তালেবান থেকে বাঁচতে আইএসের আশ্রয়ে সাবেক আফগান গোয়েন্দারা

তালেবান থেকে বাঁচতে আইএসের আশ্রয়ে সাবেক আফগান গোয়েন্দারা

একরকম বিনা প্রতিরোধেই আগস্টে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ফাইল ছবি

আইএসে যোগ দেয়া আফগান সেনাদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত খুব বেশি নয়। কিন্তু সন্ত্রাসী সংগঠনটির সঙ্গে যে কজনই হাত মিলিয়েছেন, তারা সবাই বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যুদ্ধের কৌশলসহ নানা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে তাদের।

দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধের ইতি টেনে চলতি বছরের আগস্টে আফগানিস্তান থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট। বিদেশি সেনাদের প্রস্থানে একসময় তাদের সহযোগিতা করা সাবেক আফগান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখন মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শাসক দল তালেবানের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আতঙ্ক প্রতিনিয়ত তাড়া করছে তাদের।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দিকে ঝুঁকছেন সাবেক আফগান গোয়েন্দারা। কারণ আফগান ভূখণ্ডে তালেবানের বিপরীতে টিকে থাকা একমাত্র প্রতিপক্ষ আইএস।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকজন আফগান সামরিক গোয়েন্দা আইএসের স্থানীয় শাখায় যোগ দিয়েছেন। কারণ ক্ষমতা দখলের পরই তাদের খোঁজে বাসাবাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছিল শাসক দলের যোদ্ধারা।

বলা হচ্ছে, আইএসে যোগ দেয়া আফগান সেনাদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত খুব বেশি নয়। কিন্তু সন্ত্রাসী সংগঠনটির সঙ্গে যে কজনই হাত মিলিয়েছেন, তারা সবাই বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যুদ্ধের কৌশলসহ নানা বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে তাদের।

আফগান গোয়েন্দা সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান রহমতউল্লাহ নাবিল বলেন, ‘তালেবানবিরোধী যুদ্ধে দীর্ঘদিন সহযোগিতা দেয়া যেসব আফগান সেনাকে অবহেলায় পেছনে ফেলে যাওয়া হয়েছে, আইএসে যোগ দেয়াই এখন সেরা বিকল্প বলে মনে করছেন তারা।’

তালেবান ও আইএস- দুটিই কট্টর সুন্নি মুসলিম সশস্ত্র সংগঠন। দুটি দলই নিজেদের ইসলাম ধর্মের প্রকৃত পতাকাবাহী বলে দাবি করে এবং ইসলামের নিজস্ব কট্টর সংস্করণ ও চরম রক্ষণশীল জীবনবিধান আরোপে বিশ্বাসী। ধর্মীয় মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকেও গোষ্ঠী দুটির পার্থক্য সামান্য। কিন্তু তাও কয়েক বছর ধরেই প্রতিপক্ষের ভূমিকায় রয়েছে গোষ্ঠী দুটি।

নাবিল আরও বলেন, ‘তালেবানবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে উঠলে এই সেনারা তাতেই যোগ দিতেন। এখনও যেহেতু তেমন কিছু গড়ে ওঠেনি, আইএসই এখন একমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা তাদের সাহায্য করতে পারে।’

একরকম বিনা প্রতিরোধেই আফগানিস্তানের প্রায় সব অঞ্চল দখল করেছে তালেবান। কেবল পাঞ্জশির উপত্যকায় প্রতিরোধের মুখে পড়লেও তা গুঁড়িয়ে দিতে সময় লাগেনি নতুন শাসকগোষ্ঠীর। মাত্র কয়েক সপ্তাহের আগ্রাসনে পাঞ্জশিরসহ পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা।

তখন থেকেই বেকার বসে আছেন লাখ লাখ সাবেক আফগান সেনা ও পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে হাতে গোনা কিছু মানুষ নতুন শাসক দলের অধীনে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তবে দেশজুড়ে চলমান চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অন্য আফগান সরকারি কর্মীদের মতো তাদের বেতন-ভাতাও আটকে আছে মাসের পর মাস।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, এই পরিস্থিতিরই সুযোগ নিচ্ছে আইএস। মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে দলে টানছে সাবেক আফগান সেনাদের।

ফলে ইরাক ও সিরিয়ায় স্বঘোষিত খেলাফত কায়েম করা এবং পরে পশ্চিমা অভিযানে পরাজিত আইএস আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

এমন বাস্তবতার মুখে আইএস আবারও গোটা বিশ্বের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা ঘনিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আভাস, আফগানিস্তানে সক্রিয়া আইএস হয়তো ছয় মাসের মধ্যেই আমেরিকান ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা অর্জন করবে। তেমন লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোতে শুরু করেও দিয়েছে বলে গত সপ্তাহে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র

দোহায় আগস্টে তালেবানের প্রতিনিধি দল। ফাইল ছবি/এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে। বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তানের শাসক দল তালেবানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের মধ্যস্থতায় রাজধানী দোহায় আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে আলোচনা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই, আফগানিস্তানে মানবিক সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবে দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস মঙ্গলবার জানান, আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন আফগানিস্তানবিষয়ক আমেরিকান বিশেষ দূত টম ওয়েস্ট।

কমপক্ষে দুই সপ্তাহ চলার কথা এ আলোচনা।

প্রাইস বলেন, ‘উভয় পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থগুলো নিয়ে কথা বলবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আফগানিস্তানে থেকে যাওয়া আমেরিকান নাগরিক ও ২০ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হয়ে কাজ করা আফগানদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি।

দুই সপ্তাহ আগে কট্টরপন্থি ইসলামিক গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তানে সাক্ষাৎ করেছিলেন টম ওয়েস্ট।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শেষে দেশের শাসনব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের শাসক দল হিসেবে তালেবানের সঙ্গে দোহায় গত ৯ ও ১০ অক্টোবর প্রথম বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের শাসনে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সে সময় আলোচনা করেন আমেরিকান কূটনীতিকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে হলে যে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তালেবানকে, সে বিষয়টি গত শুক্রবারও স্পষ্ট করেন টম ওয়েস্ট।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পেতে হলে তালেবানকে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে হবে; সংখ্যালঘু, নারী ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, তালেবানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র; তবে আপাতত কেবল মানবিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করবে।

শাসক দল তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী গত সপ্তাহে এক খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আফগানিস্তানের গচ্ছিত শত-কোটি ডলার ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে এখনও তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

তালেবানের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ ১০০ দিন

বিনা বাধায় ১৫ আগস্ট কাবুলের দখল নেয় তালেবান। ছবি: এফপি

কথা দিয়েছিল নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে তারা। আশ্বস্ত করেছিল ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিল, তা থেকে সরে আসবে নতুন সরকার। কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের ১০০ দিনে কট্টর তালেবানের আচরণে বেশি ভুগছে সুশীল সমাজ। নারী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক সবাই নিজেদের অধিকার প্রশ্নে নীরব। যারাই গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নিপীড়ন। বলতে গেলে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে পুরোপুরি।

চলতি বছরের ১৫ আগস্ট যেদিন কাবুল দখলে নেয় তালেবান, সেদিন থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দেশটির অসংখ্য মানুষ। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ১৭ আগস্ট প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধের দিকে ঝুঁকবে না নতুন সরকার।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান। ওই সময়ে তাদের কঠোর শাসনের বলি হয়েছিলেন অনেকে। এ ছাড়া ক্ষমতা হারানোর পর, দীর্ঘ ২০ বছরে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল তাদের। এসব বিষয় মাথায় রেখে উদার নীতির বুলি আওড়েছিলেন তালেবান নেতারা।

কথা দিয়েছিলেন নারীদের অধিকার কেড়ে নেয়া হবে না। মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন তারা। আশ্বস্ত করেছিলেন ২০ বছর আগে যে নীতিতে দেশ শাসন করেছিলেন, তা থেকে সরে আসবে নতুন তালেবান সরকার।

কিন্তু কথা রাখেনি তালেবান। ক্ষমতা কিছুটা পোক্ত করার পরপর স্বরূপে ফেরে গোষ্ঠীটি। তাদের প্রথম টার্গেট হন নারীরা। বাদ যাননি মানবাধিকারকর্মী, বিচারক এমনকি সাংবাদিক।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার কাউন্সিল, সাধারণ অধিবেশনের পাশপাশি জি-সেভেন ও জি-টুয়েন্টি সম্মেলনেও ১৫ আগস্ট-পরবর্তী আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ জানাতে দেখা গেছে বিশ্বনেতাদের। কিন্তু দেশটিতে মানবাধিকার প্রশ্নে সমাধান দিতে পারেনি কেউ।

নারীর অধিকার কেড়ে নেয়া

ক্ষমতা দখলের ৩ দিন পর ১৮ আগস্ট তালেবান মুখপাত্র সুহিল শাহিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও চাকরি করার অধিকার আছে। তাই তারা এসব করতে পারবেন। চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্যান্য খাতের নারীরা নির্বিঘ্নে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরাও হিজাব পরে তাদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

কিন্তু প্রকৃত চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারে নারীদের রাখা তো দূরের কথা, নারীবিষয়ক যে মন্ত্রণালয়টি ছিল, তা কার্যত অচল রেখেছেন তালেবান শাসকরা। স্কুলে কেবল ছেলেরা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের বলা হয়েছে ঘরে থাকতে। টেলিভিশনের পর্দায় নারীর চেহারা দেখানো নিষিদ্ধ হয়েছে সম্প্রতি। অনেক প্রদেশে পুরুষ ছাড়া ঘর থেকে বেরুনোও মানা।

প্রাণহানির ঝুঁকিতে মানবাধিকারকর্মীরা

ভালো নেই আফগানিস্তানে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ম্যারি লওলর সম্প্রতি ১০০ মানবাধিকারকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানিয়েছেন, মারধর, গুম, গ্রেপ্তার এমনকি খুন হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন তারা। অনেক এনজিওর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তালেবানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ফোনে হুমকি, সতর্ক করে চিঠিও দেয়া হচ্ছে অনেককে।

গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব

বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কিছুই সহ্য করতে পারছে না তালেবান। করছে সহিংস আচরণ। অধিকার ফিরে পেতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা হয়েছে বেশ কয়েকটি।

১৮ আগস্ট শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলছিল জালালাবাদে। সেখানে আচমকা গুলি চালানো শুরু করে তালেবান। নিহত হন তিনজন। এদিন হেরাতেও নিহত হন তিনজন। কাবুল ও ফায়জাবাদের সমাবেশে অংশ নেয়াদের পেটানো হয় বেদম।

টার্গেটে সাংবাদিক, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম

ক্ষমতা দখলের পর তালেবান জানিয়েছিল, দেশ শাসনে গণমাধ্যম তাদের বড় সহায়ক হবে। ভুলত্রুটিগুলো উঠে আসবে প্রতিবেদনে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সমালোচনা নিতে পারছে না তালেবান।

দেশটির ২৮ প্রদেশের এক হাজার ৩৭৯ সাংবাদিকের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশের বেশি সাংবাদিককে এরই মধ্যে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু ছাপাতে সাফ নিষেধ করেছে তালেবান।

জরিপে আরও দেখা গেছে, তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর ৬৭ শতাংশ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০ প্রদেশে ১৫৩টি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৩ মাস পর বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা

আফগানিস্তানে ৩ মাস পর বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা

আগে থেকেই বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়েছে পড়েছে। ফাইল ছবি/এএফপি

বেতনের বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষ দূতরা। তারা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কর্মরতদের বেতন পরিশোধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এর সঙ্গে তালেবানের শনিবারের ঘোষণার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকি থাকা বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে শুরু করেছে তালেবানশাসিত সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়া সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্ণ বেতন পরিশোধের কাজ শুরু হচ্ছে আজই।’

লাখো আফগান সরকারি কর্মীর কমপক্ষে তিন মাসের বেতন এখনও বাকি। তিন মাস আগে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন থেকেই নৈরাজ্য চলছে দেশটিতে; প্রবল অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে পুরো দেশ।

এমন পরিস্থিতিতে বেতনের বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

চলতি বছরের আগস্টে তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে থেকেই সরকারি বিভিন্ন খাতে বেতন পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মী।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গচ্ছিত শতকোটি ডলার অর্থ জব্দ করেছে আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান প্রশাসন। বিদেশি সহায়তানির্ভর আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ বিপুল অঙ্কের অনুদান বাতিল করেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে তালেবানশাসিত সরকারকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তহবিল স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও।

গত বৃহস্পতিবার কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষ দূতরা। তারা আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কর্মরতদের বেতন পরিশোধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এর সঙ্গে তালেবানের শনিবারের ঘোষণার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

তালেবানের আরেক মুখপাত্র ইনামুল্লাহ সামানগনি টুইটারে জানিয়েছেন, তালেবানশাসিত প্রশাসনের দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসে কর্মদিবস ছিল ৭৮টি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ৭৮ দিনে আমরা প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি আফগান মুদ্রা (২৯ কোটি ডলার) আয় করেছি।

‘শুধু গত বুধবারই আমরা ৫৫ কোটি ৭০ লাখ আফগান মুদ্রা (৫৯ লাখ ডলার) আয় করেছি।’

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশন প্রদানের কাজও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অস্ত্রে তালেবানের সামরিক কুচকাওয়াজ

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অস্ত্রে তালেবানের সামরিক কুচকাওয়াজ

রোববার কাবুলের রাজপথে অস্ত্র প্রদর্শনী করে তালেবান। ছবি: সংগৃহীত

তালেবান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সাবেক সেনাবাহিনীর পাইলট, যন্ত্রকৌশলী ও অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়েই গঠন করা হচ্ছে নতুন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তালেবান যোদ্ধারাও এতদিনের পরনে থাকা ঐতিহ্যবাহী আফগান পোশাক ছেড়ে ধরছে প্রচলিত সামরিক পোশাক।

নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সড়কে অস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে শাসকদল তালেবানের যোদ্ধারা। যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত সাঁজোয়া যান আর রাশিয়ার হেলিকপ্টার প্রদর্শনের পাশাপাশি রোববার কুচকাওয়াজেও অংশ নেয় তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনের যোদ্ধাদের অন্য সব দেশের মতো সুবিন্যস্ত সেনাবাহিনীতে রূপ নেয়ার চেষ্টা দেখাতেই তালেবানের এ উদ্যোগ।

দুই দশকের বেশি সময় বিদ্রোহী সংগঠন হিসেবে আফগানিস্তানে সক্রিয় ছিল তালেবান। চলতি বছরের আগস্টে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

আন্তর্জাতিক জোটের বিদায় ও পশ্চিমা সমর্থিত সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্র নিজেদের ভাণ্ডারে যোগ করেছে তালেবান।

তালেবানশাসিত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারাজমি জানান, বাহিনীতে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫০ জন সেনা যোগ দেয়ায় কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

এতে কাবুলের সড়ক ধরে ধীরে ধীরে চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক এম১১৭ সাঁজোয়া নিরাপত্তা যান; আকাশে ওড়ানো হয় এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের এম৪ রাইফেল বহন করছিল সেনারা।

বর্তমানে তালেবানশাসিত সরকারের ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্র আর সামরিক সরঞ্জামই আফগানিস্তানে এসেছিল সাবেক সরকারের আমলে, ওয়াশিংটন থেকে। তালেবানবিরোধী যুদ্ধে আফগান সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গত ২০ বছরে এসব অস্ত্র দিয়েছিল আমেরিকান সরকার।

কিন্তু আন্তর্জাতিক জোটের সেনাদের বিদায়ের পর তালেবানের আগ্রাসনের বিপরীতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আফগান সেনাবাহিনীর প্রতিরোধ। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালানোর পর বিপুল সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার কব্জা করে তালেবান।

তালেবান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সাবেক সেনাবাহিনীর পাইলট, যন্ত্রকৌশলী ও অন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়েই গঠন করা হচ্ছে নতুন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তালেবান যোদ্ধারাও এতদিনের পরনে থাকা ঐতিহ্যবাহী আফগান পোশাক ছেড়ে ধরছে প্রচলিত সামরিক পোশাক।

আফগানিস্তান পুনর্গঠনবিষয়ক বিশেষ মহাপরিদর্শকের গত বছর প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আফগান সরকারকে দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধবিমান, নজরদারির প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

যুদ্ধবিমানগুলোর কয়েকটি নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কিছু সেনা। বাকি সব তালেবানের দখলে। এর মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কতগুলো, তা অস্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তান থেকে বিদায় নেয়ার সময় ৭০টির বেশি যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

কাবুলের শিয়া এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ

কাবুলের শিয়া এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের একটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

তাৎক্ষনিকভাবে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আইএস জঙ্গিদেরই কাজ।

আফগানিস্তানের কাবুলে শিয়া অধ্যুষিত দাশত-ই বারচি এলাকায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

শনিবার এক প্রতিবেদনে প্রেসটিভি জানায়, কাবুলের শহরতলীতে অবস্থিত দাশত-ই বারচি এলাকাটিতে প্রধানত শিয়া ধর্মাবলম্বী হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে।

শনিবার সেখানে একটি মিনিবাসের মধ্যে কেউ বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট আওয়াজে শক্তিশালী ওই বোমাটি বিস্ফোরিত হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিনিবাসটির চালক মুর্তজা সংবাদ সংস্থা এপিকে জানান, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার একটু আগেই এক সন্দেহভাজন লোক তার বাসে চড়েন। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই বাসের পেছনের অংশে বিস্ফোরণটি ঘটে।

এ সময় মুর্তজা দেখতে পান, বাসের পেছনের দিকে দুজন পড়ে আছেন। তাদের গায়ের কাপড়ে আগুন ধরে গেছে। বাকি যাত্রীরা মুহূর্তের মধ্যেই বাস থেকে ছিটকে বেরিয়ে যান।

তাৎক্ষনিকভাবে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আইএস জঙ্গিদের কাজ। গত আগস্টে তালেবানরা পুরো আফগানিস্তান দখল করে নেয়ার পর থেকেই সংগঠিত হয়ার চেষ্টা করছে ওই অঞ্চলে থাকা আইএস খোরাসানের জঙ্গিরা।

আগের দিন গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানী ঘটেছে। এ ছাড়া মসজিদের ইমামসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে জুমার নামাজে আবারও বোমা হামলা

আফগানিস্তানে জুমার নামাজে আবারও বোমা হামলা

স্পিন গার জেলায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

বোমা হামলার বিষয়ে এএফপিকে এক তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘স্পিন গার জেলায় শুক্রবারের নামাজ চলাকালে একটি বোমা হামলার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এই হামলায় প্রাণহানিসহ বেশ ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।’

আফগানিস্তানে আবারও মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দেশটির নানগারহার প্রদেশের একটি মসজিদে এই হামলা হয়। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কিছু মানুষ।

এএফপির বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, নানগারহার প্রদেশের স্পিন গার জেলায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। গত আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ওই এলাকাটিতে ইসলামিক স্টেট তথা আইএস খোরাসানের জঙ্গিরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।

বোমা হামলার বিষয়ে এএফপিকে এক তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘স্পিন গার জেলায় শুক্রবারের নামাজ চলাকালে একটি বোমা হামলার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এই হামলায় প্রাণহানিসহ বেশ ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।’

তিনি জানান, সেখানে তিনজনের মৃত্যুর পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন মুসল্লি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওই মসজিদের ইমামও আছেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও আইএস যোদ্ধারা কাবুলের একটি সামরিক হাসপাতালে হামলা চালায়। এতে ১৯ জনের প্রাণহানি এবং ৫০ জন আহত হন। এ ছাড়া চলতি বছরেই মসজিদে বেশ কয়েকটি বোমা হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের

আফগানিস্তানে ৬০০ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের দাবি তালেবানের

ফাইল ছবি।

তালেবানশাসিত আফগানিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ‌উদ্বিগ্ন বিশ্বসম্প্রদায়। এ অভিযোগ খণ্ডাতে সম্প্রতি আইএস-কের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে তালেবান। তবে আইএস জঙ্গিরা নীরব ঘাতক বলে সতর্ক করছে পশ্চিমা বিশ্ব। হঠাৎ করে এত বিপুলসংখ্যক আইএস-কে জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের খবর সত্য হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও।

আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রায় ৬০০ সদস্যকে আটকের দাবি করেছে শাসকদল তালেবান। গত আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটককৃতদের মধ্যে আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কের (খোরাসান) ‘শীর্ষ পদধারী’ কয়েকজন কমান্ডারও আছেন।

তালেবানশাসিত আফগান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ ইন্টেলিজেন্সের মুখপাত্র কাহলিল হামরাজ রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারাগারে কঠোর নিরাপত্তায় বন্দি আছে আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীরা।’

আফগানিস্তানে চলমান নিরাপত্তা অভিযানে আইএস-কের প্রায় ৪০ সদস্যকে হত্যার তথ্যও জানান হামরাজ।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রতি অভিযোগ করে হামরাজ বলেন, তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ আইএস-কে জঙ্গির মুক্তি নিশ্চিত করেছিল সাবেক সরকার। মুক্তি পাওয়া ওই জঙ্গিরা বর্তমানে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কাবুলের সামরিক হাসপাতালে সাম্প্রতিক গাড়িবোমা হামলা।

আফগানিস্তানজুড়ে অনেক হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস-কে, যার মধ্যে কিছু আত্মঘাতী হামলাও আছে। এসব হামলায় বেসামরিক আফগান ও তালেবান সদস্যসহ কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে।

তালেবানশাসিত আফগানিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ‌উদ্বিগ্ন বিশ্বসম্প্রদায়। এ অভিযোগ খণ্ডাতে সম্প্রতি আইএস-কের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে তালেবান।

তবে আইএস জঙ্গিরা নীরব ঘাতক বলে সতর্ক করছে পশ্চিমা বিশ্ব। হঠাৎ করে এত বিপুলসংখ্যক আইএস-কে জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের খবর সত্য হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও।

আফগানিস্তানজুড়ে আইএস-কের কমপক্ষে দুই হাজার কট্টর যোদ্ধা আছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শঙ্কা- ছয় মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বে বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে জঙ্গিরা।

তালেবান ও আইএস- দুটিই কট্টর সুন্নি মুসলিম সশস্ত্র সংগঠন। দুটি দলই নিজেদের ইসলাম ধর্মের প্রকৃত পতাকাবাহী বলে দাবি করে এবং ইসলামের নিজস্ব কট্টর সংস্করণ ও চরম রক্ষণশীল জীবনবিধান আরোপে বিশ্বাসী। ধর্মীয় মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকেও গোষ্ঠী দুটির পার্থক্য সামান্য। কিন্তু তাও কয়েক বছর ধরেই প্রতিপক্ষের ভূমিকায় রয়েছে গোষ্ঠী দুটি।

আরও পড়ুন:
কাবুলের সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণ-গোলাগুলি, বহু হতাহত
নির্বাসনেও আফগান সংস্কৃতি তুলে ধরছে ‘জোহরা’
আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

শেয়ার করুন