‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রথম ‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্টগ্রহীতা জিম আগে আদালতে যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা থেকে জানা যায় যে জন্মের সময় তার দেহে লিঙ্গপরিচয় নিশ্চিত করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রত্যঙ্গ ছিল না। কিন্তু তিনি বেড়ে ওঠেন ছেলে হিসেবে। বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের পরেও জিমকে পরিপূর্ণ পুরুষের রূপ দিতে পারেননি চিকিৎসকরা। পেশাজীবনে জিম নৌবাহিনীতে কাজ করেছেন একজন পুরুষ হিসেবে। কিন্তু কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা ও চাকরি করার সময় তিনি নিজেকে উভকামী হিসেবে শনাক্ত করেন।

লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলো ‘এক্স জেন্ডার’ চিহ্নিত পাসপোর্ট। এরই মধ্যে এ ধরনের প্রথম পাসপোর্ট ইস্যুও করেছে দেশটি।

নিজেদের নারী বা পুরুষ- কোনোটাই মনে করেন না, এমন ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার জানিয়েছিল, আগামী বছর নাগাদ এ সুযোগের পরিসর আরও বাড়ানো হবে। প্রথম ‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট যিনি গ্রহণ করেছেন, তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।

তবে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট কলিন্স এলাকার ইন্টারসেক্স (উভকামী) অধিকার কর্মী ডানা জিম পাসপোর্টটি গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেন্ডার নিরপেক্ষ বিশেষণে নিজেকে বিশেষায়িত করেন জিম। ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইনি লড়াই লড়ছেন তিনি।

নিজেকে নারী বা পুরুষ হিসেবে চিহ্নিতের মাধ্যমে মিথ্যা লিঙ্গপরিচয় দিতে হয়- এমন পাসপোর্ট চাননি তিনি। তার লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ছিল, নিজের সঠিক লিঙ্গপরিচয় সম্বলিত একটি পাসপোর্ট পাওয়া যেখানে কোনো মিথ্যা তথ্য থাকবে না।

৬৩ বছর বয়সী জিম জানান, সকালে ঘুম ভাঙার পরই নিজের আইনজীবী পল ক্যাস্টিলোর কাছ থেকে একটি ক্ষুদেবার্তা, আর তারপর ফোনকলে ‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট পাচ্ছেন বলে জানতে পারেন। পরে কুরিয়ারে পাসপোর্টটি গ্রহণও করেন তিনি।

এরপর সফররত দুই অধিকার কর্মীর সঙ্গে রাতভর উভকামী সচেতনতা দিবসের আনন্দ উদযাপন করেন তিনি।

পাসপোর্টটি পেয়ে জিম আনন্দিত। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের উভকামীদের জন্য পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে তার লক্ষ্য এখনও অর্জন হয়নি।

কেবল বিশ্বভ্রমণ উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি আমি কোনো সমস্যা নই। বিষয়টা হচ্ছে যে আমি একজন মানুষ।’

প্রথম ‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্টগ্রহীতা জিম আগে আদালতে যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা থেকে জানা যায় যে জন্মের সময় তার দেহে লিঙ্গপরিচয় নিশ্চিত করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রত্যঙ্গ ছিল না। কিন্তু তিনি বেড়ে ওঠেন ছেলে হিসেবে। বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের পরেও জিমকে পরিপূর্ণ পুরুষের রূপ দিতে পারেননি চিকিৎসকরা।

পেশাজীবনে জিম নৌবাহিনীতে কাজ করেছেন একজন পুরুষ হিসেবে। কিন্তু কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা ও চাকরি করার সময় তিনি নিজেকে উভকামী হিসেবে শনাক্ত করেন।

পরে এমন লিঙ্গপরিচয় চিহ্নিত পাসপোর্ট জিমকে দিতে অস্বীকৃতি জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক উভকামী সংস্থার দুটি বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

নানা বিতর্ক ও ঘাত-প্রতিঘাত শেষে চলতি বছরের জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাসপোর্টে তৃতীয় লিঙ্গ চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ে এ সংক্রান্ত সফটওয়্যারে বড় পরিবর্তন আনতে হবে বলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

এ ছাড়া পাসপোর্টের আবেদনপত্রে এবং সিস্টেম আপডেটে ‘এক্স’ লিঙ্গ চিহ্নিত করার বিষয়টিতে ব্যবস্থাপনা ও অর্থবরাদ্দবিষয়ক বিভাগের অনুমতি অপেক্ষমান ছিল। সব সরকারি নথিতে সংস্থাটির সই থাকতে হয়।

দুই বছর আগেই এ ধরনের পাসপোর্ট চালু করেছে কানাডা সরকারও।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

বাগদাদে আদালতের বাইরে বাল্যবিবাহবিরোধীদের বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

ইরাকে ১২ বছরের এক মেয়েশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তোলপাড়; এতটাই যে আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এতে। মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল ক্ষোভ সত্ত্বেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরাকে বাল্যবিবাহের বহু ঘটনা ঘটলেও সেগুলো এত আলোচিত হয় না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার শুনানিতে এক বিচারক ১২ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের ধর্মমতে বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে গত সপ্তাহে শুনানি স্থগিত করা হয়।

রাজধানী বাগদাদের কাধামিয়া জেলা আদালতে রোববার আবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা। তবে এ দিন রায় দেয়া হবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

‘বাল্যবিবাহ শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ’ এবং ‘বাল্যবিবাহকে না বলুন’সহ বিক্ষুব্ধদের নানা স্লোগানে গত সপ্তাহে মুখর হয়েছিল আদালত প্রাঙ্গণ।

এক বিক্ষোভকারী আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে সে সময় বলেছিলেন, ‘শিশুদের ঘরে বসে কার্টুন দেখার কথা, বিয়ে করার কথা নয়। তাই আমরা এখানে নিন্দা জানাতে এসেছি।’

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

কিন্তু মেয়েটি, তার সৎ বাবা ও তার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিবৃতিতে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কাজ করা একটি বিভাগ জানায়, মেয়েটিকে বিয়েতে জোর করা হয়নি।

ইরাকের নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক আইনজীবী হালা বলেন, ‘যাই হোক না কেন, ১২ বছরের একটা শিশু আর ২৫ বছর বয়সের একটা লোকের বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইরাকের আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পিতার মত সাপেক্ষে সর্বনিম্ন ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নির্মূলবিষয়ক সার্বজনীন সমঝোতাপত্রেও ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হলে তা জোরপূর্বক হয়েছে বলে ধরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইনি বাধা সত্ত্বেও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই বাল্যবিবাহ বহু প্রচলিত, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলগুলোতে। দারিদ্র ও ধর্মচর্চার অংশ হিসেবে অনেক মা-বাবা পরিবারের বোঝা কমাতে বা আর্থিক সহায়তা পেতে ছোট ছোট মেয়ে সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন।

২০১৮ সালে ইরাক সরকারের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটিতে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের প্রথম বিয়েটি হয়েছিল ১৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার আগেই। ২০ দশমিক দুই শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে।

শেয়ার করুন

নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু

নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। ছবি: নিউজবাংলা

নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জয় আমার একার না। আমার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসীর। আমি ইউনিয়নের প্রত্যেক মানুষের কাছে ঋণী। যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের সেবা করে আমি ঋণ শোধ করব।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু।

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে ৯ হাজার ৫৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ঋতু।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, সরকারিভাবে তারা এখনও ফল হাতে পাননি। পেলে ঘোষণা করবেন।

নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জয় আমার একার না। আমার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসীর। আমি ইউনিয়নের প্রত্যেক মানুষের কাছে ঋণী। যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের সেবা করে আমি ঋণ শোধ করব।’

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের ভ্যানচালক আসাদ হোসেন বলেন, ‘নজরুলের তো কোনো পিছটান নেই। সে আমাগের আগেও উপকার করেছে, তাই আমরা তাকে ভোট দিছি। আগেও দেখিছি মানুষ বিপদে পড়লি রাত-বিরাত নেই সে চলে গেছে, যা পারেছে সাহায্য করেছে।

‘এখুন চেয়ারম্যান হলো, আমরা আশা করছি, সে আরও ভালোমতো আমাগের সেবা করতি পারবে।’

ঋতুর ছোট ভাই কোরবান আলী বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমার ভাইয়ের সমস্যা ছিল। ২০ বছর আগে সে ঢাকায় চলে যায়। এরপর বাড়িতে আসতে শুরু করে। ঢাকা যখন ছিল তখনও এলাকার মানুষের উপকার করত।

‘নিজের টাকায় এলাকার রাস্তা মেরামত করে দেয়া; মসজিদের উন্নয়নে টাকা দিত। আমার ভাই ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এ জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর সুষ্ঠু ভোট হওয়ার জন্য প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রোববার কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ভোট হয়। এসব ইউপিতে ভোটারের সংখ্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৫।

উপজেলার ১১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন, সাধারণ সদস্যপদে ৩১৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শেয়ার করুন

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

শেয়ার করুন

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।    

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী।

ফান্দাউক ইউনিয়নের সওদাগর গ্রামে শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার এক দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে বিয়ের কথা ছিল ওই কিশোরীর। খবর পেয়ে ইউএনও হালিমা খাতুনের নেতৃত্বে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হয় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেয়ার করুন

দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

সুইডেনের প্রথম নারী সরকারপ্রধান ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ছবি: এএফপি

ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের এই নেতা বলেন, ‘জোট সরকার থেকে কোনো দল সরে গেলে সেই সরকারের পদত্যাগ করাই আমাদের সাংবিধানিক চর্চা। আমি এমন সরকারের নেতৃত্বে থাকতে চাই না, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।’

নিয়োগ পাওয়ার ১২ ঘণ্টা না যেতেই পদত্যাগ করেছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। দেশটির প্রথম নারী সরকারপ্রধান অ্যান্ডারসন এক দিনও টিকতে পারলেন না পদটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পার্লামেন্টে ভোটে জয়ের পর বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জোট সরকারের অংশীদার একটি দলের জোট ত্যাগ ও অ্যান্ডারসনের বাজেট প্রস্তাব আটকে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ করেন নবনিযুক্ত এই সরকারপ্রধান।

অ্যান্ডারসনের প্রস্তাবটি খারিজের পর পার্লামেন্টে ভোটে বিরোধীদের বাজেটবিষয়ক একটি পরিকল্পনা উতরে যায়। বিরোধীদের একটি অংশ অভিবাসীবিরোধী কট্টর ডানপন্থি আইনপ্রণেতা।

এর জেরে অ্যান্ডারসনের জোট সরকারের অন্যতম দল গ্রিন পার্টি জানায়, ‘ডানপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৈরি করা নজিরবিহীন খসড়া বাজেটে’ সম্মত নয় দলটি।

অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের জানান, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান তিনি। একদলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেন তিনি।

ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের এই নেতা বলেন, ‘জোট সরকার থেকে কোনো দল সরে গেলে সেই সরকারের পদত্যাগ করাই আমাদের সাংবিধানিক চর্চা। আমি এমন সরকারের নেতৃত্বে থাকতে চাই না, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।’

অ্যান্ডারসনের পদত্যাগের পর পরবর্তী করণীয় নিয়ে দলনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন সুইডিশ পার্লামেন্টের স্পিকার।

চলতি মাসে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। মঙ্গলবার বামপন্থিদের সঙ্গে তার চুক্তি চূড়ান্তের পরদিন পার্লামেন্টে ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

শেয়ার করুন

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে সুইডেন

সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পথে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। ফাইল ছবি/এএফপি

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের। সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।

পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে চূড়ান্ত হবে তার ভাগ্য।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।

চলতি মাসে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী এই নেত্রী। মঙ্গলবার বামপন্থিদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয় তার।

পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির শর্তে অ্যান্ডারসনকে সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে লেফট পার্টি। পার্লামেন্টে বুধবারের ভোটে অ্যান্ডারসনের পক্ষে রায় দেবেন দলটির আইনপ্রণেতারা।

স্টকহোমের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হবে ভোট।

সুইডেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন দরকার হয় না। প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেই চলে।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের জোটের অংশীদার গ্রিন আর সেন্টার পার্টির সমর্থনও আগেই নিশ্চিত করেছেন অ্যান্ডারসন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে সেন্টার পার্টি অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

লেফট পার্টির প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হলে অ্যান্ডারসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি আগেই দিয়েছিল মধ্যপন্থিরা।

পার্লামেন্টে ভোটে জিতলে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তফের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধামন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন; স্থলাভিষিক্ত হবেন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের।

সাত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন স্তেফান লোফভেন।

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে টিভি নাটকে নারীদের অভিনয়ে মানা

আফগানিস্তানে টিভি নাটকে নারীদের অভিনয়ে মানা

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে আফগানিস্তানের নারী সাংবাদিক ও উপস্থাপকদের ওপরও। ছবি: বিবিসি

নিষিদ্ধ করা হয়েছে শরিয়াহ বা ইসলামিক আইন এবং আফগানিস্তানের মূল্যবোধ-বিরুদ্ধ সব ধরনের সিনেমা। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর কৌতুক ও বিনোদনের ক্ষেত্রে যেসব আফগানিস্তানের মূল্যবোধবিরোধী, সেগুলোও নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানে নারীদের ওপর আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল তালেবান সরকার। এর মধ্যে রয়েছে টেলিভিশনে কোনো নাটকে নারীরা অভিনয় করতে পারবেন না

পাশাপাশি নারী সাংবাদিক ও উপস্থাপকদের মাথায় স্কার্ফ পরে পর্দার সামনে আসতে বলা হয়েছে। তবে কোন ধরনের স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে নির্দেশনায় তা পরিষ্কার করা হয়নি।

সাংবাদিকদরা বলছেন, নির্দেশনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি অস্পষ্ট। এগুলো ব্যাখ্যা করা দরকার।

দুই দশক পর চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝিতে ফের আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। কিছুদিন পর গঠন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আর এই সরকার নারীদের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলছে। শুরুতেই মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা, যেমনটা ১৯৯০-এর দশকে ক্ষমতায় এসেও করেছিল তালেবান।

আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য নতুন আটটি নিয়ম জারি করেছে তালেবান সরকার। এসবে নারীদের অভিনয়ে বারণের পাশাপাশি আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ করা হয়েছে শরিয়াহ বা ইসলামিক আইন এবং আফগানিস্তানের মূল্যবোধ-বিরুদ্ধ সব ধরনের সিনেমা। পুরুষদের ক্ষেত্রেও কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর কৌতুক ও বিনোদনের ক্ষেত্রে যেসব আফগানিস্তানের মূল্যবোধবিরোধী, সেগুলোও নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেশির ভাগই বিদেশি নাটক দেখায়, যেগুলোতে নারী চরিত্রের প্রাধান্য থাকে।

নারীদের অভিনয় ও নারী সাংবাদিকদের ওপর এসব বিধিনিষেধ ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে উল্লেখ করেছেন আফগানিস্তানে একটি সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল্লাহ মুজাদ্দেদি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, কয়েকটি বিধিনিষেধ বাস্তবিক নয়। এগুলো যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে সম্প্রচারকারীরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।

শেয়ার করুন