× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
In the United States 6 people were trampled to death in a concert
hear-news
player
google_news print-icon

যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্টে পদদলিত হয়ে নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রে-কনসার্টে-পদদলিত-হয়ে-নিহত-৮
হিউস্টন ফায়ারের প্রধান স্যামুয়েল পেনা সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাপার ট্র্যাভিস স্কট যখন পারফর্ম করছিলেন তখন মঞ্চের দিকে মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে একটি মিউজিক ফেস্টিভালে পদদলিত হয়ে অন্তত আটজনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টার পর পরই অ্যাস্ট্রোওয়ার্ল্ড ফেস্টিভালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান হিউস্টন ফায়ারের প্রধান স্যামুয়েল পেনা।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, র‌্যাপার ট্র্যাভিস স্কট যখন পারফর্ম করছিলেন তখন মঞ্চের দিকে মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের ভিড়ের চাপ মঞ্চের সামনের দিকে আসতে থাকে। তখন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে আহত হতে থাকেন।লোকেরা ঢলে পড়তে শুরু করে, অনেকে অজ্ঞান হয়ে যান এবং এটি অতিরিক্ত আতঙ্কের সৃষ্টি করে।’

অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ওই কর্মকর্তা জানান, চাপ ও পদদলিত হয়ে কয়েকজন আহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কনসার্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কর্তকর্তারা জানান, ওই ঘটনায় আহত ১৭ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১১ জনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া, কনসার্টস্থল এনআরজি পার্কে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে অনেককে চিকিৎসা দেয়া হয়।

কনসার্টটিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমাগম হয়েছিল বলে জানান অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তা পেনা।

কনসার্টের রাতটিকে ‘ভয়াবহ রাত্রী’ বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ হ্যারিস কাউন্টির বিচারক লিনা হিদালগো।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। মানুষজন এসব অনুষ্ঠানে যান ভালো একটা সময় কাটাতে, হাফ ছেড়ে বাঁচতে এবং স্মৃতি জমাতে। এগুলো এমন কোনো অনুষ্ঠান নয়, যেখানে হতাহত আপনার প্রত্যাশায় থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন:
তরুণ শিল্পীকে বাঁচাতে ঢাবিতে কনসার্ট
সৌদি আরবের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরবকে ৬৫ কোটি ডলারের অস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র
১০ বছরে এক হাজার পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করবে চীন
কিশোর অপরাধী থেকে নিউ ইয়র্কের মেয়র কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাডামস

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Amazon deforestation has slowed but deforestation has not stopped

উজাড় কমলেও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হয়নি আমাজনে

উজাড় কমলেও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হয়নি আমাজনে ব্রাজিলে আমাজন বনের উজাড় করা একটি অংশ। ছবি: এএফপি
আইএনপিই জানায়, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে আমাজন বনের ১১ হাজার ৫৬৮ বর্গকিলোমিটার অংশ উজাড় হয়েছে, যা আয়তনে মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপ কাতারের চেয়েও বড়। ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে ১১ শতাংশ বেশি বন উজাড় হয়েছিল।

আমাজনের ব্রাজিল অংশে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে বন উজাড় কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মহাকাশ সংস্থা আইএনপিই।

স্থানীয় সময় বুধবার সংস্থাটি এ তথ্য দিয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত বনটি সংরক্ষণে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাসের মধ্যেই এমন তথ্য প্রকাশ করল আইএনপিই।

সংস্থাটি জানায়, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে আমাজন বনের ১১ হাজার ৫৬৮ বর্গকিলোমিটার অংশ উজাড় হয়েছে, যা আয়তনে মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপ কাতারের চেয়েও বড়।

২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে ১১ শতাংশ বেশি বন উজাড় হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর শাসনামলে ওই মেয়াদে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বন ধ্বংস হয়।

এক বছরের ব্যবধানে বন উজাড় কমে যাওয়া নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লাইমেট অবজারভেটরির প্রধান মার্সিও অ্যাস্ত্রিনি বলেন, ‘ (বন উজাড়ের) পরিসর বাড়ার চেয়ে কমা ভালো, তবে এখনও ব্যাপ্তিটা অনেক বড়—১৩ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।’

পরিবেশবিদদের ভাষ্য, বলসোনারোর চার বছর মেয়াদে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে আমাজন।

সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বন উজাড় করে কৃষিভূমি তৈরি ও শিল্পায়নের নামে পরিবেশ ও আদিবাসীদের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেন।

আইএনপিই তাদের প্রতিবেদনে জানায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলসোনারোর অধীনে বার্ষিক বন উজাড় আগের চার বছরের তুলনায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। আগের দশক থেকে তার আমলে বন উজাড় বেড়েছে ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
খাওয়ার সময় প্রাণ হারাল ‘সৈকত বাহাদুর’
কুমিল্লায় ডিবির গাড়িতে হামলা, গুলিবিদ্ধ ১ ‘ডাকাত’
৮০ শতাংশ গাড়ি আসে মোংলা বন্দর দিয়ে: বারবিডা 
তিন শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে প্রকল্প

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
First phase of voting begins in Modis Gujarat

মোদির রাজ্যে শুরু প্রথম দফার ভোট

মোদির রাজ্যে শুরু প্রথম দফার ভোট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত
মোদি-শাহের রাজ্যের ৪ কোটি ৯১ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রথম দফায় ভোট দেবেন ২ কোটি ৩৯ লাখ জন। দ্বিতীয় দফায় উত্তর ও মধ্য গুজরাটের ৯৩টি আসনে ভোট হবে সোমবার। আর গণনা হবে ৮ ডিসেম্বর।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য গুজরাটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

গুজরাটের মোট ১৮২টি বিধানসভার আসনের মধ্যে প্রথম দফায় কচ্ছ-সৌরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ গুজরাটের ১৯টি জেলার ৮৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে। ভোট চলবে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত। এতে ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৭৮৮ জন প্রার্থীর।

গুজরাতের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর জানিয়েছে, মোদি-শাহের রাজ্যের ৪ কোটি ৯১ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রথম দফায় ভোট দেবেন ২ কোটি ৩৯ লাখ জন। দ্বিতীয় দফায় উত্তর ও মধ্য গুজরাটের ৯৩টি আসনে ভোট হবে সোমবার। আর গণনা হবে ৮ ডিসেম্বর।

২০১৭ সালের বিধানসভার ভোটে এই ৮৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৪৮টি আসনে জিতেছিল। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা জিতেছিল ৪০টিতে। পরে কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেন। এবার ভোটের লড়াই ত্রিমুখী। কংগ্রেস এবং বিজেপির পাশাপাশি রয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি।

সম্প্রতি সুরাতসহ কয়েকটি শহরের পুরভোটে কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি। এবারের ভোটে কেজরিওয়াল ধারাবাহিকভাবে গুজরাটজুড়ে প্রচার করেছেন। তার দাবি, বিধানসভা ভোটেও বিজেপির মূল লড়াই হবে আম আদমি পার্টির সঙ্গে।

২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে গুজরাটে ৯৯টি আসনে জিতে টানা পঞ্চমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর সেটাই ছিল বিজেপির সবচেয়ে কম আসনপ্রাপ্তি। অন্যদিকে, ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে ৭৭টি আসনে জিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেককেই চমকে দিয়েছিল কংগ্রেস। নির্দল এবং অন্যরা পেয়েছিল ৬টি আসন। এবার ষষ্ঠবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার বিষয়ে আশাবাদী বিজেপি।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
IS reported the death of the top leader

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস

শীর্ষ নেতা নিহতের খবর জানাল আইএস পতাকা হাতে আইএস যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি
আইএসের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুদ্ধে সংগঠনের শীর্ষ নেতা আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি নিহতের ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) বা আইএস।

সংগঠনটির এক মুখপাত্র বুধবার জানান, ইরাকের নাগরিক আল-কুরাশি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আবু ওমর আল-মুহাজের নামের ওই মুখপাত্র। তিনি দলের নতুন নেতা হিসেবে আবু আল-হুসেইন আল-হুসেইনি আল-কুরাইশির নাম ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নিহত হন আবু হাসান আল-হাশিমি আল-কুরাশি।

আইএসের প্রধানকে হত্যা নিয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র কর্নেল জো বুচিনো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার দা’রা প্রদেশে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এ অভিযান চালায়। এ অঞ্চলের জন্য (সিরিয়া) আইএসআইএস হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। সেন্টকম ও মিত্রদের নজর আইএসআইএসের স্থায়ী পরাজয়ে।’

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আইএসের প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-কুরাশি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন আবু হাসান আল-কুরাশি। আইএসের সদ্য নিহত এ নেতা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আল-কুরাশিকে ছদ্মনাম মনে করা হচ্ছে, যেটি গ্রহণ করেছেন আইএসের বিভিন্ন নেতা।

আরও পড়ুন:
বিএমএতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে রয়েল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টাডিজ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
বিস্ফোরণে কাঁপল আফগানিস্তান, অন্তত ৩৯ মৃত্যু
নতুন নেতার নাম ঘোষণা করল আইএস
কুরায়শি নয়, ছবিটি বাগদাদির

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Russia announced the terms of peace talks

শান্তি আলোচনার শর্ত জানাল রাশিয়া

শান্তি আলোচনার শর্ত জানাল রাশিয়া ২৪ নভেম্বর পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনারা। ছবি: এএফপি
মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ শুরু করার জন্য কোনো পূর্বশর্ত আছে কি না, জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, ‘এ জন্য আসলে রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যে দাবিগুলো তুলে আসছি, সেগুলো নিয়ে আলোচনার মানসিকতা রাখতে হবে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা তখনই শুরু হতে পারে যখন সংলাপের জন্য কিয়েভের প্রকৃত ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ দেখতে পাবে মস্কো। চলতি মাসের শুরুর দিকে পেসকভ জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাশিয়া নারাজ।

মস্কোয় সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার এ কথা জানান পেসকভ। মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ শুরু করার জন্য কোনো পূর্বশর্ত আছে কি না, জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, ‘এ জন্য আসলে রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যে দাবিগুলো তুলে আসছি, সেগুলো নিয়ে আলোচনার মানসিকতা রাখতে হবে।’

নভেম্বরের মাঝামাঝি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জোর গলায় বলেছিলেন, ইউক্রেন এমন কোনো চুক্তি করবে না যেটা কার্যকরের পর রাশিয়া লঙ্ঘন করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে যথাক্রমে জার্মানি এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় মিনস্ক-১ এবং মিনস্ক-২ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। চুক্তি শর্তের মধ্যে ছিল, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুগানস্ক অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদার দিতে হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নে কিয়েভের ব্যর্থতা উল্লেখ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জি-২০ সম্মেলনে জেলেনস্কির মন্তব্যের বিষয়ে পেসকভ বলেন, ‘ইউক্রেন যে আলোচনায় রাজি না সে বিষয়ে মস্কো পুরোপুরি নিশ্চিত।’

বালিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্বোধন করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ১০ দাবি তোলেন। তার মতে এগুলো পূরণ হলে, যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে রাশিয়ান বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।

নভেম্বরের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন ব্যক্তিগতভাবে চাইছে যে কিয়েভ যেন রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে। তারপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই বক্তব্য রাখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কারণে উদ্বিগ্ন ছিল যে ‘অসংলগ্ন’ অবস্থানের কারণে পশ্চিমা সমর্থন হারাতে পারে কিয়েভ। বিষয়টাকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ক্রমবর্ধমান ‘ইউক্রেন ক্লান্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কিয়েভকে আলোচনায় আনার বিষয়ে ওয়াশিংটন সিরিয়াস ছিল না। বাইডেন প্রশাসন কেবল ইউক্রেনে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিতের চেষ্টা মনোযোগী ছিল।

আরও পড়ুন:
সেনা হত্যায় কড়া প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
শিডিউল জটিলতায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিল: মোমেন
জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করলেন ঋষি সুনাক
এবার ইউক্রেনের গ্যাস প্ল্যান্টে রুশ হামলা  
রুশ ক্ষেপণাস্ত্রে পোল্যান্ডে প্রাণহানি: বসছেন ন্যাটো নেতারা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Afghanistan school explosion kills 10

আফগানিস্তানের স্কুলে বিস্ফোরণ, নিহত ১০  

আফগানিস্তানের স্কুলে বিস্ফোরণ, নিহত ১০  
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল নাফি টাক্কুর বলেন, ‘তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী হামলার তদন্ত করছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন সাজা দেয়া হবে।’

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। সামাঙ্গন প্রদেশের আইবাকে বুধবার বিস্ফোরণটি ঘটে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এসব নিশ্চিত করেছেন

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তারা বলছেন, বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন।

কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থনা শেষে ছাত্ররা যখন বের হচ্ছিল, ঠিক তখন বিস্ফোরণ ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই স্কুলের ছাত্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল নাফি টাক্কুর বলেন, ‘তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী হামলার তদন্ত করছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন সাজা দেয়া হবে।’

গত বছর তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তান কয়েক ডজন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে। বেশিরভাগেরি দায় নিয়েছে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের স্থানীয় শাখা।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
২০ বছর যুদ্ধের পর সেই আফগানিস্তানেই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে আফগানদের বিশ্বকাপ দল
মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চায় না আফগানরাই, তালেবান মন্ত্রীর দাবি
গ্যালারিতে পাকিস্তানিদের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারল আফগানরা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Police clash with protesters in Guangzhou China

চীনের গুয়াংজুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

চীনের গুয়াংজুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চীনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি। ছবি: এএফপি
চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই, রাজধানী বেইজিং ও অন্য শহরগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভের পর গুয়াংজুতে সংঘর্ষকে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে সবচেয়ে বড় অসহযোগ আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের শিল্পোৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজুতে করোনাভাইরাসজনিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুয়াংদং প্রদেশের রাজধানীতে মঙ্গলবার রাতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান করোনাবিধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাই, রাজধানী বেইজিং ও অন্য শহরগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিক্ষোভের পর গুয়াংজুতে সংঘর্ষকে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে সবচেয়ে বড় অসহযোগ আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টুইটারে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরা পুলিশ সদস্যরা ঢাল দিয়ে দৃশ্যত ইট-পাথর ঠেকাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদস্যরা একদল মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে অজানা কোনো এক স্থানে নিয়ে যান।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ভারী বস্তু ছুড়ছেন স্থানীয়রা।

অন্য এক ভিডিওতে সরু রাস্তায় সমবেত লোকজনের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। ওই সময় ধোঁয়া থেকে বাঁচতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দেয়ার আহ্বান ইরানের
খামেনির বিরুদ্ধে এবার তার ভাগনি সোচ্চার
হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার
চীনে করোনা বিধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছে
এবার ইরানের জাতীয় সংগীতে গ্যালারি থেকে ‘দুয়ো’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Messi is part of the Saudi billion dollar project

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি সফরে যান মেসি। ছবি: এএফপি
সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে সৌদি আরব। এটি ছিল গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি ছিল মাঠের বাইরে একটি যুদ্ধের পটভূমি, যা আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে চলবে।

সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির মালিকানাধীন স্পোর্টস ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদের সঙ্গে মেসির গাঁটছড়া ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শক্তি জোগাবে। আর সে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এরপর ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ ঠিক করতে চলতি বছরের জুনেই বিডিং উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজক দেশের নাম চূড়ান্ত হবে ২০২৪ সালে ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে।

এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেনের যৌথ উদ্যোগের বিডিং নিশ্চিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই দেশ তিনটি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। তবে আরও দুটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার কথা।

এর একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলির যৌথ উদ্যোগ। অন্যটি সৌদি আরব, মিশর ও গ্রিসের। একাধিক দেশের যৌথ আয়োজক হিসেবে বিডে অংশগ্রহণের ফলে ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে।

২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিড খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলে মনে করছেন এর কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অজস্র প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যারা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ ছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। এর ১০০তম বার্ষিকীতে ২০৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকাই হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।’

১৯৩০ সালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের বিষয়টি ২০১৭ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে, যখন বার্সেলোনার সতীর্থ উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাদের দেশের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হন। দুই দেশের মধ্যে একটি ম্যাচের আগে সুয়ারেজ যে জার্সি পরেন তার সামনে ২০ এবং মেসির জার্সিতে ৩০ সংখ্যাটি লেখা ছিল।

পরের বছর ফার্নান্দো মারিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সঙ্গে মেসি যোগ দেবেন এবং সুয়ারেজ তো অবশ্যই। আমরা তাকে (মেসি) আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছি এবং তিনি মনে করেন এটা সম্ভব। তিনি আমাদের সাহায্য করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পতাকাবাহী হবেন।’

তবে গত মে মাসে ঘটনার নতুন বাঁক তৈরি হয়। বর্তমানে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার সৌদি আরবের প্রচারের দায়িত্ব নিতে একটি আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করেন।

প্রথম কথাটি হলো, চুক্তিটি হয়েছে সৌদির পর্যটন-সংক্রান্ত প্রচারের জন্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিডের প্রসঙ্গ সেখানে নেই।

তবে সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলো দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি ভাষ্যগুলোতে একে ‘সৌদি আরবকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার একটি অনন্য রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নীলনকশা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিড সৌদি আরবের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে মনে হয় এবং পর্যটনের প্রচার সেই লক্ষ্যটি অর্জনে অনেকভাবে সাহায্য করবে।

অন্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল- পিআইএফের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব নিউকাসল ইউনাইটেডকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে এলআইভি গলফ ব্রেকওয়ে ট্যুরকে সহায়তাদান। এ ছাড়া ১০ বছরের জন্য ফর্মুলা ওয়ান রেসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০১৯ সালে অ্যান্টনি জশুয়া এবং অ্যান্ডি রুইজের হেভিওয়েট বক্সিং আয়োজনের জন্য ৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি।

সৌদিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন ডেনিস হোরাক। তিনি বলেন, ‘বিনোদন ও ক্রীড়ায় এই বিপুল অংশগ্রহণ সৌদির ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় অংশ। এলআইভি গলফ (সৌদি আরবের অর্থায়নে) এবং এখন এগুলোর সঙ্গে মেসির মতো তারকাদের উচ্চমূল্যে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং আরও বৈশ্বিক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী সৌদির সুনাম বাড়াতে হবে এবং এসবের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছে।’

মেসির চুক্তির মেয়াদ এবং শর্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো সৌদি পর্যটনের প্রচারে কাজ করার জন্য প্রতিবছর ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছে, মেসির সঙ্গে সৌদির চুক্তিটির আর্থিক মূল্য রোনালদোকে দেয়া প্রস্তাবের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সৌদি এজেন্সিগুলোর তৎপরতার বিভিন্ন উদাহরণ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। যেমন এলআইভি গলফ ট্যুরে টাইগার উডসকে ভেড়াতে ৭০-৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন৷

মেসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, গোপনীয়তার শর্তের কারণে তারা চুক্তির পরিসংখ্যানগত দিকগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

মেসি গত মে মাসে লোহিত সাগরের তীরের রিসোর্ট শহর জেদ্দায় ভ্রমণের সময় প্রথমবার তাকে সৌদির পর্যটনদূত হিসেবে প্রচার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেসিকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এক টুইটে লেখেন, ‘সৌদি আরবে এটি তার প্রথম সফর নয় এবং এটি শেষও হবে না।’

পরে ইয়টে সূর্যাস্ত দেখার সময়কার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি।

ইনস্টাগ্রামে ছবির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘লোহিত সাগরের বুকে #ভিজিটসৌদি’। ইনস্টাগ্রামে মেসির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৭ কোটি। পোস্টটিতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সহায়ক সংস্থা ভিজিট সৌদির ‘পেইড পার্টনারশিপ’ লেবেল যুক্ত ছিল।

মেসি পরে সৌদির সহকারী পর্যটনমন্ত্রীর প্রিন্সেস হাইফা আল-সৌদের সঙ্গে পুরোনো জেদ্দা সফরে যোগ দেন।

প্রিন্সেস হাইফা পরে টুইটারে লেখেন, ‘এই শহরের অন্তর্নিহিত রূপ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি তার (মেসি) মুগ্ধতা দেখে আমি আনন্দিত।’

ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে এখন মেসির একটি ল্যান্ডিং পেজ রয়েছে। এর শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘লিওনেল মেসি চান আপনি নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ-সন্ধানী সত্তাকে উন্মোচন করুন এবং অকল্পনীয় দিকগুলো উদ্ঘাটন করুন।

‘আপনি নতুন বা পুরোনো কিছু আবিষ্কার করতে অথবা শুধু নিজের ভেতরে নতুন কিছু জাগানো- যে উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করুন না কেন, সৌদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সন্তুষ্টি জোগাবে। তাহলে আর কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এখনই আপনার অ্যাডভেঞ্চারের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।’

সৌদি আরবের প্রচারে মেসির এই অবস্থান ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে তার নিজের দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মেসির সাপোর্ট টিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে পর্যটন প্রচারের চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি কতবার সৌদি সফরে যাবেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তারা এমন একটি দেশের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চেক নেয়ার বিষয়ে মেসির প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যে দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আছে ভিন্নমতাবলম্বী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা, নারী অধিকারকর্মী ও এলজিবিটি গোষ্ঠী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) শাসনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন।

মানবাধিকার সংস্থা ইউনিসেফ গত বছর জানায়, প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। মেসি ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের একজন ‘শুভেচ্ছাদূত’।

মেসির প্রতিনিধিরা ইয়েমেন বিরোধের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, একই সঙ্গে ইউনিসেফও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেসির অগণিত অংশীদারত্বের মধ্যে একটি হলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের হয়ে খেলা, যেখানে তিনি ৩ কোটি ইউরোর বেশি আয় করেন। এটি কাতারের সঙ্গে যুক্ত একটি তহবিলের মালিকানাধীন ক্লাব, যে দেশটির বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মেসি সম্প্রতি ক্রিপ্টো ফ্যান টোকেন ফার্ম সোসিওস-এর প্রচারের জন্য ২ লাখ ডলারের চুক্তি করেছেন, পাশাপাশি তিনি এনএফটিভিত্তিক গেম সোরারেও একজন বিজ্ঞাপনী মুখ। এ ছাড়া তিনি আডিডাস, পেপসি, বাডওয়াইজার, ওরেডু, প্রো অ্যাভ্যুলিউশন সকার, লুই ভ্যুইতন, ইসরায়েলি কোম্পানি ওরক্যাম, দ্য দুবাই এক্সপো-২০২০, তার নিজস্ব শো সার্ক দ্যু সোলেইল এবং চীনা দুগ্ধ কোম্পানি মেংনিউ-এর সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিন গত মে মাসে যে অনুমান প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, গত বছর মেসি ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

সৌদি নাগরিক খালিদ আল-জাবরির বোন সারা এবং ভাই ওমর বর্তমানে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি। খালিদ আল-জাবরির বাবা সৌদি আরবের একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

দ্য অ্যাথলেটিক-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খালিদ অভিযোগ করেন, তার বাবা ড. সাদ আলজাবরির ওপর চাপ দেয়ার জন্য কারাবন্দি দুই ভাইবোনকে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি সরকার।

খালিদ বলছেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান দেশকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মেসির দূতের ভূমিকা এতে অবদান রাখছে।

‘মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সময় তাকে (মেসি) দেখতে আমরা একসঙ্গে জড়ো হতাম। তিনি বিশ্বে সুপরিচিত এটাই একমাত্র কারণ নয়, দেশের ভেতরেও সবাই তাকে ভালোবাসে। ফুটবলের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঈশ্বরের ঠিক পরেই। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা (সৌদি সরকার) সেই কেন্দ্রবিন্দুটিতে আঘাত করেছে।’

মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরব সফর করেন।

তার ফ্লাইট অবতরণের পর ভক্তদের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। ভিড়ের চাপ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের একজনের বন্দুকের নল ঘটনাক্রমে মেসির মুখের দিকে ঘুরে গিয়েছিল।

তারপর থেকে সম্পর্কটি ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তুর্কি আল-শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটানো।

বিশিষ্ট সৌদি রাজনীতিক ও স্প্যানিশ লা লিগা ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়ার মালিক আল-শেখকে ২০২০ সালের মে মাসে অনলাইনে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি।

উপলক্ষটি ছিল সৌদি ফুটবল ক্লাব আল-নাসর এফসির সাবেক সভাপতি সৌদ আল-সুওয়াইলেমের বিপক্ষে একটি চ্যারিটি প্লেস্টেশন ফুটবল ম্যাচে আল-শেখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সৌদি আরবের অভাবী মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। সেখানে মেসি ছাড়াও ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সাবেক ব্রাজিল তারকা কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং রোনালদিনহো, ইতালীয় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। চার্লি শিনের মতো বিখ্যাত অভিনেতা এবং র‌্যাপার স্নুপ ডগও বার্তা দিয়েছিলেন।

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী খাশোগজিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে ওই হত্যায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল।

খাশোগজির মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি সাক্ষাৎকার পরে নিউজউইকে প্রকাশ হয়। সেখানে খাশোগজি বলেন, ‘তুর্কি আল-শেখ এবং সৌদ আল-কাহতানি ছাড়া মোহাম্মদ বিন সালমানের আর কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা গুণ্ডা প্রকৃতির। মানুষ তাদের ভয় পায়। তুর্কি আল-শেখ খেলাধুলার দায়িত্বে আছেন। গুজব রয়েছে খেলাধুলার পেছনে ব্যয় এবং তরুণদের এতে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য মিডিয়া অপারেশন এবং প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন সৌদ আল-কাহতানি। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে খাশোগজি হত্যার চক্রান্তে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি আদালত ২০১৯ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আল-শেখ ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার প্রচণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানোর দায়িত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার ক্ষমতা সংহত করতে সৌদি আরবের শত শত ধনী ব্যবসায়ীকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। ওই সময়ে আল-শেখ অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেন। পরে ঘটনাটিকে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়।

সৌদি স্পোর্টস কমিশন পরিচালনার সময় আল-শেখ ক্রীড়ায় অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি ২০১৯ সালে সৌদিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আয়োজন করেন।

মেসিও প্রকাশ্যে ৪০তম জন্মদিনে আল-শেখকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াদে তার বাড়িতে ঘুরতে যান।

জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আল-শেখ ২০২২ সালের রিয়াদ সিজনের (একটি বিনোদন উৎসব) বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে মেসির ছবি ব্যবহার করেন। এসব বিলবোর্ড লন্ডন, দুবাই ও নিউকাসলে স্থাপন করা হয়।

পিএসজির জার্সিতেও রিয়াদ সিজনের প্রচার চালানোর একটি ভিডিওতেও দেখা যায় মেসিকে।

এটি বিশেষ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পিএসজির সঙ্গে যুক্ত দেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আল-শেখ কাতারের উপর সৌদি অবরোধের কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ ছিলেন। এমনকি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, কাতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া উচিত।

অবশ্য পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেসির অন্য কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করায় বাধা নেই। পাশাপাশি গত বছর থেকে সৌদি ও কাতারের সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন রোববার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দুই পাশে বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে বসতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অটোয়ার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ২০১৮ সালে কানাডার রাষ্ট্রদূত হোরাক সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি তার মূল্যায়নে সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন।

হোরাক বলেন, বিন সালমান সৌদির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা রাজনীতিকদের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। তবে খাশোগজির হত্যা, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গীকে তার শাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়।

আল-শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রভাবের কথা শুনেছি। তাকে নিশ্চিতভাবে রাজকীয় ব্যবস্থায় মোহাম্মদ বিন সালমানের অতি ঘনিষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘তিনি (আল-শেখ) অবশ্যই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এবং মেসিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিন সালমান অবশ্যই পছন্দ করবেন। তার (মোহাম্মদ বিন সালমান) চোখে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান উপলব্ধির আরেকটি সুযোগ ঘটাবে এই বিষয়টি। তিনি বুঝবেন সৌদি বিচ্ছিন্ন কোনো মরুরাজ্য নয়।

‘আন্তর্জাতিকভাবে মেসির যে প্রোফাইল রয়েছে, সেটি সৌদিকে স্বাভাবিকতার একটি বৃহত্তর অনুভূতি দেবে। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ২০৩০ সালে তাদের বিশ্বকাপ বিডের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।’

হোরাক বলেন, ‘খাশোগজি হত্যার কারণে মোহাম্মদ বিন সালমান ব্র্যান্ডটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের ব্র্যান্ডও কলঙ্কিত হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের সেলিব্রিটিদের কাছে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি করা যাবে এবং সে অনুযায়ী সৌদি আরবের ব্র্যান্ডটিকে আবারও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব হবে।’

সৌদি কারাগারে বন্দি দুই স্বজনের ভাই খালিদ আল-জাবরি বলেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়দের একটি দলের অংশ হিসেবে সৌদিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ দেশের শাসকদের নৃশংসতার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভক্তদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমার সমস্যা হলো মেসি নিজেকে সৌদি স্পোর্টস ওয়াশিংয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

‘তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি।

কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে সৌদি আরবে মেসির সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

সেই সংবাদ সম্মেলনে মেসির আগমনকে ওহ, আহা ধ্বনি এবং ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন করতালি দিচ্ছিলেন।

ব্যস্ত ওই মিডিয়া সেশনে দ্য অ্যাথলেটিক কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায়নি। মেসি এক ডজনেরও বেশি প্রশ্ন নিয়েছিলেন, তবে তার একটিও সৌদি আরবকে নিয়ে প্রচার চালানো বিষয়ক চুক্তি সংক্রান্ত ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকান বা আরব মিডিয়া থেকে এসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রোববার সন্ধ্যায় ইনফান্তিনোর পাশে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বসার দৃশ্য সৌদির সামনে আরও একবার আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই জুটিকে গত সপ্তাহে জি টোয়েন্টি সম্মেলনে বালিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগেও তারা একসঙ্গে বক্সিং ম্যাচ দেখেছেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে সৌদি আরবের বিডকে ফিফা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। সৌদিরা ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক দেশ হতেও একটি বিড জমা দিয়েছে, এটিও ভিশন ২০৩০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ।

বিশিষ্ট আর্জেন্টাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথোপকথনে মেসিকে ঘিরে সমালোচনায় অস্বস্তি মৃদু আকারে হলেও বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে আর্জেন্টিনার আগ্রহের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে মেসি সাহায্য করছেন, এটি অদ্ভুত লাগছে কিনা- এমন প্রশ্নে তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এটা ঠিক, তবে… আপনি জানেন না শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।

‘আপনি নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চান, তবে এ জন্য অনেক কিছু করতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক নির্বাচনের সময় কী ঘটছে আমরা দেখতে পাব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা আবারও আমাদের দেশে এই আয়োজন দেখতে চাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন বলেন, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে মেসির এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। তিনি একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছেন। মেসি নিজেই একটি ব্র্যান্ড এবং এটি খুব শক্তিশালী।

‘তিনি সমস্ত ফুটবলের জন্য একটি ব্র্যান্ড, কোনো দেশের নয়। তিনি ২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিডের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
এখনও ক্রীতদাস
পদ্মা সেতু নিয়েছে জমি, দিয়েছে অহংকার
কী ঘটেছিল জিয়ার মৃত্যুর পর
যে গ্রামে অপরাধ কম, কালেভদ্রে পুলিশ  
অ্যামাজন, গুগল ও অ্যাপলে নিউজবাংলা পডকাস্ট

মন্তব্য

p
উপরে