× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
What is Facebook going to do
google_news print-icon

জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী

জাকারবার্গের-মেটা-ও-মেটাভার্স-কী
প্রাতিষ্ঠানিক নাম ও লোগো পরিবর্তনের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রধান কার্যালয় থেকে আগের ফেসবুকের লোগো নামিয়ে বসানো হয় মেটার নতুন লোগো। ছবি: এএফপি
মেটাভার্সের সৃষ্ট ভার্চুয়াল বিশ্বের কোনো সীমা-পরিসীমা থাকবে না। এটা এমন এক ‘ভার্চুয়াল পরিবেশ’ যেখানে কেবল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে আপনি তার ভেতরে ঢুকে চলে যেতে পারবেন যেকোনো স্থানে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির নতুন নাম মেটা প্ল্যাটফর্মস, সংক্ষেপে মেটা। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ বা সাইটটি আগের, তথা ফেসবুক নামেই থাকছে; কিন্তু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি এখন থেকে সামগ্রিকভাবে পরিচালনা করবে মেটা, যা আগে ছিল ফেসবুকের অধীনে।

ফেসবুক, তথা মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ভার্চুয়াল বিশ্ব গড়ার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘কোম্পানি রিব্র্যান্ডিং’-এর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

রিব্র্যান্ডিং হলো এক ধরনের বিপণন কৌশল। আগে থেকেই বাণিজ্যিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নতুন নাম, প্রতীক, ধারণা ইত্যাদি গ্রহণ করে। রিব্র্যান্ডিংয়ের লক্ষ্য হলো গ্রাহক, বিনিয়োগকারী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ও অন্য শেয়ারহোল্ডারদের মনে একটি নতুন ও ভিন্ন পরিচয়ে জায়গা তৈরি করা।

এর আগে এমনই একটি কাঠামো গ্রহণ করেছিল গুগলও। ইন্টারনেটভিত্তিক পণ্য উৎপাদন-বিক্রয় ও সেবাদানকারী বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে অ্যালফাবেট নামের একটি হোল্ডিং কোম্পানির অধীনে পুনর্গঠিত হয়।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাকারবার্গ রিব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবে ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের দাবি করলেও তা মানতে নারাজ সমালোচকরা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক থেকে নজর ঘোরাতে এবং ব্যবসায়িক চর্চার ধরন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক।

এ অবস্থায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সাধারণ সংগঠন হিসেবে ফেসবুক নাম পাল্টে মেটা হলে আদতে কী লাভ হবে।

ফেসবুকের নাম পরিবর্তনের অর্থ কী

ফেসবুক কোম্পানি আগের নাম পাল্টে নতুন নাম মেটায় পরিচিত হবে। কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপের নাম থাকবে আগেরটাই- ফেসবুক।

নতুন নাম গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন প্রতীক বা লোগোও নির্ধারণ করেছে মেটা।

এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব অ্যাপ ও প্রযুক্তি একটি সাধারণ কোম্পানি ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালনা করা হবে।

২০০৪ সালে চালু হয় ফেসবুক। এরপর প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ নামের আরও দুটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ কিনে নেয়।

এ ছাড়া গত কয়েক বছরে অন্যান্য প্রযুক্তিতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি। যেমন ডিজিটাল ওয়ালেট ‘নোভি’, ভিডিও-কলিং ডিভাইস ‘পোর্টাল’ ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেম ‘অকুলাস’।

এই সবগুলো প্রতিষ্ঠানের ‘মাদার অর্গানাইজেশন’, অর্থাৎ সাধারণ মালিক বা পরিচালনাকারী মূল ও একক প্রতিষ্ঠান এখন মেটা, যা আগে ছিল ফেসবুক।

জাকারবার্গের এ রিব্র্যান্ডিং কৌশলের বড় অংশজুড়ে থাকবে ‘মেটাভার্স’ নামের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। মেটাভার্সকে বলা হচ্ছে এমন এক ডিজিটাল বিশ্ব বা ভার্চুয়াল বাস্তবতা, যেখানে মানুষের পক্ষে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে এবং তারা এক ধরনের ভার্চুয়াল পরিবেশে যোগাযোগ করতে পারবে।

কিন্তু সমালোচকদের সন্দেহ, অভ্যন্তরীণ নথি ফাঁসের পর তুমুল বিতর্কের মুখে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ফেসবুক।

সম্প্রতি এসব নথি ফাঁস করেন ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন। সেসব নথি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, সারা বিশ্বের ব্যবহারকারীদের ওপর নেতিবাচক ও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকের। এ সংক্রান্ত সব সতর্কতা বারবার উপেক্ষা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মেটাভার্স কী

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিখাতে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ ‘মেটাভার্স’।

মেটাভার্স একটি ভার্চুয়াল বিশ্ব, যেখানে যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেকে যুক্ত করে, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে, যেকোনো কাজই করতে পারবেন একজন ব্যক্তি।

দ্য ম্যাট্রিক্স, রেডি প্লেয়ার ওয়ান ও ট্রনের মতো বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোতে এমন ভার্চুয়াল বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে মানুষ।

জাকারবার্গের মতে, মেটাভার্সের মাধ্যমে যোগাযোগ, উদ্ভাবনসহ সব ধরনের কাজ করতে পারবে মানুষ। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ১০০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে এ প্রযুক্তি।

স্বল্পমেয়াদে এ প্রকল্প থেকে কোনো আয় আসবে না এবং জীবদ্দশায় ব্যক্তিগতভাবে জাকারবার্গের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন প্রযুক্তিসম্রাট।

বিশ্লেষকদের তিনি বলেন, ‘বর্তমান তো দূর, নিকট ভবিষ্যতেও এ খাতে বিনিয়োগ আমাদের জন্য লাভজনক নয়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে মোবাইল ইন্টারনেটের উত্তরসূরী হতে যাচ্ছে মেটাভার্স।’

মেটাভার্সের ‘মেটা’ শব্দটির অর্থ কী

ইংরেজি ভাষায় ‘মেটা’ শব্দটি একটি উপসর্গ, যা অন্য একটি অর্থপূর্ণ শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি করে। যেমন- মেটাকারপাস (কব্জি ও পাঁচ আঙুলের মধ্যবর্তী হাতের তালুর পাঁচটি হাড়), মেটাল্যাঙ্গুয়েজ (আরেকটি ভাষার ব্যাখ্যা করা হয় যে ভাষায়) এবং মেটামোরফোসিস (রূপ পরিবর্তন) ইত্যাদি।

গ্রিক ভাষায় মেটা শব্দের অর্থ ‘গণ্ডির বাইরে’ বা ‘প্রচলিত রীতিকে ভাঙা’।

আবার গণমানুষের সংস্কৃতিতে মেটা শব্দটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। আত্মসচেতনতা বা পূর্ববর্তী ধারণাকে ভেঙে এগিয়ে যাওয়া বা নতুন ধারণা গ্রহণের বিষয়টিকে বলা হয় মেটা। সৃজনশীল কাজে শব্দটি বহুল ব্যবহৃত।

কীভাবে কাজ করবে জাকারবার্গের মেটাভার্স

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটাভার্স প্রকল্পের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ভার্চুয়াল বাস্তবতা (ভিআর) ও অগমেন্টেড বাস্তবতার (এআর) ওপর বিপুল বিনিয়োগ করেছেন জাকারবার্গ।

জাকারবার্গের মেটা ও মেটাভার্স কী
অকুলাস কোয়েস্ট ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) গেমিং সিস্টেমের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি

বাস্তব জগতের মতো কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন কৃত্রিম অভিজ্ঞতা হলো ভার্চুয়াল বাস্তবতা।

অন্যদিকে, অগমেন্টেড বাস্তবতা বলতে বোঝানো হয় বাস্তব শারীরিক বিশ্বের একটি সম্প্রসারিত সংস্করণকে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল ভিজুয়াল উপকরণ, শব্দ ও অন্যান্য সংবেদনশীল উদ্দীপনা ব্যবহারের মাধ্যমে অগমেন্টেড বাস্তবতা অর্জন করা সম্ভব। মোবাইল কম্পিউটিং ও ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশনসের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগমেন্টেড বাস্তবতার ধারণা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড বাস্তবতাকে দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত করতে অকুলাস ভিআর হেডসেট, এআর চশমা, প্রযুক্তি যুক্ত রিস্টব্যান্ডসহ নানা পণ্য তৈরিতে গবেষণা করছে ফেসবুক।

বলা হচ্ছে, মেটাভার্সের সৃষ্ট ভার্চুয়াল বিশ্বের কোনো সীমা-পরিসীমা থাকবে না। এটা এমন এক ‘ভার্চুয়াল পরিবেশ’ যেখানে কেবল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে আপনি তার ভেতরে ঢুকে চলে যেতে পারবেন যেকোনো স্থানে।

ভিআর হেডসেট, এআর চশমা, প্রযুক্তি যুক্ত রিস্টব্যান্ড, স্মার্টফোন অ্যাপ ও আরও অনেক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে বৈঠক-আড্ডা, খেলাধুলা, কর্মস্থল যেকোনো জায়গায় যোগ দিতে পারবেন আপনি।

এমনকি কেনাকাটা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংসহ অনলাইনভিত্তিক আমাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডও আসবে মেটাভার্সের আওতায়। বাদ থাকবে না কনসার্টে যোগ দেয়া, বেড়াতে যাওয়া, ডিজিটাল পোশাকের ট্রায়ালসহ কোনোকিছুই।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঘরে বসে অফিসের কাজ করার ক্ষেত্রেও গেম-চেঞ্জার হতে পারে মেটাভার্স। ভিডিও কলের মাধ্যমে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে থাকার দিন শেষ হবে; এর বদলে কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বসে কাজ করতে পারবেন, আলোচনা করতে ও কথা বলতে পারবেন- ঠিক যেমন অফিসে করেন।

হরাইজন ওয়ার্করুমসসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের সফটওয়্যার চালু করেছে সাবেক ফেসবুক, বা বর্তমান মেটা। অকুলাস ভিআর হেডসেট দিয়ে কাজ করছেন কর্মীরা, যার একেকটির মূল্য শুরুই ৩০০ ডলার থেকে। এখনও পণ্যটির সুবিধার বিষয়ে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

প্রতিটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সংযুক্ত করার উপায় খুঁজতে হবে। এজন্য আগে তাদের সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হবে।

ফেসবুক কী পরিপূর্ণভাবে মেটাভার্সেই রূপ নেবে?

জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ অনেক আশাব্যঞ্জক। এটি ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তাই আগামীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নয়, ফেসবুককে মেটাভার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখতে শুরু করবে মানুষ।

মেটাভার্স দাঁড় করাতে একজোট হবে অনেক প্রতিষ্ঠান

শুধু তাই নয়, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেটাভার্স কাজ করবে না বলেও জানিয়েছেন জাকারবার্গ। এরই মধ্যে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, চিপনির্মাতা ভিডিয়া আর ভিডিও গেম প্রতিষ্ঠান এপিক গেমস, রোবলক্সের সঙ্গে মেটাভার্সকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় ভিডিও গেইম ফর্টনাইটের কারিগর প্রতিষ্ঠান এপিক গেমস এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে। মেটাভার্স প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যয় হবে এ অর্থ।

শিখন কার্যক্রম, খেলাধুলা, সামাজিকতা রক্ষা ও সাধারণ কাজকর্মের জন্য মেটাভার্সে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে কাজ করছে রোবলক্স।

ইতালিভিত্তিক জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউজ গুচি চলতি বছরের জুনে রোবলক্সের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী ডিজিটাল আনুষঙ্গিক পণ্যও বিক্রি করবে তারা।

মেটাভার্সে ঢোকার টিকিট হিসেবে ডিজিটাল টোকেন বিক্রি করেছে কোকা-কোলা ও ক্লিনিক।

আরও পড়ুন:
ফেসবুকে যোগ দিচ্ছেন শাবিপ্রবির দুই ছাত্র
ফেসবুকের নতুন নাম ‘মেটা’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Microsoft fined and20 million

মাইক্রোসফটকে ২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

মাইক্রোসফটকে ২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যবহারকারীদের তাদের প্রথম এবং শেষ নাম, একটি ইমেল ঠিকানা এবং জন্ম তারিখ দিতে হয়েছিল। এফটিসি বলেছে, মাইক্রোসফট চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট বা সিওপিপিসি নামে একটি আইন লঙ্ঘন করেছে।

বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়াই শিশুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাইক্রোসফটকে ২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে।

ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) অভিযোগ করেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন বহুজাতিক কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে তাদের বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ করেছে। তাদের অনুমতি ছাড়াই মাইক্রোসফট এই শিশুদের এক্সবকস গেমিং সিস্টেমে সাইন আপ করেছে এবং এই তথ্যটি ধরে রেখেছে।

একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যবহারকারীদের তাদের প্রথম এবং শেষ নাম, একটি ইমেল ঠিকানা এবং জন্ম তারিখ দিতে হয়েছিল। এফটিসি বলেছে, মাইক্রোসফট চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট বা সিওপিপিসি নামে একটি আইন লঙ্ঘন করেছে।

এফটিসির ব্যুরো অফ কনজিউমার প্রোটেকশনের প্রধান স্যামুয়েল লেভিন বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তাবিত আদেশটি অভিভাবকদের জন্য এক্সবকস-এ তাদের বাচ্চাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা সহজ করে তোলে এবং মাইক্রোসফট বাচ্চাদের সম্পর্কে কী তথ্য সংগ্রহ করতে এবং ধরে রাখতে পারে তা সীমিত করে।’

সিওপিপিএ আইনের অধীনে, ১৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের লক্ষ্য করে অনলাইন পরিষেবা এবং ওয়েবসাইটগুলোকে অবশ্যই তাদের সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে এবং শিশুদের কাছ থেকে সংগৃহীত কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার আগে পিতামাতার যাচাইযোগ্য সম্মতি নিতে হবে। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন:
‘প্রোফান্ড’ চালু করল এসএমএসি আইটি লিমিটেড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রভাব নিয়ে সেমিনার
আগুনের খবর ও নেভানোর উপায় জানাবে সিসিটিভি ক্যামেরা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Tiktok Awami League

টিকটকে আওয়ামী লীগ

টিকটকে আওয়ামী লীগ
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টিকটক অ্যাকাউন্ট ফলো করুন। একই সাথে বন্ধুদের ইনভাইটেশন দিন।

ভিডিও শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম টিকটকে অ্যাকাউন্ট খুলেছে আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার ফেসবুকে দলের ভেরিফায়েড পেজ থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টিকটক অ্যাকাউন্ট ফলো করুন। একই সাথে বন্ধুদের ইনভাইটেশন দিন।

পোস্টে আওয়ামী লীগের টিকটক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক (https://www.tiktok.com/@albdofficial) যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেয়া হয়েছে কিউআর কোডও।

আরও পড়ুন:
প্রেমিকার টিকটক নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাত, পালিয়েছে অভিযুক্ত এসএসসি পরিক্ষার্থী
টিকটকার হতে বাড়ি ছাড়লেন ২ তরুণী, অবশেষে ধরা
২০২২ সালের জনপ্রিয় ট্রেন্ড ও ক্রিয়েটরস তালিকা প্রকাশ করেছে টিকটক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Governments aim is Smart Bangladesh and humane state Information Minister

সরকারের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ ও মানবিক রাষ্ট্র: তথ্যমন্ত্রী

সরকারের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ ও মানবিক রাষ্ট্র: তথ্যমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। ছবি: নিউজবাংলা
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথমত তিনটি শিল্প বিপ্লব থেকে আমরা বহু বছর পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ধারণা থেকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে মঙ্গলবার অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু গ্রন্থিত বইটির ২৩টি অধ্যায়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার বিভিন্ন দিক বিধৃত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, “প্রথমত তিনটি শিল্প বিপ্লব থেকে আমরা বহু বছর পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ধারণা থেকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আর এ জন্যই আমরা ২০০৮ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছিলাম, মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম।”

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুবিধার উদাহরণ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর যখন পুরো পৃথিবীর জনজীবন থমকে গিয়েছিল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন বাংলাদেশ থমকে যায়নি। সরকার পরিচালনা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ সবকিছু চালু ছিল।

‘সে কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্বের ধনাত্মক জিডিপি অর্জনকারী মাত্র ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয়। সেই অর্থবছরেই আমরা মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়েছি। নিক্কি ইনস্টিটিউট ও ব্লুমবার্গের যৌথ জরিপে করোনা মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বিশ্বে আমরা পঞ্চম এবং উপমহাদেশে প্রথম। ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা এবং প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের কাছেও ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছার ফলে এসব সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার পরিচালনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি সর্বতোভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে যে নতুন ধারণা মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে চাই সেটি হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট ব্যবসা দরকার। সেই চারটি মূল প্রতিপাদ্যের ওপর গ্রন্থটির রচয়িতা অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুকে ধন্যবাদ জানাই।’

গ্রন্থকার ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভুঁইয়া এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরেছে: তথ্যমন্ত্রী
শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বনেতা: তথ্যমন্ত্রী
জনগণের জন্য শেখ হাসিনার কাজ জাতিসংঘেও স্বীকৃত: তথ্যমন্ত্রী
যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও পর্তুগালের সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
দেশবিরোধী প্রচার রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নিন: স্টকহোমে তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Three countries including Bangladesh are the target of the rapid cash cycle

‘র‌্যাপিড ক্যাশ’ চক্রের টার্গেটে বাংলাদেশসহ তিন দেশ

‘র‌্যাপিড ক্যাশ’ চক্রের টার্গেটে বাংলাদেশসহ তিন দেশ
রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কল সেন্টারের পরিচালক মহিউদ্দিন মাহিসহ ২৬ জনকে আটক করেছে এটিউ’র সাইবার ক্রাইম উইং। তবে এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড এক চীনা নাগরিককে ধরতে পারেনি তারা। চক্রটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের ঋণ দেয়ার নামে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।

‘র‍্যাপিড ক্যাশ’ নামে চীনের তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপস আতঙ্কের নামান্তর হয়ে উঠেছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে চলছে ঋণ দেয়ার নামে প্রতারণা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সাধারণ মানুষকে টার্গেট এই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র।

র‍্যাপিড ক্যাশ হলো একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেটে ডাউনলোড করার সঙ্গে সঙ্গে সেটটির পুরোপুরি এক্সেস নিয়ে নেয় অপর পক্ষ। একইসঙ্গে প্রতারক চক্রের হাতে চলে যায় ওই মোবাইল সেট ব্যবহারকারীর সব কন্ট্যাক্ট নম্বর, গ্যালারির তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

বাংলাদেশে ব্যবহারযোগ্য যে কোনো মোবাইল সিমের নম্বরের মাধ্যমে অ্যাপটি রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাপিড ক্যাশ ব্যবহারকারীকে অযাচিতভাবে পাঁচশ’ বা এক হাজার টাকার একটি ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়। আর ঋণ দেয়ার সময় থেকেই ওই টাকার ওপর উচ্চ হারে সুদ আরোপ করা হয়।

ঋণ দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সুদ-আসল বা কমপক্ষে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য র‍্যাপিড ক্যাশ তাদের হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেয়। কোনো গ্রাহক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টরা তাকে বিভিন্নভাবে প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে।

ভুক্তভোগীদের তথ্যে জানা যায়, কেউ কেউ সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের পরও তাদেরকে জোর করে আবার ঋণ গছিয়ে দেয়া হয়। একইভাবে ঋণের টাকা ও সুদ পরিশোধে বাধ্য করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে ভয়-ভীতিও দেখানো হয়।

‘র‌্যাপিড ক্যাশ’ চক্রের টার্গেটে বাংলাদেশসহ তিন দেশ
এন্টি টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ধরা পড়া চক্রের সমন্বয়ক মাহিসহ অন্য সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের ফাঁদে ফেলে এই প্রতারণা করে আসছিল।

বাংলাদেশে চক্রটি অ্যাপসের একাউন্ট খোলার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতো। সময়মতো টাকা পরিশোধ না করলে অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহকের মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি হাতিয়ে নিয়ে সেগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হুমকি দিতো। এমনকি গ্রাহকের ছবি এডিট করে আপত্তিকর ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ছড়িয়ে দিতো।

এই প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়া এক ব্যক্তি সম্প্রতি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিউ)। মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাপের কাজে ব্যবহৃত কল সেন্টারটির পরিচালক মহিউদ্দিন মাহিসহ ২৬ জনকে আটক করেছে এটিউ’র সাইবার ক্রাইম উইং। তবে এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড চীনা নাগরিক বলে দাবি মাহির। তাকে পায়নি এটিইউ। ওই বাড়ি থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১০টি ল্যাপটপ ও ৬টি ডেস্কটপ কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারায় এটিইউ’র প্রধান কার্যালয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সাইবার ক্রাইম উইং-এর পুলিশ সুপার (এসপি) ফারহানা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন মহিউদ্দিন মাহি। এই যুবক চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর পড়াশোনা করেছেন। চীনা ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী। আর ওই ভাষার ওপর এমন দখল থাকায় এটিকে তিনি প্রতারণার কাজে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।

‘বাংলাদেশে বসেই চক্রটি প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের নাগরিকদেরও একইভাবে ঋণের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে আসছিল। আর ঋণের টাকা ও উচ্চ হারের সুদ আদায় করাতো মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে।’

ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি তাদের শিকার হিসেবে সহজ-সরল সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে এগুতো। প্রথমে টার্গেট ব্যক্তি থেকে মোবাইলের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার নামে ভোটার আইডি ও ছবি নিত। গ্রাহকরা এই কাজগুলো করার সময় চক্রটি কৌশলে মোবাইলের কল লিস্ট, গ্যালারির ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য হাতিয়ে নিত।

‘এভাবে শিকারকে কব্জায় নেয়ার পর অযাচিতভাবে ঋণ গছিয়ে দিয়ে উচ্চ হারে সুদ আদায় শুরু করত। কেউ দিতে আপত্তি জানালেই তাকে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিত। এই অ্যাপটি বানিয়েছে চীনারা। তারা এটাকে এভাবে বানিয়েছে যে ডাউনলোড করলেই সব তথ্য হাতিয়ে নেয়া যায়।’

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে উল্লেখ করে এটিইউ’র এই কর্মকর্তা বলেন, মূলত চক্রটি সহজে লোন দেয়ার ফাঁদে ফেলে আসছিল সাধারণ মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করা এই ফাঁদে মানুষ সহজে টাকা পাওয়ার জন্য পা দিত। এরপর আর চাইলেও বের হতে পারত না। এমন কি বাড়ি-ঘর বিক্রি করে হলেও তাদের টাকা দিতে হতো।

চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করত। ওরা যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করত। আর একটি নাম্বর ব্যবহার করার পর সেটি বন্ধ করে দিত। এমনকি কোনো গ্রাহককে হুমকি দিয়ে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়েও তা ডিলিট করে দিত। কোনো আপত্তিকর তথ্য নিজেদের কম্পউটারে রাখত না। আর ফটোশপে এসব ছবি বানানোর জন্য আলাদা একটি দল রয়েছে।

এসপি ফারহানা আরও বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে আমরা দেখতে পাই যে চক্রটি একটি বাসার ভেতরে অবস্থান নিয়ে গোপনে এই প্রতারণার নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। সেখানে এক দল তরুণ-তরুণী হিন্দি ও উর্দু ভাষায় ভারতীয় এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলছে।

ভারত ও পাকিস্তানে একই অ্যাপস থেকে ভিন্ন নামে ঋণ দেয়া হচ্ছে। একই কায়দায় সেখানে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে করা হচ্ছে প্রতারণা। ওই দুই দেশে ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে তারা। আর সময় গড়িয়ে এর বিপরীতে তারা আদায় করছে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতারক চক্রে কর্মী হিসেবে জড়িতদের ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হতো। পাশাপাশি গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা টাকার একটি অংশ বোনাস হিসেবে পায় তারা। এভাবে একেকজন কর্মী মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে পেতো। আমরা ধারণা করছি এই চক্রের এমন আরও একাধিক কল সেন্টার রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
প্রতারণায় ‘কোটিপতি’, ৪ জন গ্রেপ্তার
প্রতারিত হয়ে প্রতারণায়, টার্গেট ফ্রিল্যান্সার
‘মেধাবীর সুপারনোভা’ ও ‘কিডস ব্রেইন বিল্ডার’ অ্যাপ উদ্বোধন
ছাত্রলীগ নেতার প্রতারণা, ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও!
জমির ক্রেতা সেজে প্রতারণার অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The friend request is going away when you enter the Facebook profile

ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুঁ মারলেই ‘চলে যাচ্ছে’ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট

ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুঁ মারলেই ‘চলে যাচ্ছে’ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এমন তথ্য শেয়ার করছেন অনেকে। কেউ বলছেন, প্রচুর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাচ্ছেন, কেউ বা বলছেন, অটো রিকোয়েস্ট চলে যাচ্ছে কারো কাছে।

বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। কারো প্রোফাইলে শখের বশে একটু ঢুঁ মারতে গিয়ে রীতিমতো গণ্ডগোল পাকিয়ে ফেলছেন কেউ কেউ। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে যাচ্ছে বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহণের অনুরোধ।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এমন তথ্য শেয়ার করছেন অনেকে। কেউ বলছেন, প্রচুর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাচ্ছেন, কেউ বা বলছেন, অটো রিকোয়েস্ট চলে যাচ্ছে কারো কাছে।

ফেসবুক অবশ্য এখনও বিবৃতি দিয়ে এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। কথা বলেনি কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গেও। তবে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে দিচ্ছেন স্ক্রিন শটও।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার ওয়েবসাইটে কমিউনিটি ক্যাটাগরিতে গিয়ে প্রশ্ন রেখে আসছেন ব্যবহারকারীদের অনেকে। সেখানেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা।

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে এমন সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে এ তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনাকাঙিক্ষত ‘বাগ’ এই সমস্যা সৃষ্টি করছে। তবে আসলে কী ঘটেছে তা অবশ্য কর্তৃপক্ষই জানাতে পারবে ঠিকঠাক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে সীমিত হচ্ছে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কোপানোর ঘটনায় আটক ২
ফেসবুক, গুগলে চাকরি পেতে কী লাগে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Launching in the country very soon PayPal Wink

খুব শিগগিরই দেশে চালু হচ্ছে পে-পাল

খুব শিগগিরই দেশে চালু হচ্ছে
পে-পাল স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়সহ অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, স্মার্ট বাগেরহাট গড়ার জন্য যা যা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী তা করবেন। বাগেরহাটের শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য জেলা সদরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলায়ও তথ্য প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ সেন্টার করা হবে।

ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। কিন্তু পেশা হিসেবে এটি এখনও অত বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যার কারণে ফ্রিল্যান্সারদের নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণে ফ্রিল্যান্সারদেরকে সরকারিভাবে পরিচয়পত্র দেয়া হবে। সেই সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে পে-পাল চালু করা হবে। ফ্রিল্যান্সারদের প্রাণের দাবি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এটা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাগেরহাট গড়ার জন্য যা যা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী তা করবেন। বাগেরহাটের শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য জেলা সদরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলায়ও তথ্য প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ সেন্টার করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার দক্ষ ফ্রিল্যান্সার বের হবে। যারা নিজেরা আয় করার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারবেন।

এর আগে বাগেরহাট-২ (কচুয়া-সদর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় দিনব্যাপি এই স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলার উদ্বোধন করেন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মার্ট মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন, পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল ইসলাম, ব্রাক-কুমন-এর প্রধান নেহাল বিন হাসান প্রমুখ।

আইসিটি ডিভিশন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, এটুআই, আইডিয়া, ইডিজিই আয়োজিত দিনব্যাপি ৩৫টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের স্টল রয়েছে। শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ-তরুণীরা চাকরির জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে তাদের জীবন বৃত্তান্ত দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী অনেক প্রার্থীদের চাকরি দিয়েছে।

এ ছাড়া মেলা উপলক্ষে আইসিটি ডিভিশনের পক্ষ থেকে ২০ জন ফ্রিল্যান্সারকে ২০টি ল্যাপটপ এবং ৪০ জন উদ্যোক্তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কেন খুলনা সফর স্থগিত করলেন পলক
ফেসবুকে পাঠ্যবই জনপ্রিয় করেছে টেন মিনিট স্কুল: পলক
এত অল্প সময়ে অন্য কোনো দেশ ডিজিটালাইজড হয়নি: পলক

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Twitter is bringing the facility of video calling

টুইটার আনছে ভিডিও কলের সুবিধা

টুইটার আনছে ভিডিও কলের সুবিধা
মাস্ক বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে যে কারো সঙ্গে ভয়েস এবং ভিডিও চ্যাট করা যাবে শিগগিরই। এর মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় যে কারো সঙ্গে ফোন নম্বর না দিয়ে কথা বলতে পারবেন আপনি।

অডিও ও ভিডিও কলের সুবিধা আনছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এক টুইটবার্তায় এ তথ্য দিয়েছেন বলে বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মাস্ক বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে যে কারো সঙ্গে ভয়েস এবং ভিডিও চ্যাট করা যাবে শিগগিরই। এর মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় যে কারো সঙ্গে ফোন নম্বর না দিয়ে কথা বলতে পারবেন আপনি।

কল সুবিধাবার সঙ্গে টুইটারে যুক্ত হবে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সুবিধাও। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড থাকলে মেসেজ, ফটো, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ, ডকুমেন্ট, স্ট্যাটাসের আপডেট ও কল বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকবে সহজেই।

কলের সুবিধা যুক্ত হওয়ার ফলে এখন থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো কল সুবিধা নিতে পারবেন টুইটার ব্যবহারকারীরা।

এ ছাড়া অনেক দিন ধরে নিষ্ক্রিয়- এমন অ্যাকাউন্টও মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
পুতিনকে ভালো বন্ধু মনে করেন না মাস্ক
টুইটারে ফের কর্মী ছাঁটাই
২০ কোটি টুইটার ব্যবহারকারীর ই-মেইল হ্যাক

মন্তব্য

p
উপরে