ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০

নেপালের বিরাটনগরে বন্যায় পানিবন্দি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটিও। ছবি: এএফপি

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে সোমবার থেকে দুইদিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৯৯ জনের। প্রতিবেশী ভারতেও মুষলধারে বৃষ্টির পর বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসযজ্ঞে ছয়দিনের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮৮ জনে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতি মুহূর্তেই দেশ দুটিতে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, পানির তোড়ে ভেঙে গেছে সেতু, ভূমিধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে মাঠে রয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলেই শঙ্কা তাদের।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত বাহাদুর কুনওয়ার জানিয়েছেন, নেপালে প্রাণহানির বেশিরভাগই ঘটেছে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে অঞ্চলগুলোতে।

সন্ধান ও উদ্ধারকর্মীরা বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। বৃষ্টি-বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কমপক্ষে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত পশ্চিমাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগ থেকে নেপালে বৃষ্টি কমা শুরু হতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে হতে প্রায় সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় গত শুক্রবার থেকে এবং উত্তরের উত্তরাখণ্ডে রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢল আর ভূমিধসে কেরালায় কমপক্ষে ৪২ জন আর উত্তরাখণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুটি রাজ্যেই সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

ভারত-নেপালে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ২০০
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে গঙ্গা নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে। ছবি: এএফপি

ভারতে হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরাঞ্চল বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে হিমবাহ গলতে থাকায় অঞ্চলটিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যায় প্রায় দুই শ মানুষের মৃত্যু হয়। ভেসে যায় অসংখ্য বাড়িঘর। ২০১৩ সালে একই রাজ্যে বন্যায় মারা গেছিল প্রায় ছয় হাজার মানুষ।

আর ২০১৮ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার হয় কেরালা। সে বছর বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে রাজ্যটিতে প্রাণ যায় চার শতাধিক মানুষের, গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

চলতি বন্যায় ভারত ও নেপাল দুই দেশেই উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রস। নেপালে সংস্থাটির কর্মকর্তা আজমত উল্লা বলেন, ‘নেপাল ও ভারত করোনাভাইরাস মহামারি আর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি

শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি

ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল শ্রীমঙ্গলেই।

তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে বাড়ছে শীত। রোববার সকাল ও শনিবার রাতে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পুরো জেলা।

আবহাওয়াবিদ আনিসুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

ইউএসজিএসের ভূমিকম্প মানচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৩২.৮ কিলোমিটার।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নিয়ে পোস্টে বলা হয়, এটি ঢাকা থেকে ৩৪৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে এক পোস্টে অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.১।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ৩২.৮ কিলোমিটার।

সংস্থাটি আরও জানায়, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের হাখা থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।’

তিনি বলেন, ‘উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৬.১, তবে আশপাশের এলাকায় ৫.৭ মাত্রায় অনুভূত হয়েছে।’

ভূমিকম্প সিলেটেও বড় ঝাকুনি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফেনী শহরে ভূমিকম্পের সময় লোকজনকে বাসাবাড়িতে শোরগোল করতে শোনা যায়। এতে শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শহরের বাসিন্দা ফারুকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মসজিদে নামাজরত ছিলাম। মসজিদ শুধু দোলনার মতো দুলতেছে। আর তখনই টের পেয়েছি ভূমিকম্প হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

মাথায় কনটেইনার আটকে মরতে বসেছিল হরিণটি

মাথায় কনটেইনার আটকে মরতে বসেছিল হরিণটি

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস রাজ্যের পনি প্রেইরি পার্কে এই অবস্থায় হরিণটিকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

উইচিটার শহরের পনি প্রেইরি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, মাথায় কনটেইনার আটকে যাওয়া হরিণটিকে কয়েক দিন আগে দেখতে পান স্থানীয়রা। কিন্তু কেউ ওকে সাহায্য করতে পারছিল না। মানুষ দেখলেই পালিয়ে যেত সে।  

একবার ভেবে দেখুন তো, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর আপনি। কিন্তু মুখ খুলতে না পারায় কিছুই মুখে তুলতে পারছেন না। কারও কাছে সাহায্য চাইবেন, সেই উপায়ও নেই। এমন পরিস্থিতিতে হয়তো পড়তে চাইবেন না কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস রাজ্যের একটি শহরে সম্প্রতি এমন অবস্থায় দেখা গেছে একটি হরিণকে। প্লাস্টিকের একটি কনটেইনার পুরো মাথায় আটকে গিয়েছিল হরিণটির। কয়েক দিনের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার হরিণটিকে ধরতে সক্ষম হন স্থানীয়রা। খুলে নেয়া হয় কনটেইনারটি।

উইচিটার শহরের পনি প্রেইরি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, মাথায় কনটেইনার আটকে যাওয়া হরিণটিকে কয়েক দিন আগে দেখতে পান স্থায়ীয়রা। কিন্তু কেউ ওকে সাহায্য করতে পারছিল না। মানুষ দেখলেই পালিয়ে যেত সে।

স্থানীয় বাসিন্দা জেসিকা নেভিল বলেন, ‘চার দিন ধরে হরিণটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি পুকুরে সে পানি পানের চেষ্টা করছিল। আমাদের দেখে পালিয়ে যায়। পরে রাতের আঁধারে একটি বাড়ির আঙিনার সামনে ওকে ধরতে পারি। জাপটে ধরে ওর মাথা থেকে কনটেইনারটি বের করি।’

আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ায় পরামর্শ দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর কীর্তি না রাখতে নদী হত্যা: নৌপ্রতিমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা ও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; নদীগুলো দখল হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভিশনারি নেতৃত্ব ও কীর্তি যাতে না থাকে সেজন্য নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার কীর্তি না রাখতে দেশের নদীগুলো দখল হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে সারা দেশের নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; নদীগুলো দখল হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভিশনারি নেতৃত্ব ও কীর্তি যাতে না থাকে সেজন্য নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা ও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ঢাকার চারপাশের নদী নয়, সারা দেশের নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নদীগুলো একদিনে দখল হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের জট। দ্রুত কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সেগুলো উদ্ধারে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ নদী নিয়ে চিন্তা করছে-এটাই সাফল্য। নদী রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করছি-সেটি সফলতা। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘নদীগুলোর নাব্যতা কমে গেছে; নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ওইসময় সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত নদী খননের জন্য কোনো ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ বছরে ৩৮টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছেন। এর সুফল আমরা পাচ্ছি।’

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহসীনুল করিম লেবুর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) সিনিয়র অ্যাডভাইজার ড. মমিনুল হক সরকার।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অখিল কুমার বিশ্বাস, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদাত।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। ছবি: বিবিসি

অ্যালবেট্রস নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততায় অ্যালবেট্রস পাখিরা জগদ্বিখ্যাত। এর মানে এই নয় যে, তারা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যায় না। তবে সেই সংখ্যাটি নগন্যই বলা চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই পাখিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার বেড়ে গেছে বহুগুণে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে ফকল্যান্ড আইল্যান্ডে সাড়ে ১৫ হাজার অ্যালবেট্রস যুগলের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। একবার তাদের মনের মিল হয়ে গেলে- সারাজীবনই তারা একে অপরকে সঙ্গ দিয়ে চলে। সাধারণ হিসেবে, খুব বেশি হলে এক শতাংশ অ্যালবেট্রস যুগলের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে; যা মানুষের সমাজের চেয়ে অনেকাংশেই কম।

অ্যালবেট্রস নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

কিন্তু বিগত বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা যত বাড়ছে অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের হারও তত বাড়ছে। বর্তমানে এমন বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ৮ শতাংশেরও বেশি অ্যালবেট্রস যুগলকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো অ্যালবেট্রস যুগল প্রজননে ব্যার্থ হলেই তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজনন মৌসুমের জন্য তারা নতুন সঙ্গীর খোঁজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একটি সফল প্রজনন মৌসুম কাটানোর পরও অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, অ্যালবেট্রসদের বিচ্ছেদ বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী একটি সম্পর্ক মানিয়ে চলতে তারা হয়তো অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকার কারণে অ্যালবেট্রস পাখিদের আরও দীর্ঘ সময় শিকার খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। শিকারের সন্ধানে তারা আগের চেয়েও দূর-দূরান্তে উড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে তাদের অনেকেই সময়মতো নীড়ে ফিরতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই ফাঁকে তাদের সঙ্গীরা নতুন কোনো সঙ্গীকে বেছে নিচ্ছে।

আবার এমনও হতে পারে, বিরূপ আবহাওয়া অ্যালবেট্রস পাখিদের হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার বৈশিষ্ট্যগুলো তারা হারিয়ে ফেলছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, ‘প্রজনন শর্তগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়া আর খাদ্যের অভাব অ্যালবেট্রস পাখিদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। ফলে তারা একে অপরের সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না। যার ফল শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই গড়াচ্ছে।

এমন প্রবণতা অ্যালবেট্রসের সংখ্যার ওপরও প্রভাব ফেলছে। ২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০-এর দশকের তুলনায় প্রজননক্ষম অ্যালবেট্রস যুগলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফ্রান্সিকো মনে করেন, বৈশ্বিক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যত বাড়বে অ্যালবেট্রস পাখিদের সমাজে এমন বিচ্ছেদের গল্পও তত বাড়বে।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

রিসোর্ট থেকে সাফারি পার্কে ৪ মায়া হরিণ

রিসোর্ট থেকে সাফারি পার্কে ৪ মায়া হরিণ

গাজীপুরের রিসোর্টে পাওয়া গেছে এই মায়া হরিণগুলো। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় রিসোর্টের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তার এই অবকাশ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণী মুক্ত রাখা হবে। তাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে চারটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রার্ণী অপরাধ দমন ইউনিট। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে চিত্রা হরিণের ৫৬টি শিংও পাওয়া গেছে।

ঢাকা বন বিভাগের সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের ওই রিসোর্টে অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় রিসোর্টের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তার এই অবকাশ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণী মুক্ত রাখা হবে। তাই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবকাশ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। পরে কর্তৃপক্ষকে বন্যপ্রাণী আইন সম্পর্কে অবহিত করলে তারা এসব প্রাণী ও শিং স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন।’

তিনি জানান, মায়া হরিণগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, হরিণ হত্যা, এর দেহের অংশ সংরক্ষণ, পরিবহন ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন

দূষিত ১০০ শহরে বাংলাদেশের ৪টি, ভারতের ৪৬

দূষিত ১০০ শহরে বাংলাদেশের ৪টি, ভারতের ৪৬

বিশ্বের দূষিত ১০০ নগরীর তালিকায় বাংলাদেশে শীর্ষে মানিকগঞ্জ। ফাইল ছবি/এএফপি

দূষিততম শত নগরীর তালিকায় থাকা বাংলাদেশের চারটি শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মানিকগঞ্জ; সামগ্রিকভাবে অবস্থান ১৬তম। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৩তম অবস্থানে রাজধানী ঢাকা, ৬০তম অবস্থানে আজিমপুর ও ৬১তম অবস্থানে রয়েছে শ্রীপুর।

বিশ্বের দূষিততম ১০০ শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকাসহ রয়েছে বাংলাদেশের চারটি শহর। দূষিত নগরীর সংখ্যার দিক থেকে তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে ভারত; চরম দূষণের শিকার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিসহ ৪৬টি শহর।

বাতাসের মান নির্ধারণী আইকিউএয়ারের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, বিশ্বের দূষিততম শহর চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের হোতান শহর। আর সবচেয়ে দূষিত ১০টি শহরের মধ্যে বাকি ৯টিই ভারতের, যার শীর্ষে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ। সর্বোচ্চ দূষণে দশম অবস্থানে দিল্লি।

সবচেয়ে দূষিত ১৫টি শহরের মধ্যে নেই বাংলাদেশের কোনো শহর।

দূষিততম শত নগরীর তালিকায় থাকা বাংলাদেশের চারটি শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মানিকগঞ্জ; সামগ্রিকভাবে অবস্থান ১৬তম। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৩তম অবস্থানে রাজধানী ঢাকা, ৬০তম অবস্থানে আজিমপুর ও ৬১তম অবস্থানে রয়েছে শ্রীপুর।

কীভাবে বাতাসের দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়

বাতাসে পিএম২.৫, পিএম ১০, ওজোন গ্যাস, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ও কার্বন মনোঅক্সাইডের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

বাতাসে পিএম বা পার্টিকুলেট ম্যাটার বা ক্ষুদ্র ধাতব কণার পরিমাণ বেশি হলে তা মানবদেহের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। পিএমের আকৃতি নানারকম হতে পারে, সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো পিএম২.৫ আর পিএম১০। পিএম২.৫ কণার ব্যাস ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটারের কম এবং পিএম১০ কণার ব্যাস ১০ মাইক্রোমিটারের কম; যেখানে মানুষের একেকটি চুলের ব্যাস হয়ে থাকে ৫০ থেকে ৭০ মাইক্রোমিটার।

বাতাসে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১২-এর কম হলে তা বিশুদ্ধ বাতাস বলে ধরে নেয়া হয়। পিএম২.৫-এর পরিমাণ ৫৫ থেকে ১৫০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর ও ২৫০ বা এর বেশি হলে হয় বিপজ্জনক।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর কোনগুলো

২০২০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০০ শহর মাত্র ছয়টি দেশের। এর মধ্যে ৯৪টি শহরই ভারত, চীন ও পাকিস্তানের।

আইকিউএয়ারের সূচকে দূষিত নগরীর সংখ্যার দিক থেকে ৪৬টি শহর নিয়ে শীর্ষে ভারত, চীনের ৪২টি, পাকিস্তানের ছয়টি, বাংলাদেশের চারটি, ইন্দোনেশিয়ার একটি ও থাইল্যান্ডের একটি।

সব শহরের বাতাসে পিএম২.৫-এর মাত্রা ৫০-এর বেশি।

দূষণে শীর্ষ হোতানে বাতাসের গুণগত মান সবচেয়ে খারাপ। গত বছর শহরটির বাতাসে পিএম২.৫-এর পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১১০ দশমিক ২।

মানবদেহে বায়ুদূষণের প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে বায়ুদূষণের ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ লাখ মানুষের।

ডব্লিউএইচওর অনুমোদিত মাত্রা ছাড়িয়ে দূষণ হয়, এমন অঞ্চলে বাস বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের।

শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ অসংখ্য স্বাস্থ্য জটিলতার সঙ্গে বায়ুদূষণের যোগসূত্র পাওয়া যায়।

ভারতে দূষণের মাত্রা প্রাণঘাতী

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু ভারতেই।

প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটি সময়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির আকাশ ছেয়ে থাকে ঘন ধোঁয়াশায়। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুই কোটি বাসিন্দার শহরটিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্ধ রাখা হয় সব স্কুল, যেন তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে না হয়।

নয়াদিল্লির বাতাসে ক্ষুদ্র ধাতব কণা, বা পিএম২.৫ পার্টিকেলসের মাত্রা ডব্লিউএইচওর অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৩৪ গুণ বেশি। এই দূষিত কণা মানুষের ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিষাক্ত এ ধোঁয়াশা শীতকালে উদ্বেগজনক রূপ নেয়, কারণ কৃষকদের আগাছা পোড়ানোর সময় এটি।

ভারতের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের ১৫টিই দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। শরৎ ও শীতকালজুড়ে এসব অঞ্চলে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নেয়।

দেশটিতে বাতাসে পিএম২.৫ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে যানবাহন ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া, ময়লা পোড়ানোসহ নানা কারণ।

আরও পড়ুন:
ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি
বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪
কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

শেয়ার করুন