কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ

কুকুরের লেজে বাজির বিস্ফোরণ, লজ্জায় পশ্চিমবঙ্গ

প্রতীকী ছবি

আতশবাজির বিস্ফোরণে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরে একটি কুকুরের পা উড়ে গেছে, ঝলসে গেছে লেজ। মৃত্যুর মুখোমুখি এই প্রাণীকে বাঁচাতে এখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন পশুপ্রেমীরা। এরই মধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। ঘটনার তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি উঠেছে।

দীপাবলিতে বাজির খেলায় অঘটন ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে এমনভাবে উৎসব উদযাপন করা যাবে না বলে আগেই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তারপরও আলোর উৎসবে পৈশাচিক এক ঘটনা হইচই ফেলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

আতশবাজির বিস্ফোরণে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরে একটি কুকুরের পা উড়ে গেছে, ঝলসে গেছে লেজ। মৃত্যুর মুখোমুখি এই প্রাণীকে বাঁচাতে এখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন পশুপ্রেমীরা। এরই মধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। ঘটনার তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি উঠেছে।

যন্ত্রণাকাতর কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে ‘স্ট্রিট পজ’ নামে একটি পশুপ্রেমী সংগঠন।

সংগঠনটির কর্মকর্তা কমলজিৎ সিং বলেন, ‘সম্ভবত চার দিন আগে খরিদা গুরদুয়ারের সামনে কুকুরটির সঙ্গে বর্বরতা হয়েছে। পুরুষ কুকুরটির বাঁ পা পুরোপুরি উড়ে গেছে। আর লেজের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। কুকুরটির বাম চোখের নিচে গভীর ক্ষত হয়েছে। মারাত্মক জখম অবস্থায় কুকুরটিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেন কিছু যুবক। কালীপূজার দিন আমরা ওকে খুঁজে পাই।’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ওষুধ দিলেও পশু চিকিৎসকদের মতামত ছিল অস্ত্রোপচার ছাড়া কুকুরটিকে বাঁচানো সম্ভব নয়। এ জন্য শুক্রবারেই খড়গপুরের নামী চিকিৎসক অসীম দে অস্ত্রোপচার করেছেন।

পশু চিকিৎসক অসীম দে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, শক্তিশালী বাজিতে উড়ে গেছে পায়ের অংশটি। যেভাবে হাড় আলাদা হয়েছে, শিরা-উপশিরা-টিস্যুর ক্ষতি হয়েছে, তা বিস্ফোরণ ছাড়া সম্ভব নয়। কুকুরটির শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। রোববার থেকে অ্যান্টিবায়োটিক চলবে, ওর বেঁচে থাকার বিষয়ে এখন আশা করা যায়।’

কারা এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, পথকুকুরটি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় কেউ পায়ের সঙ্গে আতশবাজি বেঁধে দিয়েছিল। কুকুরটি পালানোর সুযোগ পায়নি বলেই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

স্থানীয় পশুপ্রেমীরা দাবি করেন, যারা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ঘটনাটি নিয়ে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে মামলা হয়নি।

এর আগে কেরালায় আনারসের মধ্যে বোমা ঢুকিয়ে তা হাতির মুখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিল স্থানীয়রা। মেদিনীপুরের সাম্প্রতিক এ ঘটনা লজ্জায় ফেলেছে পুরো রাজ্যকে।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

ম্যাটাডোর ট্রাকে পাথরবোঝাই লরির ধাক্কায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৮ জনের। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত এক ব্যক্তির সৎকারের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণঘাতী এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন স্বজনরা।

রাজ্যের নদীয়া জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাঁসখালি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ নিয়ে একটি ম্যাটাডোর ট্রাক উত্তর ২৪ পরগনার বাগড়া এলাকা থেকে নবদীপ শ্মশানে যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে ম্যাটাডোর ট্রাকটিকে পাথরবোঝাই একটি লরি ধাক্কা দিলে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে।

ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়। আহতদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘন কুয়াশা আর গাড়ির গতি বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনখড়। জোর দিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ধনখড়।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অং সান সু চির। ফাইল ছবি/এএফপি

সু চির বিরুদ্ধে করা কমপক্ষে ১২টি মামলার কোনোটিরই রায় ঘোষণা করা হয়নি এখনও। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী এ নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে তাকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে উসকানির মামলায় রায় হতে পারে মঙ্গলবার। ফলে দুই দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে- কী আছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এ নেত্রীর ভাগ্যে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একগুচ্ছ মামলার মধ্যে উসকানির মামলায় প্রথম রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে সু চির।

প্রায় ১০ মাসে সু চির বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি, প্রতারণা, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা, অবৈধ ওয়াকিটকি আমদানিসহ কমপক্ষে ১২টি মামলা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সবশেষ গত ১৬ নভেম্বের সু চিসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির নতুন অভিযোগ গঠন করা হয়।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলারই রায় ঘোষণা করা হয়নি। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে।

রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা প্রথম মামলায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দিয়েছেন তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শ’র বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

মাঝে মাঝে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত উসকানির মামলাটিতে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। সু চির অপরাধ হিসেবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জনগণকে উসকানি দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্র।

রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর গঠিত বিশেষ আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ছিল। সু চির আইনজীবীদেরও গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সু চিকে নিয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায় বিলম্বিত হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর সু চির বিরুদ্ধে প্রথমে অনিবন্ধিত ওয়াকিটকি রাখা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় মহামারিকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী। এরপর ধাপে ধাপে অন্য মামলাগুলো করে জান্তা।

প্রায় প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সু চি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সাবেক জান্তা সরকারের আমলে ইয়াঙ্গুনে ঔপনিবেশিক আমলে পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িতে অনেক বছর গৃহবন্দি ছিলেন সু চি। সে সময় বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া লাখো জনতার সামনে মাঝে মাঝে বারান্দা দিয়ে দেখা দিতেন তিনি।

বর্তমানে অতি সুরক্ষিত রাজধানীতে অজ্ঞাত স্থানে সু চিকে বন্দি করে রেখেছে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠী। সু চির সঙ্গে আছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী।

এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে সু চির যোগাযোগ নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে শুনানিপূর্ব বৈঠকেই সীমিত।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির অন্য শীর্ষ পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা শেষের দিকে। চলতি মাসেই সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রীকে ৭৫ বছর আর সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দুই যাত্রীর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর তারা করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এমনই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে।

শনিবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই আফ্রিকানের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের শরীরে ‘ওমিক্রন’ মিলেছে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এ পর্যন্ত যে ক’টি ধরনের খোঁজ মিলেছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়। সেই ধরনেই আফ্রিকার এই নাগরিক আক্রান্ত কীনা তা নিয়েই চাঞ্চল্য বেঙ্গালুরুতে।

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দরে অবতরণ করা সংশ্লিষ্ট বিমানে মোট ৫৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই দশটি ‘হাই-রিস্ক’ দেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই বেঙ্গালুরুতে পা রেখেছেন ৯৪ জন। ওই ১০ দেশেই করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে।

কর্নাটক সরকার কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বেশ কয়েকটি কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাইয়ের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে সরকার বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্ক্রিনিং জোরদার করবে এবং কেরালা ও মহারাষ্ট্র থেকে আগতদের জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করবে।

সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে আগতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই দেশগুলো থেকে গত ১৫ দিনে যারা রাজ্যে প্রবেশ করেছে তাদের আবারও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। ছবি: জি নিউজ

তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে। দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

ভারতের মেঘালয় কংগ্রেস ছেড়ে ১১ জন বিধায়ক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা।

বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে তৃণমূল।

কংগ্রেস নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে বলে মনে করছেন দল ত্যাগ করা নেতারা।

তাদের তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে।

‘দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেস মেঘালয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলে মনে করেন এই নেতা। বলেন, ‘দিল্লিকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছিলাম, তাই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’

মুকুল সাংমা বলেন, ‘একমাত্র তৃণমূলই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা রাখে। তাই এ পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি আপ্লুত।’

৬০ আসন বিশিষ্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের বিধানসভায় ৪০ জন বিধায়ক নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। আর কংগ্রেস ১৮ জন বিধায়ক নিয়ে মেঘালয় বিধানসভার বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল।

মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অন্যদিকে তৃণমূল নতুন করে পেয়েছে ১২ জন বিধায়ক। আসন সংখ্যার ভিত্তিতে এখন মেঘালয় বিধানসভায় বিরোধীদল তৃণমূল।

২০১৮ সালে মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা ছিল ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে। কিন্তু ৬০ আসন বিশিষ্ট মেঘালয় বিধানসভায় ২১ টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি কংগ্রেস।

এনপিপি (ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি) বিজেপির ২টি আসন আর আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে এনডিএ। আর বিরোধী দলের আসনে বসে কংগ্রেস। পরে তিনজন কংগ্রেস বিধায়ক শাসক শিবিরে যোগ দিলে কংগ্রেসের বিধায়ক কমে দাড়ায় ১৮ জনে।

এদিকে সর্ব ভারতে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে চলছে তৃণমূল। কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে ত্রিপুরা, আসাম, গোয়া, হরিয়ানার পর মেঘালয় থেকে বিধায়করা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে।

এ সম্পর্কে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাগড়ে সাংবাদিকদের জানান, সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বৈঠকে ঠিক করা হয়, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষিজাত সামগ্রী বিক্রির বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হবে।

একই সঙ্গে, বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলসহ সব বিরোধীদলের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতের জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালের সমীক্ষায়ও পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ সালে এসে এই অনুপাত কমে দাড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল নারীর সংখ্যা।

সম্প্রতি দেশটির জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালেও পুরুষ ও নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ বর্ষে এসে এই অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, বর্তমানে ভারতে প্রতি এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে কন্যাসন্তানের সংখ্যা ৯২৯। ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষায় এ সংখ্যা ছিল এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে ৯১৯ কন্যাসন্তান।

কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যের ওপর হওয়া এই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভারত উন্নত দেশগুলোর দলে নাম লেখাতে চলেছে, এ ফলাফল তারই বহিঃপ্রকাশ। পুরুষের তুলনায় নারীর জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানানো হয়।

এদিকে জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ৮৮.৬ শতাংশ শিশুই জন্মগ্রহণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ভারত ধীরে ধীরে সর্বজনীন প্রাতিষ্ঠানিক জন্মগ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্যে প্রসবের পর নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুও অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব বলেও জানোনো হয়।

ভারতে বর্তমানে ৭৮ শতাংশ মায়েরাই প্রসবের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী যত্ন পেয়ে থাকেন। আগে এই হার ছিল ৬২.৪ শতাংশ। প্রসবের পর নবজাতকের পাশাপাশি মায়েরও যত্ন নেয়ায় দেশে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে জানানো হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও।

এ ছাড়া প্রসবের পরে এক মাসের মধ্যে শিশু বা মায়ের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকায় প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্য নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পৌরসভার স্থগিত নির্বাচন আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ডিসেম্বর ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

আইনি জটিলতায় আটকে ছিল পৌর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা। ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভায় নির্বাচন করাতে চেয়েছিলো রাজ্য সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট একসঙ্গে গ্রহণ করতে আবেদন জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সহসভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন।

কিন্তু গত সোমবার আদালতে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, এই মুহূর্তে রাজ্যে ১২২ টি পৌরসভা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পৌরসভার ভোট করানো সম্ভব নয়। একসঙ্গে ভোট করার মতো ইভিএম মজুত নেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে।

তাই নির্বাচন কমিশনের পথ অনুসরণ করে কয়েক দফায় ভোট গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকার। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।

এর মধ্যে আবার হাওড়া-বালি পৌরসভার বিচ্ছেদ বিলে সই করেননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাই হাওড়াকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন শুধু কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করায় নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দলের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটি শাসক দলের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।’

তবে বিজেপি নেতার মন্তব্যের বিপরীতে রাজ্যসভার সাংসদ ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় জানান, ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। এ সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারের কোনো হাত নেই। সরকার চায় রাজ্যের সব পৌরসভার নির্বাচন দ্রুত হোক।'

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটার যুক্তিটা কী? পাগলা দাশুর রাজত্ব চলছে। বাকিগুলোতে ভোট ঘোষণা করলো না কেন? এই প্রশ্ন থাকবেই। নির্বাচন হবে, আমরা লড়বো। লড়াইয়ের মতো পরিস্থিতি যেন থাকে।’

নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন যেন প্রহসনে পরিণত না হয়। বিনা ভয়-ভীতিতে মানুষ যেন ভোট দিতে পারে। সরকারের কাছে এটাই আবেদন।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবছর থেকেই বাকি রয়েছে রাজ্যের ১১২ টি পৌর সভার ভোট। বিজেপি রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট গ্রহণ একসঙ্গে চাইলেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আজকের বিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবার আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য বিজেপি।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন

সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ মোদি সরকার: সুব্রমানিয়াম

সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ মোদি সরকার: সুব্রমানিয়াম

টুইটে মোদিকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন সাংসদ সুব্রমানিয়াম স্বামী। ছবি: সংগৃহীত

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে টুইটে বিজেপি সংসদ সদস্য সুব্রমানিয়াম স্বামী লেখেন, 'মোদি সরকারের রিপোর্ট কার্ড- অর্থনীতি ব্যর্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যর্থ, আফগানিস্তানে বিদেশনীতি ব্যর্থ, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পেগাসাস সমস্যা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাশ্মীরে হতাশা।' এর জন্য দায়ী কে?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন ব্যর্থ সরকার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সুব্রমানিয়াম স্বামী।

বৃহস্পতিবার একটি টুইটে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদেশনীতির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মোদি সরকারের কাজের একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিটি শাখায় তাকে ব্যর্থ মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

সুব্রমানিয়াম স্বামী প্রায়ই টুইটে মোদি সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য করায় তাকে অনেকবার শাসিয়েছেনও মোদি। এরপর থেকে এ বিজেপি সংসসদ মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে টুইটে তিনি লিখেছেন, ‌‘মোদি সরকারের রিপোর্ট কার্ড- অর্থনীতি ব্যর্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যর্থ, আফগানিস্তানে বিদেশনীতি ব্যর্থ, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পেগাসাস সমস্যা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাশ্মীরে হতাশা।' এর জন্য দায়ী কে?

মোদির রীতিনীতি নিয়ে আলোচনায় থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নিজেদের দলে সুব্রমানিয়াম স্বামী সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্র। সর্বশেষ বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এই বিজেপি নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেও টুইট করেছেন। এতে বলেন, ‘আমি যেসব রাজনীতিবিদের সঙ্গে দেখা করেছি বা যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, রাজীব গান্ধী, চন্দ্রশেখর এবং পিভি নরসিমা রাও। তাদের কথা ও কাজের কোনো পার্থক্য নেই। ভারতীয় রাজনীতিতে এটি বিরল গুণ।'

মমতার সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপি সংসদ সদস্যকে টিএমসিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি শুধু বলেছিলেন, তারা সব সময় একসঙ্গে আছেন।

স্বামী এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিলেও সেই বৈঠক থেকে অনেক অর্থ টানা হচ্ছে। কারণ বিজেপি নেতৃত্ব স্বামীকে নিয়ে খুশি নয়। এর মূলেও রয়েছে প্রায়ই মোদি সরকারকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে তাকে বিড়ম্বনায় ফেলা। স্বামীর সমালোচনা বিরোধীদের কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করার সুযোগ দেয় বলে মনে করেন অনেক বিজেপি নেতা।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপের জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রুমানা

শেয়ার করুন