× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

আন্তর্জাতিক
Parents will be punished for their childs misconduct
hear-news
player
print-icon

সন্তানের অসদাচরণে শাস্তি পাবে মা-বাবা

সন্তানের-অসদাচরণে-শাস্তি-পাবে-মা-বাবা ফাইল ছবি
চলতি সপ্তাহে চীনা পার্লামেন্ট এনপিসির স্থায়ী কমিটির অধিবেশনে পারিবারিক শিক্ষার প্রচারবিষয়ক খসড়া আইন পর্যালোচনা করা হবে। এতে বিশ্রাম, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য সন্তানকে সময় দিতেও মা-বাবাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সন্তানের অসদাচরণের জন্য মা-বাবাকে শাস্তি দেয়ার বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে চীন। এরই মধ্যে আইনের খসড়াও তৈরি করেছে চীনা সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা পার্লামেন্টে নতুন একটি আইন বিবেচনাধীন। ছোট ছোট শিশুরা ‘খুব খারাপ আচরণ’ করলে কিংবা কোনো অপরাধ করলে মা-বাবাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ আছে সম্ভাব্য আইনটিতে।

পারিবারিক শিক্ষার প্রচারবিষয়ক খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, কোনো শিশুর আচরণ ‘খুব খারাপ’ কিংবা অপরাধমূলক বলে কৌঁসুলিরা প্রমাণ পেলে তার অভিভাবকদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আইন অনুযায়ী তাদের তিরষ্কার করা হবে এবং পারিবারিক শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হবে।

চীনের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেসের (এনপিসি) অধীনে আইনবিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র জ্যাং তিয়েবেই বলেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্করা অনেক কারণেই অসদাচরণ করতে পারে। কিন্তু পারিবারিক শিক্ষার অভাবটাই মুখ্য কারণ।’

চলতি সপ্তাহে এনপিসির স্থায়ী কমিটির অধিবেশনে পারিবারিক শিক্ষার প্রচারবিষয়ক খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করা হবে।

এ আইনে বিশ্রাম, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য সন্তানকে সময় দিতেও মা-বাবাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের বিকাশের স্বার্থে চলতি বছর অভিভাবককেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।

গত মাসে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের চীনা সংস্করণ দুইনেতে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট সময় কাটানো যাবে বলে শিশুদের সময় বেঁধে দেয় চীনা সরকার। নতুন নিয়মে চীনে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যে কোনো সময় সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে শিশুরা। ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য এ নিয়ম।

এর আগে আগস্টে অনলাইন ভিডিও গেমসেও শিশুদের দৈনিক সময়সীমা বেঁধে দেয় চীনা সরকার। ১৮ বছরের কমবয়সীদের জন্য সাপ্তাহিক কর্মদিবস, অর্থাৎ স্কুল খোলা থাকার দিনগুলোতে ভিডিও গেমসে সময় দেয়া নিষিদ্ধ করেছে বেইজিং। শুধু শুক্র, শনি ও রোববার সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা করে ভিডিও গেমস খেলতে পারবে শিশুরা।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে মোবাইল ফোন নেয়া নিষিদ্ধ করে বেইজিং।

স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পর এবং সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনে যেন খুব বেশি পড়াশোনা করতে না হয় শিশুদের, তা নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নিয়েছে বেইজিং। শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনা বোঝা হয়ে চেপে বসছে- এমন উদ্বেগ থেকে নেয়া হয় এ পদক্ষেপ।

ইন্টারনেটে চীনের শিশু, কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম প্রচুর বাড়তি সময় কাটাচ্ছে বলে গত তিন বছর ধরে সতর্ক করে আসছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বলা হচ্ছিল, বিষয়টি পরবর্তী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The white dress came back

ফিরে এলো সাদা পরি

ফিরে এলো সাদা পরি
কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা মেঘগুলো কালো হয়ে গেল। অন্ধকারে ভরে উঠল আকাশ। পরির রাজ্যে সূর্যের আলো আসা বন্ধ হয়ে গেল। পরি প্রাসাদের সব আলো জ্বালিয়ে দেয়া হলো।

সুনীল আকাশ। নীল পরি আকাশে উড়তে উড়তে ভাবল, নীল আকাশে আমাকে ঠিক মানাচ্ছে না। আমি সাদা পরি হব।

নীল পরি মন খারাপ করে রানি মার কাছে গেল। হাত জোর করে বলল, রানি মা, আপনি আমাকে সাদা পরি বানিয়ে দিন।

রানি মা বললেন, আমি পরিদের ইচ্ছা পূরণ করি। তার মানে এই নয়, সব ইচ্ছা পূরণ করব। তোমাকে সঠিক যুক্তি দিতে হবে। কেন তুমি সাদা পরি হতে চাও?

নীল পরি বলল, আমাদের পরি রাজ্যে একটাও সাদা পরি নেই। তা ছাড়া নীল আকাশে আমাকে ঠিক মানাচ্ছে না। সে জন্য আমি সাদা পরি হতে চাই।

রানি মা বললেন, ঠিক আছে। মুহূর্তেই নীল পরি ধবধবে সাদা পরি হয়ে গেল। সাদা পরি হাসতে হাসতে বলল, ধন্যবাদ রানি মা। এই বলে সাদা পরি আকাশে উড়াল দিল।

সাদা পরি আকাশে উড়তে উড়তে ভাবল, এখন নীল আকাশে আমাকে খুব মানাচ্ছে। সাদা মেঘেরা সাদা পরিকে বলল, বাহ! তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। সাদা পরি হাসল। কিছুক্ষণ পর তার মনে হলো- আমি সাদা পরি। কিন্তু মেঘগুলো সাদা কেন? এই মেঘ, তোমরা সাদা কেন? সাদা মেঘেরা অবাক হয়ে বলল, আশ্চর্য! আমরা তো আগে থেকেই সাদা। সাদা মেঘ বৃষ্টি হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে না। কালো মেঘ ঝরে পড়ে। তাই আমরা সাদা মেঘ। কেন তুমি আমাদের দেখতে পাওনি?

সাদা পরি বলল, আকাশে ওড়ার সময় এতই মগ্ন ছিলাম তোমাদের খেয়ালই করিনি। হঠাৎ পরির হিংসে হলো। সে বলল, না এই আকাশে আমি সাদা থাকব। আর কেউই সাদা থাকবে না।

সাদা পরি রানি মার কাছে ছুটে এলো। কাকুতি-মিনতি করে বলল, রানি মা, আকাশের সব সাদা মেঘগুলো কালো করে দিন।

রানি মা ঝাঁজালো কণ্ঠে বললেন, কেন? সাদা পরি বলল, ক্ষমা করবেন রানি মা। এই পরি রাজ্যে আমিই একমাত্র সাদা পরি। আমি চাই না আমার সঙ্গে আকাশের কারোর তুলনা চলুক।

সাদা পরি আর্তনাদ করতে লাগল। রানি মা দয়া করুন। রানি মা আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, ঠিক আছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা মেঘগুলো কালো হয়ে গেল। অন্ধকারে ভরে উঠল আকাশ। পরি রাজ্যে সূর্যের আলো আসা বন্ধ হয়ে গেল। পরি প্রাসাদের সব আলো জ্বালিয়ে দেয়া হলো।

রানি মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। কারণ তিনি একবার যে কাজ করেন সে কাজ দ্বিতীয়বার পরিবর্তন করতে পারেন না। সাদা পরির ওমন কথা রাখা তার ঠিক হয়নি। কিন্তু এখন কিছুই করার নেই। তবু রানি মা সবজান্তা পাখিকে জিজ্ঞেস করলেন, হে সবজান্তা পাখি, আকাশের কালো মেঘগুলো সাদা করে দেয়ার কোনো উপায় জানো?

সবজান্তা পাখি বলল, ক্ষমা করবেন রানি মা। আমি একটি উপায় জানি। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি প্রকাশ করতে পারব না।

পরি রাজ্যে কান্নাকাটি শুরু হলো। হাহাকার পড়ে গেল। রানি মা প্রচণ্ড রেগে গেলেন এবং সাদা পরিকে পরি রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দিলেন।

সাদা পরি দিগ্বিদিক হারিয়ে পৃথিবীতে নেমে এলো। গাছের নিচে কয়েকজন শিশু বসে আছে। হাতে-পায়ে ধূলিকাঁদা মাখা। ওরা ভাগাভাগি করে রুটি খাচ্ছে। ওদের ঠোঁটে হাসি, চোখে হাসি, মুখে হাসি। সাদা পরি দূর থেকে এসব দেখছিল। সে অবাক হলো! মানুষগুলো এত অভাবী তবু এত সুখী। সাদা পরি এগিয়ে গেল। শিশুরা চমকে উঠল। কে গো তুমি? কই থেইকা আইছ?

সাদা পরি বলল, আমি পরি। আমি এমন একজন পরি ছিলাম যেকোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারতাম না। পরি রানি আমার সব ইচ্ছা পূরণ করতেন। তার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হলো। পরি রানি আমাকে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দিলেন।

শিশুরা দুঃখ প্রকাশ করে বলল, আহ! পরি কষ্ট পেও না। আমরা ফুল বিক্রি করি। কোনো দিন খাইতে পাই। কোনো দিন পাই না। সাদা পরির চোখ ভিজে উঠল। ওমনি আকাশ থেকে সব কালো মেঘ সরে গেল।

রানি মা সবজান্তা পাখিকে জিজ্ঞেস করলেন, হে সবজান্তা পাখি, কী করে আকাশের কালো মেঘগুলো সাদা হয়ে গেল? সবজান্তা পাখি বলল, সাদা পরি অনুশোচনায় ভুগছে। তার চোখে অনুশোচনার অশ্রু ঝরছে। সবাই হাসি-আনন্দে সাদা পরিকে পরি রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে এলো।

আরও পড়ুন:
জয়ী
রাজকন্যা আর তার এগারো ভাই
ইসিডোরা আর কাঠবিড়ালী
বাঘ ও সারস গল্পের আধুনিক ভার্সন
বোকা সঙ্গী

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Insect bites on the planet Vine

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়
ভিনগ্রহের পোকাগুলো এ রকম হলেও হতে পারে।

রাতের আকাশে তাকালে আমরা লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র দেখতে পাই। এই সব নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকা কোনো গ্রহে প্রাণী থাকলেও থাকতে পারে। যদি থাকে তাহলে সেই গ্রহের পোকাগুলো দেখতে কেমন হবে, বলতে পারবে?

জাপানি শিল্পী হিরোশি সিন্নো এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি কিছু কাল্পনিক পোকামাকড় বানিয়েছেন। তার মতে, ভিনগ্রহের পোকাগুলো এই রকম হলেও হতে পারে। চলো তার বানানো পোকাগুলো দেখে নেই।

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

ভিনগ্রহের পোকামাকড়

আরও পড়ুন:
কাগজের পাখি
প্রাণীগুলো খুঁজে বের করো
ক্রেটু চাচ্চুর খেলনা
এক ডজন স্মার্ট কুকুর
ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

মন্তব্য

একটি বর

একটি বর
ভিখারি বেচারা বড় মুশকিলে পড়ল। কি যে চাইবে, কিছুই ঠিক করতে পারে না। একবার ভাবল, দৃষ্টি ফিরে চাইবে; আবার ভাবল টাকাকড়ি চাইবে; আবার ভাবল, আত্মীয়স্বজন ছেলেপিলে দীর্ঘ জীবন চাইবে; কিছুই ঠিক করতে পারে না।

একটি অন্ধ ভিখারি রোজ মন্দিরে পূজা করতে যায়। প্রতিদিন ভক্তিভরে পূজা শেষ করে মন্দিরের দরজায় প্রণাম করে সে ফিরে আসে; মন্দিরের পুরোহিত সেটা ভালো করে লক্ষ করে দেখেন।

এভাবে কত বছর কেটে গেছে কেউ জানে না। একদিন পুরোহিত ভিখারিকে ডেকে বললেন, 'দেখ হে! দেবতা তোমার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তুমি কোনো একটা বর চাও। কিন্তু মনে রেখ—একটিমাত্র বর পাবে।'

ভিখারি বেচারা বড় মুশকিলে পড়ল। কী যে চাইবে, কিছুই ঠিক করতে পারে না। একবার ভাবল, দৃষ্টি ফিরে চাইবে; আবার ভাবল টাকাকড়ি চাইবে; আবার ভাবল, আত্মীয়স্বজন ছেলেপিলে দীর্ঘ জীবন চাইবে; কিছুতেই আর ঠিক করতে পারে না। তখন সে বলল, 'আচ্ছা, আমি কাল ভালো করে ভেবে এসে বর চাইব। এখন কিছুই ঠিক করতে পারছি না, কি চাই।'

অনেক ভেবেচিন্তে সে মনে মনে একটা ঠিক করে নিল। তারপর মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতকে বলল, 'পুরুত ঠাকুর! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিচ্ছি— আপনি আমার বড় উপকার করলেন। যে একটি বরের কথা বলেছেন সেটি এখন আমি চাইব—মনে রাখবেন, একটিমাত্র বর আমি চাচ্ছি। আমি এই বর চাই যে, মরবার আগে যেন আমার নাতিকে ছয়তলা বাড়ির মধ্যে বসে সোনার থালায় পায়স খেতে স্বচক্ষে দেখে যেতে পারি।”

এই এক বরে ভিখারি চোখের দৃষ্টি ফিরে পেল, ধনজন পেল, ছেলেপিলে-নাতি-নাতনি পেল, দীর্ঘজীবন পেল।

আরও পড়ুন:
রাজকন্যা আর তার এগারো ভাই
ইসিডোরা আর কাঠবিড়ালী
বাঘ ও সারস গল্পের আধুনিক ভার্সন
বোকা সঙ্গী
কৃষকের ঘোড়া ও ছাগল

মন্তব্য

হোজ্জার মজার ঘটনা

হোজ্জার মজার ঘটনা
দোকানি আলখাল্লা দেয়ার পর হোজ্জা তা নিয়ে বের হয়ে আসার সময় দোকানি ডেকে বলল, হোজ্জা সাহেব, আপনি তো আলখাল্লার মূল্য পরিশোধ করেননি। হোজ্জা উত্তর দিল, আমি তো আলখাল্লার পরিবর্তে জোব্বাটা রেখে গেলাম।

হোজ্জার জোব্বা কেনা

একদা হোজ্জা জোব্বা কিনতে একটি দোকানে গেল। তো পছন্দ করার পর দোকানদার জোব্বাটা প্যাকেট করে দিল। হোজ্জা জোব্বা নিয়ে চলে আসার সময় ভাবলেন, জোব্বা না নিয়ে বরং একটি আলখাল্লা নিয়ে যাই।

দোকানিকে বললেন, আপনি বরং আমাকে একটি আলখাল্লা দিন।

দোকানি আলখাল্লা দেয়ার পর হোজ্জা তা নিয়ে বের হয়ে আসার সময় দোকানি ডেকে বলল, হোজ্জা সাহেব, আপনি তো আলখাল্লার মূল্য পরিশোধ করেননি।

হোজ্জা উত্তর দিল, আমি তো আলখাল্লার পরিবর্তে জোব্বাটা রেখে গেলাম।

দোকানি বললেন, আপনি জোব্বার জন্যও মূল্য পরিশোধ করেননি।

প্রতি উত্তরে হোজ্জা বললেন, জোব্বা তো আমি নেইনি। যেটা আমি নেইনি, তার জন্য মূল্য পরিশোধ করব কেন?

বিয়ে খাওয়া

পাড়ার এক লোক হোজ্জাকে সুনজরে দেখতেন না। হোজ্জা সবার কাছেই প্রিয় ছিলেন, কিন্তু হাবু সাহেবকে কেউ পছন্দ করতেন না, সেই কারণেই তিনি নাসিরুদ্দিনকে হিংসা করতেন ।

হাবু সাহেবের মেয়ের বিয়ে। পাড়ার সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছেন তিনি, কিন্তু হোজ্জাকে করেননি। হোজ্জাও জেদ ধরলেন, যেমন করে হোক বিয়ে খেতে হবে। হোজ্জার বুদ্ধি বের করতে দেরি হলো না।

একটা খামের ওপর লোকটির নাম লিখে তার ভেতরে এক টুকরো সাদা কাগজ ভরে খামখানার মুখ বন্ধ করে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলেন হোজ্জা। সবাই খেতে বসবে ঠিক সেই সময়েই উপস্থিত হয়ে বাড়ির মালিকের হাতে খামখানা দিয়ে বললেন, বাদশাহ এই চিঠিখানা পাঠিয়েছেন।

হাবু সাহেব খুব খুশি। স্বয়ং বাদশাহ নিশ্চয়ই মেয়ে-জামাইকে আশীর্বাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। মনের আনন্দে তিনি হোজ্জাকে খুব খাতির-যত্ন করে খাওয়ালেন।

বেশ পেট ভরে খাওয়ার পর হোজ্জা লোকটির কাছে বিদায় নিতে গেলে তাঁর চিঠির কথা মনে পড়ল। এতক্ষণ কাজের ব্যস্ততায় খামখানা খোলার সময় হয়নি।

খামখানা খুলে তো তিনি থ! জিজ্ঞেস করলেন, হোজ্জা সাহেব, বাদশাহ তো কিছুই লেখেননি। এর মধ্যে তো রয়েছে শুধু একখানা সাদা কাগজ।

হোজ্জা বললেন, এর জবাব তো আমি দিতে পারব না। আমাকে চিঠিখানা হাতে দিয়ে পৌঁছে দিতে বললেন, আমি পৌঁছে দিয়েছি। আমার কাজ এখানেই শেষ।

স্মৃতিশক্তি বাড়ানো

হোজ্জা একবার স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য এক হেকিমের কাছ থেকে ওষুধ নিয়েছিলেন।

কয়েক মাস পর হোজ্জা সেই হেকিমের কাছে আবার গেলেন ওষুধ আনার জন্য।

হোজ্জাকে দেখে হেকিম বললেন, আচ্ছা, গতবার তোমাকে কী ওষুধ দিয়েছিলাম, একেবারেই মনে করতে পারছি না।

হোজ্জা বললেন, তাহলে ওই ওষুধ এখন থেকে আপনি নিজেই খাবেন।

আরও পড়ুন:
নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প
চিকিৎসক হোজ্জা
নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প
পাগড়ি কার?
রাজহাঁসের এক পা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Show the snail the way

শামুকটাকে পথ দেখাও

শামুকটাকে পথ দেখাও
সামনে একটি কমলা পড়ে আছে। সেটার দিকে তাকিয়ে আছে সে। সমস্যা হচ্ছে কমলার কাছে যাবার পথটা সে খুঁজে পাচ্ছে না। তুমি কি ওকে সাহায্য করতে পারবে?

ওপরের ছবিতে একটা শামুককে দেখতে পাচ্ছ।

ওর নাম খাদক। সারাক্ষণ ওর ক্ষিধে লাগে আর খেতে থাকে বলেই ওর নামটা এমন।

এই দেখো না, এখনও ওর ক্ষিধে লেগেছে। সামনে একটা কমলা পড়ে আছে। সেটার দিকে তাকিয়ে আছে সে। সমস্যা হচ্ছে কমলার কাছে যাবার পথটা সে খুঁজে পাচ্ছে না। তুমি কি ওকে সাহায্য করতে পারবে?

সময় মাত্র এক মিনিট। চলো তাহলে শুরু করা যাক।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পারো। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড় এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

উত্তর দেখতে নিচের ছবিতে চোখ বুলিয়ে নাও।

শামুকটাকে পথ দেখাও

আরও পড়ুন:
পার্থক্যগুলো বের করো
পাখিটাকে খুঁজে বের করো
শজারুকে পথ দেখাও
কাঠবিড়ালির ছায়া খুঁজে বের করো
লুকানো জিনিসগুলো খুঁজে বের করো

মন্তব্য

আমগুলোতে হক ছিল

আমগুলোতে হক ছিল
জ্যৈষ্ঠ মাসের দাবদাহে সেই আমগুলো বেশ পাকছিল, কিপ্টে বুড়ো সর্বদা তাই- নজর তাতে রাখছিল।

কিপ্টে বুড়োর গাছগুলোতে

থোকা থোকা আম ছিল,

নিত্য তাতে ভাগ বসানো

বিচ্ছুগুলোর কাম ছিল।

-

জ্যৈষ্ঠ মাসের দাবদাহে সেই

আমগুলো বেশ পাকছিল,

কিপ্টে বুড়ো সর্বদা তাই-

নজর তাতে রাখছিল।

-

যেই না হঠাৎ কিপ্টে বুড়ো

চেয়ারে বসে ঢুলছিল,

তাই না দেখে বিচ্ছুগুলো

খুশির আওয়াজ তুলছিল।

-

একটা বিচ্ছু চড়ল গাছে

আমগুলো সে পাড়ছিল

বাদ বাকি সব বিচ্ছুগুলোর

আম কুড়ানোর ভার ছিল।

-

ঘুম শেষে যেই কিপ্টে বুড়ো

হঠাৎ জেগে উঠছিল,

তাই দেখে সেই বিচ্ছুগুলো

ভীষণ জোরে ছুটছিল।

-

আম হারিয়ে কিপ্টে বুড়ো

যা-তা বলে বকছিল,

বিচ্ছুগুলো বলে তাদের

আমগুলোতে হক ছিল।

আরও পড়ুন:
তোমাদের ছড়া
পাতা পোকা
নতুন বছর ২০২২
ষোলোই ডিসেম্বর
বিজয় মানে

মন্তব্য

দৈত্য ও নাপিত

দৈত্য ও নাপিত
দৈত্য মাটি উথালপাতাল করে সাত ঘড়া ভরতি হিরাজহরত আর সোনাদানা বের করে নাপিতকে সুদ্ধ পৌঁছে দেয় তার বাড়িতে। নাপিত মহাখুশি! তবে সে দৈত্যকে সহজে ছাড়ে না। বলে : আমার ক্ষেতের ধান কেটে তা বাড়িতে এনে দাও।

এক গায়ে ছিল এক জন্ম-কুঁড়ে নাপিত। সে ছিল অকর্মার ধাড়ী। কোনো কাজে তার মন বসত না। তার কাজ ছিল একটাই। নিজের পুরোনো আয়নাখানা আর দু-চারখানা দাতপড়া কাঁকই (চিরুনি) দিয়ে নিত্যক্ষণ নিজের মুখসৌন্দর্য ও চুলের বাহার দেখে পরম সন্তোষ লাভ করা। বাড়িতে তার একমাত্র বুড়া বিধবা মা। তারা গরিব মানুষ, সংসার চলে না। পৈতৃক পেশায় মন লাগালে সংসারের দুঃখ দূর হয়। কিন্তু ছেলে কাজকর্মের ধারেকাছেও নেই। মা হতাশ হয়, দুঃখ করে। অন্য ভালো ছেলেদের নজির দেখায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

ছেলে তার স্বভাব থেকে একচুলও নড়ে না। অনেক ভেবেচিন্তে মা ছেলের বিয়ে দেয়। আশা, এতে ছেলের সংসারে মন ফিরবে। কিন্তু কিসের কি! বউ-সংসার নাপিতের মন পায় না। সে ব্যস্ত থাকে তার পুরোনো অভ্যাস নিয়ে। তাতেই তার দুনিয়ার আনন্দ, নিদারুণ পুলক। খেউরি করার (চুল কাটার) যন্ত্রপাতিতে জং ধরে। একটা জমিতে ধান হয়েছে সেগুলো সে কেটে ঘরে তুলবে তাতেও তার প্রবল অনিচ্ছা। তো নাপিতের মা অবশেষে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ছেলেকে ঝাঁটাপেটা করে একদিন বাড়ি থেকে বের করে দিলেন।

এই বার নাপিতের মনে লাগে। সে ঘর ছেড়ে বেরোয়। একটা কিছু করে অনেক টাকাকড়ি ধনরত্ন কামাতে না পারলে সে আর বাড়িমুখো হবে না।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে নাপিত গ্রামগঞ্জ-লোকালয় ছাড়িয়ে, নদী, পাহাড়-পর্বত ডিঙ্গিয়ে এক গহিন অরণ্যের কাছে এসে পড়ে। সেখান থেকে শোনে দুদ্দাড় শব্দ। কৌতূহলবশত সাহস করে ঢুকে পড়ে বনে! দেখে এক দৈত্য উদ্দাম নাচে মত্ত।

দৈত্যরা কাউকে পেলে ঘাড় মটকে দিতে পারে, তাই ভয় হয় প্রথমে নাপিতের। পরে সে ভাবে, আমার তো হারাবার কিছু নেই। এমনিতেও না খেয়ে মৃত্যু আর অমনিতে দৈত্যের ঘাড় মটকানিতে মৃত্যু। পরেরটাতেই কষ্ট কম। তাই একটু খেলিয়ে দেখার জন্য সেও নাচতে থাকে।

কিন্তু পরে সাহস করে দৈত্যকে জিগায় : এত যে নাচ! পুলকটা (আনন্দটা) কিসের?

দৈত্য বনজঙ্গল কাপিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। তোমার এই প্রশ্ন শোনার জন্যই তো নাচ থামিয়ে কাজ শুরু করিনি। দুনিয়ার বুদ্ধ, বুঝতে পারনি কেন নাচি? তোমাকে খাব, সেই আনন্দেই নাচছি। তা তুমি উল্লুক নাচ্ছ কেন?

নাপিত : সে বড়ই এক মহৎ কারণে গো, দৈত্যমশাই! আমার কত দিনের স্বপ্ন আর পরিশ্রমের অবসান ঘটতে যাচ্ছে—নাচব না?

দৈত্য : হেয়ালি রাখ! আমার পেটে যাওয়ার আগে তোর নাচের রহস্য ভেদ কর!

নাপিত : আমাদের রাজকুমার গুরুতর অসুস্থ। রাজবদ্যিরা নিদান নির্দেশ করেছেন এক শ একটা দৈত্যের কলজের রক্ত জোগাড় করে আনতে পারলেই তার রোগমুক্তির ওষুধ তৈরি করা যায়। রাজকর্মচারীরা ঢোল সোহরত করে ঘোষণা দিয়েছে—'যে এক শ একটা দৈত্য ধরে দিতে পারবে, তাকে অর্ধেক রাজত্ব আর রাজকন্যা দেয়া হবে।' কত পাহাড়-পর্বত, বনজঙ্গল আর পোড়োবাড়িতে হানা দিয়ে এক শ দৈত্যকে বাক্সবন্দি করতে পেরেছি। তোমাকে কবজায় পেয়ে এক শ এক শিকার পূর্ণ হলো। তুমি এখন আমার পকেটে বন্দি।

এই কথা বলে পকেট থেকে পুরোনো আয়নাটা বের করে দৈত্যের মুখের সামনে ধরে। দৈত্য দেখে হায় হায়—এ যে তারই মুখ!

ভয় পেয়ে দৈত্য বলে : আমাকে মুক্ত করে দাও ভাই। তোমাদের রাজা তোমাকে দেবে অর্ধেক রাজত্ব আর রাজকন্যা। আমি তোমাকে দেব সাতরাজার ধন। তা দিয়ে তুমি পেতে পার সাত রাজকন্যা।

নাপিত বলে : তুমি এত ধন কোথায় পাবে? আর পেলেই আমি তা কেমন করে বাড়িতে নিয়ে যাব?

দৈত্য : সে কোনো চিন্তার ব্যাপারই না। আমাদের অনেক শক্তি। তোমার পেছনের বটগাছের নিচেই আছে সব সম্পদ। আর তা তোমার বাড়িতে পৌঁছে দেবার দায়িত্বও আমার।

দৈত্য মাটি উথালপাতাল করে সাত ঘড়া ভরতি হিরাজহরত আর সোনাদানা বের করে নাপিতকে সুদ্ধ পৌঁছে দেয় তার বাড়িতে। নাপিত মহাখুশি! তবে সে দৈত্যকে সহজে ছাড়ে না। বলে : আমার ক্ষেতের ধান কেটে তা বাড়িতে এনে দাও।

দৈত্য নিরুপায় হয়ে তাই করে। দৈত্যকে ধান কাটতে দেখে অন্য এক দৈত্য বলে, এ কী করছ? তুমি কি দৈত্যকুলের কুলাঙ্গার নাকি? এক ফেরেববাজের পাল্লায় পড়ে দৈত্যকুলের সম্মান খোয়াবে?

দৈত্য বলে : ভাইরে মহাবিটকেলের পাল্লায় পড়েছি। সহজে এর হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় দেখি না।

আগন্তুক দৈত্য বলে : কী যে ছাইভস্ম বল! মানুষ আর দৈত্য কি এক হলো? মানুষ দৈত্যকে কামলা খাটাচ্ছে এ কথা কেউ শুনেছে কখনও। তাও আবার লোকটা সামান্য এক নাপিত। তুমি ওই পাজিটার বাড়িখানা আমাকে দেখিয়ে দাও, আমি ওকে আচ্ছা করে শায়েস্তা করি।

নতুন দৈত্যেব কথা শুনে দৈত্য আশ্বস্ত হতে পারে না। তার ডর (ভয়) লাগে। তাই দূর থেকে নব্য জেল্লাদার আর উৎসবমুখর নাপিতবাড়ি দেখিয়ে দিয়ে এসে দৈত্য ধান কাটতে থাকে।

নাপিতবাড়িতে ভোজের আয়োজন হচ্ছে। তাতে এক বিপত্তিও ঘটেছে। মাছ রান্না করে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। ভাঙা জানালা দিয়ে এক হুলো (বিড়াল) এসে মাছের তরকারির একটা অংশ নিয়ে ভো দৌড়ে পালিয়েছে। নাপিতবউ তাই ধারালো বঁটি নিয়ে ভাঙা জানালার পাশে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে। ছোচা বিড়াল আবার আসবে। তখন ওর দফারফা করতে হবে। এর মধ্যে বেড়াল আসেনি। চুপিসারে এসেছে নতুন দৈত্য। আর ভাঙা জানালা গলিয়ে জটাচুল ভর্তি মাথাটা ঢুকিয়েছে ঘরে। ওদিকে ওত পেতে থাকা নাপিতবউ বঁটি দিয়ে বসিয়েছে এক কোপ। আর তাতে দৈত্যের নাক কেটে থেকে গেছে নাপিতের ঘরে। আর্তচিৎকার দিয়ে যন্ত্রণায় কোঁকাতে কোঁকাতে দৈত্য পগার পাড়। কোন লজ্জায় আর মুখ দেখাবে দৈত্যকে।

দৈত্য সব দেখে আরও ভয় পায়। সব ধান ঘরে তুলে দিয়েও দৈত্যভাবে নাপিত যদি তাকে না ছাড়ে! সে হাত জোড় করে মুক্তি চায়।

নাপিত এবার আয়নার উল্টা পিঠ দেখিয়ে বলেঃ এই দেখ, তোমার ছবি আর আটক নাই। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তোমার মুক্তি ঘটেছে। এবার যাও।

দৈত্য নাপিতকে সালাম জানিয়ে বিদায় হয়।

আরও পড়ুন:
তৈয়ব আখন্দের আশ্চর্য বাগান
ভাগাভাগি
রানির হাসি
জয়ী
রাজকন্যা আর তার এগারো ভাই

মন্তব্য

p
উপরে