নাইজারে বন্দুকধারীদের হামলায় মেয়রসহ নিহত ৬৯

নাইজারে বন্দুকধারীদের হামলায় মেয়রসহ নিহত ৬৯

নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো সীমান্তে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় নাইজারের এক সেনার টহল। ফাইল ছবি

চলতি বছর এখন পর্যন্ত নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৫৩০ জনের বেশি। ২০২০ সালে পুরো বছরের তুলনায় এ সংখ্যা পাঁচগুণ।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের একটি গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৬৯ জনের। নিহতদের মধ্যে আছেন একজন মেয়রও।

নাইজারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলকাচে আলহাদা বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে জানান, এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচেছেন ১৫ জন। হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বানিবাঙ্গুর মেয়রের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলের ওপর এ হামলা চালানো হয় গত মঙ্গলবার। স্থানীয় একটি সূত্র ঘটনাস্থল আদাব-দাব গ্রাম বলে জানিয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মোটরবাইকে চড়ে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। তাদের সঙ্গে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ছিল। তারা আইএসের গ্রেটার সাহারা শাখার সদস্য।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় একটি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা মালির দিক থেকে এসেছিল। হামলার পর সংঘাতে তাদের দলের নিহত সদস্যদের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে মালির দিকেই ফিরে গেছে তারা।

যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে, সেটি বুরকিনা ফাসো ও মালিসংলগ্ন ত্রিদেশীয় সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিমের অঞ্চলটি সংঘাতপ্রবণ। অনেক বছর ধরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের পশ্চিমে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী এবং আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত চলছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৫৩০ জনের বেশি। ২০২০ সালে পুরো বছরের তুলনায় এ সংখ্যা পাঁচগুণ।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি। কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা প্রথম চিকিৎসকদের একজন সাউথ আফ্রিকার ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। নতুন ধরনের ভাইরাসটির উপসর্গ এখন পর্যন্ত বেশ মৃদু এবং বাড়িতে থেকেই এর চিকিৎসা নেয়া সম্ভব বলে মত তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাউথ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা বেশি সংক্রমিত। কিন্তু ড. কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর নিজের ক্লিনিকে সাতজন রোগীর মধ্যে ডেল্টা উপসর্গের চেয়ে কিছু ভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করে সতর্ক হন, যদিও সেসব উপসর্গ ছিল অত্যন্ত মৃদু।

সাউথ আফ্রিকান চিকিৎসক সমিতির প্রধান ড. কোয়েৎজি জানান, ওই রোগীরা দুই দিন ধরে ‘অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছিলেন’। সঙ্গে মাথা ও শরীর ব্যথা তো ছিলই।

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতোই। কিন্তু গত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ কোনো কোভিড রোগী পাইনি বলে আমরা তাদের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

পরীক্ষায় এক পরিবারের সব সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

একই দিন কাছাকাছি উপসর্গ নিয়ে আরও রোগী আসতে শুরু করলে নড়ে বসেন ড. কোয়েৎজি। কারণ এর আগ পর্যন্ত দিনে বড়জোর দুই থেকে তিনজন রোগী দেখছিলেন তিনি।

কোয়েৎজি বলেন, ‘মহামারির তৃতীয় ধাক্কার সময় ডেল্টায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী আমরা পেয়েছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করে বুঝতে পারি যে তখনকার দৃশ্যপটের তুলনায় এখনকার দৃশ্যপটের পার্থক্য আছে।’

নমুনা পরীক্ষার ফল সেদিনই সাউথ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিডি) জমা দেন কোয়েৎজি।

তিনি বলেন, ‘যারা ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই খুব মৃদু উপসর্গ ছিল এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলাম আমরা। সেভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ আছেন।’

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি।

কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

গত ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর গবেষণাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর করোনার নতুন ধরনটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় এনআইসিডি। পরদিন একে ওমিক্রন নাম দিয়ে চিহ্নিত করে ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো দুই ব্যক্তি ওমিক্রনে আক্রান্ত। ছবি: সিবিসি নিউজ

ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রন পৌঁছেছে সুদূর উত্তর আমেরিকাতেও। কানাডার অটোয়াতে দুই ব্যক্তির দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনার নতুন ধরনটি।

ওন্টারিও সরকার রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজনই সম্প্রতি আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে দেশে ফেরেন। তারা বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। তাদের সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।

সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো বিদেশি নাগরিকদের ওপর নতুন ভ্রমণ নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যেই দেশটিতে ওমিক্রন শনাক্তের খবর এলো।

নতুন ভ্রমণ নীতিমালা কার্যকর হয়েছে গত শুক্রবার। সাউথ আফ্রিকার গবেষকরা ওমিক্রন ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাইরাসটি।

করোনার নতুন এ ধরনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে এটিতে বিপুলসংখ্যক পরিবর্তন চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যার ভিত্তিতে একে উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সাউথ আফ্রিকার একটি প্রদেশে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে চলার কারণ হিসেবেও দায়ী করা হচ্ছে ওমিক্রনকে।

কিন্তু আসলে ওমিক্রন করোনার অন্য প্রজাতিগুলোর তুলনায় অধিক সংক্রামক বা বিপজ্জনক কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

এমন পরিস্থিতিতে ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

বতসোয়ানা থেকে ভাইরাসটি সাউথ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর এর বিষয়ে জানতে পারে বিশ্ব। এরপর যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রন।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

বাগদাদে আদালতের বাইরে বাল্যবিবাহবিরোধীদের বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ-বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

ইরাকে ১২ বছরের এক মেয়েশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটাই তোলপাড় চলছে যে, আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এতে। মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল ক্ষোভ সত্ত্বেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরাকে বাল্যবিয়ের বহু ঘটনা ঘটলেও সেগুলো এত আলোচিত হয় না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার শুনানিতে এক বিচারক ১২ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের ধর্মমতে বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে গত সপ্তাহে শুনানি স্থগিত করা হয়।

রাজধানী বাগদাদের কাধামিয়া জেলা আদালতে রোববার আবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা। তবে এ দিন রায় দেয়া হবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

‘বাল্যবিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ’ এবং ‘বাল্যবিয়েকে না বলুন’সহ বিক্ষুব্ধদের নানা স্লোগানে গত সপ্তাহে মুখর হয়েছিল আদালত প্রাঙ্গণ।

এক বিক্ষোভকারী আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে সে সময় বলেছিলেন, ‘শিশুদের ঘরে বসে কার্টুন দেখার কথা, বিয়ে করার কথা নয়। তাই আমরা এখানে নিন্দা জানাতে এসেছি।’

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ-বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

কিন্তু মেয়েটি, তার সৎ-বাবা ও তার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিবৃতিতে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কাজ করা একটি বিভাগ জানায়, মেয়েটিকে বিয়েতে জোর করা হয়নি।

ইরাকের নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক আইনজীবী হালা বলেন, ‘যাই হোক না কেন, ১২ বছরের একটি শিশু আর ২৫ বছর বয়সের একটা লোকের বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইরাকের আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পিতার মত সাপেক্ষে সর্বনিম্ন ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নির্মূলবিষয়ক সর্বজনীন সমঝোতাপত্রেও ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হলে তা জোরপূর্বক হয়েছে বলে ধরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইনি বাধা সত্ত্বেও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই বাল্যবিয়ে বহু প্রচলিত, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলগুলোতে। দারিদ্র্য ও ধর্মচর্চার অংশ হিসেবে অনেক মা-বাবা পরিবারের বোঝা কমাতে বা আর্থিক সহায়তা পেতে ছোট ছোট মেয়েসন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন।

২০১৮ সালে ইরাক সরকারের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটিতে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের প্রথম বিয়েটি হয়েছিল ১৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার আগেই। ২০ দশমিক ২ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত

পেরুতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: এএফপি

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। এতে কমপক্ষে ৭৫টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন ১০ জন। প্রাণহানির কোনো খবর মেলেনি এখনও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রত্যন্ত আমাজন অঞ্চলে স্থানীয় সময় রোববার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কম্পন অনুভূত হয়েছে সুদূর রাজধানী লিমা পর্যন্ত।

পেরুর ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ পেরু (আইজিপি) জানিয়েছে, কনডরক্যানক্যু প্রদেশের সান্তা মারিয়া ডি নিয়েভা শহর থেকে ৯৮ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১৩১ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনটির উৎসস্থল।

পেরুর মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে। পূর্বসতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় বেতার ও টেলিভিশনগুলো জানিয়েছে।

পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ২২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৮১টি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ৭৫টি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও দুটি শপিং সেন্টার।

বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর ফুটেজে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে আমাজন বনাঞ্চলের পেরুর অংশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোপেরুর এক হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তেলের পাইপলাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি ভূমিকম্পে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ ও ভুক্তভোগীদের সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ক্যাসটিলো।

ভূমিকম্পের ফলে সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডেল্টার চেয়ে বিপজ্জনক ওমিক্রন?

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনকে চলতি সপ্তাহে ওমিক্রন নাম দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১৯ সালে চীনের উহানে শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে ওমিক্রন একেবারেই আলাদা।

কোভিডের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ধরনগুলোর মধ্যে এর আগে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল ডেল্টাকে। ওমিক্রনের অস্তিত্ব শনাক্তের পর থেকে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি শোনা যাচ্ছে, তা হলো ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও বিপজ্জনক কি না।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই ডব্লিউএইচও রোববার ওমিক্রনের বিষয়ে সবশেষ সংগৃহীত কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

ওমিক্রনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা ভাইরাসটির আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত করা সাউথ আফ্রিকার স্বাস্থ্যবিদদের মতে, এখন পর্যন্ত অর্ধশত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে নতুন ধরনে। এর বহিঃ আবরণীতে থাকা আমিষের যে অংশটি ভাইরাসকে কোষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে, সেই ‘স্পাইক প্রোটিন’-এর সংখ্যা ৩০টি।

করোনা প্রতিরোধী টিকা মূলত ভাইরাসের এই ‘স্পাইক প্রোটিন’কেই আক্রমণ করে। কারণ ‘স্পাইক প্রোটিন’ ব্যবহার করেই ভাইরাসটি দেহের কোষে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে।

ভাইরাস তার যে অংশ ব্যবহার করে প্রথমবার মানবদেহের কোষের সংস্পর্শে আসে, করোনার নতুন ধরনেই সেই অংশে ১০টি পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো আগের ধরনটি, অর্থাৎ করোনার ডেল্টা ভাইরাসে এ পরিবর্তনের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই।

ফলে এসব পরিবর্তন ওমিক্রনকে আরও সহজে ও দ্রুত সংক্রমণযোগ্য করে তুলেছে কি না, কিংবা আরও গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে কি না ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ওমিক্রনেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নতুন ধরন ওমিক্রনের সহজ শিকার হতে পারেন।

ডেল্টাসহ করোনার অন্য ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত কেবল আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমেই নতুন ধরনটি শনাক্ত করা সম্ভব।

টিকার ওপর এই ভ্যারিয়েন্টটির প্রভাব খতিয়ে দেখতেও কাজ শুরু করেছে ডব্লিউএইচও।

ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কতটা, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়নি। উপসর্গের দিক থেকে করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন আলাদা কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য মেলেনি।

প্রাথমিক তথ্য অবশ্য বলছে যে সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শুধু ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে বরং এ ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও হতে পারে এটি।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

ওমিক্রন ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈজ্ঞানিক’

করোনার ওমিক্রন ধরন ঠেকাতে আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেশ কিছু দেশ। ফাইল ছবি

সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

করোনা ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, এটা আফ্রিকা অঞ্চলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সিরিল রামাফোসা আফ্রিকার ওপর দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ বলে উল্লেখ করেন। এতে দেশগুলোর সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কিছু দেশ আফ্রিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।

ওমিক্রন ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এটি খুব দ্রুত সংক্রমিত ধরন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয় আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায়। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বুধবার ধরনটি সম্পর্কে জানায়।

বতসোয়ানার পর সাউথ আফ্রিকার গৌটেং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণটি শনাক্ত হয়। এরপর দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই এটি ধরা পড়েছে।

সাউথ আফ্রিকার পাশাপাশি অনেক দেশেই এরই মধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত করা হয়েছে।

ওমিক্রন শনাক্তের পর খুব দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে কয়েকটি দেশের আফ্রিকার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘটনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখনটি এমন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। এজন্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নজর দেয়া উচিত।

রোববার সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এক বক্তৃতায় বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসটি ঠেকানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার সঙ্গে অনায্য বৈষম্য করা হচ্ছে। ভাইরাসটির এই ধরন ছড়ানো ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি করার ফলে আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বিভিন্ন দেশ যে উত্তরণ করছিল, এমন কর্মকাণ্ডে সেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যেসব দেশ এরইমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের তা প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, ‘আবারও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আগেই তাদের এ সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে।’

ওমিক্রন ছড়ানোর কারণ হিসেবে রামাফোসা বিশ্বে করোনার টিকা বৈষম্যকে দায়ী করেন। আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি টিকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলেও দাবি তার।

আফ্রিকার বাইরে এরইমধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েলের মতো দেশে।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন

২ ইরানি জেলেকে বাঁচাল আমেরিকার নৌবাহিনী

২ ইরানি জেলেকে বাঁচাল আমেরিকার নৌবাহিনী

সমুদ্রের বুকে এভাবেই ভাসছিলেন দুই জেলে। ছবি: দ্য ন্যাশনাল নিউজ

আরব সাগর এতটা বিপদসংকূল না হলেও বর্তমানে এই অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের হার বেড়েছে। ফলে ছোট আকারের নৌযানগুলোকে প্রায়ই বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

টানা ৮ দিন ধরে সমুদ্রের বুকে ভাসছিলেন দুই ইরানি জেলে। পরে উপসাগরীয় জলসীমা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী।

রোববার দ্য ন্যাশনাল নিউজ জানিয়েছে, ৮ দিন ধরে সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়ালেও উদ্ধারের সময় ইরানি জেলেরা বেশ সুস্থ ও সবল ছিলেন। সমুদ্রে ভাসতে দেখে তাদের দিকে খাবার, পানি আর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে এগিয়ে যায় নৌবাহিনীর কার্গো জাহাজ ‘চার্লস ড্রিউ’। উদ্ধারের পর তাদের মাসকাটের কাছাকাছি জলসীমায় ওমানের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আমেরিকার নৌবাহিনী দাবি করেছে, সমুদ্র থেকে এভাবে বেসামরিক ইরানিদের উদ্ধার করা একটি বার্ষিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এ নিয়ে তিনবার ইরানিদের উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যান্য সাগরের মতো আরব সাগর এতটা বিপদসংকূল না হলেও বর্তমানে এই অঞ্চলটিতে ঘূর্ণিঝড়ের হার বেড়েছে। ফলে ছোট আকারের নৌযানগুলোকে প্রায়ই বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ছোটোখাটো বিপদে এডেন উপসাগরে এর আগে ইরানি নৌবাহিনীরও সহায়তা পেয়েছে আমেরিকার বাহিনী।

সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য আমেরিকান জাহাজগুলো বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসব জাহাজে শক্তিশালী ইনফ্রারেড ক্যামেরা ছাড়াও দুর্যোগ নজরদারির জন্য সার্বক্ষণিক লোক নিযুক্ত থাকেন।

আরও পড়ুন:
নাইজারে ৭ মাসে ৪২০ জনকে হত্যা
নাইজারে ৭৯ গ্রামবাসীকে হত্যা করল ‘জঙ্গিরা’

শেয়ার করুন