ফ্রি প্রেস সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের রোজিনা, ভারতের বুরহান

ফ্রি প্রেস সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের রোজিনা, ভারতের বুরহান

ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড ২০২১ বিজয়ী বাংলাদেশের রোজিনা ইসলাম ও ভারতের ভাট বুরহান।

দ্য হেগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন বুরহান। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ পাসপোর্ট জব্দ করে রাখায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পুরস্কারটি নিতে পারেননি রোজিনা ইসলাম। পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরের হাত থেকে রোজিনার হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তার স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম।

দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এবং ভারতের ভাট বুরহান চলতি বছর সাংবাদিকতায় মর্যাদাপূর্ণ ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

এ বছর দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় সংগঠনটি।

‘সবচেয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী সংবাদকর্মী’র ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন রোজিনা। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির খবর প্রকাশের জন্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেয়া হয় তাকে। খবর সংগ্রহের সময় প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন রোজিনা, বেশ কিছুদিন ছিলেন কারাবন্দি।

আর কাশ্মিরি সাংবাদিক ভাট বুরহানকে পুরস্কার দেয়া হয় ‘বছরের সেরা নবাগত’ ক্যাটাগরিতে।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ‘সবচেয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী সংবাদকর্মী’ পুরস্কারবিজয়ী হিসেবে রোজিনা সাড়ে সাত হাজার ইউরো নগদ পেয়েছেন। আর ‘বছরের সেরা নবাগত’ হিসেবে বুরহান দেড় হাজার ইউরোর একটি বৃত্তি পেয়েছেন।

দ্য হেগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন বুরহান। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ পাসপোর্ট জব্দ করে রাখায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পুরস্কারটি নিতে পারেননি রোজিনা ইসলাম। পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরের হাত থেকে রোজিনার হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তার স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম।

ফ্রি প্রেস সম্মাননার জন্য এ বছর মনোনয়ন পেয়েছিলেন বেলারুশের রামান ভাসিউকোভিচ, মরক্কোর ওমর রাদিক, মিয়ানমারের আয় মিন্ত থান্ত ও অ্যাঙ্গোলার ইসরায়েল গ্রাসা কাম্পোস নামের আরও চার সাংবাদিক।

এক বিবৃতিতে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড জানিয়েছে, ভীষণ প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেও থেমে যাননি এই সংবাদকর্মীরা। বরং জনগণের কাছে তথ্য প্রকাশের লক্ষ্যে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন তারা।

গত বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা। চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন তিনি।

বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতায় উৎকর্ষের ওপর কাজ করছে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড। বিশ্বজুড়ে ৯০টির বেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তেল আবিব

সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তেল আবিব

ইসরায়েলের তেল আবিব শহর। ছবি: এএফপি

ইআইইউ বলছে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর ইসরায়েলের তেল আবিব। গত বছর এ তালিকায় শীর্ষে থাকা প্যারিস এবার যৌথভাবে সিঙ্গাপুর সিটির সঙ্গে দ্বিতীয় অবস্থানে। আর জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়ের শহর সিরিয়ার দামেস্ক।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের (ইআইইউ) বুধবার এ তালিকা প্রকাশ করে।

চলতি বছরের ডলারের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৭৩ শহরে কমপক্ষে ৫০ হাজার পণ্য ও সেবার ব্যয় বিবেচনায় এ সূচক তৈরি করেছে ইআইইউ।

ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তথ্য সংগ্রহ করে এ তালিকা করা হয়। এ সময়ে নৌপথে পরিবহন খরচের পাশাপাশি পণ্যের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে গড় দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বলা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বে দ্রুততম মুদ্রাস্ফীতির রেকর্ড হয়েছে এবার।

পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলের মূল্য কমে যাওয়ায় শীর্ষে উঠে এসেছে তেল আবিব।

তালিকায় প্রথম পাঁচে আছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক আছে ষষ্ঠ অবস্থানে।

প্রথম দশের মধ্যে আছে সুইজারল্যান্ডের আরেক শহর জেনেভা, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও জাপানের ওসাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ১৪, মেলবোর্ন ১৬ ও যুক্তরাজ্যের লন্ডন তালিকার ১৭ নম্বরে।

জীবনযাত্রায় সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর সিরিয়ার দামেস্কের আগের ঠিক ওপরে লিবিয়ার ত্রিপোলি ও উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ।

শেয়ার করুন

এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি। ফাইল ছবি/এএফপি

একটি নতুন হেলিকপ্টার কেনা ও তা ভাড়া নিয়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে পড়ে এবং তা ভঙ্গ করায় ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির নতুন একটি মামলা করেছে জান্তা সরকার।

মামলায় তার সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি নতুন হেলিকপ্টার কেনা ও তা ভাড়া নিয়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে পড়ে এবং তা ভঙ্গ করায় ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী সু চির বিরুদ্ধে ডজনের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ প্রোটোকল ভাঙার মামলাও।

একটি মামলায় মঙ্গলবার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা হয়নি। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে এই নেত্রীকে।

নতুন করে অভিযোগ আনা দুর্নীতির মামলা সম্পর্কে জান্তা সরকারের কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন সু চির আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কিছু বলতে চাননি।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শর বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বাসে ছাত্রদের ছাড় ছিল, এখন নেই

পশ্চিমবঙ্গে বাসে ছাত্রদের ছাড় ছিল, এখন নেই

পশ্চিমবঙ্গে বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে ছাত্র বলে আর কিছু নেই। সবাই সাধারণ যাত্রী। ছবি: সংগৃহীত

করোনায় রাজ্যজুড়ে লকডাউনের আগে পর্যন্ত কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও ৪০ শতাংশ ভাড়া দিতে হতো ছাত্রছাত্রীদের। করোনা সংকটকালে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাস মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর রাজ্যের কোথাও আর তেমনভাবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে ছাত্র বলে আর কিছু নেই। সবাই সাধারণ যাত্রী।

সরকারি বা বেসরকারি বাসের ভাড়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো ছাড়ের নির্দেশনা নেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহন দপ্তরের তরফে। তবে অলিখিতভাবে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন রকম ছাড় পাওয়া যায়।

করোনায় রাজ্যজুড়ে লকডাউনের আগে পর্যন্ত কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও ৪০ শতাংশ, কোথাও বা এক-তৃতীয়াংশ ভাড়া দিতে হতো ছাত্রছাত্রীদের। এ জন্য স্কুল-কলেজের সুপারিশপত্রসহ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন করতে হতো। তার ভিত্তিতে বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট দূরত্বের জন্য ছাড়ের অনুমতি দেয়া হতো।

করোনা সংকটকালে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাস মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বাস ভাড়া বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানানো হয়।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে না । তবে বাস মালিকদের অন্যভাবে আমরা পুষিয়ে দেব।’

এই পরিস্থিতিতে বাস মালিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন স্ল্যাবে নিজেদের মতো ৫ টাকা ১০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছেন। যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদে ৫ টাকা ১০ টাকা বেশি দিচ্ছেন। প্রতিবাদ হচ্ছে, কোথাও বা ঝগড়া বিবাদ হচ্ছে।

ফলে বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি ছাত্রদের ভাড়ায় আগে যে ছাড় দিত, এ সময় রাজ্যের কোথাও আর তেমনভাবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে ছাত্র বলে আর কিছু নেই। সবাই সাধারণ যাত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে বাসে ছাত্রদের ছাড় ছিল, এখন নেই

সরকারি বাস ভাড়ায় ছাত্রদের কোনো ছাড় আছে কি না, সেটা পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করায় ওই কর্মকর্তা একটুক্ষণ চুপ করে থেকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘না’। অন্য কোনো প্রশ্ন করার আগেই ফোন রেখে দেন।

নদীয়ার হরিণঘাটা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী স্নেহা বেলা এবং রাজদীপ মালাকার জানান, কলেজ আসা-যাওয়ার জন্য তারা এখন বাস ভাড়ায় কোনো ছাড় পান না। পুরো ভাড়া দিতে হয়।

কলকাতার এসবি/৩ রুটের কন্ডাক্টর আফতাব হোসেন বলেন, ‘বাস ভাড়ায় ছাত্রদের কোনো ছাড় নেই।’

মেটিয়াবুরুজ-রাজাবাজার পথে ১২/১ রুটের বাস কন্ডাক্টর বলেন, ‘ছাত্র বললে ১০ টাকায় দু টাকা ছেড়ে দেই।’

নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার জাগুলি কচরাপাড়া রুটের ২৭ নম্বর বেসরকারি বাসের অপারেটর কেষ্ট দাস জানান, আগে ছাত্রছাত্রীদের ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হতো। এখন পুরোপুরি বন্ধ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-মজিলপুর বেসরকারি বাস ইউনিয়নের সম্পাদক আখতার শেখ জানান, ‘আগে আবেদন করলে ছাত্র ছাত্রীদের ৪০ শতাংশ ছাড় দেয়া হতো। এখন কোনো ছাড় নেই।’

শিয়ালদা ২৮ নম্বর রুটের বাস মালিক সংগঠনের পক্ষে সুশান্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘ছাত্রদের জন্য বাস ভাড়ায় কোনো ছাড় নেই । তবে কেউ বললে, আমরা বিবেচনা করি।’

বরিশা-কদমতলা রুটের বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনের পক্ষে অমল সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, করোনা সংকটের বিধিনিষেধ এবং দীর্ঘকাল বাস না চালানোর ফলে বাস মালিকরা অর্থ সংকটে আছেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের থেকে দু-চার টাকা বেশি ভাড়া নিয়ে পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। বিরোধ নয়, যাত্রীরা ভালোবেসে বেশি ভাড়া দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোনো ছাড়ের ব্যবস্থা নেই।’

ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এসইউসিআই কর্মী প্রভাশিষ দাস বলেন, ‘এখন ভাড়ায় কোথাও কোনো ছাড় নেই। বরঞ্চ অনেক বেশি টাকা দিয়েই ছাত্রদের স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়। এটা রাজ্যের সব জেলার চিত্র বলা যায়। সরকার সঠিকভাবে ভাড়া কাঠামো না করে ছেড়ে রেখে দিয়েছে। ফলে মালিকরা ইচ্ছে মতো ভাড়া নিচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ছাত্রের গুলিতে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ছাত্রের গুলিতে নিহত ৩

স্কুল শিক্ষার্থীর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: এএফপি

পুলিশের ধারণা, ওই স্কুলের ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী একটি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান দিয়ে ১৫ থেকে ২০টি গুলি ছুড়েছে। একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। তবে কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে একটি হাইস্কুলে এলোপাতাড়ি গুলিতে তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন এক শিক্ষকসহ আটজন। ওই স্কুলেরই এক ছাত্র এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরের পর মিশিগানের ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের অক্সফোর্ড শহরে এ ঘটনা ঘটে।

কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি লিখেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ বছর বয়সী একজন কিশোর এবং ১৪ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরী।

পুলিশের ধারণা, ওই স্কুলের ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী একটি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান দিয়ে ১৫ থেকে ২০টি গুলি ছুড়েছে। একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। তবে কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

ওকল্যান্ড কাউন্টির নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র মাইক ম্যাকক্যাবে সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ইমারজেন্সি সার্ভিসে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ১০০ থেকে ৯১১টি ফোন আসে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, পুলিশ ডাকার পাঁচ মিনিট পরই আত্মসমর্পণ করে সন্দেহভাজন হামলাকারী। তিনি স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের ছেলে শিক্ষার্থী।

ম্যাককাবে বলেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই হামলাকারী আত্মসমর্পণ করে। ধারণা করা হচ্ছে গুলি শুরু করার আগে তিনি ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন।

একজন পুলিশ অফিসার বলেন, ওই হামলাকারীকে আটক করতে কোনো সমস্যা হয়নি। নতুন করে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারীরও কিছু হয়নি।

ঘটনার পর পরই স্কুলটি খালি করে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্কুলের আনাচে-কানাচে তিনবার তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছে, আরও কেউ আহত বা নিহত হয়ে পড়ে রয়েছে কি না।

গুলিতে আহতদের মধ্যে দুজনের অস্ত্রপচার হয়েছে। বাকি ছয়জনের অবস্থা স্থিতিশীল।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টির নিরাপত্তাবাহিনীর মুখপাত্র ম্যাকক্যাবে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করছে না।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই শিক্ষার্থীকে হয়তো তার মা-বাবা বলেছে, পুলিশকে কিছু না বলতে। ইতোমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর। ছবি: এএফপি

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

আগামী দশ বছরে বিশ্ব ব্যবস্থায় (ওয়ার্ল্ড অর্ডার) প্রযুক্তি-বিপ্লব বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্য সরকারের গুপ্তচর বিভাগের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এমআই সিক্স প্রধান।

এক ভাষণে সোমবার মোর বলেন, ‘কম্পিউটার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বদলে দেবে; যা কল্পনাতীত।’

এমআই৬ এর প্রধান হিসেবে ২০২০ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন ৫৮ বছরের রিচার্ড। এর আগে তিনি তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনকে তিনি ১৮ ও ১৯ শতাব্দীর শিল্প-বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সংস্কৃতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন উল্লেখ করে রিচার্ড বলেন, ‘তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশি যুক্ত হয়ে পড়ছেন।’

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল পুরো শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

‘অন্যরা হয়তো এসবের ইতিবাচক দিকগুলোই আপনাদের কাছে তুলে ধরবে, কিন্তু আমার কাজই হচ্ছে এসবের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করা। পৃথিবী যেমন এমআই সিক্স ঠিক সেরকম আরচণ করে, নিজ থেকে কিছু করে না।’

শেয়ার করুন

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এ কারণেই তেলের দাম কমছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৭ নভেম্বর তেলের দরে বড় দরপতন হয়। ওই দিন এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছিল। শতাংশের হিসাবে দরপতন হয়েছে ১৩-এর বেশি।

গত দুই দিনে তা কিছুটা বেড়ে ফের ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের এই দর ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। কোভিড-১৯ নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার সময় রাত সাড়ে ৭টায় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৭ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এই দর আগের দিনের চেয়ে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কম।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৭১ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই কারণেই তেলের দাম কমছে।

গত ২৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম কমাতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এর পর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তার পরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

শেয়ার করুন

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

‘ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি তালেবান, আল্লাহর কাছে চান’

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ছবি:এএফপি

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেন, ‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ খুঁজে পায় তালেবান যোদ্ধারা।’

জাতির ক্ষুধা মেটানোর প্রতিশ্রুতি তালেবান দেয়নি, জনগণের উচিত খাদ্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। দারিদ্র্য প্রশ্নে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে এ কথা বলেছেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

আফগানিস্তানের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খামা নিউজ এ খবর ছেপেছে।

এতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনে শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ৩০ মিনিটের অডিও বার্তায় বলেন, ‘ঘানি সরকারের দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপের কারণে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা। এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

‘ঘানি তার প্রাসাদকে একটি ব্যাংক বানিয়ে ফেলেছিলেন। ঘানি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার পর তার প্রাসাদ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ তালেবান যোদ্ধারা খুঁজে পায়।’

তালেবানবিরোধীদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা বহাল থাকবে জানিয়ে আখুন্দ বলেন, ‘শাস্তি কেবল তারাই পাবেন, যারা অপরাধ করেছেন।‘

নারী অধিকার প্রশ্নে আখুন্দ বলেন, ‘ইসলামিক আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা পাবেন নারীরা। এটা নিশ্চিতভাবে ঘানি সরকারের চেয়ে উত্তম।’

তবে ঠিক কী ধরনের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, তা পরিষ্কার করেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তালেবান সরকার হস্তক্ষেপ করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উদার পররাষ্ট্রনীতিতে চলবে আফগানিস্তান।‘

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট বিনা বাধায় কাবুল দখলে নেয় তালেবান। রাজনৈতিক এই অস্থিরতায় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি, চাকরি হারান হাজারও মানুষ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না নতুন সরকার। দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট।

যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ উদ্ধার হলে সংকট কিছুটা হলেও মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী সপ্তাহে দোহায় হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের বৈঠকে এই অর্থ উদ্ধারে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস রয়েছে।

শেয়ার করুন