশীল মিয়ানমার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, অবরোধ, ধর্মঘট। সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চড়াও হয়েছে বিরোধীরা।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১ হাজার ৫৮ বিরোধিতাকারীর। আটক রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

ফোনালাপে কি নিরসন হবে সৌদি-লেবানন দ্বন্দ্ব

ফোনালাপে কি নিরসন হবে সৌদি-লেবানন দ্বন্দ্ব

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ছবি: রয়টার্স

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী কোরদাহি সৌদি জোটের সমালোচনা করলে সৌদিসহ দেশটির আরব মিত্র রাষ্ট্রগুলো গত মাসে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে। লেবাননের ওপর প্রচণ্ড চাপও সৃষ্টি করে সৌদি সরকার। এমন বাস্তবতায় শুক্রবার কোরদাহি পদত্যাগ করেন।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন নিয়ে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদাহির একটি বক্তব্য ঘিরে দ্বন্দ্ব শুরু হয় দুই আরব দেশের।

কোরদাহি বিদ্রোহী হুতিবিরোধী জোটের সমালোচনা করলে সৌদিসহ দেশটির আরব মিত্র রাষ্ট্রগুলো গত মাসে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।

লেবাননের ওপর প্রচণ্ড চাপও সৃষ্টি করে সৌদি সরকার। এমন বাস্তবতায় শুক্রবার কোরদাহি পদত্যাগ করেন। যদিও চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

রিয়াদ-বৈরুত সম্পর্কের এমন তিক্ততার মধ্যে স্থানীয় সময় শনিবার সৌদির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনালাপ করেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি।

যৌথ এ ফোনালাপকে আরব দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন সংকট সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতার সফর শেষে সৌদি আরবে পৌঁছান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সৌদিতে তার সফর শুরুর দিনে ফোনকলটি দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী।

ফোনালাপ শেষে বৈরুত-রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে ফ্রান্স ও সৌদি আরব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

সৌদি ছাড়ার আগে ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ লেবানন নিয়ে মাখোঁ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লেবাননের জনগণকে সমর্থন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটি যাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমগুলো আবার চালু করতে পারে, তা নিশ্চিত করছি।

‘তাই আমরা চাই লেবানন সরকার একটি স্বাভাবিক উপায়ে কাজ করতে সক্ষম হোক এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিলিত হোক এবং দেশের অভ্যন্তরে কার্যকর সংস্কার নিয়ে আসুক।’

সরকারি দলের ব্যর্থতা ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননকে সহায়তা দেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেছেন, লেবাননকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে একসঙ্গে কাজ করবে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।

বৈশ্বিক পরাশক্তি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে সৌদি-লেবানন সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে, তবে এসব কথাবার্তা আশ্বাসই থেকে যাবে নাকি বাস্তবে রূপ নেবে, তা বোঝা যাবে সময় গড়ালেই।

কেন হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে সৌদি

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে আসছে।

হুতিদের বিদ্রোহকে ইরানের ছায়াযুদ্ধ এবং এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে সৌদি।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন

এরদোয়ানকে হত্যাচেষ্টা ভণ্ডুলের দাবি

এরদোয়ানকে হত্যাচেষ্টা ভণ্ডুলের দাবি

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান

এরই মধ্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে তুর্কি পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে কাজ শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হত্যার চেষ্টা নসাৎ করে দেয়ার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

জেরুজালেম পোস্টের বরাতে তুর্কি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, শনিবার প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার একটি চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন তুর্কি গোয়েন্দারা।

এরদোয়ানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি শোভাযাত্রায় তার নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশের একটি গাড়ি থেকে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে গোয়েন্দারা।

তুরষ্কের দক্ষিণের শহর সিরতে ওই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। শোভাযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ আগেই ঘটনাস্থল থেকে ওই বোমা উদ্ধার করা হয়।

এরই মধ্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে তুর্কি পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে কাজ শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছেন।

দেশটিতে গত এক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে লিরার মান ৪৪ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।

২০১৬ সালে এরদোয়ানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। সে ঘটনায় কমপক্ষে ২৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৪০ জন আহত হন।

তুরস্কের পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতির প্রাসাদেও সে সময় বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। তারপরও সফল হয়নি অভ্যুথানচেষ্টা।

ওই অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুরস্কের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা ফেতহুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে থাকে এরদোয়ান সরকার। তবে গুলেন তা অস্বীকার করে অভ্যুথানচেষ্টার নিন্দা জানান।

আরও পড়ুন:
যৌন হয়রানি রোধে সুপ্রিম কোর্টে কমিটি গঠন
যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কৃষক আটক

শেয়ার করুন