আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান

আফগানিস্তান সবুজায়নে সহযোগিতা চায় তালেবান

আফগানিস্তানে সবুজায়ন প্রকল্পে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতি আহ্বান তালেবান নেতা সুহেইল শাহীনের। ছবি: এএফপি

তালেবানের নেতা সুহেইল শাহীন বলেন, ‘আফগানিস্তানে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বেশ কিছু প্রকল্প এরই মধ্যে জাতিসংঘের অনুমোদন পেয়েছে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, ইউএনডিপি, আফগান এইডের অর্থায়নের ওই সব প্রকল্পের কাজ ফের পূর্ণোদ্যমে শুরু করা উচিত।’

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক এই জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬ নামেও পরিচিত।

রোববার সম্মেলনের প্রথম দিন আফগানিস্তানে গ্রিন প্রজেক্ট বা সবুজায়ন প্রকল্পে ফের পূর্ণ সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগান সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এর কয়েক সপ্তাহ পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি এখন পর্যন্ত পায়নি তালেবান সরকার।

এ কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গ্লাসগোতে চলমান বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে তালেবান সরকারের কোনো প্রতিনিধি নেই।

তবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাতে না পারলেও তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা সুহেইল শাহীন কপ ২৬ এ অংশ নেয়া দেশ ও সংস্থার উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়েছেন।

তিনি জানান, জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়া আফগানিস্তানে জলবায়ু কর্মসূচি ফের চালু করা উচিত।

টুইটবার্তায় তালেবানের এই নেতা বলেন, ‘আফগানিস্তান জলবায়ু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে দেশে ব্যাপক আকারে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বেশ কিছু প্রকল্প এরই মধ্যে জাতিসংঘের অনুমোদন পেয়েছে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, ইউএনডিপি, আফগান এইডের অর্থায়নে ওই সব প্রকল্পের কাজ ফের পূর্ণোদ্যমে শুরু করা উচিত।’

বিশ্বের বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। দেশটির পরিবর্তিত এ জলবায়ুর কারণে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগতে পারে।

চলতি বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের হঠাৎ পটপরিবর্তনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

তালেবান নেতা শাহীন এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রকল্পগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম তালেবান সরকার।

‘এনজিও ও দাতা সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপদ পরিবেশ দিতে এ সরকার বদ্ধপরিকর।’

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

এবার সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি। ফাইল ছবি/এএফপি

একটি নতুন হেলিকপ্টার কেনা ও তা ভাড়া নিয়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে পড়ে এবং তা ভঙ্গ করায় ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির নতুন একটি মামলা করেছে জান্তা সরকার।

মামলায় তার সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি নতুন হেলিকপ্টার কেনা ও তা ভাড়া নিয়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি দুর্নীতিবিরোধী আইনের অধীনে পড়ে এবং তা ভঙ্গ করায় ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী সু চির বিরুদ্ধে ডজনের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ প্রোটোকল ভাঙার মামলাও।

একটি মামলায় মঙ্গলবার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা হয়নি। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে এই নেত্রীকে।

নতুন করে অভিযোগ আনা দুর্নীতির মামলা সম্পর্কে জান্তা সরকারের কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন সু চির আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কিছু বলতে চাননি।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শর বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

ডিসেম্বরে জেলা সফরে যাচ্ছেন মমতা

ডিসেম্বরে জেলা সফরে যাচ্ছেন মমতা

সফরের প্রথম দিন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: হিন্দুস্থান টাইমস

ভারতের উত্তরের জেলাগুলোতে সফরকালে জেলাশাসক, বিডিও ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখে বৈঠকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

ফের ভারতের উত্তরের পাঁচ জেলা সফরে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডিসেম্বরের ৭ তারিখে সফরের প্রথম দিনে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্ন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর উত্তরের জেলা দিয়ে মমতা প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেন। গত অক্টোবরে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে তিনি এ ধরনের বৈঠক করেছিলেন।

তবে এবার সফরকালে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে প্রথমে গঙ্গারামপুরে ও পরে রায়গঞ্জে বৈঠক করবেন। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

সরকার প্রকল্পের আদর্শ মেনে নাগরিকদের আর সরকারের কাছে আসতে হবে না। সরকারই পৌঁছে যাবে জনগণের কাছে। এ সময় জেলাশাসক, বিডিও ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখে বৈঠকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

এদিকে আগামী বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যের বাকি পৌরসভাগুলোতে ভোট গ্রহণের কথা রাজ্য সরকার আদালতে জানিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে পৌর ভোটের বিষয়টিও থাকছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে। বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে টক্কর দিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতায় একলা চলো নীতিতেই আস্থা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে আসতে চাইলে স্বাগত জানাবে দল।

সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজেপি-বিরোধিতায় নিজেদের শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে।’

তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধানে কিছু পরিবর্তন হবে জানিয়ে ডেরেক বলেন, ‘বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। আর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তিনি বলেন, ‘মমতাদির লড়াই, ‘কর্মীদের মৃত্যু গোটা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে তৃণমূলের ডিএনএ পরিবর্তন হচ্ছে না, শুধু দলের সংবিধান পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

জেডিইউ ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে আসা পবন বর্মা বলেন, ‘আজ দেশের যে অবস্থা তাতে এটা স্পষ্ট যে সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দায়িত্ব নিতে হবে।’

বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা, মেঘালয়, উত্তরপ্রদেশের তৃণমূল নেতারা। ছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ি মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য যশবন্ত সিনহা। তৃণমূলের পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসবে দিল্লিতে।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়ায় ছাড় দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

রেল ও বিমান ছাড়া ভারতের সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণে কোনো জাতীয় নীতি নেই। সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ করে রাজ্য সরকার। আর বাস ভাড়ায় কনসেশন দেয়া হয় বেশির ভাগ রাজ্যেই।

সড়ক পরিবহনের যাত্রীভাড়ায় কাদের কতটা ছাড় দেয়া হবে, অথবা আদৌ ছাড় দেয়া হবে কি না, সেসব সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়া সমস্যার সমাধানে কখনও কখনও জেলা প্রশাসনও স্থানীয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন বাস ভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড়।

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

যেমন নয়া দিল্লি। ভারতের রাজধানী শহরে বাস চলে পুরোপুরি দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (ডিটিসি) নিয়ন্ত্রণে। ডিটিসির সাধারণ বাসে ছাত্রদের জন্য একটি মাসিক কার্ড পাওয়া যায় ১০০ টাকায়। ওই কার্ডে দিল্লির মধ্যে যেকোনো রুটে যাতায়াত করা যায়। বিশেষ বাসের জন্য ওই কার্ডের দাম ১৫০ টাকা। তবে শীততাপনিয়ন্ত্রিত বাসে ওই কার্ড প্রযোজ্য নয়।

আবার জম্মু-কাশ্মীরে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি সব বাসে যাত্রীভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। তবে এই ছাড় শুধুমাত্র বাসস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ফিরে আসার জন্য। বাসে দেখাতে হবে ছাত্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। কোনো বাস যদি সরকারি নির্দেশ না মানে তবে ছাত্ররা অভিযোগ জানাতে পারে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে বৃহৎ মুম্বাই বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং পরিবহন (বেস্ট) পরিচালিত বাসগুলোতেও শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ছাড় দেয়া হয়।

তাদের একটি মাসিক ফর্ম আছে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্পসহ যেকোনো ডিপোতে জমা দিতে হয়। তারা শিক্ষার্থীদের এটিএম কার্ডের মতো একটি কার্ড প্রদান করে। এটি শুধু বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজে নন এসি বাসে যাওয়া-আসার জন্য কার্যকর।

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে বাস নিয়ন্ত্রণ করে সেখানকার পৌর সংস্থা। নাসিক মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অধীন নাসিক মহানগর পরিবহন মহামন্ডল লিমিটেডের বাসে শিক্ষার্থীরা এক মাসের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ৫০ শতাংশ এবং তিন মাসের জন্য ৬৬ শতাংশ ছাড় পায়। একমাসের মাসিক টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৫০০ রুপি । ছাত্রদের দিতে হয় ৭৫০ রুপি।

শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া ছাড় দেয়ায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ু অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই রাজ্যে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত সাতটি পরিবহন করপোরেশন।

২০১৫ সালে রাজ্য সরকার কমিউনিটি কলেজ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি আইটিআই, সঙ্গীত কলেজ এবং চেন্নাই করপোরেশন আইটিআইগুলোর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা প্রসারিত করেছিল। সুবিধা পেয়েছিলেন ৩২ লাখের বেশি ছাত্র।

এ ছাড়া ওই রাজ্যে বেসরকারি আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ, পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ফি ছাড় দেয়া হয়।

২০১৩ সাল পর্যন্ত শুধু স্কুল ও সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আইটিআই-এর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে ভ্রমণের মাধ্যমে পরিবহন করপোরেশনগুলোর ব্যয় প্রতি বছর ৪৪০-৪৫০ কোটি রুপি ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে তা বেড়ে ৭৩০ কোটি রুপি হয়।

দক্ষিণ ভারতের আর একটি রাজ্য কেরালা। বামজোটশাসিত এই রাজ্যেও বাসভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড় আছে। ২০১২ সালে সেখানে শেষবার বাসভাড়ায় পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ছাত্রদের জন্য নূন্যতম ভাড়া ছিল ১ রুপি।

সম্প্রতি সেখানে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে নূন্যতম সাধারণ যাত্রীভাড়া হতে পারে ১০ রুপি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ভাড়া ৫ রুপি করার প্রস্তাব আছে। বাস মালিকরা চাইছে ৬ টাকা করতে। অর্থাৎ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে ছাত্ররা।

বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে খুবই করুন অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। এ বিষয়ে সেখানকার এক ছাত্র ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, অধিকাংশ ছাত্রই জানে না যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের বাসে ছাত্রদের জন্য বিশেষ ভাড়া রয়েছে। আপনি যদি কন্ডাক্টরকে একজন ছাত্র ভাড়া টেন্ডার করতে বলেন তাহলে আপনি মূল ভাড়ার উপর ফ্ল্যাট ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। হ্যাঁ, অনেক কন্ডাক্টর ডিসকাউন্ট রেট দিতে অস্বীকার করতে পারে, তবে আপনি তাকে নিচের উল্লিখিত পদ্ধতিতে গাইড করতে পারেন।’

অর্থাৎ ছাত্র, বাসের কন্ডাক্টর কেউই জানেন না বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ছাড়ের বিষয়টি।

এই প্রতিবেদনটা লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।

একজন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়মের কথা জানি না। তবে আসানসোল, বরাকর, বার্নপুর, রানীগঞ্জ অঞ্চলে মিনি বাসে ছাত্র কনসেশন আছে বাস মালিকদের সংগঠনের সৌজন্যে।’

আবার মেদিনীপুরের একজন বলেছেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছাত্রদের বাস ভাড়ায় এক-তৃতীয়াংশ ছাড় দেয়া হয়।’

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক শিক্ষক বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।’

অর্থাৎ বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেবার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে আছে বিশৃঙ্খলা।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

সৎকারে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

ম্যাটাডোর ট্রাকে পাথরবোঝাই লরির ধাক্কায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৮ জনের। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত এক ব্যক্তির সৎকারের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণঘাতী এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন স্বজনরা।

রাজ্যের নদীয়া জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাঁসখালি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ নিয়ে একটি ম্যাটাডোর ট্রাক উত্তর ২৪ পরগনার বাগড়া এলাকা থেকে নবদীপ শ্মশানে যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে ম্যাটাডোর ট্রাকটিকে পাথরবোঝাই একটি লরি ধাক্কা দিলে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যাটাডোরটি। হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে এবং লরির ধাক্কা লাগে।

ঘটনাস্থলেই ১৮ জন নিহত হয়। আহতদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ঘন কুয়াশা আর গাড়ির গতি বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনখড়। জোর দিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ধনখড়।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় রায়ের অপেক্ষায় সু চি

উসকানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অং সান সু চির। ফাইল ছবি/এএফপি

সু চির বিরুদ্ধে করা কমপক্ষে ১২টি মামলার কোনোটিরই রায় ঘোষণা করা হয়নি এখনও। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী এ নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে তাকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বিরুদ্ধে উসকানির মামলায় রায় হতে পারে মঙ্গলবার। ফলে দুই দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে- কী আছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এ নেত্রীর ভাগ্যে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একগুচ্ছ মামলার মধ্যে উসকানির মামলায় প্রথম রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে সু চির।

প্রায় ১০ মাসে সু চির বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি, প্রতারণা, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা, অবৈধ ওয়াকিটকি আমদানিসহ কমপক্ষে ১২টি মামলা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সবশেষ গত ১৬ নভেম্বের সু চিসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির নতুন অভিযোগ গঠন করা হয়।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলারই রায় ঘোষণা করা হয়নি। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হতে পারে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে।

রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা প্রথম মামলায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দিয়েছেন তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী; আটক করে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ অনেককে।

এরপর থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিয়ানমার। বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় সেনাবাহিনী।

এ পর্যন্ত ১২ শ’র বেশি মানুষকে হত্যা ও ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সু চি। তাই দেশটিতে সামরিক শাসন অব্যাহত রাখতে সু চিকে সারা জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে চায় সেনাবাহিনী। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব মামলা।

মাঝে মাঝে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত উসকানির মামলাটিতে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। সু চির অপরাধ হিসেবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জনগণকে উসকানি দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্র।

রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর গঠিত বিশেষ আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ছিল। সু চির আইনজীবীদেরও গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

সু চিকে নিয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায় বিলম্বিত হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর সু চির বিরুদ্ধে প্রথমে অনিবন্ধিত ওয়াকিটকি রাখা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় মহামারিকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী। এরপর ধাপে ধাপে অন্য মামলাগুলো করে জান্তা।

প্রায় প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সু চি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সাবেক জান্তা সরকারের আমলে ইয়াঙ্গুনে ঔপনিবেশিক আমলে পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িতে অনেক বছর গৃহবন্দি ছিলেন সু চি। সে সময় বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া লাখো জনতার সামনে মাঝে মাঝে বারান্দা দিয়ে দেখা দিতেন তিনি।

বর্তমানে অতি সুরক্ষিত রাজধানীতে অজ্ঞাত স্থানে সু চিকে বন্দি করে রেখেছে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠী। সু চির সঙ্গে আছে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী।

এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে সু চির যোগাযোগ নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে শুনানিপূর্ব বৈঠকেই সীমিত।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির অন্য শীর্ষ পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা শেষের দিকে। চলতি মাসেই সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রীকে ৭৫ বছর আর সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তা সরকার।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

‘ওমিক্রন’ আতঙ্কে বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে হুলস্থুল

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দুই যাত্রীর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর তারা করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এমনই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে।

শনিবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই আফ্রিকানের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের শরীরে ‘ওমিক্রন’ মিলেছে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এ পর্যন্ত যে ক’টি ধরনের খোঁজ মিলেছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়। সেই ধরনেই আফ্রিকার এই নাগরিক আক্রান্ত কীনা তা নিয়েই চাঞ্চল্য বেঙ্গালুরুতে।

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দরে অবতরণ করা সংশ্লিষ্ট বিমানে মোট ৫৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই দশটি ‘হাই-রিস্ক’ দেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই বেঙ্গালুরুতে পা রেখেছেন ৯৪ জন। ওই ১০ দেশেই করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে।

কর্নাটক সরকার কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বেশ কয়েকটি কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাইয়ের সভাপতিত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে সরকার বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্ক্রিনিং জোরদার করবে এবং কেরালা ও মহারাষ্ট্র থেকে আগতদের জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করবে।

সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে আগতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই দেশগুলো থেকে গত ১৫ দিনে যারা রাজ্যে প্রবেশ করেছে তাদের আবারও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘প্রকাশ্যে’ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা আখুনজাদা
গানবাজনা বন্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২
আমাদের রিজার্ভের অর্থ ফেরত দিন: পশ্চিমাদের তালেবান
আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

শেয়ার করুন