‘সিগারেটের ধোঁয়ার চেয়েও ক্ষতিকর দিল্লির বাতাস’

‘সিগারেটের ধোঁয়ার চেয়েও ক্ষতিকর দিল্লির বাতাস’

দীপাবলির পরে বেড়েছে দিল্লির বায়ু দূষণ। ছবি: এএফপি

রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, দিল্লিবাসীর আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানা না গেলেও দূষণ অবশ্যই আয়ু কমার একটি বড় কারণ। দিল্লিবাসীর ফুসফুস কালো হয়ে গেছে।’

দীপাবলিতে আতশবাজি আর কৃষি জমিতে ফসলের খড় পোড়ানোর ফলে আবারও শ্বাসরোধকারী ধোঁয়াশার কবলে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এছাড়া ভবন ও সড়ক নির্মাণের ধুলা, যানবাহনের গ্যাস এবং আবর্জনা পোড়ানোয় বিষিয়ে উঠছে দিল্লির বাতাস। রাস্তায় বের হলেই জ্বলছে গলা ও চোখ।

দিল্লিতে দীপাবলি পরবর্তী সময়ে বাতাসের গুণগত মান গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। এবার আরও ভয়ের খবর শোনালেন স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিল্লি এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া।

তিনি জানালেন, সিগারেটের ধোঁয়ার থেকেও বেশি ক্ষতিকর দিল্লির বাতাস। এই দূষণের কারণে কমছে রাজধানীবাসীর আয়ু।

রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, দিল্লিবাসীর আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানা না গেলেও দূষণ অবশ্যই আয়ু কমার একটি বড় কারণ। দিল্লিবাসীর ফুসফুস কালো হয়ে গেছে।’

সম্প্রতি অনেকে দাবি করছেন, দিল্লির দূষণের ওপর বাজি ফাটানোর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না।

এ প্রসঙ্গে দিল্লি এইমস প্রধানে বলেন, ‘ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে দূষণ খুব বেশি। দীপাবলিতে বাজি ফাটানোও এতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। উৎসবের সময় রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল অনেকটা বেড়ে যায়, যা দূষণের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।’

গুলেরিয়া বলেন, ‘দূষিত এলাকায় কোভিড আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে। রোগীদের ফুসফুসে ফোলা ফোলা ভাব বেড়ে যেতে পারে। করোনা বাতাসে মিশে থাকা দূষকগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

শনিবার সকালে দিল্লির বাতাসের গুণমান আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোর ৬টার দিকে বাতাসের গুণগত মানের হার ছিল ৫৩৩, এর ফলে ‘অতি ভয়ঙ্কর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে দিল্লির বাতাস।

শহরের নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ ও গ্রেটার নয়ডায় বাতাসের গুণমান আরও খারাপ বলেই জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ও বায়ুর গুণমান পূর্বাভাস ও গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল থেকে দিল্লির আকাশ কিছুটা হলেও পরিষ্কার হবে। তবে বাতাসের গুণমান খারাপ পর্যায়েই থাকবে। দীপাবলির রাতে বাজি ফাটানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল রাজধানীতে। তবে সেসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অনেকেই বাজি ফাটিয়েছেন। এর সঙ্গে ফসলের গোড়ার অংশ পোড়ানোর সমস্যা তো রয়েছেই।

দিল্লিবাসীদের অনেকেই দীপাবলির রাত থেকেই গলা ও চোখ জ্বালা অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে দিল্লি সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি ছিল ভয়ংকর।

ইতোমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তারা যেন বাড়িতেই থাকেন।

রাজধানীর দূষণ কমাতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যে জোড়-বিজোড় পদ্ধতি এনেছিলেন, সেটি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, শীতের শুরু হয়ে যাওয়ায়, তাপমাত্রা কম থাকায় এবং বাতাসের চলাচল কম হওয়ায় বিষাক্ত কণা বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছিই অবস্থান করছে। এ কারণেই কুয়াশার সঙ্গে দূষিত কণা মিশ্রিত হয়ে ঘন ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কিরণ ছড়াচ্ছে সূর্য, আসছে শৈত্যপ্রবাহ

কিরণ ছড়াচ্ছে সূর্য, আসছে শৈত্যপ্রবাহ

চার দিন পর রাজধানীতে দেখা মিলেছে সূর্যের। কিরণ ছড়িয়ে উষ্ণতা ছড়ালেও তাপমাত্রা কমার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। হাতিরঝিল থেকে ছবিটি তুলেছেন নিউজবাংলার প্রতিনিধি আব্দুল জাব্বার খান।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে আসে। আজ দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ থাকবে মেঘমুক্ত। রাতের দিকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকবে। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে শীতের দেখা মিলবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি কুয়াশা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এর প্রভাবে টানা চার দিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পর বুধবার সকালে সূর্যের দেখা মিলছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই শীতের সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শৈত্যপ্রবাহের আগাম বার্তা দিয়ে বুধবার সকালে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে আসে। আজ দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ থাকবে মেঘমুক্ত। রাতের দিকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

‘১২ ডিসেম্বরের মধ্যে শীতের দেখা মিলবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি কুয়াশা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের আকাশ শুষ্ক থাকবে। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে সব সকর্তসংকেত তুলে নেয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, শীতের এই মৌসুমে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ধীরে ধীরে কমবে। মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। দেশের নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত থাকতে পারে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি বা দুটি মৃদু কিংবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

৯০ দিনের মধ্যে তিতাস দখলকারীদের তালিকা চায় হাইকোর্ট

৯০ দিনের মধ্যে তিতাস দখলকারীদের তালিকা চায় হাইকোর্ট

দখলে মরতে বসা তিতাস নদী। ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী এ কিউ এম সোহেল রানা বলেন, ‘তিতাস নদী দখল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ দিই। কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় আমরা হাইকোর্টে রিট করি। আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদী দখলকারীদের তালিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ তালিকা দিতে বলেছে আদালত।

একই সঙ্গে অবৈধ দখল, দূষণ রোধ এবং সীমানা নির্ধারণের বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দিয়েছে।

তিতাস নদী দখলমুক্ত করতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কিউ এম সোহেল রানা।

রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন, তাকে সহযোগিতা করেন মুহাম্মদ রেজাউল করিম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।

আইনজীবী এ কিউ এম সোহেল রানা বলেন, ‘তিতাস নদী দখল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ দিই। কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় আমরা হাইকোর্টে রিট করি। আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন।’

আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ভূমিসচিব, পরিবেশসচিব, পানিসচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়নের বোর্ডের মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘ডুবোচর আবর্জনায় জীর্ণশীর্ণ তিতাস’ শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পত্রিকার সেসব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৩০ নভেম্বর রিট করা হয়।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবেষ্টিত হয়ে আছে তিতাস নদী। এ নদীকে কেন্দ্র করে শহরের অন্যতম বৃহৎ হাট আনন্দবাজার ও জগৎবাজার গড়ে উঠেছিল।

এ নদীর ডুবোচর জেগে ওঠা, দখল আর আবর্জনায় নাব্য হারিয়ে তিতাস এখন জীর্ণশীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। পলি জমে গত দুই দশকে তিতাসের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় লঞ্চের শব্দ আর বড় বড় পালতোলা নৌকার মাঝিমল্লাদের ভাটিয়ালি গানের সুরে ঘুম ভাঙত তিতাসপাড়ের অনেকের। কিন্তু তিন দশকের ব্যবধানে এ নদীর তলদেশে ডুবোচর জেগে উঠেছে। তিতাসের তীরে বিভিন্ন অংশে হয়েছে নির্দয় দখল আর দূষণ। এ কারণে খরস্রোতা নদীটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

হাতি মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনায় মামলা

হাতি মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনায় মামলা

কালীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘সাধনপুরের পাহাড়ি এলাকা লটমণিতে হাতি মেরে মাটি চাপা দেয়ার ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। যারা এ ধরনের কাজ করবে, প্রশাসন তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনবে।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের লটমণি পাহাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে হাতি মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এরা হলেন সাতকানিয়ার এওচিয়া ইউনিয়নের আব্দুল আলিম, নেজাম উদ্দিন ও মো. ইউছুপ।

রোববার বাঁশখালীর বিচারিক হাকিমের আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন কালীপুর রেঞ্জের সাধনপুর বিট কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

সোমবার দুপুরে কালীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘সাধনপুরের পাহাড়ি এলাকা লটমণিতে হাতিকে মেরে মাটি চাপা দেয়ার ঘটনায় তিনজনকে আাসমি করে মামলা করা হয়েছে। যারা এ ধরনের কাজ করবে, প্রশাসন তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনবে।’

সাধনপুর ইউনিয়নের লটমণি ও সাতকানিয়ার পাহাড়ি এলাকায় ধানক্ষেতে পাহারা বসিয়ে হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা হয়। এতে জড়িয়ে হাতি মারা গেলে সেটি সবার অগোচরে মাটি চাপা দেয়া হয়। পরে স্থানীয়রা সেটি দেখতে পেয়ে বাঁশখালী বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানায়। সাফারি পার্ক ও বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক হাতির মরদেহ পরীক্ষা করলে বৈদ্যুতিক শকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর আগে চাম্বলের পাহাড়ি এলাকার ধানক্ষেতেও একটি মৃত হাতি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির অবক্ষয়ে পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: এএফপি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আমাদের খাদ্য, অক্সিজেনসহ অনেক নিত্য প্রয়োজন মেটানো গাছের জন্ম মাটি থেকে। এটি থাকা না থাকার ওপর নির্ভরশীল প্রাণের অস্তিত্ব। অথচ পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এ সম্পদের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে মানুষ। এর ফলে প্রাণ ও প্রকৃতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবেশগত বিপর্যয়ের চাপে আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছি। প্রকৃতিগতভাবে আমাদের নাভিশ্বাস বাড়ছে। কারণ মাটির ব্যবহার আসলে নিয়মতান্ত্রিক হচ্ছে না। আবার ভূমণ্ডলে মাটির আকারও বাড়ানো সম্ভব না। অথচ ক্রমাগত মানুষ বাড়ছে। এর মানে হচ্ছে সীমাবদ্ধ ভূমিতে ক্রমাগত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হচ্ছে এবং নানামাত্রিক ব্যবহারে জমির চাহিদা বাড়ছে।

‘নগরব্যবস্থা গড়ে উঠছে; রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ বাড়ছে। এতে ব্যবহারযোগ্য জমি বা মাটি কমে আসছে। যেটুকু আছে তার সুরক্ষাও আমরা দিতে পারছি না। নানামাত্রিক অপরিকল্পনায় ভূমির অবক্ষয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে গাছপালা কমছে; বনজঙ্গলের পরিধি ছোট হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাব পরিবেশের ওপর এসে পড়ছে।’

মাটির অবক্ষয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আইনুন নিশাত বলেন, ‘এতে বন্যা, খরা, উষ্ণতা বাড়ছে; সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের উর্বর মাটিও লবণাক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর মানে মাটির যে উৎপাদিকা শক্তি ছিল, তা অনেকাংশে কমে আসছে।

‘ফসলের উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই জমি থেকে বারবার খাদ্য উৎপাদনের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।’

বাড়ছে লবণাক্ততা

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ২০০৯ সালের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কারণ হলো মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ১.০৫৬ মিলিয়ন হেক্টর আবাদযোগ্য জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ত। এসব জমির বেশিরভাগ শুষ্ক মৌসুমে পতিত থাকে। বাকি সময়ে জমিগুলোর উৎপাদনশীলতা দেশের অন্যান্য ভূমির তুলনায় সর্বনিম্ন স্তরে।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাটির ওপর নির্বিচার অত্যাচার হচ্ছে; ব্যবহারে চরম অব্যস্থাপনা চলছে। কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে মাটি।

‘কৃষি জমিতে হচ্ছে ইটভাটা; ফাঁকা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে রাসায়নিক। এতে মাটির মাইক্রোস্কোপিক (ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র) উপাদান মইরা শেষ। সবাই মনে করে মাটি জীবনবিহীন, কিন্তু মাটি সার্বজনীন জীবন্ত। এটা তো কেউ মানেই না।’

মাটি বাঁচিয়ে স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বারোপ করে এ অধ্যাপক বলেন, ‘এটা ঠিক, আমাদের ঘরবাড়ি, নালা, বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো সবকিছুরই দরকার আছে, তবে এর সবকিছুই হতে হবে পরিবেশবান্ধব। যা-ই আমরা করিনা কেন, তা মাটিকে বাঁচিয়ে রেখেই করতে হবে, তবেই পরিবেশ ভালো থাকবে।

‘পরিবেশ ভালো না রাখা গেলে মাটির জীবনশক্তি কমে যাবে। এতে গাছপালা, উদ্ভিদ মরে যাবে এবং কমে যাবে। ফসলের উৎপাদনও কমে আসবে। মাটির অপরিকল্পিত ব্যবহার ও জীবনচক্র নষ্ট করে আসলে আমরা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছি। এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য যে খুব খারাপ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বে ৮৩৩ মিলিয়ন (৮৩ কোটি ৩০ লাখ) হেক্টর জমি আছে লবণাক্ত। বাংলাদেশেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটা বড় এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার একর। এই অঞ্চলে শুধু বর্ষাকালেই ধান হয়; বাকি সময়ে আবাদশূন্য থাকে। তাই লবণাক্ত মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করাই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘এর জন্য এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা দরকার যাতে করে লবণ কম হয়। এ রকম ২২টি প্রযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি আমরা, যার ব্যবহারে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

‘আগামীতে এ ধরনের নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে লবণাক্ত অঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়াতে নিরন্তর কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’

লবণাক্ততা কমানোর চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়ে ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন হচ্ছে মৃত্তিকা দিবস। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়, ‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি।’

ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে

ভারতের বিখ্যাত যোগগুরু জগদীশ বাসুদেব ওরফে সাধগুরু বলেন, ‘এই পৃথিবীর মাটির আমরা যে ক্ষতি করেছি, তা সাংঘাতিক। অন্যান্য জিনিস, যেমন: কোথাও বরফ গলছে, সেটা হয়তো দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মাটির যে ক্ষতি আমরা করেছি, তা খুবই ভয়ংকর।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য, অধিকাংশ মানুষ মাটিকে অবহেলা করেন। যখন বুঝতে শেখেন, ততক্ষণে একটু বেশিই দেরি করে ফেলেন। এটাই সর্বনাশের বড় কারণ।’

পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তার উপায় বাতলে দিয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট, মেগাপ্রজেক্ট কিংবা সব ধরনের শিল্প-কারখানা পরিকল্পনামাফিক করা উচিত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অনুমোদন ছাড়া আর কোনো প্রকল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়। কৃষিজমি কেটে ইট ও ইটের ভাটা তৈরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।

‘মাটিকে জীবন্ত রাখতে হবে। মাটিতে থাকা অণুজীবগুলোকে বাঁচাতে হবে। তাহলেই ভূমি উর্বর থাকবে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি শিল্পের পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।’

অভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘আমাদের ঘরও লাগবে, গাছপালা, কৃষিজমি, বাগানও রক্ষা করতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া ভবিষ্যৎ কারও জন্যই নিরাপদ হবে না।

‘নদীভাঙন ও বন্যা ঠেকানোর জন্য শক্তিশালী বাঁধ তৈরি, সার্বক্ষণিক নদীর নাব্য রক্ষা এবং খরা থেকে বাঁচতে সহজলভ্য সেচ ব্যবস্থাই কার্যকর সমাধান আনতে পারে।’

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে তিনি আরও উন্নত প্রযুক্তির পানিশোধন প্রকল্প নেয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের অন্যতম উন্নয়ন লক্ষ্যই হলো টেকসই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়িয়ে এবং মাটির অবক্ষয় কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নির্ধারণ করে কৃষিজমি সুরক্ষা দিয়ে শিল্পোৎপাদন বাড়ানো।

‘একই সঙ্গে শিল্পের পরিত্যক্ত বর্জ্যের ব্যবহারও পরিকল্পিত রাখা, যাতে করে মাটি, পানি ও পরিবেশ বিষময় না হয়। আমরা সবকিছুর মধ্যে সেই ব্যালেন্স রক্ষা করেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ছড়িয়ে পড়েছে ছাই। ছবি: এএফপি

অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরির ঘন ছাইয়ে সূর্য আড়ালে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাউন্ট সেমেরুতে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের ঘন ছাইয়ে সূর্য অনেকটাই আড়ালে পড়েছে। ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আগ্নেয়গিরির ছাই ১৫ হাজার মিটার ওপরে ওঠায় সে বিষয়ে এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করা হয়েছে। এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আশপাশের গ্রামগুলো ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। ঘন ধোঁয়া সূর্যকে ঢেকে ফেলছে। পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা তরিকুল হক বলেন, ‘ওই এলাকা থেকে মালাং শহরের একটি সড়ক ও ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

সমুদ্র থেকে মাউন্ট সেমেরুর উচ্চতা ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে টাস্ক ফোর্স

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে টাস্ক ফোর্স

দিল্লি ও আশপাশ এলাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। ফাইল ছবি

রাজধানীতে দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করতে ভারত সরকার এবং রাজ্যগুলোর অক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার একদিন পর সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বায়ুর গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে একটি ‘এনফোর্সমেন্ট টাস্ক ফোর্স’ গঠন করেছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে ভারত সরকার।

রাজধানীতে দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করতে ভারত সরকার এবং রাজ্যগুলোর অক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার একদিন পর শুক্রবার সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা একটি হলফনামায় সরকার জানিয়েছে, পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স দূষণ নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের অংশ হিসেবে আরও ১৭টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা সরাসরি মূল টাস্কফোর্সকে রিপোর্ট করবে।

এর আগে, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করতো।

সরকার হলফনামায় জানিয়েছে, এই ফ্লাইং স্কোয়াডগুলো ২ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে ২৫টি জায়গায় অতর্কিত পরিদর্শন চালিয়েছে। সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই জাতীয় স্কোয়াডের সংখ্যা ৪০-এ উন্নীত করা হবে।

হলফনামায় বলা হয়েছে, দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের সব স্কুল ও কলেজ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সিএনজি বা বিদ্যুতচালিত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ছাড়া ট্রাকের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের শিল্প ইউনিটগুলো যেগুলো পিএনজি বা ক্লিনার জ্বালানিতে চলছে না তাদের সপ্তাহের দিনগুলোতে দিনে মাত্র ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে এবং সপ্তাহান্তে বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, দিল্লির ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১১টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে।

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার মামুন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিড়াল হত্যার এক বছর পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমান সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরের মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা।

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, ‘দেশে এই প্রথম মেছো বিড়াল হত্যায় শাস্তি হলো। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এসব অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বিচার দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
কয়লা সংকট: অন্ধকারে ডুবতে পারে দিল্লিসহ অনেক শহর
দিল্লির দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত, মন্তব্য হাইকোর্টের
দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪
দিল্লিতে শিশু ধর্ষণ: কড়া অবস্থানে সরকার
ফ্লাইট চালু করতে দিল্লির সম্মতির অপেক্ষায় ঢাকা

শেয়ার করুন