করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই। অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

জীবন্ত পরজীবী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্ট।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ ফেসবুকে প্রকাশিত কোরীয় ভাষার একটি পোস্টে বলা হয়, ‘এ টিকার প্রধান উপাদান গ্রাফেন। এই গ্রাফেনের ভেতরে জন্ম নেয় অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এক ধরনের পরজীবী।

‘মানবদেহে এই পরজীবী প্রবেশ করলে এর বিকাশ ও বংশবৃদ্ধি রোধের একটাই উপায়। সেটি হলো রক্ত পরিশোধন। সরকারের চাপে এমন একটি টিকা মানুষকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘এই পরজীবী থেকে মুক্তি পেতে আইভারমেকটিন (পরজীবীবিরোধী ওষুধ) সেবন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজেদের গর্ভ পরীক্ষা করানো উচিত।’

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়।

কথিত পরজীবীর একটি ছবিসহ এ দাবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক দাউম ক্যাফেতে। করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি অনুষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ছবিটি।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকা তৈরির জন্য জীবাণুবিহীন পরিশুদ্ধ একটি পরিবেশ দরকার হয়। সেখানে উপাদান হিসেবে পরজীবী ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

কিউংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মহামারি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম শিন-উ বলেন, ‘করোনার টিকায় কোনো পরজীবী থাকা সম্ভব নয়, উপাদান হিসেবে তো নয়ই। কারণ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ওষুধ উৎপাদনের সময় জীবাণুপ্রতিরোধী কঠোর ফার্মাসিউটিক্যাল বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অধ্যাপক শিন-উ বলেন, ‘এসব বিধি কার্যকর না হলে টিকা প্রয়োগে অনুমোদনই দেয়া হতো না।’

গাশন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক জুং জায়-হুন বলেন, ‘যে কোনো টিকা তৈরির ক্ষেত্রেই জীবাণুবিরোধী পরিবেশ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যেখানে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা ভাইরাসই প্রবেশ করতে বা টিকতে পারবে না। সেখানে পরজীবী থাকার তো প্রশ্নই নেই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই।

অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

মানবদেহে কোনো পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইভারমেকটিন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

অধ্যাপক জুং বলেন, ‘আইভারমেকটিনের মতো ওষুধ সেবনে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর এ ওষুধ সেবন করে কোনো লাভ হবে না কারণ টিকার সঙ্গে পরজীবীর কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। করোনা ঠেকাতে এ ওষুধ কার্যকর বলে পরীক্ষায় প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আইভারমেকটিন প্রয়োগের শঙ্কা থেকে যায়, যার ফলে বমি, বমিভাব, ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, ক্লান্তি, চুলকানি ও চর্মরোগের মতো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে এই ছবিটি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর সত্যতা নিয়ে বিতর্কও হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কায়ছারুল আলম বলেন, ‘এটি একটি বানানো ছবি। লন্ডন থেকে এটি বানানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় কোনো মন্তব্য করেননি। এত সিলি (তুচ্ছ) বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলবেন না। এসব বিষয়ে নিয়ে মন্তব্য করা মানে এগুলোকে আরও বাড়তে দেয়া।’

একজন মানুষ খেতে বসেছেন। তার সামনে থরে থরে সাজানো নানা সুস্বাদু খাবার। টেবিলজুড়ে সাজিয়ে রাখা খাবারগুলোর মধ্যে মাছ, মাংস, সবজি, ভর্তা কোনো কিছুর কমতি নেই।

সাদা চোখে দেখা যায়, যিনি খাচ্ছেন তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। ছবিটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল। সেটি নিয়ে অনেকে করছেন ট্রল।

ছবিটি নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে বাড়িতে নেমন্তন্ন করলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত লোকেরা প্রায় কুড়ি-পঁচিশ পদ খাবার রান্না করে। তারা তো ভাতের থালায় ভাত খায় না, স্যুপের থালায় ভাত খায়। ওতে খাবার বেশি ধরে।’

তিনি আরও লেখেন, “রান্নাটা আর্ট, খাওয়ানোটাও আর্ট। নেমন্তন্ন অবশ্য ‘বাড়িতে একটু ডাল-ভাত খাবেন’ বলে করা হয়।”

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ হাজার ৬০০ মানুষ সেই পোস্টটিতে রিঅ্যাক্ট করেছেন। যার মধ্যে লাইক দিয়েছেন ১৪ হাজার ১০০ জন। আর হা হা রিঅ্যাক্ট করেছেন সাড়ে ৬ হাজার মানুষ।

কমেন্ট জমা হয়েছে ১২৪টি। আর পোস্টটি শেয়ার করেছেন ৫৮২ জন।

ছবিটি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ কোনো মন্তব্য না করলেও তার দপ্তর থেকে ছবিটিকে বানানো বলে দাবি করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কায়ছারুল আলম বলেন, ‘এটি একটি বানানো ছবি। লন্ডন থেকে এটি বানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় কোনো মন্তব্য করেননি। এত সিলি (তুচ্ছ) বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলবেন না। এসব বিষয়ে নিয়ে মন্তব্য করা মানে এগুলোকে আরও বাড়তে দেয়া।’

কোনো প্রতিবাদ বা ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কায়ছারুল বলেন, ‘প্রতিবাদ তো হচ্ছেই।’

ভাইরাল ছবিটি কি আসলেই তথ্যমন্ত্রীর?
হাছান মাহমুদের নামে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রীর অনুসারীরাও ফেসবুকে এই ছবিটি ছড়াচ্ছেন

এরই মধ্যে ছবিটি বানানো দাবি করেও পোস্ট দিতে শুরু করেছেন হাছান মাহমুদের অনুসারীরা। তাদের দাবি, তথ্যমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই সরকারবিরোধীরা এসব অপপ্রচার করছেন।

এর মধ্যে প্রথম ছবিটির পাশাপাশি আরও একটি ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে। এরপর তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কোন ছবিটি আসল, কোনটি নকল, তা নিয়ে নানাজন নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন নতুন ছবিটি নকল, কেউ বলছেন পুরোনো ছবিটি নকল।

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

ফেসবুক বা মেটায় ছবি ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা কতটা সত্যি?

ফেসবুক বা মেটায় ছবি ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা কতটা সত্যি?

বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে। 

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফেসবুক ও মেটা- এমন একটি বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকের প্রোফাইলে।

বার্তাটিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তির ছবি নিতে যেন অনুমতির প্রয়োজন না হয়, সেজন্য নতুন একটি নীতিমালা গ্রহণ করেছে ফেসবুক ও মেটা। তবে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আগেই আপত্তি জানিয়ে রাখলে ফেসবুক-মেটা এ কাজ করতে পারবে না।

মেসেঞ্জারে ছড়ানো মূল বার্তাটি ইংরেজি। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদও বার্তায় যোগ করা হয়েছে। অগোছালো ইংরেজি আর বাংলায় বার্তাটির শুরুটা করা হয়েছে এভাবে:

“The new Facebook/Meta rule starts tomorrow where they can use your photos. Don't forget the deadline is today! This could be used in lawsuits against you. Everything you've ever posted is posted today - even messages that have been deleted. It doesn't cost anything, just copy and post, better than regretting later.

আগামীকাল ফেসবুক/মেটা নতুন নিয়ম চালু করবে, যার মাধ্যমে তারা আপনার ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে। ভুলে যা‌বেন না, আজ শেষ দিন! তাই একটা কাজ করুন। আপনার বিরুদ্ধে মামলায় এ নিয়ম কাজে লাগানো হতে পারে। আপনি যা কিছু পোস্ট করেছেন - এমনকি মুছে ফেলা বার্তাও। এতে কোনো খরচ নেই, শুধু কপি করে পোস্ট করুন, পরে আফসোস করার চেয়ে ভালো হ‌বে।

তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। পলিফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তাটি ভুয়া। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে।

ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে।

কথিত ওই সতর্কবার্তার পরের অংশে বলা হয়েছে, কীভাবে প্রোফাইলে একটি আইনি নোটিশ পোস্ট করলে ফেসবুক চাইলেও ব্যবহারকারীদের তথ্য নিতে পারবে না:

“Under UCC Law Sections 1-207, 1-308... I am imposing my Reservation of Rights...I DO NOT ALLOW Facebook/Meta or any other Facebook/Meta related person to use my photos, information, messages or messages, both in the past and in the future. This statement I inform Facebook/Meta that it is strictly prohibited to disclose, copy, distribute or take any other action against me based on this account and / or its contents. This account content is private and confidential information. Violation of my personal life may be punished by law.

ইউসিসি আইনের অধীনে ১-২০৭, ১-৩০৮... আমি আমার অধিকার সংরক্ষণ আরোপ করছি... আমি ফেসবুক/মেটা বা ফেসবুক/মেটা সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তিকে আমার ছবি, তথ্য, বার্তা ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছি না, অতীতে এবং ভবিষ্যতে কোনো সময়েই।

এই পোস্টটি কপি করে আপনার নি‌জের পে‌জে পোস্ট করে রাখুন এবং ঘোষণা দিন যে, আমি ফেসবুক/মেটাকে তাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা আমার তথ্য অন্য কোথাও শেয়ার করার অনুমতি দিচ্ছি না। ছবি, বর্তমান বা অতীত, বন্ধু-বান্ধব, ফোন নম্বর, ই-‌মেইল অ্যা‌ড্রেস, ব‌্যক্তিগত কোনো তথ‌্য বা পোস্ট- এসবের কিছুই আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া ভিন্নরূপে ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিষয়ে একমত পোষণ করছি এবং আমার ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্য আমার অনুমতি ছাড়া অন্যকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। কেউ আমার ছবি, তথ্য বা ফেইসবুকে প্রদত্ত পোস্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও অসংখ্যবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সেগুলোর মতোই সবশেষ এই বার্তারও কোনো ভিত্তি নেই।

ফেসবুকে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের পোস্টগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে থাকে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক কোনো নীতিমালা গ্রহণ বা পরিবর্তন করলে তা আটকাতে ব্যক্তিগত কোনো পোস্ট কোনো কাজে আসে না।

অনলাইনে এ ধরনের গুজব প্রথম ছড়ায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। সে সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মাত্র উন্মুক্ত হয় সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি। এবারের ভুয়া বার্তাটির ভাষা একটু বদলে গেলেও এটি অনেকটি ২০১২ সালের বার্তার মতোই। তখন লেখা হয়েছিল, কিছু একটা পোস্ট করুন, না হলে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে ফেসবুক।

বাস্তবে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীরা গোপনীয়তা বা কপিরাইট সংক্রান্ত শর্তে সম্মতি দেন। এ কারণে পরে তারা চাইলেও পূর্বাবস্থায় ফিরতে পারেন না। একইভাবে কেবল একটি নোটিশ পোস্ট করে ফেসবুকের নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও কোনো প্রভাব ফেলা যায় না।

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

বেঁচে আছেন মিস্টার বিন

বেঁচে আছেন মিস্টার বিন

‘মিস্টার বিন’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন। ছবি: সংগৃহীত

ফক্স নিউজের নামে ভুয়া একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, গত ২২ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৮ বছরের বিন। মুহূর্তেই সে খবর ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। বয়সের গরমিলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি যাচাই করেন ভক্তরা। ধরা পড়ে এটি গুজব।

বেঁচে আছেন ‘মিস্টার বিন’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার মৃত্যুর খবরটি ভুয়া।

ফক্স নিউজের নামে ভুয়া একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, গত ২২ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৮ বছরের মিস্টার বিন। মুহূর্তেই সে খবর ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

দ্য সানের খবরে বলা হয়েছে, টুইটে বিনের বয়স ভুল উল্লেখ করা হয়েছিল। তার বর্তমান বয়স ৬২।

বয়সের গরমিলের কারণে সন্দেহ তৈরি হয় ভক্তদের মধ্যে। এ ছাড়া আগেও কয়েকবার এই তারকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খোঁজখবর নিয়ে বিনের পাঁড় ভক্তরা খবরটিকে গুজব বলে নিশ্চিত করেন।

ভুয়া ওই টুইটে কমেন্টে একজন লেখেন, ‘রোয়ান অ্যাটকিনসন ওরফে মিস্টার বিন মারা যাননি। পোস্টটি ভুয়া।

‘অনলাইনে মিস্টার বিনের মৃত্যুর ভূয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে… জঘন্য।’

আরেক ভক্ত লেখেন, ‘অভিনেতা মিস্টার বিনের মৃত্যুর ভুয়া খবর আবারও ছড়ানো হচ্ছে। এটা সম্ভবত ২৩তম বার। মানুষটাকে বাঁচতে দিন।’

অন্য একজন লেখেন, ‘আবারও গুজব। তিনি অনেকবার মরেছেন।’

গুজব ছড়ানো শুরু করল কে?

নিউ ইয়র্কভিত্তিক ফক্স নিউজের ভুয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি গুজবটি ছড়ানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ ফক্স নিউজের নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। কিছু সময়ের মধ্যে ফক্স নিউজ কর্তৃপক্ষ খবরটিকে ভুয়া বলে নিশ্চিত করে। তবে তার আগেই ৩ লাখ বার শেয়ার হয়ে যায় বিনের মৃত্যুর খবর।

কোথায় আছেন মিস্টার বিন?

জনপ্রিয় অভিনেতা বহাল তবিয়তেই আছেন। আগস্টে ‘ম্যান ভার্সেস বি’ নামের একটি কমিডি শোতে দেখা গেছে বিনকে। পরচুলায় লাল টি-শার্টে সাবলীল দেখাচ্ছিল মিস্টার বিন-খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসনকে।

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

হাঁচি মানে ক্ষণিকের মৃত্যু নয়

হাঁচি মানে ক্ষণিকের মৃত্যু নয়

প্রতীকী ছবি।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাইনোলজির প্রধান ড. ডেভিড গুডিস বলেন, ‘হাঁচির মাধ্যমে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো কণা মানবদেহ থেকে দূরে ছিটকে যায়। মানুষের পাশাপাশি ইঁদুর, কুকুর, বিড়ালসহ সব স্তন্যপায়ী প্রাণিই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।’

জনমনে প্রচলিত ধারণা- কেউ হাঁচি দিলেই এক সেকেন্ডের জন্য তার দেহের মৃত্যু হয়; প্রতিবার হাঁচি, মানে ক্ষণিকের মৃত্যু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন দাবি সম্বলিত পোস্টের দেখা মেলে প্রায়ই। গত ১৫ নভেম্বর ফেসবুকে তিনদিনে প্রায় ১০০ লাইক কুড়ানো একটি পোস্টেও লেখা হয়- ‘আপনি কি জানতেন? যখনই আপনি হাঁচি দেন, এক সেকেন্ডের জন্য আপনার মৃত্যু হয়।’

অনেকেই পোস্টে দেয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বিশ্বাসীর সংখ্যাও কিছু কম নয়।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হাঁচি দেয়ার সময় হৃৎস্পন্দন এক সেকেন্ডের জন্য থেমে যায়। তাই কার্যত ওই একটি সেকেন্ডে আপনি মৃত।’

আরেক মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘আমি তো প্রতিদিন ১৫ বার মারা যাই!!!’

কিন্তু এটি বাস্তব নয়।

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঁচি দেয়ার সময় রক্তচাপ খুব দ্রুত পরিবর্তন ও স্থিতিতে ফেরার কারণে আপনার হৃৎপিণ্ড একটি স্পন্দন অনুভব নাই করতে পারে, কিন্তু এর মানে মৃত্যু নয়।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ব্লাহম কার্ডিওভাস্কুলার ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক ড. ক্লাইড ইয়ানসে বলেন, ‘এটা মিথ্যা। এ দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। হাঁচির কারণে হৃৎপিণ্ড থেমে যায় না। এটা রূপকথার গল্প হিসেবে খারিজ করে দেয়া যায়।’

নাকের মাধ্যমে ধুলা, ভাইরাস বা বাতাসে থাকা কোনো ক্ষুদ্র ময়লা শরীরে ঢোকার চেষ্টা করলে নাসিকারন্ধ্র তা প্রতিরোধ করে। এটিরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হাঁচি।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাইনোলজির প্রধান ড. ডেভিড গুডিস বলেন, ‘হাঁচির মাধ্যমে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো কণা মানবদেহ থেকে দূরে ছিটকে যায়। মানুষের পাশাপাশি ইঁদুর, কুকুর, বিড়ালসহ সব স্তন্যপায়ী প্রাণিই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।’

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

করোনার চেয়ে টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি?

করোনার চেয়ে টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি?

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কমবয়সী ৭০০ শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে, টিকা নেয়ার কারণে একজনও নয়। প্রতীকী ছবি

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ড. লিয়ানা ওয়েন ই-মেইলে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি। কিন্তু করোনায় ছয় শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইয়াদুনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।’

প্রায় বছরখানেক অপেক্ষার পর শিশুদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদানে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে শিশুদের জন্য টিকার চেয়ে করোনাভাইরাস বেশি নিরাপদ।

ইনস্টাগ্রামে গত ৫ নভেম্বরের একটি পোস্টে বলা হয়, ‘শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হলে যত না মৃত্যুঝুঁকি, সে ঝুঁকি ৫০ গুণ বেড়ে যায় তাদের করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হলে।’

এক সপ্তাহে তিন হাজার ‘লাইক’ কুড়ানো পোস্টটিতে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে ড. মিখাইল ইয়াদুনের। তিনি করোনা প্রতিরোধী টিকা প্রস্তুতকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ফাইজারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

প্রায় ১৬ বছর কর্মরত থাকার পর ২০১১ সালে ফাইজার ত্যাগ করেন ড. ইয়াদুন। এর আগে তিনি ফাইজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাবিষয়ক অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছেন এই ব্যক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের সহযোগী ও অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে চলতি বছরের জুনে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন ড. ইয়াদুন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টটিতে উল্লেখিত উদ্ধৃতিটি নেয়া হয়েছে ওই সাক্ষাৎকার থেকে।

ইয়াদুন বলেছিলেন, ‘শিশুদের এ রকম একটা টিকা দেয়া স্রেফ পাগলামি। ভাইরাসের যেটুকুও বা শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে, টিকা তার চেয়েও ৫০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, দাবিটি মিথ্যা।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনা প্রতিরোধী টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি একেবারেই নেই।

জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, টিকা গ্রহণে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি না কাটলেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব। টিকা গ্রহণের উপযোগিতা এর স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি বলে মত বিশেষজ্ঞদেরও।

এ বিষয়ে ড. ইয়াদুন ও তার উদ্ধৃতি পোস্ট করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ইউএসএ টুডে।

মৃত্যুর সঙ্গে টিকার সম্পর্ক নেই

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সামগ্রিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি কম। শিশুদের ক্ষেত্রে কথাটি আরও সত্য। তবে ভাইরাস থেকে পুরোপুরি তারা ঝুঁকিমুক্ত, এমন দাবি করার উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য বলছে, ১৮ বছরের কমবয়সী ৭০০ শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে। এদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশুর বয়স চার বছরের কম ছিল।

টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই তা নয়।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ড. লিয়ানা ওয়েন ই-মেইলে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি। কিন্তু করোনায় ছয় শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইয়াদুনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।’

পাঁচ বছর থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর ফাইজারের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও কারো মৃত্যু হয়নি। ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও কোনো প্রাণহানি হয়নি। মডার্নার প্রস্তুতকৃত টিকার পরীক্ষাতেও একই ফল মিলেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ে টিকা গ্রহণের পর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

কিন্তু তাদের কারও মৃত্যুর কারণই টিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার শিশু ও মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক ড. সোঞ্জা রাসমুসেন। ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘করোনার টিকার মাধ্যমে শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি যতটা কমানো সম্ভব, তার কাছে টিকার অন্য ঝুঁকি একেবারেই ম্লান।’

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসের সংখ্যা নিয়ে চলছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিআরটিএ থেকে শুরু করে পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষ, এমনকি বাস মালিক সমিতি কারও কাছেই এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নেই। রাজধানীর যেসব পেট্রল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন থেকে বাসের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, সেখান থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকটা ধারণার ভিত্তিতে প্রচার হচ্ছে সিএনজিতে ৯৫ শতাংশ বাস চলার তথ্য।    

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরই বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নামেন মালিকেরা। তাদের আকস্মিক ধর্মঘটের মুখে সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

সরকারের সঙ্গে মালিকপক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাস ভাড়া ২৭ শতাংশ এবং মহানগরে ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এই বাড়তি ভাড়া কার্যকর হয়েছে শুধু ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে, সিএনজিচালিত পরিবহনের ভাড়া আছে আগের মতোই। তবে সিএনজিচালিত বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রথম দিনেই।

সিএনজিচালিত বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে চলা বাসের কত শতাংশ ডিজেল ও সিএনজিচালিত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঢাকায় বর্তমানে যত বাস চলাচল করে তার ৯৫ শতাংশই জ্বালানি হিসেবে সিএনজি ব্যবহার করে। ডিজেলে চলে মাত্র পাঁচ শতাংশ বাস। সারা দেশেও শতাংশের এই হারটি প্রায় একই।

তবে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিউজবাংলার অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। দেখা গেছে, বিআরটিএ থেকে শুরু করে পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষ, এমনকি মালিক সমিতি কারও কাছেই এ সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান নেই। রাজধানীর যেসব পেট্রল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন থেকে বাসের জ্বালানি সরবরাহ করা হয় সেখান থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এসব পেট্রল পাম্প বা সিএনজি স্টেশনসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঢাকায় অর্ধেকের বেশি বাস এখন ডিজেলচালিত। কোনো কোনো বাসে ব্যবহার করা হচ্ছে দুই ধরনের জ্বালানি।

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

জার্মানভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের বাংলা সংস্করণের প্রতিবেদনে বিআরটিএর বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ঢাকায় ৯৫ শতাংশ বাসই এখন সিএনজিচালিত৷ এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে মোট বাস ১২ হাজার ৫২৬টি৷ তার মধ্যে গ্যাসে চলে ১১ হজার ৯০০টি৷ ডিজেলে চলে ৬২৬টি৷ ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস মোট ১৬ হাজার৷ তার মধ্যে গ্যাসে চলে ১১ হাজার ২০০৷ ডিজেলে চলে চার হাজার ৮০০৷ সারা দেশে মোট বাস ৭৮ হাজার৷ তার মধ্যে গ্যাসে চলে ৪৬ হাজার ৮০০টি৷ ডিজেলে চলে ৩১ হাজার ২০০টি৷’

তবে বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে এখন ডিজেল ও সিএনজিতে কত বাস চলছে, সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। ২০০৮ সালে এ বিষয়ে পরিসংখ্যান তৈরির একটি উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বিআরটিএ-এর পরিচালক (সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি) মাহবুব ই রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ডেটাবেজে এ তথ্যগুলো নেই। কোন কোন কোম্পানির বাস গ্যাসে চলে সেই ডেটাবেজও নেই। ফুয়েলের ওপর নির্ভর করে আমাদের কোনো ডেটাবেজ এখন পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮-২০০৯ সালের দিকে যখন ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়, তখন বেশির ভাগ বাস সিএনজিতে রূপান্তর করা হয়েছিল। পরে রূপান্তরিত গাড়ির সমস্যার কারণে অনেকে আবার তেলে ফিরে আসে। এর পরে আর গ্যাসের বাস নামেনি।’

বিআরটিএর বরাতে ঢাকার ৯৫ শতাংশ গাড়ি গ্যাসে চলার তথ্য নাকচ করে মাহবুব ই রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্যাসের বাস পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না। এখন সিএনজিচালিত বাস কেউ নামায় না, বেশির ভাগই ডিজেলচালিত।’

ডিজেলে বাস বেশি চলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে যখন গ্যাসের দাম কম ছিল তখন গাড়ি গ্যাসে চলে গিয়েছিল। পরে গ্যাসের দাম বাড়া এবং ইঞ্জিন না টেকার কারণে গাড়িগুলো তেলে চলতে শুরু করে। আর এখন তো গ্যাসের দাম অনেক বেশি। গ্যাসে আগের সুবিধা পায় না বলেই মালিকেরা তেলে ফিরেছে।’

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকে, ‘৯৫ শতাংশ বাস সিএনজিতে চলার’ তথ্য দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বরাতে। এই তথ্যের উৎস জানতে চাইলে মোজাম্মেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এই তথ্য বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে পেয়েছি।’

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনাকে (মোজাম্মেল হক চৌধুরী) এমন কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির কয়েকটি কারণ আছে। আমি মনে করি, ২০১৫ সালের দিকে সিএনজির দাম যখন বাড়ানো হয়, তখন বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা শ্রমিক ফেডারেশন অনেকটা জোর গলায় বলেছিল, তাদের অধিকাংশ বাস সিএনজিতে চলে। সিএনজির দাম বেড়েছে, ফলে ভাড়া বাড়াতে হবে। আমার মনে হয়, ওটা ধরেই তিনি (মোজাম্মেল) কথাটা বলেছেন।’

ঢাকা শহরে মাত্র ৫ শতাংশ গাড়ি সিএনজিতে চলে, এমন দাবিকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে একেবারেই অসম্ভব মনে হয়।’

বুয়েটের এআরআই ২০১৯ সালে খুব স্বল্প পরিসরে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের জন্য একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। ওই প্রকল্পকেন্দ্রিক গণপরিবহনের মাত্র ২৫ মালিকের সঙ্গে কথা বলে সমীক্ষাটি করা হয়। এতে দেখা যায়, সুনির্দিষ্টভাবে ওই রুটের ২৫ জন মালিকের ৮০ ভাগ গাড়ি চলে সিএনজিতে, আর ২০ ভাগ গাড়ি চলে ডিজেলে।

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সে সময় কিন্তু একটি ছোট স্যাম্পল নিয়ে কাজ করেছি। এতে বাসমালিকদের বাসের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়নি। এই স্যাম্পল থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, ৮০ ভাগ মালিক বলছেন তারা সিএনজি দিয়ে গাড়ি চালান।

‘পুরো ঢাকা শহরের যত বাস চলে সবগুলোর ওপর জরিপ করা হলে যেটা আমি বলছি ৮০ ভাগ, সেটা ৫০ ভাগেও নামতে পারে।’

এর আগে ২০১০ সালে বুয়েট আরেকটি গবেষণা করেছিল, সেখানে দেখা গেছে ৭০ শতাংশ গাড়ি সিএনজিতে চলে। অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘২০১০ সালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সার্ভে করা দেখা হয়েছিল। তখন ৭০ শতাংশ গাড়ি সিএনজিচালিত তথ্য পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের যে গবেষণা, সেখানে আমরা অল্প স্যাম্পল নিয়েছিলাম। সেটাকেই অনেকে ভুল করে ৮০ ভাগ মনে করছে। প্রাইভেট গাড়ির ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। ২০১০ সালে দেখেছি ৮২ ভাগ, ২০১৬ সালে এসে সেটা ৯০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। তার মানে সবকিছুই বাড়তির দিকে। সেই হিসাবে তারা অনুমান করে নিচ্ছে এটাও (সিএনজিচালিত গণপরিবহন) ৯০ ভাগের বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। সাড়ে ১২ হাজারের মতো অনুমোদিত বাস আছে, যা ঢাকা শহরে চলতে পারবে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার চলছে।’

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

পেট্রল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের চিত্র কী

ঢাকায় সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের সংখ্যা কেমন, সে বিষয়ে ধারণা পেতে নগরীর মিরপুর ও গাবতলী এলাকার ১৯টি পেট্রল পাম্প ও সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

এর মধ্যে গাবতলী এলাকায় গ্যাস ও তেলের পাম্প ছিল আটটি ও মিরপুর এলাকার ১১টি।

গাবতলী এলাকার মোহনা ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ইউনুস আলী নিউজবাংলাকে জানান, তাদের পাম্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ঢাকা সিটির ১২০টি বাস তেল নেয়। একই পাম্প থেকে কোনো বাস গ্যাস নেয় না।

শাহানাজ ফিলিং স্টেশনের হেড অফ অ্যাকাউন্টস সুমন খন্দকার জানান, তাদের পাম্প থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ বাস তেল নেয়। এসপি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মাধব কর্মকার জানান, তারা প্রতিদিন আনুমানিক ১০০ বাসে তেল সরবরাহ করেন। এই ফিলিং স্টেশন থেকেও কোনো বাস গ্যাস নয় না।

যমুনা ফিলিং স্টেশন শুধু জ্বালানি তেল বিক্রি করে। এখানকার কর্মী সহিদুল জানান, তারা কোনো বাসে তেল বিক্রি করেন না। অন্যদিকে নাভানা সিএনজি স্টেশনের শিফট ইনচার্জ ইমাম হোসেন জানান, তারা সাধারণত বাসে গ্যাস সরবরাহ করেন না।

ডেনসো সিএনজি পাম্প থেকে দিশারি পরিবহনের একটি বাস গ্যাস নেয় বলে জানান ক্যাশিয়ার আকবর হোসেন। আর পূর্বাচল গ্যাস ফিলিং স্টেশনের ইঞ্জেক্টর বশির আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তারা আশীর্বাদ পরিবহনের দুটি বাসে গ্যাসের জোগান দেন।

মিরপুর-১২ থেকে তালতলা পর্যন্ত আটটি গ্যাস স্টেশন ও তিনটি পেট্রল পাম্প রয়েছে।

এই এলাকার রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টার থেকে শিকড়, বিহঙ্গ, আশীর্বাদ ও বিআরটিসি পরিবহনের ৫০ বাস প্রতিদিন গ্যাস নেয় বলে জানান স্টাফ মো. রুবেল। ইন্ট্রাকো সিএনজি অ্যান্ড এলপিজি থেকে সেফটি, মিরপুর লিংক, আশীর্বাদ ও বিহঙ্গ পরিবহনের ৪০টি বাস গড়ে প্রতিদিন গ্যাস নেয় বলে জানান ম্যানেজার মাসুদ।

স্ক্যামকো সিএনজি স্টেশনের সুপারভাইজার আলাউদ্দিন জানান, সেফটি, বিকল্প ও মিরপুর লিংকের তিনটি বাসে তারা গ্যাস দেন। মিনারভা সিএনজি স্টেশনের আপারেটর নজরুল ইসলাম জানান, তাদের পাম্প থেকে কোনো বাস গ্যাস নেয় না। আর ঢাকা সিএনজি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার মোক্তার হোসেন জানান, বিহঙ্গ পরিবহনের পাঁচটি বাসে তারা গ্যাস সরবরাহ করেন।

শাহজালাল সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন জানান, তারা পাঁচটি বাসে গ্যাস দেন। নাম প্রকাশ না করে মনি সিএনজি স্টেশনের এক কর্মী জানান, তিনটি বাস গ্যাস নেয় তাদের স্টেশন থেকে।

ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?

অন্যদিকে, সোবহান ফিলিং অ্যান্ড সারভিসিং স্টেশন থেকে প্রতিদিন ১৫টি বাসে তেল নেয় বলে জানান সুপারভাইজার মাসুদ ইসলাম। এনার্জি প্লাসের ইঞ্জিনিয়ার তাপস রায় জানান, তাদের কাছ থেকে কোনো বাস গ্যাস নেয় না। এএস ফিলিং স্টেশনের কর্মী লুৎফর রহমান জানান, তারা প্রতিদিন গড়ে চারটি বাসে তেল সরবরাহ করেন। আর তালতলা এলাকার ফাসান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সুজন মিয়ার হিসাবে, তাদের কাছ থেকে তেল নেয় প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি বাস।

নিউজবাংলা যে ১৯টি পেট্রল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের তথ্য পেয়েছে, সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৬২৮টি গাড়ি তেল ও গ্যাস নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫১৯টি গাড়ি তেল নিচ্ছে, আর ১০৯টি নিচ্ছে সিএনজি। এই হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডিজেলচালিত গাড়ি ৮২.৬৪ শতাংশ এবং গ্যাসে চলছে ১৭.৩৬ শতাংশ বাস। তবে অনেক বাস মিশ্র জ্বালানি ব্যবহার করায় শতাংশের প্রকৃত হিসাব বের করা কঠিন।

কী বলছেন বাসমালিক-শ্রমিকেরা

ঢাকা শহরে ‘৯৫ শতাংশ বাস গ্যাসচালিত’ এমন তথ্য মানছেন না ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি একটা কাল্পনিক নিউজ। কিসের ভিত্তিতে এই নিউজ করেছে জানি না। ঢাকা শহরে গ্যাসচালিত ম্যাক্সিমাম ৫০০ গাড়ি থাকতে পারে। ঢাকায় ৯৫ শতাংশ গাড়ি ডিজেলে চলে।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৮-১০ বছর আগে বিআরটিএর কাছে গ্যাসের গাড়ির তথ্য ছিল, পরে বেশির ভাগ বাস ডিজেলে চলে আসে। এর পরে তাদের কাছে আর তথ্য নেই। যারা ৯৫ শতাংশের কথা বলছে তারা পুরোনো রেকর্ড নিয়ে কথা বলছে।’

বাস কেন সিএনজি থেকে ডিজেলে আসে-যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আট থেকে ১০ বছর আগে মানুষ গ্যাসের গাড়ির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন তেলের থেকে গ্যাস বেশি সাশ্রয়ী ছিল। পরে দেখা গেল, গ্যাসের গাড়ি ছয় মাসও টেকে না, ছয় মাস পরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তখন অনেকেই গ্যাসের গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে, অনেকে গ্যাস থেকে তেলে চলে এসেছে।’

ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসের সংখ্যার তথ্য মালিক সমিতির কাছে আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে চেক করা শুরু করেছি। এ বিষয়ে গতকালও (সোমবার) মিটিং ডাকা হয়েছিল। ঢাকা শহর এবং শহরতলিত ছয় হাজার বাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ বাস গ্যাসে থাকতে পারে। এর বেশ কিছু ঢাকা হয়ে ঢাকার আশপাশে যায়।

‘শুধু ঢাকার ভেতরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বাস হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নাই। এই কাজ চলছে। ৯০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।’

তেলের ও গ্যাসের গাড়ির সুবিধা-অসুবিধা জানতে চাইলে শিকড় পরিবহনের চালক আফির উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্যাসে বাস চালালে ছয় মাস পরপর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। গ্যাস তো শুকনা জিনিস, তাই ইঞ্জিন ডাউন হয়। গ্যাসের গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে সহজে স্টার্ট করা যায় না। তেলের গাড়ি সহজে স্টার্ট করা যায়। এ ছাড়া হঠাৎ করে গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ওই গাড়ি গ্যারেজে আনা যায় না। সব জায়গায় গ্যাসও পাওয়া যায় না, ফলে গাড়ি টেনে আনতে হয়।’

প্রজাপতি পরিবহনের চালক, মো. আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ির জন্মই তেলে চলার জন্য। আমরা তারে মডিফাই করে গ্যাসের গাড়ি বানাই। ১৫ সালের পরের মডেলের বাস সব তেলের। এর আগে গ্যাসের কম দাম ছিল তাই মানুষ গ্যাসে গাড়ি চালাইছে। গ্যাস শুকনা বলে গাড়ির ক্ষতি হয়। যখন মানুষ বুঝতে পারছে গ্যাসে চালালে গাড়ির ইঞ্জিন দুই দিন পরপর নষ্ট হয়, তখন আবার তেলে চলে আসছে। এখন ঢাকার প্রায় সব গাড়ি তেলে চলে। ঢাকার বাইরে কিছু গাড়ি গ্যাসে চলে।’

রজনীগন্ধা বাসের চালক বাকের মিয়া বলেন, ‘ইঞ্জিন ভালো থাকে তেলে। তা ছাড়া মাইলের হিসাব করলে তেল আর গ্যাসের দামে আহামরি তেমন পার্থক্য হয় না। তাই সেধে কেউ আর গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট করে না।’

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া

কথিত ‘জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এ নিয়োগের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে ছড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। আর যারা গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত নিউজ করছেন তাদেরকেও আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো নিউজ প্রকাশ করার আগে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন ‘জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এ নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমও এই বিজ্ঞপ্তির তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটির যে ছবি ছড়িয়েছে তাতে যে কেউ মনে করবেন এটি কোনো দৈনিক পত্রিকা থেকে নেয়া। তবে বেশ কিছু অসংলগ্নতা রয়েছে বিজ্ঞাপনের এই ছবিতে। একজন পাঠক বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা।

এতে দেখা গেছে, সরকারি যে প্রতিষ্ঠানের নামে বিজ্ঞপ্তিটি দেয়া হয়েছে, বাস্তবে সেই ‘জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এর কোনো অস্তিত্বই নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভুয়া এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে জনসাধারণকে সতর্কও করেছেন তারা।

কথিত ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য পেয়েছে নিউজবাংলা। এগুলো হলো:

# দেশে মুজিব শতবর্ষ পালিত হচ্ছে। এই বছরের সরকারি যেসব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় তার সবগুলোতে মুজিব শতবর্ষ লোগো থাকার কথা। তবে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সেটি নেই।

# মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে সেটি প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কোনো তারিখ নেই। শুধু লেখা ছিল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

# এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জিপিওবক্স নম্বর দেয়া আছে। তবে সরকারি কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের জিপিওবক্স নম্বার দেয়া থাকে না।

# মন্ত্রণালয়ের যেকোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ সরকারি বিধি ছাড়া সম্পন্ন হয় না। এছাড়া, মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নোটিশ ও ফল তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা এ সব প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। কথিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এসবের কোনো কিছুই উল্লেখ নেই।

এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কারা প্রকাশ করেছে আমাদের জানা নেই। আমাদের নিয়োগ সংক্রান্ত নোটিশ হলে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অনেকগুলো শাখা রয়েছে, যে শাখা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, সেই শাখা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম এবং পদবি উল্লেখ করে স্বাক্ষরসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

‘যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম নেই। এটা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে নিউজও হয়েছে দেখছি। আসলে এটি ভুয়া নিয়োগ। এর বিরুদ্ধে নিউজ হওয়া উচিত।’

মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। আর যারা গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত নিউজ করছেন তাদেরকেও আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো নিউজ প্রকাশ করার আগে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।’

এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যারা প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানান মাইনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা
চীনের টিকা ফিরিয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
হিসাব মিলবে কীভাবে?
এশিয়ায় প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি জাপানের

শেয়ার করুন