হাসপাতালে জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

হাসপাতালে জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে স্থানীয়রা কন্টেনারে করে তেল ও পেট্রল সরবরাহ করছেন। ছবি: রয়টার্স

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওই সব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকঠাক মতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

হাইতির বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার নারী ও শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ স্থানীয় সময় রোববার এ সতর্কবার্তা দেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়ে আসছে। দেশটিতে একের পর এক অপহরণের ঘটনা বিশেষ করে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একদল মিশনারি অপহৃত হওয়ার পর এ সমস্যা চরম আকার ধারণ করে।

হাইতির পরিবহন শিল্পের নেতাদের ভাষ্য, অপহরণের ঘটনা অনেক বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ করা চালকদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অপহরণ বা মালপত্র ছিনতাই হতে পারে- এ ভয়ে তারা জ্বালানি আগের মতো সরবরাহ করছেন না।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ও হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ করতে স্থানীয় এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওই সব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকমতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হাইতির বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাইতির প্রধান মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সেবা বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির শিল্প-কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে হাইতি সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে তাসনুভা 

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে তাসনুভা 

সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের এই ছবিটি স্থান পেয়েছে টাইম ম্যাগাজিনে। ছবি: এএফপি

ম্যাগাজিনটির বর্ষসেরা ১০০ ছবির তালিকায় এসেছে সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছরের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ১০০ ঘটনার ছবি প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করে বিশ্বজুড়ে মনোযোগ কাড়েন তাসনুভা আনান শিশির।

ইতিহাস গড়ার সেই মুহূর্তটি এবার জায়গা পেল প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন টাইম-এ। ম্যাগাজিনটির বর্ষসেরা ১০০ ছবির তালিকায় এসেছে সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি।

রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছরের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ১০০ ঘটনার ছবি প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন।

তাসনুভার ছবিটি তুলেছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী মুনির-উজ-জামান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হয়ে তোলা ছবিতে দেখা যায়, বৈশাখী টেলিভিশনের স্টুডিওতে সংবাদ পাঠের জন্য প্রস্তুত তাসনুভা। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন চার নারী সহকর্মী। গত ৮ মার্চ দুপুর ১২টার সংবাদ পড়ে ইতিহাস গড়েন তাসনুভা।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবিটি সোমবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে কাভার ফটো করেছেন তাসনুভা। এ ছাড়া, টাইমের ছবির লিংকও শেয়ার করেছেন তিনি।

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে আরও এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় রায়ের পর স্বজনের উচ্ছ্বাস, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ, কাবুলের হামিদ কাজরাই বিমানবন্দরের সামনে অস্ত্র রেখে তালেবানের নামাজ পড়ার মতো বিভিন্ন আলোচিত মুহূর্ত।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

করোনারোগীদের সেবায় গত এপ্রিলে এগিয়ে এসেছিল ট্রান্সজেন্ডারদের সংগঠন বৃহন্নলা। ফাইল ছবি

ক্লিনিকের নামের সঙ্গে ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা বলছেন, ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করায় ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে সমাজে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা বাড়বে। শৈশবে ট্রান্সজেন্ডার শনাক্ত করা সম্ভব নয় দাবি করে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের সার্জারি তাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিচ্ছেন তারা।

ট্রান্সজেন্ডারসহ অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের লিঙ্গ রূপান্তরের জন্য সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি বহির্বিভাগ ক্লিনিক চালু হয়েছে ।

‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক’ এর উদ্বোধন হয়েছে ২১ নভেম্বর। তবে এই ক্লিনিকের নাম এবং লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, আধুনিক বিজ্ঞান ট্রান্সজেন্ডারকে আলাদা লিঙ্গ হিসেবে স্বীকার করেছে। বাংলাদেশেও নারী-পুরুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে এই লিঙ্গ স্বীকৃতি পেয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রান্সজেন্ডারকে ‘অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ অসংবেদনশীল মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

ক্লিনিকের নামের সঙ্গে ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ থাকা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তারা। ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করায় ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে সমাজে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা বাড়বে।

শৈশবে নারী ও পুরুষের বাইরে ট্রান্সজেন্ডার শনাক্ত করা সম্ভব নয় দাবি করে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের সার্জারি তাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিচ্ছেন তারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক ভেবেচিন্তেই ক্লিনিকটির এমন নাম রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এই নামে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

নতুন সেবা উদ্বোধনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মূলত তৃতীয় লিঙ্গসহ অপূর্ণাঙ্গ বা ক্রটিপূর্ণ লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের শারীরিক ফেনোটাইপ (বাইরের প্রজনন অঙ্গ) ও জেনোটাইপ (জিনগত ভিতরের প্রজনন অঙ্গ) অনুযায়ী সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গে রূপ দিতে ক্লিনিকটি চালু করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, শূন্যের কোটায় আসবে থার্ড জেন্ডার’। সবাই মিলে চেষ্টা করলে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে অবশ্যই এই শ্লোগান বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

উপাচার্য বলেন, ‘রূপান্তরিত লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে মানুষ অনেক কিছুই জানেন না। সমাজে যারা হিজরা নামে পরিচিত চিকিৎসার মাধ্যমে তারা পূর্ণাঙ্গ নারী বা পুরুষে রূপান্তরিত হতে পারেন। শিশুকালেই এ সমস্যা সমাধানের জন্য শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করে চিকিৎসা নিলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত মুক্তি লাভ করবে।’

তবে এই বক্তব্য চরম আপত্তিকর বলে মনে করছেন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে প্রথম আপত্তিকর শব্দ তৃতীয় লিঙ্গের শিশু। তাহলে প্রথম লিঙ্গ কারা, দ্বিতীয় বা ‍চতুর্থ কারা? লিঙ্গতে এমন কোনো ক্রমবিভাজন নেই।’

তাসনুভা বলেন, ‘জন্মের পর অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সময় মতো যৌন অঙ্গের ডেভেলপমেন্ট হয় না। এদের আমরা ইন্টারসেক্স ফিমেল ও ইন্টারসেক্স মেল বলে থাকি। শিশুদের হারমোন ডেভেলপমেন্ট হয় ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে। তখন সে বিপরীত লিঙ্গর প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করে।

অপরিণত যৌনাঙ্গের ভিত্তিতে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই বয়সে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে সার্জারি করার পর বড় হয়ে শিশুটি যদি মনে করে পরিবর্তিত লিঙ্গটা সে বিলং (ধারণ) করছে না, তাহলে কী ঘটবে? তখন যদি সে ভারসাম্যহীন জীবনে চলে যায় তার দায়িত্ব কে নেবে? বর্তমানে বিশ্বে যেসব ইন্টারসেক্স শিশু রয়েছে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজেরাই নিজেদের লিঙ্গের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এটি রাষ্ট্র বা বাবা-মায়ের চাপিয়ে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত নয়।’

অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গের সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তাসনুভা। ‘ট্রান্সজেন্ডারের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা’র লক্ষ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্বতন্ত্র লৈঙ্গিক বৈশিষ্ট্য। আমি তো বায়োলজিক্যালি পুরুষ বা নারী নই। তাহলে কেনো আমাকে আমার মতো থাকতে দেয়া হবে না। আমাকে জোর করে কেনো খোপের মধ্যে ঢোকানো হচ্ছে!’

ক্লিনিকের নামকরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা ব্যবহার করছে ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক। সেক্স ডেভেলপমেন্টে ডিসঅর্ডার কী রকম, এটা আমি বুঝতে পারছি না। এমন হলে সাধারণ মানুষ ট্রান্সজেন্ডারকে এক ধরনের রোগী হিসেবে ধরে নেবে। মনে করবে তারা ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। এই নামের পরিবর্তে তারা ‘সেক্সুয়াল রিঅ্যাসাইন সেন্টার’ নাম দিতে পারত।”

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হোচিমিন ইসলামও বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গীর সমালোচনা করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিশুদের এই চিকিৎসা দেয়ার উদ্যোগ একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত ও ভুল কাজ।’

‘কিছু শিশুর ক্ষেত্রে সেক্স অর্গান স্পষ্ট হয় না। এমন সন্তান যখন জন্ম নেয় তখন আমাদের সামাজে অভিভাবকেরা চান সার্জারি করে ছেলে সন্তান বানাতে। ওই বাচ্চাটি বড় হয়ে যদি দেখে তার ইমোশন মেয়েদের মতো, তখন সে ভাবতে থাকে কেনো আমাকে ছেলে বানানো হলো। এমন জটিল সমস্যায় ভোগা অনেক ব্যক্তি আমাদের সামনেই রয়েছে।’

ট্রান্সজেন্ডারের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে হোচিমিন বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের আত্মার সঙ্গে সত্তার মিল থাকে না। ফলে সেক্স ডিজঅর্ডার বা লৈঙ্গিক ত্রুটির সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতিবছর যে ডিরেক্টরি বের হয় সেখানে শিশুর লৈঙ্গিক অপূর্ণতাকে ডিসঅর্ডার বলতে নিষেধ করা হয়েছে।’

হোচিমিন এবং তাসনুভা দুজনেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে ট্রান্সজেন্ডারদের সঙ্গে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের আলোচনা করা উচিত ছিল।

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক
দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন ইসলাম (বাঁয়ে) এবং তাসনুভা আনান শিশির

তবে উদ্যোগটি নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন।

ট্রান্সজেন্ডারকেও একটি ‘রোগ’ দাবি করে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট একটি ডেভেলপমেন্টমূলক রোগ। এই নামটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ট্রান্সজেন্ডার, ইন্টারসেক্স এসব নামে এগুলো পরিচিত ছিল। তবে টার্ম নিয়ে আপত্তির কারণে সবগুলোকে এখন ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বলা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই নামটি শিকাগো থেকে ২০০৫ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে, আমাদের টেক্সবুকেও রয়েছে। এই ডেভেলপমেন্টমূলক রোগ শিশুদের জন্ম থেকেই দেখা যায়।’

অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন ট্রান্সজেন্ডারকে ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট হিসেবে দাবি করলেও বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ দুটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) বলেছে, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি হলেন এমন কেউ যিনি নিজের জন্মগতভাবে পাওয়া লিঙ্গের সঙ্গে নিজের মনোগত লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্যের তফাৎ অনুভব করেন।

অন্যদিকে এনএইচএস-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বা ডিএসডি হলো বিরল একটি শারীরিক অবস্থা যার সঙ্গে জিন, হরমোন এবং যৌনাঙ্গসহ প্রজনন অঙ্গের অপূর্ণাঙ্গতা জড়িত। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির যৌন বিকাশ অন্যান্য মানুষের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। এনএইচএস সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসডির পূর্ণাঙ্গ অর্থের ক্ষেত্রে ‘ডিসঅর্ডার’ শব্দটিও আর ব্যবহার করছে না। তারা ডিএসডিকে বলছে ডিফারেন্সেস ইন সেক্স ডেভেলপমেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইস চিলডেন হসপিটালের ওয়েবসাইটে ট্রান্সজেন্ডার ও ডিএসডি আলাদা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার এবং ডিএসডি এক জিনিস নয়। ট্রান্সজেন্ডাররা জন্মের সময় প্রাপ্ত লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যকে নিজের বলে মনে করেন না।

উদাহরণ দিয়ে হাসপাতালটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও পরে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। এসব মানুষ চাইলে হরমোন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের পছন্দসই লিঙ্গ বেছে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ডিএসডি আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরবৃত্তীয় বিকাশ বা হরমোন উৎপাদনে তারতম্য দেখা যায়। এ ধরনের বেশিরভাগ শিশুর জেন্ডার তাদের নির্ধারিত লিঙ্গের ভিত্তিতেই চিহ্নিত হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ ট্রান্সজেন্ডারদের ‘রোগী’ হিসেবে দাবি করলেও ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ট্রান্সজেন্ডারকে আলাদা লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি দেয়। এটি কোনো মানসিক রোগ নয় বলেও সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক
বিএসএমএমইউতে ২১ নভেম্বর ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক’ এর উদ্বোধন হয়

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রীয় ভাবে ট্রান্সজেন্ডারকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রেও তাদের আলাদা লিঙ্গ স্বীকার করা হয়েছে। এর পরেও তাদের কেন ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে বিএসএমএমইউর অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের মেডিক্যাল রিলেটেড নামটিই রেখেছি। আর আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই নাম দেয়া হয়েছে। আমরা আগেও এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি। তবে আগে একটা ডিভিশনের আন্ডারে করতাম না। এখন সেটা শুরু হচ্ছে।’

শিশুদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ বলেন, ‘যাদের বাবা-মা সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাজি হয়ে আমাদের এখানে আসবে তাদের আমরা সার্জারি করব। আমাদের সমাজ আর ওয়েস্টার্ন সমাজ এক নয়। আমাদের সমাজের বাচ্চারা বাবা-মায়ের উপরে নির্ভর করে। তারা যদি রাজি হয় আমাদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা নেই।’

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকেন ঋতু। তার কাছে নিরাপদ থাকবে ইউনিয়ন। ঋতু সরকারি বরাদ্দ নয়ছয় করবেন না, এমনটিও আশা ভোটারদের।  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে ঋতুর বিশাল জয়ে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। নৌকার প্রার্থীও পরাজয় মেনে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋতুকে।
নতুন চেয়ারম্যান বলছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।

ইউপি নির্বাচনে ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা হাতপাখার মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৮০৯ ভোট।

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বদিলাপাড়ার ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ঋতু অনেক ভালো। তিনি মানুষের উপকার করেন। তাই আমরা তাকে ভোট দিছি।’

বহিরগাছি গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ‘ঋতু বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। তাকে আমরা জিতাইছি। এখন সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুক।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিম শেখ বলেন, ‘ঋতুর ঘর নেই, সংসার নেই, তার কাছে ইউনিয়ন নিরাপদ। আশা করছি, আমাদের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দ তিনি ঠিকমতো বিতরণ করবেন।’

আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মানুষ বলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। সে কথাটা ঠিক না। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের ইউনিয়ন।

‘‘মানুষ যদি যোগ্য হয় তাহলে তার স্থান ঠিকই পাবে। সারা দেশের ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা ঋতুর মতো যোগ্য হন, মানুষের উপকার করেন। তাহলেও মানুষও আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’’

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে


বিজয়ী নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার বয়স ৪৩ বছর। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। অল্প বয়সে চলে যেতে হয়েছিল ঢাকায়। সেখানে ডেমরা থানায় দলের গুরুমার কাছেই তার বেড়ে ওঠা।

ঋতু বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও নিয়ম করে এলাকায় যেতাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতাম।

‘জনগণ আমার পক্ষে আছে। আমি একটা কথা জানি, অনেক মানুষের অনেক কথা থাকে। আমার কিচ্ছু নেই। আমার ঘর নেই, সংসার নেই। এই জন্য আমার লোভ-লালসা নেই। এই জনগণই আমার সব।’

আগামীর পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে সব করতে চাই। জনগণ যা বলবে আমি তাই করব। জনগণ বলেছে, ওর ছেলে নেই মেয়ে নেই, ঘর সংসার নেই, ও আমাদের জন্যই কাজ করবে। আমি জনগণের পক্ষেই সব সময় থাকব। জনগণ আমাকে যেইটা বলে আমি সেইটা করব।’

ঋতু বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কাজ এখনও হয়নি। রাস্তাঘাট ভাঙা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এসব কাজ করার জন্য আমি চেষ্টা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন একটু সুনজর দেন।’

পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালো নিয়েছে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন।

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

ধর্ষকের সঙ্গে ১২ বছরের মেয়ের বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ইরাক

বাগদাদে আদালতের বাইরে বাল্যবিবাহবিরোধীদের বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ-বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

ইরাকে ১২ বছরের এক মেয়েশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটাই তোলপাড় চলছে যে, আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এতে। মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল ক্ষোভ সত্ত্বেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরাকে বাল্যবিয়ের বহু ঘটনা ঘটলেও সেগুলো এত আলোচিত হয় না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার শুনানিতে এক বিচারক ১২ বছর বয়সী মেয়েটির সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের ধর্মমতে বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে গত সপ্তাহে শুনানি স্থগিত করা হয়।

রাজধানী বাগদাদের কাধামিয়া জেলা আদালতে রোববার আবার শুনানি শুরু হওয়ার কথা। তবে এ দিন রায় দেয়া হবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

‘বাল্যবিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ’ এবং ‘বাল্যবিয়েকে না বলুন’সহ বিক্ষুব্ধদের নানা স্লোগানে গত সপ্তাহে মুখর হয়েছিল আদালত প্রাঙ্গণ।

এক বিক্ষোভকারী আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে সে সময় বলেছিলেন, ‘শিশুদের ঘরে বসে কার্টুন দেখার কথা, বিয়ে করার কথা নয়। তাই আমরা এখানে নিন্দা জানাতে এসেছি।’

মামলাটি প্রথম আলোচিত হয় মেয়েটিকে বাঁচানোর আর্তি নিয়ে তার মা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে ধর্ষণের শিকার এবং সৎ-বাবার ভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে।

কিন্তু মেয়েটি, তার সৎ-বাবা ও তার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিবৃতিতে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কাজ করা একটি বিভাগ জানায়, মেয়েটিকে বিয়েতে জোর করা হয়নি।

ইরাকের নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক আইনজীবী হালা বলেন, ‘যাই হোক না কেন, ১২ বছরের একটি শিশু আর ২৫ বছর বয়সের একটা লোকের বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইরাকের আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পিতার মত সাপেক্ষে সর্বনিম্ন ১৫ বছর বয়সেও বিয়ে হতে পারে।

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নির্মূলবিষয়ক সর্বজনীন সমঝোতাপত্রেও ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হলে তা জোরপূর্বক হয়েছে বলে ধরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইনি বাধা সত্ত্বেও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই বাল্যবিয়ে বহু প্রচলিত, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলগুলোতে। দারিদ্র্য ও ধর্মচর্চার অংশ হিসেবে অনেক মা-বাবা পরিবারের বোঝা কমাতে বা আর্থিক সহায়তা পেতে ছোট ছোট মেয়েসন্তানদের বিয়ে দিয়ে দেন।

২০১৮ সালে ইরাক সরকারের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটিতে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের প্রথম বিয়েটি হয়েছিল ১৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার আগেই। ২০ দশমিক ২ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু

নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। ছবি: নিউজবাংলা

নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জয় আমার একার না। আমার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসীর। আমি ইউনিয়নের প্রত্যেক মানুষের কাছে ঋণী। যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের সেবা করে আমি ঋণ শোধ করব।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু।

ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে ৯ হাজার ৫৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ঋতু।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, সরকারিভাবে তারা এখনও ফল হাতে পাননি। পেলে ঘোষণা করবেন।

নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ জয় আমার একার না। আমার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নবাসীর। আমি ইউনিয়নের প্রত্যেক মানুষের কাছে ঋণী। যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের সেবা করে আমি ঋণ শোধ করব।’

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের ভ্যানচালক আসাদ হোসেন বলেন, ‘নজরুলের তো কোনো পিছটান নেই। সে আমাগের আগেও উপকার করেছে, তাই আমরা তাকে ভোট দিছি। আগেও দেখিছি মানুষ বিপদে পড়লি রাত-বিরাত নেই সে চলে গেছে, যা পারেছে সাহায্য করেছে।

‘এখুন চেয়ারম্যান হলো, আমরা আশা করছি, সে আরও ভালোমতো আমাগের সেবা করতি পারবে।’

ঋতুর ছোট ভাই কোরবান আলী বলেন, ‘জন্ম থেকেই আমার ভাইয়ের সমস্যা ছিল। ২০ বছর আগে সে ঢাকায় চলে যায়। এরপর বাড়িতে আসতে শুরু করে। ঢাকা যখন ছিল তখনও এলাকার মানুষের উপকার করত।

‘নিজের টাকায় এলাকার রাস্তা মেরামত করে দেয়া; মসজিদের উন্নয়নে টাকা দিত। আমার ভাই ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এ জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর সুষ্ঠু ভোট হওয়ার জন্য প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রোববার কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ভোট হয়। এসব ইউপিতে ভোটারের সংখ্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৫।

উপজেলার ১১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন, সাধারণ সদস্যপদে ৩১৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

নারী নির্যাতন নির্মূল না হওয়ায় আক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর

শনিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

সুলতানা কামাল বলেন, 'দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হলেও নারীর সম অবস্থান তৈরি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।'

বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও দেশে নারী নির্যাতন নির্মূল করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেছেন, 'সমাজের সব নির্যাতন ও অন্যায় দূর করতে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চেষ্টার পরও দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা নির্মূলের মতো আমরা নারী নির্যাতন নির্মূল করতে পারিনি।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকারসহ এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে চান। কিন্তু নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতায় সঠিকভাবে কাজগুলো হচ্ছে না। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে কিন্তু নারীর সম অবস্থান এখনও তৈরি হয়নি। একটি অসাম্প্রদায়িক, নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতাহীন, সভ্য, সব মানুষের জন্য সমমর্যাদার দেশ গড়ে তুলতে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

সম্মেলনে অক্সফামের হেড অফ জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশেন মাহমুদা সুলতানা, জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আলোচকরা বলেন, স্বাধীন দেশে একটি নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ আমরা কামনা করতেই পারি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জিত করে। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না আনি তাহলে পুলিশ বা আইন দিয়ে কোন কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

বাল্যবিয়ে দিতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা  

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।    

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী।

ফান্দাউক ইউনিয়নের সওদাগর গ্রামে শুক্রবার দুপুরে ওই কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার এক দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে বিয়ের কথা ছিল ওই কিশোরীর। খবর পেয়ে ইউএনও হালিমা খাতুনের নেতৃত্বে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে নিশ্চিত হয় কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কিশোরীর বাবাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না দেয়ার মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হালিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে শিশুসহ ১৭ আমেরিকান অপহৃত
প্রেসিডেন্ট হত্যা: হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মরদেহ বেড়েই চলছে হাইতিতে
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১২৯৭
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী হাইতি

শেয়ার করুন