১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পানির চিহ্ন

১৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পানির চিহ্ন

আলমা টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রাপ্ত এ ছবিতে SPT0311-58 ছায়াপথের ভেতরে আণবিক কণা ও ধুলার আস্তরের রেখা দৃশ্যমান। ছবি: ডেইলি মেইল

যে এলাকায় পানির আণবিক কণা পাওয়া গেছে, অর্থাৎ SPT0311-58, সেটি দুটি ছায়াপথের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১৭ সালে প্রথম সেটি দেখতে পান আলমা গবেষকরা। এটি পৃথিবী থেকে এক হাজার ২৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ যে আলোটা বিজ্ঞানীরা এখন দেখছেন, সেটির জন্ম এক হাজার ২৮০ কোটি বছর আগে। সময়টি বিজ্ঞানে পরিচিত রিআয়নিজেশন যুগ বলে। মহাবিশ্বের বয়স যখন বর্তমানের ১০০ ভাগের পাঁচ ভাগ মাত্র, সে সময়কে বলা হয় রিআয়নিজেশন যুগ। ওই সময়ে প্রথম নক্ষত্র ও ছায়াপথগুলো সৃষ্টি হয়েছিল।

পৃথিবী থেকে এক হাজার ২৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পানির চিহ্ন শনাক্তের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। আবিষ্কারটি সঠিক প্রমাণিত হলে এটি হবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে এবং পৃথিবীর বাইরে পানির প্রথম সন্ধান।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ৭৮ কোটি বছর, যে সময় জন্ম নেয়া বিশাল ছায়াপথ SPT0311-58-এ মিলেছে বেশ কয়েকটি আণবিক কণা।

চিলির আতাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (আলমা) টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আণবিক কণাগুলো যে পানির, সে প্রমাণ মিলেছে। প্রাচীন ছায়াপথটিতে চিহ্নিত অণুগুলো হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অণু।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, অণুগুলো সৃষ্টি হয়েছিল বহুকাল আগে। হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন বা হিলিয়াম হাইড্রাইড থেকে আরও জটিল রাসায়নিক রূপ নিয়েছে সেগুলো।

নক্ষত্রের জীবদ্দশার শেষ দিকে সেটির কেন্দ্রীয় বস্তুর উপাদান হিলিয়াম ও হাইড্রোজেনের চেয়ে ভারী হয়ে যায়। এই হিসাবে গবেষণা থেকে ধারণা মেলে, ছায়াপথটির জন্মলগ্নের অনেক নক্ষত্র সৃষ্টি হয়ে ধ্বংসও হয়ে গেছে এবং নক্ষত্রগুলোর মৃত্যুর ৮০ কোটি বছরের মধ্যে অণু তৈরি হয়েছে।

পৃথিবী, সূর্য, সৌরজগৎ ও মানবজীবন সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের সব তত্ত্বের সঙ্গেই মেলে এ ধারণা।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর পর আণবিক গ্যাস নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত ও জটিল গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত নতুন গবেষণাটি। পানির অণুর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পাশাপাশি কত দ্রুত মহাবিশ্ব বদলেছে, সে বিষয়েও এ গবেষণার মাধ্যমে ধারণা মিলেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

যে এলাকায় পানির আণবিক কণা পাওয়া গেছে, অর্থাৎ SPT0311-58, সেটি দুটি ছায়াপথের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১৭ সালে প্রথম সেটি দেখতে পান আলমা গবেষকরা।

এটি পৃথিবী থেকে এক হাজার ২৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ যে আলোটা বিজ্ঞানীরা এখন দেখছেন, সেটির জন্ম এক হাজার ২৮০ কোটি বছর আগে। সময়টি বিজ্ঞানে পরিচিত রিআয়নিজেশন যুগ বলে।

মহাবিশ্বের বয়স যখন বর্তমানের ১০০ ভাগের পাঁচ ভাগ মাত্র, সে সময়কে বলা হয় রিআয়নিজেশন যুগ। ওই সময়ে প্রথম নক্ষত্র ও ছায়াপথগুলো সৃষ্টি হয়েছিল।

এখন পৃথিবী থেকে এক হাজার ২৮০ কোটি বছর আগের যে আলো দেখা যাচ্ছে, সে আলোতে দুটি ছায়াপথের মিলন ঘটছে বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছে। ছায়াপথ দুটির ভেতরে দ্রুতবেগে নক্ষত্র গঠিত হচ্ছে এবং তারা ছায়াপথের গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে তারা একজোড়া বিশাল উপবৃত্তাকার ছায়াপথে পরিণত হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক শ্রীবাণী জারুগুলা বলেন, ‘আলমা টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ছায়াপথ দুটির জোড়ায়, অর্থাৎ SPT0311-58-এ, আণবিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছি। দুটি ছায়াপথেরই বড় অংশে পানি আর কার্বন মনো-অক্সাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’

এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রধান গবেষক আরও বলেন, ‘অক্সিজেন ও কার্বন খুব প্রাথমিক উপাদান। পানি ও কার্বন মনো-অক্সাইডে এ দুটি উপাদান আণবিক রূপে উপস্থিত থাকে। প্রাণের জন্য দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

SPT0311-58 বর্তমানে সর্ববৃহৎ ছায়াপথ, যার জন্ম মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রাথমিক লগ্নেই। অন্য যেকোনো ছায়াপথের চেয়ে এটিতে গ্যাস ও ধুলার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ছায়াপথের মাধ্যমে আরও অনেক বিচ্ছিন্ন আণবিক কণা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রাণ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ এসব উপাদান মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত কী প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়েও বিশদ তথ্য দিতে পারে ছায়াপথটি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মানুষ বেশি বাঁচলে সমাজের ক্ষতি: ইলন মাস্ক

মানুষ বেশি বাঁচলে সমাজের ক্ষতি: ইলন মাস্ক

ইলন মাস্কের মতে, মানুষের মারা যাওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ মানুষ আজীবন নিজের মন-মানসিকতা অপরিবর্তিত রাখেন, এরপর তারা মারা যান। এ কারণে মানুষ অমরত্ব পেলে সমাজ স্থবির হয়ে যাবে। তখন নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনা সাফল্যের মুখ দেখবে না।

টেসলা ও স্পেসএক্স কোম্পানিতে নিজের ব্যস্ততা কিছুটা কমলে মানব প্রজাতিকে কীভাবে মহাজাগতিক প্রাণীতে পরিণত করা যায়, সেই চেষ্টা করেন ইলন মাস্ক। তবে মানুষকে অমর করার প্রযুক্তি খোঁজায় তার কোনো আগ্রহ নেই।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সিইও কাউন্সিল সামিটে ইলন মাস্ক বলেন, ‘বার্ধক্য প্রতিরোধে কোনো গোপন প্রযুক্তি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। কারণ মানুষ বেশি দিন বাঁচলে সমাজের জন্য মঙ্গলজনক কিছু হবে না।’

মাস্কের মতে, মানুষের মারা যাওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ মানুষ আজীবন নিজের মন-মানসিকতা অপরিবর্তিত রাখেন, এরপর তারা মারা যান। এ কারণে মানুষ অমরত্ব পেলে সমাজ স্থবির হয়ে যাবে। তখন নতুন কোনো চিন্তা-ভাবনা সাফল্যের মুখ দেখবে না।

তিনি দাবি করেন, বাস্তব প্রমাণ সামনে আনলেও মানুষ তাদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করে না। এটি ৫০ বছরের নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লক্ষ করা গেছে। এজন্য মানুষ অমরত্ব লাভ বা দীর্ঘ জীবন সমাজের জন্য ক্ষতিকর হবে। এটি ঘটলে মানুষের জ্ঞান বিকশিত হওয়ার বদলে স্থবির হয়ে পড়বে।

দেশ নেতাদের অল্প বয়সী হওয়া উচিত বলেও মনে করছেন মাস্ক।

তিনি বলছেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে কিছু মানুষ আছেন, যারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। এসব সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই এ ক্ষেত্রে বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মনের অধিকারী হওয়া দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ৭৯ বছর, তিনি জন্মেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। শেষ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস ছেড়েছেন ৭৪ বছর বয়সে।

মাস্কের মতামত হলো, এই দুজনের কেউ-ই ওভাল অফিস ধরে রাখতে সক্ষম নন।

ইলন মাস্ককে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভাবনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কোম্পানির মালিক তিনি। সম্প্রতি জেফ বেজোসকে হটিয়ে ধনীদের তালিকায় শীর্ষে চলে এসেছেন। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ২৯৭ বিলিয়ন ডলার।

শেয়ার করুন

চিকিৎসক, সাইক্লিস্ট যাবেন মহাকাশে

চিকিৎসক, সাইক্লিস্ট যাবেন মহাকাশে

ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য নতুন ১০ জন শিক্ষানবিশ নভোচারী নিয়োগ দিয়েছে নাসা। ছবি: এএফপি

১২ হাজার আবেদনকারী থেকে ১০ জন ট্রেইনি নভোচারীর নাম ঘোষণা করে নাসা। জানুয়ারি থেকে তাদের টেক্সাসের জনসন স্পেস সেন্টারে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেখানে তাদের দুই বছরের ট্রেনিং চলবে।

মহাকাশে নতুন নতুন অভিযানের জন্য ১০ জন ট্রেইনি নভোচারী নিয়োগ দিয়েছে নাসা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইক্লিস্ট, চিকিৎসক, পাইলটসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

১২ হাজার আবেদনকারী থেকে সোমবার ১০ জন ট্রেইনি নভোচারীর নাম ঘোষণা করে নাসা। জানুয়ারি থেকে তাদের টেক্সাসের জনসন স্পেস সেন্টারে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেখানে তাদের দুই বছরের ট্রেনিং চলবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, ‘আমরা আবার চাঁদে যাচ্ছি। আমরা মঙ্গলে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আমরা নতুন ১০ অভিযাত্রীকে স্বাগত জানাই।’

যে ১০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের বয়স ৩২ থেকে ৪৫ এর মধ্যে। তাদের এখন কঠিন ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে কীভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়, মহাশূন্যে কীভাবে হাঁটতে হয়, রোবোটিক বিষয়াদি শেখানো হবে তাদের। এ ছাড়া ট্রেনিং জেট টি-৩৮ চালানোর পাশাপাশি শেখানো হবে রুশ ভাষা, যাতে প্রতিপক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

ট্রেনিংয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের পাঠানো হতে পারে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের বিভিন্ন অভিযানে বা মহাকাশের গভীর কোনো অভিযানে।

এসব অভিযানের মধ্যে আছে চলতি দশকের শেষ দিকে চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানের নাম আর্টিমিস মিশন। এই মিশনের মধ্য দিয়ে চাঁদে প্রথম কোনো নারী এবং সাদা চামড়ার বাইরে কারোর পদচিহ্ন ফেলবার চেষ্টা করছে নাসা।

এই প্রথম আবেদনের মাধ্যমে নভোচারী নিয়োগ দিল নাসা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে যাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিতের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে, মূলত তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। মেডিক্যাল ডিগ্রি আছে বা যাদের পাইলট টেস্ট সম্পন্ন আছে, তারাও আবেদন করতে পেরেছিলেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে অনলাইন টেস্ট শেষে ১০ জনকে ট্রেইনি নভোচারী হিসেবে বেছে নিয়েছে নাসা।

নিয়োগ পাওয়াদের একজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জেসিকা উইটার। তিনি বলেন, ‘আমি খুব ছোট থেকেই নভোচারী হতে আগ্রহী ছিলাম। আমি যখন ছোট্ট বালিকাটি ছিলাম, তখনই স্কুলের পার্কে রকেট নিয়ে খেলা করতাম। বিজ্ঞানের ক্লাস আমার খুব ভালো লাগত।’

নিয়োগ পাওয়া আরেকজন হলেন যুদ্ধবিমানের পাইলট নিকোল আয়ারস। দুই শর বেশি ঘণ্টা যুদ্ধবিমান পরিচালনায় অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। যে কয়েকজন নারীর সর্বাধুনিক এফ-২২ ফাইটার জেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের মধ্যে আয়ারস একজন। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো নারীদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি এয়ারক্রাফটের নেতৃত্ব দেন তিনি।

ট্রেইনি নভোচারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিক্সের সহযোগী অধ্যাপক ৩৮ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস। তিনি ক্যানসারে রেডিয়েশন থেরাপি নিয়ে গবেষণা করছেন।

নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে নাসার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৪৫ বছর বয়সী অনিল মেননের। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এই কর্নেল এর আগে নাসার স্পেসএক্সের প্রথম ফ্লাইট সার্জন হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

চিকিৎসক অনিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তার মা-বাবা ভারত ও ইউক্রেনের। ২০১০ সালে হাইতি ভূমিকম্প, ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্প এবং ২০১১ সালে রেনো এয়ার শো দুর্ঘটনায় কাজ করেছেন তিনি।

চিকিৎসক, সাইক্লিস্ট যাবেন মহাকাশে
সাইক্লিস্ট ক্রিস্টিনা বির্চও রয়েছেন ১০ জনের তালিকায়

১০ জনের দলে ডাক পাওয়া ক্রিস্টিনা বির্চের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে একাধিক ডিগ্রিধারী। গণিত, বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার বায়োফিজিক্সে ডিগ্রির পাশাপাশি বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট করেছেন তিনি।

তবে এসবে ক্যারিয়ার গড়েননি ক্রিস্টিনা। নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সাইক্লিস্ট হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাক সাইক্লিস্ট দলের পরিচিত মুখ ছিলেন ক্রিস্টিনা। খেলেছেন অলিম্পিকে। জিতেছেন বিশ্বকাপ মেডেল।

নভোচারী গড়া নিয়ে নাসার শেষ কোর্স সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালে। ওই ব্যাচের দুজন রাজা চারি ও কায়লা ব্যারন বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে রয়েছেন।

শেয়ার করুন

কাব্য প্রতিভায় তাক লাগালো রোবট আই-দা

কাব্য প্রতিভায় তাক লাগালো রোবট আই-দা

আই-দা ও তার নির্মাতা আইদান মিলার। ছবি: সংগৃহিত

মিলার নিজেই তার বানানো রোবটের কাব্য রচনার দক্ষতায় মুগ্ধ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এত দুর্দান্ত, আপনি যদি তার লেখা কবিতা পড়েন তবে বুঝতেই পারবেন না যে এটি কোনো মানুষের লেখা নয়।'

যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ আসে, তখন ‘দ্য টারমিনেটর’, ‘আই রোবট’, ‘ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড’, ‘ব্লেড রানার’ সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজগুলোতে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা মনে পড়ে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক চরিত্র হিসেবে যেমন টার্মিনেটর ছিল আর ম্যাট্রিক্স সিনেমায় ছিল সেইন্টিনল।

এইচবিওর ‘ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড’ সিরিজে তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ভিকটিম হিসেবে দেখানো হয়।

এর পরেও সিনেমা ও বিনোদন জগতে শুরু থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভালো প্রযুক্তি দেখানোর চেয়ে খারাপ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে সব সময়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মানুষের ভীতি কাজ করে। তাই মানুষ কখনোই সেভাবে শিল্প, সাহিত্যের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রাসঙ্গিক ভাবেনি।

তবে আই-দা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট কিন্তু সবাইকে ভিন্নভাবে ভাবতে শেখাবে। কারণ আই-দাই প্রথম কোনো রোবট শিল্পী ও কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

মহান ইতালীয় কবি দান্তে আলিঘিয়েরির মৃত্যুর ৭০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে আই-দা তার লেখা কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের শোনায়। সে দান্তের মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে তার নিজস্ব ডেটা ব্যাংক এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দান্তের বক্তৃতার প্যাটার্ন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’র প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাব্য রচনা করে।

আই-দা হলো অক্সফোর্ডের প্রকৌশলী আইদান মিলারের উদ্ভাবিত উচ্চ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট।

মিলার নিজেই তার বানানো রোবটের কাব্য রচনার দক্ষতায় মুগ্ধ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এত দুর্দান্ত, আপনি যদি তার লেখা কবিতা পড়েন তবে বুঝতেই পারবেন না যে এটি কোনো মানুষের লেখা নয়।'

শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন আই-দা তার কবিতা পড়ছিল তখন তিনি সিএনএনকে বলেন, ’তার সঙ্গে ভাব বিনিময় করলে আপনি ভুলেই যাবেন, আপনি একজন রোবটের সঙ্গে কথা বলছেন।'

‘আই-দা’ প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে মিলার ও তার দল খেয়াল করেন, আসলে মানুষ কতটা কৃত্রিম। আর রোবট কতটা মানবিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মিলারের মানুষ সম্পর্কে চিন্তাভাবনাই বদলে যায়।

আই-দা শুধু কবিতাই পড়তে ও লিখতে জানে না, ছবিও আঁকতে জানে। গত অক্টোবরে মিসরে দান্তেকে উপজীব্য করে তার আঁকা চিত্রকর্মের একটি প্রদর্শনীও হয়ে গেছে। তবে সে সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি করা হবে, এমন সন্দেহে আই-দার চোখে লাগানো ক্যামেরা খুলে নেয়।

‘এতেই স্পষ্ট হয় মানুষ প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে কতটা ভীতির চোখে দেখে’, সিএনএনকে এমনটাই বলেছেন মিলার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা। যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়ে যন্ত্র বা বিশেষায়িত কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রকাশ করার পদ্ধতি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

শেয়ার করুন

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, 
থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত রোবট মাছ। ছবি: ডেইলি মেইল

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অতি ক্ষুদ্র রোবটটি দেখতে ঠিক মাছের মতো। ক্যানসার প্রতিরোধে এবার এই রোবট মাছকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। কেমোথেরাপির সঙ্গে এই বস্তুটিকে সরাসরি টিউমারে পাঠানো হবে। কেমোথেরাপিতে শরীরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, এই পদ্ধতিতে তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি ক্ষুদ্র রোবট মাছগুলো আয়তনে এক মিলিমিটারের ১০০ ভাগের এক ভাগের সমান। বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে একটি জেল থেকে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এক দল চীনা বিজ্ঞানী। ভিন্ন পিএইচ মাত্রায় গেলে এরা আকৃতি পরিবর্তন করে।

আবিষ্কারের পর রোবট মাছটিগুলোকে আয়রন অক্সাইড সল্যুশনে চুবিয়ে রেখে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এগুলোর মধ্যে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেমো চিকিৎসায় এই চৌম্বক শক্তিকেই কাজে লাগানো হবে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এই মাছগুলোকে প্রথমে রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে চৌম্বক শক্তি এদের নিয়ে যাবে টিউমারের কাছে।

ক্যানসার কোষগুলো টিউমারের চারপাশের রক্তরসে থাকা পিএইচ লেভেলকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেমোর ওষুধ নিয়ে সেখানে হাজির হবে রোবট মাছ। পরে ভিন্ন পিএইচ মাত্রার সংস্পর্শে যাওয়ায় এগুলোর আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে। এক পর্যায়ে এরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেমোর ওষুধ মুখ হা করে ছেড়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মাছগুলোর এমন আচরণ কাচের পাত্রে পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এগুলোর আকৃতি আরও ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শারীরিক অস্বস্তি ও চুল পড়ে যাওয়া এর অন্যতম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোবট মাছ শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই নিশানা করবে, এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকবেন রোগীরা।

শেয়ার করুন

বিবাহিত নারী-পুরুষের ১৮ মাসেই ‘নিরানন্দ জীবন’

বিবাহিত নারী-পুরুষের ১৮ মাসেই ‘নিরানন্দ জীবন’

দাম্পত্য জীবন মানেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য বোঝাপড়া, আর খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত জীবনে মানুষ অনেক ভাবে বদলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বদল মানুষের আগের চরিত্রের একদম বিপরীত। কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকতে প্রতিদিন বহুমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। অংশীদারি জীবনে খাপ খাইয়ে চলার এই নিরন্তর সংগ্রামে নিজেদের খাঁটি ব্যক্তিত্ব আর টিকে থাকে না।

বিয়ের আগে যেকোনো প্রেমময় সম্পর্ক ঘিরে থাকে সীমাহীন ভালোবাসা ও উত্তেজনার গভীর অধ্যায়। সঙ্গীর ভুলগুলোও তখন মনে হয় অত্যন্ত মধুর, প্রতিশ্রুতি থাকে আজীবন সেই ভুলগুলো মাথায় তুলে রাখার।

তবে বিয়ের পরেই ঘটে ছন্দপতন। দাম্পত্য জীবন মানেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য বোঝাপড়া, আর খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ। অনেকেই বলেন, মধুচন্দ্রিমা পার হলেই শুরু হয় আসল ‘বিবাহিত জীবন’। সঙ্গীর যেসব ‘মধুর ভুল’-এ মুগ্ধ হয়ে প্রেমের শুরু, বিবাহিত জীবনে সেগুলোই হয়ে ওঠে ‘গলার কাঁটা’। অনেকে এমনও বলেন, বেশির ভাগ দাম্পত্য জীবনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে সমঝোতা ও দায়িত্বের বোঝা, আর ‘গভীর প্রেম’ পালিয়ে যায় জানালা দিয়ে।

দাম্পত্য জীবন কি সত্যিই এতটা ফ্যাকাশে? আমরা চাইলেও কি বিয়ের আগে যেভাবে কেটেছে, সেভাবেই দাম্পত্যকে আমৃত্যু মধুরতম রাখতে পারি? বিয়ের পরেও কি থাকা যায় আগের মতোই প্রাণচঞ্চল?

এসব প্রশ্নের খুব বেশি স্বস্তিকর জবাব নেই মনোবিজ্ঞানীদের কাছে। উল্টো তারা বলছেন, বিয়ের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই বদলে যায় মানুষ। এই বদলে যাওয়া ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়, এমনকি জিনগত বৈশিষ্ট্যও আটকে রাখতে পারে না ব্যক্তিত্বের রূপান্তর।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ জর্জিয়ার ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাস্টিন ল্যাভনারের নেতৃত্বে এক দল গবেষক দাবি করছেন, বিয়ে মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্বকে প্রচণ্ড বদলে দেয়।

কিছু কিছু মনোবিদ মনে করেন, মানুষের বৈশিষ্ট্য ও আচরণ মূলত জিনগত ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর সঙ্গে শৈশবের পরিবেশেরও বড় প্রভাব রয়েছে। তাদের ধারণা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর মানুষের আচরণ ও বৈশিষ্ট্যে বড় ধরনের আর কোনো পরিবর্তন ঘটে না।

তবে ল্যাভনারের দলের গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত জীবনে মানুষ অনেক ভাবে বদলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বদল মানুষের আগের চরিত্রের একদম বিপরীত। কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, দম্পতিরা এক সঙ্গে থাকতে প্রতিদিন বহুমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। অংশীদারি জীবনে খাপ খাইয়ে চলার এই নিরন্তর সংগ্রামে নিজেদের খাঁটি ব্যক্তিত্ব আর টিকে থাকে না।

গবেষণায় ১৬৯ দম্পতিকে বেছে নিয়ে তাদের বিবাহিত জীবনের তিনটি পর্যায়ে কিছু প্রশ্নের জবাব নেয়া হয়েছে। বিয়ের ছয় মাস, ১২ মাস এবং ১৮ মাসে এসব প্রশ্নের জবাব থেকে বৈবাহিক জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনের মাত্রা পরিমাপ করেছেন গবেষকেরা।

একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ে ‘বিগ ফাইভ’ তত্ত্ব বেশ জনপ্রিয়। এই তত্ত্বে ব্যক্তিত্বের পাঁচটি মৌলিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। এগুলো হচ্ছে- অকপটতা (ওপেননেস), সুবিবেচনা (কনসিয়েনসেচনেস), বহির্মুখীনতা (এক্সট্রাভার্সন), অন্যের মতকে গ্রহণের ক্ষমতা (এগ্রিয়েবলনেস) এবং মানসিক অস্থিরতা (নিউরটিকিজম)। সহজে মনে রাখার জন্য বিগ ফাইভকে ইরেজিতে বলা হয় ওশান (OCEAN)।

ল্যাভনারের দলের গবেষণায় বিয়ের আগে-পরে নারী-পুরুষের ব্যক্তিত্বে বিগ ফাইভের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সবচেয়ে খারাপ খবর হলো, প্রেম উপচে পড়া স্বামী-স্ত্রীকে বিয়ের মাত্র দেড় বছর বা ১৮ মাস মধ্যেই দেখা গেছে উল্টো চেহারায়।

অকপটতা: ১৮ মাসে স্ত্রীদের অকপট চরিত্রে রীতিমতো ধস নামতে দেখেছেন গবেষকেরা। তারা বলছেন, বিয়ে পরবর্তী একঘেয়ে জীবন পরিচালনার প্রয়োজনেই সম্ভবত নারীর জীবনে এমন পরিবর্তন।

সুবিবেচনা: বিবাহিত জীবনে স্বামীদের আগের চেয়ে ‘বিবেচক’ হয়ে উঠতে দেখেছেন গবেষকেরা, তবে এক্ষেত্রে স্ত্রীদের অগ্রগতি বলতে গেলে শূন্য। গবেষকদের ধারণা, সংসার জীবনে নির্ভরতা ও দায়িত্বশীলতার চাপ থেকেই হয়ত পুরুষ ‘সুবিবেচক’ হয়ে উঠতে বাধ্য হয়।

বহির্মুখীনতা: গবেষণায় দেখা গেছে বিয়ের প্রথম দেড় বছরে স্বামীরা লাগামছাড়া জীবনের পরিবর্তে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে ওঠেন। আরও কয়েকটি গবেষণাতেও এসেছে, বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক নেটওয়ার্ক অনেক সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।

অন্যের মতকে গ্রহণের ক্ষমতা: বিয়ের পর ধীরে ধীরে দম্পতিদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হতে দেখা গেছে গবেষণায়। সামান্য বিষয় নিয়েও বিবাদে জড়িয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। এ ক্ষেত্রে স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর দ্বিমত করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। বিয়ের পর সময় যত গড়িয়েছে স্ত্রীরা তত বেশি নিজেদের মতকে জাহির করতে চেয়েছেন।

মানসিক অস্থিরতা: বিয়ের পর মানসিক স্থিতি পেতে স্বামীদের তুলনায় স্ত্রীদের অনেক এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সাধারণ ভাবে পুরুষের তুলনায় নারীর মানসিক অস্থিরতা বেশি লক্ষ করা গেলেও বিবাহিত জীবনে এর উল্টো ঘটতে দেখা গেছে।

ল্যাভনারের দলের গবেষণায় বিবাহিত জীবন নিয়ে তৃপ্তিও ধীরে ধীরে কমতে দেখা গেছে। এক কথায় মধুচন্দ্রিমার সময়টিই বিবাহিত জীবনের একমাত্র ‘সুখকর অধ্যায়’ বলে চিহ্নিত হয়েছে গবেষণায়।

একটাই শুধু আশার কথা, বিয়ের শুরুতে যে স্বামীরা প্রচণ্ড খোলামেলা মানসিকতার ছিলেন, তাদের দাম্পত্য জীবন ফ্যাকাশে হতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। আর যারা শুরুতেই ছিলেন গোটানো, তাদের সংসার রং হারিয়েছে কয়েক মাসের মধ্যে।

অন্যদিকে, স্থির মানসিকতার নারীদের সংসার সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, বিপরীতে ১৮ মাসের মধ্যে সংসারে আকর্ষণ অনেকটাই হারিয়েছেন অস্থির মানসিকতার নারীরা। গবেষকদের ধারণা, স্ত্রীর মানসিক স্থিরতা স্বামীর ওপরেও প্রভাব ফেলে, আর তাই দাম্পত্য তৃপ্তি কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

গবেষণায় বেরিয়ে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো, বিয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের যে পরিবর্তন ঘটে তাকে কোনো উপায়েই ঠেকানো সম্ভব নয়। গবেষকেরা বলছেন, বেশি বা কম বয়সে বিয়ে করা দম্পতিদের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফলাফল একই এসেছে। এমনকি বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো নারী-পুরুষও বিয়ের পর দীর্ঘমেয়াদে সুখী দাম্পত্য সম্পর্ক গড়তে খুব একটা সফল হননি।

এই গবেষণা চলার সময়ে কয়েক দম্পতির ঘরে এসেছে সন্তান। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাদের জীবনেও ১৮ মাসের মধ্যেই ভর করেছে হতাশা ও অতৃপ্তি।

শেয়ার করুন

মধু ছেড়ে মাংস খাওয়া শিখছে মৌমাছি!

মধু ছেড়ে মাংস খাওয়া শিখছে মৌমাছি!

মাংস খেতে শকুনি মৌমাছির মুখে গজিয়েছে দাঁত। ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সম্পূর্ণ মাংসাশী মৌমাছির খোঁজ পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মধু সংগ্রহের প্রবল প্রতিযোগিতা এড়াতেই সম্ভবত এমন বিবর্তন। এ ধরনের মৌমাছির মুখে মধু শুষে নেয়ার ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে গজিয়েছে তীক্ষ্ণ দাঁত।

ফুলের সঙ্গে মৌমাছির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা সবাই আমরা জানি। ফুল মধুর বিনিময়ে মৌমাছির গায়ে জড়িয়ে দেয় রেণু, সেই রেণু ছড়িয়ে যায় দূরের কোনো ফুলে, এভাবেই ঘটে পরাগায়ন।

তবে হাজারো বছরের এমন স্বাভাবিকতার মাঝে সবার অগোচরেই ঘটছে ছন্দপতন। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, ফুলের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠছে মৌমাছির কিছু প্রজাতি। এরা নিরামিষ জীবন ছেড়ে পুরোপুরি মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। আবার নিরামিষ-আমিষ দুই খাবারে আসক্ত মৌমাছিও পাওয়া গেছে।

পঁচা মাংস ছিড়ে খেতে কিছু মৌমাছির মুখে গজিয়েছে দাঁত, এমনকি হজমে গণ্ডগোল এড়াতে এদের পরিপাকতন্ত্রও প্রস্তুত।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সম্পূর্ণ মাংসাশী মৌমাছির খোঁজ পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মধু সংগ্রহের প্রবল প্রতিযোগিতা এড়াতেই সম্ভবত এমন বিবর্তন। এ ধরনের মৌমাছির মুখে মধু শুষে নেয়ার ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে গজিয়েছে তীক্ষ্ণ দাঁত।

প্রাণিবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণায়, কর্মী মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে ‌মৌ-রস সংগ্রহ করে। এই মৌ-রসকে ইংরেজিতে বলে নেকটার। নেকটার হলো ফুলের রেণুতে থাকা মিষ্টি তরল। মৌমাছির শরীরে দুটি পাকস্থলি রয়েছে। একটিতে সে মৌ রস জমা করে, আর অন্যটিতে স্বাভাবিক ভাবে খাবার পরিপাক হয়।

কর্মী মৌমাছি পেটে মৌ-রস নিয়ে এসে মৌচাকে জমা করে। মৌচাকের প্রকোষ্ঠে মধু ঢালার আগে এরা পেট থেকে মধু মুখে নিয়ে আসে। মধু প্রকোষ্ঠে ভরার পর ডানা ঝাপটে বাড়তি পানি বাষ্পীভূত করে দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন মধু ভালো রাখার জন্য মৌমাছি নিজের পেট থেকে মোম বের করে প্রকোষ্ঠের মুখ বাতাসরোধী করে আটকে দেয়।

তবে মাংসাশী মৌমাছির বেলায় এই রুটিনের কোনো বালাই নেই। এরা মাংস চিবিয়ে খেতে দক্ষ প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড (ইউসিআর) এর কীটতত্ত্ববিদ ডগ ইয়ানেগা বলছেন, ‘এরা এমন ধরনের মৌমাছি যারা উদ্ভিদজাত খাদ্য উৎসের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা উৎস ব্যবহারের জন্য বিবর্তিত হয়েছে। এটি মৌমাছির খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।’

দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে পাওয়া মাংসাশী মৌমাছির পরিপাক তন্ত্রে মাংস হজমের উপযোগী রূপান্তরও লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।

খাবার হজমে সহায়তার জন্য প্রতিটি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব। প্রাণিবিজ্ঞানীরা বলছেন, মধু জাতীয় খাদ্য পরিপাকে মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে মূলত পাঁচটি অণুজীব সক্রিয়। প্রায় আট কোটি বছর ধরে এগুলোই প্রায় সব প্রজাতির মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে মাংসাশী মৌমাছির পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে একদম আলাদা ধরনের অণুজীব।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড এর গবেষক দলটির গবেষণাটি সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অফ মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। মাংস খেতে সক্ষম মৌমাছিরা ‘ভালচার বি’ বা শুকুনি মৌমাছি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

শকুনি মৌমাছির দেখা মিলেছে কোস্টারিকার বনে-জঙ্গলে। এদের আচরণ ও খ্যাদ্যাভাস পর্যবেক্ষণে ইউসিআর গবেষক দলটি গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল মুরগির কাঁচা মাংসের টুকরো। দেখা গেছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই এর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে শুকুনি মৌমাছিরা। মাংস ও মধু- দুটিই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এমন প্রজাতিও পাওয়া গেছে সেখানে।

গবেষক দলটি বলছে, মাংসাশী, সর্বভুক এবং কেবল মধু খাওয়া মৌমাছিদের পরিপাক তন্ত্রের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ইউসিআর-এর কীটতত্ত্ববিদ কুইন ম্যাকফ্রেডরিক বলেন, ‘শকুনি মৌমাছির অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম অ্যাসিড সম্মৃদ্ধ ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ, সাধারণভাবে অন্যান্য মৌমাছিতে যা একেবারেই দেখা যায় না। শকুন, হায়েনার মতো প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রেও এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া দেখা যায়। এসব ব্যাকটেরিয়া পঁচা মাংসের রোগজীবাণু থেকে খাদ্য গ্রহণকারী প্রাণীকে রক্ষা করে।’

শকুনি মৌমাছির অন্ত্রে পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার একটি হল ল্যাকটোব্যাসিলাস, যা দই জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া শক্ত খাবার হজমে সাহায্য করে।

গবেষক দলের সদস্য জেসিকা ম্যাকারো বলছিলেন, ‘মৌমাছি কোনো প্রাণীর মৃতদেহ ছিড়ে খাচ্ছে, এটা ছিল ভয়ঙ্কর দৃশ্য। মৃতদেহের পঁচা মাংসে ক্ষতিকর অনেক জীবাণু থাকে, তবে এসব জীবাণুকে প্রতিরোধের ক্ষমতা শকুনি মৌমাছি অর্জন করেছে।’

কোস্টারিকায় পাওয়া শকুনি মৌমাছির বেশিরভাগ প্রজাতির হুল নেই। তবে আক্রমণ ঠেকাতে এদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কয়েকটি প্রজাতি কামড়ানোর শক্তি রাখে, আর সেই কামড়ে ত্বকে ফোস্কা পড়াসহ, ঘা তৈরি হতে পারে।

শেয়ার করুন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

সন্তান জন্ম দিতে পারা রোবট উদ্ভাবন

কম্পিউটার ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

টিকে থাকার প্রয়োজনে জীবের বংশবৃদ্ধি আবশ্যিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এই প্রথম জৈবিক প্রজননে সক্ষম রোবট উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই জীবন্ত রোবট ক্রমাগত তৈরি করতে পারে নিজের প্রতিলিপি।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীর তৈরি রোবট এক ধরনের জেনোবট (জীবন্ত রোবট) । তবে রোবট বলতে প্রচলিত অর্থে আমরা যা বুঝি এই জেনোবট ঠিক তেমন নয়। সুপার কম্পিউটারের ডিজাইন অনুসারে জৈবিক বংশবিস্তারের এক নতুন কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে এ ক্ষেত্রে।

গবেষণাগারে এই ডিজাইন মেনে বিশেষ এক ধরনের ব্যাঙের কোষ নতুন ধরনের প্রাণ তৈরি করেছে। অতি ক্ষুদ্র এই জীবসত্তা (অর্গানিজম) ক্ষুদ্র থালায় সাঁতার কাটতে পারে, নতুন একক কোষ খুঁজে বের করতে পারে ও এক সঙ্গে শত শত একত্রিত হতে সক্ষম।

এক মিলিমিটারের চেয়েও ছোট (০.০৪ ইঞ্চি) জেনোবটগুলো শিশু জেনোবট তৈরি করতে পারে। এসব শিশু জেনোবট এরপর আবার নতুন কোষ খুঁজে বের করে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জেনোবট সনাতনি ধরনের রোবট যেমন নয়, তেমনি আবার কোনো প্রচলিত প্রাণীও নয়। কম্পিউটারে তৈরি ডিজাইন অনুসারে এটি কাজ করে এবং অতিক্ষুদ্র এই জীবসত্তার মাধ্যমে আগামীতে মানবদেহের অভ্যন্তরে ওষুধ পরিবহন সম্ভব।

গবেষণা দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ভারমন্টের (ইউভিএম) কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও রোবটিকস বিশেষজ্ঞ জশুয়া বোনগার্ড বলেন, ‘সঠিক ডিজাইন করা গেলে জেনোবটগুলো নিজে থেকেই নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করবে।’

তাদের গবেষণার ফল গত ২৯ নভেম্বর প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।

জেনোবট তৈরিতে বেছে নেয়া হয়েছে আফ্রিকান ব্যাঙের প্রজাতি জেনোপাস লিভিসের বিশেষ ধরনের কোষ। এই ভ্রূণ কোষগুলো পরে ব্যাঙের ত্বকে পরিণত হয়।

গবেষণা দলের আরেক সদস্য ম্যাসাচুসেটসের টাফটস ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘বিশেষ ভ্রূণকোষগুলো ব্যাঙাচি জন্মের ত্বক আবরণ তৈরি করে। এই কোষ শ্লেষাজাতীয় পদার্থের নিঃসরণ ঘটিয়ে ব্যাঙকে রোগজীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। তবে ল্যাবরেটরিতে আমরা এদের নতুন একটি পরিস্থিতিতে রেখেছি। এগুলোর বহুকোষী বৈশিষ্ট্যকে নতুন ভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছি। এর ফলে কোষগুলো নতুন যা তৈরি করছে তা ত্বক থেকে একেবারে আলাদা।’

গবেষক দলের সদস্য টাফটস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডগলাস ব্ল্যাকিস্টন বলেন, ‘এতদিন মানুষের ধারণা ছিল, জীবনের বিস্তার বা বংশবৃদ্ধি কীভাবে ঘটে সে বিষয়ক সব রহস্য ভেদ করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এই পরীক্ষা এমন কিছু পাওয়া গেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’

বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গবেষক দলটি। অধ্যাপক মাইকেল লেভিন বলেন, ‘এই কোষগুলোতে ব্যাঙের জিনোম রয়েছে, কিন্তু এরা ব্যাঙাচিতে পরিণতা হওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। ফলে এরা যৌথ বুদ্ধিমত্তা, নমনীয়তা প্রয়োগ করে অবাক করার মতো অনেক কিছু ঘটাতে সক্ষম।’
গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে ডিজাইন করা কোষগুলো নিজে থেকেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।

গবেষণা দলের প্রধান স্যাম ক্রিগম্যান বলেন, ‘ব্যাঙের এই কোষগুলো নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করছে এক দম আলাদা পদ্ধতিতে। ব্যাঙের দেহে সাধারণভাবে প্রতিলিপি তৈরির চেয়ে এই প্রক্রিয়া একেবারে ভিন্ন।’

জেনোবটের জনক কোষ নিজে থেকেই ৩ হাজার কোষের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘এগুলো সন্তান তৈরি করতে পারে, কিন্তু এর পরই প্রক্রিয়াটির অবসান ঘটে। এই প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখার পদ্ধতিটি খুবই জটিল।’

জেনোবটের আকৃতি তৈরির জন্য গবেষণায় ডিপ গ্রিন সুপার কম্পিউটারে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রোগ্রামের নতুন ধরনের এলগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। কোন আকৃতি বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী সেটি জানতে ত্রিভূজ, চতুষ্কোণ, পিরামিড বা তারকাকৃতি তৈরি করা হয়েছে।

ক্রিগম্যান বলেন, ‘আমরা কম্পিউটারকে বলেছিলাম, জনকের আকৃতি ঠিক করতে। এআই কয়েক মাস চেষ্টার পর কয়েকটি অদ্ভূত ধরনের আকৃতি তৈরি করে, যার একটি দেখতে প্যাক-ম্যানের (ভিডিও গেইম চরিত্র) মতো। এটা সে সজ্ঞানে করেনি। এরপর ওই জনক থেকে সন্তান তৈরি হলো। তাদের থেকে আবার সন্তান ও তাদের থেকে আবারও। এক কথায় সঠিক ডিজাইনের কারণে বংশবিস্তার কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত চলেছে।’

বোনগার্ড বলেন, ‘আমরা আবিষ্কার করেছিম অর্গানিজম বা কোনো কোষীয় জীবন ব্যবস্থার মধ্যে এমন সব জায়গা রয়েছে যার সম্বন্ধে আমরা জানতাম না। এর আগে আমরা হাঁটতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। সাঁতরাতে পারে এমন রোবট পেয়েছি। আর এই গবেষণায় পেলাম এমন কিছু জেনোবট যারা নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।’

নতুন জেনোবটের সম্ভাবনা নিয়ে বোনগার্ড বলেন, ‘নতুন ওষুধ তৈরি করা বা পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিষ্কার করার কাজে এ যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করা যাবে। আমরা চাই যে হারে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, ঠিক একই হারে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করতে।’

শেয়ার করুন