আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফে চারজন নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শাসকদল তালেবানের এক মুখপাত্র। নিহত চার নারীর মধ্যে কমপক্ষে একজন অধিকারকর্মী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের একটি বাড়ি থেকে ওই চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সৈয়দ খোস্তি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে তারাই ওই চার নারীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় অনুসন্ধান চলছে এবং মামলাটি আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানাননি খোস্তি। কিন্তু স্থানীয় কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে একজন নারী অধিকারকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ফ্রোজান সাফি।
তিনটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ওই নারীরা একটি ফোনকল পেয়েছিলেন। ফোনে তাদের তালেবানের শাসন থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছাড়তে সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। বিমানে ওঠার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তারা।
একটি গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই নারীদের একজনকে আমি চিনতাম। তিনি ফ্রোজান সাফি। তিনি নারী অধিকারকর্মী ছিলেন, সারা শহর তাকে চেনে।’
ওই নারী কর্মী আরও জানান, তিনি নিজেও তিন সপ্তাহ আগে একটি ফোন পেয়েছিলেন। ফোনে তাকে দেশের বাইরে যেতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘ফোন করা ব্যক্তি আমার বিষয়ে প্রতিটি তথ্য জানতেন। তিনি আমাকে আমার কাগজপত্র পাঠাতে বলেছিলেন। একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতেও বলেছিলেন। তিনি এমন ভান করেছিলেন যেন তিনি আমার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।’
কিন্তু কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি ফোনদাতাকে ব্লক করে দেন। এখন নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কিত এই নারী। চারজনকে হত্যার খবর জেনে তিনি বলেন, ‘আমি তো আগেই ভয় পেয়েছিলাম।
‘আমার মানসিক অবস্থা ইদানীং খুব খারাপ। আমার সারাক্ষণ মনে হয় যে কেউ আমার বাড়িতে এসে আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাবে আর তারপর গুলি করে দেবে।’
২০ বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে তালেবান; ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বেসামরিক সরকারকে। কঠোর রক্ষণশীল ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি নব্বইয়ের দশকে প্রথম দফায় দেশ শাসন করার সময় নারীদের ওপর কঠিন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ফলে দ্বিতীয় দফায় গোষ্ঠীটি দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরই অনেক অধিকারকর্মী তালেবানের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
যারা থেকে গেছেন আফগানিস্তানে, তাদের অনেকেই অধিকার ফিরে পেতে এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতির দাবিতে রাজধানী কাবুলে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছেন।
অনেক বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা। অননুমোদিত সমাবেশের খবর প্রকাশ করা সংবাদকর্মীদেরও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে তালেবান।
তবে তাই বলে নারী অধিকারকর্মীদের হত্যায় যোদ্ধাদের অনুমতি দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছে তালেবান। হত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের মধ্যে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।’
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আলোচিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজের আদালত এ মামলায় চার্জগঠন করেন। একই সাথে আগামী ৯ জুলাই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদক সৈয়দ আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছিল। আবেদ আলীর ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে দুদক। পিএসসির প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিশাল এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। চার্জগঠনের মাধ্যমে এখন সেই দুর্নীতির বিচারের পথ প্রশস্ত হলো।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগর পাড় ও খালের ধারে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রতিবেশী আবির আলীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়। শিশুর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, শিশুটির পরিবারের বাসার ভাড়াটে আবির আলীই এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি জালাল উদ্দিন জানান যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা সংকেত জারির নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া অফিসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।”
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে নৌযান চলাচল ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে রেললাইনের পাশে থেকে নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার শাহাগোলা রেলস্টেশনের এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশির এর ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার মাথায় গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে দুদক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রত্যর্পণ পত্র পাঠানো হয়েছে। এটি আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই আবেদনটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে এবং প্রক্রিয়াটি সহজ করতে প্রত্যর্পণ আবেদনপত্রটি ইংরেজি ও আরবি—এই দুটি ভাষায় অনুবাদ করে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক কার্যালয়ে আসে। প্রতিনিধিদলটি সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান ও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে দুদকে গঠিত সংশ্লিষ্ট বিশেষ টিমের সঙ্গে বৈঠক করে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার আছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতাসহ কূটনৈতিক ও আইনি চ্যানেলগুলো ব্যবহার করছে সরকার।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করায় হাইকোর্টে যেকোনো দিন মামলাটির শুনানি শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত ১৯ মে পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র ১৯ দিন পর রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই অর্থ ভিকটিম রামিসার উত্তরাধিকারীরা পাবেন। যদি আসামিরা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা ভিকটিমের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখমের ভয়াবহ প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন। অপরাধ সংঘটনে তাদের ভূমিকা এবং তা প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও মামলার নথিপত্র গত ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। সেখানে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপর ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুই আসামি জেল আপিল করেন।
গত ১৪ জুন বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
এরই মধ্যে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিলের শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করেছে হাইকোর্ট।
মন্তব্য